ফন্ট সাইজ:
থিম:
শত ডানার প্রজাপতি

৩৫তম পর্ব

লেখক: উর্মি প্রেমা

#শত_ ডানার_ প্রজাপতি

#urme prema (sajiana monir )

পার্ট : ৩৫

বিকেলের প্রহর পেড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে পা ফেলছে । আমি রেডি হচ্ছি আর বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি । আজ উৎস ভাইয়া আর নিশিতের রিসেপশন । অগ্নি জানিয়েছেন সন্ধ্যার পর এসে রিসিভ করবে । একসাথে প্যাকিং করে রাখতে বলেছেন আজ রিসেপশন থেকে,সোজা ঐ বাড়িতে ফিরবে । শাড়ীর কুচিগুলো ঠিক করছি । শাড়ীর সাথে আমার খুব একটা যায় না । যদিও শাড়ী পড়াটা খুব পছন্দের কিন্তু সামলাতে পারিনা । শুধু অগ্নির জন্যই শাড়ি পড়া । অগ্নি বায়না ধরেছে আজ ফাংশনে আমাকে শাড়ি ই পড়তে হবে ।অগ্নি নিজে পছন্দ করে শাড়ী কিনে পাঠিয়েছে । বেবী পিংক জর্জেট শাড়ি । শাড়ির পাড়ে পার্ল আর স্টোনের ভারী কাজ ।সাথে কমোড় পর্যন্ত ডার্ক পিংক ডিজাইনার ব্লাউজ । সব কিছুই বিষণ সুন্দর । বলতে হবে উনার পছন্দ লাখে এক । সব সময় আনকমন আর ইউনিক জিনিসের দিকে উনার নজর ।আমাকে পছন্দ করতে দিলে সারাদিন ঘুরেও পছন্দ করতে পারতাম না । শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে ভারী কানের দুল পরেছি । চুল গুলো কার্ল করে দুপাশ দিয়ে সামনে এনে রেখেছি । অগ্নির কড়া ইনস্ট্রাকশন চুল খুলা রাখতে হবে । জনাবের আমার খুলা চুল খুব পছন্দের । আর হাল্কা মেকআপ । সবটা অগ্নির পছন্দ অনুযায়ী । এমন সময়ই ফোনটা বেজে উঠে । ফোন হাতে নিয়ে দেখি অগ্নির কল । রিসিভ করতেই অগ্নির উতলা স্বর ,

- "আর কত অপেক্ষা সুন্দরী ? আমি যে একনজর দেখার জন্য ছটফট করছি । "

- "তাই ? তো ফোন রেখে একটু অপেক্ষা করুন আসছি ! "

- "উহু ফোন কাটা চলবে না । কথা বলতে বলতে নিচে আসো ।"

-"আপনি সত্যি পাগল ! "

- "হুম শুধু তোমারি জন্য "

অগ্নির সাথে কথা বলতে বলতে নিচে আসি । অগ্নি গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে । ডার্ক চকলেট স্যুট পরা । বুকের পাশে পকেটে খুব সুন্দর সিল্কের রোমাল গুছিয়ে রাখা । আর তার চেয়ে খানিকটা দূরে কিং ক্রাউনের আকৃতির স্টোন ব্রোঞ্জ । হাতে casio এর সিলভার গোল্ডেন কম্বিনেশনের ওয়াচ । চুল গুলো পারফেক্টলি সেপারেটেড করা। ফর্সা গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি । একদম ফর্মাল লুক । ঠোঁটে চার্ম হাসি ।এতো সুন্দর কেন এই লোক? আমাকে পাগল করে ছাড়বে ।

আচ্ছা ডার্ক কালারে কি সব ছেলেদেরই এতোটা মানায়? নাকি শুধু অগ্নিকেই এতোটা স্পেশাল বানায় !

যদিও অগ্নি এমনিতেই বিশেষ । যাই পড়ুক না কেন চোখ ফেরানো যায় না ।

অগ্নির চোখের তীক্ষ্ণ চাহনি সোজা আমার বুকে যেয়ে লাগছে । কি চায় অগ্নি আমি এক্ষুনি হার্ট এটাক করে মরে যাই ? অগ্নি আমার দিকে পা বাড়াচ্ছে । আমি চোখজোড়া নামিয়ে ফেলি । আমার কাছে এসে যাই আমাকে কিছু বলবে এমন সময়ই মামা মামী চলে আসে । অগ্নি কিছুটা দূরে সরে যায় । মামা মামী কে সালাম জানিয়ে কুশল বিনিময় করে । আমি আড়চোখে অগ্নিকে দেখছি । অগ্নিরো একই দশা আমার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে । অগ্নি মামার থেকে লাগেজ নিয়ে গাড়ী তে তুলেন ।গাড়ির দরজা খুলে দেন মামা মামী পিছনের সিটে বসে। আর আমি অগ্নির পাশের সিটে । অগ্নি গাড়িতে উঠে আমার সিট বেল বেঁধে দিতে লাগেন ।কোনা চোখে তখনো আমাকে দেখছে । আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস আওয়াজে বললেন ,

- "উফফফ ,সুন্দরী মাথা একদম ধরিয়ে দিলে । নেশা না করেও মাতাল আমি ! "

অগ্নির উত্তরে আমি লজ্জায় চোখ নামিয়ে লাজুক হাসি । অগ্নি কিছু বললেন না ড্রাইভিং এ মন দিলেন ।

লাল ভারী কাতান পড়ে লাল টকটকে বউ সেজে বসে আছে নিশিত । পাশেই গোল্ডেন স্যুটে উৎস ভাইয়া । দুজন কে একসাথে খুব মানিয়েছে । সবার মুখে একই কথা 'মেইড ফর ইজ আদার '। চিটাগাং থেকে আজ সকালেই নানু বাড়ির সবাই এসেছেন । আভরিনও এসেছে । আমি একপ্রকার এড়িয়ে চলি । আভরিনের নজর আমার খুব একটা ভালো লাগছে না । সবার সাথে ভাব আদান প্রদান করে । নয়া দাম্পত্যির দিকে ষ্টেজে এগিয়ে যাই । আমাদের দেখেই উৎস ভাইয়া একগাল হেসে দাড়িয়ে যায় । অগ্নির সাথে গলা মিলায় । আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,- "ইউ লুকিং বিউটিফুল! "আমি মুচকি হাসি । অগ্নি নিশিতকে এটা ওটা বলে ক্ষেপাচ্ছে । নিশিত কখনো ক্ষেপে যাচ্ছে আবার কখনো লাজুক হাসছে । ভাই বোনের খুনসুটি দেখে আমি আর উৎস ভাইয়া হাসছি ।

ভিড় থেকে কিছুটা দূরে আছি । মাত্রই ডিনার শেষ করিছি ।রাউন্ড টেবিলে পাশাপাশি আমি আর অগ্নি বসে । আমার হাতে ডিজার্ট প্লেট । আমি খুব মন দিয়ে মেল্ট চকলেট কেক খাচ্ছি । ইচ্ছে করেই সামনে তাকাচ্ছিনা ।অগ্নি টেবিলের উপর একহাতে গালে হাত দিয়ে আমাকে খুব গভীর করে দেখছে । অগ্নির চাহনি ধীরে ধীরে আরো গভীর হচ্ছে । এই চাহনিতে আমার টিকে থাকা সম্ভব না । লজ্জায় লজ্জাবতীর মত নেতিয়ে যাবো । তাই নিজের ডিজার্টের দিকে মন দেওয়া উত্তম । অন্তত এই চাহনির সম্মখীন তো হতে হবে না । আড়চোখে আশেপাশে তাকিয়ে দেখি মেয়েরা অগ্নিকে নিয়ে কানাকানি করছে । কেউ কেউ আমার দিকে আগুন ধরানো দৃষ্টি তে তাকাচ্ছে । কারণ আমার কাছে অস্পষ্ট নয়। অগ্নির সাথে আছি বলেই তাদের এই জেলাসি । আমি এবার চোখ তুলে অগ্নির দিকে তাকাই । মানুষটা এমন কেন ? আমি তো আহামরি বিশেষ কিছু নই ।অগ্নির সামনে তো কিছুই না । তাহলে কেন আমাকে এভাবে দেখে ? আমার মাঝে কি এমন বিশেষ কিছু আছে ! নাকি আমাকে ভালোবাসে বলেই এমন পাগলামী করে । এই যে আশেপাশের মেয়েগুলো উনাকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে । এমন ভাবে তাকিয়ে আছে সেদিকে উনার কোনো খেয়াল নেই । উনার সব ধ্যান আমার দিকে । এই যে আমার দিকে লাগামহীন ভাবে তাকিয়ে আছে । সত্যি বলতে আমার খুব আনন্দ হচ্ছে । যাকে বলে পৈশাচিক আনন্দ । এই যে সবাই অগ্নির দিকে তাকিয়ে আছে আর অগ্নি আমার দিকে । আহ !

_______________________________

____________________________

ভ্যানুর সামনে হাঁটাহাঁটি করছি । খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে । বাহারি রং এর লাইটিং । তার উপর কুয়াশা ঘেরা চার দিক । সব মিলিয়ে খুব সুন্দর লাগছে । একদম মুগ্ধ করা পরিবেশ । অগ্নি ভিতরে উনার এক বন্ধুর সাথে কথা বলছে । আমি ঘুরে ঘুরে সব দেখছি । হ্ঠাৎ ই চোখ যায় এক বাচ্চা মেয়ের দিকে । দেখতে বিষণ মিষ্টি । ব্লু ফ্রক পড়া । বড় চুলগুলো খোঁপা করা । মাথায় স্টোনের ক্রাউন পড়া । বড় বড় চোখ আর সরু ঠোঁট । ইচ্ছে করছে গুলুমুলু গাল দুইটা একটু টিপে দেই । আমি একপা একপা করে সামনের দিকে পা বাড়াই । মেয়েটি একটা বেঞ্চে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে ।আশ্চর্য আশেপাশে কেউ নেই । আমি মেয়েটির পাশে বসতেই আমার দিকে একপলক তাকিয়ে আবার আকাশের দিকে গভীর ভাবে তাকায় যেন কিছু খুঁজছে । আমি মিষ্টি হেসে বললাম,

- "আকাশের তারা গুনছো ? আমি হেল্প করবো ? "

বাচ্চা মেয়েটি না বোধক মাথা নাড়ায় । তারপর আবার চুপ । আমি আবার জিগ্যেস করি ,

- "তোমার আম্মু কোথায় ?"

এবার মেয়েটি আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আকাশের দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করে । তার মানে মেয়েটির মা বেঁচে নেই । আমার চোখজোড়া ভরে আসে । ইশ এতো ফুটফুটে একটা বাচ্চার মা নেই । নিজের ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে । বাবা মা না থাকার যন্ত্রণা কতোটা কষ্টের তা আমার জানা ।আমি মেয়েটির মাথায় হাত রাখতেই মেয়েটি আমাকে হুট করে জড়িয়ে ধরে ফুফিয়ে কান্না করে দেয় । কান্না করতে করতে বলে ,

- "জানো আমাকে কেউ আদর করেনা । বাবাইও না । দাদুন দিদা কেউ না । আমার খুব মাম্মামের কথা মনে পরে । আমি মাম্মামের কাছে যাবো । বলো আমি এতো পঁচা? কেন মাম্মাম আমাকে রেখে চলে গেলো ? "

মেয়েটার মাঝে আমি আমার ছেলেবেলা দেখছি । ছেলেবেলায় আমারো খুব ইচ্ছে করতো নিজের মাকে কাছে পাওয়ার । কাউকে নিজের সব দুঃখ কষ্ট বলার ।কেউ মাথায় হাত রাখলে মনে হতো সে আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ ।

বাচ্চা মেয়েটারো হয়তো এমন বোধ হচ্ছে । তাই তো অচেনা এক মানুষের কাছে নিজের সব কষ্টের কথা শেয়ার করছে । আমি মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলি,

- "তুমি মটেও পঁচা না মামুনি । তুমি খুব স্পেশাল তাই তো আল্লাহ্‌ তোমার মাকে নিজের কাছে নিয়ে গেছে ঐযে ঐ আকাশে আছে । তুমি যখন অনেক বড় হবে তখন তোমার কাছে ফিরে আসবে । "

- "সত্যি বলছো । "

- "হুম । "

- "তুমি কি করে জানো ? তুমি কি এঞ্জেল ? "

- "উমম না । আমি হুর । হামিয়া হুর । "

- "হুর মানে তো এঞ্জেল ই । আমি তোমাকে এঞ্জেল বলেই ডাকবো কেমন ? তুমি একদম এঞ্জেলদের মত সুন্দর । দেখলে পরী পরী মনে হয় । "

আমি কপালে চুমু খেয়ে বলি ,

- "আচ্ছা মামুনি তোমার যা ভালো লাগে বলিও । "

হ্ঠাৎই মেয়েটা কিছু মনে করার চেষ্টা করে বললো ,

- "ওহো এঞ্জেল আমাকে এখন যেতে হবে দিদা আর বাবাই হয়তো খুঁজছে । দেরি করলে বকুনি দিবে । আমি এখন আসি । টাটা । "

বলেই ছুটে যায় । আমি পিছন থেকে নাম জিগ্যেস করলে জানায় তার নাম আরশি চৌধুরী । আমি মুচকি হেসে আরশির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকি । কি মিষ্টি মেয়ে । কে বলবে এই মেয়ের মা নেই ।মেয়েটার ভিতরে এতো কষ্ট লুকিয়ে আছে । দুরন্ত মেয়েটিকে ভিতরের কষ্টগুলো শান্ত করে দিয়েছিলো । যাক আজকের পর একটু মন খুলে হাসতে পারবে । মিথ্যা আশা নিয়েই হোক নতুন করে তো ,বাঁচতে পারবে ।

____________________

বাসায় ফিরবো । গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি । অগ্নি গাড়ি বের করতে গেছে । এমন সময় খুব দ্রুত গতিতে পাশ দিকে এক গাড়ি যায় । আমি নিচে পরে যাই । আগেই সরে যাওয়ার খুব একটা লাগেনি । আমি পিছন থেকে খেয়াল করে দেখি । গাড়িতে একটা লোক ছিলো পাশেই আরশি বসে ছিলেন । নিশ্চিত এটা আরশির বাবা । দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো খুব বাজে লোক । এতো বড় অন্যায় করে গাড়ি থামিলো না । স্যরি বলার প্রয়োজনবোধ করলেন না । এমন সময় অগ্নি ছুটে আসে । আমার হাত পা চেক করছে । হাতে সামান্য একটু কেটেছে । আমাকে গাড়িতে বসিয়ে হাতে মেডিসিন লাগিয়ে দেয় । খুব রেগে আছে অগ্নি । মনে হচ্ছে গাড়ি চালকে পেলে এখনি খুন করবে । জাস্ট খুন করে ফেলবে । আমাকে বার বার গাড়ির নাম্বার জিগ্যেস করেছে । আমি বলেছি আমি খেয়াল করিনি । যদিও মিথ্যা বলেছি । কি দরকার শুধু শুধু ঝামেলার । অগ্নি যা মাথা গরম লোক । বড় ঝামেলা পাকিয়ে দিবে ।

অগ্নি গাল ফুলিয়ে গাড়ি তে উঠে । গাড়ি স্টার্ড দেয় । অগ্নি গাড়ি ড্রাইভ করছে ।এখনো রাগে ফুসছে । আমি আগতো করে অগ্নির কাঁধে মাথা রাখি ,

- "আমার সাথে রাগ করছেন কেন ? আমি কি করেছি ? "

- "আমি তোমার উপর রাগ করিনি। আমার নিজের উপর রাগ হচ্ছে । আমার তোমার সাথে থাকা উচিত ছিলো । আমার কেয়ারলেসের কারনে এমনটা হয়েছে । "

- "আপনি শুধু শুধু কেন নিজেকে দোষারোপ করছেন । এটা জাস্ট একটা এক্সিডেন্ট । "

অগ্নি কোনো কথা জবাব দিলো না । আমি কিছুক্ষণ পর অগ্নির দিকে তাকিয়ে বলি,

- "আমি একটা কথা জিগ্যেস করি । "

অগ্নি ড্রাইভ করতে করতে উত্তর দেয় ,

- "হুম করো "

- "যদি আজ আমার কিছু হয়ে যেত । তাহলে কি আপনি আমাকে মিস করতেন ? "

অগ্নি সাথে সাথে ব্রেক কষে । খুব জোড়ে ঝাঁকুনি লেগে গাড়ি থেমে যায় । অগ্নি বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছে । চোখে হারানোর ভয় ।

আমার দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে বললেন ভাঙা গলায় বললেন,

- "আর কখনো এসব কিছু মুখে আনবে না ।এমনটা ভাবতেই আমার শ্বাস আটকে আসে । আর মিস করার জন্য মানুষের বেঁচে থাকতে হয় । তুমিহীন আমি মরে যাবো । আমার বেঁচে থাকার জন্য তুমি প্রয়োজন । "

অগ্নির কথাগুলো খুব সাধারণ মনে হলেও এই কথাগুলোর গভীরত্ব অনেক । এর ব্যাখ্যা টা সীমাহীন । অগ্নির চোখে স্পষ্ট হারানোর ভয় দেখা যাচ্ছে । এই ছলছল চোখ গুলো চিৎকার করে বলছে "হুরহীন এই অগ্নি প্রাণহীন " ।

চলবে ...❤️

প্লিজ সবাই সবার মতামত জানাবেন । ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন 😊😊😊।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন