#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ
#Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_40 (1st)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
কম্পিত গলায় মিরায়া আইডি কার্ডে থাকা নামটা নিজ মুখে আওড়ালো- "রি.. রি..রিভান চৌধুরী রা..রায়ান! রি..ভানন!"
নিজের চোখে কি দেখছে আর পড়ছে ঠিক যেন ঠাওর করতে পারছে না মিরায়া। চোখে পানি ছলছল করে উঠলো মুহুর্তের মধ্যে ঠিক যেমন অনেক কাঙ্খিত কিছু খুঁজে পেয়েছে আজ। মিরায়া বারবার নিজের চোখ টিপটিপ করে পলক ফেলে চোখের থেকে জমে থাকা পানি সড়িয়ে নাম টা বারংবার পড়তে লাগলো।
-"রি..রিভান চৌধুরী রায়ান। রিভান। হ্যাঁ এখানে রিভান ই লিখা। কোন রিভার উনি?"
মিরায়া অস্থির হয়ে উঠলো কিছুক্ষণের মধ্যেই। সে এবার আইডি কার্ড টা রেখে দিয়ে টেবিলের বাকি সব জিনিস ঘেঁটে দেখতে শুরু করলো এক অনিশ্চিত আশা বুকে আকরে ধরে যদি সে কিছু খুঁজে পায়।
মিরায়া একে একে সব খাতা, বই এর পাতা উল্টে পাল্টে দেখলো। দুই হাত বাঁধনহারা অনবরত কাঁপছিল বলে ঠিক মতো খাতা বই গুলো ধরতেও পারছিল না, হাত ফসকে পড়ে যাচ্ছিল সেগুলো। তবুও মনে সাহস রেখে বিরতিহীন ভাবে খুঁজছে কিছু। কি খুঁজছে সেটা তার অজানা, শুধু মনে হচ্ছিল আজকের এই মুহূর্ত তার নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার সুবর্ণ সময়।
বই, খাতা সব দেখা হয়ে গেলে মিরায়া ছোট টুকরো কাগজ গুলোরও ভাঁজ খুলে খুলে দেখছিল। সেসব কাগজের মাঝেই ছিল দশ বছর আগের বিয়ের বন্ধন ভাঙার ডিভোর্স পেপার টা। মিরায়ার প্রেমে পড়ার পর রায়ান ওই ডিভোর্স পেপারের কোনো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি বলে পুরোনো টেবিলের ড্রয়ারেই রেখে দিয়েছিল। মিরায়া সব কাগজের ভাঁজ খুলে দেখা শেষ করেও তার চাওয়ার কিছুই পেয়ে হতাশায় কাঁপা হাতে সেই ডিভোর্স পেপারে এর কাগজটা হাতে নিয়ে ভাঁজ খুলে সেটার উপর চোখ বুলাতে শুরু করলো।
সবকিছু একদম মিলে যাচ্ছে কাগজের তথ্যের সাথে- তার নাম, রায়ানের নাম, বাবা-মায়ের নাম সব। মিরায়া কয়েক মুহূর্তের জন্য থ মেরে গেল। নিজ চোখকে তার বিশ্বাস হচ্ছে না। ছোট থেকে মা বাবার মতো আদর করা দুইজন মানুষ, ভাইয়ের মতো আগলে রাখা তার রুদ্র ভাইয়া সবাই তার এতো আপন, অথচ সে সম্পর্কে তাকে কেউ একবারও জানতে দেয় নি। আর সেই মানুষটা! যে তাকে এই কিছু দিন এতো পাগলের মতো চেয়েছে, সে তার স্বামী কিন্তু তা সে স্বীকার করেনি একবারের জন্যও। এমনকি মিরায়া তার অতীত রায়ানকে বলার পরও না।
মিরায়ার এসব কিছুই হজম হচ্ছিল না, চারপাশটা হঠাৎ খালি হয়ে গেলো তার আছে। প্রথম দিন থেকে রায়ানের করা সকল পাগলামি, মুখে বলা প্রতিটি কথা যা আগে মিরায়া বুঝতে অক্ষম ছিল এখন সব হঠাৎ একদম পরিষ্কার হয়ে মাথায় ধরা দিচ্ছে। অদ্ভুত আদুরে সব ডাক, অধিকার বোধ, চিন্তা, আদেশ মূলক কন্ঠে বলা কথা সবকিছু যেন এখন অর্থবহ মনে হচ্ছে মিরায়ার কাছে।
আগের বোঝা সবকিছু মুহূর্তের মাঝে মিথ্যে হয়ে গেলো। মিরায়ার চোখের পানির বাঁধ ভাঙলে তার বাদামী রঙের মায়াবী চোখ থেকে টপটপ অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো। মিরায়া চোখ মুছার চেষ্টাও করলো না একবার। বুক ফেটে আসা আর্তনাদ গুলো কেবল গিলে নিচ্ছে।
মিরায়া ডিভোর্স পেপার টা শুধু রেখে বাকি সব জিনিস আবার ঠিক মতো ড্রয়ারে তুলে রেখে দিল জায়গা মতোন। অশ্রু সিক্ত চোখ জোরা ঘোলাটে দৃশ্য প্রদর্শন করছে তারপরও একবারের জন্যও মিরায়া অবাধ চোখের পানি মুছে তাদের প্রবাহে বাঁধা দিল না। কিছু সময় পর প্রত্যেকটা জিনিস গুছিয়ে রেখে ডিভোর্স পেপার টা হাতে নিয়ে নিজের নিস্তেজ দেহটাকে চালনা শক্তির তীব্র প্রয়োগে ছাদে নিয়ে গেল।
ছাদের প্রতিটা সিঁড়ি আজ তার কাছে বেশ দীর্ঘ লাগছে। অবশেষে ছাদে গিয়ে মিরায়া হঠাৎ ধপ করে ছাদের মেঝেতে বসে পরলো। আকাশের দিকে তাকিয়ে মনের আর্তনাদ আর আটকে রাখতে না পেরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলো আহাজারি করতে করতে-
"হে আল্লাহ, কেন! কেন এমন করলেন আমার সাথে উনি এটা। তুমি তো জানো, আমি কত রাত জেগে তার নামটা মুখে মুখে বলেছি, কেঁদেছি... শুধু একদন্ড তাকে নিজের করে পাবার আশায় স্বপ্ন বুনেছি। তাহলে আমার সাথে কেন এমন হলো? সবাই কেন এভাবে আমাকে ঠকালো? আমি এতো বোকা কিভাবে হয়ে গেলাম?
আমি ভাবতাম ভালোবাসা মানে বিশ্বাস, মানে প্রতিশ্রুতি।
কিন্তু আজ বুঝছি ভালোবাসা যদি প্রতারণার ওপর দাঁড়ায়,
তাহলে সেটাও একটা কারাগার… যেখানে আমি বন্দী হয়ে ছিলাম দশ বছর ধরে। আর এই দশ বছর পর অপেক্ষার ফল হিসেবে কি পেলাম এই ডিভোর্স পেপার?
কেন করলেন এমন রায়ান? কেন আমায় জানালেন না একবারও এতো দিনেও? আপনি জানতেন আমি আপনার অপেক্ষায় কতটা অধির, তবে কেন আমার কাছে সত্য গোপন করলেন?
আমি ছোট থেকে ভেবেছিলাম বিয়ে নামক এই অজানা বাঁধন আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সত্যি...
আল্লাহ, আমি তো আমার অতীত খোলাখাতার মতো কেবল উনার সামনে রেখেছিলাম তাহলে কেন সব জানার পরও কেন? কেন উনি চুপ করে রইলেন? একবারও বলেন নি, ‘মিরা, আমার হৃদপাখি, আমিই সেই অতীত! কিন্তু না, একবারও না!.. কেন?"
মিরায়া ছাদে একা নিজের কথা গুলো সৃষ্টি কর্তার কাছে অঝড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে যাচ্ছে। রায়ানের তাকে দশ বছর আগে অস্বীকার করে চলে যাওয়া টা যতো না কষ্ট দিচ্ছে তার চেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে সবকিছু জানার পরও চুপ করে থাকাটা। কিন্তু মিরায়া সমীকরণ মিলাতে পারছে না কেবল এক জায়গায় যদি রায়ান তাকে ডিভোর্স ই দিতে চাইবে তাহলে সেটা মুখ ফুটে কখনো কেন বলল না? আর এমনভাবে নিজের মোহে বাঁধার চেষ্টা করার কারণ কি?
-"আমাকে যদি ছাড়তেই এসেছিলেন তবে কেন আমাকে ভালোবাসার নাটকে জাড়ালেন? কেন মায়া তৈরি করলেন আমার মনে নিজের জন্য? হে খোদা এসবে মানে কি? আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।"
মিরায়া নিজের মাথা শক্ত করে হাত দিয়ে চেপে ধরলো। হাজারো প্রশ্নের চাপে যেন তার মনে হচ্ছে এবার মাথাটা ফেটেই যাবে। আর নিতে পারছে না এসব ভাবনা। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে সাহায্য চাইলো সৃষ্টি কর্তার কাছে-
"আমাকে ধৈর্য দেও আল্লাহ। বোঝার ক্ষমতা দেও। আমি আমার নিজের উপর অন্যায় করতে পারি না। আমি এই মুহূর্তে এসে হাড় মানতে পারবে না। শক্তি দেও আমায় আল্লাহ।"
মিরায়া উঠে দাঁড়িয়ে ছাদের রেলিং এর কাছে যেতে লাগলো। পায়ের প্রত্যেকটা পদক্ষেপ তার টলমল করছে যেন একদম নাজুক হয়ে আছে শরীর। ধীর পায়ে রেলিং এর কাছে গিয়ে রেলিং টা শক্ত হাতে আকারে ধরলো মিরায়া। আর দুই চোখ বন্ধ করে মনের সকল জোর একীভূত করে জোরে চিৎকার করল দুইবার আকাশ পানে মুখ করে-
"আআআআআআআআ...! আআআআআআআআ...!"
নিস্তব্ধ ফাঁকা ছাদে হঠাৎ চিৎকার গুলো হাওয়ায় মিশে গেল কারো কানে পৌঁছালো না সেই চিৎকার। জমে থাকা রাগ-ক্ষোভ, চিন্তা-চেতনা, কষ্ট সব বিসর্জন দিলো এভাবে। মন শান্ত করতে একলা ছাদে এর বাইরে করার মতো আর কিছুই ছিল না মিরায়ার। বরাবরই শক্ত ও শান্ত মনের অধিকারী মেয়ে মিরায়া- বাবা মার মৃত্যুর পর কখনো তার এতো খারাপ অনুভব হয়েছে কিনা সে নিজেও জানে না।
তখনি চৌধুরী বাড়ির সামনে এসে একটা সাদা গাড়ি দাঁড়ালো। গাড়ির হর্নের শব্দ কানে যেতেই মিরায়া ছাদে থেকে নিচে উঁকি দিয়ে গাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো।
মাহির গাড়ি থামাতেই রায়ান গাড়ির দরজা খুলে তড়িঘড়ি করে বাড়িতে ঢুকলো। বলা চলে এক প্রকার দৌড়ে। মাহির রায়ানের অস্থিরতা দেখে হেঁসে বলল-
"ভালোবাসা আসলেই ভয়ংকর। একটা মানুষের ভিতর বাহির এতো কম সময়ে কিভাবে বদলে দেয়। জিনিসটা বেশ জটিল, নিজের ক্ষেত্রে না হওয়া পর্যন্ত সব বেফালতু আর হুজুগে লাগে।"
মাহির নিজে গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির ডিকি থেকে রায়ানের লাগেজটা বের করে নিয়ে বাড়ির মূল দরজার দিকে অগ্রসর হলো।
মিরায়া ছাদে থেকে রায়ান কে দ্রুত পায়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখলো কিন্তু ওই অল্প সময়ে উপর থেকে তার মুখ দেখতে পেলো না কান্না ভরা ঘোলাটে দৃষ্টিতে। মাহির কেও সে আগে কখনো দেখে নি আজ প্রথমবার দেখলো কিন্তু সেই দিকে তার খেয়াল নেই আর না আগ্রহ আছে।
মিরায়া তার গাল বেয়ে পড়তে থাকা অশ্রু হাতের উল্টো পিঠের সাহায্য মুছে নিয়ে নিজ মনে শান্ত মাথায় একের পর এক কড়ি মিলাতে লাগলো-
-"ডিভোর্স পেপার সত্য সেটার প্রমাণ নিজ হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছি আমি। তাহলে এই কয়দিন যে মায়ার টান অনুভব করলাম তার দিক থেকে সেসব কি মিথ্যে?"
-না, না, অসম্ভব। সেগুলো মিথ্যে হতে পারে না। মানুষের মুখের কথা অবিশ্বাস্য হতে পারে কিন্তু তার কর্ম না। উনার বলা সব কথা তার কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। একবারের জন্যও আমি মিথ্যে অনুভূতির সংস্পর্শে যাই নি। তার কাজ, কথা, ছোঁয়াতে আমার জন্য ব্যাকুলতা স্পষ্ট এতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা আমার নেই। কিন্তু উনি সত্যি যদি আমাকে চেয়ে থাকেন তবে এই ডিভোর্স পেপার এর অস্তিত্ব কেন খুঁজে পেলাম আমি।"
মিরায়া প্রশ্ন এ দ্বিধার ভীরে বিরক্ত হয়ে ছাদের রেলিংয়ে জোরে হাত দিয়ে আঘাত করে বলল-
"উফ্! আল্লাহ দয়া করো আমাকে। আমি কিছু মিলাতে পারছি না। কোনটা সত্যি আমার অনুভব করা ভালোবাসা, না এই কাগজটা?"
মাথায় সব চিন্তা ভাবনা এখন কেবল এই এক উত্তর এর খোঁজ করে যাচ্ছে। রায়ান কেন এমন করলো? আর এই ডিভোর্স পেপার এর মানে কি?"
নিচে~
রায়ান বাড়িতে প্রবেশ করতেই মা রামিলা চৌধুরী কে দেখতে পেয়ে দৌড়ে যায়-"আম্মু...!" শক্ত করে জোরিয়ে ধরলো ।রামিলা চৌধুরী ছেলেকে এতো দিন পর আবার দেখতে পেয়ে কেঁদেই বসলেন।
ছেলেকে দুই হাতে জড়িয়ে ধরে মমতা ভরা গলায় জিজ্ঞেস করলেন -" কেমন আছিস বাবা? আম্মু তোকে খুব মিস করেছি। আরো একটু তাড়াতাড়ি ফিরতে পারলি না?"
রায়ান মাকে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মায়ের উদ্দেশ্যে বলল-
"আমি দশ বছরেও এতো মিস করি নি তোমাদের জানো এইবার এতো মিস করেছি। আমি একদম পারফেক্ট আছি ঠিক যেমন দেখতে পাচ্ছ।"
মায়ের সামনে একবার ঘুরে নিজেকে প্রদর্শন করে বলল।
রামিলা চৌধুরী রায়ানের বাচ্চা সুলভ আচরণে রায়ানকে হালকা মিষ্টি হেঁসে থাপ্পর দিলেন। রায়ান একটু ভয় পেয়ে সড়ে গেল।
তখনি পিছন থেকে মাহির রায়ানের লাগেজ বহন করে আনতে আনতে বলল-
"আন্টি, তোমার ছেলেকে ভালো করে একটু শিক্ষা দেও তো। বন্ধু কে দিয়ে নিজের ব্যাগ টানাচ্ছে।"
রামিলা চৌধুরী মাহিরের দিকে অবাক হয়ে তাকালেন। রায়ান বিদেশে যাওয়ার পর মাহির তেমন একটা চৌধুরী বাড়িতে আসতো না মাঝে মাঝে শুধু খোঁজখবর নিতে আসতো এতদিন পর আবার মাহিরকে রায়ানের সাথে দেখে রামিলা চৌধুরী বেশ আনন্দিত হলেন।
রায়ান সড়ে গিয়ে রান্না ঘরে তার জন্য বানিয়ে রাখা শরবতের গ্লাসটা হাতে নিয়ে খেতে থাকলো নিজে নিজেই। আর রামিলা চৌধুরী মাহির এর কাছে গিয়ে মিষ্টি হেসে মাহিরের কান ধরে হালকা মোচড় দিয়ে বললেন-
"ছেলেকে পরে শিক্ষা দিব আগে তোকে শিক্ষা দিয়ে নেই। বন্ধু বাড়ি নেই বলে কি বন্ধুর বাড়িতে আসা যায় না? আজ কতদিন পর বাড়িতে পা রাখলি বল তো?"
মাহির একটু নাটুকে আর্তনাদ করলো- "উউউ! আহ্! আন্টি লাগছে ছাড়ো।"
রায়ান শরবতের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে বলল-"আরো একটু জোরে দেও আম্মু। আমি ওকে অনেক বলেছি বাড়িতে গিয়ে ঘুরে আসিস ও ইচ্ছা করে আসে নি।"
মাহির তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করে বলল-"ডাহা মিথ্যা কথা বলছে আন্টি। একবারও বলে নি এটা, তুমি বিশ্বাস করো।"
রামিলা চৌধুরী মাহিরের কান ছেড়ে দিয়ে শাসনের সুরে বললেন-"ও বলার কে? ও বলনি তো কি হয়েছে, তুই নিজের থেকে আসতে পারলি না?"
মাহির রামিলা চৌধুরীর কথায় রায়ানের দিকে তাকিয়ে কুটিল হাসতেই রায়ান এবার সাথে সাথে প্রতিবাদ করল মায়ের কথার-"আম্মু, আমি বলার কে মানে কি? তুমি ওকে এসব বলে আর আসকাড়া দিও না তো।"
মাহির রামিলা চৌধুরীকে পিছন থেকে কাঁধে হাত রেখে ঢাল স্বরূপ দাঁড়া করিয়ে বলল-"আন্টি দেখ তোমার ছেলে কেমন করে আমার সাথে। এর পরেও যে আমি ওর বন্ধু হয়ে আছি এটা ওর সৌভাগ্য, ওকে বলে দাও।"
রায়ান তুচ্ছ হেঁসে বলল-"ইইস্! সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য সেটা আমিই জানি। আমি সামলাই তো!"
মাহির চেতে গিয়ে বলল-"ওই সামলাস মানে কি হ্যাঁ?"
রামিলা চৌধুরী দুইজনের তর্ক থামাতে জোরে বললেন-
"আচ্ছা আচ্ছা, হয়েছে। এবার দুইজন চুপ কর তোরা। বড় হলি না দুজনের কেউই।"
রুদ্র তখন রায়ান আর মাহিরের আওয়াজে মুখের চিন্তা ভাব সড়িয়ে বানোয়াট উৎসাহ নিয়ে সিঁড়ি থেকে নামতে নামতে বলল-
"ওরে বাবা, চৌধুরী বাড়িতে এক চাঁদ থাকতে আরো দুই চাঁদের উদয় হলো আজকে?"
রুদ্র নেমেই মাহিরের কাছে গিয়ে মাহির কে জড়িয়ে ধরে বলল-"আরে মাহির ভাইয়া তোমাকে যে আমি কি মিস করেছি এই কয় দিন। কি আর বলবো।"
মাহির ও হেঁসে রুদ্র কে জড়িয়ে ধরে বলল-"আমিও তোকে মিস করেছি ছোট ভাই।"
এইদিকে রায়ান নিজের ভাইকে তার আগে তার বন্ধুর কাছে যেতে দেখে মুখ বাঁকিয়ে বলল-"ইফ 'মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি' হ্যাড আ ফেস। হাহ্! নিজের রক্তই চিনলো না। আমি আবার তার জন্য PS5 কিনতে চেয়েছিলাম।"
রুদ্র রায়ানের কথায় তার দিকে তাকিয়ে বলল-"আমি ছোট নেই যে এসবের শখ থাকবে আর না সময় আছে এখন।"
রায়ান রুদ্র কে খাপাতে বলল-"ইস্! এই বয়সে একটা না গার্লফ্রেন্ড আছে, না বউ তার আবার সময় নাই। কালে কালে যে কত কি দেখতে হবে আরো।"
রুদ্র গার্লফ্রেন্ড এর কথা উঠতেই কেন জানি ভরকে গেল। কিন্তু কিছুই বলতে পারলো না। কি ই বা বলবে রায়ান যা বলেছে তা তো ষোলো আনাই সত্য।
এবার রায়ান সবকিছু বাদ দিয়ে চারদিকে তাকিয়ে দেখলো। কিন্তু তার হৃদপাখি কে আশে পাশে কোথাও দেখতে পেলো না। হাতের শরবতের গ্লাস টা টেবিলে রেখে রুদ্রর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
"ওই আমার বউ কই?"
রুদ্র চটে গিয়ে চেঁচিয়ে নিজের মাথার দিকে আঙুল তাক করে দেখিয়ে বলল-
"আমার মাথায় নাচতেছে দেখ, নাও নাও কলে নিয়ে নাও তোমার বউকে।"
রায়ান মুখ বাঁকিয়ে ফেললো অভক্তি প্রকাশ করে-
"নেকামি না করে বল না ভাই কোথায় আমার বউটা। কতদিন দেখিনা। মনে হচ্ছে কত যুগ দেখি নি।"
রুদ্র এবার আর কিছু বাড়তি না বলে জবাব দিল-
"দেখ গিয়ে উপরে নিজের ঘরে তো নেই নামার সময় দেখি নি। হয়তো ছাদে আছে।"
রুদ্র এবার রায়ানের দিকে দুই হাত খুলে দিয়ে এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরতে যাবে তখনি রায়ান তার লাগেজটা রুদ্র কে ধরিয়ে দিয়ে বলল-
"আপাতত ব্যাগ টা ঘরে রেখে আয় ভাই। আমি গেলাম তোর বোনকে আই মিন তোর ভাবি, মানে আমার বউকে জড়িয়ে ধরতে।"
কথাটা বলেই রায়ান দৌড়ে উপরে গেল সিঁড়ি বেয়ে। রুদ্র হা করে রইলো ব্যাগ হাতে। রামিলা চৌধুরী হেঁসে মাহির কে বললেন -
"মাহির তুই ওদের ছাড়। এইদিকে আয় রান্না করেছি খাবার খাবি আয়। রায়ান পরে খাবে।"
মাহিরও খাবার খাওয়ার উৎসাহে রামিলা চৌধুরীর পিছনে গেল। আর রুদ্র বিরক্তি ভরা চেহারায় মুখ ঝুলিয়ে রায়ানের ব্যাগ রায়ানের ঘরে রেখে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল। সবকিছুই বিরক্তি কর লাগছে তার। ঘরে ঢুকেই ফোনটা থেকে করলো রিমি এখনো মেসেজ এর রিপ্লাই করে নি দৈগে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে বালিশের উপর মুখ লাগিয়ে উল্টো হয়ে শুয়ে পড়ল।
____________
ছাদে~
মিরায়া সব কিছু সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে নিতেই আবার সব ভেঙ্গে যাচ্ছিল। মিরায়া ক্লান্ত দেহ আর ক্লান্ত মনে ছাদে দাঁড়িয়ে আছে নিজের এক গাদা প্রশ্ন নিয়ে-
-"তবে কি, রায়ান আমাকে ডিভোর্স দিতে চেয়েও দিতে পারেন নি আমাকে ভালোবেসেছেন বলে? এমন কিভাবে হয়? না, না ভুল ভাবছি আমি। কিন্তু এটা ভুল হলে আর কি কারণ থাকবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পিছনে?"
-"উফ্! বুকটা এমন অস্থির হয়ে আছে কেন? শান্তি মিলছে না কিছুতেই। কি কারণ হতে পারে এতো কিছুর পেছনে!"
ছাদের দরজা হঠাৎ -"ঠাস" একটা সজোরে আওয়াজ হয়ে খুলল। সাথে সাথে পিছন থেকে পরিচিত সেই কন্ঠ শুনতে পেলো মিরায়া-
"হৃদপাখি..!"
হৃৎপিণ্ড নিজের কাজ এক মুহূর্তের জন্য ভুলে গেল দুজনের ই। মিরায়া উল্টো দিকে মুখ করে আছে, চোখ এখনো অশ্রু ভেজা। রায়ানের ডাক যেন চোখের পানিতে অতিরিক্ত গতি যুক্ত করলো। শত চেষ্টার পরও মিরায়া ব্যর্থ হলো তার চোখের বারি ধারা আটকাতে। নিজের অজান্তেই তা গাল গড়িয়ে পড়তে লাগলো। রায়ান অধৈর্য হয়ে আছে তার হৃদপাখিকে একনজর দেখার জন্য।
রায়ান আবার আদুরে নামে ডাকলো-"হার্ট বার্ড! আমার দিকে ঘুরো প্লিজ!"
মিরায়ার জান চলে যাচ্ছিল তার কাঙ্খিত পুরুষ কে কাছ থেকে আরো একবার দেখার জন্য কিন্তু সাহসে কুলিয়ে উঠতে পারছিল না। মিরায়া রায়ানের দিকে তাকালো না। কিন্তু এবার রায়ান আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। সে দ্রুত পায়ে মিরায়ার কাছে দিয়ে তার কাঁধ ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়।
মিরায়ার কিছু করার ছিল না বিধায় চুপ করে মাথা নত করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে রায়ানের সামনে। হাতের ডিভোর্স পেপার টা নিচে ফেলে সেটার উপরই দাঁড়িয়ে আছে এখন।
মিরায়াকে এভাবে অসহায়ের মতো কাঁদতে দেখা রায়ান এই মুহূর্তে কল্পনাও করেনি। বুকের হৃৎস্পন্দন যা একটু আগে থেমে ছিল এখন জোরে ধকধক করছে। মাথায় চিন্তা নাড়া দিয়ে উঠলো হঠাৎ, রায়ান অস্থির হয়ে মিরায়ার কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করলো-
"হৃদপাখি! এই কি হয়েছে? এভাবে কাঁদছো কেন?"
মিরায়া আরো জোরে কাঁদছে এখন। রায়ান আরো চিন্তিত হয়ে উঠলো। দুই হাত কাঁধ থেকে সড়িয়ে মিরায়ার মুখ দুই হাতের মাঝে নিয়ে নিজের দিকে তুলে আবেগপ্রবণ হয়ে আবার জিজ্ঞেস করলো-
"জান, কি হয়েছে আমাকে বল একবার? কাঁদছিস কেন? কেউ কিছু বলেছে তোকে? কে কি বলেছে আমাকে বল বাকি আমি দেখে নেবো। এভাবে কাঁদে না পাখি। আমার কষ্ট হচ্ছে। কান্না থামা প্লিজ।" (মিরায়ার চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে)
মিরায়া একটা টু শব্দ ও করছে না। বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে কান্না থামানোর কিন্তু প্রিয় মানুষের কাছে সবাই একটু বেশিই দূর্বল হয়ে পরে তাই তার শত চেষ্টাও ব্যর্থ ছিল রায়ানের সামনে। সে চুপ করে রায়ান কে দেখে যাচ্ছে- এই মানুষটাই তার বর যার অপেক্ষায় এতগুলো বছর পার করেছে। ভাবতেই এক অদ্ভুত বিরহ সুখে তলিয়ে যাচ্ছিল মিরায়া। কিন্তু এইদিকে নিজের এতো আদরের বউকে কাঁদতে দেখে নিজের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বসেছে রায়ান। কিছু বুঝতে পারছে না মিরায়া কেন এমন ভাবে কাঁদছে। ধৈর্যের সব সীমা পার হয়ে গেলে রায়ান চেঁচিয়ে উঠলো-
"ওইইই..চুপ কর। একদম চুপ!"
মিরায়া হঠাৎ কেঁপে উঠলো রায়ানের চেঁচানোতে ভয় পেয়ে। রায়ান আবার চেঁচিয়ে বলল-
"তখন থেকে জিজ্ঞেস করছি কি হয়েছে, কি হয়েছে। কিছু না বললে বুঝব কিভাবে আমি। কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শুধু কেঁদেই যাচ্ছিস আর কেঁদেই যাচ্ছিস। বলছি কষ্ট হচ্ছে আমার। কানে যায় না?"
মিরায়া চমকে গেল রায়ানের জোরে কথা বলাতে। সে নিজে কে সড়িয়ে নিতে চাইলো রায়ানের হাতের বাঁধন থেকে কিন্তু তার শরীরের দূর্বলতা অঙ্গসঞ্চালনে বেশ বুঝা যাচ্ছে। মিরায়া দূরে যেতে চাইছে বুঝে রায়ান শক্ত করে মিরায়ার দুই কাঁধে হাত রেখে আটকিয়ে নরম গলায় বলল-
"আচ্ছা সরি। আর চেচাবো না। তুই কিছু বলছিস না তাই তো চেঁচিয়েছি। আমাকে বল হৃদপাখি কি হয়েছে তোর? কোথায় সমস্যা হচ্ছে? শরীর খারাপ লাগছে? নাকি...।"
রায়ান আর কিছু বলতে যাবে তার আগেই মিরায়ার ছোট্ট শরীরটার আশ্চর্য করা গতিবিধি বুঝতে পারলো সে। মিরায়া ধীরে স্থির ভাবে দুই কদম রায়ানের দিকে এগিয়ে তার মাথা ঠেকায় রায়ানের প্রশস্থ বুকে। রায়ান থ মেরে গেলো কিছু সময়ের জন্য বুঝতে পারলো না হঠাৎ কি হলো। সে ওই মুহূর্তে কি করবে? বা কি করা উচিত বুঝে উঠতে পারলো না। তার বড্ড ইচ্ছে করতে লাগলো মিরায়াকে নিজের সাথে একেবারে মিশিয়ে নিতে কিন্তু চাইলেও হটকারীতায় এমন কিছু করা ঠিক হবে না বলে সে কেবল মিরায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।
এক পর্যায়ে রায়ান অনুভব করলো তার কন্ট্রোল হারাচ্ছে ধীরে ধীরে মিরায়ার সংস্পর্শে। মিরায়া রায়ানের বুকে মাথা রেখে রায়ানের হৃৎস্পন্দন শুনছিল। মিরায়া কান্না ভরা চোখেই মুচকি হাসলো- কারণ রায়ানের ব্যাকুলতা তার হৃৎস্পন্দন এর গতিবিধি দেখে অনেক টাই ঠাওর করতে পারছে মিরায়া।
মিরায়া নিজের মনে ভাবতে লাগলো-
"এই ডিভোর্স পেপার কেন আছে আমি জানি না। কিন্তু উনার বুকের অস্থিরতা মিথ্যে হতে পারে না। আমি এই ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ভুল বুঝি নি।"
রায়ান মিরায়ার নীরবতায় আরো অধৈর্য হয়ে পড়ছিল। তারপর নিজেই আবার জিজ্ঞেস করলো-
"হৃদপাখি! কি হয়েছে বল আমাকে? আমি ..."
রায়ানের কথা আবার অর্ধ পূর্ণ রেখে মিরায়া এবার রায়ানের আরো কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলো দুই হাতের বন্ধনে। রায়ানের শরীরে বিদ্যুৎ তরঙ্গ বয়ে গেল, মিরায়া কি চাইছে তার মাথায় কাজ করছে না কিছু। রায়ান ঠোঁট কামড়ে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে বিড়বিড় করলো-
"রায়ান কন্ট্রোল। এখন কিছু করলে আর সামলাতে পারবি না। নিজেকে সামলা, তোর বউ কোথাও যাচ্ছে না পরেও করতে পারবি। এখন না।"
রায়ান সুযোগ হাতে পেয়েও তা কাজে লাগাতে চাইছিল না শুধু মাত্র সত্যি বিয়ে গোপন করার বিষয়টা ভেবে। রায়ান বরাবরই চেয়েছে তার বউ নিজের থেকে তার কাছে ধরা দিক তাকে স্বামীর অধিকার দিয়ে।
রায়ান এভাবে মিরায়ার কাছে থাকলে উল্টোপাল্টা কিছু হয়ে যাবে এমন ধারণায় সে মিরায়াকে সাবধান করতে বলতে শুরু করলো-"বেইবি, আমার দ্বারা কন্ট্রোল হবে না যদি তুমি এমন করে..!"
-"আমাকে একবার জড়িয়ে ধরবেন, রায়ান?" মিরায়া রায়ানকে আর কিছু বলতে না দিয়ে নিজের আবদার রাখলো।
রায়ান আবার ও অবাক হয়ে গেল, এই প্রথম মিরায়া রায়ানের নাম ধরে ডাকলো পিছনে ভাইয়া ডাক লাগানো ছাড়া। কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না রায়ান। হঠাৎ বউ এতো আদর পাগল হয়ে উঠলো কিভাবে এই চিন্তা ঘুরছে মাথায়। রায়ান মিরায়াকে এখনো জড়িয়ে ধরেনি বলে মিরায়া একটু বিরক্ত হলো-
"থাক ধরতে হবে না আমাকে।"
রায়ানের বুক থেকে মাথা তুলতে যাবে তখনি রায়ান নিজের বৃহৎ শরীরের সাথে মিরায়াকে মিশিয়ে নিল এক মুহূর্তে। মিরায়া মুচকি হেঁসে আবারো নিজের মাথা রায়ানের বুকের উপর রাখলো। আর তার ছোট হাত গুলো আকারে ধরলো রায়ানের পিঠ। রায়ান আর নিজেকে সংবরণ করতে পারছিল না তাই এমন করল- দশ বছর এর ও বেশি দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে এই প্রথমবার বউয়ের আবদার এসে তাকে ছোঁয়ার এই আবদারে সাঁড়া না দিয়ে থাকতে পারা পুরুষ নিতান্তই কাপুরুষের কাতারে পড়বে।
রায়ান আরো শক্ত করে মিরায়ার ছোট্ট শরীরটা আঁকড়ে ধরলো। মিরায়াও রায়ানকে আকরে ধরে আপন করে নিচ্ছে।
সময় যত গড়াচ্ছে পরিবেশ টা তত গরম আবহাওয়া পূর্ণ হয়ে উঠছে। রায়ান নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না। নিয়ন্ত্রণের কথা মাথাতেও এলো না মিরায়া সম্মতি পেয়ে। রায়ান নিজের হাতের গতি বাড়ালো। মিরায়ার শরীর রায়ানের সাথে মিশে থাকা অবস্থায় কাঁপছে যা রায়ানের নিয়ন্ত্রণের অস্তিত্ব শূন্য পরিমাণ করে দিচ্ছে।
রায়ান পিছন থেকে হাত ঘুরিয়ে মিরায়ার কাঁধে পড়ে থাকা চুল গুলো সড়িয়ে দিয়ে সেখানে নিজের মুখ গুঁজে দিল। মিরায়া চমকে কেঁপে উঠে রায়ানের শার্টটা খামচে ধরলো, শরীর এর প্রতিক্রিয়ায় যেন তার ভেতরে তোলপাড় শুরু হলো।
রায়ান এবার পুরোপুরি ধ্যান হারা হলো, মিরায়ার উন্মুক্ত ঘাড়ে ছোট ছোট চুমু খেতে শুরু করতেই মিরায়া কেঁপে উঠে রায়ানের থেকে দূরে যেতে চাইলো। কিন্তু কামনার অনুভূতি যে অস্বস্তি মানে না- রায়ান মিরায়াকে শক্ত করে ধরে গরম নিঃশ্বাস ফেলে ফিসফিসিয়ে বলল-
"স্টে স্টিল বেইবি, প্লিজ। ছটফট করো না। একটু সহ্য করো।"
মিরায়ার চোখের কোনে অশ্রু জমা হলো সুখে যা পলক ফেলার সাথে গড়িয়ে পরলো। রায়ান মিরায়ার ঘাড় আর গলায় নিজের রাজত্ব পেয়ে নিজের সমস্ত ক্লান্তি সেখানে বিসর্জন দিতে লাগলো। মিরায়া না চাইতেও সঙ্গ দিচ্ছে। জীবনের প্রথম পুরুষ তাও নিজের স্বামীর ছোঁয়া কি অস্বীকার করা যায় চাইলেই? হোক না সেটা অজানা রহস্য!
রায়ান সোজা হয়ে মিরায়ার মুখ তার সামনে নিয়ে এলো। মিরায়ার চোখ অর্ধখোলা, ঠোঁট কাঁপছে শিহরণে। নিঃশ্বাস ভারী দুইজনেরই। মিরায়া চোখ খুলতে পারছে না লজ্জায় আর এই লজ্জায় রাঙা মুখ রায়ানের বুকে আগুন ধরিয়ে দিল। সে হালকা মুচকি হেঁসে মিরায়ার কপালে স্নেহের পরশ এঁকে দিল। মিরায়ার মুখেও স্পষ্ট সেই আদরের ছোঁয়ার প্রতিক্রিয়া। রায়ান মিরায়ার সমস্ত অবয়বে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ালো। প্রতি বারই মিরায়া আবেশে কেঁপে উঠছিল। কপাল, গাল, নাক সবশেষে সেই চিরচেনা কাঙ্ক্ষিত ঠোঁট জোড়ায় নজর পড়লো রায়ানের। সে খেয়াল করলো মিরায়ার শুকনো কমল ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠছে বারবার, রায়ান হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে মিরায়ার ঠোঁটে হালকা স্পর্শ করে স্লাইড করলো। মিরায়া রায়ানকে না আটকাতে পারছে আর না সড়ে আসতে কিন্তু যা হচ্ছে তা হওয়ার সময় এটা নয় সেটা বুঝতে পেরে ভারী নিঃশ্বাসের ফাঁকে মৃদু স্বরে রায়ানের উদ্দেশ্যে ফিসফিস করলো বলল-
"রায়ান প্লিজ, থেমে যান। এটা ঠিক হচ্ছে না। প্লিজ থেমে যান।"
রায়ান নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বহু আগে। সে মিরায়ার গালের নাক ঠেকিয়ে মাথা না সূচক নাড়াতে লাগলো-"আমি পারবো না হৃদপাখি!" সে হাস্কি ভয়েসে আওরালো।
মিরায়া নিজেকে সংবরণ করার চেষ্টায় দুই তিনবার জোর পূর্বক চোখ বন্ধ করে খুলল। একটু স্বাভাবিক হতে রায়ানের বুকে হাত রেখে তাকে পড়িয়ে দিতে চেয়ে বলল-"পারবেন আপনি। চেষ্টা করুন নিজেকে সামলাতে।"
রায়ান মিরায়ার হাত ধরে পিছনের দিকে নিজের হাতে লোক করে দিয়ে জোরে বলল-"এই চেষ্টা আমার দ্বারা হবে না পাখি। আই এম সো সরি। ফোরগিভ মি। নিজেকে এই মুহূর্তে সামলানোর চেষ্টা, আমি করতে পারবো না। আর না।"
রায়ান পরক্ষণেই মিরায়ার দুই গালে চুমু খেয়ে নিয়ে ঠোঁটের স্বাধ নিতে অগ্রসর হয়। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই বাড়ির পাশের মসজিদে আসরের আজান শুরু হয়। স্বাভাবিকভাবেই তখন বিকেল ৫টা বরাবর আজানেরই সময়। রায়ান মিরায়ার দুই জনেরই ঘোর কাটলো আজানের শব্দে। মিরায়া রায়ানের বুকে এবার হালকা ধাক্কা দিতেই রায়ান ছিটকে সড়ে গেল।
দুইজন তখনো ঘন নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। মিরায়া হাঁপিয়ে উঠেছিল রায়ানের সুঠাম দেহের আয়ত্তের মাঝে। রায়ান ওই অবস্থায় মিরায়ার দিকে কিভাবে তাকাবে বুঝে পাচ্ছিল না।
এই টুকু সময়ে কি থেকে কি হলো দুইজনের কেউ বুঝে উঠতে পারছে না। রায়ান নিজের মনে জানে সে অন্যায় করে নি নিজের বউকে ছুঁয়েছে এতে তো দোষের কিছু নেই, কিন্তু তার অস্বস্তি হচ্ছিল এই ভেবে এখন মিরায়া যদি এসবের জন্য রায়ানকে খারাপ ভেবে দোষী করে তাহলে কিভাবে সামাল দেবে ও এখনো সত্যি টাও জানায় নি অযুহাত স্বরূপ বলার মতোও কিছু নেই।
রায়ান অপরাধী চোখে মিরায়ার দিকে তাকাল। কিছু সময় আগের রায়ানের পাগলামির দরুন মিরায়ার ওড়না বুক থেকে সড়ে গেছে চুল গুলো ও অগোছালো কিন্তু সব মিলিয়ে থাকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে, যেন বিলের ফুটন্ত তাজা পানাফুল। রায়ানের বুকে আবার উন্মাদনার সৃষ্টি হলো-
"উফ্! আর পারছি না খোদা। কেন এমন পরীক্ষা নিচ্ছ আমার ? এইভাবে নিজের বউকে দেখে কিভাবে টেকা সম্ভব!"
মিরায়া নিজের ওড়না ঠিক করে নিল দ্রুত। রায়ানের দিকে একবার তাকিয়ে চোখ নামিয়ে ফেলল- স্বামীর পরিচয় পাওয়ার পর নিজেকে না আটকাতে পারার ফল এই সব। মিরায়া নিজের উপর বিরক্ত হয়ে-"এটা কি হয়ে গেলো। হায় খোদা, উনি কি ভাববেন এবার? উনি তো জানেন, যে আমি জানি না আমি উনার বউ। তাহলে এখন তো ভাববেন আমি বিবাহিত হওয়ার পরও অন্য কাউকে..! ছিঃ ছিঃ ছিঃ! কি করে হলো এটা।"
কিন্তু রায়ান এসব কিছুই ভাবছে না তার মাথায় তার বউ তার বউই, সেটা তার বউ জানুক বা না জানুক। মিরায়া রায়ানকে এড়িয়ে যেতে পালাতে চাইলো সেখান থেকে।
মিরায়া রায়ানের পাশ কাটিয়ে দৌড়ে ছাদের থেকে নামতে সিঁড়ির দিকে যেতে নিলে রায়ান মিরায়ার কোমর আকারে ধরে ঘুরিয়ে নিজের বুকের সাথে মিরায়ার পিঠে ঠেকিয়ে দাঁড়া করালো। মিরায়া ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগলো কিন্তু রায়ান তার পাত্তা না দিয়ে বলল-
"ওই! এতো নড়ার মতো কি কিছু করেছি নাকি? এমন করছো কেন?"
মিরায়া ভয়ার্ত গলায় বলল-"ছেঁড়ে দিন প্লিজ। আমি আর আপনাকে জড়িয়ে ধরতে বলবো না।"
রায়ান দুষ্টু হেঁসে মিরায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে কানের লতিতে ছোট চুমু দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল-
"শুকরিয়া আদায় করো পাখি। সময় এখন আমার নয় তাই বেঁচে গেলে। কিন্তু এমনটা সব সময় হবে না। বি রেডি।"
মিরায়া অল্প বেঁকে গিয়ে বিরক্ত গলায় বলল-"অশ্লীল বেডা।"
রায়ান ও মিরায়ার কথায় তাল দিয়ে বলল-"আমার সুশীল বেডি।"
মিরায়া জোরে আওয়াজ করে বলল-"ছাড়ুন বলছি। আমি নিচে যাবো।"
রায়ান মিরায়াকে হঠাৎ ঝটকায় কোলে তুলে নিল । মিরায়া আতংকে প্রশ্ন করলো-"কি করছেন? কোলে কেন তুললেন?"
রায়ান মিরায়ার সেই প্রশ্নের তোয়াক্কা না করে নিজের প্রশ্ন করলো-"ওই বলেছিলাম না, আমি না থাকা কালীন নিজের যত্ন নিতে?"
মিরায়া-"হুম, নিয়েছি তো।"
রায়ান বিরক্ত হয়ে-"তো শরীরে কিছু নাই কেন? হ্যাল্থ ইমপ্রুভ কেন করে নি? কি ছাতার মাথা যত্ন নিয়েছো?"
মিরায়া চুপ করে রইল। রায়ানের সব সময় মিরায়ার চিকন হওয়া নিয়ে বকা দেওয়ার বিষয়টা ওর অপমানজনক লাগে।রায়ান মিরায়ার নীরবতা দেখে বলল-
"সমস্যা নেই। এবার আমি এসেছি সব দিক থেকে হেলদি হয়ে যাবে।"
মিরায়া ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-"সব দিক থেকে মানে?"
রায়ান ছাদে প্রস্থান করতে করতে বলল-"নিচে ঘরে নিয়ে বোঝাচ্ছি, চলো।"
মিরায়া শুকনো ঢোক গিললো ভয়ে। রায়ানের দিকে তাকিয়ে আছে এক নজরে মনে মনে অন্য ভয় কাজ করতে লাগলো তখন তার-"ঘরে গিয়ে কি বোঝাবেন উনি?"
চলবে...
আহ্! পাখিরা বলো কেমন হইছে আমি এই সকাল অব্দি লিখে ক্লান্ত। কমেন্ট পড়ে যেন শান্তি পাই এত কমেন্ট করবা😚😚।
আর রেস এর শুরুর অংশ কাল থেকে দিবো। আমাকে একটা সাহায্য করো সোনা পাখিরা। মিরায়ার বাইক কমিউনিটির সিনিয়র ভাইয়ার নাম যেন কি ছিল? ভুলে গেছি আর খুঁজেও পাচ্ছি না। আসিফ না আরিফ ছিল মনে করাই দেও তো। ডোন্ট জাজ এতো কিছু মাথায় রাখা সম্ভব হয় না তাই আপ্পি ভুলে গেছি। Love you pakhis ❤️ 🥰
#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ
#Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_40 (2nd)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
রায়ান মিরায়াকে কোলে করে ছাদ থেকে নেমে নিজের ঘরের দিকে নিয়ে যাতে থাকে। মিরায়ার চোখে মুখে ভয় স্পষ্ট, সেভাবেই রায়ানকে দেখছে। রায়ান মিরায়ার দিকে তাকিয়ে আবার সোজা তাকায়-
"আজ আমাকে এভাবে কেন দেখছো পাখি? মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই খেয়ে ফেলবা।"
মিরায়া রায়ানের কথায় একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে আর সাথে সাথে নিজের চোখ রায়ানের থেকে সরিয়ে নিয়ে মাথা নিচু করে বিড়বিড় করলো-
"আমার রুচির অবক্ষয় হয়নি যে মানুষ খেতে হবে।"
রায়ান মুচকি হেঁসে মিরায়া কে নিয়ে নিজের ঘরে ঢুকে মিরায়াকে বিছানার উপর নিয়ে বসায়। মিরায়ার মন আনচান করছে রায়ান কি করতে চলেছে এখন এই ভেবে। রায়ান মিরায়াকে বিছানায় রেখে একটু আগে রুদ্র যেই লাগেজটা রেখে গিয়ে ছিল সেটা স্লাইড করে নিয়ে আসে মিরায়ার সামনে।
-"আপনি কি করছেন? ব্যাগ দিয়ে কি হবে? আপনি কি আবার চলে যাবেন?"
মিরায়া রায়ানের পরবর্তী পদক্ষেপ বুঝতে পারছিল না বলে রায়ানকে এমন প্রশ্ন করলো।
রায়ান মিরায়ার দিকে তাকিয়ে হালকা হেঁসে আবার চোখ ব্যাগের দিকে নামিয়ে বলল-
"চিন্তা করো না, আমি আর কোথাও যাচ্ছি না। শিক্ষা হয়ে গেছে আমার। এরপর যেখানে যাবো আমার হৃদপাখি সাথে যাবে। এবার হ্যাপি?"
কথাটা রায়ান ব্যাগের চেইন খুলতে খুলতে বলল।
মিরায়া রায়ানের কথা গায়ে না মেখে মতো করে মুখ ভেঙিয়ে ফিসফিস করল-
"শিক্ষা যে হয়েছে তা ওই ডিভোর্স পেপার আর আপনার এখনকার ব্যাবহার এর আকাশ পাতাল তফাত দেখে বুঝতে পেরেছি অনেক টাই। এবার শুধু বাজিয়ে দেখার পালা। সত্য কোনটা আর ভুল কোনটা।"
রায়ান মিরায়ার কথা শুনতে পেলো না তবে অল্প আওয়াজে তার মনে হলো মিরায়া বরাবরের মতো তাকে অপবাদ দিচ্ছে বিভিন্ন গালির মাধ্যমে। রায়ান সেগুলো তে নজর না দিয়ে ব্যাগটা আন-প্যাক করে মিরায়ার সামনে খুলে দিয়ে হাতের ইশারায় ব্যাগটা দেখিয়ে বলল-
"ট্যা..ডা..!"
মিরায়া রায়ানের উৎসাহ ভরা মুখটা দেখে হেঁসে ব্যাগটার দিকে তাকাতেই দেখলো সম্পূর্ণ ব্যাগ ভর্তি বাইরের দেশের চকলেটস, চিপস, কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কিটস ইত্যাদি (বিভিন্ন প্রকারের আরো শুকনো খাবার-দাবার ছিল)। মিরায়া ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে রইল ব্যাগটার দিকে। আশ্চর্য হয়ে রায়ান কে প্রশ্ন করলো-
"এইসব কি? এতো কিছু কার জন্য?"
রায়ান একটু চোখ বাকিয়ে বলল-
"কার জন্য আবার কি! এই ঘরে এই মুহূর্তে তুমি ছাড়া যেহেতু কেউ নেই, অবশ্যই সব তোমার জন্য। এই বুদ্ধি নিয়ে ঢাবি য
তে চান্স হলো কিভাবে তোমার?"
মিরায়া আরও বিরক্তি প্রকাশ করে রায়ানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল-
"আমার জন্য হলে এতোসব কেন? আপনার কি আমাকে দেখলে মনে হয় যে এসব আমি একা খেতে পারবো? আপনি এই বুদ্ধি নিয়ে এতবড় বিজনেস কিভাবে সামলান?"
রায়ান বউয়ের সাথে যুক্তি তর্কে পেরে উঠবে না ভালোই বুঝতে পারছে বউ আইন বিভাগে পড়ছে বলা চলে তারই প্রভাব। রায়ান তর্কে না জড়িয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল-
"বললাম না তখন এখন আমি এসে গেছি তুমিও হেলদি হয়ে যাবে। ওর জন্যই এই ছোট্ট প্রচেষ্টা। ট্রাস্ট মি বেইব আমেরিকার সব বেস্ট স্নেক্স এইগুলো ভীষণ মজা। একটা কিছুও বাদ যায় নি, আমি নিজে চেক করেছি।"
মিরায়া রায়ানের দিকে তাকিয়ে পরপর চারবার চোখের পলক ফেলল-"মানুষটা পাগল নাকি! আমেরিকা থেকে আমার জন্য এসব বয়ে এনেছে শুধু আমাকে খাওয়াবে বলে!" (মনে মনে)
মিরায়া হাঁফ ছেড়ে ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে বলল-
"আপনি আমাকে হেলদি কেন করতে চান এখনো মাথায় ঢুকছে না তবে এইগুলো কোনো টাই হেলদি না সব আন-হেলদি।"
রায়ান হেসে মিরায়ার দুই গালে হাত রেখে বলল-
"ওইসব তোমার বুঝতে হবে না, ওটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয়তা। আর এসবের একটাও আন-হেলদি না, আমি সবকিছু চেক করে এনেছি। সবগুলোর রো ইনগ্রিডিয়েন্স ভালো।"
মিরায়া ব্যাগের মধ্যে থাকা ৩ বক্স চকলেট আর চকলেট বারস গুলোর দিকে আঙুল করে বলল-
"তাহলে আপনি বলতে চাইছেন, চকলেট ও আমার জন্য হেলদি?"
রায়ান একটু চুপ করে গেল। আসলে রায়ানের বলা কথা সত্যি বাকি সব সে দেখেই এনেছে তবে চকলেট এনেছে মিরায়া পছন্দ করবে তাই। রায়ান নিজে মিষ্টি খায় না খুব একটা, চকলেট ও না, এমন কি চা বা কফিতেও না। কিন্তু শুধু মিরায়া পছন্দ করবে বলেই এনেছিল। মিরায়াও চকলেট আন-হেলদি বলল বলে সে সন্তুষ্ট মনে বলল-
"আচ্ছা তাহলে চকলেট খেতে হবে না। বাকি গুলো খাবে। আমি চকলেট সরিয়ে নিচ্ছি।"
মিরায়া এবার নিজের কথাতেই ফেসে গেল। চকলেট তার ভীষণ পছন্দ কিন্তু তেমন খায় না। তাও বাইরের থেকে আনা চকলেট খাবে না তা কিভাবে হয়? রায়ান চকলেট সরিয়ে নিতে গেলে মিরায়া বিছানা থেকে উঠে তড়িঘড়ি করে ব্যাগটার অপর অংশ দিয়ে খাবার গুলো ঢেকে দিয়ে বলল-
"সব আমার জন্য এনেছেন মানে সব কিছুই আমার। চকলেট আন-হেলদি হলেও ওগুলো আমারই।"
রায়ান মিরায়ার দিকে তাকাতেই একটা বাচ্চার প্রতিবিম্ব তার মাঝে দেখতে পেলো। রায়ান হেসে ব্যাগটা আবার খুলে চকলেট গুলো উঁচু করে নিচের থেকে কিছু বের করতে উদ্যত হতেই মিরায়া জোরে বলল-
"আরে অদ্ভুত, বললাম তো চকলেট সরাতে হবে না।"
রায়ান মিরায়ার কথার উত্তর না দিয়ে দুইটা বক্স বের করলো ব্যাগ থেকে। মিরায়া চুপ করে গেল যখন দেখলো রায়ান চকলেট সরাচ্ছিল না বরং অন্য কিছু বের করছিল। কিন্তু মিরায়া বুঝতে পারলো না ওইগুলো কিসের বক্স যেহেতু বক্স গুলো ডেকরেট করা ছিল রেপিং পেপার আর রিবন দিয়ে। সে একটু ভ্রু কুঁচকে তাকালো ওই গুলোর দিকে।
-"এইটা নাও।" রায়ান একটা বক্স মিরায়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল।
মিরায়া অবাক হয়ে বক্স টা হাতে নিল-"এটার ভিতরে কি আছে?"
রায়ান-"খুলে না দেখলে কিভাবে বুঝবেন ম্যাডাম। ওপেন ইট।"
মিরায়া রায়ানের কথার ভেঙচি কেটে বক্স টার রেপিং পেপার টা খুলে ফেলল। আর তখনি উঁচু গলায় আওড়ালো-
"আইফোন!?"
রায়ান মিরায়ার দিকে এগিয়ে বলল-"দ্যাটস রাইট। আই ফোন 17 প্রো ম্যাক্স। এবার খুলে দেখো।"
মিরায়া ফোনের উপরের অংশ টা আলাদা করতেই কালো রংয়ের ফোন দেখতে পেল। মিরায়া ফোনটা বের করে রায়ানকে প্রশ্ন করলো-
"আপনি এটা কেন এনেছেন?"
রায়ান আশ্চর্য হয়ে বলল-"আরে তুমিই তো বললে কমলা রং টা তোমার ভালো লাগে নি তাই ব্ল্যাক এডিকশনের টা নিয়েছি।"
মিরায়া বিরক্ত ভাব দেখিয়ে-"আমি রঙের কথা বলছি না। ফোন কেন এনেছেন।"
রায়ান শান্ত গলায় বলল-"তুমি না বললে ওই দিনের এতো কল ঢোকার পর থেকে ফোন হ্যাং করছে তাই এনেছি। তোমার পছন্দ হয়নি? না হলে এখন চলো অন্য একটা কিনে দিচ্ছি।"
মিরায়া হা করে তাকিয়ে রইল রায়ানের দিকে। কি বলবে মাথা কাজ করছে না। তবু রায়ানকে বুঝানোর বৃথা চেষ্টা করলো-
"আরে পছন্দের ব্যাপার না। আপনি এতো দামি একটা ফোন কেন কিনতে গেলেন। কোনো প্রয়োজন..!"
-"এই চুপ। ১৭০০ কোটির ডিল সাইন করার পর ফোনটা আর দামি মনে হয় নি তাই কিনেছি, তোমার কি? দিয়েছি সুতরাং এটাই ব্যবহার করবে।"
মিরায়া রায়ানের কথা শুনে বিড়বিড় করলো আশ্চর্য হয়ে-"১৭০০ কোটি?!"
কিন্তু ফোনটা মিরায়ার নিতে আপত্তি ছিল তাই সে প্রতিবাদী গলায়-"কিন্তু রায়ান আপনি বুঝছেন না..."
-"সসস্! চুপ। কথা কম বলো।" রায়ান মিরায়ার একদম কাছে এসে তার ঠোঁটে আঙুল রেখে চুপ করিয়ে বলল।
মিরায়া মুহূর্তের মধ্যে চুপ হয়ে গেল ওই পরিস্থিতিতে কিছু বলতেও পারলো না। রায়ান মিরায়াকে আবার বিছানার উপর বসিয়ে দিলো আর নিজে হাঁটু ভেঙ্গে মেঝেতে বসলো। তার চোখের চাহুনিতে আজ অন্য রকম অধিকার বোধের ঝলকানি দিচ্ছিল। মিরায়া রায়ানের দিকেই তাকিয়ে সব কিছু ভাবছে মনে মনে-
"রায়ান আপনি যদি আমাকে সত্যিই এতো টা চেয়ে থাকেন তাহলে ওই ডিভোর্স পেপার আপনার কাছে কেন ছিলো? কোনটাকে সত্যি মানবো আমি? যা অনুভব করছি তা? নাকি যা শুধুই কাগজে দেখেছি সেটা?"
রায়ান মিরায়ার দিকে এবার দ্বিতীয় বক্সটা এগিয়ে দিয়ে বলল- "হৃদপাখি এবার এইটা খোলো।"
মিরায়ার মনে এবার চিন্তা ভীর করলো এই বক্সে কি থাকবে এইবার। সে রায়ানের হাত থেকে বক্সটা নিয়ে আন-রেপ করতেই দেখলো একটা ছোট গয়নার বক্স। কিন্তু স্বাভাবিক কোনো গয়নার বক্স বলে মনে হচ্ছে না।
বক্স টা কাঠের তৈরি, আর তার সামনে একটা ছোট্ট হাতল। উপরে খোদাই করে মিরায়ার নাম লিখে রাখা। মিরায়া নিজের নামটা খেয়াল করতেই সেটার উপর নিজের আঙুল বুলিয়ে রায়ানকে প্রশ্ন করলো-
"এখানে তো আমার নাম খোদাই করা! কিভাবে হলো?"
রায়ান হেঁসে বলল-"আমি করিয়েছি। কাস্টমাইজড জুয়েলারি বক্স। এ্যান্ড ইউ নো হুয়াট? এইটাতে যেই কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে সেটা ওয়ার্ডের সবচেয়ে বেস্ট কুয়ালিটিফুল এ্যান্ড প্রাইসি।"
মিরায়া রায়ানের বলা কথা শুনে আবার একবার বক্সকা হাত দিয়ে ছুয়ে দেখলো। রায়ান মিরায়ার এমন অবাক হওয়া দেখে মিরায়াকে বলল-
"বেইবি ভিতরে কি আছে দেখবে না? খুলো বক্সটা।"
মিরায়া রায়ানের কথায় ধ্যান থেকে বাস্তবে ফিরে হালকা কাঁপতে থাকা হাতে বাক্সটা খুলতেই সেখান থেকে একটা তেলাপোকা বের হয়ে আসে। আর মিরায়া সেটা হঠাৎ দেখতে পেয়ে চিৎকার করে উঠলো-"আআআআআআ..মাআআ!"
মিরায়া ভয় পেয়ে নিচে বসে থাকা রায়ানের কলে চড়ে বসলো। রায়ান দুষ্টু হেঁসে মিরায়ার কোমর ধোরে তাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। রায়ান ইচ্ছে করে এটা করেছে মিরায়াকে ভয় দেখাতে দুষ্টুমি করে। মিরায়া রায়ানের কাঁধের দিকে গলার ভাঁজে মুখ লুকিয়ে নিল। রায়ান শক্ত করে মিরায়াকে ধরে আছে। কিছু সময় বাদে মিরায়ার নিঃশ্বাস ভারি আর গরম হয়ে এলো, তেলাপোকার ভয় কেটে গেছে কিন্তু নিজের অবস্থান কোথায় বুঝতে পেরে সে আরো ভয়ে সিটিয়ে গেলো। রায়ান নিজের গলায় মিরায়ার উষ্ণ নিঃশ্বাস অনুভব করতে পেরে নিজের নিয়ন্ত্রন হারাচ্ছে ধীরে ধীরে। সে মিরায়ার কোমর আরো শক্ত করে আকড়ে ধরলো। মিরায়া একটুও কেঁপে উঠে রায়ানের থেকে সড়তে চাইতেই রায়ান আবার মিরায়াকে ভয় দেখালো-
"ওই যে তেলাপোকা!"
-"আআউউ..!"
মিরায়া আবার রায়ানের গলা জড়িয়ে ধরলো।রায়ান শব্দ করে হেঁসে উঠতেই মিরায়া রেগে গেলো। মিরায়া রায়ানের কোলে সোজা হয়ে বসে রায়ানের বুকে পিঠে তার ছোট হাতে আঘাত করে বলল-
"বজ্জাত বেডা, নির্লজ্জের হাড্ডি, আমাকে এভাবে ভয় দেখালেন কেন? আর একটু হলেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেত, আর না হলে দম বন্ধ হয়ে মরে যেতাম।"
রায়ান বাঁকা হেঁসে বলল-"এতো সহজ মনে হয় তোমার? হার্ট অ্যাটাক হলে প্রয়োজনে হার্ট ট্রান্সফার করে নিতাম আর দম আটকে গেলে নিজের টা তোমার সাথে শেয়ার করতাম। নিজের ব্রিদিং এমন কাজে লাগাতে পারলে বেঁচে থাকা সার্থক।"
মিরায়া ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আবার রায়ানের বুকে হাত দিয়ে আঘাত করে বলল-"অশ্লীল লোক। ছাড়ুন আমাকে। আপনি ডেঞ্জারাস। আপনার কাছে থাকা যাবেনা।"
এই বলে মিরায়া রায়ানের কোল থেকে উঠতে যাবে তখনি রায়ান মিরায়াকে টান দিয়ে আবার নিজের কোলে ফেলে দিয়ে প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে সেখান থেকে একটা ব্রেসলেট বের করে করলো।
ব্রেসলেট—পুরোটাই সাদা সোনার ওপর নিখুঁতভাবে বসানো একেকটা ছোট ছোট ডায়মন্ড, যেন আলোর কণা ছড়িয়ে আছে সারি সারি করে। প্রতিটা নড়াচড়ায় ডায়মন্ডগুলো থেকে প্রতিফলিত আলো চোখে পড়ে চকচক করে উঠছিল, নরম আলোতেও যেন নিজেই জ্বলছিল ব্রেসলেটটা। ডিজাইনটা ছিল রাজকীয় অথচ মার্জিত—পাতলা, নিখুঁতভাবে গাঁথা, কিন্তু এক নজরেই বোঝা যায়, এর দাম সাধারণের নাগালের অনেক বাইরে।
মিরায়া অবাক হয়ে তাকালো ব্রেসলেট টার দিকে। রায়ান মিরায়ার হাতটা নিজের হাতে নিয়ে ব্রেসলেটটা পড়িয়ে দিতে দিতে বলল-
"তোমার কাছে অন্য কোন উপায়ান্তর নেই পাখি। এই ডেঞ্জারাস আমিটার কাছেই থাকতে হবে তোমাকে।"
মিরায়ার বুকের কম্পন হঠাৎ অতি দ্রুত হয়ে গেলো। রায়ান মিরায়ার হৃৎস্পন্দনের শব্দ নিজের কানে শুনতে পেয়ে বললো- "নিজের মনকে শান্ত করো হৃদপাখি আমি অশান্ত হলে পরিস্থিতি আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে যাবে।"
মিরায়া কিছু বলার ভাষা খুঁজে পেল না মুখে যেন আঠা লেগে আছে। রায়ান মিরায়ার হাতে ব্রেসলেট টার পড়িয়ে দিয়ে হাতটা কাছে নিয়ে তার ঠোঁটে ছোঁয়ালো সেখানে। মিরায়ার শরীর মৃদু কেঁপে উঠলো। মিরায়া নিজের হাতটা রায়ানের কবল থেকে মুক্ত করে নিয়ে আবার উঠতে চাইলো রায়ানের কোল থেকে কিন্তু রায়ান এবারও বাঁধা দিল।
মিরায়া অস্বস্তিতে আমতা আমতা করে বলল-"ছেঁ.. ছেঁড়ে দিন না, প্লিজ।"
রায়ান অধৈর্য গলায় বললল- "ছাড়তেই তো পারছি না হার্ট বার্ড। সমস্যা টাই এখানে- না ছাড়তে পেরেছি, না পারছি, আর না ভবিষ্যতে পারবো।"
মিরায়া রায়ানের দিকে তাকিয়ে ভাবলো-"উনি কি এই মাত্র ছাড়তে পারেন নি বলতে আমাকে ডিভোর্স না দিতে পারার কথা বললেন? কেন পারবেন না? আমাকে ভালোবাসেন তাই? নাকি অন্য কিছু!"
মিরায়ার এই মুহূর্তে নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল সে কি ভেবেছিল আর কি হচ্ছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। মিরায়া মনে মনে অন্য সব কথা চিন্তা করতে শুরু করলো-
"আল্লাহ আমি কি করবো। একটা মানুষ এতোটা বেপরোয়া শুধু আমাকে নিয়ে। এতো আয়োজন তার শুধু আমার জন্য। আমার এত বছরের অপেক্ষার তুলে রাখা সকল শাস্তি কিভাবে তার উপর প্রয়োগ করবো? কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। নিজেকে এতো দূর্বল কেন লাগছে? আমি তো এমন নই।"
রায়ান মিরায়ার চিন্তা ভরা মুখটা দেখে মিরায়ার মুখে উড়ে আসা চুলগুলোকে তার কানের পিছনে সরিয়ে দিয়ে বলল-
"এতো ভেবো না পাখি। আর এসব উল্টো পাল্টা আবদার আমার কাছে করবে না। তোমার আবদার মেটাতে না পারলে আমার শান্তি লাগবে না আর না ওই আবদার আমি কখনো পূরণ করবো।"
মিরায়া নিজেকে রায়ানের জায়গায় রেখে একবার বোঝার চেষ্টা করলো-
"আচ্ছা দশ বছর আগে আমি উনার জায়গায় হলে কি করতাম? ওতো ছোট বয়সে নিজের অজান্তে দশ বছরের ছোট মেয়ের সাথে হওয়া বিয়ে কি মেনে নিতাম ? যেখানে আমি মেয়েটাকে চিনি না জানি না!
হয়তো না। বিয়ে একটা পবিত্র বন্ধন, এখানে জোর চলে না। এতে উনার দোষ কোথায়? আর আমিই বা কি করতে পারতাম তখন তাকে নিজের কাছে আটকে রাখতে? কিভাবে তাকে এমন কিছুর জন্য দোষারোপ করবো যেটা নিজের ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে?"
মিরায়া রায়ানের দিকে একটানা এভাবে তাকিয়ে থাকাতে রায়ান কিছু টা শান্ত মনে মিরায়ার মুখটা কাছে টেনে তার কপালে স্নেহের পরশ এঁকে দিয়ে বলল-
"হৃদপাখি আমার তোমাকে কিছু বলার আছে। শুনবে?"
মিরায়ার মন হঠাৎ কেঁপে উঠলো-"কি বলবেন উনি? আমাদের বিয়ের ব্যাপারে! যদি বলেন তাহলে আমি কি করবো? কিভাবে সামাল দেবো সবকিছু।"
রায়ান মিরায়াকে চুপ থাকতে দেখে আবার জিজ্ঞেস করলো-
"কি হলো? বলো শুবে?"
মিরায়া আগু পিছু না ভেবে মাথা উপর নিচ নাড়িয়ে সম্মতি জানালো।
তখনি মাহির দরজায় নক না করেই রায়ানের ঘরে ঢুকলো জোরে কথা বলতে বলতে-
"ওই তুই কই মরলি আবার। দেরি হয়ে যাবে, খাবি না?"
ঘটনাটা হঠাৎ ঘটায় মিরায়া রায়ান কিছু বুঝলো না। মিরায়া দুই হাতে রায়ানের গলা আকরে ধরে আছে রায়ানের হাতও তখন মিরায়ার কোমরেই। দুজনেই শব্দ পেয়ে অবাক চোখে দরজার দিকে তাকায়। মাহির দরজা ঠেলে ঢুকে রায়ান মিরায়াকে ওই রকম অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখে সাথে সাথে চোখে হাত দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল-
"আসতাগফিরুল্লা, নাউযুবিল্লাহ, তওবা তওবা।"
রায়ান মিরায়া মাহির কে দেখে দুইজন দুজনের দিকে তাকিয়ে জিভ কামড় দিয়ে তাড়াতাড়ি আলাদা হয়ে মেঝেতেই দুই দিকে সড়ে হাঁটু মুড়ে বসে। মিরায়ার মনে হচ্ছিল পারলে পাতালে চলে যায় এখনি। আর রায়ান তো বেজায় বিরক্ত হয়ে বিড়বিড় করলো-
"আল্লাহ এমন মানুষ জন কেন দিছো তুমি আমার জীবনে। আমার এমন কাঙ্খিত মুহূর্ত গুলোতে সব সময় বেগরা দিতে কেউ না কেউ থাকবেই। কেনননননন!"
রায়ান নিজের চুল খামচে ধরলো।
মাহির ভালোই বুঝতে পারছে তার উপস্থিতি এই মুহূর্তে কতোটা বিরক্তি কর লাগছে রায়ানের কাছে। মাহির উল্টো হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেই নিজের সাফাই দিতে বলল-
"দোস্ত বিশ্বাস কর, আমার দোষ নাই। আন্টি তোকে ডাকতে বলল। আর আমি তো এর আগে তোর রুমে নোক করে কখনো ঢুকি নি তাই অভ্যাসবশত ভুল হয়ে গেছে। আই সুয়ের আমি কিছু দেখি নি।"
মিরায়া দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করছে। লজ্জায় এমন অস্বস্তিকর অনুভব হচ্ছে তার বলে বুঝানোর মতো না। রায়ান উঠে দাঁড়িয়ে মাহির কাছে গিয়ে ওর কানে বলল-
"শালা তোরে তো আমি রেসের সময় দেখে নিব। তোর মতো বন্ধু আর আমার লাগবে না। অন্যদের বন্ধুদের দেখি মেয়ে বিয়ের আসর থেকে তুলে এনে বন্ধু সাথে বিয়ে দেয়। আর তুই এক, বিবাহিত বন্ধুর বিয়েটা টিকাইতেও সাহায্য করতে পারিস না। তো কি ঘাস কাটতে লাগবো আমার তোরে?"
মাহির বুঝতে পারছে রায়ান কি পরিমান রেগে গেছে। মাহির তাও স্বাভাবিক থেকে বলল-
"তাইলে চল আজকে ভাবিকে তোর সাথে অফিসিয়ালি বিয়ে দিয়ে দেই আমি। খুশি থাক তাও।"
রায়ান রেগে মাহিরকে আরো কিছু বলবে তার আগেই মাহির রায়ানকে বলল-
"হইছে তো ভাই। এখন আমারে ঝাড়া বাদ দিয়ে তোর বউ কে সামলা।"
রায়ান মিরায়ার দিকে একবার তাকিয়ে আবার রেগে মাহির এর উদ্দেশ্যে বলল-
"তোর বউ কি আবার তোরে না বলছি ভাবি মা ডাকতে। বের হো এখন তোর সামনে ও নরমাল হবে না।"
মাহির-"আচ্ছা ঠিক আছে। তুই আয় আমি নিচে আছি।"
মাহির রায়ানের ঘর ত্যাগ করে নিচে চলে যায়।
মাহির চলে যাওয়ার পর রায়ান ফ্লোরে হাঁটু মুড়ে মুখ লুকিয়ে বসে থাকা তার ছোট্ট বউটার দিকে একবার তাকিয়ে দেখলো।
তারপর হাঁফ ছেড়ে মিরায়ার কাছে গিয়ে রায়ান হাঁটু গেড়ে বসে মিরায়ার চুলে হাত রেখে বললো-
"মুখ তুলো পাখি। ও চলে গেছে।"
মিরায়া মাথা না সূচক নাড়িয়ে শব্দ করলো-"উঁহু!"
রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিরায়াকে বসা অবস্থা থেকে কোলে তুলে নিলো। মিরায়া চমকে গিয়ে রায়ানের গলা জড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো-
"আবার কি হলো?"
রায়ান না বুঝার ভাব নিয়ে-"কি আবার কি হলো?"
মিরায়া আবার বলল-"কোলে নিলেন কেন আবার তা জিজ্ঞেস করলাম।"
রায়ান মিরায়াকে বিছানায় বসিয়ে বলল-"আমার ইচ্ছা হলো তাই। অনেক দিন ব্যস্ত থাকায় এক্সারসাইজ করা হয়নি তাই শরীরটাকে খাটাচ্ছি।"
মিরায়া মুখ বেঁকিয়ে ঘুরিয়ে নিলো রায়ানের থেকে। রায়ান ঠোঁট কামড়ে হেঁসে মিরায়া ব্রেসলেট পড়ে থাকা হাতটা নিজের হাতে নিয়ে মিরায়ার উদ্দেশ্যে আদেশ মূলক কন্ঠে বলল-
"এই যে ম্যাডাম, এইটা যেন হাত থেকে কখনো খোলা না হয়। সাবধান করে দিলাম।"
মিরায়া আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলো-"কেন?"
রায়ান মিরায়ার চোখে চোখ রেখে বলল-"আমি বলেছি তাই।"
মিরায়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার প্রশ্ন করলো-"কখনোই খোলা যাবে না? গোসলের সময় ও না?"
রায়ান মাথা ডানে বামে ঘুরিয়ে উত্তর করলো-
"না, খুলা যাবে না। শুধু একটা কারণ ছাড়া।"
মিরায়া তখনি উৎসাহিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো-"কি কারণে?"
রায়ান মিরায়ার সামনে থেকে সরে গিয়ে বলল-"জানতে হবে না।"
মিরায়া কৌতুহলী হয়ে জেদ ধরে রায়ানকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করল-"জানতে হবে আমার। বলুন কি কারণে খুলা যাবে?"
রায়ান মিরায়ার কোমর ধরে আবার নিজের বুকে টেনে তার মুখ মিরায়ার কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বলল-
"যদি তোমাকে নিজের করে পাওয়া সময় এটা আমার বিরক্তির কারণ হয় তাহলে খুলবো আমি। বুঝেছ না ডিটেইলসে বুঝাবো?"
মিরায়া আতকে উঠে রায়ানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল-"আচ্ছা আপনার লজ্জা নেই, তাই না? "
রায়ান স্বাভাবিক শান্ত গলায় স্বীকার গেল-"না নেই। বেডা মানুষ তার বেডির কাছে নিতান্তই নির্লজ্জ।"
মিরায়া রায়ানের সাথে আর তর্ক করতে চাইলো না তাই সোজা দরজার দিকে এগোলো। তখনি রায়ান আবার পিছন থেকে বলল-
"আবারও বলছি, ওটা হাত থেকে খুলবে না। আমি ছাড়া ওটা খুলার অধিকার কারো নেই। মাইন্ড ইট।"
মিরায়া মুখ না ঘুরিয়ে ঘর থেকে বের হলো। আর তার পিছন পিছন রায়ান ও বের হলো নিচে যেতে। একটু আগেই মাহির এসে বলেছে মা ডেকেছে খেতে।
চলবে...
১৬০০০ ক্যারেক্টারস আছে আজকের লিখাতে। আমি নিজের বেস্ট দিয়েছি শরীর যেমনি হোক। পাখিরা প্লিজ তোমরা রেসপন্স করো যেন রেসের পর্বটা এমন ভাবে সাজিয়ে লিখতে পারি তোমরা যেন খুব এনজয় করো এটাই চেষ্টা। বাকি প্লিজ পর্বের রিলেটেড কমেন্ট করো। যেতে অন্য কেউ কমেন্ট পড়ে পর্বটা কেমন বুঝতে পারে। তোমাদের কমেন্ট গুলো আমার মেডিসিন এর মতো। Love you pakhis ❤️ আর হ্যাঁ কালকে গল্প দিব ইনশাল্লাহ বেঁচে থাকলে।
#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ
#Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_40 (3rd)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
ড্রয়িং রুম~
মিরায়া রায়ান দুইজন পর পর নিচে নেমে আসার পর রামিলা চৌধুরী তাদেরকে দেখে বলেন-
"তোদের আসার সময় হলো! তাড়াতাড়ি এসে খেতে বসে যা। খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলে ভালো লাগবে না।"
মাহির ডাইনিং টেবিলে বসেছিল। রায়ান মিরায়ার উপস্থিতিতে একনজরে তাদের কে দেখে আবার নিজের খাও আর দিকে মন দেয়। মিরায়া মাহির তাকানোতে হালকা ইতস্তত বোধ করলেও রায়ানের তাতে কোনো ফারাক পড়ল না। মিরায়া লজ্জায় মাথা ঝুঁকিয়ে নিল কিন্তু রায়ান গোট গোট করে হেঁটে খাবার টেবিলের কাছে দিয়ে নিজের চেয়ার টা টেনে বসে পড়ল স্বাভাবিক ও শান্ত মুখে যেন কিছুই হয় নি। মিরায়া রায়ানের হাবভাব দেখে যাচ্ছে এইদিকে মিরায়াকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রায়ান তার পাশের চেয়ার টা জোরে টেনে বের করে বলল-
"খেতে বসতে হলে চেয়ারের কাছে এসে বসতে হবে। চেয়ার নিজে কারো কাছে যাবে না।"
মিরায়া ভালোই বুঝতে পারলো রায়ান তাকে উদ্দেশ্য করেই কথাটা বলেছে। সেও আর কিছু না বলে খাবার টেবিলে গিয়ে বসলো কিন্তু রায়ানের পাশে নয় বরং বিপরীতে। রায়ান মিরায়ার আচরণে বিরক্ত হয়ে কুটিল চোখে তাকালো মিরায়ার দিকে সাথে মিরায়াও ভাব নিয়ে রায়ানের চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে মনে মনে বিড়বিড় করলো-
"সবে তো শুরু মি.হাবি। আমি আমার ভালোবাসার পরীক্ষা এতগুলো বছর দিয়েছি, এবার আপনার পালা। আপনি এতো সহজে আমাকে পাবেন তা ভাবলে অনেক বড় ভুল করছেন। আপনার দূর্বলতা জানার পর, আপনাকে শাস্তি দিতে দূরত্বই যথেষ্ট। আমি মিসেস মিরায়া চৌধুরী যদি রায়ান চৌধুরী কে নিজের পায়ের সামনে না আনতে পারি নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে ফেলবো। আই সুয়ের।"
রায়ান অদ্ভুত ভাবে মিরায়ার চোখ দেখছে। একটু আগেও যেই চোখ লজ্জা, অস্বস্তি, কামনার অনুভূতি ভারা ছিল, এখন সেই চোখে এতো দৃঢ় ভাব যেন আগুন জ্বলছে। রায়ান মাহিরের সামনে আর কিছু বলার ইচ্ছে প্রকাশ করলো না বরং নিজেকেও সামলে একই শক্ত খোলসে আবৃত করে নিল। মাহির মিরায়া রায়ান দুইজনের দিকেই পর পর তাকিয়ে বিড়বিড় করলো-
"এদের আবার কি হলো হঠাৎ, একটু আগেও তো একসাথে কাঠার মতো লেপ্টে ছিল। আর এখন মনে হচ্ছে দুইজন দুইজনকে কাঁচা খেয়ে ফেলবে চোখ দিয়েই।"
মাহির নিজের ভাবনা তে মোশগুল তখনি রামিলা চৌধুরী খাবার বাড়তে বাড়তে মিরায়াকে প্রশ্ন করলেন-
"হেরে মিরা, ওকে চিনিস তুই?" (মাহিরের দিকে ইশারা করে)
মিরায়া মাহিরের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লো-"না মামণি, আগে কখনো দেখা হয়নি, তাই চিনি না।"
রামিলা চৌধুরী মিরায়াকে মাহির পরিচয় দিয়ে বললেন-
"তাহলে পরিচয় করিয়ে দেই। ও হলো মাহির, রায়ানের ছোটবেলার বন্ধু। বলতে পারিস এই বাড়ির আরেক টা ছেলে।"
মাহির মুচকি হেঁসে মিরায়াকে গ্রিট করল-
"হাই, আই এম মাহির।"
মাহিরের হাই বলা শুনে রায়ান চোখ বাঁকা করে তাকালো মাহিরের দিকে। মাহির রায়ানের দিকে ফিরে ওর চোখের চাহনি বুঝে আবার মিরায়ার উদ্দেশ্যে নতুন করে বলল-
"আসসালামুয়ালাইকুম..ভা..(মাথা না সূচক নাড়িয়ে) আপু।"
মিরায়া রায়ান কে আবার শক্ত চোখে একবার দেখে ইচ্ছা করে আগ বাড়িয়ে বলল-
"হ্যালো, ওয়ালাইকুম আসসালাম, মাহির ভাইয়া। আমি মিরায়া। আর আমি আপনার অনেক ছোট আপনি চাইলে নাম ধরেও ডাকতে পারেন। সমস্যা নেই।"
মাহির মনে মনে আতকে উঠলো-"খেয়েছে রে, এইবার রায়ান এইটার জন্য ও আমাকে কথা শুনাবে। ভাবি আম্মা গো, আপনার বর খুব একটা সুবিধার না। আপনাকে নাম ধরে ডাকলে, আমার নিজের বউকে কখনো ডাকার সুযোগ নাও পেতে পারি। নো রিস্ক।"
মাহির রায়ানের দিকে দেখলো দ্বিধায় পড়ে। কিন্তু রায়ান চুপচাপ খাচ্ছে যেন কিছু শুনতে পায়নি। মাহির ভালোই জানে রায়ান আসলে মাহিরের জবাবের অপেক্ষায় আছে। মাহির একটু নকল হেঁসে মিরায়াকে বলল-
"বয়সে ছোট হয়েছেন তো কি হয়েছে, সম্পর্কের পরিধি টাই আসল।"
মাহিরের উত্তরে রায়ান একটু বাঁকা হেঁসে মাহির পাতে একা মুরগির লেগ পিস উঠিয়ে দিয়ে বলল- "শাব্বাশ..এই নে এইটা খাঁ।
মিরায়া মাহিরের উত্তর কি ইঙ্গিত করছে বুঝতে পারলো কিন্তু শুধু শুধু আর কথা বাড়াতে চাইলো না। সে কেবল হেঁসে মাহিরের কথায় সম্মতি দিয়ে দিল এমন মনে হলো। মাহির মিরায়াকে দেখে রায়ানের দিকে হালকা ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল-
"মামা তুই জিতছোছ!"
রায়ান মনে মনে হালকা হেঁসে মুখে কঠোরতা রেখে বলল-
"হো মামা, আমি জানি। নজর কম দে। নিজের হাঁটুর বয়সী স্টুডেন্ট ক্রাশের কথা ভাব।"
মাহির টিটকারী করে বলল-"ইস্! তোর বউয়ের দিকে নজর দেওয়ার সময় নাই আমার। আর শোন আমাকে বুড়া বলা বন্ধ কর, আমার ক্রাশ অনেক সুন্দর। সময় করে তোকে দেখাবো নি।"
রায়ান ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল-"আমার কোনো ইন্টারেস্ট নাই। বউ ছাড়া অন্য কোনো মেয়ের অস্তিত্ব নেই আমার কাছে। তুই ই দেখ।"
মাহির কিছু বলবে তার আগের রায়ান হুমকি দিল-
" এখন চুপচাপ খাবার খা আর রেস হাড়ার জন্য প্রস্তুত হো।"
মাহির মুখ ভেংচে কেটে বলল-"হাহ! দেখা যাবে কে হাড়ে।"
রামিলা চৌধুরী রায়ান ও মাহিরকে খেতে বসে বিড় বিড় করতে দেখে জোরে আওয়াজ করে বললেন-
"তোরা কি ফুসুর ফুসুর লাগালি খাওয়ার মাঝে। চুপচাপ খাবার খেয়ে শেষ কর। পরে সব কথা।"
মাহির সাথে সাথে সোজা হয়ে বসে পড়ে খেতে থাকলো তখনি রামিলা চৌধুরী বললেন-
"সবাই নিচে তো রুদ্র কোথায়? খেতে নামে নি কেন ও।"
রায়ান জানে না এমন অঙ্গ ভঙ্গি করলো। রামিলা চৌধুরী রুদ্র কে ডাকতে থাকলেন-"রুদ্র.. এই রুদ্র...। খাবি না? নিচে আয়।"
রুদ্র উপর থেকে মায়ের আওয়াজ পেয়ে চেঁচিয়ে বলল-
"খিদে নেই খাবো না। তোমরা খেয়ে নাও।"
রামিলা চৌধুরী রুদ্রর উত্তরে বিরক্ত হয়ে আওড়ালেন-
"সন্তানরা বড় হয়ে গেলে মায়েদের কি আর বলার কিছু থাকে নাকি। যা ইচ্ছা কর।"
রায়ান মায়ের বিরক্ত হওয়া দেখে বলল-
"আহা আম্মু তুমি খেতে বসো তো। যার খিদে পাবে সে এমনি খেতে চলে আসবে।"
তারপর সবাই নিজেদের মতো খেতে লাগলো। রুদ্রর খিদে পেলেও সে খেতে নামলো না মন ভালো নেই তার। অভ্যাস খুব খারাপ জিনিস আর তা যদি হয় কোনো ব্যক্তি কে ঘিরে সেটা মরণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে।
রুদ্র নিজের ঘরে বিছানায় শুয়ে বারবার ফোন দেখছিল রিমির থেকে কোনো মেসেজ এলো কিনা তা দেখতে। কিন্তু এতোক্ষণেও ওই পাশ থেকে কোনো মেসেজ না আসায় রুদ্র হতাশ হয়ে বালিশে মুখ চাপা দিয়ে বিরক্তির সাথে বারবার বলতে থাকে-
"কেন করছেন আপনি এমন রিমি। হুয়াই ড্যামেট! কি হয়েছে আপনার।"
রুদ্র নিজে একা একা বিলাপ করতে থাকার মাঝেই তার ফোনে একটা মেসেজ আসার শব্দ হয় কিন্তু রুদ্র কোনো উৎসাহ দেখালো না। এর আগেও কয়েকবার শব্দ হওয়ার পর সে যখনি ফোন চেক করেছে তখনি সেটা অফিসের কোনো মেসেজ ছিল। রুদ্র এবার অনিচ্ছুক ভাবে মেসেজ টা দেখতে ফোনটা হাতে নিয়ে খুলতেই দেখলো রিমির নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে। রুদ্র তড়িঘড়ি করে বিছানায় উঠে বসে মেসেজটা পড়লো-
"আমার সাথে দেখা করতে পারবেন রুদ্র? রাত ২টার পরে। প্লিজ কোনো প্রশ্ন করবেন না। আমি আপনার অপেক্ষায় থাকবো ঠিক আমার বাড়ির সামনের মোড়ে। আপনি আসবেন তো?"
রুদ্র মেসেজ পড়তেই আনন্দের উচ্ছাসে হেঁসে উঠলো যেন সে এটাই চাইছিল। রুদ্র মুখে বলতে বলতে রিমিকে কথার জবাব দিল-
"আসবো রিমি। অবশ্যই আসবো। আপনি আমার অপেক্ষা করবে প্লিজ।"
রুদ্র মেসেজ টা সেন্ড করেই চেঁচিয়ে উঠলো-"উউউহুহু...ইয়ে!"
রুদ্রর চেঁচানোর আওয়াজ নিচের ড্রয়িং রুম পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল। রামিলা চৌধুরী নিচ থেকে চেঁচিয়ে প্রশ্ন করলেন-
"কি হয়েছে এভাবে চেঁচাচ্ছিস কেন?"
রুদ্র হাসিমুখে নিজে ঘর থেকে বের হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মায়ের উদ্দেশ্যে বলল-
"আম্মু খিদে পেয়েছে খেতে দাও।"
টেবিলের সবাই রুদ্রর উচ্ছ্বোসিত মুখের দিকে তাকিয়ে রইল অবাক হয়ে। রামিলা চৌধুরী রুদ্র কে বিরক্তি নিয়ে প্রশ্ন করলেন-
"তুই না একটু আগে বললে তোর খিদে নেই। এখন আবার খেতে চাইছিস কেন?"
রুদ্র চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল-"আহা ওটা তো একটু আগের কথা একটু আগে খিদে ছিল না এখন খিদে পেয়েছে, তাই খেতে চাইছি সিমপল।"
সামি কাবাবের সারভিং ডিস থেকে একটা কাবাব নিয়ে খেয়ে বলল-"উফ্! কাবাবটা তো জোশ হয়েছে খেতে। তাই না মাহির ভাই? (মাহিরের কাঁধে হাত রেখে)।"
মাহির হেসে বলল -"হুম, আন্টির রান্না বরাবরই বেস্ট। সব গুলো ডিস সেই মজা হয়েছে।"
রায়ান মাঝে ফোড়ন কেটে বললো-" দেখতে হবে না কার আম্মু।"
রুদ্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলল-"আম্মু তো আমারও আম্মু নাকি। নিজে ক্রেডিট নিচ্ছ কেন?"
রামিলা দুই ছেলে ঝগড়া দেখে হেসে মিরায়ার চোখে চোখ মিলালেন। মিরায়াও হাসতে লাগলো দুই ভাইয়ের ঝগড়া দেখে। মিরায়া কথা থামাতে বলল-
"রান্না যেমনি হক ঠান্ডা হলে ভালো লাগবে না রুদ্র ভাইয়া তাড়াতাড়ি বসে পর তার আগে।"
তারপর রুদ্র মিরায়ার কথায় খেতে বসে গেল। সবার খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে যে যার যার ঘরে চলে গেল বিশ্রাম নিতে।
_____________
সন্ধ্যা ৭টা~
মাহির রায়ান রুদ্র এক সাথেই ছিল রায়ানের ঘরে। রুদ্র রেসের ব্যাপারে কিছু জানতো না তবে মাহির কিছুক্ষণ আগেই রেসের ব্যাপারে রুদ্র কে জানানোর পরে রুদ্র রাগ করে ছিল রায়ান আর মাহিরের উপর। রায়ান বিরক্ত হয়ে মাহির কে বলল-
"তোকে আমি ওকে রেসের ব্যাপারে বলতে না করেছিলাম না? তো জানলো কিভাবে?"
মাহির বোকা বোকা ভাব নিয়ে বলল-
"কথায় কথায় মুখ থেকে বের হয়ে গেছে দোস্ত। ইচ্ছে করে বলি নি। আর ও কি বাচ্চা মানুষ নাকি রাগ করে আছে কেন?"
রায়ান মাহির কে ঝাড়ি দিয়ে বলল-
"তুই গিয়ে জিজ্ঞেস কর ও বাচ্চা নাকি বুড়া। একটা কথা পেটে থাকে না তোর।"
রুদ্র মুখ গম্ভীর করে রায়ানের PS5 এ ভিডিও গেইম খেলছে। সে মূলত রাগ দেখাচ্ছে রায়ান মাহির নিজেরা নিজেরা রেসের প্লেন করেছে বলে। তাকে একবারও জিজ্ঞেস করেনি কেন সে রেস করবে কিনা- এটাই তার অভিযোগ ছিল। মাহির ধীর পায়ে রুদ্রর কাছে গিয়ে বলল-
"আরে ছোট ভাই প্যারা নেও কেন! এইটা তেমন বড়ো রেস না তো তাই তোকে বলি নি। এর পরের বার বড় রেস হলে তোকে বলবো।"
রুদ্র কুটিল হেঁসে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল-
"ডু আই লুক লাইক আ ফুল টু ইউ?"
মাহির চুপ হয়ে গেলেও পিছন থেকে রায়ান রেডি হতে হতে বলল-
"নো, বাট ইউ আর বিহেইবিং লাইক ওয়ান।"
রুদ্র পিছনে রায়ানের দিকে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে নিজের চোখ আবার সোজা করে নিল। রায়ান রুদ্র কে উদ্দেশ্য করে বলল-
"শোন বাইক রেস অনেক স্কেয়ারি। বাড়ির এক ছেলে মরে গেলে সমস্যা নেই কিন্তু দুইজনেই মরে গেলে অনেক সমস্যা। সুতরাং, রিস্ক আজকে আমি নিচ্ছি পরে অন্য সময় তুই নিবি। কথা কি ঠিক না ভেজাল আছে।"
রুদ্র মরার কথা শুনে আরো রেগে গেল। তার খারাপ অনুভব হতে লাগলো এই ভেবে, রেসে যাচ্ছে তার আগে কি এইসব মরা বাঁচার কথা বলা খুব জরুরী? কিন্তু মাহির রায়ানের কথায় তাল দিয়ে বলল-
"ঠিক ঠিক। কোনো ভেজাল নাই।"
রুদ্র মাহিরের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল-
"তুমি তো তোমার বাড়ির একমাত্র ছেলে। তুমি হাসো কেন? তোমার তো আর ভাই বোন নেই।"
মাহির নিজের মতো একটু বোকা হেসে বলল-
"তোর ভাইয়ের মতোন বেপরোয়া না আমি। মরার চান্স আছে বুঝতে পারলে আর আগাবোও না। আমার ভাই বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা।"
রায়ান বাঁকা হেসে বলল-
"জীবন একটাই, পরোয়া করে বাঁচলে আর বেঁচে লাভ কি।"
রুদ্র আর কিছু বলল না তাকে রেসে না নেওয়ার ব্যাপারে শুধু রায়ানকে সাবধান করে বলল-
" যাচ্ছো ভালো কথা, সাবধানে রাইড করো।"
রায়ান মুচকি হাসলো ছোট ভাইয়ের মুখে এমন চিন্তা ভরা কথা শুনে-
"হয়েছে হয়েছে আম্মু এমন কথা বলার জন্য ইনাফ। তুই আর সঙ্গো দিস না।"
মাহির হেসে রুদ্র পিঠ চাপড়ে বলল-
"আরে বেট্টা সাবধান করিস কেন উল্টে বল ভাইয়া কয়েকটা বাইক উড়িয়ে হাত পা ভেঙে বাড়ি ফিরো।"
রুদ্র আবারও বিরক্ত হলো কিন্তু রায়ান আর মাহির কথাগুলো হাওয়ার উড়িয়ে দিলো হেসে। রায়ান আয়নার সামনে নিজেকে একবার দেখে নিল। স্বাভাবিকভাবে সাদা শার্ট পড়ে ড্রেস আপ করেছে কারণ রেসের অর্গানাইজেশন থেকে রেস উপযোগী সুট প্রদান করা হয়।
মাহির রায়ানকে দেখে বলল-
"ওরে রাইডার মহাশয় কে তো হিরো লাগছে।"
রায়ান পয়েন্টের পকেটে হাত রেখে দাঁড়িয়ে হাসলো মাহিরের দিকে-
"আই ওয়াজ অলয়েস লাইক দিস। হেন্ডসাম এ্যান্ড ড্যাসিং ।"
মাহির রায়ানকে তাড়া দিয়ে বলল-
"হয়েছে চল এবার। তোর বউকে দেখাস এই হেন্ডসাম আর ড্যাসিং লুকস। দেরি হয়ে যাবে, আমাকে আবার বাড়ি গিয়ে রেডি হতে হবে।"
রায়ান মাহিরের দিকে বড় চোখ করে তাকিয়ে বলল-
"ওহ তাই তো, ভালো কথা মনে করিয়েছিস।"
মাহির চোখ বাকিয়ে তাকালো-"আমি আবার কি মনে করালাম?"
রায়ান হেঁসে বলল-"যাওয়ার আগে বউটাকে না দেখলে কি চলবে বল? তুই গাড়ি বের কর নিচে গিয়ে আমি মিরার থেকে গুড লাক নিয়ে আসছি।"
রায়ান কথাটা বলেই বের হয়ে মিরায়ার রুমের দিকে চলে গেল। মাহির রুদ্রর দিকে তাকিয়ে বলল-
"ওই তোর ভাই এতো বউ পাগলা কিভাবে হলো?"
রুদ্র গেম খেলতে খেলতে উত্তর দিলো-
"প্রেমে পড়ো, তারপর বিয়ে করো পড়ে বুঝবা। যেহেতু আমার বউ নাই আমি জানি না।"
রুদ্র মনে মনে রিমির কথা ভাবে বলল-"কিন্তু জানি কিছু মানুষ খুব স্পেশাল হয় যাদের না দেখলে নিজের মনটা ভারী ভারী লাগে।"
রুদ্রর কথায় মাহির চুপ করে গিয়ে একবার নিজের মনে সোরায়ার কথা ভেবে বিড়বিড় করলো-
"পাগলামি তো মন করছে আমার সাথে তাও এমন একজনের জন্য যাকে সেই পাগলামি দেখাতেও পারছি না। আদতেও কি পারবো দেখাতে বা বোঝাতে। ও কি কখনো আমার বউ হবে?"
মাহির নিজের মাথা নাড়িয়ে বলল-"উফ্! মাহির সমস্যা কি তোর। কিসের কি? ও তোর বউ কেন হবে। তোর স্টুডেন্ট ও। গেট আ গ্রিপ অন ইউর ফিলিংস।"
রুদ মাহির অজান্তেই আনমনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
____________
মিরায়া রেসের জন্য সে কি পড়বে তাই চিন্তা করে কয়েকটা জামা বের করে ট্রায় করে করে দেখছিল আয়নায়, একটা কালো কুর্তি হাতে নিয়ে মিরায়া বিড়বিড় করলো-
"হুম, এইটা ভালো হবে আজকের জন্য।"
এই বলে কুর্তি টা ট্রায়েল দিতে নিজের পরনের কুর্তি টা খুলতে উদ্যত হতেই মিরায়ার ঘরে দরজায় নোক না করেই রায়ান ঢুকে পরলো-"হৃদপাখি...!"
মিরায়া নিজের জামা খুলতে শরীরের উপরের অর্ধেক অংশ অব্দি তুলে রায়ানের আওয়াজে দরজার দিকে চমকে তাকায়। রায়ান মিরায়ার খোলা পিঠের দিকে একবার তাকিয়ে মিরায়ার চমকে অবাক বনে যাওয়া চেহারাটার দিকে তাকায়।
মিরায়া বরফের মতো জমে গেছে ওইভাবেই। তার মাথা এক মুহূর্তের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। কি হচ্ছে বুঝে উঠার পরই মিরায়া নিজের জামাটা নিচে নামিয়ে চিৎকার করল-"আআআআআআআআ.."
রায়ান ও ভয় আচমকা কি দেখলো বা কি হচ্ছে না বুঝে- "আআআআআআআআ...!" চিৎকার করে দরজার দিকে ঘুরে গেল।
রায়ান মিরায়া হতভম্ব হয়ে গেছে দুইজনেই মনে মনে একসাথে আওড়ালো- "কি ছিল এটা?"
রায়ান কয়েকবার চোখ বন্ধ করলো আর খুললো তার মাথায় ধরছে না সে এক সেকেন্ড আগে নিজের বউকে ওইভাবে দেখলো! রায়ান মাথা ঝাঁকিয়ে দুইবার বাড়ি দিয়ে বিড়বিড় করলো-
"আমি ঠিক কি দেখেছি? মনে আসছে না কেন? উফ্! রায়ান মনে কর মনে কর কি দেখলি। এমন একটা দৃশ্য কিভাবে মনে থাকবে না তোর। বাল।"
রায়ান মিরায়াকে সেইভাবে কল্পনা করার চেষ্টা করতে থাকলো কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ঘটনা প্রবাহ এতো কম সময়ে এতো দ্রুত হটকারীতায় ঘটেছে। মাথার মেমোরি তা ধারণ করতে অক্ষম।
এই দিকে মিরায়া রাগে ফুঁসছে। মিরায়া চেঁচিয়ে উঠে বলল-
"এটা কি করলেন আপনি..?"
রায়ান হঠাৎ নিজের ধ্যানে ফিরে নিজেকে বুঝালো-
"হায় রে বউকে একটু খালি গায়ে দেখেছি তাও হাঁফ আর এখন মনেও করতে পারছি না। এটার জন্যও জবাব দিহি করতে হবে আমার। বালের জীবন।"
রায়ান বুঝতে পারছিল মিরায়া এবার খুব রেগে গেছে এই সময় যদি সে আরো নরম ভাব দেখায় তাহলে আজ ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যাবে। রায়ান নিজের দৃঢ় ভাব ধরে রেখে মিরায়ার দিকে ঘুরে দাঁড়ালো তার দিকে তাকিয়ে। মিরায়া ছোট ছোট চোখ করে বাঘিনীর মতো তাকিয়ে আছে যেন পারলে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবে। রায়ান মনে মনে একটু চমকে গেলেও তা প্রকাশ না করে মিরায়ার দিকে শান্ত ভাবে এগিয়ে গেল। মিরায়া তখনও কিছুই বলছে না রায়ানকে শুধু রায়ানের হাবভাব দেখছে।
রায়ান মিরায়ার সামনে এসে বলল-
"হৃদপাখি আমি আসলে...!"
রায়ান কে বাকিটুকু বলতে না দিয়ে মিরায়া রায়ানকে রেগে বলল-"আপনি আসলে কি? আপনার মতিগতি তো মোটেও সুবিধার না। কি নিয়তে এসেছেন আমার কাছে?"
রায়ান মিরায়ার চোখে চোখ রেখে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বলল-
"নিয়ত খারাপ হতে যাবে কেন? নিয়ত তো ভালোই। তবে মতিগতির ঠিক নেই এইটা সত্য।"
মিরায়া এবার রায়ানের দিকে আঙুল উঁচু করে বলল-
"আপনি কিন্তু নিজের লিমিট ক্রস করে যাচ্ছেন।"
রায়ান মিরায়ার দিকে এক পা এগিয়ে গেল-
"ভুল বললে, আমার কোনো লিমিট নেই তোমার ক্ষেত্রে সুতরাং তা ক্রস করার কথা উঠছে না।"
মিরায়া এক পা পিছিয়ে গিয়ে বলল-
"লিমিট না থাকলে তৈরি করুন।"
রায়ান এবার দুই পা এগিয়ে মিরায়ার কথার মজা উড়িয়ে বলল-
"হাহ! লিমিট তৈরি মাই ফুট। তোমার আমার মধ্য লিমিটেশন এর ল এলেও তা মুছার দায়িত্ব আমি নিচ্ছি বেইবি। তুমি চিল করো।"
মিরায়া আবার দুই পা পিছনে যেতেই বিছানার সাথে বাঁধা খেয়ে ব্যালেন্স রাখতে না পেরে বিছানার উপর পড়ে যেতে নিলে রায়ান তার হাত ধরার চেষ্টা করলে মিরায়া রায়ানের হাতের সাপোর্ট নিতে হাত ধরে টানতেই রায়ান ও ব্যালেন্স হাড়িয়ে বিছানায় মিরায়ার উপর পড়ে যায়। মিরায়া আতকে উঠলো-
"আহহ্!"
রায়ান মিরায়ার উপরে পড়ে সাথে সাথে তার শরীরের ভার মিরায়া উপর পড়তেই মিরায়া রায়ানকে তার উপর থেকে সড়তে বলে-
"আহ্! এতো ভারী কেন আপনি। উফ্! সড়ুন না.. দম আটকে মরে যাবো।"
রায়ান মিরায়ার কথা শুনে মাথায় চিন্তার ভীরে বিড়বিড় করলো-
"শুধু তো উপরে গায়ের ভার লেগেছে কিছু তো করিও নি এখনো। তাতেই এই অবস্থা করলে বাকি অন্য সব কিভাবে হবে!"
মিরায়া রায়ানের বুকে হাল্কা আঘাত করে বলল-
"কি হলো উঠছেন না কেন। আমি উঠতে বললাম তো।"
রায়ান মিরায়ার কথায় পাত্তা দিল না। বরং শুধু নিজের শরীর টা মিরায়ার উপর থেকে নামিয়ে নিয়ে মিরায়া মুখ বরাবর শুয়ে থেকে মিরায়ার মুখে পরে থাকা এলো মেলো চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে বলল-
"রেসের সময় হয়ে যাচ্ছে, এখন যেতে হবে। অনেক কিছু বলার আছে আমার রাতে বাড়িতে ফিরে তোমাকে সব বলবো। আমার জন্য অপেক্ষা করবে। ঠিক আছে?"
মিরায়া রায়ানের মায়া ভরা চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
"যদি অপেক্ষা না করি? আমি যদি চলে যাই তখন?"
রায়ান মিরায়ার নাকে নাক ঘোষে হেঁসে জবাব দিল-
"তুমি যেখানে যাবে, আমি সেখানেই আসবো তোমাকে ফেরাতে হার্ট বার্ড । সেক্ষেত্রে ঠিকানা যদি পাতালপুরীও হয় আমার মনে কোনো দ্বিধা থাকবে না।"
মিরায়া রায়ানের কথায় তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলো-"কেন?"
রায়ান মিরায়ার কপালে ঠোঁট ছুয়িয়ে দিয়ে বলল-
"কারণ, তুমি আমার। আর যা আমার একান্ত নিজের তা ছাড়ার অভ্যাস আমার নেই।"
মিরায়া মুগ্ধ চোখে রায়ানের দিকে তাকিয়ে থাকলো। রায়ান এবার একটু উৎসাহ নিয়ে বলল-
"রেসের জন্য আমাকে গুড লাক উইস করবে না পাখি?"
মিরায়া মনে মনে হেসে বলল-"অপনেন্টকে আবার কে উইস করে।"
মিরায়া তবু রায়ানকে শুনিয়ে বলল-
"হুম, উইসিং ইউ আ ভেরি গুড লাক। এবার যান দেরি হয়ে যাবে নাহলে।"
রায়ান মিরায়ার উইস শুনে ভ্রু কুঁচকে বলল-
"জিতে ফিরবেন, এমনটা কেন বললে না? তুমি কি চাও না আমি জিতি?"
মিরায়া আনমনে বলল- "তা তো অবশ্যই। আমি জিতবো সুতরাং আপনাকে হারতেই হবে এই ক্ষেত্রে জেতার উইস করা তো বোকামি হবে।"
মিরায়া আবারো রায়ানকে শুধু মুখে কথা শুনিয়ে বলল-
"ভালো করে রাইড করলে আপনি ই জিতবেন তাই জেতার উইস করি নি। কেন আপনার নিজের উপর বিশ্বাস নেই?"
রায়ান হেসে মিরায়া উপর থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মিরায়ার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। মিরায়াও রায়ানের হাত ধরে উঠে বসতেই রায়ান নিজের হাঁটুতে ভর দিয়ে বসে মিরায়ার হাত আকড়ে ধরে বলল-
"ওয়েট ফর মি বেইব। আই উইল ব্রিং ইউ দ্যা ট্রফি।"
মিরায়া হেঁসে বলল -"আই উইল ওয়েট।"
মিরায়া নিজের মনে অন্য এক খিচুড়ি পাকিয়ে যাচ্ছে-
"আই ক্যান ব্রিং দ্যা ট্রফি টু মি ডোন্ট ওয়ারি মি.হাবি। বাট ইয়োর ওয়াইফ উইল ওয়েট ফর ইউ পর সাম আদার রিজন।"
রায়ান মিরায়ার কপালে আরো একবার চুমু দিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলল-
"ওহ্! একটা কথা তো বলতে ভুলেই গেছি। তোমাকে কালোতে খুব সুন্দর লাগে বেইবি।"
মিরায়া তার কালো কুর্তির দিকে তাকিয়ে বলল-
"ওটা তো এখনো পড়লামই না। সুন্দর কোথায় দেখলেন আপনি?"
রায়ান কুর্তিটার দিকে না তাকিয়ে ঠোঁট কমরে হেঁসে বলল -
"যা পড়ো নি সেটার কথা বলছি না যেটা পড়েছ সেটার কথাই বলেছি। বাই বেইব। সি ইউ।"
মিরায়া রায়ানের কথার আগা মাথা কিছুই বুঝল না সে নিজের শরীরের তাকালো-"কই কিছুই তো কালো পরি নি। এটা তো সবুজ রংয়ের কুর্তি।"
তখনি মিরায়ার নজর গেল তার কুর্তির গলা হালকা সড়ে যাওয়ার কারণে দৃশ্য মান কালো ইনারের স্ট্রেপের দিকে। সাথে সাথে চোখ বড়বড় করে রায়ানকে বোকলো -
"অসভ্য, ইতর, অশ্লীল লোক। সব দেখেছে তখন। অথচ ভাব দেখালো কিছুই দেখে নি। আআআহাহা.."
মিরায়া কয়েকবার বিছানার উপর হাত আঘাত করলো বিরক্তিতে।
রায়ান বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় তার বাইক নিয়ে মিরায়ার থেকে বিদায় নেওয়ার পর। প্রথমে সোজা মাহিরের বাড়ি আর তার পর মাহির নিজের বাইক নিয়ে নেওয়ার পর সোজা রেসের ময়দানে।
__________
মিরায়া ছাদে থেকে সেই ডিভোর্স এর পেপার টা নিয়ে এলো তার ঘরে। ডিভোর্স পেপার টা সামনে রেখে মিরায়া এক নাগাড়ে তা দেখে যাচ্ছে। তার কোলে জুলিয়েট গুটি শুটি মেরে বসে আছে। মিরায়া জুলিয়েটের গায়ে আদর করতে করতে প্রশ্ন করলো-
"জুলি? এই জুলি? তোর কি মনে হয় পাপা মাম্মা কে কতোটা ভালোবাসে?"
জুলিয়েট চুপ করে আছে কোনো শব্দ নেই তার। মিরায়া নিজেই বললো-
"তুই জানিস না। তাই না? মাম্মাও জানি না। কিন্তু জেনে যাবো।"
মিরায়া হাতে একটা কলম নিয়ে ডিভোর্স পেপারের তার সাইনের জায়গা তে কিছু লিখলো। মুখ উজ্জ্বল ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাঁসি। নিজেকে খুব সন্তুষ্ট মনে হচ্ছে তার এখন। মিরায়া হাতের কলমটা রেখে জুলিয়েট কে হাতে তুলে সামনে এনে বলল-
"এবার দেখার পালা তোর পাপা নিজের কথা রাখবে কিনা। মাম্মা চলে যাচ্ছি সোনা। মাম্মার জন্য পাপা ঠিক কতো টা পাগল নাহলে যে বুঝতে পারবো না। তুই সবাইকে পাহারা দিয়ে রাখিস। পাপা মাম্মাকে নিয়ে এলে মাম্মা দ্রুত চলে আসবো।"
জুলিয়েট মিরায়ার কথা কি বুঝলো সে নিজেই জানে। মিরায়ার শরীরের সাথে চিপকে রইল কিছু সময়। হঠাৎ তখনি মিরায়ার কল বেজে উঠলো সোরায়া কল করেছে। মিরায়া সোরায়াকে রায়ান আর তার ব্যাপারে দেখা হলে বলবে এমনটা ভেবে রেখেছে। তাই খুশি মনে শুধু কলটা ধরে কথা বললো সেসব না বলে।
মিরায়া-"হ্যালো বনু.. কেমন আছিস? বাড়ির সবাই কেমন আছে?"
সোরায়া উৎসাহ নিয়ে বলল-"বাড়ির সবাই আর আমি অনেক ভালো আছি। তোমাকে খুব মিস করি। আজকে বাইক রেস তাই আমাদের বাইক কমিউনিটিতে এসেছি সবাই তোমার রেসের জন্য অনেক বেশি এক্সাইটেড।"
মিরায়া হেঁসে বলল-"আমিও তোকে খুব মিস করছি রে বনু। তবে ভাবিস না খুব শীঘ্রই দেখা হবে আমাদের। সবাইকে চিন্তা করতে না কর আমি জিতে ট্রফি নিয়ে ফিরবো।"
সোরায়া মিরায়াকে গুড লাক উইস করলো-"অল দ্যা বেস্ট আপু। গো এ্যান্ড কিল ইট।"
তখনই সোরায়ার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নিল আসিফ। সেও মিরায়াকে উইস করলো-
"হ্যালো মিরা? ওহ সরি এখন তো মিরা বললে হবে না। আমাদের বাইক রাইডার রায়ার সাথে কথা বলছি এখন। আল দ্যা বেস্ট। নিজের টেকনিক গুলো মাথায় রেখে শান্ত মনে রাইড করবি সাবধানে। ঠিক আছে?"
মিরায়া বুঝতে পারলো গলাটা আসিফের তাই মুচকি হেসে উত্তর করলো-
"জ্বি ভাইয়া সব মাথায় থাকবে চিন্তা করবেন না।"
আসিফ মিরায়াকে তাড়া দিয়ে বলল-
"তুই বের হবি কখন এখন না বের হলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি রওনা দে। বাই। জিতে কল করবি।"
মিরায়া-"ওকে ভাই। বাই। বনুকে বলবেন যেন তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যায় সন্ধ্যা হয়েছে।"
আসিফ-"আচ্ছা ঠিক আছে। সাবধানে যাস।"
মিরায়া কলটা রেখে দিয়ে রেডি হতে শুরু করে। এই দিকে আসিফ তখনি সোরায়া কে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আসিফ সবার সাথে মিরায়ার প্রশংসায় যখন পঞ্চমুখ তখনি একজন আসিফ কে প্রশ্ন করলো-
"ভাই রেসটার অফার আপনাকে করা হয়েছিল তাহলে আপনি এই অপরচুনিটি রায়াকে কেন দিলেন?"
আসিফ মুচকি হেঁসে বলল-
"রেস রায়া করুক বা আমি আমার জন্য ওর জেতার খুশিটা একই। সেই ছোট থেকে ওর বাইকের প্রতি ডেডিকেশন দেখেছি। বাইক চালানো শিখিয়েছি আমি জানি ওর জন্য এই রেসটা কতটা ইম্পরট্যান্ট। এটা ওর প্রাপ্য। তাছাড়া ভালোবাসার মানুষের জন্য এতো টুকু করতে পেরে আমি ধন্য।"
ছেলেটি-"ভাই আপনি রায়াকে ভালোবাসেন? কবে থেকে?"
আসিফ ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল-"ঠিক যাবে থেকে ভালোবাসা কি বুঝেছি। রায়া আমার, একান্ত আমার তাই ওর খুশিও আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।"
ছেলেটা কমিউনিটির বাকি সবাইকে খবরটা জানিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে সবার হাতে তালিতে খুশির রোল ছড়িয়ে পড়ল। আসিফ সবার খুশি দেখে নিজেও আনন্দ নিচ্ছে। আজ প্রথম সে নিজের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করলো সবার কাছে।
আসিফ মনে মনে বলল- "মিরা সবাই আমাদের জন্য কত খুশি। তুই আমার হলে আমি তোকে তোর সব খুশি এনে দেব। এবার তুই চট্টগ্রামে ফিরলেই তোকে সব মনের কথা বলবো। তুই আমার নিজে প্রশিক্ষণে তৈরি রায়া, তোর প্রতি অধিকার ও শুধু আমার।"
_____________
রেসের ময়দান~
রাতের রেসের ময়দান—একটা আলাদা জগৎ যেন।
চারদিক ঘেরা অন্ধকার, কিন্তু ট্র্যাকজুড়ে ছড়ানো হাজারো আলোয় ঝলমলে এক বিদ্যুতায়িত পরিবেশ।
স্পটলাইটের তীব্র সাদা আলো ট্র্যাকের উপর পড়ে চকচক করছে, বাইকের ধাতব গায়ে প্রতিফলিত হয়ে একধরনের আগুনের মতো ঝিলিক দিচ্ছে।
চারপাশে বাতাস ভারী—পেট্রোল, ধোঁয়া আর উত্তেজনার গন্ধে মিশে থাকা গরম নিশ্বাসে।
দর্শক গ্যালারি গর্জে উঠছে—চিৎকার, বাঁশি, ঢাকঢোলের শব্দ মিলেমিশে এক অদ্ভুত তীব্র সুর তৈরি করেছে।
দূর থেকে মাইক্রোফোনে ঘোষকের কণ্ঠ ভেসে আসছে—
চলবে...
পাখিরা পর্ব টা বিশাল বড়ো। একসাথে কপি হয় না। দুই অংশে দিবো। এখন দিয়ে দিলাম এই অংশ তাড়াতাড়ি পরে ফেল আর জানাও কেমন লাগলো। পরের অংশ নিয়ে কেউ কমেন্ট করো না আমি নিজেই দিয়ে দিবো। শুধু এই অংশ নিয়েই কমেন্ট করবে ওকে সোনাপাখিরা? ভালো করে কমেন্ট করবা নাহলে পরের পর্ব দিবো না এই বলে দিলুম। রেসপন্স করো।🫣 Love you pakhis ❤️😘