#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ
#Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_41(1st)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
চেঞ্জিং রুমের উজ্জ্বল আলোয় দাঁড়িয়ে রায়ান আর মাহির নিজেদের রেসিং ড্রেস পরে নিচ্ছে। দু’জনের গায়ে এখন ঝলমলে ফুল বডি রেসিং স্যুট, কালো, লাল আর সিলভার রঙের নিখুঁত মিশ্রণে তৈরি—দেখলেই বোঝা যায় পেশাদার রাইডারদের জন্য বানানো। পোশাকটা সম্পূর্ণ টাইট ফিটিং, যেন শরীরের প্রতিটি পেশিকে শক্ত করে গেঁথে রেখেছে। কাঁধ, কনুই, হাঁটু আর কোমরের অংশে বসানো কার্বন ফাইবার প্রটেকশন প্যাড তাদের সুরক্ষা দেবে রেসের গতির ঝুঁকিতে।
রায়ানের স্যুটের বুকের ওপর উজ্জ্বলভাবে লেখা “Rayan 07”, পাশে তার লোগো—FireLine Racers; আর মাহিরের স্যুটে লেখা “Mahir 19”, কাঁধ জুড়ে রক্তিম স্ট্রাইপ, যেন গতির প্রতীক। দু’জনেরই হাতে কালো লেদার গ্লাভস, আঙুলের ডগায় ধাতব আবরণ, যাতে বাইকের হ্যান্ডলে শক্ত গ্রিপ থাকে। পায়ে পরেছে হাই-অ্যান্কল রেসিং বুট, কালো বেসে লাল স্ট্রিপ টানা—দেখতে যেমন রাফ, তেমনি আরামদায়ক। আর শেষ স্পর্শ হিসেবে হেলমেট—রায়ানের ম্যাট ব্ল্যাক, সামান্য সিলভার শেডে ঝলমলে; মাহিরের মেটালিক রেড, সামনে ভিসরটায় মিরর ফিনিশ, ভেতরের চোখ কেউ দেখতে পায় না।
মাহির রেডি হতে হতে রাগ মেশানো স্বরে রায়ানের উদ্দেশ্যে বলল:
— "তোর জন্যই দেরি হয়ে গেল! বাকি সবাই ট্র্যাকে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর আমরা এখনো তৈরি হচ্ছি! বউয়ের সাথে এত কি কথা বললি তুই?"
রায়ান মাহিরের কথা শুনে বিরক্ত গলায় হেলমেটের বেল্ট বাঁধতে বাঁধতে:
— "বেশি কথা বলিস না, মাহির। খুব আহামরি দেরি হয়নি, এখনো অনেক সময় বাকি। রেস শুরু হবে ৯টায়, এখন বাজে মাত্র সাড়ে আটটা। আধা ঘণ্টা তো হাতে আছে! তুই কি মেকআপ করবি আরো?"
মাহির হেঁসে, কিন্তু মৃদু খোঁচা দিয়ে রায়ানকে বলল:
— "ভাগ্য ভালো যে রাস্তায় জ্যাম পড়ে নাই, না হলে তো ডকুমেন্টস জমা দিতে ঠিক সময় পৌঁছাতে পারতাম না! এত কি কথা বলতে হয় বউয়ের সাথে? শুধু বিদায়ই তো নিতে গিয়েছিলি! তার জন্য পনেরো মিনিট আমি গাড়িতে বসে অপেক্ষা করছি!
রায়ান চুপ করে কয়েক সেকেন্ড, তারপর গভীর নিঃশ্বাস ফেলল। মিরায়ার মুখটা হঠাৎ চোখের সামনে ভেসে ওঠে—ওর অপ্রস্তুত চেহারা, কাঁপা কণ্ঠ, আর সেই বিদায় মুহূর্তটা। এক মুহূর্তের জন্য মনটা কোথাও হারিয়ে যাচ্ছিল তার।
তারপর নিজের মাথা একটু ঝাঁকিয়ে মাহিরের দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙিয়ে গম্ভীর গলায় বলল—
— "বউয়ের কথা তুলে মাথা উল্টাপাল্টা করে দিস না। একটু পরেই রেস শুরু, মনোযোগ হারালে পারফরম্যান্সে এফেক্ট পড়বে।"
মাহির চুপ করে তাকিয়ে থাকলো রায়ানের কথা শুনে, তারপর হালকা হাসে বলল:
— "ঠিক আছে ভাই, এখন ফোকাস করি। আজ ট্র্যাকটা আমাদের ময়দান।"
মাহির নিজের হাতটা মুঠো পাকিয়ে রায়ানের দিকে এগিয়ে দিতেই রায়ান নিজের হাত মুঠো পাকিয়ে মাহিরের হাতের মুঠোতে বাম্প করে নিলো। দূইজনের চোখে মুখে এক অন্যরকম আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ়তার প্রতিফল ঘটছে। অতঃপর পর দুজনেই হেলমেট পরে দরজা খুলে বেরিয়ে গেল।
_________
অন্যদিকে,
লেডিস চেঞ্জিং রুমটা তখন প্রায় নিস্তব্ধ। বাইরে থেকে হালকা ইঞ্জিনের গর্জন, মাইকের শব্দ ভেসে আসছে—কিন্তু ভেতরে এখন শুধু একটাই মানুষ, মিরায়া। সব মেয়েরা রেডি হয়ে ট্র্যাকে চলে গেছে, রুমে এখন শুধু তার নিঃশ্বাসের শব্দ আর ধাতব বেল্ট বাঁধার টুংটাং আওয়াজ। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মিরায়া তাড়াহুড়ো করে নিজের রেসিং ড্রেসে প্রস্তুত হচ্ছে।
তার গায়ে এখন ডার্ক ব্লু আর ব্ল্যাক রঙের ফুল বডি রেসিং স্যুট—চামড়ার মতো চকচকে, কিন্তু ভেতরে নরম ও আরামদায়ক। পোশাকটা পুরো শরীরটাকে শক্তভাবে জড়িয়ে রেখেছে, যেন প্রতিটি নড়াচড়া গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারে। কাঁধ, কনুই, কোমর আর হাঁটুর জায়গায় রয়েছে সিলভার গ্রে প্রটেকশন প্যাড, যেখানে হালকা আলো পড়লেই ঝিলিক দেয়।
স্যুটের বুকের ওপর ছোট করে লেখা—“raya R. 12”, পাশে লগো: SkyRiders। হাতে পরেছে কালো ফিটিং গ্লাভস, পাতলা কিন্তু শক্ত, আঙুলের ডগায় রাবার গ্রিপ টানা যাতে স্টিয়ারিং ছুটে না যায়। পায়ে কালো বুট, গোড়ালি পর্যন্ত টাইট—চুলগুলো পুরোপুরি বেঁধে রেখেছে হিজাবের নিচে। সচরাচর হিজাব না পড়লেও মিরায়া রেসের সময় হিজাবের ব্যবহার করে নিজের পরিচয় গোপনে। মূলত লম্বা চুল হেলমেটের ভেতর ঢোকানোর জন্য।
সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বেল্ট টেনে, বুকে স্যুটের জিপটা ওপরে টেনে নিল, তারপর নিঃশ্বাস ফেলে হেলমেটটা হাতে তুলে নেয়। তার মুখে মৃদু হাসি—উত্তেজনা আর স্নায়ুচাপের মিশ্র ছায়া।
মিরায়া নিচু গলায় নিজের প্রতিচ্ছবিকে বলল,
-“উফ... কত দেরি হয়ে গেল মিরা! আর একটু হলে ঢুকতেই পারতি না... কাগজপত্র জমা দিতে দেরি হলো আবার... আহ্! ভাগ্য ভালো সব মিটে গেছে।"
তার চোখে তখন এক অদ্ভুত ঝিলিক—উত্তেজনা, ভয় আর সাহস একসাথে নাচছে। সে খুব কম সময়ে নিজেকে তৈরি করে ফেলেছে, কিন্তু সেই প্রস্তুতির ভেতরেও তার আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। মিরায়া যেহেতু জানে রায়ান আর মাহির এই রেসে আছে সে চাইছিল না নিজের বাইক রাইডার পরিচিতিটা এই মুহূর্তে সবাইকে জানাতে।
সে বরাবরের মতোই গোপনে রেসে অংশ নিচ্ছে—কেউ জানে না যে সেই “অচেনা রাইডার” আসলে কে। তাই ড্রেসের সঙ্গে সে মুখে তুলে নেয় একটা কালো মাস্ক, যা মুখটা পুরোপুরি ঢেকে দেয়—শুধু দুই চোখ দেখা যাচ্ছে। চোখ দুটোর চহুনি তীক্ষ্ণ, আর দৃঢ়।
এরপর হেলমেটটা মাথায় পড়তেই সেই চোখও আড়ালে চলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ানো মেয়েটি তখন আর মিরায়া নয়—সে এখন বাইক রাইডার রায়াতে পরিণত হয়েছে। নিজেকে এমন বেশে দেখে মিরায়া হালকা আত্মবিশ্বাসী হয়ে হাসলো।
নিজের মধ্যে এক উত্তেজনা- নামহীন থেকেও রাতের রেসটাকে আলোকিত করতে যাচ্ছে নিজের গতিতে।
মিরায়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে উৎসাহ দিল-
"ইউ ক্যান ডু ইট রায়া। উইন দ্যা রেস।"
মিরায়া ড্রেসিং রুম থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ তার নজর গেল তার হাতে রায়ানের দেওয়া ব্রেসলেট টার উপর। মিরায়া ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাঁসি ফুটে উঠল ব্রেসলেট টার দেখার সাথে সাথে। মিরায়া ব্রেসলেটের উপর হালকা হাতে আঙুল বুলিয়ে নিয়ে খুলতে নিলো সেটা। কারণ এটা এখন হাতে থাকলে রায়ানের নজরে এটা ধরা পড়বেই। তবে মিরায়া ব্রেসলেট টা হাত থেকে খুলতে উদ্যত হতেই রায়ানের বলা কথাটা তার মনে পড়ে গেলো-
"ওটা হাত থেকে খুলবে না। আমি ছাড়া ওটা খুলার অধিকার কারো নেই। মাইন্ড ইট।"
মিরায়া ব্রেসলেট টা খুলতে গিয়েও খুলল না। শুধু মুচকি হেঁসে ব্রেসলেট টার দিকে তাকিয়ে বলল-
"চিন্তা নেই খুলবো না তোকে। যে পরিয়েছে তার কারণে, আর তার হাতেই আমার হাত থেকে খোলা হবে তোকে।"
এই বলে ব্রেসলেট টা সে জ্যাকেটের মধ্যে গুঁজে ভিতরে লুকিয়ে রেখে দিল। যেহেতু বডি সুট ভীষণ টাইট তাই ব্রেসলেট টা নিজ জায়গা থেকে নড়বে না আশা করা যায়। এরপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিরায়া কিছু সময়ের মধ্যেই বাকি সব চেক করে নিয়ে মেইন স্টেজের দিকে অগ্রসর হয়।
__________
গ্যালারি~
এদিকে রেস প্রোগ্রাম শুরু হয়ে গেছে। রাতের আকাশটা যেন আগুনের নীচে পুড়ছে—উপরের তারকারাজি, নিচে আলোয় ঝলমল রেস ট্র্যাক। চারদিক থেকে ধোঁয়া উঠছে হালকা নীল লাইটে, ট্র্যাকের প্রান্তে দাঁড়ানো বিশাল স্পটলাইটগুলো একের পর এক জ্বলে উঠছে। দর্শকসারি পূর্ণ, স্ট্যান্ডে কেউ পতাকা নাড়ছে, কেউ মোবাইলের ফ্ল্যাশ অন করে শিস দিচ্ছে—সবার চোখ স্থির বিশাল রেস ময়দানের দিকে।
মঞ্চের পাশে ঘুরে ঘুরে ভেসে আসছে বাইকের ইঞ্জিন গরম করার শব্দ-“ভ্রুমমম... ভ্রুমমমমম…” বাতাসে মিশে আছে পেট্রোল আর অ্যাড্রেনালিনের গন্ধ। প্রতিটি রাইডার নিজের বাইকের সিটে বসে মনোযোগী মুখে সামনে তাকিয়ে আছে,
কারও গায়ে কালো, কারও লাল, কারও সিলভার রেসিং স্যুট—সবাই যেন একে অপরকে হারানোর জন্য জন্ম নিয়েছে।
রায়ান মাহির দুইজনেই তাদের বাইককের উপর আরো কম করে ৪৮ জনের মতো আছে। রায়ান স্থির মুখে বাইকে বসা। না কোনো উত্তেজনা আছে আর না চিন্তার ছাপ। এই দিকে মাহির খুব উত্তেজিত হয়ে চারপাশটা খেয়াল করছে- কার কোন বাইক, বসার স্টাইল ইত্যাদি। মাহিরের নজর একটা বাইকের উপর পরলো বাইকটা দেখার পরই সে রায়ানের দিকে ঝুঁকে বলল-
"দোস্ত ওই বাইকটা মনে হয় ভালো করবে। বেশ লাগছে কিন্তু।"
রায়ান মাহিরের দিকে তাকালো কিন্তু উল্লেখিত বাইকের দিকে নয়। সে মাহিরের কথার মজা উড়িয়ে বলল-
"বাইক রেস করবে, না বাইক রাইডার বল তো?"
মাহির বুঝে গেল রায়ান কি বলতে চাইছে। তাই নিজের বাইকে সোজা হয়ে বসলো। ছেলেদের অপজিটেই ছিল মেয়েদের সারি। এক একজন মেয়ে স্টাইল নিয়ে কেউ নিজেদের বাইকের উপর, কেউ পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ ভিডিও করছে, কেউ ছবি তুলছে। মাহির এইসব দেখে মনে মনে বলল-
"এই মেয়ে গুলো রেস করতে এসেছে না শোঅফ করতে?"
রায়ান মাহিরের কথা শুনতে পেয়ে বাঁকা হেঁসে বলল-
"ওরা যাই করতে আসুক না কেন তুই অন্তত ওরা এখানে কি করতে এসেছে তা নিয়ে গবেষণা করতে আসিস নি। নিজের কথা ভাব মন স্থির কর।"
মাহির আর কি বলবে, রায়ানের সাথে তর্কে হাড়া এখন তার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাহির বিড়বিড় করলো-
"এই শালার মাথায় এমন এ্যাকুরেট উত্তর কিভাবে আসে?আমার তো কথাকাটাকাটির সময় ভালো ভালো পয়েন্ট গুলো মনেই থাকে না।"
হঠাৎ মঞ্চে আলো পড়ল। সেখানেই দাঁড়িয়ে দুই হোস্ট—একজন ছেলে, এক মেয়ে।ছেলেটার নাম আদ্রিয়ান, কালো জ্যাকেট, হাতে মাইক। মেয়েটা লারা, উজ্জ্বল নীল পোশাকে হাসিমুখে দর্শকদের দিকে হাত নাড়ছে।
লারা উচ্ছ্বসিত হেসে-
“ভদ্রমহোদয় ও ভদ্রমহোদয়াগণ! স্বাগতম আপনাদের এই বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্তে— আজকের রাতের তুফান রেস, ‘স্পিড ওয়ার্স নাইট’!”
দর্শক গর্জে উঠল, ভেসে এল করতালির ঢেউ সবাই চেঁচাতে লাগলো -"ইয়য়য়ে...!"
আদ্রিয়ান উত্তেজিত কণ্ঠে-
“আজ এখানে দাঁড়িয়ে আমি শুধু একটা কথাই বলতে পারি—
কেউ আজ মাঠেতে নামবে বিজয়ী হতে, আর কেউ হারবে, কিন্তু গতি ও সাহসের ইতিহাসে নাম লিখে যাবে তা নিশ্চিত!”
লারা চতুর হাসি দিয়ে আদ্রিয়ানের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়লো-
“তবে একটা প্রশ্ন… আজ কারা বাজিমাত করবে?”
“ছেলেরা? নাকি মেয়েরা? উইনার কোন দল থেকে পাবো? কি মনে হয়?”
আদ্রিয়ান উত্তর দেওয়ার আগেই গ্যালারিতে থাকা একদল দর্শক চেঁচিয়ে উঠল—“বয়েজ! বয়েজ!”
অন্যদল সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা স্লোগান—“গার্লস! গার্লস!”
আদ্রিয়ান হালকা হেঁসে লারার কথার জবাবে নিজের কমিউনিটির হয়ে বলল-
“আমি বলছি, আজ ছেলেরা মাঠ কাঁপাবে!”
লারা হাসি চেপে আদ্রিয়ান এর কথার প্রেক্ষিতে বলল-
“দেখা যাক, যখন মেয়েরা বাইকে উঠবে তখন কে কার গতি দেখে ঘাম ঝরায়!”
গ্যালারিতে এবারো শোরগোল পড়ে গেল চিৎকার চেঁচামেচিতে। মঞ্চের আলো একবার নিভে গেল- বাতাস কেঁপে উঠল, দর্শক গর্জে উঠল উল্লাসে। রেস ট্র্যাকের চারপাশে নীল ও কমলা লাইট ঝলমল করছে,বড় স্ক্রিনে ভেসে উঠছে অক্ষরে অক্ষরে—
“Storm Riders — The Battle of Speed Begins!”
লারা আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল- "কি বলো আদ্রিয়ান? তাহলে শুরু করা যাক?"
আদ্রিয়ান উত্তর দিতে মাইক মুখের কাছে নিয়ে বলল-
"ডেফিনেটলি। লেট'স স্টার্ট।"
তাদের হাসি, কণ্ঠ, আর হাতে মাইক যেন পুরো স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে তুলছে।
লারা উত্তেজিত ভঙ্গিতে-
“আজকের এই রাতে নামবে মোট ৫০ জন রাইডার, যারা দেশের বাইক দুনিয়াকে করেছে গর্বিত, আর আজ রাতে তারা মুখোমুখি হবে ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে!”
আদ্রিয়ান: “তাহলে প্রস্তুত হোন, কারণ এরা গতি নয় বজ্রকেও ছাপিয়ে যাবে।"
লারা:
“প্রথমেই আসছে সেই রাইডার, যার বাইকের সাথে বন্ধুত্ব ১০ বছর পুরনো—দেশের ‘রোড কিং’ নামে পরিচিত,
তার বিশেষ টেকনিক—‘ডাবল লিন স্পিন!’
সবাই স্বাগত জানান রাইডার—রোহান আহমেদ!”
রোহান বাইক নিয়ে ট্র্যাকে ঢুকল। চাকার নিচে ধোঁয়া উড়ে উঠল, সে হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে হালকা ড্রিফট দিল,দর্শক চেঁচিয়ে উঠল, পতাকা নাড়াচ্ছে স্ট্যান্ডে।
লারা-"উউউ.. ওকে। নেক্সট স্টাফ। আদ্রিয়ান ইউ কল।"
আদ্রিয়ান:
“পরের রাইডার, যার প্রতিটি টার্নে বাজ পড়ার মতো স্পার্ক উঠে—তার গতি ৩০০ কিমি ছুঁয়ে যায় সহজেই!
বিশেষ ট্রিক—‘এয়ার-কার্ভ ড্রিফট!’
অডিয়েন্স গর্জে উঠুন—আদনান হোসেন!”
আদনান এক পায়ে বাইক ঘুরিয়ে বাতাসে হাত তুলে দর্শকদের দিকে থাম্বস আপ দিল। ভক্তরা তার নাম ধরে চিৎকার করছে, কেউ পোস্টার নাড়ছে—" Go Adnan Go!”
লারা:
“তৃতীয় রাইডার—অন্ধকারে যার চোখই তার দিশা!
প্রতিপক্ষ তার সামনে গেলে ছায়ার মতো হারিয়ে যায়!
বিশেষ স্টাইল—‘ঘোস্ট টার্ন মুভ!’
চিয়ার আপ ফর—তানভীর ইসলাম!”
তানভীর ট্র্যাকে ঢুকতেই কালো বাইকের নিচে নীল আলো জ্বলে উঠল, দর্শকসারিতে ছোট ছেলেরা মুখ হাঁ করে তাকিয়ে আছে। কারো হাত এখন থামেনি তালি বাজাচ্ছে সবাই।
আদ্রিয়ান হাসতে হাসতে-
“এই নামটা শুনলেই অন্যরা গতি বাড়ায়—
কারণ সে নাম মানেই বিপদ! বাইকে আগুন জ্বালানো, টায়ারে স্পার্ক ছড়ানো—সবই ওর স্বাভাবিক স্টাইল!
মেইন মুভ—‘হুইলবার্ন ব্লাস্ট!’
এখানে আসছে, দ্য ফ্লেম স্ট্রাইক, গিভ ইট আপ ফর—মাহির খান!”
মাহির রায়ানের দিকে এক নজর তাকিয়ে মুচকি হেঁসে হেলমেটের গ্লাসটা নামিয়ে বাইকে উঠে দুইবার এক্সিলারেট দিল, বাইক থেকে লাল আগুনের রেখা বের হলো,
আর সে হেলমেট খুলে হালকা হাসি দিল দর্শকদের দিকে—
তালির শব্দে গভিবাতাস কেঁপে উঠল। মাহির রায়ানের দিকে তাকালো যেন বলতে চাইছে-"এবার তোর পালা।"
মিরায়া একপ্রকার দৌড়ে পৌঁছালো নিজের বাইকের কাছে। বাকি মেয়েরা মিরায়ার এমন মুখ ঢাকা গেট আপ দেখে চোখ ছোট করে তাকিয়ে দেখলো। তারা নিজেরাই সমালোচনা করছে-
"দেখ দেখ কিভাবে মুখ ঢেকেছে।"
-"সিরিয়াসলি খেত মনে হয়। এভাবে কে রাইড করে ভাই।"
মিরায়া তাদের কথার পাত্তা দিল না এইগুলো সে আগেও শুনেছে অনেক কিন্তু দিন শেষে তার জিৎ তার সাক্ষ্য ছিল।মিরায়ার মনে তখন এক ভাবনা ঘুরছে-
-"শুরু হয়ে গেছে। উফ্! আমার হাবির এন্ট্রি কি মিস করে ফেললাম নাকি? না না খোদা প্লিজ উনার টার্ন যেন এর পরই আসে। আমি উনাকে দেখতে চাই। এতো ভীরে তো চেনাও যাচ্ছে না।"
(স্টেডিয়ামের আলো এক মুহূর্তের জন্য নিভে গেল)
দর্শক হঠাৎ চুপ—তারপরই দূর থেকে একটানা শব্দ—
“ভ্র্র্রুমমমমমমমমম!!!”
দেখা গেল ধোঁয়ায় ভরা করিডর থেকে এক বাইক বেরিয়ে আসছে, ধীরে ধীরে ট্র্যাকে প্রবেশ করছে—চাকার নিচে ঝলমলে নীল আগুনের রেখা।
লারা রোমাঞ্চিত গলায়-
“লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন…আজকের স্পেশাল রাইডার—তিনি বাংলাদেশের নন! তিনি এসেছেন আমেরিকার রাইডিং কমিউনিটি থেকে, দেশের বাইক কমিউনিটির ওয়ান অফ দ্য বেস্ট প্রো রাইডার! আন্তর্জাতিক টাইটেল ‘রোড ফ্লেম ২০২৪’ জয় করেছেন, আরো একাধিক আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী—আজকের মাঠে যার উপস্থিতি মানেই অন্যদের জন্য চ্যালেঞ্জ!”
তার স্পেশাল ট্রিক—‘ঘোস্ট স্পিন টার্বো!’
স্ক্রিম ফর দ্যা ওয়ান এ্যান্ড অনলি—রায়ান চৌধুরী!!!”
স্টেডিয়াম নিস্তব্ধ হয়ে গেল। সবাই তাকিয়ে আছে একদিকে।
হঠাৎ অন্ধকার। তারপর—একটা কালো-রুপালি বাইক বজ্রের মতো ছুটে এলো ট্র্যাকের শেষ প্রান্ত থেকে! চাকার নিচে ঘর্ষণে আগুনের স্ফুলিঙ্গ উড়ল। ধোঁয়া আর বাতাসে তার চারপাশ ঝাপসা হয়ে গেল।
রায়ান বাইকটাকে হঠাৎ একদম উল্টো দিকে ঘুরিয়ে একই জায়গায় তিনবার ঘূর্ণন করল—চাকা মাটি ছুঁয়ে স্ফুলিঙ্গ ছড়াচ্ছে, ধোঁয়ায় তার চারপাশটা ঢেকে গেল, দর্শকরা চিৎকারে ফেটে পড়ল— “ওওওওওওফফফফফ!!! কী স্পিন রে ভাই!!!”
ধোঁয়া পরিষ্কার হতেই দেখা গেল—
রায়ান বাইকের সিটে হেলান দিয়ে একহাতে হেলমেট খুলছে,
আরেক হাতে বাইকের হ্যান্ডেলে হালকা ট্যাপ দিচ্ছে, যেন এক ধরনের শাবাশী তার বাইকের জন্য। তার চোখে দৃঢ়তার, নিচে হালকা হাসি— একটা আত্মবিশ্বাসী মুখ।
রায়ান বাইকটা সামান্য সামনে নিয়ে গিয়ে উইলি করল,
চাকা বাতাসে উঠে গেল, তারপর সোজা নেমে এসে বাইকটা থামাল নিখুঁত ভারসাম্যে, যেন পুরো ট্র্যাক তার নিয়ন্ত্রণে।
দর্শকসারি থেকে কেউ চেঁচিয়ে উঠল- “রায়ান..! ইউ আর সো হেন্ডসাম!”
রায়ান ঠোঁট কামড়ে মুচকি হাসলো। ঠিক তার পর ই স্টেডিয়ামের সবার উদ্দেশ্যে নিজের বা হাতের রিং ফিঙ্গার টা দেখিয়ে সেটাতে তার বাইকের মিরায়ার কানের ঝুমকো ওয়ালা চাবি পড়ে বোঝাতে চাইলো সে কমিটেড। গ্যালারিতে সবাই আরো জোরে চেঁচিয়ে উঠলো-"নো নো প্লিজ। ডোন্ট সে দ্যাট।"
রায়ান মাথা হ্যাঁ সূচক নাড়ালো। এই দিকে মিরায়া সম্পূর্ণ দৃশ্যটা দেখে মনে মনে নাচতে শুরু করে দিয়েছে-
"আহ্! হুয়াট আর মোমেন্ট। যাহ্! এমন কেউ করে লজ্জা লাগছে আমার।"
মিরায়ার শরীর আপনা আপনি বেঁকে আসছে যেন। মিরায়া নিজেকে বুঝে উঠে সাবধান করলো-"মিরা চলে যা, চলে যা। রায়া তোর এতো নেকামি করা মানায় না। বি টাফ, বি হার্ড।"
রায়ানের বাইকের চারপাশে এখন ধোঁয়ার কুণ্ডলী ঘুরছে,
লাইটগুলো তার শরীরের উপর রূপালি প্রতিফলন ফেলছে,
আর পুরো রেস ট্র্যাক জুড়ে বাজছে একটাই আওয়াজ—
“রায়ান! রায়ান!”
মেয়েরা চেঁচিয়ে উঠছে, আর ছেলেরা দাঁত চেপে তাকিয়ে আছে, রায়ান ধীরে ধীরে হেলমেট আবার মাথায় পরল,
ইঞ্জিনে গতি তুলল, চোখে জ্বলল সেই আগুন— যে আগুনে শুরু হবে আজকের রেসের ইতিহাস।
মিরায়া উৎসুক নজরে ট্রেকে তাকালো-"উফ্! কি টাইমিং আমার।" মিরায়া তালি দিতে গিয়েও দিল না নিজের ইগো বজায় রাখতে তবে মনে মনে সে ভীষণ খুশি।
লারা মজার সুরে হেসে বলল—“দেখে মনে হচ্ছে শুধু রেস নয়, কিছু হৃদয়ও জিতবে আজ এই রাইডার!”
আদ্রিয়ান হেসে উত্তর দিল— “তবু ভুলে যেও না, এই মাঠে ভালোবাসা নয়, গতিই জেতে!”
মিরায়া হেলমেটের গ্লাসটা তুলে নিয়ে রায়ানকে দেখছিল। নিজের মনে রায়ানকে ওইভাবে দেখে খুব শান্তি পাচ্ছে। পাশের দুইটা মেয়ে কিছু বলাবলি করছিল যা মিরায়ার কানে আসতেই চোখ হিংসামীতে ফেটে পড়ল-
"ওয়াও, হাউ হেন্ডসাম হি লুকস! হায়, মে তো মার গেয়ি।"
অন্য আরেকটা মেয়েও সাথে তাল দিল-"ইয়াহ আই নো। হি ইজ সো ফাঁ*কিং হেন্ডসাম।"
মিরায়া তুচ্ছার্থে হেঁসে রেগে বিড়বিড় করল-
"শালির চেংরি গুলা আমার হাবির দিকে নজর দিতেছে কেন? মনটা চাইতেছে হেলমেট টা খুলে মাথায় বাড়ি দেই শাকচুন্নী গুলার। ফকিন্নির দল কোনো দিন বেডা মানুষ দেখে নাই লাগে।"
-"আহা! রায়া মিরাকে কন্ট্রোল করে নে। কুল ডাউন রায়ানের হৃদপাখি। রায়াকে রেসটা জিততে দে সুন্দর মতো। পড়ে সব দেখে নেব।"
মিরায়া নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে সামলালো।
আবার সবার নজর ট্রেকে। মঞ্চের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল। এক এক করে ৪৯ জনের আগমন হতেই দূর থেকে এক গম্ভীর ইঞ্জিনের আওয়াজ— “ভ্র্র্র্র্রুমমমম!” কালো বাইকে আসছে এক বিশাল দেহী রাইডার, কাঁধে কাটা লেদার জ্যাকেট।
আদ্রিয়ান গভীর কণ্ঠে-
“আর শেষে... আজকের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতিদ্বন্দ্বী,
যার নাম শুনে অন্য রাইডাররা এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়—
দ্য ক্র্যাশ কিং—জ্যাক ওয়াহিদ!”
জ্যাক ট্র্যাকে ঢুকে হঠাৎ বাইকটা ঘুরিয়ে ব্রেক করল ট্র্যাকের ধুলো উড়ে মঞ্চ পর্যন্ত ছড়িয়ে গেল। সবাই একসাথে চিয়ার করলো-"জ্যাক, জ্যাক, জ্যাক!"
জ্যাক ঠিক রায়ানের পাশেই বাইক দাঁড়া করালো। রায়ানের চোখ তার দিকে ঘুরল—দুজনের মাঝে নীরবতা, শুধু ইঞ্জিনের গর্জন বাজছে। দর্শক নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে—
আজকের রাতের আসল দ্বন্দ্ব যেন শুরু হয়ে গেল আগেই।
হঠাৎ আকাশ জুড়ে ভেসে উঠল গোলাপি ও বেগুনি লাইটের ঢেউ। বড় স্ক্রিনে আগুনের অক্ষরে লেখা উঠল—
“Queens of Speed — The Real Thunder Begins!”
লারা উত্তেজিত ভঙ্গিতে-
“ছেলেরা ট্র্যাক কাঁপিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখন আসছে সেই দল—যারা শুধু গতি নয়, স্টাইল, স্মার্টনেস আর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের জন্য বিখ্যাত!”
আদ্রিয়ান হাসি দিয়ে-
“এবার মাঠ মাতাবে ৫০ জন লেডি রাইডার, যাদের জন্য এই ট্র্যাক তৈরি আজ আগুন ছড়াতে! ওয়েল কাম দ্যা কুইন্স।"
লারা-" তাহলে আর অপেক্ষা কিসের! চলো শুরু করা যাক।"
"প্রথমেই আসছে সেই মেয়ে, যার নামেই আছে আগুন!
‘ফায়ারব্লেড গার্ল’ নামে পরিচিত,
তার স্পেশাল ট্রিক—‘ব্লেজ-লুপ স্টান্ট!’
যে গতিতে সে বাইক ঘোরায়, তাতে ট্র্যাক কেঁপে ওঠে!
গিভ আ বিগ হেন্ড ফর- "অনামিকা দত্ত”
অনামিকা বাইক নিয়ে ঢুকলো, সামনে এসে হালকা ড্রিফট করল, বাইক থেকে হালকা আগুনের রেখা বেরোল।
দর্শকরা হাততালি দিয়ে উঠল—“ওয়াও!”
আদ্রিয়ান:
“এই রাইডারের কৌশল রাতের চাঁদের মতো শান্ত, কিন্তু নিখুঁত! তার ট্রিক—‘মুনস্পিন ফ্লিপ’,
যেখানে সে বাইক একবার ঘুরিয়ে বাতাসে সামান্য উঠিয়ে ভারসাম্য ধরে রাখে!
প্লিজ ওয়েল কাম- "মেহের আফরিন”
মেহের ট্র্যাকে ঢুকে হালকা ঘূর্ণন দিয়ে এক চোখ টিপে দর্শকদের দিকে হাত নাড়ল, তার হেলমেটের ভেতর থেকে চুলের এক ফোঁটা বাতাসে নাচল— ছেলেরা হালকা সিটি বাজাতে শুরু করল!
লারা:
“পরের রাইডার—একদম বিপরীত জুটি! সে রোজের মতো সুন্দর, কিন্তু ট্র্যাকে নামলেই বজ্রপাতের মতো ভয়ংকর!
তার কৌশল—‘ইলেকট্রিক ড্রিফট কাট!
চিয়ার ফর-"জান্নাতুল ফেরদৌস”
জান্নাত বাইক চালিয়ে একদম বাঁদিকের কর্নারে ঘুরে স্পার্ক ছড়ালো— আলো যেন চোখ ধাঁধিয়ে দিল, আর দর্শকরা দাঁড়িয়ে গেল উল্লাসে।
আদ্রিয়ান রোমাঞ্চিত গলায়-
“এই রাইডারকে সবাই বলে ছায়া! কারণ তার বাইক দেখা যায়, কিন্তু তাকে নয়!
স্পেশাল ট্রিক—‘শ্যাডো স্লাইড!’
যেখানে সে এক সেকেন্ডে ট্র্যাকের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যায়!
ওয়েলকাম-"নূর হানিফা।”
আলো হঠাৎ নিভে যায়, আর পরের মুহূর্তেই নূর বাইক নিয়ে ঠিক স্টার্টিং লাইনে এসে দাঁড়ায়— দর্শক চমকে ওঠে, “ওফফফ!”
দৃশ্য ধীরে ধীরে গাঢ় হয়, লাইট এক পয়েন্টে থেমে যায়)ষ
লারা গভীর স্বরে বলতে শুরু করল-
“এবং এখন আসছে সেই নাম, যার জন্য চট্টগ্রামের রেস কমিউনিটি আজ গর্বে ভরে আছে! যিনি গতবছর ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল স্ট্রিট রেসিং চ্যাম্পিয়ন’ হয়েছিলেন, যার বাইক কন্ট্রোল এত নিখুঁত যে অনেকে তাকে বলে—‘দ্য রাইডিং ম্যাজিশিয়ান!’
তার ট্রিক—‘সোলার স্টর্ম স্পিন!’
সবাই প্রস্তুত তো?!আসছে—রায়া রহমান! চিয়ার হার্ড পর হার!”
মিরায়া নিজের নাম শুনার সাথে সাথে উৎসাহ নিয়ে বাঁকা হেঁসে হেলমেটটার গ্লাস নামিয়ে বাইকে উঠলো। পাশের বড় স্পিকার থেকে ইঞ্জিনের ভয়ংকর গর্জন শোনা যায়—"ভ্র্র্র্র্রুমমমমমমমমমমম!!!"
রায়ান অতিরিক্ত আওয়াজে নাম খানিকটা ভুল শুনে চোখ বড় বড় করে আওড়াল-"কিহ্ নাম? মিরায়া?"
মাহির হেঁসে রায়ানের মজা উড়িয়ে বলল-"এত বউ পাগলা হোস না ভাই। এখন রাইডারের নামেও বউয়ের নাম শুনলি? রায়া বলেছে, মিরায়া না।"
রায়ান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল-"ওহ্ আচ্ছা।"
মাহির রায়ানকে আরো একটু জ্বালাতে বলল-
"নামের মিল দেখেছিস? রায়ান, রায়া!"
রায়ান কুটিল হেঁসে মাহিরের দিকে তাকিয়ে বলল-
"হিহিহি! ভেরি বেড অবজারভেশন।"
মাহির নিজের হাসি থামিয়ে দিল সাথে সাথে। রায়ান মাহির হঠাৎ শব্দে সোজা তাকায়।
দূর থেকে উড়ে আসছে এক কালো বাইক,
ট্র্যাকে ঢোকার মুহূর্তেই রায়া এক জায়গায় তিনবার স্পিন করল, চাকা থেকে ধোঁয়া আর ধুলো উড়ে গেল চারদিকে।
স্ট্যান্ডের মেয়েরা হাঁ করে তাকিয়ে আছে, আর ছেলেরা… চুপ শুরু রিয়েকশন স্বরূপ মুখ থেকে আবেগপ্রবণ আওয়াজ বের হচ্ছে -"উউউ.. ওয়াওওও...!"
সব রাইডার এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। তারপর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তেই দেখা গেল—রায়া ধীরে হেলমেট খুলছে।
হিজাব ও মাস্ক পড়ে থাকার কারণে চোখে ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না, চোখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি—
গ্যালারিতে সবাই ফিসফিস করছে-"ও মাস্ক পড়ে আছে কেন? চেহারা তো দেখতে পারছি না।"
কেউ একজন বলে উঠলো-"গেট রিড অফ ইউর মাস্ক।"
মিরায়া শুনলো তবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। স্বাভাবিক ভাবেই সবাই কৌতুহল দেখায় তার চেহারা দেখার কিছু সে কখনো নিজের ফেস রিভিল করে নি।
অন্য মেয়েরা যেন একটু পিছিয়ে গেল…কেউ চুপ করে বলল,
“দিস গার্ল ক্যান বি আ থ্রেট।”
রায়ান মাহির সহ বাকি সব ছেলে রাইডার মিরায়ার উপস্থিতিতে থমকে গেল। রায়ান মিরায়ার বাইক স্পিনিং দেখে একটু মুচকি হেঁসে মাহির কে বলল-"মাহির বেট ধরবি?"
মাহির মিরায়ার থেকে চোখ সড়িয়ে অবাক হয়ে রায়ানের দিকে তাকিয়ে বলল-
"কিহ্? কিসের বেট?"
রায়ান মাহিরের দিকে তাকিয়ে বলল- "মেয়েদের দল থেকে এই মেয়েটা জিতবে আমি বলছি। ডু ইউ ওয়ানা বেট অন দিস?"
মাহির মিরায়ার দিকে তাকিয়ে আবার রায়ান কে বলল-
"তুই এতো সিয়র কিভাবে রায়া জিতবে?"
রায়ান স্বাভাবিক ভাব নিয়ে বলল-"গাট ফিলিং। তুই বল বেট করবি কি না।"
মাহির অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল-"রায়ান চৌধুরী জাস্ট গাট ফিলিং এর জন্য বেট ধরছে। বাহ্! ঠিক আছে ধরলাম। কি নিয়ে বেট?"
রায়ান হেঁসে বলল-"কিছু না শুধু তোর ভাবি মা কে সব সত্যিটা বলার পর কিভাবে মানাবো সেটার প্লেন দিবি। তোর কি চাই?"
মাহির হালকা হেঁসে বলল-"তুই তাহলে আমাকে আমার স্টুডেন্ট ক্রাশ কে ম্যানেজ করার প্লেন দিবি। ডিল ডান?"
রায়ানও হেঁসে বলল-"ওকে ডান। যদিও স্যার মামলা অনেক অসামাজিক মনে হচ্ছে তবে সমস্যা নেই আমি জানি আমি হারবো না। সো ইট'স আ ইয়েস।"
মাহির মুখ বাঁকা করে ফেলল-"চুপ করে যা তো। অসামাজিকই সই। আমার ওই নিষিদ্ধ পূর্ণতাই লাগবে। নিজে ৭ বছরের মেয়েকে বিয়ে করে ফেলেছিল তার কিছু না খালি আমার টাই অসামাজিক লাগে তার। দূরে গিয়া মর তুই। আমি দেখবো ওই মেয়ে জেতে কি না।"
রায়ান হেঁসে আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলল- "দ্যাট গার্ল ইজ গোয়িং টু উইন। জাস্ট ওয়াচ হার।"
মাহির আর কিছু বলল না। শুধু রায়ানের কথায় সায় দিল।
এরপর একে একে বাকি সবার নাম এ্যানাউন্স করা হলো।
সব পরিচিতি পর্ব শেষে ছেলেরা এক দিকে আর বিপরীতে স্ট্যান্ডের দিকে মেয়েরা। এই বিশৃঙ্খলার মাঝেই, এক মুহূর্তে —একটা হালকা নীরবতা তৈরি হলো। ঠিক সেই সময়,রেসের স্টার্টিং লাইন পেরিয়ে, দুই দিক থেকে দুটি চোখ একে অপরের সাথে ধাক্কা খেল।
একজোড়া চোখ—হেলমেটের কাঁচের ভেতর থেকে জ্বলজ্বলে, দৃঢ়, কিন্তু শান্ত আগুনের মতো।
আর অন্যজোড়া—ঠান্ডা, গভীর, কিন্তু তীক্ষ্ণ…।
মিরায়া ঠিক রায়ানের সোজাসুজি অবস্থানে। রায়ান একবারের জন্য তাকালো মিরায়ার দিকে—মিরায়াও খেয়াল করলো রায়ান তার দিকে তাকিয়ে আছে। মিরায়া ভাবনার মধ্যে পড়ে গেল-
-"উনি এভাবে কেন তাকিয়ে আছেন আমার দিকে? আমাকে কি চেনা যাচ্ছে?"
রায়ান চৌধুরী চুপচাপ দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে মিরায়ার দিকে-
"মেয়েটাকে কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে। কোথায় দেখেছি? (মিরায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে) ঐ চোখগুলো... কোথায় যেন দেখেছি। লাইটের জন্য স্পষ্ট দেখতেও পারছি না। ধুর।"
মিরায়া নিজের চোখ ছোট ছোট করে নিল- "তার চোখে কৌতূহল, মৃদু প্রশংসা, আর একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুন জলজল করছে এবার। মিরায়া নিজের হেলমেটের গ্লাস ঠাস করে নামিয়ে দিতেই রায়ানের ধ্যান ভাঙলো। সেও নিজের চোখ সড়িয়ে নিল।
সেই মুহূর্তে চারপাশের আওয়াজ ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে গেল।
রায়ান এক সেকেন্ডের জন্য নিজের ভেতরে কিছু টান অনুভব করল, কিন্তু মাথা সামান্য ঝাঁকিয়ে নিজের মনোযোগ ফিরিয়ে আনল বাইকের দিকে। অন্যদিকে মিরায়া, হেলমেটের ভেতরে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে নিল—
একটা এমন হাসি, যা কেউ দেখে না, কিন্তু সে নিজেই জানে—"আজকের দিনটা তার।"
চলবে..
পাখিরা পর্ব টা বিশাল বড়। নেক্সট পর্ব দেওয়া হয়েছে এটা পড়ার পর ওটা পড়তে যাবে। আর হ্যাঁ দুই পর্বের 1k react পর্ণ করতে হবে। অনেক মাথা ব্যাথা নিয়ে লিখেছি এইটুকু আবদার তো রাখতেই পারি তোমাদের কাছে বলো!🥰 এমন না জোর করছি আমি শুধু আবদার করলাম 30k viewers এর থেকে 1k reach আবদার করা অযৌক্তিক মনে হচ্ছে না তাই আর কি। Love you pakhis ❤️🥰
#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ
#Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_41(2nd)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
লারা উত্তেজিত হাসিতে সবার উদ্দেশ্যে মাইকে বলতে শুরু করলো- “এবং এখন সময় এসেছে সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার—আজকের রাতের রেসের ধারাবাহিকতা!”
আদ্রিয়ান মজার গলায়- “ঠিক তাই! আজকের প্রতিযোগিতা একেবারে টানটান উত্তেজনায় সাজানো। প্রথমে মাঠে নামবে আমাদের দুর্দান্ত বয়েজ টিমের প্রতিদ্বন্দ্বীরা— ৫০ জন রাইডার, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে শুধু একজন!”
লারা আদ্রিয়ানের কথা সম্পূর্ণ করে বলল- “আর তাঁদের মধ্য সেই একজনকে বেছে নেওয়া হবে বয়েজ টিমের আজকের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে! তারপরই মাঠ কাপাতে আসবে গার্লস টিমের প্রতিদ্বন্দ্বীরা—যেখানে দেখা যাবে কেমন হয় স্পিড, স্টাইল আর সাহসের আসল রাজত্ব!”
এবার আদ্রিয়ান চোখ টিপে হেসে লারার কথা সম্পূর্ণ করে বলল- “বাই দ্যা ওয়ে, সেখানেও কিন্তু একজনই টিকে থাকবে—গার্লসদের মধ্যে একমাত্র কুইন অব ট্র্যাক কে বেছে নেওয়া হবে গার্লস টিমের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে!”
লারা মঞ্চে হাঁটতে হাঁটতে-“তবে এখানেই শেষ নয় ভিউয়ার্স!
কারণ সেই দুই চ্যাম্পিয়ন—একজন ছেলে, আর একজন মেয়ে—তারা আবার মুখোমুখি হবে এক আল্টিমেট রেসে!”
আদ্রিয়ান হাসতে হাসতে বলল-“ঠিক তাই! আজকের রাতের শেষ ধাপ—‘দ্য ব্যাটল অব রাইডার কিং অ্যান্ড কুইন!’যেখানে গতি আর বুদ্ধি, দুটোই হবে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী!”
লারা মাইক্রোফোন তুলে ধরে-“আর শেষে যে জিতবে—সে-ই হবে আজকের রাতের আল্টিমেট উইনার! যার নাম লেখা হবে এই বছরের রেসের ইতিহাসে—‘দ্যা আল্টিমেট রাইডার কিং অর কুইন অব দ্য ইয়ার!’”
দর্শকসারি তখন কাঁপছে উল্লাসে। ব্যানার উড়ছে, কেউ হাততালি দিচ্ছে, কেউ কেউ চিৎকার করছে — রেসারদের মনের মাঝেও ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। মিরায়া রায়ানের দিকে শক্ত নজরে তাকালো হেলমেটের আড়াল থেকে আর মনে মনে বলল -"মি. হাবি, বি রেডি টু লুজ দিস টাইম। আমি স্পেয়ার করবো না।"
____________
রাত-৯টা~
রাতের ঘন অন্ধকারে নীলাভ আলোর ঝলকানি আর গর্জে ওঠা ইঞ্জিনের শব্দে রেস ট্র্যাকটা কাঁপছিল যেন। কয়েক মিনিট আগেও যেখানে ভিড় জমেছিল হাজারো দর্শকের, এখন সেখানে এক টুকরো নিস্তব্ধ উত্তেজনা। পুরো মাঠ ফাঁকা, শুধু স্টার্টিং পয়েন্টে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে ৫০ জন বয়েজ রাইডার — প্রত্যেকের হেলমেটের ভেতরে জ্বলজ্বল করছে জয়ের আগুন। আর গার্লসরা কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে এক দূরদর্শী রেস দেখার অপেক্ষায়।
রেস ট্র্যাকের লাইটগুলো হঠাৎ একে একে জ্বলে উঠলো— চোখ ধাঁধানো আলোর সাথে ঝলসে উঠলো বাইকের চকচকে বডি, হেলমেটের প্রতিফলন, আর সবার চোখে সেই একটিমাত্র লক্ষ্য।
রায়ান আছে একদম মাঝ বরাবর। কালো জ্যাকেটের কলার একটু উঁচু করা, হেলমেটের ভিসর নামানো, বাইকের থ্রোটল টেনে টেনে সে যেন নিজের সীমানা ছুঁয়ে ফেলতে চাইছে। ওর চারপাশের সবকিছু নিস্তব্ধ— দর্শকের চিৎকার, লাইটের ঝলকানি, প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপস্থিতি— সব যেন মিলিয়ে গেছে। এখন শুধু সে আর তার বাইক। এইদিকে মিরায়া অন্য কোনো দিকে না তাকিয়ে কেবল রায়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। একটু বুঝার চেষ্টা করছে কি ভাবছে রায়ান। মিরায়া ফিঙ্গার ক্রস রেখে বলল-
"আল্লাহ, তুমি উনার সহায় হইয়ো। অল দ্যা বেস্ট হাবি। উইন দিস ফর লুজিং টু মি।" (ঠোঁটে এখনো বাঁকা হাঁসি বিদ্যমান)
লারা মাইক্রোফোনে গর্জে উঠলো—
“লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলমেন, গেট রেডি ফর দা নাইট অব স্পিড! কাউন্টডাউন শুরু হচ্ছে!”
আদ্রিয়ান-"দ্যা রেস স্টার্টস উইথ দ্যা কাউন্টডাউন অব
“থ্রি... টু... অ্যান্ড ওয়ান…”
“গো!”
একসাথে ৫০টা বাইক চিৎকার করে উঠলো! মিরায়ার বুকটা ধক করে উঠলো হঠাৎ। নিজের রেসের সময়ও কখনো এমন হয়নি তার। বরাবরই নার্ভ খুবই স্ট্রং তার তবে রায়ানের ক্ষেত্রে এমন কেন অনুভব করলো তা সে নিজেও ঠাওর করে উঠতে পারলো না। ট্রেকটা ধোঁয়ার মেঘে ঢেকে গেল প্রথম প্রান্ত। সবাই সর্বোচ্চ গতিতে ছুটছে— কেউ বাইক কাতিয়ে কর্নার কাটছে, কেউ হুইলি করছে, কেউ নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ছিটকে পড়ছে। শুরুতেই ৪–৫টা বাইক একসাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেল— মাটি থেকে স্ফুলিঙ্গ ছিটকে উঠলো। স্বাভাবিক ভাবেই ৫০টা বাইক এক স্পিডে আগে যেতে চাইলে জায়গার স্বল্পতার জন্য চাইলেও তারা ব্যালেন্স রাখতে সক্ষম হবে না।
প্রথমেই লিড নিচ্ছে জ্যাক। তার স্টাইল, স্পিড— দুই-ই নিখুঁত। কিন্তু বেশি সময় নয়। রায়ান এখনো ধৈর্য ধরে বাইক চালাচ্ছে— কারো ধাক্কা লাগলে হালকা এড়িয়ে যাচ্ছে, চোখের কোণ দিয়ে কেবল সামনে তাকিয়ে। অল্প কিছু পর থেকেই সে এক এক করে সবাইকে পাস করতে শুরু করলো।
তার বাইকের শব্দ অন্য সবার চেয়ে গভীর, যেন গর্জন করছে কোনো জন্তু। প্রতিবার গিয়ার চেঞ্জ করার সাথে সাথে বাইকের পেছন থেকে আগুনের মতো ধোঁয়া উড়ে আসছে।
সামনে এগিয়ে আছে পাঁচজন সবচেয়ে নামী রাইডার—
রোহান, জ্যাক, মাহির, আদনান আর তানভীর ।
এই পাঁচজনই সেরা। অন্যরা কেউ ভাবতেও পারেনি, নতুন একজন ছেলে — রায়ান — তাদের মধ্যে ঝড় তুলবে।
রোহান এগিয়ে ছিল প্রথম কর্নার থেকে। তার বাইকের হুইল চিৎকার করছে অ্যাসফল্টে। হঠাৎই পিছন থেকে একটা কালো ঝলক—রায়ানের বাইক, একটা নিখুঁত inside lean turn করে রোহানকে পেরিয়ে গেল, এতটাই ঘনিষ্ঠভাবে যে দুজনের বাইকের পেছনের অংশ ঘষে গেল একে অপরের সাথে।
রোহান কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল-“হেই, আর ইউ মেড?! ধীরে চালাও!”
রায়ান তার দিকে পিছনে না তাকিয়ে মৃদু হাসল আর চিৎকার করলো— “রেসে ধীরে থাকা মানে, মৃত পরে থাকা হবে। সুট ইউর সেল্ফ ব্রাদার।”
রোহান কন্ট্রোল হারিয়ে এক মুহূর্তে ট্র্যাকের ধারে গিয়ে পড়লো। দর্শকদল শ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইলো। এর পর সামনে ছিল— আদনান ।
আদনান বাইকটা একদম হাই গিয়ারে তুলে রেখেছে, কিন্তু তার কর্নার নেওয়ার কৌশল দুর্বল। রায়ান দূর থেকেই সেটা বুঝে নিয়ে একটা fake move করল— বাম দিকে হঠাৎ কাত হলো, তারপর ডানদিকে বাইক টেনে তুলে আদনানের পাশ কেটে গেল সাপের মতো। আদনান দিকভ্রান্ত হয়ে হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে ফেলল— বাইকটা স্লাইড করে পিছনে রয়ে গেল।
দুইজন রাইডার- আদনান আর তানভীর বুঝলো, এই ছেলেটাকে যদি থামানো না যায়, তারা হেরে যাবে। তাই তারা নিজেরা ইশারায় কিছু প্ল্যান করলো রায়ানকে মাঝপথে ব্লক করতে। তারা দুজন দুই পাশ থেকে এসে রায়ানকে চেপে ধরলো। মিরায়া গ্যালারি থেকে ভালোই বুঝতে পারছে ইচ্ছা করে অন্য রাইডার রা রায়ানকে টার্গেট করছে। মিরায়া মনে মনে না পাত্তা দেওয়ার মতো করে বিড়বিড় করলো-
"হাহ্! হারামজাদা দের ফেয়ার খেলে জেতার মুরোদ নেই তাই এখন দলবেঁধে পিছনে পড়েছে একজনকে হাড়াতে, ছ্যাঁ!"
রায়ান তার দুই পাশে দুইজনকে দেখে তাদের প্লেনের আন্দাজ করতে পেরে শুধু ঠোঁটের কোণে একটুখানি তুচ্ছ হাসি ফুটিয়ে বলল নিজের মনে—
“ট্রায় হার্ড বয়েজ…কজ ইট'স গনা বি ফা*কিং হার্ড।”
এরপর হঠাৎ করেই রায়ান গিয়ার চেঞ্জ করে, বাইক হালকা বাঁকিয়ে নিয়ে সোজা এগিয়ে যেতেই, আদনান আর তানভীর বাইক একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে ধূলার মধ্যে ছিটকে পড়লো!
রায়ান পিছনে ফিরে একবার তাকিয়ে মিডল ফিংগার দেখিয়ে হেসে উঠলো-“Bye-bye, mother fu***er.”
দর্শকের গ্যালারি থেকে তখন চিৎকার—“রায়ান! রায়ান! রায়ান!”
মিরায়া মুচকি হেঁসে উঠলো বলতে বলতে-"বেশ হয়েছে, আরো পিছনে লাগ।"
রেসের শেষ দিকে মাহির রায়ান পাশাপাশি এগিয়ে ছিল। রায়ান ধীরে ধীরে মাহিরের কাছে গেল। দুই বন্ধুর মধ্যে তখন হালকা মজার প্রতিযোগিতা—
মাহির চিৎকার করে বলল-“ওই তুই কি মরতে চাইছিস? ধীরে চালা। এভাবে অন্য রাইডার দের ধুলো না খাওয়ালে ও জিততে পারবি।”
রায়ান হেঁসে উত্তর দিল-“এমনি এমনি জিতে গেলে আর মজা কোথায় থাকলো। বাকিরা তো তাও আমির শিকার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে তুই আগে আমার বাইকের ধোঁয়াটা পেরিয়ে আয়। তারপর কথা বলি! বাই”
এক সেকেন্ডে গিয়ার চেঞ্জ, স্পিড মিটার ৩০০ পার করে, রায়ান এগিয়ে গেল মাহিরকে পেছনে ফেলে। মাহির ও কম না সেও বাইক ছুটালো স্পিডে।
চারপাশে তখন যেন বজ্রপাতের গর্জন। রেস ট্র্যাকের ধুলো বাতাসে উড়ে যাচ্ছে, লাইটগুলো কাঁপছে উত্তেজনায়। বাইকের ইঞ্জিনের আওয়াজে যেন পৃথিবী থেমে গেছে। সামনে মাত্র আর দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বী— রায়ান আর জ্যাক।
বাকি সবাই পিছনে, আর গ্যালারির দর্শকদল নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে—এই রাতের রাজা কে হবে!
রায়ান জ্যাকের পাশে আসার পর পরই জ্যাক রায়ান কে উদ্দেশ্য করে গর্জে উঠল—
“হেই ইউ মি. বিলেত ফেরত রাইডার! এটা বাংলাদেশে আমেরিকা নয়, এখানে তোমার অনুযায়ী কিছু হবে না!”
রায়ান ঠোঁটে একপাশে হালকা হাসি টেনে উত্তর দিল—
“রেসে পতাকা দেখে নয়, স্পিড দেখে রাজা চেনা যায়, ব্রাদার। ট্রায় মি ওয়ান'স, আই সুয়ের ইউ উইল নেভার ডেয়ার টু সে সাচ থিংস।”
এমন একটা আত্মবিশ্বাসী কন্ঠ জ্যাককে আরও পাগল করে দিল।
এখন ট্র্যাকের শেষ অংশ — বাঁকানো, ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে একটুও ভুল মানে মৃত্যুর সম্ভাবনা। দুজনের বাইক পাশাপাশি চলছে। দর্শকেরা উঠে দাঁড়িয়েছে। গ্যালারির মেয়েরা, বিশেষ করে লেডিস বাইকার টিম, সবাই নিশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে রায়ানের দিকে। মিরায়ার হৎস্পন্দন অদ্ভুত গতিতে বেড়েই চলেছে। মিরায়া নিজের হাতে দুটোতে ফিঙ্গার ক্রস করে রেখেছে।
রায়ান হেলমেটের গ্লাস সামান্য তুলে এক মুহূর্তে জ্যাকের চোখে তাকাল। সে দৃষ্টিতে ছিল বিদ্যুতের মতো চ্যালেঞ্জ—
“লেট'স সি। কার কত দম।”
তারপর শুরু হলো রেসের সবচেয়ে ভয়ংকর অংশ— “ডেথ টার্ন”। জ্যাক বাইকটাকে একদম বাম দিকে কাতিয়ে রায়ানের সামনে গিয়ে ব্লক করলো। রায়ান এক মুহূর্তও থামল না।
সে বাইকের ক্লাচ ছেড়ে দিয়ে হঠাৎ ব্রেক করে পেছন থেকে ড্রিফট করলো— বাইক ঘুরে গেল ১৮০ ডিগ্রি! ধুলো উড়ে গেল, দর্শক চিৎকার করে উঠল!
তারপর সে পেছন ঘুরে গিয়ার ঠেলে আবার সামনের দিকে ছুটে গেল— স্মোক ট্রেইল তার পেছনে সাপের মতো পাক খাচ্ছে। জ্যাক পিছন থেকে ধাওয়া করছে। দুই বাইক প্রায় পাশাপাশি। রায়ান এবার বাইকের হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে স্ট্যান্ড হুইলি করলো— এক চাকার ওপর ভর দিয়ে এগিয়ে গেল কয়েক সেকেন্ড, দর্শকের চোখে শুধু আগুনের রেখা!
গ্যালারির মেয়েরা তখন পাগল প্রায়— “ওমাইগড! দেখ ওর ব্যালেন্স! রায়ান ইজ ইনসেইন! ওয়াও”
লেডিস ব্রেকারদের মধ্যে কয়েকজন তো দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছে, কারো চোখে ঝিলিক, কারো ঠোঁটে একফোঁটা মুগ্ধ হাসি।
-"হুয়াট আ রকিং লিজেন্ড!"
মিরায়া ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে দেখলো তার পাশের মেয়ে গুলো কে, পারলে যেন এখনি খেয়ে ফেলবে। মিরায়া মনে মনে বিলাপ করলো-"এই পেতনি গুলো এখনো আমার বর টার দিকে নজর দিয়ে আছে। উফ্! ধুরু বাল, দেখার মতো বর থাকলেও তো দেখি খুব সমস্যা।"
পর মুহূর্তেই আবার ট্র্যাকে নজর ফেরালো। এখন রেসের একটা সেকেন্ড মিস করা মানেই সময় বরবাদ।
এদিকে জ্যাক হাল ছাড়েনি। রায়ানকে আক্রমণ করার জন্য সে হঠাৎ বাইক ঘুরিয়ে পাশ থেকে ধাক্কা দিল।
রায়ান হেলমেটের ভেতর হেসে ফেলল—“Nice try.”
সে বাইকের হ্যান্ডেল কাতিয়ে বাইকের পিছনের চাকা দিয়ে জ্যাকের বাইকের সামনে ধাক্কা ফিরিয়ে দিল—ঠাসসস!
জ্যাকের বাইক একদম ভারসাম্য হারিয়ে ট্র্যাকের বাইরে ছিটকে গেল, ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে ঘাসের মধ্যে পড়ল! ছোট লাগেনি কোনো সেফটি থাকায়।
রায়ান চোখের সামনের গ্লাস ভিসর নামিয়ে হালকা মাথা নাড়ল-“Game over, champ. অন্য দিন জেতার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে যেদিন রায়ান রেসে নামবে না। বাই।”
মিরায়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল এতোক্ষণে।
তারপর গিয়ার ফাইভ, বাইকের রেভ ৩৫০ পার করল—
ফিনিশ লাইন কয়েক সেকেন্ড দূরে, গ্যালারি তখন সম্পূর্ণ উন্মাদ! সবাই দাঁড়িয়ে, কেউ মোবাইল তুলে ভিডিও করছে, কেউ রায়ানের নাম চিৎকার করছে— “রায়ান! রায়ান! রায়ান! রায়ান দ্যা চ্যাম্পিয়ন!”
সবার সাথে স্পোর্টস ম্যানশিপ দেখিয়ে মিরায়া ও মুখে হালকা হাঁসি নিয়ে হাতা তালি দিয়ে উঠলো। তবে চোখে মুখে গর্বিত অনুভূতি স্পষ্ট। মিরায়া বিড়বিড় করলো-
"ওয়েল ডান হাবি। নাও ওয়েট ফর ইয়র ওয়াইফ টু উইন।"
___________
“রায়ান! রায়ান! রায়ান!!!” প্রতিধ্বনি চারপাশে এখনো বিদ্যমান। চিৎকারে যেন আকাশ ফেটে যাচ্ছিল। বাতাসে মিশে আছে টায়ারের ধোঁয়া, গরম ইঞ্জিনের গন্ধ আর মানুষের উত্তেজনার ঢেউ।
স্টেজের লারা মাইক্রোফোনে চিৎকার করে উঠল—“ওহ মাই গড! হোয়াট ওয়াজ দ্যাট! হুয়াট আ রাইড, ওয়াও!!
লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান, গিভ ইট আপ ফর দ্য কিং অব দ্য নাইট— রায়ান চৌধুরী!!! ”
পুরো মাঠ যেন রণক্ষেত্র— কেউ হাততালি দিচ্ছে, কেউ মোবাইলের ফ্ল্যাশ অন করে ভিডিও করছে, আর মিরায়া…মিরায়াও দাঁড়িয়ে একপাশে থেকে রায়ান কে দেখছে। হেলমেট হাতে, বুকের ভেতর কেমন একটা গরম ঢেউ।
রায়ান মৃদু হাসল, হেলমেট খুলে ঘাড় ঝাঁকিয়ে ঘাম মুছে নিল।
দর্শকরা আবারও একসাথে চিৎকার—“রায়ান! রায়ান!”
আদ্রিয়ান মঞ্চে উঠে এবার ঘোষণা দিল- “এন্ড নাও, দ্যা মোমেন্ট ইউ হ্যাভ বিন ওয়েটিং ফর! গার্লস রেস— দ্য কুইন অব দ্য নাইট! চলো দেখি, আজকের ‘লেডিস অব স্পিড’ এর মধ্যে কে নিতে পারে রায়ানের পাশের চ্যাম্পিয়নের জায়গা!”
গ্যালারির সবাই আবার চিৎকারে ফেটে পড়লো। আলো বদলে গেল— এবার নীলের সঙ্গে মিশলো বেগুনি লাইট। ট্র্যাকের ধুলোয় যেন ঝলমলে পরীর ছায়া। জায়গায় তৈরি হলো এক চাপা, ভারি উত্তেজনা।
ঠিক ১৫ মিনিটের মধ্যেই দর্শকের চোখ ঘুরে গেল ট্র্যাকের দিকে— লেডি রাইডাররা তখন নিজেদের বাইকের কাছে দাঁড়িয়ে। কেউ গ্লাভস পরছে, কেউ হেলমেট ঠিক করছে, কেউ বাইকের চেইন-গিয়ার চেক করছে।
মিরায়া হালকা নিঃশ্বাস নিয়ে—রায়ানের দিকে একবার তাকালো, কিন্তু কেন জানি রায়ানের মুখে বিজয়ের হাঁসি টুকু নেই। রায়ান ও একই সময় মিরায়ার দিকে তাকালো। চোখাচোখি হয়ে যেতেই মিরায়া চোখ সড়িয়ে নিল নিজের।
মাহির রায়ানের কাঁধে হাত রেখে উৎসাহ নিয়ে বলল-
"ভাই কি দিলি রে, চুম্মেসুয়েরি। মাজা আ গেয়া। কিন্তু এমন গোমড়া হয়ে আছিস কেন? জেতার খুশি হচ্ছে না?"
রায়ান সামনে ট্যাকে তাকিয়ে বলল-"এখনো জেতা বাকি।"
মাহির ভাবলো রায়ান বলছে এখনো তো আল্টিমেট রেস জেতার বাকি আছে। মাহির তুচ্ছ হেঁসে বলল-
"আরে যেখানে এতো গুলো ছেলে তোকে হারাতে পারে নি একটা মেয়ে কি হারাবে। চিল কর তখনও জিতে যাবি।"
রায়ান বিরক্ত হয়ে মাহিরের দিকে তাকিয়ে বলল-
"আমি বেট জেতার কথা বলছিলাম।"
মাহিরের তখন মনে পরলো সে আর রায়ান বেট ধরেছিল রাইডার রায়া (মিরায়া) জিতবে কিনা তা নিয়ে। মাহির রায়ানের কথায় একবার মিরায়ার দিকে তাকিয়ে রায়ানের উদ্দেশ্যে বলল-
"তুই সিয়র রায়া মেয়েটা জিতবে?"
রায়ান মাহিরের প্রশ্নের উত্তর দিতে শান্ত ভঙ্গিতে মাথা হ্যাঁ সূচক ঝাকালো ।
তখনি মাইক্রোফোনে হোস্টের কণ্ঠ ভেসে এলো—
“লেডিস, রেডি ইউর ইঞ্জিনস! ইন জাস্ট ফিউ সেকেন্ডস... দ্যা রেস বিগিনস!”
মিরায়ায হাত নিজে থেকেই বাইকের থ্রোটলে গিয়ে পড়ল।ইঞ্জিন গর্জে উঠলো ধীরে,আর ভেতরে কেবল একটাই কথা বাজছে—“ইট'স মাই টার্ন নাও। কিল ইট রায়া।”
লারা আর আদ্রিয়ানের ঘোষণা শেষ হতে না হতেই ট্র্যাকের লাইটগুলো এক এক করে জ্বলে উঠলো।
মেয়েদের সারি—৫০ জন রাইডার, ঝকঝকে গিয়ার পরে, হেলমেটের ভেতর থেকে জ্বলছে দৃষ্টির আগুন। ধোঁয়া, ঘাম আর উত্তেজনার মিশ্র গন্ধে ট্র্যাকটা যেন কাঁপছে।
লারা গর্জে উঠলো— “লেডিস, ইউ রেডি ফর দ্যা থ্রিল অব দ্যা নাইট?”
আদ্রিয়ান যোগ করলো- “অ্যান্ড দ্যা রেস স্টার্টস উইথ দ্যা কাউন্টডাউন অব…
থ্রি… টু… অ্যান্ড… ওয়ান—”
“গো!”
গো বলার সাথে সাথে একসাথে আবারো ৫০টা বাইকের ইঞ্জিন গর্জে উঠলো! বাতাসে ধোঁয়া আর গরম তাপ, ট্র্যাক যেন জ্বলে উঠলো আগুনে। বাইকগুলোর স্পিড এত তীব্র যে পেছনে বাতাসের স্রোত তৈরি হচ্ছে।
প্রথম ধাক্কাতেই কয়েকজন রাইডার ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে গেল ছেলেদের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছিল। মিরায়া অসাধারণ নিখুঁতভাবে স্টার্ট নেওয়ার পর। তার বাইকের সাউন্ড যেন সুরেলা কিন্তু ধারালো— R15 Yamaha এর কালো রঙে ঝলমল করছে। মিরায়া (রায়া) ঠান্ডা মাথায় হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে বাইককে হালকা হেলে ডান পাশে এনে নিখুঁতভাবে স্পিড বজায় রাখলো—তার চোখে স্থির আগুন, মুখে কোনো ভাব নেই— যেন সে নিজের জগতে প্রবেশ করেছে। মিরায়ার পজিশন ছিল কর্ণারে, সে ভালোই বুঝতে পারছিল শুরু থেকেই অতিরিক্ত স্পিডে বাইক টানলে ব্যালেন্স রাখা সম্ভব হবে না যেখানে আরো অন্যান্য রাইডার নিজের স্পিড শুরু থেকেই বেশি রাখতে গিয়ে ডিসকুয়ালিফাইড হয়ে গেছে।
ছেলেদের রেসের সময় যারা শুরু তেই পড়ে গেছিল তারা সবার পজিশন কর্ণারে ছিল এটা মিরায়া খেয়াল করেছে।
মিরায়া একদম নিজ গতিতে একের পর এক বাইক পাস করে যাচ্ছিল। গ্যালারিতে সবাই সবাই চিয়ার করতে লাগলো-
"গো অনামিকা, উউউহুহু..উইন ইট গার্ল।" কারণ অনামিকার তখন লিড করছিল সবার থেকে তার পিছনেই ছিল নূর, আর নূরের পড়ে ছিল দুই রাইডার জান্নাত আর মেহের পাশাপাশি প্রায়। অন্যদিকে মিরায়া এখনো বেশ খানিকটা দূরে ছিল তাদের থেকে। মেহের আর জান্নাত দুইজন রাইড করতে করতে একটু গতি কমিয়ে কথা বলল একে অপরের সাথে-
মেহের-"কিরে তুই না বললি ওই মেয়ে আমাদের জন্য থ্রেট হবে? যেভাবে রাইড করছে মনেই তো হচ্ছে না রেস করতে নেমেছে।"
জান্নাত মেহেরের কথায় সম্মতি দিয়ে হেঁসে বলল-"আরে আমি কিভাবে বুঝবো এন্ট্রি তো নিয়েছিল ভালোই। রেসের ট্র্যাকে এই হাল হবে কে জানতো।"
দুইজনই একসাথে হেসে ফেলল।
তারপরই মেহের বলল-"যাক ভালো হলো রেস জেতা এতো ও টাফ হবে না যদি অপনেন্ট এমন হয়।"
মাহির ট্যাকের উপর চোখ বিঁধিয়ে রেখেছে। মিরায়ার রাইডিং দেখে রীতিমতো সে মর্মাহত, সে গ্যালারিতে রায়ানের কাঁধে হাত রেখে স্বান্তনা দিতে হালকা ব্যঙ্গ করে হেঁসে কাঁধ চাপড়াতে চাপড়াতে বলল-"রেস হাড় বা না হাড়, বেট তুই হাড়বি ফর সিয়র। এই মেয়ে যেভাবে রাইড করছে।"
রায়ান মাহিরের কথায় পাত্তা না দিয়ে সোজা চোখ রেখেই বিড়বিড় করলো-"স্লো এ্যান্ড স্মার্ট মুভ মিস.রায়া। (মাহিরের উদ্দেশ্যে বলল- তুই যদি এসব বুঝতি তাহলে রেস হারতে হতো না। শি নোউস হুয়েন টু এ্যাট্যাক।"
মাহির তুচ্ছ হাসলো এক গাল। হঠাৎ পর মুহূর্তেই গ্যালারির সবাই নিজেদের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পরলো। চোখের পলকে রেসের ট্র্যাকে দৃশ্য পরিবর্তন হয়ে গেল। প্রত্যেকটা মানুষ হতভম্ব হয়ে রইল কিছু সময় যেন কি হলো কিছুই বুঝলো না। রায়ান চোখ সোজা রেখে ঠোঁট কামড়ে হেঁসে মাহির কে বলল-"সোজা তাকিয়ে দেখ। ওই মেয়ে কেন জিতবে বুঝতে আর কিছু বাকি থাকবে না তোর।"
মাহির তৎক্ষণাৎ সোজা তাকায়। হঠাৎ তার চোখ বড় বড় হয়ে রয়ে গেল যেন অবিশ্বাস্য কিছু দেখছে। গ্যালারির প্রত্যেকজনের নিঃশ্বাস যেন আটকে গেল সেই মুহূর্তে।
কারণ ব্যাখ্যা করা যাক-
মিরায়া চারপাশের হঠাৎ শান্ত হয়ে যাওয়া পরিবেশ বুঝতে পেরে কুটিল হেঁসে বাইকের হ্যান্ডেলে হালকা চাপ দিয়ে গিয়ার এক ধাপ নামিয়ে আনে—“ক্লিক!”
তারপর সেকেন্ডের মধ্যে গিয়ার টেনে তোলে একদম উপরে—
“ভ্রুউউম!”বাইকটা যেন পেছনে হেলে সামনে লাফিয়ে উঠলো—সামনের চাকা প্রায় আকাশে উঠে গেল! ধুলো, ধোঁয়া আর আগুনের ফুলকি— সব মিশে গেল একসাথে।
স্পিডমিটার: ৩০০ কিমি/ঘণ্টা! R15 এর ইঞ্জিন গর্জে উঠছে— যেন জন্তু গর্জন করছে। মিরায়ার হেলমেটের ভেতর নিঃশ্বাস ঘন হয়ে গেছে, কিন্তু চোখ স্থির, ঠান্ডা— যেন সে যুদ্ধের মধ্যে ধ্যান করছে। পর পর একসাথে কয়েক সেকেন্ডে সে সব বাইক ছাড়িয়ে এগিয়ে গেলো অন্যান্য রাইডার রা সম্পূর্ণ হতভম্ব। কিছু বুঝে উঠার আগেই মিরায়া তাদের ক্রস করে সামনে এগিয়ে গেছে। এবার শুধু সামনে কয়েক জনই আছে।
রায়ান মুচকি হেঁসে মাহিরের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো - "কিরে কিছু বুঝলি?"
মাহির অবাক চোখে মাথা নাসূচক নেড়ে বলল-"উঁহু, কিছু বুঝলাম না।"
রায়ান মাহিরের কাধ চাপড়ে বলল-"ইট'স কলড লেজি রাইডিং ট্রিক। অপনেন্টকে বিভ্রান্ত করতে ইউজ করা হয়। তোর মাথায় ঢুকবে না। বাদ দে।"
মাহির ভ্রু কুঁচকে রায়ানের দিকে তাকাতেই রায়ান হেঁসে বলল-
"রেস দেখ, আমাকে দেখতে হবে না।"
রেস ট্র্যাক তখন অগ্নিপরীক্ষা—বাকি রাইডাররা নিজেদের ব্যালেন্স রাখতেই ব্যস্ত। তাদের মধ্যে কেউ হুইলি করে, কেউ কর্নার কাটতে গিয়ে বাইক স্লিপ করছে, কিন্তু মিরায়ার বাইক চলছে রেজারের ধার বরাবর, প্রতিটি কর্নারে নিখুঁত টার্ন নিচ্ছে—হালকা ব্রেক, বাম দিকে কাত, হ্যান্ডেল ঘোরানো, তারপর আবার গিয়ার তোলা।
মিরায়ার চোখে স্থির আগুন, ঠোঁটে একধরনের একটুখানি হালকা হাসি। বাইকটা একদম নিখুঁতভাবে স্টার্ট নিলো, ধোঁয়া ছুটছে পেছনে, স্পিডমিটার তখন ৩০০ কিমি/ঘণ্টা। মিরায়া জানে, শুরুতেই দারুণ স্টাইল দেখালেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনে ভয় ঢুকে যাবে ফলে সে অন্যদের টার্গেট এ পরিণত হতে পারে যেহেতু সে ঢাকার বাইক কমিউনিটির নয়।
তাই তার প্রথম ট্রিকটা ছিল— লেজি রাইডিং। শুরুর দিকে সে নিজে সরাসরি আক্রমণ না করে হালকা করে দূরে দূরে রেখেছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনে এমন ভাবনা তৈরি করতে, “এই বাইক আর কি করে দেবে?”
এই ট্রিক টা সম্পূর্ণ রিভার্স সাইকোলজি— প্রতিদ্বন্দ্বীরা একটু শান্ত, কম স্পিডে থাকা মেয়েটিকে হালকাভেবে ভুল করছে। মিরায়া জানে, এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে সুযোগ দিচ্ছে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগের জন্য।
ঠিক তখনই— হঠাৎ সে গিয়ার শিফট করে সেকেন্ড উইলিতে যায়। সামনের চাকা এক মুহূর্তে আকাশে, পেছনের চাকা টায়ারের ঘর্ষণে আগুনের মতো ফুলকি ছিটকে যাচ্ছে।
সিগন্যাল কাটা, রিয়ার ব্রেকের এক মিনিটের নিখুঁত ছোঁয়া—
এতে করে বাইকটিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে সে সামনে বেরিয়ে আসে।
সামনের চার রাইডার— অনামিকা, নূর, মেহের, আর জান্নাত— তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছে। মিরায়ার হঠাৎ ভোল বদলে
তারা কেউই বুঝতে পারছে না, মিরায়ার ট্রিকটা কীভাবে এত নিখুঁত কাজ করল। মিরায়ার হাতের দখল, পায়ের চাপ, চোখের দৃষ্টি— সব মিলিয়ে বাইকের সাথে একাকার।
এক মুহূর্তের মধ্যে সে প্রত্যেকজনকে একে একে পেছনে ফেলে দেবে বাইকের এক টানে কেউ তা বুঝতে পারে নি রায়ান ছাড়া। রায়ানের বোঝা কোনো বড় ব্যাপার নয়, সে বাইরের দেশে এমন হাজারো অপনেন্টের চোখে ধুলো দেওয়ার ট্রিক দেখেছে। তবে আশা করেনি বাংলাদেশের রেসিং কমিউনিটিতে এমন বুদ্ধিমত্তার কেউ থাকবে এই ছোট খাটো ট্রিকস কাজে লাগানোর মতো।
রায়ান মনে যথেষ্ট সন্তুষ্টি নিয়ে মিরায়ার বাইক পর্যবেক্ষণ করে কুটিল হেঁসে বলল-"নাইস ওয়ান মিস.রায়া। উইন দিস ড্যাম রেস।কজ আই ওয়ানা মেক ইউ লুজ।"
গ্যালারিতে উত্তেজনার ঢেউ। সবার চোখ যেন মিরায়ার দিকে ঝাপসা হয়ে যায়—“রায়া! রায়া! রায়া!”
চিৎকার, হাততালি, ফোনে ভিডিও— সবাই একসাথে প্রতিধ্বনিত করছে।
মিরায়া জানে— এই মুহূর্তে বাইক শুধুই কন্ট্রোলের মধ্যে নয়, এটা তার অস্ত্র। কোণে হালকা ফেক ড্রিফট, কর্নারে হালকা লিজিং, হুইলি—সবকিছু নিখুঁত, প্রতিটা স্ট্রোক, প্রতিটি চাকা, প্রতিটি স্পার্ক পরিকল্পিত। প্রতিদ্বন্দ্বীরা হুড়মুড় করছে, কেউ নিজেকে সামলাতে পারছে না।
মিন্ডি রাগে গাল ফোলা, জান্নাত চোখ মেলে অবাক, মেহের হিংসেতে ঠোঁট কামড়ে—"শিট! ইট ওয়াজ আ ট্রেপ। আই কান্ট লুজ।"
জান্নাত মেহের কে উদ্দেশ্য করে একটা প্রোপজাল দিল-"ওই ব্লক করবি মেয়ে টাকে? আই হ্যাভ টু উইন এ্যাট এনি কস্ট।"
মেহের সন্দেহ ভাজন কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো-"এটা চিটিং হবে না? এমন করা তো রুলস এ নেই।"
জান্নাত মেহের কথার জবাবে ছেলেদের রেসের কথা টেনে বলল-"রুলস মাই ফুট। বয়েজের সময় তো রায়ানকে আটকাতে দুইজন রাইডার ব্লক করার ট্রাই করলো সেটা তো হাইলাইট হয়নি। সুতরাং, এমন কোনো রুলস নেই। তুই বা দিক থেকে আগা আমি ডান দিক থেকে যাচ্ছি।"
মেহের জান্নাতের কথা আত্মস্থ হয়ে জান্নাতের কথা মতো বা দিক থেকে আগালো আর জান্নাত ডান দিক থেকে।
দুই দিক থেকে দুটো বাইক সাপের মতো ঘুরে মিরায়ার দিকে ছুটে আসছে। গ্যালারিতে উত্তেজনা টগবগ করছে, মানুষ দাঁড়িয়ে গেছে। ধুলো, বাতাস, হেডলাইটের আলো—সব মিলিয়ে এক পাগল করা দৃশ্য।
রায়ান অন্য দুই বাইক কে একইভাবে মিরায়াকে ব্লক করতে আস্তে দেখে তুচ্ছ হেঁসে বিড়বিড় করলো-"আ বান্চ অব লুজারস।"
মিরায়ার বুঝতে আর বাকি থাকলো না—এরা তাকে ফাঁদে ফেলতে এসেছে। তার ঠোঁটের কোণে বিদ্রূপের ছায়া প্রতিফলিত হচ্ছে। মিরায়া হেলমেটের আড়ালে আওড়াল-
“ওয়ানা প্লে গার্লস? লেট'স ডু দ্যাট। ইট'স ফান টু প্লে সিলি গেমস উইথ সিলি প্লেয়ার্স।” (ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি)
তখনি রায়ান কে উদ্দেশ্য করে মাহির বলল-"পিছনের মেয়ে গুলো গ্যাং আপ করছে। বুঝতে পারছিস?"
রায়ান শান্ত গলায় বলল-"তোর কি মনে হয়?"
মাহির সামনে থেকে চোখ সড়িয়ে রায়ানের দিকে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বলল- "তুই কি সোজা কথায় সোজা উত্তর দিতে পারিস না?"
রায়ান মাহিরের দিকে না দেখে উত্তর করলো-"না, আম্মু বলেছিল আমি নাকি আম্মুর পেটে উল্টো ছিলাম। সুতরাং, উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে এটা আমার জন্মগত মুদ্রা দোষ।"
মাহির রায়ানের কথায় তাজ্জব হয়ে গেল। রায়ান আবার সামনে চোখ রেখে বলল-"ক্লাইমেক্স আসছে রেসের আর তুই কই তাকাই আছিস। সোজা দেখ।"
মাহির রায়ানের কথায় সোজা তাকালো।
মিরায়া বাইকের ক্লাচ হালকা চাপলো, গিয়ার ঠেলে দিল চতুর্থ থেকে পঞ্চমে, ইঞ্জিনের গর্জনে ট্র্যাক কেঁপে উঠলো!
“ভ্রুমমমমমমমমম—!!!”
জান্নাত তার ডান পাশ কেটে যাওয়ার চেষ্টা করলো, মেহের বাঁ পাশ দিয়ে এগিয়ে এল। দুই বাইক যেন রাস্তাটা বন্ধ করে ফেললো, মাঝখানে মিরায়া আটকা! গ্যালারি একসাথে চিৎকার করে উঠল—
“ও মাই গড! এটা কি হচ্ছে! এমন তো রুলস এ নেই।”
পিছন থেকে কেউ বলল-"এই রেসে কোনো রুলস বোর্ড নেই। রাইডার ক্যান ডু এনিথিং টু উইন।"
পরবর্তী ২ সেকেন্ড এর ব্যবধানে যা ঘটলো তার আশা কেউ করে নি। হঠাৎ... মিরায়ার বাইক ঝটকা খেয়ে সামনের চাকা আকাশে উঠলো!-"Wheelie!"
ধোঁয়ার ঘূর্ণি আর গরম বাতাসে সবাই চোখ ঢাকলো। মিরায়া এক মুহূর্তে সামনের দুই বাইকের মাঝ দিয়ে বাইকটাকে হালকা কাত করে ৪৫ ডিগ্রিতে নামালো, তারপর কাউন্টার ব্রেক দিয়ে স্লাইড করল —
টায়ার আর ট্র্যাকের ঘর্ষণে আগুনের ফুলকি ছিটকে উঠলো!
জান্নাতের মুখ হা হয়ে গেল—“অ্যা!—এইটা কেমনে করল?”
মিরায়া এক ঝলক পেছনে তাকিয়ে মুচকি হাসলো—
“নিজেদের গ্রিপ আরো টাইট করো বনু। এভাবে হবে না।”
তারপর জোরে হেঁসে গিয়ার টেনে দিল—সিক্সথে।স্পিডোমিটার ২৮০… ২৯০… ৩০৫… ৩১০! বাতাস আর বাইকের আওয়াজ মিশে এক হয়ে গেছে। তার হেলমেটের ভেতর নীল আলো ঝলকাচ্ছে, চোখ স্থির। মিরায়া নিজের মনে হেসে বলল-“লেট'স গো রায়া। ইট'স শো টাইম।”
Power Drift!- বাঁকটা আসতেই মিরায়া বাইকটাকে হঠাৎ সাইডে স্লাইড করলো। পুরো বাইক ৯০ ডিগ্রি কাত হয়ে গেল, ঘর্ষণের শব্দে ট্র্যাক প্রায় ফেটে যাচ্ছে। ধুলোয় অদৃশ্য তার চাকা—মনে হচ্ছে আগুনের ট্রেইল রেখে যাচ্ছে পেছনে।
জান্নাতের বাইক কাত হলো, ভারসাম্য হারিয়ে ঘাসে ছিটকে পড়ল! মেহেরও কন্ট্রোল রাখতে না পেরে গার্ড রেল ছুঁয়ে গেল—স্ফুলিঙ্গ উড়ে উঠল!
গ্যালারিতে হাজার মানুষের চিৎকার- “ওওওহহহহহহ....রায়া! রায়া! রায়া!”
রায়ান গ্যালারিতে বুকে দুই হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে দেখছে মিরায়ার প্রতিটা অঙ্গসঞ্চালন যেন নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীকে বাড়ানোর জন্য তথ্য যোগার করতে ব্যস্ত। রায়ান একটা জিনিস খেয়াল করলো মিরায়ার (রায়ার) উপস্থিত বুদ্ধি রেসে অনেক অ্যাক্টিভ আর স্পিড মেইনটেনেন্স খুব হাই। তবে সে তাদের মধ্যে কমোন যেটা দেখলো সেটা হলো বেপরোয়া ভাব।
মিরায়া পিছনে না তাকিয়ে চেঁচিয়ে জান্নাত আর মেহেরের উদ্দেশ্যে বলল- “গেম ওভার, সো কলড কুইন্স।”
মিরায়া তখন সামনের দিকে তৃতীয় স্থানে তারও সামনে আছে নূর আর অনামিকা। তারও সামনে দুজন — নূর আর অনামিকা-দুজনেই লেডি বাইকারদের রাজত্ব করা নাম।
নূর তার অদ্ভুত স্পিড কন্ট্রোল আর শরীরের ভারসাম্যের জন্য পরিচিত;
আর অনামিকা তার নির্ভুল কর্নার কাটের জন্য বিখ্যাত।
কিন্তু আজ ট্র্যাকে তারা দুজনেই একটাই চিন্তায় — একটা নতুন মেয়ে অন্য জায়গা থেকে এসে তাদের রাজত্বে রাজ করতে যেন না পারে।
ধোঁয়ায় ঢাকা ট্র্যাকের মাঝখানে তিনটি বাইক ছুটছে যেন বজ্রপাত। তাদের পেছনে বাতাসের ধাক্কায় পতাকা দুলছে,
গ্যালারিতে চিৎকার, বাঁশি, হর্ষধ্বনি — কিন্তু এখন কেউই শব্দ শুনছে না। সবাই নিঃশ্বাস রোধ করে তাকিয়ে আছে তিনটি ছায়ার দিকে।
নূর বাঁক নিচ্ছে। এটা সেই কর্নার যেটাতে একটু ভুল মানেই বাইক ছিটকে যাবে। মিরায়া দূর থেকেই লক্ষ্য করছে—
নূর বাইকটা অতিরিক্ত কাত করছে বাঁ দিকে, স্পিড অনেক বেশি, তাই পরের সেকেন্ডেই ভারসাম্য হারাতে পারে।
হেলমেটের আড়ালে মিরায়ার ঠোঁটে ঠান্ডা হাসি। সে নিজের হেলমেটের ভিসর টা ওপেন করে একটু হাওয়া নিয়ে বিড়বিড় করলো—
“স্পিড ইজ নট সামথিং ইউ ক্যান উইন দ্যা রেস উইথ, মাথাও লাগাতে হবে নূর। এই দিকে তো মার খেয়ে গেলে।”
মিরায়া গিয়ার নামালো, ক্লাচ ছেড়ে এক ঝটকায় বাইকটাকে পিছনে টেনে আনলো তীব্র শব্দে— “ভ্র্র্র্র্রুমমমমমমমমমম!”
চাকা অ্যাসফল্টে ঘষে আগুনের ফুলকি ছিটিয়ে দিল।
নূর ঠিক তখনই সামনের ব্রেকে চাপ দিল ব্যালেন্স ঠিক রাখতে—কিন্তু মিরায়া আগেই বুঝে ফেলেছিল! সে বাইকটা হঠাৎ ডানদিক দিয়ে ঘুরিয়ে নূরের বাইকের পাশ দিয়ে এমনভাবে বেরিয়ে গেল যেন হাওয়া কেটে বেরিয়ে গেল একটি তীর। একটুখানি ঘর্ষণ— ধোঁয়া— আর নূরের চোখ বড় হয়ে গেল। সে সাথে সাথে চেচালো - “হু দ্যা হেল…! WTF is going on, এতো কাছে কখন এল!”
গ্যালারির দর্শক চেঁচিয়ে উঠলো-“রায়া! রায়া! রায়া!”
মাহির রায়ানকে উদ্দেশ্যে করে প্রশ্ন করলো-"এটা কি ছিল? ও কি ফ্ল্যাশ নাকি! এতো ফাস্ট কিভাবে ক্রস করলো? তুই দেখলি?"
রায়ান ঠোঁটে কুটিল হাঁসি নিয়ে বলল-"আমি অনেক কিছু দেখছি যা তুই দেখছিস না। সুতরাং নিজে যা দেখছিস তাই দেখ।"
নূর পিছিয়ে গেল, এখন সামনে অনামিকা। অনামিকা জানে, মিরায়াকে যদি থামানো না যায়, তবে সে জিতবে না। তার চোখে জেদ, ঠোঁটে কামড়। সে গিয়ার ফুল করে বাইককে সরাসরি সামনে ঠেললো—স্পিড ২৯০!
মিরায়া ঠিক পিছনে, মাথা নিচু করে হেলমেটের ভেতর ফিসফিস করলো—“টাইম টু ফ্লাই, বেইবি।”
মিরায়া বাইকটাকে এমন এক নিখুঁত lean drift দিল— বাঁ দিকের চাকা প্রায় মাটি ছুঁয়ে যাচ্ছে, হেলমেটের কাঁচে ট্র্যাকের আলো লাফাচ্ছে! ধোঁয়া, ঘর্ষণ, স্পার্কস— চারদিকে আগুনের ঘূর্ণি!
অনামিকা তার ডান পাশে তাকিয়ে দেখল— একটা কালো ঝলক তার পাশ দিয়ে বাতাস কেটে বেরিয়ে যাচ্ছে!
মিরায়া! সে এক মুহূর্তের সুযোগে rebound clutch trick দিয়ে বাইকটাকে সামনের দিকে ছুড়ে দিল। অনামিকা গতি বাড়িয়ে তাকে ওভারটেক করতে গেল, কিন্তু মিরায়া হঠাৎ হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে সামনের বাইকটাকে “Snake Cut” ট্রিকে ঘিরে ফেলল। এমন এক কৌশল— যা কেবল ট্র্যাকের রাজারা জানে। বাম দিকে, তারপর ডান দিকে—
সেকেন্ডের ভগ্নাংশে—মিরায়া অনামিকাকে ফাঁদে ফেললো যেন দাবার কুইন চেকমেট দিচ্ছে।
মিরায়া-“ডানদিকে যেয়ো না, বেইবি, ওটা আমার রাস্তা,”
তার ঠান্ডা গলায় হাসি ঝরে পড়ল।
অনামিকা ভয় পেয়ে সামান্য ব্রেক দিল, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই মিরায়া সামনে উঠে গেল—ধুলো, আলো, আর ইঞ্জিনের গর্জনের সাথে সাথে—ফিনিশ লাইন সামনে!
দূরে কাউন্টডাউন বোর্ডে আলো ঝলকাচ্ছে— ৩০০ মিটার… ২০০ মিটার… ১০০ মিটার…
নূর আর অনামিকা মরিয়া হয়ে গিয়ার বাড়াচ্ছে, কিন্তু মিরায়া ইতিমধ্যেই অন্য লেভেলে চলে গেছে। তার স্পিড ৩১৫ কিমি/ঘণ্টা— বাতাস যেন তার সাথেই ছুটছে। শেষ ৫০ মিটার।
তার ঠোঁটের কোণে নিখুঁত এক হাসি—
মিরায়া বিড়বিড় করল-“লেডিস, তোমাদের জন্য একটাই উপদেশ— স্পিড ভালো জিনিস, কিন্তু ব্রেনের নিউরন উইক হলে তো সমস্যা।”
সে বাইকটাকে হঠাৎ Wheelspin Drift দিল, ফিনিশ লাইন পার হতেই বাইকের পিছনের চাকা আগুনের মতো জ্বলতে লাগলো!
গ্যালারি ফেটে পড়লো, সবাই উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে—
“রায়া! রায়া! রায়া!”
মিরায়ার বাইক ফিনিশ লাইন ছুঁতেই পুরো গ্যালারি যেন একসাথে বিস্ফোরিত হলো—চিৎকার, বাঁশি, হাততালি, ক্যামেরার ফ্ল্যাশে মুহূর্তটা আলোকিত হয়ে উঠলো।
“রায়া! রায়খ! রায়া!” —এই একটাই নাম গ্যালারিতে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। রেসের শেষ মুহূর্তের টানটান উত্তেজনা যেন এখনও বাতাসে কাঁপছিল। হেলমেট খুলে যখন মিরায়া মাস্ক পড়া গেটাপে দাঁড়ালো ঠিক তখনই চারপাশের স্পটলাইট তার উপর চকচক করে উঠল। তার চোখে সেই অদ্ভুত ঝিলিক—জেতার তৃপ্তি আর লড়াইয়ের উত্তাপ দুটোই যেন মিশে আছে।
দূর থেকে রায়ান তাকিয়ে আছে—তার চোখে অদ্ভুত প্রশান্ত গাম্ভীর্য। ঠোঁটের কোণটায় হালকা একটা হাসি ফুটে উঠল, কিন্তু সেটা কেবল মুহূর্তের জন্য।
সে ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল, চোখে দৃঢ় সম্মান—
“Well done, girl…advance sorry for next one” —চুপচাপ বলল নিজের মধ্যে। তার ভেতরের বাইকার সত্তা মিরায়াকে সম্মান জানাল নিঃশব্দে।
মাহির পাশে দাঁড়িয়ে ছিল রায়ানের মুখটা অদ্ভুত ভাবে হা হয়ে আছে যেন এই মাত্র যা দেখলো তা কাল্পনিক। রায়ান মাহির কে ধাক্কা দিয়ে বলল-
"রেস হেঁড়ে ছিলি, এবার বেট টাও হেঁড়ে গেলি । আহ্ হা! মোয়ে মোয়ে! মোয়ে মোয়ে!" (গেয়ে উঠলো)
মাহির মুখটা হালকা বিরক্তিময় করলো প্রথমে কিন্তু তার পরই মিরায়ার প্রশংসায় স্বীকারক্তি দিল-
“ভাই যাই বলিস, মেয়েটা তো রিয়েল থান্ডারস্টর্ম রে!”
রায়ান শুধু একবার তাকাল, মৃদু গলায় বলল,
“হুম, শুধু রাইড করেনি… she owned it. এবার আমি একটু এক্সাইটেড আল্টিমেট রেসে নামার জন্য। এই রাইডার কে হাড়িয়ে জিততে পারলে ভালো লাগবে। ছেলেদের মধ্যে এসব সো কলড রাইডার দের সাথে রেস করে জিতে মজা নেই।"
মাহির বাঁকা হেঁসে বলল-"বেস্ট ভার্সেস বেস্ট। দেখার মতো কিছু হবে আই ক্যান বেট অন দ্যাট দো।"
গ্যালারির অপর পাশে তানভীর, আদনান আর জ্যাক একসাথে দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্যটা গিলে নিচ্ছে চোখ দিয়ে।
তানভীর হুইসেল বাজিয়ে উঠল-
“Brooo, that’s insane!
Did you see that last drift?”
আদনান হেসে বলল-“Man, she made those turns like she was dancing! What a pro!”
আর জ্যাক—চোখে ঠান্ডা আগুন, ঠোঁটের কোণ উঁচু হয়ে গেল। সে সামনে ঝুঁকে হালকা গলায় বলে উঠল,
“I like this girl....”
এক সেকেন্ড থেমে, চোখ মিরায়ার উপর স্থির রেখে বলল,
“I want her.”
চারপাশে তুমুল আওয়াজ—কিন্তু রায়ান তখনও স্থির, দাঁড়িয়ে আছে নিজের জায়গায়। তার চোখে কেবল একটাই ঝলক—
যে ঝলক বলে দেয়, “গেমটা এখনো শেষ না।”
পাশাপাশি মিরায়াও নিজের জিৎ নিশ্চিত করে রায়ানের দিকে তাকালো। দুইজনের চোখাচোখি হলো ধোঁয়াশা পরিবেশে। নজর মিলেও মিলল না।
চলবে..
পাখিরা এর বেশি আর লিখার শক্তি আমার ছিল না। বাইক রাইড দেখে দেখে মাথা গুলিয়ে এসব লিখেছি। এতো ডিপ রিসার্চ হয়ে যাবে ভাবি নি। কোনো অংশ না বুঝতে পারলে আমি সরি। ইংলিশ বাংলা উচ্চারণে লিখতে গিয়ে মাথা ব্যাথা উঠে গেছে তাই শেষের গুলো ইংলিশ ই রেখে দিসি।🤧
কেমন লাগলো এইটুকু বলো। বোনাস পর্বে আল্টিমেট রেস আর একটা সারপ্রাইজ থাকবে। এই পর্বে 1k react হয়ে গেলে আজ রাতে দেওয়ার ট্রায় করবো। প্লিজ কমেন্ট করবে সবাই কেমন। Love you pakhis ❤️ 🥰
#আত্মার_অঙ্গীকারে_অভিমোহ
#Soul_bound_obsession
#Oratrika_Rahman_অরাত্রিকা_রহমান
#Part_41( বোনাস)
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত)
“রায়া! রায়া! রায়া!!!” —এইবার আকাশ গর্জে উঠলো নতুন নামে। স্পটলাইট মিরায়ার উপর থেমে রইলো। গ্যালারির সবাই সেই হিজাব ও মাস্কের আবরণে থাকা চেহারার দিকে তাকিয়ে আছে চাতকপাখির ন্যায়। অনেকেই ভীরের মধ্যে থেকে চেঁচিয়ে বলছিল ফেস রিভিল করতে কিন্তু মিরায়া তার শুনেও না শুনার ভান করছিল। তবে মিরায়ার জেতার সেই এক মুহূর্তে যেন সবাই ভুলে গেল একটু আগে কে ছিল রাইডার কিং—কারণ এখন সবার চোখে শুধুই কুইন বিরাজ করছিল।
---
লারা দৌড়ে মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোন হাতে নিল, উত্তেজনায় গলা কাঁপছে—“ওহ মাই গড! ওয়াট আ পারফরমেন্স!!!
দ্যা রিয়াল—এই স্পিড কুইন, গিভ ইট আপ ফর - রায়া...!"
আদ্রিয়ানও লারার কথায় যোগ করে বলল-“লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান! আজকের রাতের বেস্ট রাইডার ফর্ম দ্যা গার্লস টিম… দ্যা ওয়ান অ্যান্ড অনলি—“কুউইইন অব দা নাইইট — রায়া রহমান!!!” যে আমাদের রাইডার কিং রায়ান চৌধুরীর পাশের ফাঁকা স্থান পূরণ করবেন।”
দর্শকরা পাগলের মতো চিৎকার করতে লাগল। রায়ান সামনের দিকে এক পা বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকল— চোখে সেই আগের মতো গাম্ভীর্য, কিন্তু এবার ঠোঁটের কোণে একটু নরম হাসি। সে হাততালি দিল ধীরে, যেন কেবল মিরায়ার জন্যই।
দূর থেকে তার ঠোঁট নড়ল— “ওয়েলকাম টু দা থ্রোন, কুইন। নাউ উই হ্যাভ টু সি হু রুলস দা কিংডম।”
লারা- "রায়ান আর রায়া আপনাদের নিজেদেরকে ফাইনাল রাইডের প্রস্তুতি নিতে কিছু সময় দেওয়া হলো। আমরা কিছু সময়ের মধ্যেই রেস ট্র্যাকে আপনাদের দেখবো। গুড লাক।"
____
রেস শেষ, বিজয়ের গর্জন এখনো বাতাসে ভাসছে। গ্যালারিতে হাজারো মানুষ এখনো দাড়িয়ে, চোখ রাখছে ট্র্যাকের দিকে—
দুই দিকের বিজয়ী, এক রাজা আর এক রাণীকে দেখার অপেক্ষায়। রায়ান মিরায়া নিজেদেরকে তাদের বেস্ট টা দিতে তৈরি করতে ব্যস্ত। দুইজনে এখনো অব্দি কোনো প্রকার বার্তালাপ করেনি চোখে চোখ রাখে নি। মিরায়া নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিল রায়ানকে এড়িয়ে চলতে তবে রায়ানও খুব যে ইচ্ছে দেখাচ্ছে রায়ার প্রতি এমন না।
মাহির রায়ানের পাশেই ছিল তখন, হঠাৎ রায়ানকে চিমটি কেটে বলল-"কিরে যার জেতার উপরে বাজি লাগালি এখন সে সামনে অথচ তাকিয়েই দেখছিস না, কথা বলা তো দূর, তোর মনে চলছে কি বলতো?"
রায়ান মাহিরের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল- "মনে কি চলছে মানে? আমি রাইডার আর ভালো রাইডার চিনি যেটার একটাও তোর আয়ত্তে নেই তাই তুই রেস আর বেট দুটোই হেড়েছিস।"
মাহির বিরক্ত হয়ে রায়ানের পিঠে ঘুসি মেরে বলল-"ওই তোরে আমি কি বলি আর তুই কি বলিস? আমি জিজ্ঞেস করছি রায়ার সাথে একবারও হাই হ্যালো কিছু করলি না অথচ এই মেয়ে জিতবে বলে বেট ধরেছিলি। এর মাঝে আমার হাড়া জেতা কোথা থেকে এলো?"
রায়ান মেয়েদের টপিক ফ্রেন্ডশিপে পছন্দ করে না তার উপর সে বিবাহিত এটা তার করা উচিতও না, একজন পুরুষের তার সীমা বোঝা উচিত। রায়ান মাহিরকে বুঝিয়ে বলল-"শোন মেয়েটা ভালো রাইডার, এ্যান্ড দ্যাট'স ইট। এই কারণ যথেষ্ট বেট ধরার জন্য। আমি হাই হ্যালো কেন করতে যাব? বেট ধরেছিলাম জিতেও গেছি বেস হয়ে গেল। সম্পূর্ণ টাই স্পোর্টস ম্যানশিপ।"
মাহির মনে মনে ভাবতে লাগলো-"এটা আবার কেমন হলো মেয়েটা এতো ভালো বাইক চালায় অথচ রায়ানের একটুও ইন্টারেস্ট আসছে না মেয়েটার প্রতি!"
মাহির রায়ানকে মনের প্রশ্ন টা করেই ফেলল কৌতুহলে-
"রায়ান তোর মনে আছে তুই মাঝে মাঝেই বলতি তোর খুব ইচ্ছে তোর ঠিক তোর মতোই বাইক পাগল কাউকে লাগবে যে বাইক রাইডিং এ প্রো হবে তোর মতো?"
রায়ানের বুঝতে সময় লাগলো না মাহির ঠিক কোনো দিকে কথা নিচ্ছে। সে চোখে রাগ নিয়ে মাহিরের দিকে তাকিয়ে দাঁত কিরমির কিরমির করতে করতে বলল-"মাহিরের বাচ্চা আর একটা ফালতু কথা বললে তোর মাথায় এই হেলমেটের বাড়ি পড়বে। আমার বউ আছে বাড়িতে, তাও অপ্সরার মতো দেখতে।"
(নিজের হেলমেটটা হাতে তুলে)
মাহির হালকা সড়ে গিয়ে বলল-"আজব আমি কি করেছি? তোর আগের কথাই তো বললাম। তুই বল বলিস নি তুই ওমন কথা কখনো?"
রায়ান বিরক্ত হয়ে বলল-"বলেছি হয়তো কোনো কালে, তো কি হয়েছে। শোন আমার বউ যথেষ্ট বাইক পাগল। আর বাইকে ঘুরতেও পছন্দ করে। সুতরাং আমার ইচ্ছে পূরণ হয়ে গেছে। সব বাদে মিরার যদি ইচ্ছা হয় প্রয়োজনে আমি আমার বউকে শিখিয়ে প্রো রাইডার হিসেবে গড়ে তুলবো। সব বাদে তুই এইটা বল, তোর মাথায় এসব ফাউল চিন্তা আসে কোথা থেকে?"
মাহির একটু নাটুকে ভাব নিয়ে বলল-"আরে আমি কি তোকে বিয়ে নিয়ে কিছু বলেছি? আমার ভাবি মা তো 'মাশাআল্লাহ'। আমি তো শুধু রায়ার কথা বললাম, মেয়েটা ভালো রাইড করে একদম তোর মতো।"
রায়ানের হঠাৎ যেন মাহিরের করা ইনডিরেক্ট মিরায়া আর রায়ার মধ্যে তুলনা হজম হলো না। রায়ানের মাহিরের উপরের রাগ এবার রায়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হলো। রায়ান মাহির কে বলল-"রায়ান চৌধুরী ইজ ওনলি ওয়ান। নো ওয়ান ক্যান বিট হিম। চাইলে বেট ধর ফাইনাল রেসে ওই মেয়ে হাড়বে আমার কাছে।"
মাহিরের বুঝতে আর বাকি নেই তার দ্বারা বড় একটা ভুল হয়ে গেছে। মাহির শুকনো ঢোক গিলে মনে মনে ভাবল-"হায় আল্লাহ, এই বউ পাগলের সামনে ওর বউয়ের জায়গায় অন্য মেয়ের কথা আমি কেন বলতে গেলাম!"
রায়ান হালকা গলায় আওয়াজ গম্ভীর রেখে জিজ্ঞেস করল-
"কিরে ধরবি বেট আবার?"
মাহির সাথে সাথে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল-"না না, আর কোনো বেট আমার ধরার ইচ্ছা নেই। তুই জিতে যা রেস ভাই।"
রায়ান আর কিছু বলল না। অন্যদিকে একটু দূরেই মিরায়া নিজের বাইক চেক করছিল। মিরায়া নিজের মুখে বিড়বিড় করছে-"আবেগে পড়ে বিবেক ভুলে যে ড্রিফট আর স্পিন মারছি আমার বাইক যে আস্তো আছে এখনো তাই অনেক। তোর লাগি নিতো সোনা। ( বাইক কে উদ্দেশ্য করে)"
মিরায়ার অনেক শখের আর পছন্দের তার এই বাইকটা। খুব যত্ন করে শুরু থেকেই। রায়ান আড় চোখে মিরায়াকে রেসের জন্য নিজেকে ঠিক না করে বাইক চেক করা আর মুছতে থাকা দেখে এক গাল হেসে বিড়বিড় করলো-
"ওয়াও, বাইকের জন্য এতো কেয়ার। এতো যত্ন পায় বলেই হয়তো বাইক রেসে ভালো পারফর্ম করে (ব্যঙ্গ করে)।"
মিরায়া বাইক চেক শেষ করে একবার নিজের সব কিছু দেখে নেওয়ার মাঝেই লারা এবার মাইক্রোফোন হাতে এগিয়ে এলো, কণ্ঠে এক চূড়ান্ত উত্তেজনা—
“লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন... দ্যা মোমেন্ট উই অল ওয়েটেড ফর! দ্যা কিং অ্যান্ড কুইন অব দ্য নাইট— রায়ান চৌধুরী, এ্যান্ড রায়া রহমান! “লেট্স ওয়েলকাম দেম টুগেদার অন দ্যা ট্র্যাক!”
চারদিক থেকে আলো ঝলসে উঠলো, দুই দিকের দরজা একসাথে খুলে গেল। রায়ান ও মিরায়া, দুইজনেই নিজের হেলমেট পরে, বাইকের ইঞ্জিন অন করলো একসাথে।
“ভ্র্র্ররর্ররর্রর্রমমম…” দুইটা ইঞ্জিনের গর্জন যেন যুদ্ধের ডাক।
রায়ানের বাইকটা কালো, আগুনে চকচক করছে; আর মিরায়ারটা কালো-নীলে ঝলমল করছে লাইটে।
দু’জনেই একসাথে বাইক সামনে এগিয়ে নিয়ে এল— চোখে চোখ হেলমেটে রং আড়াল থেকেই, কোনো হাসি নেই, শুধু নিঃশব্দ আগুন।
আদ্রিয়ান চিৎকার করে বলল—
“অলরাইট, লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন! দ্য কিং অ্যান্ড কুইন আর হিয়ার! অ্যান্ড ইট’স টাইম ফর আ রয়্যাল শোডাউন!”
গ্যালারি গর্জে উঠল—
“রায়ান! রায়া! রায়ান! রায়া!!”
রায়ান ধীরে বাইকের থ্রোটল টেনে তুলল, হালকা ঝুঁকে সামনে চাকা তুললো প্রায় দুই ফুট উপরে—
এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা হিংস্র পশুর ন্যয়! বাইকটা সামনে আগাতে লাগলো হুইলি করে, পিছনের টায়ার ঘর্ষণে আগুন ফুলকি ছিটিয়ে দিচ্ছে।
এক মুহূর্তেই তার পাশেই মিরায়া—
ওও একইভাবে সামনে চাকা তুললো, কিন্তু তার ভারসাম্য এত নিখুঁত যে মনে হচ্ছে বাইকটা তার আঙুলের ইশারায় নাচছে!
দু’জনের বাইক পাশাপাশি, দুই চাকা আকাশে, আর নিচে ধোঁয়া আর আলোর আগুন।
দর্শকরা চিৎকারে ফেটে পড়ছে—
“ওওওওহহহুউউউ! — দু’জনই একসাথে হুইলি করছে! ওয়াও!”
রায়ান মিরায়ার দিকে তাকায় এবং প্রথম বারের মতো মিরায়ার উদ্দেশ্যে মৃদু গলায়, ভেতরের মাইকে প্রশ্ন করলো—
“স্টিল থিংক ইউ ক্যান বিট মি, কুইন?”
মিরায়া অবাক হলো রায়ান রায়ার সাথে কথা বলল! তাও এতোটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভাব নিয়ে! মিরায়া এক মুহূর্ত রায়ানের দিকে মুখ ঘুরিয়ে ভাবলো যদি সে নিজের স্বাভাবিক গলায় কথা বলে তাহলে রায়ানের তাকে চিনতে সময় লাগবে না তবে মাইকে একটু ভারি গলায় কথা বললে সেটা অনেক অংশেই ভিন্ন শোনাবে তাই ঠোঁট বাঁকিয়ে হেঁসে মিরায়া গলার আওয়াজ একটু ভারি করে, গর্জন ভেদ করে উত্তর দিল—
“বিটিং ইউ ইজ গোনাবি মাই প্লেজার, ইয়োর ম্যাজেস্টি (কিং)।"
রায়ান মিরায়ার গলার আওয়াজ ঠিক ঠাওর করতে পারলো না তারপরই তারা দুইজন চোখ তীক্ষ্ণ ভাবে সোজা তাকিয়ে বাইক নামিয়ে একে অপরের বিপরীতে মুখোমুখি হলো।
দুইজনের বাইক কয়েক ফুট দূরত্বে— আর শুরু হলো স্টান্ট শোডাউন!
রায়ান বাইকের থ্রোটল টেনে এক জায়গায় ঘূর্ণায়মান হলো—
বাইকটা ঘুরছে আগুনের বৃত্ত তৈরি করে, ধোঁয়ায় ঢেকে গেল আশপাশ। মিরায়া সামান্য ঝুঁকে, বিপরীত দিকে ঘুরে গেল—
দু’জনের বাইক একে অপরের ঘূর্ণনের কেন্দ্রে এসে ঠাসস! শব্দে সামান্য টাচ করে আবার ঘুরে গেল।
লারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে-
"ওয়াওওও!!! দ্যাট’স ইনসেইন! দে আর অন ফায়ার!!!”
আদ্রিয়ান মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি জানালো।
রায়ান ঘূর্ণন থামিয়ে বাইক সোজা করে, তার চাকা দিয়ে সামনের দিকে ব্রেক ঘর্ষণ করল—টায়ারের নিচ থেকে আবারও আগুনের রেখা! মিরায়া তার প্রতিক্রিয়ায় বাইক উল্টোদিকে টিল্ট করল, শুধু পিছনের চাকা ঘুরিয়ে হালকা করে রায়ানের বাইকের সামনে এসে থামলো, হেলমেট ভেদ করা চুহুনি, একদম চোখে চোখ রেখে। দুজনের মধ্যে নিঃশব্দ চ্যালেঞ্জ। দর্শকরা নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে।
রায়ান নিচু স্বরে বলে—
“ইউ’ভ গট ফায়ার…মিস.”
আর মিরায়া ঠোঁট কামড়ে মুচকি হেসে ভারি কন্ঠে উত্তর দিল—“ফায়ার ডাজ়ন’ট ফিয়ার ফায়ার, মিস্টার।”
ঠিক তখনই দু’জন একসাথে বাইকের গিয়ার চেঞ্জ করে সোজা এগিয়ে গেল ট্র্যাকের একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্ত পর্যন্ত— প্রথমে হুইলি, তারপর স্লাইড, তারপর একসাথে cross-spin করে মাঝ আকাশে বাইক ঘুরিয়ে পুনরায় নামালো!
পুরো গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে গেছে— কেউ কাঁদছে উত্তেজনায়, কেউ মাথায় হাত দিয়ে চিৎকার করছে, কেউ সিটি বাজাচ্ছে।
“রায়ান! রায়া! রায়ান! রায়া!!!”
স্টেজে লারা ও আদ্রিয়ান উচ্ছ্বাসে মাইক্রোফোনে চিৎকার—
“লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, দিস ইজ়ন’ট জাস্ট রেসিং —
দিস ইজ় হিস্টরি!”
দু’জনেই বাইক থামিয়ে হেলমেট খুলে একে অপরের দিকে তাকালো—চোখে ক্লান্তি নেই, শুধু জয়ের এক নিঃশব্দ গর্ব।
মিরায়ার ঠোঁটে ছোট্ট হাসি—রায়ানের চোখে এক ফোঁটা প্রশংসার ঝলক। বাতাসে এখনো ধোঁয়া ভাসছে, আগুনের ঘ্রাণ, আর চারদিক জুড়ে প্রতিধ্বনি—“রায়ান! রায়া! রায়ান! রায়া!!!”
_______
রেস ট্র্যাকের চারপাশে আলো নিভে গেছে। শুধু মাঝখানে এক লম্বা সাদা রেখা— যেন যুদ্ধের সীমান্ত। রায়ান এক পাশে, কালো বাইক—আর মিরায়া অন্য পাশে, কালো বাইক।
দু’জনেই হেলমেট পরে নিল। দু’জনের মুখ ঢেকে গেল ভিসর গ্লাসে, কিন্তু চোখের আগুন গ্লাসের ভেতরেও জ্বলছে। গ্যালারি কাঁপছে চিৎকারে— “KING vs QUEEN!! KING vs QUEEN!!”
লারা গর্জে উঠল মাইকে—
“ ভিউয়ার্স...! আর ইউ রেডি ফর দিস ওয়ান? Ride or Die রেস শুরু হচ্ছে..!"
আদ্রিয়ান-"ইউথ দ্যা কাউন্ট ডাউন অব Three… two… one… !!!”
ইঞ্জিন একসাথে গর্জে উঠলো—ভূউউউউউউম!! ট্র্যাকের ওপর টায়ারের ঘর্ষণে ধোঁয়া ছিটকে আকাশ ছুঁয়ে গেল। দু’জন একসাথে ছুটে বেরোল, বাতাস ফুঁড়ে—!
প্রথম কর্নারে দু’জন পাশাপাশি—রায়ান একটু এগিয়ে গেল, কিন্তু মিরায়া সঙ্গে সঙ্গে বাইকটা হঠাৎ ঝুঁকিয়ে corner drift করল, চাকার ঘর্ষণে আগুন ছিটকে উঠলো—এক মুহূর্তে সে রায়ানকে পেছনে ফেলে সামনের লেনে চলে গেল!
রায়ান হেসে ফেলল হেলমেটের ভেতর—“ইউ ওয়ানা প্লে ডার্টি, হা?”
মিরায়া হেলমেটের নিচে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল— “গেম জাস্ট স্টার্টেড!”
এরপরই রায়ান বাইকটা সামনে ঠেলে wheelie করল—
সামনের চাকা উঠিয়ে রাস্তায় পেছনের টায়ার জ্বালিয়ে দিল আগুনের রেখা! দর্শকেরা পাগলপ্রায়- “ওওওওও!!! রায়ান!! রায়ান!!”
মিরায়া এক চিলতে হাসি দিয়ে বাইকটা ঘুরিয়ে reverse lift দিল—পিছনের চাকা বাতাসে, বাইকটা এক মুহূর্তে উল্টে গিয়ে আবার সোজা হলো, যেন আগুনে নাচছে! তার হেলমেটের ভেতর গর্জে উঠল তার কণ্ঠ—“স্টর্ম নেভার ওয়েটস ফর থান্ডার।”
রেস ট্র্যাকের মাঝ বরাবর তারা মুখোমুখি—রায়ান হঠাৎ থেমে বাইকটাকে ঘুরিয়ে spin drift করল, বাইকটা এক জায়গায় ঘুরছে আগুনের চাকতির মতো, টায়ারের ধোঁয়া সাদা কুয়াশা বানিয়ে ফেলছে। আর একই মুহূর্তে মিরায়া অন্যদিক থেকে counter spin করল— দু’জনের বাইক ঘুরে এসে মুখোমুখি থামল, তাদের হেলমেট প্রায় ছুঁয়ে যাচ্ছে একে অপরকে।
এক মুহূর্তের নীরবতা, শুধু দুটো বাইকের ইঞ্জিনের গর্জন, আর চোখে আগুনের প্রতিযোগিতা।
রায়ান মৃদু হেসে বলল—“Not bad.”
মিরায়া নিচু গলায়, যেন কামড়ে কামড়ে উচ্চারণ করল—
“Try to keep up.”
তারপরই তারা দু’জনেই হঠাৎ একসাথে গিয়ার টানল—
ভূউউমমমম!!! দু’জনের বাইক একসাথে সামনে ছুটে গেল,
বাতাসের চাপ এতটাই তীব্র যে দর্শকের চুল উড়ে যাচ্ছে, ব্যানার ছিঁড়ে যাচ্ছে!
বাতাস কাঁপছে, ট্র্যাকের ওপর ধোঁয়া জমে আছে মেঘের মতো। মিরায়া আর রায়ান মুখোমুখি থেকে হঠাৎই গিয়ার টেনে ছুটে গেল—ভূউউউউমমম!!
প্রথম বাঁকে রায়ান বাইকটা হালকা কাত করে corner dive দিল, বাইক প্রায় মাটিতে সমান হয়ে গেল— টায়ারের নিচে আগুনের রেখা! মিরায়া সামান্য পেছনে, কিন্তু হঠাৎই সে বাইকটা বাম দিকে ঝুঁকিয়ে counter drift দিয়ে কেটে গেল—
রায়ানের সামনে এসে বাইকটা ঘুরিয়ে তার সামনে cross block!
রায়ান হেসে ফেলল— “নাইস ট্রাই... বাট আই’ম নট ডান ইয়েট।”
তার বাইকের সামনের চাকা উঁচু হলো, সে wheel-hop দিয়ে মিরায়ার বাইককে সামান্য এড়িয়ে গেল, দু’জনের বাইক কিঞ্চিত পরিমাণে একে অপরকে ছুঁয়ে গেল— ঠাসসস!! ধোঁয়া উড়ে গেল বাতাসে।
দর্শকেরা চেঁচিয়ে উঠল—“ওওওও!! ওভারটেক!!! ওভারটেক!!!”
মিরায়া পেছনে না থেকে আবার গিয়ার দিল। তার বাইকের ইঞ্জিন যেন গর্জন করে বলছে— “আই’ম কামিং ফর ইউ!”
সে রায়ানের ঠিক পেছনে এসে বাইকের লাইট অফ করল—
এক মুহূর্তের জন্য রায়ান বুঝতেই পারল না সে কোথায়!
“What the hell—?”
হঠাৎই মিরায়া পাশের লেনে ঝাঁপিয়ে পড়ে সামনে চলে এলো—“Surprise!”
রায়ান হেসে চোয়াল শক্ত করল— “স্মার্ট... বাট নট ইনাফ।”
তারপরই বাইকটা ঘুরিয়ে side drift দিয়ে বাঁক নিল, এক হাত দিয়ে গিয়ার, অন্য হাতে থ্রটল টেনে সে বাইকটা ঘুরিয়ে snake slide চালাল। বাঁক পেরোতেই আবার সামনে চলে এল, মিরায়ার একদম কাঁধ ঘেঁষে!
বাইকদুটো প্রায় পাশাপাশি, দু’জনের কাঁধ একে অপরের হেলমেটে ছুঁয়ে যাচ্ছে। টায়ার ঘর্ষণে ধোঁয়া, কানে শুধু গর্জন,
মিরায়া ঠোঁট বাঁকিয়ে নিচু গলায় বলল—“ইচ্ছে করে ধাক্কা খাওয়ার শখ হয়েছে নাকি?”
রায়ান কুটিল হেঁসে নিচু স্বরে উত্তর দিল—“কুইনের কি ক্রাউন পড়ার আগেই তা হাড়ানোর শখ হয়েছে নাকি?"
মিরায়া মনে মনে-"এই বেডা তো মহাবজ্জাত বউ ছাড়া কোনো মেয়েকে মেয়ে বলে মানে না নাকি? এতো কম্প্যাটেটিভ? যাক ভালো, মানে এখনো আমাকে চিনতে পারে নি। আসলে কি চেনার কথা? একবার তো দেখেওনি আমার দিকে! আমার কি খুশি ড়ওয়া উচিত যে আমার বর অন্য মেয়েকে দেখতে না ? কিন্তু মেয়েটা তো আমি!" তবে আর বেশি না ভেবে সে তখন রেসে মন দিল।
দু’জনের বাইক আবার সামনের দিকে ছুটে গেল—এবার zigzag lane chase শুরু হলো। রায়ান ডান দিকে, মিরায়া বাম দিকে, দু’জনেই একে অপরকে ছেড়ে দিচ্ছে না এক ইঞ্চিও! রায়ান বাইকটা হঠাৎ slide turn করে পিছন ঘুরে reverse ride শুরু করল—বাইক পিছন দিকে চলছে ২৫০ কিমি স্পিডে, রায়ান তাকিয়ে আছে মিরায়ার দিকে, ঠোঁটে এক টুকরো হাসি। মিরায়া তার পিছনে ছিল বলে ব্যঙ্গ করে বলল- “Still following me?”
মিরায়া কোনো জবাব দিল না। শুধু বাইকটা এক চোট ঘুরিয়ে front flip wheelie দিল—সামনের চাকা বাতাসে, পিছনের টায়ার রাস্তায় ঘষে আগুনের রেখা টেনে সামনে চলে এলো।
ভূউউউমমম!! এক মুহূর্তেই সে রায়ানের ঠিক সামনে এসে পড়ল!
দর্শকেরা উঠে দাঁড়িয়েছে—মোবাইলের ফ্ল্যাশে আলো ঝলমল করছে।
-“রায়া! রায়া!”-“রায়ান! রায়ান!” দুই নামই একসাথে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে!
রেসের মাঝখানে speed trap zone— ওখানে সেন্সর মাপছে স্পিড। রায়ান পেরোল ২৯২ কিমি/ঘণ্টা,
মিরায়া ২৯৮ কিমি/ঘণ্টা!!! ঘোষক চেঁচিয়ে উঠল— “আনবিলিভেবল!! শি’জ ব্রেকিং দ্য লিমিট!!”
রায়ান এবার সম্পূর্ণ মনোযোগ দিল। তার বাইকের ইঞ্জিনের শব্দ বদলে গেল— একেবারে গভীর, ভারি, গম্ভীর।
সে বলল নিজের সঙ্গে—“নো মোর হোল্ডিং ব্যাক।”
তার বাইক এবার nitro burst চালু করল—নীল আগুনের রেখা ছুঁয়ে গেল ট্র্যাকের মাটি। রায়ান এগিয়ে যাচ্ছে! মিরায়া চোখ ছোট করে, ঠোঁট কামড়ে গিয়ার শিফট করল আর নিজের বাইকের উদ্দেশ্যে বলল—"লেট'স ফ্লাই বেইবি। আর ইউ রেডি?" বাইক গিয়ারে গর্জে উঠলো- "ভ্রুররররমমম!"
সে বাইকটা dual brake slide করে এক পাশে ঝুঁকিয়ে নিল, তারপর হঠাৎ আবার সোজা। দু’টো বাইক পাশাপাশি এসে পৌঁছাল শেষ লেনের আগে S-turn এ! রায়ান আগে ঢুকল, কিন্তু মিরায়া বাইকটা ৪৫° অ্যাঙ্গেলে কাত করে inside lane trick দিয়ে কোণ ঘুরে বেরিয়ে এলো। দু’জনের বাইক প্রায় ঠুকে গেল একে অপরের সঙ্গে- ঠাসসস!! ধোঁয়া আর স্ফুলিঙ্গ উড়ে গেল আকাশে!
দর্শকরা পাগলপ্রায়—কেউ চেঁচাচ্ছে, কেউ নিশ্বাস নিতে পারছে না! এক মুহূর্তে রায়ান সামনে, পরের মুহূর্তেই মিরায়া—
যেন বজ্র আর আগুনের দৌড় চলছে একসাথে! রেস এখন শেষ পর্যায়ে ঢুকছে, বাতাসে টায়ারের গন্ধ, ইঞ্জিনের গর্জন আর মানুষের গলার চিৎকার একসাথে মিশে গেছে। দু’জনেই এখন শুধু একে অপরকে দেখছে হেলমেটের আড়াল থেকে। চারপাশে কিছু নেই, নেই দর্শক, নেই আলো, নেই শব্দ—
শুধু রেস…শুধু তারা দুজন…আর একটাই লক্ষ্য — ফিনিশ লাইন।
রেসের ট্র্যাক একেবারে শেষ বাঁকে পৌঁছেছে। বাতাস কাঁপছে, ধুলো ও আগুনের লেগেছে স্রোত। রায়ান আর মিরায়া একে অপরের ঠিক পাশে—প্রায় কাঁধ ঘেঁষে। দু’জনের বাইক ২৯৫–৩০০ কিমি/ঘণ্টার স্পিডে, চাকা পিচ্ছে পিচ্ছে আগুন ফাটাচ্ছে। মিরায়া হঠাৎ সামনের চাকা উঁচু করে সোজা সামনের দিকে ছোটাল— front wheel hop, ঠিক রায়ানের লাইন কেটে সামনে চলে যাওয়ার মতো। রায়ান মৃদু হাসল, এক হাত দিয়ে হ্যান্ডেল ধরে, অন্য হাতে quick throttle twist—পিছনের চাকা উঁচু করে rear wheel hop, ঠিক মিরায়ার সামনে এসে দাঁড়াল।
দর্শকেরা চেঁচিয়ে উঠল—“ওওওওওওও!! এটা কি হলো?!”
লারা মাইকে চিৎকার করলো-“বাইকস আর লিভিং দ্যা গ্রাউন্ড!!”
মিরায়া ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে হালকা বলল—“ট্রাই টু ক্যাচ মি।”
রায়ান চোখের কোনে মুচকি হেসে বলল— “ক্যাচ? নাহ… আই’ল লিড। ফোলো মি।”
দুই বাইক প্রায় একসাথে side-to-side drift দিল। মিরায়া হঠাৎ zigzag lane cut করল, হালকা বাঁক দিয়ে রায়ানের বাইকের পাশে এসে পড়ল। রায়ান lean-turn করে তাকে এড়াল, এক চোটে snake-slide—দু’জনের বাইক যেন একসাথে নাচছে, প্রতিটা চাকা, প্রতিটা স্পিড, প্রতিটা মুহূর্তে ঝুঁকি! হঠাৎ মিরায়া গিয়ার শিফট করল, এক মুহূর্তে double wheelie—সামনের চাকা বাতাসে, পেছনের চাকা ঘষে আগুনের রেখা টেনে এগিয়ে গেল।
রায়ান হাসল, চোখে আগুন—“নট ব্যাড… বাট ক্যান ইউ হ্যান্ডেল দিস?”
হঠাৎ সে হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে সামনের চাকা ঠাসস করে মাটিতে,
একটি power slide দিয়ে মিরায়ার পাশ দিয়ে আগুনের রেখা ছুঁয়ে সামনে চলে গেল। মিরায়া এক মুহূর্তের জন্য ধ্বংসপ্রায় মনে হলেও, তার বাইক আবার হঠাৎ tight spin করল, সামনের চাকা উঁচু করে সোজা সামনের দিকে ছোটাল,
পিছনের চাকা হালকা চাকা-পিচ্ছিল করে রায়ানের ঠিক আগে এসে দাঁড়াল—দু’জন মুখোমুখি, বাইকের কাছে বাইক, হেলমেটের মিসর ভেদ করে চোখে চোখ।
দর্শকরা চেঁচিয়ে উঠল—“রায়া! রায়া! রায়ান! রায়ান! কি চলছে!? মাই গোড ইনসেইন!!”
রায়ান ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি, মনের মধ্যে—“ওওহহ ওয়াও! শি’জ টাফ… আই লাইক দ্যাট। ইট'স ফান!”
মিরায়া চোখ বড় করে, মনে মনে বলল—“ডিস ইজ মাইন। ডোন’ট ইভেন থিংক অ্যাবাউট ইট হাবি। লেইটার দেন আই উইল হ্যাভ ইউ অ্যা ওয়েল।”
দু’জন একসাথে wheel hop spin, সামনের চাকা বাতাসে, পেছনের চাকা আগুন ছুঁড়ে, এক মুহূর্তে পাশের লেনে কেটে গেল। হঠাৎ এক চোটে রায়ান reverse drift করল, মিরায়ার দিকে মুখ ঘুরিয়ে smack-tap দিচ্ছে।
মিরায়া হেসে উত্তর দিল- “ইস দ্যাট অল ইউ গট, কিং?”
বলেই এক হাত দিয়ে হ্যান্ডেল ধরে, অন্য হাত দিয়ে counter slide, পেছনের চাকা দিয়ে সামনের চাকা ছুঁয়ে রায়ানের বাইককে সামান্য ঠেলে দিল।
দর্শকরা পাগলপ্রায়, কেউ চিৎকার করছে, কেউ মোবাইল তুলে ভিডিও করছে—“ওওওওও!! ওভারটেক!! হ্যাড্ডাহ্যাড্ডি স্টান্ট!!”
রায়ান আবার সামনের চাকা ঘুরিয়ে mini jump, মিরায়া সঙ্গে সঙ্গে dual wheel hop, এক চোখে চোখ রেখে, সামনের চাকা উঁচু করে ঠিক পাশে এসে দাঁড়াল। দু’জনের মধ্যে যেন দুই আগুনের রেখা, ধোঁয়া উড়ছে, ট্র্যাক কেঁপে উঠছে।
মিরায়া ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে মনে মনে বলল— “লেটস ফিনিশ দিস উইথ স্টাইল, মাই কিং।”
রায়ান ধীরে এক হাত দিয়ে হেলমেটের ভিসর উপরে টেনে হালকা হাসল সেও মনে মনে আওড়ালো-"আমি আমার রাইডিং লাইফে এমন রেস করি নি। সো মাচ ইন্টারেস্টিং।"
দু’জন আবার গিয়ার ফাইভে ঢুকল, চাকা ঘর্ষণ, আগুনের রেখা, ট্র্যাকের ধুলো। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, চোখে চোখ।
সবাই মনে করছে— “এভাবে আর কেউ রেস করে! দু’জনেই দেখার মতো চিজ।”
রেসের শেষ লুপে বাতাস কাঁপছে। ট্র্যাকের ধুলো, আগুনের রেখা, চাকা ঘর্ষণের শব্দ—সব মিলিয়ে যেন একটি ঝড়।
রায়ান আর মিরায়া রেস ট্র্যাকে চোখে চোখ রেখে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালাচ্ছে। মিরায়া সামনের চাকা উঁচু করে সামনের দিকে ছোটাচ্ছে, তারপর quick spin, সামনের চাকা দিয়ে হালকা জাম্প, পেছনের চাকা আগুনের রেখা। রায়ান সঙ্গে সঙ্গে counter drift, সামনের চাকা দিয়ে সামান্য হালকা স্পিন, wheel hop, মিরায়ার বাইকের ঠিক পাশ দিয়ে কেটে যায়। দু’জন একসাথে tight zigzag, হ্যান্ডেল-চালনা একটুও ভুল হয় না। মিরায়া হঠাৎ reverse lean turn, সামনের চাকা উঁচু, রায়ানের বাইকের ধুলো পেরিয়ে সামনের লেনে ফিরে আসে। রায়ান হেসে হ্যান্ডেল ঠিক রেখে mini jump slide, আবার সামনের চাকা দিয়ে হালকা spin, মিরায়ার মুখোমুখি এসে touch tap—দু’জনের চোখে আগুন।
দর্শকরা পুরো গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে—
“ওওওওওও! ওভারটেক!! ডুয়েল অব দ্যা নাইট!!”
“রায়া রায়া! রায়ান রায়ান!”
মিরায়া হঠাৎ এক high speed front wheel pop দিয়ে সামনের চাকা উঁচু করে ট্র্যাকের ধুলো ছুঁড়ে, সামনের লেনে কেটে যায়। রায়ান সঙ্গে সঙ্গে lean-slide-spin, সামনের চাকা উঁচু করে হালকা হাওয়ায়, পেছনের চাকা আগুন ছুঁড়ে, ঠিক মিরায়ার পাশে এসে দাঁড়ায়। দুই বাইকের dual hop-spin, সামনের চাকা উঁচু, পিছনের চাকা আগুন ছুঁড়ছে।
মিরায়া ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বলল— “ইউ’র গোনা হ্যাভ টু ডু বেটার দ্যান দ্যাট।”
রায়ান চোখের কোনে হালকা হাসি—"ব্রিং ইট অন।"
দু’জন একে অপরকে চেপে ধরছে, ট্র্যাক কেঁপে উঠছে। হঠাৎ, মিরায়া সামনের চাকা উঁচু করে হালকা 360° spin, আগুনের রেখা, পেছনের চাকা ধুলো ছুঁড়ছে। রায়ান হঠাৎ reverse lean jump, সামনের চাকা উঁচু, বাইকের ধুলো মিশে আগুনের রেখা ছড়ায়, ঠিক মিরায়ার পাশ দিয়ে এসে সামনের লেনে কেটে যায়।
দর্শকরা একসাথে চেঁচিয়ে উঠছে—"ইস শিট! ক্যান রায়া হ্যান্ডেল দিস??”
মিরায়া হঠাৎ triple hop-wheel, সামনের চাকা বাতাসে, পেছনের চাকা আগুনের রেখা, পুরো গ্যালারিতে ধুলো আর আগুনের ঝলক। রায়ান সঙ্গে সঙ্গে counter hop-spin, সামনের চাকা উঁচু, সামান্য ধাক্কা দিয়ে আগেরর লেনে ফিরে আসে। দু’জনের মধ্যে হঠাৎ একটা গ্যাপ চলে আসে। সেই মুহূর্তে মিরায়া অনেক টা এগিয়ে যায় রায়ানের থেকে তবে রায়ান নিজ গতিতে ঠিক পিছনৈই আছে স্পিড অনেক টা কমে গেছিল তাই গিয়ার চেন্জের পর খুব দ্রুত এগোতে থাকে রায়ান।
হঠাৎ—মিরায়া সামনের চাকা উঁচু করে হালকা লাফ, ঠিক তখনই পেছন থেকে মার্বেল আঘাতের ঝুঁকি আসে।
মার্বেলগুলো রাস্তায় পড়তে শুরু করে, ট্র্যাকের উপর।
দর্শকরা চিৎকার করছে, কেউ মোবাইল তুলে ভিডিও করছে, কেউ হ্যান্ডস তুলে কাঁপছে—“ওওও! শিট, মার্বেল! এগুলো কোথা থেকে এলো!”
মাহির-"হুয়াট দ্যা হেল ইজ গোয়িং অন উইথ দ্যা গার্লস। মেয়েটার লেগে যাবে তো।"
মাহিরের এমন কথার কারণ ব্যাখ্যা করা যাক!
( ফ্ল্যাশ ব্যাক~
গ্যালারি তে অন্যান্য রাইডার রা ও রেস টা দেখছিল। যতক্ষণ মিরায়া রায়ানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল বা রায়ান মিরায়ার আগে ছিল ততক্ষণ সব ঠিক ছিল। তবে মিরায়া রায়ানকে কয়েক মুহূর্তের জন্য ছাড়িয়ে এগিয়ে গেছে দেখতে পেয়ে বাকি লেডি বাইকার রা জ্বলে যাচ্ছিল। সবার মধ্যে হঠাৎ জান্নাত সোজা ট্যাকের দিকে তাকিয়ে বলল-
"একটা বাইরের মেয়ে রাইডার কুইনের ট্যাগ নিয়ে যাবে তা হতে পারে না।"
বাকিরা আড় চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো-"তো কি করবো? জেতার পর তালি দেওয়া ছাড়া আর কিছু তো কার মতো ও নেই।"
নূর হঠাৎ অনামিকা কে ইশারায় কিছু বলল অনামিকা সেটা ঠিক বুঝে নিয়ে একটা ব্যাগ বের করলো- ব্যাগ ভর্তি ছিল মার্বেল। রেস জিনিস টা রাইডার দের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ আর তা জিততে নোংরা ট্রিক্স ব্যবহার করা রেসিং ওয়ার্ল্ডে খুব অজনপ্রিয় নয়। সেই মার্বেল গুলো ও আনা হয়েছিল নিজের জয় নিশ্চিত করতে। যদিও সেই ক্ষেত্রে কাজে নি তবে অন্য কে হাড়াতে ঠিক লাগবে। অনামিকা আর নূর ইচ্ছা করে মিরায়ার দিকে সেই মার্বেল গুলো ছুঁড়ে দেয়।)
বর্তমান ~
মিরায়ার চোখ কান বরাবরই খোলা থাকে রেস করা কালীন সে মার্বেলের গতিবিধি বুঝতে পেরেছিল তবে বাইকের স্পিড এতো বেশি ছিল সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও ব্যালেন্স হাড়ানো নিশ্চিত শুধু ক্ষতি এড়ানো সম্ভব তবে হবে। মিরায়া নিজের বিচুক্ষনতায় চাকা উঁচু করে লক্ষ্য বুঝতে পেরেছে, চোখের কোনে ঝলক নিয়ে স্পিড সঙ্গে সঙ্গে কমিয়ে ব্যালেন্স করার চেষ্টা করল। কিন্তু বাইকের গতি এত বেশি, মার্বেলের আঘাত এড়াতে পারলেও ব্যালেন্স রাখা সম্ভব হয় নি। মিরায়া বাইকটার উপর নিয়ন্ত্রণ হারায়, আর সাথে সাথে ট্র্যাকের উপর পড়ে যায় ছিটকে। আঘাত বেশি লাগেনি সেফটি ছিল তাই তবে হাতে সামান্য চাপ পড়েছে এটা তার জন্য আহামরি কিছু না। আকস্মিক ঘটনায় সে সামান্য অবাক তাই পরিবেশ বুঝতে কিছুটা সময় লাগলো।
রায়ান পিছন থেকে সোজা তাকিয়ে, পুরো ঘটনাটা চোখে ধরল। অন্য রাইডাররা যে ইচ্ছা করে এটা করেছে তাও রায়ানের চোখ এড়ায়নি। রায়ান দূর থেকে এসব দেখে মনে মনে দাঁত কিরমির করে বলল-"হাউ ন্যারো মাইন্ডেড পিপল। হাহ্! মেয়ে হয়ে মেয়ে জিতবে তা সহ্য করতে পারে না। কি হিংসুটে এক জাতি ভাবা যায়!"
রায়ান মার্বেল থেকে দূরে বাইকের পাশে হালকা জাম্প, বাইক সাইড কাটিয়ে, ঠিক মিরায়ার পাশ দিয়ে নিরাপদে এগিয়ে গেল সে। মনে মনে বলল—“স্মল মাইন্ডস আই নো … বাট আই ক্যান্ট স্টপ। নট টুডে।"
রায়ানের বাইকের স্পিড খুব হয়ে গেছে এখন না চাইতেও বাইকটা সঙ্গ দিচ্ছে না আর চলতে। রায়ান নিজের মনকে মানাতে পারছে না-"রায়ান হুয়াটস রোং উইথ ইউ? মেয়েটার হেল্প লাগবে। গো এ্যান্ড হেল্প হার ড্যামেট।"
রায়ান বিড়বিড় করলো-"আই ক্যান'ট উইন লাইক দিস! ওহ গোড! শিট!"
ফিনিশ লাইনের দিকে এগিয়ে গেল রায়ান, তবে ক্রস করলো না বরং ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে ফিনিশের ঠিক এক ইঞ্চি পরিমাণ ফাঁকা রেখে হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল, একবার পিছনে তাকাল—মিরায়ার বাইক ট্র্যাকে পড়ে আছে, সে নিজেই উঠে দাঁড়িয়েছে তবে হাতে লাগার কারণে বাইকটা তুলতে হিমসিম খাচ্ছে। তবুও চেষ্টা করছে।"
মিরায়া হঠাৎ সবকিছু ঘটাতে তে ব্যাথা বুঝছে না কোনো শুধু মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে তার হাড় মানলে চলবে না। মিরায়া নিজেকে সাহস দিল-"কাম অন রায়া। ইউ ক্যান্ট লুজ লাইক দিস।"
রায়ান হাঁফ ছেড়ে সাথে সাথে বাইক ইউ টার্ন নিয়ে মিরায়ার দিকে যায়। গ্যালারি তে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে দেখছে সেই মুহূর্তে। হোস্ট দুইজন ও মাইক অফ করে দাঁড়িয়ে গেলেন কারো মুখে কোনো কথা নেই। সবার দুই চোখ এখন রায়ান আর মিরায়ার উপর। পিনড্রপ সাইলেন্স সম্পূর্ণ গ্যালারি তে। মনে হচ্ছে শুধু রায়ান আর মিরায়া দুইজনই ট্র্যাকের উপর। রায়ানকে ফিনিশ লাইনের এতো কাছে থেকে নিজের দিকে আসতে দেখে মিরায়া ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। রায়ান কিছু সময়ের মধ্যেই মিরায়ার কাছে এসে বাইক থেকে নেমে মিরায়ার বাইকটা তুলতে যাবে কিন্তু মিরায়া তার মাঝে। রায়ান মিরায়ার দিকে তাকিয়ে বলল-"মিস.রায়া প্লিজ গিভ আ সাইড।"
মিরায়া হুসে ফিরে সাথে সাথে সড়ে দাঁড়ালে রায়ান মিরায়ার বাইকটা তুলে দিয়ে একবার স্টার্ট দিয়ে দেখলো। বাইক ঠিক মতোই চলছে। রায়ান এবার বাইকটা ট্র্যাকে সোজা দাঁড়া করিয়ে বলল-"বাইকটা আপনার তার প্রতি করা যত্ন খুব ভালো রিটার্ন করছে। নাও ইট'স ইউর টার্ন , রাইড ইট লাইক ইট'স দ্যা লাস্ট টাইম।"
মিরায়া এক চিলতে হাসলো হেলমেটের আড়ালে। তার হঠাৎ খুব ইচ্ছে করল রায়ানকে জড়িয়ে ধরতে তবে হাত পা বাঁধা। মিরায়া মনে মনে বলল-"খুব ইচ্ছে করছে আপনাকে কাছে পেতে। তবে এখন না, আদর্শ স্বামী হওয়ার পরীক্ষায় পাস করলে আপনাকে খুব কাছে টানবো, প্রমিস। আর কখনো যেতে দেব না। আপনি চাইলেও না।"
রায়ান মিরায়াকে কিছু বলতে না দেখে মিরায়াকে শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল-"হ্যালো মিস.? আপনি ঠিক আছেন? কোথাও চোট লেগেছে?"
মিরায়া মাথা না সূচক বাড়ালো মুখে কিছু বলল না। রায়ান মিরায়াকে বাইক টা দিয়ে বলল-"গো এ্যান্ড উইন ইট।"
মিরায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো ভারি গলায়-"আপনি ফিনিশ লাইন থেকে ঘুরে এসে এখন আমাকে জিততে বলছেন। আদতেও কি এটা আমার জিৎ হবে?"
রায়ান গ্যালারিতে মার্বেল ছুড়ে দেওয়া মেয়েগুলোর দিকে একবার তাকিয়ে মিরায়াকে বলল-"যারা হাড়াতে চায় তাদের কাছে হেড়ে গেলে সেটা অসম্মান জনক। তার চেয়ে নাহয় এইবারের মতো এভাবেই দিতে গেলেন।"
মিরায়া গম্ভীর গলায় বলল-"রায়া এভাবে কখনো জেতেনি আর না জিতবে। ওইসব ছোট মন মানসিকতার মানুষের আমাকে হাড়াতে চাওয়ায় আমি হেঁড়ে গেলেও আমার অসম্মান হবে বলে আমার মনে হয় না। ইউ ক্যান উইন ইট। গো।"
রায়ান বুঝতে পারলো রায়ার (মিরায়ার) আত্মসম্মান রেসের ট্রফির থেকেও বড়। সে স্বাভাবিক ভাবে মিরায়াকে আবার বলল-"আমি এখন জিতলে সেটা বাই ডিফল্ট জেতা হবে। আপনার কাছে অযুহাত থাকবে বলার জন্য- আপনি জিততে পারেন নি চিটিং হয়েছিল তাই। রায়ান চৌধুরী এমন জিতার ধার ধারে না। সো ইউ গো এ্যান্ড উইন।"
মিরায়ার এবার আরো জেদ চেপে বসলো-"ইদার ইউ উইন অর ফরগেট ইট।" দুই হাত আড়াআড়ি করে বুকে বেঁধে।
রায়ান ভ্রু কুঁচকে তাকালো। এভাবে হঠাৎ রেস থেমে যাওয়ায় গ্যালারির সবাই চিৎকার চেঁচামেচি করতে লাগলো-
"আরে কি হলো হঠাৎ দুইজন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে কেন আছে!?"
-"রেস কি আর হবে না!"
লারা আর আদ্রিয়ান দুইজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে ইশারা করলো। তারপর ই এ্যানাউন্স করল রায়ান মিরায়ার উদ্দেশ্যে -"ইজ দ্যায়ার এনি প্রবলেম?"
রায়ান চারপাশে একবার দেখে উত্তেজিত গ্যালারিতে সবার কথা শুনে মিরায়ার দিকে দেখলো। মিরায়া এখনো নিজের মতোই দাঁড়িয়ে আছে। রায়ান নিজের হেলমেটটা দুই হাতে ধরে মাথা ঝাঁকিয়ে অবশেষে প্রস্তাব দিল-"ওয়ানা উইন টুগেদার?"
মিরায়া অবাক চোখে তাকিয়ে রইল। রায়ান আবার বলল-"হারি আপ, সে সামথিং! হুঁ ইউ ওয়ানা শেয়ার দ্যা উইনিং?"
মিরায়া-"হাও ক্যান উই উইন টুগেদার? শেয়ার কিভাবে করে আবার উইনিং?"
রায়ান মিরায়া কে সোজা বলল-"আই ওয়ান্ট দ্যাট ট্রফি সো ইউ ক্যান হেভ দ্যা প্রাইজ মানি।"
মিরায়া হেলমেটের ভিতরে চোখে ছোট ছোট করে বলল-"আপনার ট্রফি কেন লাগবে?"
রায়ান আবারো শান্ত স্বাভাবিক ভাবে বলল-"আই প্রমিসড মাই ওয়াইফ টু ব্রিং হার দ্যা ট্রফি। ওভারে দ্যাট আই ডোন্ট নিড দ্যা মানি।"
মিরায়া হালকা বিরক্ত হয়ে মনে মনে বিড়বিড় করলো-"ওই একই তো হলো ট্রফি তো আমি আর পাচ্ছি। যেই লাউ সেই কোডু।"
মিরায়া চার পাশটা একবার দেখলো সবাই মুখিয়ে আছে রেস শেষ হওয়ার জন্য। মিরায়ার মনে শান্ত করে রায়ানের প্রস্তাব মেনে নিয়ে বলল-"ওকে, রিচ কিং। হ্যাভ দ্যা ট্রফি।"
মিরায়া টাকা টা নিলো কারণ এটা তার চট্টগ্রামে বাইক কমিউনিটির প্রাপ্য তার জন্য ট্রফি টুকুই বরাদ্দ যা সে এমনটিও পাবে রায়ানের থেকে। রায়ান এবার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল-"গেট অন দ্যা বাইক ফাস্ট।"
দুইজন একসাথে হেলমেট ঠিক করে, গ্লাভস ঠিক করে, বাইকের পাশে দাঁড়াল। গ্যালারি আবার মেতে উঠল চিৎকারে—
“রায়ান! রায়া! রায়ান! রায়া!”
শব্দগুলো যেন বাতাসের সঙ্গে মিশে রেসট্র্যাকের প্রতিটি কোণায় পৌঁছাচ্ছে।
হোস্টরা আবার অ্যাক্টিভ হয়ে মাইকে ঘোষণা করল—
“লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলমেন! দ্য কিং অ্যান্ড কুইন আর অন ট্র্যাক-! ওয়াচ দেম কংকিউর স্পিড, স্কিল অ্যান্ড স্টাইল—টুগেদার!”
মার্বেল ছোড়া অনামিকা, নূর, জান্নাত, মেহের—সবাই হিংসায় জ্বলে উঠল। রায়ান মিরায়া দুইজন একসাথে বাইকের উপর চড়ল, দুইজনে একে অপরকে হেলমেটের ভিসর দিয়ে দেখলো। ইঞ্জিনের গভীর গর্জন যেন পুরো ট্র্যাককে কম্পিত করে তুলল। বাতাস কেটে যাচ্ছিল, রেসট্র্যাক যেন একসাথে শ্বাস নিতে শুরু করল।
রায়ান-মিরায়ার চোখে আগুন, ধমনিতে উত্তেজনার রক্ত উথলাপাথল। গ্যালারি ইতিমধ্যেই পূর্ণ, চিৎকার আর উত্তেজনা বাতাসে মিশে রেসট্র্যাকের প্রতিটি ইঞ্চি স্পন্দিত করছে। প্রত্যেক দর্শক যেন নিজের হৃদয়কে বাইকের সঙ্গে মেলাচ্ছে—একটি অদ্ভুত উত্তেজনার সমুদ্র।
ইঞ্জিন আবারও গভীর গর্জন করল, ধুলো এবং ধোঁয়ার সাথে বাতাস কেটে এগোতে লাগল। বাইকের শব্দ, চাকা ঘূর্ণনের আওয়াজ, ধোঁয়ার সাথে মিশে এক ধরনের মহা সিম্ফনি তৈরি করল।
মিরায়া সামনের চাকা উঁচু করে হালকা লাফ, পিছনের চাকা স্পিনিং করে আগ্রাসী ধোঁয়া ছড়াল। প্রতিটি লাফে সে যেন রেসট্র্যাকের বায়ুকে নিজের মতো নাচাচ্ছে। সে সামনের দিকে ঝাপ দিয়ে, হঠাৎ সাইড সুইভ করে, ব্যালেন্স ধরে রেখেই micro-lift নিল। রায়ান পেছনের চাকা উঁচু করে narrow jump নিল। প্রতিটি চাকা, প্রতিটি লাফ নিখুঁত, যেন বাতাসও তাদের প্রতি সম্মান জানাচ্ছে। দুইজন এক মুহূর্তের জন্য মুখোমুখি, চোখে চোখ—কোনও চ্যালেঞ্জ নেই, শুধুই অদ্ভুত মিলন এবং পারফেকশন। বাইকের সাউন্ড, ধোঁয়া, আগুনের রেখা—সব মিলিয়ে যেন সিনেমার একটি অবিশ্বাস্য দৃশ্য।
দর্শকরা পুরোপুরি মুগ্ধ। মোবাইলের ফ্ল্যাশ, চিৎকার, হাততালি—সব মিলিয়ে একটি উত্তেজনার সিলসিলা, যা হৃদয় স্পন্দনকে থামাতে বাধ্য করছে। কেউ হাঁটতে পারছে না, কেউ শ্বাস নিতে ভুলে গেছে, কেউ নিজের চোখ বন্ধ করে অনুভব করছে—মাঝখানে একটা গরম অনুভূতি, যে অনুভূতি কেবল বাইকের স্টান্ট আর দক্ষতা দেখে আসে।
দুইজন একসাথে লাইনে এগোতে লাগল। সামনের চাকা হালকা উঠানো, পিছনের চাকা উড়ানো, সাইড সুইভ, হালকা জাম্প—সব মিলিয়ে যেন একটি নাচ, এক একটি রিদমে হৃদয় স্পন্দন।
গ্যালারি চিৎকার করছে, সবাই একসাথে—
“রায়ান! রায়া! রায়ান! রায়া! কিং এ্যান্ড কুইন !”
বাতাসে ধোঁয়া, বাইকের আগুনের রেখা, প্রতিটি চাকা ঘূর্ণন—সব মিলিয়ে সিনেমাটিক মুহূর্ত। মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে রেসট্র্যাকের প্রতিটি ইঞ্চি এক জ্বালাময়ী উত্তেজনার সঙ্গে আগুনে ঝলসে যাচ্ছে। দুইজন শুধু এগোচ্ছে, প্রতিটি মুহূর্তে নতুন উত্তেজনা, নতুন স্টান্ট, নতুন ধোঁয়া, দর্শকদের হৃদয়স্পন্দন নিয়ে খেলা করছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, শুধুই প্রদর্শনী, দক্ষতা, এবং রাইডারের পূর্ণ আত্মার প্রকাশ। দর্শকরা এমন উত্তেজনায় জেগে আছে যে, মনে হচ্ছে কেউ এক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করলে, পুরো ঘটনা মিস হয়ে যাবে।
মিরায়া সামনের চাকা হালকা তুলে সামনের লেনে নাড়াচাড়া করছে, পিছনের চাকা স্পিনিং করে আগ্রাসী ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। রায়ান সামনের চাকা সামান্য তুলে সামনের লাইন ধরে রাখছে, সামনের লেনের বাঁকগুলো নিখুঁতভাবে কাটছে।
প্রতিটি স্টান্ট—front wheel lift, micro-jump, slight drift control—সবই তাদের হাতের স্পর্শে নিখুঁত। দর্শকেরা যেন শ্বাস আটকে ধরে দেখছে, বাইকের চাকা যেন বাতাসের সঙ্গে লড়াই করছে, ধুলো এবং ধোঁয়া যেন বাতাসে আগুনের রেখা আঁকছে।
মিরায়া হালকা হেলমেটের ভেতর মুখের কোণায় এক ছোট্ট হাসি, তার চোখে একধরনের আত্মবিশ্বাসী আগুন। রায়ান চোখে এক স্থিরতা, মুখে শান্তি—তবু চোখের কোণায় ফুটছে উত্তেজনা, পুরো ট্র্যাককে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দক্ষতা।
দুইজন perfect synchronization-এ বাইকের স্টিয়ারিং, লেগ আর হ্যান্ডেল নিয়ন্ত্রণ করছে। সামনের চাকা উঁচু, পেছনের চাকা স্পিনিং, হালকা drift—সব মিলিয়ে যেন একটি সিনিমাটিক ডুয়েট।
ফিনিশ লাইনের কাছে পৌঁছতেই—মিরায়া সামনের চাকা সামান্য হেলিয়ে টান দিয়ে সামনের লেনে রাখে, আর রায়ান একই মুহূর্তে সামনের চাকা সামান্য তুলে সামনের লেন ধরে রাখে।
দুইজন একসাথে, perfectly balanced, ফিনিশ লাইন ক্রস করে। ধুলো উড়ে যায়, ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, ইঞ্জিনের শব্দ যেন ধীরে ধীরে fade out হচ্ছে। বাইকের লেগ হালকা করে তাদের weight shift ঠিক রেখে দাঁড়ায়—প্রফেশনাল লেভেলের control, নিখুঁত execution।
গ্যালারির প্রতিটি চোখ বিস্ময়ে উন্মুখ, চিৎকার এবং মোবাইলের ফ্ল্যাশ—সব মিলিয়ে যেন রেসট্র্যাকের প্রতিটি কোণ আলোকিত।
দুইজন বাইকের উপর দাঁড়িয়ে আছে, হেলমেট হাতে, বুকের ভেতর উত্তেজনার ঢেউ, কিন্তু ব্যালেন্স, কন্ট্রোল এবং স্টাইল একেবারে প্রফেশনাল লেভেলে।
দর্শকরা একসাথে চিৎকার করছে—
“রায়ান! রায়া! রায়ান! রায়া! কিং এ্যান্ড কুইন ওন দ্যাট রেস!! ইয়েয়য়য়য়!!"
লারা আর আদ্রিয়ান একসাথে মাইকে আওয়াজ করে চেচালো-
"লেডিস এ্যান্ড জেন্টালম্যান প্রেজেন্টিং দ্যা আল্টিমেট উইনাস
The rider King and Queen of the Night— Ryan chowdhury & Raya Rahman!!!”
রায়ান মিরায়া শুধু একে অপরের দিকে তাকিয়ে নিজেদের জিৎ নিশ্চিত করলো।
চলবে,
কি বলবো বলো। বাস কেমন লেগেছে তোমাদের জানি ও কমেন্টে। পরের পর্ব লিখা শেষ হলে দিবো। প্লিজ সবাই একটা করে কমেন্ট কইরো আজকে এ্যাট লিস্ট। শরীরের অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গেছে। আমি ভাবিও নাই এমন কিছু হবে গল্প লিখতে শুরু করলে। অপেক্ষা করানোর জন্য 🙏। আপ্পির উপর রাগ করো না সোনারা ওকে? কমেন্ট এ প্লিজ পর্ব টা নিয়ে বইলো - ভালো লাগলে ভালো খারাপ লাগলে খারাপই ভালো সমস্যা নেই। Love you my pakhis ❤️ 🥰