পহেলা বৈশাখ — নতুনের আহ্বান*
চৈত্রের শেষ দহন পেরিয়ে
এলো রে বৈশাখ,
দুয়ারে দুয়ারে কচি আমের পাতা
মঙ্গলঘটে ধান-দূর্বার ডাক।
রাতভর লেখা পুরনো খাতার
হিসেবের শেষ পাতা,
লাল কালিতে শূন্য এঁকে
নতুন স্বপ্নে মেলে ডানা।
হালখাতার সেই লাল মলাটে
জ্বলে সোনালি হরফ,
“শুভ হোক, লাভ হোক” —
দোকানি হাসে, বাড়ায় সরফ।
ভোরের আকাশে রাঙা আবির মাখা
রমনা বটমূলে গান,
“এসো হে বৈশাখ” সুরে সুরে
জাগে লক্ষ প্রাণ।
ঢাক-ঢোল, একতারা, বাঁশির তান
মিলেমিশে একাকার,
মুখোশের ভিড়ে লুকায় না মুখ —
এখানে সবাই সবার।
পান্তা-ইলিশ, কাঁচা মরিচ,
আলুভর্তা, পেঁয়াজ কুচি,
মাটির সানকিতে বাঙালির সুখ
সরলতাতেই রুচি।
আলপনার বাঁকে লক্ষ্মীর পা,
দুয়ারে আম্রপল্লব,
শাড়ির আঁচলে, পাঞ্জাবির ভাঁজে
লেগে থাকে উৎসব।
চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায়
বাঘ, পেঁচা, ময়ূরপঙ্খী,
অশুভ যা কিছু, অন্ধ যা রাত
তাড়াই মোরা একসাথে রুখি।
এই দিনে নেই ভেদাভেদ, নেই
ধর্ম-বর্ণের দেয়াল,
বাংলা নামের একটাই পরিচয়
একটাই রক্তের খেয়াল।
ঝড় আসুক, কালবৈশাখী হোক
ভাঙুক জরাজীর্ণ ঘর,
তবু নতুন বীজ বুনে দেবো
গড়বো আগামীর বাসর।
গ্লানি মুছে, ক্লান্তি ঘুচে
হৃদয় হোক আজ ঋজু,
বৈশাখ শেখায় — পড়ে গিয়েও
উঠে দাঁড়ানোই জিতু।
এসো, হাতে হাত রাখি সবে
শপথ নিই প্রাণে প্রাণে,
হিংসা নয়, ভালোবাসা দিয়েই
ভরাবো আগামীর গানে।
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩
সুখে থাকুক মাটি, মানুষ, আর
এই বাংলার আকাশ। 🌾