#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins)
#লেখনিতে_ফারিহা #থ্রিলার #রোমান্টিক
পর্ব ৯
(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)
বিমানের মৃদু শব্দটা যেন কোনো সুরের মতো বাজছে। প্রাইভেট জেটের ভেতরে সাদা লেদার আর দামী প্রাচীন ওয়া'ইনের একটা অভিজাত্যের ঘ্রাণ মৌ মৌ করছে। কেবিনের ম্লান সোনালি আলো রোজেলিয়ার মুখে এক মায়াবী ছায়া ফেলেছে।
রোজেলিয়া ধীরে ধীরে চোখ মেলে দেখল, সে রিভেনের প্রশস্ত বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়ে আছে। রিভেনের হৃদস্পন্দনের সেই ভারী আর নিয়মিত ধ্বনি তার কানে কোনো এক প্রাচীন ছন্দের মতো বাজছে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, কয়েক ঘণ্টা আগে যে মানুষটা তার চোখের সামনে ঠান্ডা মাথায় খু'ন করেছে, তার বুকেই এখন রোজেলিয়া এক অ'দ্ভুত, নি'ষি'দ্ধ নিরাপত্তা খুঁজে পাচ্ছে।
সে মাথা তুলে তাকাল। রিভেনের এক হাতে রেড ওয়া'ইনের গ্লাস, অন্য হাতটা রোজেলিয়ার কোমর জড়িয়ে ধরেছে।
রিভেন চোখ নামিয়ে তাকাল। তার দৃষ্টি আজ অস্বাভাবিক গাঢ়। নিচু, শিরদাঁড়া দিয়ে হিম'স্রোত বয়ে যাওয়া কণ্ঠে সে জিজ্ঞেস করল,
“কেমন অনুভব করছ এখন, রোজ?”
রোজেলিয়া এক মুহূর্ত থেমে উত্তর দিল,
“আমি... আমি ঠিক আছি।”
রিভেন ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা পৈশা'চিক হাসিটা ফুটিয়ে তুলল। গ্লাসটা ঠোঁটে ঠেকিয়ে এক চুমুক নিয়ে সে বলল,
“সত্যিই ঠিক আছো? আমার হৃদ'স্প'ন্দনের ওপর শুয়ে থেকেও তোমার চোখের মণিগুলো কাঁপছে কেন? Do you still see the blood on my hands, or are you just terrified of how close I am?”
রোজেলিয়া নিঃশ্বাস টেনে মুখ ফিরিয়ে জানালার দিকে তাকাল। বাইরে তুলোর মতো সাদা মেঘের পাহাড়। সে ফিসফিস করে বলল,
"ভয় নয়... শুধু জানি না, আপনার মতো একজন মানুষের পাশে থেকে কীভাবে স্বাভাবিক থাকতে হয়। আপনি কখনো নি'ষ্ঠু'র পিশা'চের মতো আচরণ করেন, আবার কখনো এত যত্ন... আমি বিভ্রান্ত হয়ে যাই।”
রিভেন তার চিবুক ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। তার ধোঁয়াটে চোখ দুটো যেন রোজেলিয়ার আ'ত্মা'র ভেতরটা পড়ে নিচ্ছে।
“স্বাভাবিক থাকার নাটক বন্ধ করো, রোজেলিয়া। I never asked for a perfect wife I asked for you. তোমার এই অস্থিরতা, এই ভীতি এগুলোই তো আমাকে তৃপ্তি দেয়। Today, you saw the real me. এই মেঘের ওপরে আর নিচে, আমি যা তাই থাকব। পালাতে চাইলে আকাশ থেকে ঝাঁ'প দিতে পারো, কিন্তু মনে রেখো, নিচেও তোমাকে ধরার জন্য আমিই দাঁড়িয়ে থাকব।এমনকি তোমার পতনের শেষ প্রান্তেও আমিই দাঁড়িয়ে থাকব তোমাকে লুফে নিতে রোজ পেটাল, cuz you are mine "
রোজেলিয়া স্ত'ব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। তার মনে হলো, রিভেন নামের এই গোলকধাঁধায় সে চিরতরে হারিয়ে গেছেরোজেলিয়া কিছু বলতে চাইল, কিন্তু রিভেনের তীব্র দৃষ্টি তাকে স্তব্ধ করে দিল। কেবিনের পরিবেশটা এখন আরও মায়াবী হয়ে উঠেছে। রোজেলিয়া এক অদ্ভুত কৌতুহল থেকে রিভেনের এই রাজকীয় আয়োজনগুলোর দিকে তাকাচ্ছিল সে এই প্রাইভেট জেটের কথা সবসময় ফিকশন এ পড়েছে অথবা মুভিতে দেখেছে বাস্তবে যে দেখবে তা কখনো ভাবেনি।
সে হঠাৎ খুব নিচু স্বরে প্রশ্ন করল,
“এই বিশাল বিমানটা... এটা কি আপনার?"
রিভেন গ্লাসটা পাশে রাখতে রাখতে রোজেলিয়ার কপালে লেগে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিল,
“কেন? তোমার কি মনে হয় আমি লোকাল ফ্লাইটে টিকিট কেটে তোমাকে হানিমুনে নিয়ে যাব? This jet is my sanctuary Wife. এখানে পৃথিবীর কোনো আইন চলে না, শুধু আমার ইচ্ছা চলে। আর এখন আমার ইচ্ছা বলছে, তোমাকে একটু বিশ্রাম দেওয়া দরকার।”
কথা শেষ না হতেই রিভেন এক ঝটকায় রোজেলিয়াকে তার শক্তি'শালী দুই বাহুতে তুলে নিল। রোজেলিয়া অপ্র'স্তুত হয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরল। রিভেন তাকে নিয়ে হেঁটে গেল জেটের ভেতরের সেই বিলাসবহুল বেডরুমের দিকে।
বিছানাটা ধবধবে সাদা সিল্কের চাদরে মোড়ানো, চারপাশের ক্যাবিনেটে থাকা ছোট ছোট ল্যাম্পগুলো এক ম্লান সোনালি আভা ছড়াচ্ছে। চারপাশে ছড়িয়ে আছে দামী ফরাসি পারফিউমের ঘ্রাণ। রিভেন অত্যন্ত সাবধানে রোজেলিয়াকে সেই নরম বিছানায় বসিয়ে দিল। সিল্কের বালিশগুলো রোজেলিয়ার শরীরের স্প'র্শে যেন ডুবে যাচ্ছিল।
রিভেন নিজে তার পাশে শুয়ে পড়ল এবং এক টানে রোজেলিয়াকে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নিল। রোজেলিয়ার গাল তখন লজ্জায় লাল হয়ে উঠেছে। রিভেনের তপ্ত নিঃশ্বাস তার ঘাড়ের কাছে এসে আছড়ে পড়ছে।রিভেন তার কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলল,
“এখানে কেউ নেই রোজ পেটাল it’s just you and me. চলো, আমাদের এই মেঘের ওপরের দুনিয়াটাকে একটু অন্যভাবে রাঙিয়ে তুলি। I want to feel every beat of your heart against mine tonight.So Tell me wife, are you ready to handle your bastard husband’s love?”
___________
সান্ত জার্মেইন দে প্রেসের সরু, পাথরের রাস্তা ধরে ধীরে এগোতে লাগল।রাস্তার দু’পাশে পুরোনো শৈল্পিক বিল্ডিং, ছোট ছোট কফি শপ আর হালকা গাছের ছায়া।
রোজেলিয়া জানালার দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবল এই শহরটা যেন এক অভিনব স্বপ্নের মতো।গাড়ি হঠাৎ থামল। রিভেন গাড়ি থেকে নামল রোজেলিয়ার চোখে বিস্ময়, হৃৎপিণ্ডটা অচেতনভাবে একটু নড়ছে।গাড়ির দরজা খুলে রিভেন রোজেলিয়াকে হাত দিয়ে নামতে সাহায্য করল।তার চোখের সামনে উন্মোচিত হল মেনশনটা সান্ত জার্মেইন দে প্রেসের এক প্রাইভেট জেটের মতো বিলাসবহুল বাড়ি।বড়, সাদা মার্বেল ফেসেড, কারুকাজ করা দরজা আর চতুর্দিকে ছোট ছোট ল্যাম্প। জানালার সীমানা সোনালি কাঠে মোড়ানো। চারপাশে যত্নসহকারে সাজানো বাগান ফুলের রঙ আর হালকা গ্রীন ফোঁটা বাতাসে মিশে যেন পৃথিবীর সবকিছু ভুলে যাওয়ার মতো অনুভূতি জাগাচ্ছে।রিভেন রোজেলিয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে নিচু স্বরে বলল,
“সান্ত জার্মেইন দে প্রেসে স্বাগতম, ওয়াইফ। দিস ইজ মাই প্রাইভেট রেসিডেন্স। এখানে বাইরের পৃথিবীর কোলাহল আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না"
রিভেন তার হাত ধরে ভেতরে নিয়ে গেল।মেনশনটির দরজা খুলতেই রোজেলিয়ার চোখ ভেসে যায় বিলাসবহুল আভায়।ভেতরে ঢোকার সাথে সাথে দেখা মিলল বিশাল হল, যেখানে মখমল কার্পেট ,দেওয়ালে সোনালি ফ্রেমে আঁকা ক্লাসিক আর্ট, আর ঘরজুড়ে মার্বেলের সাদা ও সোনালি মিলনের নিখুঁত সংমিশ্রণ।একটি বিশাল ক্রিস্টাল লাস্টার ঝুলছে, তার আলো প্রতিফলিত হয়ে পুরো রুমে কোমল, গাঢ় আভা ছড়াচ্ছে।বড় জানালা দিয়ে ঢোকে হালকা রোদ, আর বাইরে বাগানের সবুজ রঙ যেন এক প্রাণবন্ত চিত্রকর্মের মতো।
সিল্কের পর্দা আলতো বাতাসে দুলছে, ফার্নিচারগুলো সমসাময়িক এবং রাজকীয়তার ছোঁয়া রয়েছে।
গোলাপী এবং ক্রিমের হালকা মিশ্রণে সাজানো সোফা, মার্বেল টেবিলের ওপর ছোট ছোট ল্যাম্প আর সোনালি দাগের সঙ্গে আর্ট পিস।রোজেলিয়া চারিদিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়।রোজেলিয়া চারদিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তার চোখ যেন এক অদেখা রূপকথার মধ্যে ডুবে গেছে।
এই বাড়িটা কেবল একটি স্থাপনা নয় এ যেন এক রাজ্য, যেখানে প্রতিটি দেয়াল নিঃশব্দে বলে যায় প্রাচুর্য, গোপনীয়তা আর ক্ষমতার গল্প।সে আস্তে ফিসফিস করে বলে ওঠে,
“এই… এই বাড়ি আপনার?”
রিভেনের ঠোঁটের কোণে সেই রহস বাকা হাসি ফুটে উঠল। সে রোজেলিয়ার দিকে এক পা এগিয়ে এসে তার গভীর হ্যাজেল চোখ দুটো দিয়ে রোজেলিয়ার দৃষ্টিকে বন্দি করল।
“আমার?” রিভেনের কণ্ঠে এক অদ্ভুত গভীরতা,
“ভুল বলেছো রোজ পেটাল। এটা আমাদের বাড়ি। দিস ইজ ইওর নিউ কিংডম। তবে আপাতত তোমাকে এই রাজ্যে একা রেখেই আমাকে একটু অফিসের কাজে বের হতে হচ্ছে। কিছু জরুরি ডিল পেন্ডিং আছে।”
রোজেলিয়া আচমকা বলে উঠল
“এখনই? সবে তো পৌঁছালাম!”
রিভেন রোজেলিয়ার দিকে ঘুরে তাকালো তার মুখে একটা বাকা হাসি একে সে বললো,।
“কেন? এর মধ্যেই কি তোমার স্বামীকে মিস করা শুরু করে দিলে, মিসেস আরওয়াইন? ডোন্ট ওরি, আই উইল বি ব্যাক বিফোর ইউ ইভেন রিয়ালাইজ।”
রোজেলিয়া চুপ করে থাকে। রিভেন হাতঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে নরম কিন্তু কর্তৃত্বপূর্ণ কণ্ঠে বলল
“এনজো একটু পরেই আসবে। তোমার কিছু প্রয়োজন হলে ওকেই বলবে… এনজো এখানেই থাকবে।”
বলে সে হালকা মাথা নাড়ল, তারপর ধীরে রোজেলিয়ার হাতটা ধরে একটা শক্ত অথচ অদ্ভুত কোমল স্পর্শে তার পাশে দিয়ে বেরিয়ে গেল।দরজার ভেতর বাতাসটা যেন মুহূর্তেই ভারী হয়ে গেল, নীরবতা হঠাৎ রোজেলিয়ার চারপাশে জাল বুনতে লাগল।কিছুক্ষণ পর দরজার বাইরে নরম শব্দ। এনজো ঢুকল,সে পরেছে গাঢ় কালো স্যুট, নিখুঁতভাবে ইস্ত্রি করা বুকপকেটে রুপালি টাইপিনের ক্ষীণ আলো পড়ে এক অনুপম শৃঙ্খ'লার প্রতিচ্ছবি তৈরি করছে। তার চুল ঘন, পেছনে সযত্নে আঁচড়ানো, মুখে মৃদু দাড়ি না বেশি, না কম যেন হিসেব করা কোল্ড এলিগ্যান্স।
চোখ দুটি গভীর ধূসর, কিন্তু তাতে এমন এক শীতল স্থিরতা আছে যা দেখে বোঝা যায় এই মানুষটি অনুভূতি নয়, আদেশ বোঝে। তার প্রতিটি নড়াচড়া প্রশিক্ষিত, প্রতিটি পদক্ষেপে এক ধরনের নিঃশব্দ সতর্কতা।
“ম্যাম,”
সে বলল সম্মানভরে,
“ব্যাগগুলো বেডরুমে রেখে দিচ্ছি।”
রোজেলিয়া মাথা নাড়ল, নরম কণ্ঠে বলল,
“ঠিক আছে, ধন্যবাদ।”
এনজো ব্যাগগুলো গুছিয়ে রেখে আবার ফিরে এল। তার হাতে ছোট, কালো রঙের একটি ব্যাগ।সে সেটা রোজেলিয়ার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল
“স্যার এটা আপনাকে দিতে বলেছিলেন। আমি পাশেই থাকছি, কিছু দরকার হলে জানাবেন।”
এনজো একটি ছোট কালো ব্যাগ রোজেলিয়ার দিকে বাড়িয়ে দিল। রোজেলিয়া মৃদু হেসে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যাগটি নিল। এনজো নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে সে কৌতূহল নিয়ে ব্যাগটি খুলল। ভেতরে একটি চকচকে সিলভার রঙের Samsung Galaxy S25। ফোনটির মসৃণ গড়ন আর দামি লুক দেখে রোজেলিয়ার মুখে এক চিলতে খুশির ঝিলিক দেখা দিল। এই প্রথম কেউ তাকে এত দামী এবং ব্যক্তিগত কিছু উপহার দিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে ফোনটি হাতে থাকা অবস্থাতেই কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি নাম “Husband.”
রোজেলিয়া বুক ভরে শ্বাস নিয়ে কলটি রিসিভ করল। ওপাশ থেকে রিভেনের কণ্ঠস্বর ভেসে এল,
“ফোনটা পছন্দ হয়েছে তো, রোজ?”
রোজেলিয়া একটু লাজুক স্বরে উত্তর দিল,
“হ্যাঁ, অনেক সুন্দর। ধন্যবাদ আপনাকে।”
ওপাশ থেকে রিভেনের একটা হালকা, শীতল কিন্তু তৃপ্তির হাসি শোনা গেল।
“ধন্যবাদ পরে দিও। আপাতত কিছু নিয়ম মনে রেখো। এই ফোনে ফ্যামিলি ছাড়া অন্য কোনো কন্টাক্ট থাকবে না। আর আমি যেন কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের চি'হ্নও না দেখি। আই ওয়ান্ট ইউ টু বি প্রাইভেট, জাস্ট লাইক দিস হাউজ। বুঝেছ?”
রোজেলিয়া নিচু স্বরে বলল, “বুঝেছি।”
লাইনটি কেটে যাওয়ার পর রোজেলিয়া ফোনটি বুকের কাছে চেপে ধরল। তার মনে হলো, এই ফোনের মাধ্যমে সে অন্তত তার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলতে পারবে। রিভেনের এই কঠোরতার আড়ালে থাকা ছোট ছোট যত্নগুলো তাকে এক অদ্ভুত দোলাচলে ফেলে দিচ্ছে।
_________________
অন্ধ'কার ঘরটিতে কেবল একটি ম্লান হলুদ বাল্ব দুলছে, যার ছায়া দেয়ালে কোনো এক দানবের মতো নড়াচড়া করছে। বাতাসের গুমোট ঘ্রাণে বারুদ, ঘাম আর তাজা র'ক্তে'র কটু স্বাদ। মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে আছে ইলমো রিভেনের একসময়ের বিশ্বস্ত ইনফরমার। তার মুখ র'ক্তে মাখা, শরীর ভয়ে ধনুকের মতো বেঁকে গেছে। সামনে দাঁড়িয়ে আছে স্বয়ং যম'দূত রিভেন আরওয়াইন।
রিভেনের হ্যাজেল চোখ দুটো আজ আগ্নে'য়গিরির মতো জ্বলছে। সে কোনো কথা না বলে ধীরপায়ে ইলমোর চারপাশে ঘুরছিল, হাতে ধরা রুপালি রিভল'ভার'টির ব্যারেল দিয়ে সে নিজের চিবুক চুলকাচ্ছে।গভীর নীরবতা চিরে রিভেনের কণ্ঠস্বর বেজে উঠল,
“ইলমো... আমার ছায়ার মধ্যে থেকে শেষমেশ আমার পিঠেই ছু'রি মারলি? ওই ছিঁ'চকে চোর জ্যাকালের কাছে আমার অ'স্ত্রে'র চালানের রুট ম্যাপ কত টাকায় বি'ক্রি করেছিস?”
ইলমোর পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছে। সে আর্তনাদ করে উঠল,
“বস... আমাকে একটা সুযোগ দিন! জ্যাকাল আমাকে ব্ল্যাক'মেইল করেছিল। আমাকে ক্ষ'মা করে দিন, আমি আর কোনোদিন এমন করব না!”
রিভেনের ঠোঁটের কোণে সেই পৈশা'চিক হাসিটা ফুটে উঠল, যা মৃ'ত্যু'র চেয়েও ভয়া'বহ। সে হঠাৎ ক্ষি'প্র গতিতে ইলমোর পেটে একটা লাথি মারল। ইলমো ছিটকে গিয়ে দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেল। রিভেন তার কলারটা সজোরে মুঠো করে ধরে তাকে ওপরে তুলে ধরল।
“ক্ষ'মা? বিশ্বাস'ঘাতক'তার ডিকশনারিতে ক্ষ'মা বলে কোনো শব্দ নেই রে কুলা'ঙ্গার। তুই ভেবেছিলি ইতালিতে আমার লোক মারিয়ে তুই প্যারিসে এসে লুকিয়ে থাকবি? ইতালির মতো প্যারিসও আমার হাতের মুঠোয়। Everything works by my rules here!”
ইলমো রক্ত'বমি করতে করতে চিৎকার করল,
“বস... প্রাণ'ভিক্ষা দিন! আমি শপথ করছি আমি সব বলে দেব!”
রিভেন শান্তভাবে তার কপালে বন্দু'কের নলটা চেপে ধরল।
“ক্ষ'মা তো করবই ইলমো... আমি অনেক বড় মনের মানুষ। জানিস, প্যারিসকে সিটি অব লাভ বলা হয়। তাই আমি আমার স্ত্রীকেও এই শহরে এনেছি। তাকে যতটা ভালোবাসা দিচ্ছি, তোকেও আজ ততটাই ভালোবাসা দেব। আমি তোকে এত ভালোবাসা দেব যে তুই সরাসরি উপরে পৌঁছে যাবি। "
বলেই কোনো সুযোগ না দিয়ে রিভেন ইলমোর দুই পায়ে পরপর দুটো গু'লি চালাল। ইলমোর গগনবিদারী চিৎ'কার ঘরের দেয়ালে প্রতিধ্বনি তুলল। তার দুই হাঁটুর নিচ থেকে র'ক্ত ফোয়ারার মতো ছিটকে বেরোচ্ছে। রিভেন এক মুহূর্তের জন্য সেই দৃশ্যটা তার নি'ষ্ঠু'র চোখ দিয়ে উপভোগ করল। তারপর লরেঞ্জো আর মার্কোর দিকে তাকিয়ে ইশারা করল।
“মার্কো, একে আমার পাঞ্চিং ব্যাগের ভেতর ভরে ঝু'লি'য়ে দাও। ও অনেকদিন ধরে আমার বক্সিং প্র্যাকটিসের অভাব পূরণ করতে চাইছে।”
ইলমোর চোখ দুটো আ'ত'ঙ্কে প্রায় ঠিকরে বেরিয়ে আসছিল। মার্কো আর লরেঞ্জো হিঁচড়ে তাকে একটা বিশাল লেদারের ব্যাগের ভেতর ভরে ফেলল। ইলমো ভেতরে ছটফট করছিল, গোঙা'চ্ছিল, কিন্তু তার সেই যন্ত্রণা দেখার মতো কেউ নেই। ব্যাগটাকে সিলিং থেকে ঝোলানো হলো।
রিভেন ধীরপায়ে এগিয়ে এল। সে নিজের হাতের বক্সিং গ্লাভসগুলো শ'ক্ত করে আটকাল। তার চেহারায় এক পৈশা'চিক তৃপ্তি। সে ব্যাগের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে একবার থামল।
“তোর হা'ড় ভা'ঙা'র শব্দগুলো যেন আজ আমার কানে মিউজিকের মতো বাজে, ইলমো।”
কথাটা শেষ হতেই রিভেন প্রথম পা'ঞ্চ'টা চালাল। ব্যাগের ভেতর থেকে ইলমোর চাপা আর্তনাদ আর হা'ড় ভা'ঙা'র মট'মট শব্দ ভেসে এল। রিভেন থামল না। সে একের পর এক দানবীয় শ'ক্তি'তে আ'ঘা'ত করতে লাগল। প্রতিটি পাঞ্চের সাথে ব্যাগটা দুলছে, আর ভেতর থেকে র'ক্তে'র ছোপ ব্যাগের বাইরের লেদারে ফুটে উঠছে।তার প্রতিটি পাঞ্চ যখন ব্যাগের ওপর আছড়ে পড়ছিল, সেই হাড় ফাটানো শব্দের প্রতিধ্বনিতে পুরো ঘরটা যেন নরকে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু এই নৃ'শং'সতার মাঝেও এক জোড়া বি'ষ'ণ্ণ আর অপরাধবোধে ভরা চোখ ঘরের কোণে স্থির হয়ে ছিল।
মার্কো আর লরেঞ্জো পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকলেও তাদের বুকের ভেতরটা আজ দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছিল। ইলমো শুধু তাদের কলিগ ছিল না, সে ছিল তাদের বন্ধু। কতগুলো কালরাত তারা একসাথে কাটিয়েছে, কতগুলো ডে'ডলি মিশনে একে অপরের পিঠ বাঁচিয়েছে সেই স্মৃতিগুলো এখন আগুনের মতো তাদের পোড়াচ্ছে। লরেঞ্জোর মনে পড়ছিল মিলানের সেই বৃষ্টির রাতের কথা, যখন ইলমো নিজের জীবন বাজি রেখে লরেঞ্জোকে পুলি'শের ঘেরাও থেকে বের করে এনেছিল। আজ সেই ইলমোকেই নিজের হাতে ব্যাগের ভেতর পুরে দিতে হলো।
লরেঞ্জোর হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে কাঁপ'ছিল, তার ইচ্ছা করছিল এখনই ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে। কিন্তু রিভেনের সামনে পালানোর পথ নেই। রিভেনের পৈশা'চিক শক্তির সামনে দাঁড়িয়ে বন্ধুর আর্তনাদ শোনা যেন এক অন্তহীন সাজা।
মার্কো মাথা নিচু করে ছিল, তার চোখে জল এলেও সে তা গড়িয়ে পড়তে দিল না। রিভেনের রাজ্যে আবেগের কোনো জায়গা নেই বিশাস'ঘাতকদের শাস্তি এভাবেই হয় । সে জানত, রিভেন যদি একবার তাদের চোখে দুর্বলতা দেখে ফেলে, তবে পরবর্তী পাঞ্চিং ব্যাগ তারা নিজেই হবে।
ইলমোর চিৎকার যখন ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে এল, তখন রিভেন শেষবারের মতো এক শক্তিশালী হু'ক চালাল। ব্যাগটা সজোরে দুলে উঠল এবং তারপর সব শান্ত হয়ে গেল। রিভেন ভারী নিঃশ্বাস নিতে নিতে গ্লাভস খুলে ফেলল। তার চেহারায় এক পৈশা'চিক বিজয়ের হাসি।
To be continue,,,,,,,,,