ফন্ট সাইজ:
থিম:
শত ডানার প্রজাপতি

৩২তম পর্ব

লেখক: উর্মি প্রেমা

#শত_ ডানার_ প্রজাপতি

#urme prema (sajiana monir )

পার্ট : ৩২

গালে হাত দিয়ে আশে পাশে চোখ বোলাচ্ছি । শেফা তানবীর ভাই চুটিয়ে প্রেম করছে।আশেপাশে সবাই যে যার মত ব্যস্ত । একমাত্র আমিই বোর হচ্ছি । কারণ সামনে রাক্ষসরাজ বসে আছে । মুখ খুললেই এই মুহূর্তে ঝগড়া শুরু হবে । যা যুদ্ধের রূপ নিবে । যা করে আমি এই সুন্দর মুহূর্তটা নষ্ট করতে চাই না । আমি চুপ করে বসে আছি ।অগ্নি আমার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে গান ধরলেন ,

"বন্ধুর দুইটা চোখ ,আরে বন্ধুর দুইটা চোখখখ "

বন্ধুর দুইটা চোখ যেন দুই নালা বন্ধুক "

"আরে গুল্লি পাইরা "

ডিস্কাও~~~~ডিস্কাও

আমি উনার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছি ।এই মুহূর্তে আমার উনাকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে । জাস্ট খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে । আমি দাঁতে দাঁত চেপে বলি ,

- "এই সব কোন ধরনের অসভ্যতা ? কি সব গান গাইছেন? "

- "এখানে অসভ্যতার কি আছে? আর আমি বললেই অসভ্যতা তুমি বললে কিছু না? "

আমি তোতলাতে তোতলাতে বলি ,

- "আমি কবে এই গান বললাম? আপনি কেন মিথ্যা বলছেন? "

- "ভুলে গেছ সুন্দরী ? ওই যে ইয়াশার হলুদের রাতে । যেদিন আমাদের মধ্যে...

উনি আর কিছু বলার আগে আমি উনার মুখে হাত দিয়ে আটকাই । বাপরে যা লোক । এখনি সবার সামনে হাড়ি ভেঙে দিতো । আমি গোল গোল চোখ করে উনার দিকে তাকিয়ে আছি।রেগে চাপা স্বরে বলি,

- "আপনি কি নিয়ত করেই এসেছেন আমার সাথে শুধু ঝগড়া করবেন? আমার সাথে ঝগড়া হয়েছে বলে এই ভাবে পাবলিক প্লেসে আপনি আমার মানসম্মানের বারোটা বাজাবেন ? "

অগ্নি আমার হাতের তালুতে চুমু খায় । আমি রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে হাত সরিয়ে ফেলি । অগ্নি টেডি হাসি দিয়ে বললেন ,

- "আমি তো চাই ই তোমার সাথে একটু রোমান্টিক কথা বলতে ,একান্ত কিছু সময় কাটাতে । কিন্তু তুমি ,সেই সুযোগ দেও কই ? আমি সামনে থাকলেই পেঁচীর মত মুখ করে রাখো । তাই ভাবলাম তুমি ভালোয় ভালোয় কথা বলবে না । তাই একটু ঝগড়াই করা যাক । "

- "আমি পেঁচি ? আমি? আর আপনি কি দুধে ধোয়া তুলসী পাতা ! "

- "দেখেছো! এই যে তুমি আবার ঝগড়া শুরু করে দিয়েছো । "

- "আমি আর কোনো কথাই বলবো না !"

বলেই মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখলাম ।এমন সময় হাতে অগ্নির হাতের উষ্ণ স্পর্শ পেলাম । এই স্পর্শটা অন্যরকম একদম আলাদা । আমি মুখ ঘুরিয়ে অগ্নির দিকে তাকালাম । অগ্নির চেহারাটা কেমন যেন মলিন হয়ে আছে।ঠোঁটে মলিন হাসি । এই হাসিটা তেই আমার সব রাগ হাওয়া হয়ে যায় ।অগ্নি মৃদু স্বরে বললেন,

- "আমি জানি আমি অনেক ভুল করেছি । তোমার সাথে অন্যায় করেছি ।তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি । অনেক কাঁদিয়েছি । তার জন্য সারাজীবন ক্ষমা চাইলেও কম হবে । সবকিছু ভুলে আমাকে কি একটা সুযোগ দেওয়া যায় না ? সারাজীবন তোমাকে আগলিয়ে রাখবো । এতোটা ভালোবাসবো যে দুনিয়ার সব সুখ তোমার পায়ের কাছে এনে দিবো ! "

আমি চোখ নামিয়ে বলি ,

- "আমার কিছুসময়ের প্রয়োজন "

- "টেক ইউর টাইম । আমি তোমার উপর কোনো চাপ দিচ্ছিনা । তোমার যতসময় প্রয়োজন তুমি নেও কিন্তু সবশেষে উত্তরটা যেন আমার পক্ষেই হয়।আমি কোনো ভাবেই হারাতে পারবো না । আমি তোমার সাথে সব নতুন করে শুরু করতে চাই । তোমার প্রেমিক হতে যাই । মারাত্মক ভাবে আবারো তোমাতে আসক্ত হতে চাই ! "

আমি চোখ উঠিয়ে প্রশ্ন করি ,

- "আবারো মানে "

অগ্নি মুচকি হেসে উত্তর দেয় ,

- "তোমাকে যতবার দেখি নতুন ভাবে নতুন করে প্রেমে পড়ি ।তোমার প্রত্যেকটা রুপ মুগ্ধ করা ,পাগলপারা করে দেয় । এই দেখ আজ কালো পড়েছো । কালো সাধারণ শোকের চিহ্ন হয় । কিন্তু আমার কাছে এই কালো রং ও আজ প্রেমের রঙ মনে হচ্ছে ।তুমি জানো তোমার এই কানের ঝুমকাটাকে আমার কত হিংসে হয় ? কিছুক্ষণ পর পরই তোমার সুন্দর ঘাড়টা ছুঁয়ে দিচ্ছে । আর আমার মন উতলা করে দিচ্ছে । এই যে তোমার খোলা চুল আমার হার্টবিট বাড়াচ্ছে তা কি তুমি বুঝো ??

পাগল করে দিয়েছো সুন্দরী ! একদম পাগল করে দিয়েছো । এখন নিজেকে কি করে সামাল দিবো বলো ? "

আমি অগ্নির কথা লজ্জায় হা করে আছি । অগ্নির এই দুষ্টু চাহনি আর পাগল করা হাসি আমাকে বার বার লজ্জায় ফেলছে।আমি লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলি । কি বলবো অগ্নিকে ? বলার মত কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না । অগ্নি আমাকে এতোটা গভীর করে দেখেছে ? কখন আমাকে এতোটা পর্যবেক্ষন করলো । সারাক্ষণ তো আমার সাথে ঝগড়া করলো । এই ঝগড়ার ফাঁকেফাঁকে মুক্ত চাহনিতে কি সবটা পর্যবেক্ষন করেছে ?

_______________________

শেফা দিন দিন মীরজাফর হয়ে যাচ্ছে । এই তো এই দুদিন শেফা যতবার কল করেছে অগ্নি কনফারেন্স কলে ছিলো । কই একবার তো শেফা বললো না ! আজ ও বলতো না যদি আমি কথায় কথায় না বের করতাম । তাই তো বলি শেফার হয়েছেটা কি? এতো ঘনঘন ফোন কেন তার !

বদ মেয়ে অগ্নিকে হেল্প করা হচ্ছিলো । এখন বান্ধবী থেকে তার বর আপন হয়ে গেলো ?

সব ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি অগ্নিকে একটা সুযোগ দিবো । শেষবারের মত অগ্নিকে বিশ্বাস করবো । একটা সুযোগ তো সে ডিজার্ভ করে ।

অগ্নির দেওয়া কালো গোলাপের তোরা হাতে নিয়ে দোলনায় বসে আছি । কালো গোলাপ এতোটা সুন্দর হয় তা আমার জানা ছিলো না । আচ্ছা অগ্নি কি করে জানে আমার কালো গোলাপ পছন্দ ? এতোটা কি করে চিনে সে আমাকে ?

এসব ভাবতে ভাবতেই ফোনটা বেজে উঠে । ফোন হাতে নিয়েই দেখি অগ্নি ফোন করেছে । রিসিভ করে কানে ধরতেই অপর পাশ থেকে অগ্নির আদুরে স্বর ,

- "সুন্দরীইইইইইইইইইই ! "

আমি বুকে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে নেই । উফফফ উনার ডাকগুলো বুকে যেয়ে বিঁধে । অগ্নি আবার বললো,

- "কি হয়েছে কথা বলো না কেন ? "

আমি চোখ খুলে গলা ঝেড়ে বলি,

- "কি হলো এতো রাতে ফোন দিলেন যে? "

- "এখন আমার বউ কে আমি ফোন দিতে পারবো না? "

- "ঝগড়া করতে ফোন করেছেন ? "

- "না তো । নতুন করে সবটা শুরু করতে ফোন করেছি । "

- "এই নিশিরাতে ?"

- "হুম । তোমার সাথে রাত জেগে প্রেম করবো । ঔযে স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা যেভাবে প্রেম করেনা ঠিক সেই ভাবে । "

- "বুড়া বয়সে উড়োজাহাজ চালানোর শখ হয়েছে আপনার ? "

- "আমি বুড়ো হয়ে গেছি ? এটা তুমি বলতে পারলে? "

- "আমি কি একবারো আপনাকে বুড়ো বলেছি? আমি জাস্ট কথার কথা বললাম । "

- "এই দেখ কই একটু রোমান্টিক কথাবার্তা বলবো তা না তুমি ঝগড়া শুরু করে দিয়েছো । এটা কি ঠিক ? "

আমি চুপ করে রইলাম । অগ্নি বললো ,

- "আচ্ছা বলো আজকের ডেট তোমার কেমন লাগলো? "

ডেটের কথা মনে পড়তেই মুখে আনমনে হাসি ফুটে উঠে । উফফ এতো সুন্দর করেও কি কেউ ডেট প্লান করে । একদম শানদার । কিন্তু মুখে তা প্রকাশ করলাম না । ভাব নিয়ে বললাম ,

- "হুম ভালো ছিলো "

অগ্নি বাচ্চাদের মত বিরক্তের স্বরে বললেন,

- "উফ হুর একটু মন খুলে কথা বলো না সুন্দরী । "

- "সবাই ডেটে লাল গোলাপ আনে আপনি কালো গোলাপ আনলেন যে? "

- "কারণ তোমার পছন্দ তাই! "

- "আপনি কি করে জানলেন আমার কালো গোলাপ পছন্দ ? "

উনি রহস্যময় ভাবে বললেন ,

- "তোমার ব্যপারে এমন অনেক কিছু আছে যা আমি জানি ।আমি তোমাকে যতটা চিনি তুমি নিজেকে ততোটা চিনো না । "

আমি চুপ করে গেলাম । দুজনের মধ্যে পিনপতন নীরবতা । নীরবতা ভেঙে আমিই বললাম ,

- "একটা কথা বলবো ? কিছু মনে করবেন না তো ! "

- "হাজারটা বলুন রানী সাহেবা । "

আমি চাপা হেসে বলি ,

- "জানেন আপনার কন্ঠ কথা বার্তা সবকিছু আমার এক চেনা কারো সাথে খুব মিল । এতো টা মিল যে মাঝে মাঝে মনে হয় আপনিই সে । "

- "তাহলে আমাকে সে ভেবেই গ্রহণ করে নেও । "

- "তা হয় না । আমি তাকে প্রচন্ড ঘৃণা করি । প্রচন্ড পরিমান । এতোটা যে তার চেহারা দেখার ও কোনো ইচ্ছে নেই । জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত আমি তার থেকে পেয়েছি । তাকে ঘৃণা করি । শুধুই ঘৃনা !"

- "হুর প্রত্যেকটা জিনিসের দুইটা পিঠ থাকে এক পিঠ দেখে কোনো কিছু বিবেচনা করা ঠিক না।আসল সত্যিটা জানার চেষ্টা করো । কাহিনী অন্যরকম ও হতে পারে । "

- "আপনি কি আমার স্বামী নাকি তার লয়ার ?আমি এসব ব্যাপারে আর কথা বলতে চাই না। আশা করি আপনিও আর এ ব্যাপারে কথা বাড়াবেন না । "

অগ্নি আর এই ব্যাপারে কথা বাড়ায় না । সারারাত এটা ঐটা বলে সারারাত ফোন আলাপে কাটিয়ে দেই । ভোরের দিকে ঘুমানোর জন্য বিছানার দিকে পা বাড়াই ।

চলবে ....❤️

প্লিজ সবাই সবার মতামত জানাবেন । ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন 😊😊😊।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন