ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

৭ম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins)

#লেখনিতে_ফারিহা #থ্রিলার #রোমান্টিক

পর্ব ৭

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

বড়সড় এক মেনশনের ভেতর চারিদিকে ঝিমঝিমে অন্ধকার। ভারী পর্দা নামানো, ঘরে কেবল ম্লান আলো জ্বলছে। বাতাসে ছড়িয়ে আছে সি"গা'রেটের ধোঁয়া আর অ্যাল'কোহলের কটু গ'ন্ধ। টেবিলের উপর ছড়ানো দামি ও'য়া'ই'নের বোতল, কিছু গ্লাসে আধভর্তি র'ক্তি'ম তরল।

মাঝখানে লাল ভেলভেটের সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে ভ্যালেরিয়া মোরেত্তি। হাতে ধরা ওয়া'ই'নের গ্লাস থেকে ধীরে ধীরে চুমুক দিচ্ছে সে, চোখ অর্ধেক বুঁজে যেন ভাবনার গভীরে।তার দুই পাশে বসে আছে কয়েকজন বডিগার্ড । তাদের মুখে গম্ভীরতা, ভয়ে আর সতর্কতায় ভরা। পাশে বসে থাকা আ্যসিসটেনের কান এখনো ব্যা'ন্ডে'জে মো'ড়ানো রিভেনের গু'লির দাগ তার ল'জ্জা আর অপমান হয়ে গায়ে লেগে আছে। হঠাৎ ভ্যালেরিয়া নিস্ত'ব্ধতা ভেঙে নরম অথচ বিষাক্ত সুরে বললো,

“Riven Arwain Caruso… He really thinks he is the Go'd of Milan, doesn't he?”

​ভ্যালেরিয়া গ্লাসটা হালকা নাড়ালেন। ও'য়া'ইনের লাল রঙটা ম্লান আলোয় র'ক্তের মতো দেখাচ্ছে। সে হঠাৎ শব্দ করে হেসে উঠলেন, কিন্তু সে হাসি ঘরটাকে আরও হিমশীতল করে তুলল।

​“I heard he got himself a beautiful wife recently. A delicate little bird trapped in his cage. He loves his possessions, doesn’t he?”

​এক মুহূর্ত থেমে ভ্যালেরিয়া তার অ্যাসিস্ট্যান্টের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন। তার চোখে তখন ঘৃণার লেলিহান শিখা।

​“He thinks he can h'umi'liate Valerio Moretti in front of my own men? He sh'ot you, poured w'ine on my head, and treated me like a street do'g. He thinks I will remain silent for the sake of a deal?”

​হঠাৎ ভ্যালেরিয়া সজোরে গ্লাসটা টেবিলের ওপর রাখলেন। কাঁচের সেই তীক্ষ্ণ শব্দে বডিগার্ডরা সোজা হয়ে দাঁড়াল। ভ্যালেরিয়া সামনের দিকে ঝুঁকে এলেন, তার কণ্ঠস্বর এখন সা'পের মতো হিসহিসে।

​“Riven doesn't know yet what it feels like when I plan a revenge. I will kill him. I want to see him crawl.”

​তিনি তার প্রধান বডিগার্ডের দিকে তাকিয়ে আঙুলের ইশারায় কাছে ডাকলেন।

​“Listen carefully. Frank কে আমার পক্ষ থেকে ইনভিটেশন পাঠাও। Tell him Valerio wants to have a talk about a common enemy. ফ্র্যাঙ্ক অনেকদিন ধরেই রিভেনের সাম্রাজ্যে ফাটল ধরাতে চাইছে। Now is the perfect time to unite.”

​ভ্যালেরিয়া একটি দামী চু'রু'ট ধরালেন। তিনি আবার সোফায় হেলান দিয়ে বসলেন, তার চোখে তখন প্র'তি'শোধের শীতল আ'গুন জ্ব'লছে।

​“Arwain, you played your cards well in that room. But the game isn't over yet."

​তিনি ধোঁ'য়া ছা'ড়তে ছা'ড়তে নিজের মনেই বি'ড়বি'ড় করে বললেন,

“Invite Frank. Let the sharks gather. It’s time to hunt the King.”

_______________________

সময় গড়িয়ে সকালের রোদ এসে পড়েছে ডাইনিং হলে। লম্বা টেবিলের এক প্রান্তে ইতিমধ্যেই বসে আছেন মিসেস কারুসো। তার গম্ভীর মুখ, চোখে কোনো আবেগের ছাপ নেই। যেন রাজকীয় আসনে বসা কোনো রানি চোখের ইশারাতেই ভয়ের সঞ্চার করতে পারেন।রোজেলিয়া ধীরে ধীরে নেমে এসে টেবিলের পাশে দাঁড়ালো। বুকের ভেতর এক অকারণ শূন্যতা আর অস্বস্তি জমে আছে।মেহরিন কারুসো মাথা ঘুরিয়ে রোজেলিয়ার আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করলেন। তার চোখে কোনো মমতা নেই, আছে শুধু বিচারকের মতো কঠোরতা। তিনি অত্যন্ত ঠান্ডা আর মাপা কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন,

​“রিভেন কোথায়? ডাইনিং টেবিলে তাকে দেখছি না কেন?”

​রোজেলিয়া কিছু বলার আগেই আভা দ্রুত এগিয়ে এল। মাথা নিচু করে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে উত্তর দিল,

“ম্যাডাম, স্যার তো খুব সকালে একটা ইমার্জেন্সি মিটিংয়ের জন্য বেরিয়ে গেছেন। বলে গেছেন ফিরতে রাত হতে পারে।”

​মেহেরিন কারুসোর ঠোঁট দুটো সরু হয়ে এল। তিনি কফির কাপে আঙুল দিয়ে হালকা একটা টোকা দিলেন। সেই শব্দের রেশ যেন ডাইনিং হলের নীরবতাকে চিরে ফেলল। তিনি রোজেলিয়ার দিকে সরাসরি তাকিয়ে তীক্ষ্ণ গলায় বললেন,

​“রিভেন ব্রেকফাস্ট না করেই বেরিয়ে গেল? বছরের পর বছর ধরে সে এটাই করে আসছে, কিন্তু আমি ভেবেছিলাম এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। সে বিয়ে করেছে, ঘরে তার স্ত্রী আছে। অথচ এখনো তাকে ব্রেকফাস্ট না করিয়েই বিদায় দেওয়া হচ্ছে? তুমি কি এখনো নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন নও, রোজেলিয়া?”

​রোজেলিয়ার গলার কাছে একটা যন্ত্রণার দলা পাকিয়ে এল। সে মনে মনে ভাবল, ‘দায়ীত্ব? যে মানুষটা আমাকে পশুর মতো বন্দি করে রেখেছে, যার ছায়াটুকু দেখলেও আমার রক্ত হিম হয়ে যায়, তার ব্রেকফাস্টের কথা ভাবব আমি?’ কিন্তু এই কথাগুলো বলার মতো সাহস বা ক্ষমতা কোনোটিই তার নেই। সে শুধু মাথা নিচু করে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল।

​মেহেরিন কারুসো চেয়ার ছেড়ে একটু সামনের দিকে ঝুঁকে এলেন। তার কণ্ঠস্বর এখন আরও নিচু, কিন্তু প্রতিটি শব্দ যেন তলোয়ারের মতো ধারালো।

​“মনে রেখো মেয়ে, কারুসো পরিবারের বউ হওয়া কোনো সাধারণ বিষয় নয়। রিভেনকে সামলানো তোমার প্রধান কাজ। সে কী খাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে, তার মেজাজ কেমন সবকিছুর দায়ভার এখন থেকে তোমার। আমি যেন দ্বিতীয়বার না শুনি যে রিভেন অভুক্ত অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়েছে। আর যেন এমন ভুল না হয়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তোমার।”

​তার কথাগুলো ঘরজুড়ে এক অদৃশ্য হুমকির মতো প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। রোজেলিয়ার ভেতরে এক তীব্র বিদ্রূপ আর রাগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। তার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করল, ‘আপনার ছেলে কোনো দুগ্ধপোষ্য শিশু নয়! তাকে খাওয়ানোর সাধ্য কার আছে?’ কিন্তু সেই সমস্ত ঘৃ'ণা ভেতরেই চাপা পড়ে গেল। রিভেনের মতোই তার মা-ও এক অন্ধকার জগতের মানুষ।

​অবশেষে মেহেরিন কারুসো হাতের হালকা ইশারায় তাকে চেয়ারে বসার নির্দেশ দিলেন।

​“এখন চুপচাপ বসে খেয়ে নাও। ফ্যাকাশে মুখ নিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে থাকা আমার একদম পছন্দ নয়। অন্তত নিজের চেহারাটা রিভেনের যোগ্য করে তোলার চেষ্টা করো।”

​রোজেলিয়া যান্ত্রিকভাবে চেয়ার টেনে বসল। প্লেটে থাকা খাবারগুলোর স্বাদ তার জিভে বি'ষের মতো লাগছিল। প্রতিটি গ্রাস গিলতে গিয়ে তার মনে হচ্ছিল সে নিজের সত্তাকে প্রতিদিন একটু একটু করে বিসর্জন দিচ্ছে। মেহেরিন কারুসো নির্বিকারভাবে কফিতে চুমুক দিলেন।

______________________

রিভেন তার বিশাল চামড়ার চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে, তার পাথরের মতো স্থির মুখমণ্ডলে এক অদ্ভুত শীতলতা।

​রিভেন সি"গারে'টে একটা দীর্ঘ টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে অত্যন্ত নিচু কিন্তু ধারালো গলায় বলল,

“I can smell it, Enzo. They are planning something dir'ty.”

​টেবিলের ওপরপাশে দাঁড়িয়ে থাকা এনজো একটা ট্যাবলেট রিভেনের দিকে এগিয়ে দিল। তার কণ্ঠে চাপা উদ্বেগ।

“Yes, Boss. আমাদের পাঠানো সেই স্পেশাল গুপ্তচর একটা অত্যন্ত জরুরি খবর পাঠিয়েছে। Valerio Moretti শান্ত হয়ে বসে নেই। He is holding a secret meeting right now with a man named Frank.”

​রিভেন নামটা শুনেই চেয়ার ছেড়ে সোজা হয়ে বসল। তার চোখ দুটো সরু হয়ে এল।

“Frank? Who the h'ell is this Frank?”

​এনজো একটু মাথা নিচু করে ইতস্তত ভঙ্গিতে উত্তর দিল,

“That’s the problem, Boss. This man is a gh'ost. আমাদের ইনটেলিজেন্স বা আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কে তার ব্যাপারে তেমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। We only know one thing তারা 'Falco Nero' গ্রুপের লোক। এছাড়া তাদের পেছনের মাস্টারমাইন্ড কে বা তাদের আসল শক্তি কতটুকু, সেটা এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে।”

​রিভেন দাঁতে দাঁত চেপে হাসল, যা বিদ্রূপের চেয়েও বেশি ভয়াবহ।

“Black Falcon? শ'কু'নের দল এখন ঈ'গল হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ও ভুলে গেছে আমি রিভেন আরওয়াইন। শ'ত্রুদের মানচিত্র থেকে মু'ছে দিতে আমার এক রাতই যথেষ্ট।”

​এনজো এবার একটু ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বলল,

“Boss, আরও একটা ভীতিজনক খবর আছে। গুপ্তচর জানিয়েছে, ভ্যালেরিয়া শুধু আপনার ব্যবসাই নয়, ম্যামের কথাও নাকি জানে "

​কথাটা শোনামাত্র রিভেনের হাতের জ্বলন্ত সিগারেটটা টেবিলের ওপর পিষে নিভে গেল। তার চেহারায় এক পৈশাচিক অন্ধকার নেমে এল। সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল, তার স্যুটের বোতামগুলো নিখুঁতভাবে আটকাল। অফিসে নীরবতা । সে এনজোর একদম কাছে গিয়ে নিচু স্বরে, বরফ শীতল কণ্ঠে বলল,

​“Valerio is playing a dangerous game, Enzo. Tell him, if he even breathes the same air as my wife… if he even dares to think about touching a single hair of Roselia… I won’t just kill him. I’ll bu'rn his en'tire empire to a'shes and make sure not even his name remains in history.”

​তার কণ্ঠের সেই নিয়ন্ত্রিত হিং'স্র'তা এনজোকে পর্যন্ত শিউরে দিল। রিভেন জানালার দিকে তাকিয়ে বাইরের শহরের দিকে চোখ রাখল, যেন শিকারি তার লক্ষ্যস্থির করছে।

​“I have a plan, Enzo. ওরা যদি অন্ধকার থেকে হামলা করতে চায়, তবে আমি ওদের সেই অন্ধকারেই জী'ব'ন্ত ক'ব'র দেব।”

​এনজো মাথা নিচু করে সম্মতি জানাল, “I’m on it, Boss.”

_____________________

বিকালে বারান্দায় রোজেলিয়া আর আভা বসে আছে। রোজেলিয়া কফি থেকে এক চুমুক নিলো,তার এক প্রশ্ন মনে বারবার ঘুরছে, ​রোজেলিয়া ইতস্তত করে নিচু স্বরে প্রশ্নটা করেই ফেলল,

“আভা, একটা কথা… আমি অনেকক্ষণ ধরে ভাবছিলাম রিভেন নিজের নামটা সব জায়গায় আলাদা আলাদা ভাবে কেন ব্যবহার করে? বিয়ের দিন কাগজে দেখলাম ওনার পুরো নাম ‘রিভেন আরওয়াইন কারুসো’… অথচ উনি সবসময় ‘রিভেন আরওয়াইন’ নামটাই বেশি প্রেফার করেন। অথচ ওনার মা তো নিজেকে মিসেস কারুসো পরিচয় দেন। এর পেছনে কারণটা কী?”

​আভা কফির কাপটা ধীরে টেবিলে রাখল। তার মুখচ্ছবি গম্ভীর হয়ে এল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে রোজেলিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,

​“আসলে তুমি এই বাড়ির বউ হয়ে এসেছ, তোমার সত্যটা জানা দরকার। রিভেন স্যারের বাবা, মিস্টার ইভানো কারুসো... তিনি ইতালির আন্ডারওয়ার্ল্ডে বড় নাম হতে পারেন, কিন্তু মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন চরম নি'কৃ'ষ্ট। তিনি একজন পুরোদস্তুর ওমেনাইজার। স্যারের মায়ের প্রতি তার কোনো সম্মান বা ভালোবাসা ছিল না। একের পর এক মেয়ের সঙ্গে তার বি'বাহব'হি'র্ভূত সম্পর্ক ছিল, যা মেহেরিন ম্যামকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছিল।”

​আভা একটু থামল, যেন সেই পুরনো যন্ত্রণার স্মৃতিগুলো মনে করার চেষ্টা করছে।

“মিস্টার কারুসো শুধু চরিত্রের দিক থেকেই খারাপ ছিলেন না, তিনি রিভেন স্যারের ওপর ছোটবেলা থেকেই চরম কঠোর ছিলেন। স্যার যখন বড় হচ্ছিলেন, তিনি নিজের চোখের সামনে দেখেছেন তার মায়ের চোখের জল আর তার বাবার বিশ্বাসঘাতকতা। সেই ঘৃণা থেকেই স্যার তার বাবার নামের অংশ ‘কারুসো’ শব্দটাকে ঘৃণা করতে শুরু করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজেকে ‘রিভেন আরওয়াইন’ হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন, কারণ আরওয়াইন নামটা ওনার মায়ের বংশের আভিজাত্য বহন করে। তবে ব্যবসায়িক বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘কারুসো’ নামের ক্ষমতা অনেক বেশি, তাই ডিল করার সময় বাধ্য হয়েই তিনি পুরো নাম ব্যবহার করেন।”

​রোজেলিয়ার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত বিষাদ মোচড় দিয়ে উঠল। সে বিড়বিড় করে বলল,

“মম কি সবটাই জানতেন? তিনি কি এখনো ওনার সাথেই আছেন?”

​“হ্যাঁ, তিনি সবই জানতেন,” আভা উত্তর দিল।

“কিন্তু মেহেরিন ম্যাম অত্যন্ত শক্ত মনের মানুষ। নিজের সম্মান আর ছেলের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে তিনি সব সহ্য করে এই সাম্রাজ্য আগলে রেখেছেন। স্যারের এই কঠিন আর পাথরের মতো স্বভাব আসলে সেই ছোটবেলার দেখা তিক্ততা থেকেই জন্মেছে।”

​রোজেলিয়া কফির ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

“তুমি এই বাড়ির এত গোপন খবর কীভাবে জানো আভা? তুমি কতদিন ধরে এখানে?”

​আভা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“আমি এখানে তিন বছর। প্রথম যখন কাজে আসি, তখন হিলদা নামের একজন বৃদ্ধা মেইড ছিলেন। তিনি মেহেরিন ম্যামের খুব ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। কারুসো পরিবারের প্রায় ৫০ বছরের ইতিহাস তার নখদর্পণে ছিল। তিনি আমাকে গল্পচ্ছলে এসব বলতেন। দুই বছর হলো হিলদা মারা গেছেন, আর তার সঙ্গেই অনেক গোপন রহস্য মাটি চাপা পড়েছে।”

​রোজেলিয়া এবার আভার একটু কাছে সরে এল। তার কণ্ঠস্বর আরও নিচু হয়ে গেল, চোখে এক অজানা আতঙ্ক।

“আভা… আরেকটা কথা। আমি যেদিন এই জঙ্গল দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলাম, তখন একটা মেয়েকে দেখেছিলাম। তার চুলগুলো বাদামী ছিল। মেইডদের ড্রেস পড়া ছিল "

​আভার ভ্রু কুঁচকে গেল। সে চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“তুমি কি রিকার কথা বলছ?”

​“আমি ওর নাম জানি না...”

​আভা একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

“রোজেলিয়া, এই বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে সিসিটিভি ক্যামেরা লুকানো আছে। স্যার সেদিন সব দেখেছিলেন। রিকা তোমাকে পালাতে দেখেও বাধা দেয়নি বা স্যারকে খবর দেয়নি রিকা জানতো এই জংগলটা কত ভয়ানক। রিকা আগে থেকেই স্যারের প্রতি দুর্বল ছিল, অনেকবার ওনার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টাও করেছে। কিন্তু স্যার ওকে দুচোখে দেখতে পারতেন না।”

​রোজেলিয়ার হার্টবিট বেড়ে গেল।

“তারপর কী হলো ওর সাথে?”

​আভা জানালা দিয়ে দূরের ঘন জঙ্গলটার দিকে তাকাল, যেখানে অন্ধকার ঘনীভূত হচ্ছে।

“তুমি যখন ধরা পড়লে, স্যার রিকার ওপর প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলেন। তিনি রিকাকে বেসমেন্টে পাঠিয়েছিলেন... তারপর থেকে রিকাকে আর কেউ দেখেনি। এই বাড়িতে বেই'মা'নি বা আদেশের বরখেলাপের একটাই শাস্তি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া।”

​রোজেলিয়ার হাতের কফির কাপটা কাঁপতে কাঁপতে টেবিলের ওপর পড়ে গেল। তার দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।

“আমার জন্য... আমার জন্য একটা মেয়ে প্রা'ণ হা'রা'লো? আমি জানতাম না এই বাড়ির নিয়ম এত নি'ষ্ঠুর!”

​আভা রোজেলিয়ার কাঁধে হাত রাখল, তার কণ্ঠ এখন পাথরের মতো ভারী।

“নিজেকে দোষ দিয়ে লাভ নেই রোজেলিয়া। এই বাড়িতে কারও কোনো ব্যক্তিগত সত্তা নেই। এখানে একটাই ধ্রুব সত্য স্যারের আদেশ। "

______________________

রাতে ভারী বুটের শব্দে ড্রয়িংরুমটা কেঁপে উঠল। রিভেন ভেতরে ঢুকল। কালো ওভারকোটটা তার কাঁধে ঝোলানো, শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খোলা। তার চোখে ক্লান্তি থাকলেও আভিজাত্যের সেই নিষ্ঠুর তেজ বিন্দুমাত্র কমেনি।

​রিভেন সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতেই রোজেলিয়া অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে মৃদু স্বরে বলল,

“খাবার রেডি আছে। ফ্রেশ হয়ে নিচে আসুন, আমি অপেক্ষা করছি।”

​রিভেন থমকে দাঁড়াল। ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে সে টেবিলের দিকে তাকাল, যেখানে মোমবাতির হালকা আলোয় ধোঁয়া ওঠা খাবারগুলো সাজানো।রোজেলিয়ার এই পদক্ষেপ রিভেনকে একটু অবাক করলো । তার শিকারি দৃষ্টি গিয়ে পড়ল রোজেলিয়ার ওপর। ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত বিষাক্ত আর আকর্ষণীয় বাঁকা হাসিটা ফুটে উঠল।

​“Were you waiting for me, wife? এত আয়োজন... আমার জন্য?”

সে ধীর পায়ে রোজেলিয়ার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল।

​রোজেলিয়া বুক ভরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করল। রিভেনের শরীর থেকে দামী পারফিউম আর তামাকের একটা কড়া ঘ্রাণ আসছে যা রোজেলিয়াকে সম্মোহিতের মতো আচ্ছন্ন করে ফেলছে।

​রিভেন তার খুব কাছে এসে থামল। শার্টের কলারটা ঠিক করতে করতে ঠান্ডা স্বরে বলল,

“But… I’ve already eaten outside with my associates. তোমার এই পরিশ্রম তো বৃথা গেল, রোজ পেটাল।”

​কথাটা শুনে রোজেলিয়ার ভেতরটা অপমানে আর অভিমানে দুমড়ে মুচড়ে গেল। সে সারাদিন এই মানুষটার ভয়ে আর চিন্তায় কাটিয়েছে, আর সে কতটা অবলীলায় রিজেক্ট করে দিল! সে গলাটা পরিষ্কার করে ভাঙা স্বরে বলল,

“আ..আমি নিজে আজকে রান্না করেছি প্রথমত রাত করে ফিরলেন এখন বলছেন খেয়ে এসেছেন"

​রিভেন এবার আরও একধাপ এগিয়ে এল। তাদের মাঝখানের দূরত্ব এখন নেই বললেই চলে। রিভেন ঝুঁকে এসে রোজেলিয়ার কানের কাছে তার উষ্ণ নিঃশ্বাস ফেলল। তার কণ্ঠস্বর এখন মখমলের মতো নরম, কিন্তু তাতে মিশে আছে আদিম কোনো নেশা।

​“Do you really want to feed me that badly, Roselia? খাবার যখন খেয়েই ফেলেছি, এখন বরং তো'মাকেই ‘টে'স্ট’ করলে কেমন হয়? You look much more de'licio'us than those plates on the table.”

​রোজেলিয়ার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এল। রিভেনের চোখের মণি দুটো এই অন্ধকারে আ'গুনে'র মতো জ্বলছে। সে চাইলেও চোখ সরাতে পারল না, যেন কোনো জাদুকরের মায়াজালে আটকা পড়েছে।​রিভেন তার আঙুলের ডগা দিয়ে রোজেলিয়ার চিবু'ক'টা স্প'র্শ করল। তার কণ্ঠস্বর এখন গাঢ় আর গভীর,

“আমি যখন ক্ষু'ধার্ত হয় তখন আমি কোনো নিয়মই মানি না। And right now, my hunger isn't for food... it's for the soul that’s tre'mb'ling in front of me.”

​রোজেলিয়া চোখ নামিয়ে নিল, তার ঠোঁট কাঁপছে।

“আমি শুধু...আ"

​রিভেন এক মুহূর্ত চুপ করে রোজেলিয়ার এই অসহায়ত দেখল। তার চোখে এক অদ্ভুত তৃপ্তি খেলে গেল ভ'য় আর আকর্ষণের এক সংমিশ্রণ। সে সরাসরি উত্তর না দিয়ে রোজেলিয়ার কপালে লেগে থাকা একটা অবাধ্য চুল সরিয়ে দিল।

​“তোমার এই অবাধ্যতা আর এই যত্ন... দুটোই আমাকে দ্বিধায় ফেলে দেয়। Keep the food, Roselia. হয়তো কোনোদিন আমি তোমার হাতের বি'ষ'ও হাসিমুখে খেয়ে নেব। কিন্তু আজ নয়।”

​বলেই সে কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করে ঘুরে দাঁড়াল। ভারী কদমে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করল সে। রোজেলিয়া হ'ত'ভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।

To be continue,,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন