মুখোশের আড়ালের মানুষ*
মুখে হাসি ঝুলিয়ে রাখে রোজ সকালে,
ভেতরে জমে কালবৈশাখীর কালো মেঘ।
"ভালো আছি" বলে যে ঠোঁটটা কাঁপে,
সেই ঠোঁট জানে কত রাত নির্ঘুম জেগে।
অফিসের টেবিলে সবচেয়ে চটপটে লোক,
বাড়ি ফিরে চুপ করে বসে থাকে একা।
বন্ধুমহলে যে প্রাণখোলা আড্ডা দেয়,
তারও একটা ঘর আছে, দরজা বন্ধ রাখা।
ফেসবুকে ছবি দেয়, আলোয় ভরা মুখ,
ক্যাপশনে লেখে "জীবন সুন্দর ভারি"।
রাত গভীর হলে সেই মানুষটাই
বালিশ ভেজায়, কেউ দেখে না তারি।
প্রশংসা কুড়ায়, তালি পায় রোজ রোজ,
তবু আয়নার সামনে দাঁড়াতে ভয় হয়।
মুখোশটা খুললেই যদি বেরিয়ে পড়ে
লুকিয়ে রাখা ক্ষত, ভাঙাচোরা পরিচয়?
আমরা সবাই অভিনেতা এই শহরের,
চরিত্র বদলাই সময় আর মানুষ বুঝে।
মুখোশের আড়ালে আসল মানুষটা
কবে যে হাঁপ ছেড়ে বাঁচবে, কে খোঁজে?
একদিন সাহস করে খুলো মুখোশটা,
দেখবে ভিড়ের মাঝে তুমি একা নও।
সবারই আছে একটা করে আড়াল,
সবাই খুঁজছে একটা কাঁধ, কান্না ধোও।