#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins)
#লেখনিতে_ফারিহা #থ্রিলার #রোমান্টিক
পর্ব ২
(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)
সময় গড়িয়ে গেল। অবশেষে রোজেলিয়া বাড়ি ফিরল। কিছুক্ষণ ফ্রেশ হয়ে এসে রান্নাঘরে ঢুকল। রাতের খাবার তৈরি শেষ হলে সব সুন্দরভাবে টেবিলে সাজিয়ে রাখল।
টেবিলে তখন বসে ছিলেন তার বাবা, আফসার চৌধুরীর মুখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ।রোজেলিয়া চেয়ার টেনে বসল, বাবার দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল
"বাবা… কোনো সমস্যা হয়েছে? তোমাকে ইদানিং খুব চিন্তিত লাগছে।”
আফসার চৌধুরী হালকা চমকে উঠলেন, তারপর মৃদু কণ্ঠে বললেন,
“না, কোনো সমস্যা না…এমনি তোকে নিয়েই একটু হচ্ছে। ইদানিং তোর উপর অনেক পরিশ্রম যাচ্ছে।”
রোজেলিয়া কণ্ঠে কিছুটা তীব্রতা ছড়িয়ে ধীরে বলল,
“বাবা, আমাকে নিয়ে কোনো টেনশন করো না। আমি ঠিক আছি। খেয়ে নিই, তারপরই মা-কে দেখতে হাসপতালে যাবো, ঠিক আছে?”
আফসার একবার নিঃশ্বাস নিয়ে মাথা নেড়ে জানালেন,
“তোর আর হাসপাতালে যাওয়ার দরকার নেই… আমি তোর মাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি।”
রোসালিয়ার চোখ বড় হয়ে উঠল,
“কি? কখন? মা কোথা-
ঠিক তখনই ডোরবেল বেজে উঠল ডোরবেলের ঝাঁকুনি ঘরের নিস্তব্ধতায় কৃতজ্ঞতার মতো বিষণ্নতা ছড়িয়ে দিল। আফসার হঠাৎ করেই কিছুটা বিহবল হয়ে উঠে রোজেলিয়ার দিকে দ্রুত তাগিদ দিয়ে বললেন,
"রোজেলিয়া, তুই এখনই তোর ঘরে চলে যা । দরজা লক করে রাখবি, নিচে একেবারেই নামবি না। তাড়াতাড়ি”
রোজেলিয়া একটি অবিশ্বাসভরা বিস্ময়ে তার বাবার দিকে তাকায়। কিছু বলতে যাবে কিন্তু ডোরবেল আরো ঘন ঘন বাজতে শুরু করে।সে দ্রুত উপরে চলে যায়।
----------
রোজেলিয়া ঘরে ঢুকে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিল। তারপর ধীরে ধীরে মেঝেতে কাত হয়ে বসে পড়ল। মাথার ভেতর হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে, বুকের ভেতরটা যেন ভারে নুয়ে আসছে। সে হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে রইলো।
হঠাৎ নিচতলা থেকে এক অচেনা শব্দ ভেসে এলো তারপর একটি ব'ন্ধু'কের গু'লির শব্দ হলো।সে মুহূর্তেই থমকে গেল।আস্তে আস্তে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। কান খাড়া করে শুনতে লাগল। ঠিক তখনই সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত পায়ের শব্দ ভেসে উঠল ধীরে ধীরে কাছে আসছে, ভারী আর অস্থির। রোজেলিয়ার নিঃশ্বাস আটকে গেল, হৃদস্পন্দন বাড়তে লাগল।হঠাৎ করেই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুরু হলো। ঠকঠক শব্দ যেন পুরো ঘর কাঁ'পিয়ে তুলল। সাথে সাথেই এক রূঢ় কণ্ঠে আওয়াজ ভেসে এলো,
"Open the door ba'by'girl, i khow you are inside"
রোজেলিয়া ভয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, কোনো সাড়া দিল না। বাইরে দাঁড়ানো লোকটি কয়েক সেকেন্ড নীরব রইল, যেন তার ধৈর্য শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারপর আরও গর্জে উঠলো
" Open the door or i will break it and dr'ag you o'ut myself"
কণ্ঠটা এতটাই কঠোর আর ভ'য়ঙ্কর ছিল যে ঘরের দেয়ালও যেন কেঁপে উঠল। রোজেলিয়ার হাত ঘামের ভেজায় কাঁ'প'ছে, চোখ বড় বড় হয়ে গেছে, আর বুকের ভেতরটা যেন হি'ম হয়ে আসছে। সে শুধু দরজার গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভেতরে লুকানো আতঙ্ক আর অসহায়তার সাথে।সে পিছিয়ে গেল এবং রুমের কোণায় গিয়ে বসে পড়লো
"Okay, you left me with no other choice "
এরপর তার ধৈর্য পুরোপুরি ফুরিয়ে গেল। একের পর এক জো'রে লা'থি মা'রতে লাগল দরজায়। প্রতিটি আ'ঘাতে কাঠের দরজাটা কেঁপে উঠছিল, আর ভেতরে বসে থাকা রোজেলিয়া ভ'য়ে কাঁপ'ছিল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একঝাটকায় ঝটকায় দরজাটা খুলে গেল।রোজেলিয়া তখন ঘরের কোণায় মাটিতে সঙ্কুচিত হয়ে বসে ছিল। চোখ বড় বড়, নিঃশ্বাস কেঁপে উঠছে। বাইরে থেকে লোকটা ধীরে ধীরে ভেতরে পা বাড়াল। ভারী বুট জুতোর শব্দ ঠকঠক করে মেঝে জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। তার গায়ে আঁটসাঁট কালো আউটফিট, যেন অন্ধকার থেকে উঠে আসা কোনো ছায়া।
রোজেলিয়া হাঁটু জড়িয়ে বসে থাকায় লোকটার চোখে সে তৎক্ষণাৎ ধরা পড়ল না। কিন্তু কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে সে সরাসরি এগিয়ে গেল তার দিকে। কোনো কথা না বলে, ঠাণ্ডা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।হঠাৎই লোকটা রোজেলিয়ার হাতে শক্ত করে ধরে এক ঝটকায় টে'নে তুলল। রোজেলিয়া চি'ৎকার করতে চাইলেও গলা শুকিয়ে গেল। দাঁড়াতে না চাইলেও তার শক্ত হাতে টেনে তুলে দাঁড় করাল।একটুও সময় নষ্ট না করে লোকটা তাকে কাঁধের পাশে ধরে টেনে নিয়ে যেতে শুরু করল। রোজেলিয়ার পা জড়িয়ে আসছিল, কিন্তু লোকটার গতিতে তাল মেলাতে না পেরে সে হোঁচট খাচ্ছিল। টে'নে টে'নে লোকটা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগল প্রতিটি ধাপে ভয়ের ভারে রোজেলিয়ার বুক আরও কেঁপে উঠছিল।অবশেষে রোজেলিয়া ভয় আর হতাশার মাঝে প্রতিবাদ করে উঠল,
"ছাড়ুন আমায়! আপনি কে? এভাবে টানছেন কেন? কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমায়? বাবা! বাবা কোথায়?"
তার কণ্ঠে কাঁ'পন ছিল, কিন্তু চোখে ফুটে উঠেছিল একরাশ অসহায় রাগ।লোকটা হঠাৎ থেমে দাঁড়াল। ভারী পদক্ষেপ থেমে গেলে চারপাশটা যেন আরও নিস্তব্ধ হয়ে গেল। সে রোজেলিয়ার হাত ছেড়ে সামনে দাঁড় করাল। দু’জন মুখোমুখি।লোকটার উচ্চতা বেশী হওয়ায় রোজেলিয়া তার সামনে যেন ছোট আর ভঙ্গুর। লোকটা সামান্য মাথা কাত করে তার দিকে তাকাল। প্রথমবার রোজেলিয়ার চোখ পড়ল তার গাঢ় হ্যাজেল চোখের ভেতর সেই দৃষ্টি ছিল ঠাণ্ডা, তীক্ষ্ণ, আর এক রহস্যময় ভয়ঙ্কর আকর্ষণে ভরা। মুহূর্তের জন্য রোজেলিয়ার শ্বাস আটকে গেল।লোকটা নিচু, গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“আমি রিভেন আরওয়াইন। আর কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে.. সেটা অল্প সময়ের মধ্যেই নিজে বুঝে যাবে।”
কথার সাথে সাথেই তার চোখে এক শীতল ঝিলিক খেলল। কোনো সুযোগ না দিয়ে আবার রোজেলিয়ার হাত শক্ত করে ধরে ফেলল। এক ঝটকায় টেনে নিয়ে চলল সামনের দিকে।রোজেলিয়া বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু রিভেনের গ্রি'প ছিল লোহার মতো। করিডোর পেরিয়ে ভারী ঝাড়বাতির আলোয় টেনে নিয়ে যেতে লাগল তাকে, সোজা ড্রইং রুমের দিকে যেন অজানা অন্ধকারের দিকে পা বাড়াচ্ছে সে।
ড্রইং রুমে ঢুকতেই রোজেলিয়ার বুক ধ'ড়ফ'ড় করে উঠল। তার পা যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।পুরো রুমটা অস্বাভাবিক নীরব, কিন্তু বাতাসে ভয়ের গন্ধ। চারদিকে প্রায় ডজনখানেক গার্ড দাঁড়িয়ে আছে, সবার গায়ে কালো পোশাক, চোখে একই রকম নি'ষ্ঠু'র দৃষ্টি। তাদের উপস্থিতি যেন পুরো ঘরটাকে অন্ধ'কারে ঢেকে রেখেছে।ঘরের মাঝখানে বড় চেয়ারে বসে আছেন রোজেলিয়ার বাবা। তার চোখে আ'ত'ঙ্ক জমে আছে, কপালে ঘাম। পাশে মেঝেতে বসানো তার অসুস্থ মা, মুখটা ভীষণ ফ্যাকাশে। দু’জনের মাথায় ঠাণ্ডা ধা'তব ব'ন্দুক ঠেকানো গার্ডদের হাতে ধরা কা'লো অ'স্ত্র ঝকঝক করছে আলোয়।রিভেন কোনো কথা না বলে রোজেলিয়াকে টেনে সামনে নিয়ে এল। রোজেলিয়া টলতে টলতে বাবার দিকে তাকাল চোখে পানি ভরে উঠছে, বুকটা ভয়ে ভারি হয়ে আসছে।রিভেনের দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্য বাবার ওপর গিয়ে থামল। তারপরে কণ্ঠস্বর কঠোর হয়ে উঠল,
"আফসার চৌধুরী, আপনি তো বলেছিলেন আপনার কোনো সন্তান নেই। তাহলে এই অপূর্ব সুন্দরী মেয়েটি কে? একে কি মাটির নি'চ থেকে খুঁ'ড়ে বের করেছেন? আমাকে মিথ্যে বলার সাহস আপনি পেলেন কোথায়? আপনি কি জানতেন না, রিভেন আরওয়াইন যা খুঁজে বের করতে চায়, তা সে ন'রক থেকেও টেনে আনে"
রুমটা যেন থম মেরে গেল। বাবার মুখে কোন উত্তর নেই, ঠোঁট কাঁ'প'ছে। রোজেলিয়ার হৃদস্পন্দন এত জোরে ধুকপুক করছিল যে মনে হচ্ছিল সবাই শুনতে পাচ্ছে।রোজেলিয়ার বাবা কাঁ'পতে কাঁ'পতে উঠে দাঁড়াতে চাইলো, কিন্তু ব'ন্দুকের নল তার কপালে আরও শক্ত করে চেপে ধরল এক গার্ড। গলা শুকিয়ে গেলেও তিনি অনুনয়ের সুরে বললেন,
"রিভেন, আমি তোমার পা'য়ে ধ'রছি, আমার মেয়েটাকে ছেড়ে দাও। ও নিরপরাধ, ও কিচ্ছু জানে না। তুমি যা চাও আমি দেব, আমার সব স'ম্পত্তি লিখে দিচ্ছি তোমায়, শুধু আমার রোজেলিয়াকে মু'ক্তি দাও!"
তার কণ্ঠে এক বাবার অসহায় আর্তি ভেসে উঠল। রোজেলিয়ার বুকটা ভেঙে আসছিল, চোখ দিয়ে টলমল জল গড়িয়ে পড়ছিল।রিভেন তার কথা শুনে ঠোঁট বাঁকিয়ে অট্টহাসি দিল। সেই হাসির শব্দ যেন ঘরটার দেয়াল ভেদ করে কাঁপিয়ে তুলল। এক পা এগিয়ে এসে তার ঠাণ্ডা চোখ বাবার চোখে গেঁথে দিল।
"সম্পত্তি? টাকা? ওগুলো তো আমার পায়ের ধুলোর সমান। আমি যা চাই তা হলো এই মেয়েটি। আমি আগেই বলেছি, রিভেন আরওয়াইন একবার যার ওপর ন'জর দেয়, সেটা সে হাসিল করেই ছাড়ে। এখন সে আমার স'ম্পত্তি।"
রোজেলিয়ার মায়ের কাঁ'পতে থাকা নিঃশ্বাসে ঘরটা ভারী হয়ে উঠল। রোজেলিয়ার চোখে আ'তঙ্ক আর বাবার মুখে নিস্তব্ধ য'ন্ত্রণার ছাপ মিলেমিশে এক অদ্ভুত, ভয়'ঙ্কর মুহূর্ত তৈরি করল।রোজেলিয়ার বাবা চুপ করে গেলেন। চোখ ভিজে আসছিল, ঠোঁট কাঁ'পছিল, কিন্তু এত ভয় আর কষ্টের মাঝখানে কী করবেন তিনি, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। নিস্তব্ধতায় ঘরটা যেন জমে গেল।রিভেন ঠোঁটে হালকা বিদ্রূপের হাসি টেনে আবার বলল,
“মেয়েকে আমার চোখের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিলি, তাই না? …দেখ, এবার তোর মেয়েকে আমি নিজেই খুঁজে বের করে ফেলেছি। আর এখন থেকে সে শুধু… আমার।”
কথাগুলো যেন ছু'রি হয়ে বাবার হৃ'দয় বি'দ্ধ করল।এদিকে রিভেনের শক্ত হাত থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য রোজেলিয়া মরিয়া চেষ্টা করছিল। সে ঝাঁ'কাচ্ছি'ল হাত, শরীর ঘোরানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু যতই চেষ্টা করুক, রিভেনের গ্রি'প আরও লোহার মতো শক্ত হয়ে উঠছিল।ব্য'থায় তার মুখ বি'কৃত হয়ে গেল। সে পা'গলের মতো ছটফট করতে লাগল,
"আপনি মানুষ না জা'নো'য়ার? আমার মা-বাবাকে ছেড়ে দিন! তারা অ'সুস্থ, তারা আপনার কী ক্ষ'তি করেছে? আমায় এভাবে স্পর্শ করবেন না, ছেড়ে দিন বলছি!"
তার কণ্ঠে অসহায় য'ন্ত্রণার সাথে ভয় মিশে একেবারে কাঁপতে লাগল, আর রিভেনের চোখে তখনও সেই হ্যাজেল ঝিলিক ঠাণ্ডা, নির্মম, অবিচল।রিভেনের চোখ হঠাৎই আরও কঠোর হয়ে উঠল। সে এক ঝটকায় রোজেলিয়াকে বুকের সাথে টেনে নিল, যেন এক নিমিষে তাকে পুরোপুরি নিজের দখলে নিয়ে নিল। রোজেলিয়ার শ্বাস গলা বেয়ে আটকে গেল, তার বুক রিভেনের ভারী বুকে চাপা পড়ে উঠছিল নামছিল।রিভেন নিচু গলায়, কিন্তু প্রতিটি শব্দ বরফ শীতল ধারালো ছুরির মতো শোনাল,
“তোর মা-বাবাকে আমি অবশ্যই ছেড়ে দেব… কিন্তু একটা শর্তে।”
সে থেমে গিয়ে রোজেলিয়ার দিকে সরাসরি তাকাল। হ্যাজেল চোখে এমন এক অদ্ভুত ঝিলিক যেখানে ক্ষমতা, নির্মমতা আর অদ্ভুত এক আকর্ষণ মিশে ছিল। রোজেলিয়ার চোখ ভয়ে বড় হয়ে গেল।রিভেন ধীরে ধীরে ঠোঁট খুলল, কণ্ঠে কোনো কম্পন নেই, শুধু আদেশের মতো দৃঢ়তা
"Marry me ba"byg'irl, marry me and i will spare them"
চারপাশের কালো পোশাক পরা গার্ডরা নিশ্চুপ, শুধু বাতাসের শব্দ আর ব'ন্দু'কের ধাতব ঠাণ্ডা ঝিলিক ঘরটাকে ভারী করে তুলেছিল। রোজেলিয়ার বুকের ভেতর ভয়, ঘৃণা আর অবিশ্বাস একসাথে ছ'টফ'ট করছিল।রুমটা হিমশীতো হয়ে গেল রোজেলিয়া হঠাৎ করে স্তব্ধ, কানে কানে যেন সব শব্দ স্তিমিত হয়ে এলো। তার বুকের ভেতর কিছু কেবল কাঁপছিল চোখ আটকে ছিল বাবার দিকে। বাবা অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছেন তার শরীর অচেতনভাবে কাঁ'পছে। মায়ের মুখ ফ্যাকাশে, দু’চোখে ভরা ভয় আর প্রার্থনা ওরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে কেমন মূ'র্ত প্রতীক্ষায়।
রিভেন এক মুহূর্তেই ধীরে ধীরে উ'ত্তে'জিত হয়ে উঠল। তার ঠোঁট টানটান, কণ্ঠটা ঘন, আর চোখে আগুন ঝলকালো
-"Don’t test my patients or you will regret it "
সে বাংলায় কড়া সুরে বলল,
“আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাও, তাহলেই আমি তোমার বাবা-মাকে ছেড়ে দেব।”
তার কথায় নীরবতা আরও গভীর হয়ে এলো। কিছুক্ষণ শূন্য চেয়ে থাকা থেকে রোজেলিয়ার বুক এক ধাক্কায় ওঠানামা করল ভয়ে নয়, বরং একধরনের সিদ্ধান্তের অশনি সংকেত ছিল যেন। বাবার দিকে তাকিয়ে সে অনুভব করল, বাবা মা নূন্যতম আশাও রেখেছে যে তাদের মেয়ে কোনোভাবে রক্ষা পাবে।রিভেন কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে শেষে তার টেমপার হারিয়ে আরও রুঢ় স্বরে বলল
“অনেক হয়েছে! তোর সম্মতিতে আমার কিছু আসে-জায় না!”
বলেই সে রোজেলিয়াকে কো'লে তু'লে নিয়ে কাধে উপর ফেলে হাটতে শুরু করে। রোজেলিয়া চি'ৎকার করে নিজেকে ছাড়ানোর অনেক চেষ্টা করে কিন্তু রিভেন তাতে পাওা দেয় না সে দরজার দিকে হাটতে থাকে। রোজেলিয়ার মা-বাবা এগিয়ে এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করলে গার্ডরা তাদের একে একে ঠে'লে দেয়।রিভেন রোজেলিয়াকে টেনে বাইরে নিয়ে আসে এবং মার্সিডিসের ভিতরে ঠেসে দেয়। তারপর গার্ডদের দিকে কণ্ঠফাট করে বলে,
-"Let's go my boys. আমরা ম্যানশনের দিকে যাচ্ছি।”
বলেই রিভেন গাড়িতে উঠে বসল। তার চারপাশের গার্ডরা রোজেলিয়ার মা-বাবাকে ছাড়িয়ে নিজ নিজ গাড়িতে উঠে বসে পড়ল। রোজেলিয়ার বাবা-মা হতভম্ব, চোখে ভয়ের ছাপ আর রোজেলিয়া চিৎকার করতে চাইলেও রিভেনের উপস্থিতি তাকে চুপ করিয়ে দিয়েছে।
গাড়ি স্টার্ট হলো একে একে রিভানের মার্সিডিসের পেছনে সারিবদ্ধ কালো রংয়ের গাড়িগুলো যেতে থাকলো। শহরের অন্ধকারে গাড়ির হালকা লাইট প্রতিধ্বনিত হলো রাস্তার কঙ্ক্রিটে। ভিতরে বসে রোজেলিয়া বারবার হাত-পা নাড়াতে লাগল, চিৎকার করল, কিন্তু রিভেন তেমন পাত্তা দিল না।হঠাৎ রিভেন বিরক্ত হয়ে পাশের ছোট বক্স থেকে একটি ইন'জে'ক'শন বের করল। তাড়াহুড়ো করে সে সেটি রোজেলিয়ার দিকে দিল।
রোজেলিয়ার শরীর ত'ৎক্ষ'ণাৎ অ'চ'ল হয়ে গেল সে চি'ৎকার করতে চেষ্টা করল, কিন্তু তার গলা শুকিয়ে গেল। চোখ বড় হয়ে গেল, শরীর জড় হয়ে গেল রিভেনের হাতে ধরা ই'ন'জে'ক'শন তাকে মুহূর্তের মধ্যে অ'জ্ঞা'ন করে দিল।
"একটু ঘুমিয়ে নে রোজপেটাল। তোর এই চিৎকার আমার কানে লাগছে। যখন জাগবি, তখন তুই অলরেডি আমার প্রাসাদে থাকবি, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই।"
গাড়ির ভিতরে আবার নীরবতা নেমে এল, শুধু রিভেনের কঠোর দৃষ্টি এবং গাড়ির ধীর ধাপের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। রোজেলিয়া তখন পুরোপুরি তার নি'য়ন্ত্র'ণে চলে এসেছে।
চলবে,,,,,,