ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins)

#লেখনিতে_ফারিহা #থ্রিলার #রোমান্টিক

পর্ব ৬

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

রিভেনের ঘর এখনো আধো অন্ধকার। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা সূর্যের আলো কার্পেটে লম্বা ছায়া ফেলে রেখেছে। টেবিলের উপর রাখা মোবাইল ফোনটা হঠাৎ জোরে জোরে বেজে উঠল।

Ring...Ring...Ring...

রিভেন চোখ মুছে ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে ফোনটা তুলে নিল।অপর প্রান্ত থেকে এনজোর কণ্ঠ ভেসে এলো, তীক্ষ্ণ আর তাড়াহুড়ো ভরা,

“Boss,you had a deal to sign today।”

রিভেন গভীর নিঃশ্বাস ফেলে জবাব দিল, গলার স্বর ভারী আর কর্তৃত্বপূর্ণ,

“yes, i am coming ।”

কোনো বাড়তি কথা না বলে ফোন কেটে দিল।সে সময় রোজেলিয়া তার পাশেই ছিল। পাতলা কম্বলে নিজেকে মুড়িয়ে, মুখটা বালিশে গুঁজে গভীর ঘুমে ডুবে আছে। তার নিশ্বাসের হালকা শব্দ ঘরটাকে আরও নীরব করে তুলছে। রিভেন এক ঝলক তাকাল তার দিকে। মুখভরা ক্লান্তি, চোখের কোণে শুকনো অশ্রুর দাগ এখনো স্পষ্ট। কিন্তু কোনো আবেগ প্রকাশ না করেই রিভেন উঠে দাঁড়াল।

সে সোজা ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে কালো শার্ট আর মানানসই স্যুট পরে বেরিয়ে এলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাতের আঙুলে আংটিটা ঘুরিয়ে নিল, তারপর টাই বাঁধল।সব শেষে জুতো পড়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আরেকবার রোজেলিয়ার দিকে তাকাল।রিভেন এক মুহূর্ত দেরি না করে দরজা খুলে বেরিয়ে গেল। করিডরের ফ্লোরে তার জুতোর শব্দ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল অন্ধকারে।

_______________

অনেকটা সময় পরে ধীরে ধীরে চোখ মেলল রোজেলিয়া। শরীরটা ভারী লাগছে, যেন এক রাতেই সে কয়েক বছর বুড়ো হয়ে গেছে। তবুও জোর করে নিজেকে টেনে তুলল। বিছানায় বসতেই বুকের ভেতর চাপা কষ্টটা যেন হঠাৎ বি"স্ফোরিত হলো। সে নিঃশ্বাস নিতে নিতে ভেঙে পড়ল,

“আহ্… কেন…?”

দম বন্ধ হওয়া কান্না গলায় জমে একসময় ফে'টে বে'রিয়ে এলো। চোখের জল বালিশ ভিজিয়ে দিল। কিছুক্ষণ কাঁদার পর সে এক ঝটকায় কম্ফোর্টার জড়িয়ে উঠে দাঁড়াল।ধীর পায়ে হেঁটে চলে গেল ওয়াশরুমে। শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে জলের ধারা গায়ে পড়তেই সে চোখ বন্ধ করল। মনে হলো হয়তো এই জলের সাথে তার সমস্ত ব্য'থা'ও ধুয়ে যাবে। কিন্তু পানি গড়িয়ে নামল শরীর বেয়ে, ব্য'থা থেকে গেল ভেতরে।কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এলো। ভেজা চুল কাঁধ বেয়ে ঝরে পড়ছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে টাওয়াল দিয়ে চুলের পানি মুছতে মুছতে নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল।

“কে দায়ী আমার এই অবস্থার জন্য?”

মনেই মনেই প্রশ্ন করল সে।

“আমি? … নাকি বাবা?”

কিন্তু সাথে সাথেই মাথা ঝাঁকিয়ে উত্তর দিল নিজেকেই,

“না, না… বাবাকে দায়ী করা যায় না। তিনি আমাকে ছোট থেকেই কত আদরে বড় করেছেন, আমার প্রতিটি বিপদ থেকে আড়াল করে রেখেছেন। তিনি সবসময় আমার আশ্রয় ছিলেন।”

চোখ থেকে আবার জল গড়িয়ে পড়ল, কিন্তু ঠোঁটে হালকা কাঁপুনি নিয়ে সে বিড়বিড় করে বলল

"না, বাবা কখনো দায়ী নন। এটা কেবল আমার ভাগ্য ছিল…”

সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবিকে দেখল, যেন ভাঙা কাঁচের মতো টু'করো টু'করো এক জীবনের প্রতিফলন।

.________________

ড্রইংরুমে বসে আছেন মিসেস মেহরিন আরওয়ান কারুসো। তাঁর ভঙ্গিমাতেই রাজকীয়তার ছাপ সোজা হয়ে বসে আছেন, যেন এক রানি। তাঁর চারপাশে এক অদৃশ্য ক্ষমতার আভা ছড়িয়ে আছে। পাশে দাঁড়িয়ে আছে এক মেইড চোখ নামানো, হাত জোড় করা। মনে হচ্ছে, মিসেস কারুসো যদি এখনই কোনো আদেশ দেন, সঙ্গে সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন হবে।

রোজেলিয়া ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন তার ভেতরের দ্বিধা, আতঙ্ক আর ক্লান্তির ছাপ বহন করছে। তবুও মাথা নিচু না করে সোজা হয়ে আসছে সে নিজেকে শক্ত দেখানোর চেষ্টা করছে।

কিন্তু সিঁড়ির শেষ ধাপে পৌঁছাতেই এক মুহূর্তের জন্য মিসেস কারুসোর চোখ তার উপর স্থির হলো। সেই চোখে কোনো আবেগ নেই না রাগ, না মমতা, শুধু ঠাণ্ডা রাজকীয় দৃষ্টি। পরক্ষণেই তিনি চোখ ফিরিয়ে নিলেন, যেন রোজেলিয়ার অস্তিত্বই নেই।রোজেলিয়ার বুক কেঁপে উঠল। সে থমকে গেল, কিছুটা হতভম্ব। “কেন এমন করলেন উনি?” ভাবল সে।তাহলে কি উনি আমার ওপর অসন্তুষ্ট? আমার কি কোনো ভুল হয়েছে?

রোজেলিয়া ধীর পায়ে এগোয়, মনের ভেতর অজান্তেই কেঁপে ওঠে। মেইডের হাত থেকে কাচের ট্রে হাতে নিয়ে সে মেহরিন আরওয়াইনের সামনে দাঁড়ায়। এক মুহূর্তের জন্য সময় যেন থেমে যায়। তার চোখে কোনো উষ্ণতা নেই, বরং ঠাণ্ডা, রাজকীয় ভাব। তার চোখগুলো রোজেলিয়ার দিকে নিক্ষিপ্ত প্রায় মনে হচ্ছে প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গ তার মানে বোঝার চেষ্টা করছে। রোজেলিয়া চায়ের কাপ এগিয়ে দেয়।মুহূর্তের জন্য রোজেলিয়া স্থির দাঁড়ায়, হাত কেঁপে যায়, বুকের ভেতর অদ্ভুত এক চাপ অনুভব করে। মেহরিন ধীরে ধীরে চোখ নামিয়ে নিয়ে নিচু কণ্ঠে বলেন,

“এই বাড়িতে আমাকে চা এগিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট মেইড আছে। এসব তোমাকে করতে বলিনি আমি।"

“জি, আচ্ছা…”

মুহূর্তের জন্য সে নিজের কণ্ঠের শব্দকেও অচেনা মনে করে। চোখ নামিয়ে নেয়, হাতে থাকা ট্রে টেবিলে রাখে। বুকের ভেতর অস্থিরতা, অদ্ভুত শূন্যতা। সে বুঝতে পারে এই বিশাল বাড়িতে দাঁড়িয়েও একেবারেই একা।

রোজেলিয়া মনেই মনে ভাবতে থাকে,

“কেন এই বাড়িতে কেউ আমাকে নিজের মতো করে দেখবে না? কেন কেউ আমার পাশে দাঁড়াবে না?” চোখের কোণে জল জমে আসে, কিন্তু সে নিজেকে শক্ত রাখে। কণ্ঠে শব্দ বের হয় না, শুধু দম নিতেই মন।

মুহূর্তের জন্য, মেহরিন আরওয়াইন কেবল রাজকীয় ভঙ্গিতে স্থির থাকে, যেন রোজেলিয়ার ভয়, অসহায়তা এবং অদৃশ্য দমনের সব কিছুই পর্যবেক্ষণ করছেন। রোজেলিয়ার মনে হয় এই বাড়িতে সে একমাত্র সেই ব্যক্তি, যাকে কেউ কখনো নিজের মতো করে নিতে চাইবে না।এভাবেই রোজেলিয়ার মধ্যে ভয়, শ্রদ্ধা এবং এক ধরণের শূন্যতার অনুভূতি আরও ঘনিয়ে আসে, আর মেহরিন নিঃশব্দে সব দেখছেন যার জন্য তার উপস্থিতি একেবারেই রাজকীয়।

__________

বিশাল মেহগনি কাঠের টেবিলের ওপর দামি সিগারেটের ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে ভাসছে। টেবিলের ওপারে বসে আছেন ইতালিয়ান ব্যবসায়ী মি. ভ্যালেরিয়া। তার পেছনে পাথরের মূ'র্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে তার চারজন স'শস্ত্র বডিগার্ড।

​ভ্যালেরিয়া শান্ত কিন্তু গম্ভীর গলায় বললেন,

“Mr. Arwain, this deal will bring us both huge profit. But… the shipment needs more time. My assistant will explain the details.”

​ভ্যালেরিয়া তার পাশে বসা তরুণ অ্যাসিস্ট্যান্টের দিকে ইশারা করলেন। ছেলেটি ঘা'মছে, তো'তলাতে তো'তলাতে বলল,

"Sir… actually, the shipment from the port… it may delay for two weeks. Because the customs"

​"Shut your mouth!"

রিভেনের চি'ৎকারে পুরো ঘর কেঁপে উঠল। সে সজোরে টেবিলে চা'পড় মারল, তার চোখের কোণায় রা'গের লাল শিরা ভেসে উঠেছে।

​"Two weeks delay? Do you think I play games here? Do I look like a patient man to you, Valerio?”

​ভ্যালেরিয়া কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে বললেন,

"Relax Arwain, it’s just a minor issue. We can manage"

​"Manage?"

রিভেন বিদ্রুপের সাথে হাসল। হঠাৎ বিদ্যুৎগতিতে কোমর থেকে পি'স্ত'ল বের করে ট্রি'গার টি'পল সে।​বুলেট গিয়ে লাগল অ্যাসিস্ট্যান্টের কানের পাতায়। ছেলেটা আর্তনাদ করে চেয়ার থেকে পড়ে গেল, মেঝে র'ক্তে ভে'সে যাচ্ছে। ভ্যালেরিয়ার বডিগার্ডরা মুহূর্তের মধ্যে তাদের জ্যাকেটের ভেতর হাত দিল গা'ন বের করার জন্য।

​"Don't even think about it,"

রিভেনের শীতল কণ্ঠস্বর শোনা গেল।

​ঠিক সেই মুহূর্তে ভ্যালেরিয়ার চারজন বডিগার্ডের কপালে আর বু'কে লা'ল ড'ট দেখা দিল। ঘরের অন্ধকার কোণ থেকে মার্কো আর লোরেনজো তাদের স্না'ই'পার আর লে'জার সা'ই'ট নিয়ে ল'ক্ষ্য'স্থির করে আছে। এক চুল নড়লেই সবার মা'থা উ'ড়ে যাবে।

​রিভেন ধীরপায়ে উঠে ভ্যালেরিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ভ্যালেরিয়া তখন ভ'য়ে আ'ড়ষ্ট। রিভেন তার হাতের জ্ব'ল'ন্ত সি'গা'রে'টটা ভ্যালেরিয়ার দামী স্যুটের কলারের ওপর ঘ'ষে নি'ভিয়ে দিল। তা'মা'কের গ'ন্ধে আর অপমানে ভ্যালেরিয়ার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

​"Look at me, Valerio,"

রিভেন তার থুতনি ধরে মুখটা উঁচিয়ে ধরল।

"In my world, delay means death. And your men? They are just target practice for my boys."

​রিভেন এবার টেবিলের ওপর রাখা এক গ্লাস ম'দ ভ্যালেরিয়ার মাথায় ঢেলে দিল। সবার সামনে এই চরম অপমানে ভ্যালেরিয়ার চোখ অপমানে আর রাগে জ্ব'ল'ছে, কিন্তু লে'জা'রের লা'ল বিন্দুগুলো তাকে নড়তে দিচ্ছে না।

​"Now tell me, Valerio… do we have a deal, or do I need to paint this floor with your blood too?"

​ভ্যালেরিয়া কাঁপাকাঁপা হাতে টেবিলের ওপর রাখা রুমাল দিয়ে মুখ মুছলেন। তার নিজের লোকজনের সামনে এমন অপমান তিনি জীবনেও পাননি। ধরা গলায় বললেন,

"Y-yes… Mr. Arwain. We have a deal. No delay. I swear."

​রিভেন একটা ব্যঙ্গাত্মক হাসি দিয়ে কলমটা তার দিকে ছুড়ে দিল।

"Sign it. And remember, I pay for loyalty, not for excuses. Next time I won't aim for the ear."

​ভ্যালেরিয়া সই করে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে নিলেন। তার গার্ডরা মেঝেতে পড়ে থাকা লোকটিকে নিয়ে বেড়িয়ে গেল। রিভেন পেছন থেকে বলে উঠল,

"Valerio! Next time, bring men who aren't afraid of a little blood. You look pa'th'etic today."

​ভ্যালেরিয়া কোনো কথা না বলে বেরিয়ে গেলেন।রুম এখন শান্ত। রিভেন পি'স্ত'ল'টা হো'ল'স্টা'রে রেখে জানালার দিকে তাকাল।

​"Enzo."

"Yes, Boss?"

"Clean the mess."

গাড়ির ভেতরটা তখন সি'গা'রে'টের ধোঁ'য়া আর এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। রিভেনের অভিব্যক্তিহীন চেহারার দিকে তাকিয়ে এনজো বুঝতে পারছিল, বসের মাথায় এখন অন্য কোনো ভয়ঙ্কর ছক ঘুরছে। মিলানের ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে রিভেনের Black Sedan যখন তীরের মতো ছুটছিল, তখন বাইরের নিয়ন আলোগুলো রিভেনের চোখে প্রতিফলিত হয়ে তাকে আরও রহস্যময় করে তুলছিল।

​গাড়িটা হাইওয়েতে উঠতেই এনজো নীরবতা ভেঙে বলল,

"Boss, today’s incident will spread like wi'ld'fire. Underworld এর সবাই জেনে যাবে আপনি ভ্যালেরিয়াকে তার নিজের লোকের সামনে কু'কু'রের মতো অপমান করেছেন। Valerio is a proud man, boss. He won't take this sitting down. He will definitely want b'l'ood for this."

​রিভেন তার পকেট থেকে সোনালী লা'ই'টারটা বের করে আগুনের শিখার দিকে তাকিয়ে শীতল গলায় উত্তর দিল,

"Let them talk, Enzo. In this business, if you aren't the p'red'ator, you are the p'rey. Valerio-র সাহস বেড়ে গিয়েছিল, ও ভেবেছিল ও আমাকে কন্ডিশন দেবে? I had to remind him who owns the c'age. I don’t just k'i'll enemies, Enzo I break their souls."

​এনজো জানালার বাইরে তাকিয়ে একটু চিন্তিত গলায় বলল,

"But boss, hu'mil'iating him in front of his own guards was a risky move. If Lorenzo and Marco weren't faster with the la'se'r's, it would’ve been a complete massacre right there in that room."

​রিভেন একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে জানালার কাঁচ নামাল। বাইরের হিমশীতল হাওয়া ভেতরে ঢুকতেই সে গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে বলল,

"That’s exactly why I did it, Enzo. I didn't just h'urt his assistant; I st'ripp'ed Valerio of his di'gn'ity. এ শহরে ওর সম্মানের দাম এখন শূন্য। A man without d'ign'ity is like a d'o'g without teeth. ও ঘে'উ ঘে'উ করবে ঠিকই, কিন্তু কা'ম'ড় দেওয়ার আগে দশবার ভাববে।"

​সে কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে সিগারেটের ছাই ঝেড়ে আবার বলতে শুরু করল,

"Let them seek re'ven'ge. I don't f'ear their g'uns. বরং আমি চাই আমার নাম শুনলেই ওদের হার্টবিট বেড়ে যাক। I want my name to be a ni'ghtm'are for them. Fear is the most expensive currency in this world, and today, I just became the richest man in Milan."

​গাড়িটা দ্রুতগতিতে পাহাড়ি রাস্তার দিকে উঠতে শুরু করল, যেখানে রিভেনের সেই দুর্ভেদ্য প্রাসাদটি অবস্থিত। এনজো লক্ষ্য করল, রিভেন তার পি'স্তল'টা বের করে সিল্কের রুমাল দিয়ে পরম মমতায় মুছছে।

​রিভেন নিচু স্বরে বিড়বিড় করে বলল,

"Valerio, make your move soon. My bu'lle't are getting bored of waiting."

__________

বাড়িতে ফিরেই রিভেনের মে'জাজ ছিল তু'ঙ্গে। করিডোর দিয়ে হাঁটার সময় তার বুটের প্রতিটি শব্দ যেন আসন্ন কোনো ঝড়ের সংকেত দিচ্ছিল। বেডরুমের দরজাটা সজোরে খুলে সে ভেতরে পা রাখল। কিন্তু ভেতরে ঢুকতেই তার দৃষ্টি স্থির হলো বেডের পাশের সাইড টেবিলের ওপর। সেখানে রাখা খাবারের ট্রেটা একদম অস্পর্শিত। ভাত, স্যুপ, সবজি সবকিছুই একদম হিমশীতল হয়ে পড়ে আছে। এক ফোঁটা খাবারও মুখে তোলা হয়নি।

​রিভেনের চোয়াল শক্ত হয়ে এল, গলার র'গগুলো রা'গে ফু'লে উঠল। সে ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে জানালার দিকে তাকাল। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে রোজেলিয়া। বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে সে যেন নিজের অস্তিত্ব খুঁজছে। তার নি'থর দেহভঙ্গি রিভেনের ভেতরে জমে থাকা বা'রুদে আগুন ধরিয়ে দিল।

​রিভেন ভারী আর কড়া গলায় গর্জে উঠল,

“খাবার কেন খাওনি তুমি? Did you think I wouldn't notice your little rebellion?”

​রোজেলিয়া কোনো উত্তর দিল না। তার এই নীরবতা রিভেনের সহ্যশক্তির বাইরে। সে তী'রের মতো এগিয়ে গেল রোজেলিয়ার দিকে। তার কণ্ঠস্বর এখন বরফের মতো ঠাণ্ডা, যা চিৎকারের চেয়েও বেশি ভ'য়ংকর।

​“Answer me, Roselia! আমার আদেশ অমান্য করার সাহস তোমাকে কে দিল? "

​মেয়েটা তখনও পাথরের মতো স্থির। শুধু তার ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ আর চোখের কোণে জমে থাকা জলের চিকচিকানি বোঝাচ্ছিল সে কতটা ভেঙে পড়েছে। রিভেন এক মুহূর্ত স্থির হয়ে দাঁড়াল, তারপর হঠাৎ এক ঝটকায় ট্রেটা তুলে রোজেলিয়ার মুখের সামনে ধরল।

​“এখনই খাবে। আমার সামনে। Every single bite! না হলে পরিণাম কী হতে পারে, সেটা তোমার ক'ল্পনা করারও ক্ষ'মতা নেই।”

​রোজেলিয়া এবারও কোনো শব্দ করল না। তার ঠোঁট দুটো শক্ত করে বন্ধ, যেন এক অবাধ্য সংকল্পে সে অটল। রা'গে রিভেনের চোখের মণি অন্ধকার হয়ে এল। এক মুহূর্তের উন্মাদনায় সে খাবারের ট্রেটা মেঝেতে আছড়ে ফেলল। কাঁচ আর সিরামিক ভাঙার তীক্ষ্ণ শব্দে পুরো ঘরটা কেঁপে উঠল।

​“I said eat! এই বাড়িতে আমার ইচ্ছাই আইন, আমার আদেশই শেষ কথা! Don't you d'are test my pa'tience!”

​ব'জ্র'কণ্ঠে কথাগুলো বলেই সে রোজেলিয়ার বাহু চেপে ধরল। তার বলিষ্ঠ আঙুলের চাপে রোজেলিয়ার নরম চা'ম'ড়া মু'হূ'র্তেই লা'ল হয়ে উঠল। মেয়েটার শরীর হালকা কেঁপে উঠল, কিন্তু সে মুখ খুলল না। রিভেন তার একদম কাছে ঝুঁকে এল, তাদের নিঃশ্বাস একে অপরকে স্পর্শ করছে।

​“চুপ করে আছ কেন? জি'ব কি কে'টে ফেলেছ? Say something, damn it!”

​রোজেলিয়ার চোখ বেয়ে তখন টলটলে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তার এই নিঃশব্দ কান্না রিভেনের ভেতরের নিষ্ঠুরতাকে আরও উসকে দিল। সে বিদ্রূপের হাসি হেসে উঠল।

​“এসব কান্নার নাটক বন্ধ করো! চোখের জল ফেলে আমাকে নরম করা যাবে না। Tears are for the weak, and I have no mercy for weakness. Stop crying and look at me!”

​এক ঝটকায় সে রোজেলিয়াকে বিছানার দিকে ঠেলে দিল। রোজেলিয়া টাল সামলাতে না পেরে বিছানায় পড়ে গেল, তার খোলা চুলগুলো ছড়িয়ে পড়ল চাদরে। রিভেনের রা'গের প্রতিধ্বনি তখন ঘরের দেয়ালে দেয়ালে কাঁপছে।

​“মনে রেখো, আমি রিভেন আরওয়াইন! এখানে তোমার কোনো স্বাধীনতা নেই। তোকে যা বলব, তুই সেটাই করবি। তোর প্রতিটা নিঃশ্বাস এখন আমার নিয়ন্ত্রণে।”

​এই বলে সে ঝড়ের বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। দরজাটা এমনভাবে বন্ধ হলো যে মনে হলো পুরো বাড়িটা কেঁপে উঠেছে।

​দশ মিনিট পর।

দরজার হাতলটা আবার ধীরে ঘুরল। রিভেন আবার ভেতরে ঢুকল। এবার তার হাতে নতুন এক প্লেট খাবার। তার চোখে এখন কোনো রাগ নেই, আছে এক জমাটবদ্ধ শীতলতা। সে রোজেলিয়ার সামনে এসে তার বাহু ধরে টেনে তুলল এবং ফিসফিস করে বলল,

​“এবার খাবে। ভদ্র মেয়ের মতো আমার সামনে বসে খাবে। না হলে আমি এমন কিছু করব যা তোমার দুঃ'স্ব'প্নেও কোনোদিন আসেনি। Choice is yours, Rose petal.”

​রোজেলিয়া বুঝতে পারল, এই পি'শা'চের হাত থেকে নিস্তার নেই। কাঁপতে কাঁপতে সে চামচ তুলে মুখে খাবার দিল। প্রতিটি গ্রাস যেন বি'ষে'র মতো তিতকুটে লাগছিল তার কাছে। খাবারগুলো গলার নিচে নামছিল না, বুকটা য'ন্ত্রণায় ফে'টে যাচ্ছিল। রিভেনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তাকে এক মুহূর্তের জন্যও আড়াল হতে দিচ্ছিল না।

​খাবার শেষ হতেই রিভেন এক অদ্ভুত বাঁকা হাসি দিল। সে একটা টিস্যু নিয়ে অত্যন্ত অবহেলার সাথে রোজেলিয়ার গাল আর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা খাবারের কণা আর চোখের জল মুছে দিতে লাগল।

​সে ঝুঁকে এসে রোজেলিয়ার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,

“এইভাবে সবকিছু মেনে নিতে শিখতে হবে। তোমার জীবনের প্রতিটি সেকেন্ড এখন আমার নিয়মে চলবে। অবাধ্য হওয়ার চেষ্টা করলে আমি কতটা নিচ হতে পারি, তা তোমার ধারণার বাইরে।”

​রিভেন সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তার কোট আর ঘড়ি খুলে রাখল। তারপর তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। রোজেলিয়া একা ঘরে বসে কাঁপছিল। তার মনে হচ্ছিল, এই ঘরটা আসলে একটা সোনার খাঁচা, যেখানে সে তি'লে তি'লে মা'রা যাচ্ছে।

​কিছুক্ষণ পর রিভেন বেরিয়ে এল। তার শরীরে শুধু একটা তোয়ালে জড়ানো। ভেজা চুল থেকে জলের ফোঁটাগুলো তার পেশীবহুল বুক বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে তার বাহু আর বুকে নানান রকমের ট্যা'টুতে ভরপুর। তার এই উ'দ্দাম উপস্থিতি পুরো ঘরের বাতাস ভারী করে দিল। রোজেলিয়া অজান্তেই তার দিকে তাকিয়ে ফেলল, কিন্তু পরক্ষণেই চোখ নামিয়ে নিল।

​রিভেন তার কাছে এসে তার থুতনি ধরে মুখটা উঁচিয়ে ধরল। রোজেলিয়ার চোখ তখন ভয়ে আর অপমানে লাল। রিভেনের কন্ঠস্বর এখন আশ্চর্যরকম শান্ত, কিন্তু সেই শান্ত স্বরে এক চরম আদিমতা ছিল।

​সে ঝুঁকে এসে তার ঠোঁটের খুব কাছে ফিসফিস করে বলল,

“I am all yours... wife. And you are mine. তোমার এই শরীর, এই মন, এমনকি তোমার এই চোখের জলও এখন থেকে আমার সম্পত্তি।”

​তার আঙুলের ডগা রোজেলিয়ার ঠোঁটের ওপর দিয়ে আলতো করে স্লা'ইড করল। রোজেলিয়া চোখ বন্ধ করে ফেলল। রিভেন খুব ধীরে তার কপালে এক দীর্ঘ চু'মু খেল। সেই চু'মুতে কোনো উষ্ণতা ছিল না, ছিল এক অন্ধকার মালিকানার মোহর।

​রিভেন সরে গিয়ে নিচু স্বরে বলল,

“যাও, ঘুমিয়ে পড়ো। কিন্তু মনে রেখো, এখন থেকে তোমার সব দুঃ'স্বপ্নের শুরু আর শেষ দুটোই আমি।”

To be continue,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন