ফন্ট সাইজ:
থিম:
নয়নিকা

১৪তম পর্ব

লেখক: তিশা

#নয়নিকা -১৪

#তিশা

ক্যাটাগরি- রাজনৈতিক

জনরা- রোমান্টিক ,থ্রিলার

- ওদিকের কাজ কতদূর?

নির্বাণের প্রশ্নে ইশান ফোন থেকে মনোযোগ সরালো।

- এইতো নব্বই শতাংশ শেষ করে ফেলেছি।

- হোম মিনিস্টারের পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট হতে হলে আগে যে কাজটা দিয়েছি সেটা তো শেষ কর‍তে হবে।

নির্বাণের কথায় ইশান একটু চমকালো। মনে মনে ভাবলো এটাও ভাই শুনতে পেয়েছে কান না অন্যকিছু।থতমত ভাবটা সরি একটা শ/শ/য়/তা/নি হাসি দিয়ে সে বলল,

- তার জন্য আমার কোনো ছা পোষা মন্ত্রীর পারমিশন লাগবে না হোম মিনিস্টার একাই যথেষ্ট।

নির্বাণ ইশানের কথা শুনে একটা হতাশার নিঃশ্বাস নিয়ে দুপাশে মাথা ঝাঁকিয়ে প্রস্থান করলো। সবগুলোর মধ্যে এই ইশানটা যে হাড়ে বজ্জাত সেটা সে ভালো করেই জানে তাই আর কিছু বলল না।

ইশান ওদিকে নির্বাণকে নাস্তানাবুদ করতে পেরে সগৌরবে টিশার্টের কলার উচু করে একটা বাঁকা হাসি দিয়ে পাশে তাকিয়ে দেখলো সীফাত ওর দিকে বিরক্ত নজরে তাকিয়ে আছে।ইশান কিছু বলবে তার আগেই সীফাত কোন সুযোগ না দিয়ে গটগট করে চলে গেলো।

****************

পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অনিকেত।দুহাত বুকের সাথে ভাজ করে ভস্মীভূত হওয়া কারখানার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবতে ব্যস্ত।তার পিছনে গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নিশাদ।

- কি ভাবছো?

নিশাদের প্রশ্নের বিপরীতে অনিকেত একবার ঘুরে ওর দিকে তাকিয়ে আবার সামনে তাকিয়ে বলল,

- এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেলো অথচ কেউ সারারাত বুঝতেই পারলো না?

নিশাদ অনিকেতের পাশে এসে দাঁড়ালো।

- কেউ বুঝতে পারলো না নাকি কাউকে বুঝতে দেয়া হলো না অথবা এমনও হতে পারে যারা বুঝেছে তারা কোন আওয়াজ করেনি।

নিশাদের কথায় যেন আরো বেশি ভাবনার সমুদ্রে ডুবে গেলো অনিকেত।

****************

ল্যাপটপে কাজ করছে নির্বাণ এমন সময় নবনী এসে দরজায় দাড়ালো।

- ভাইয়া আসবো?

নির্বাণ ল্যাপটপে নজর রেখেই মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো আসার।নবনী এসে ওর পাশে বসলো।

- কিছু বলবি?

কথাটা বলে বোনের দিকে তাকালো সে।নবনী মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলল অর্থাৎ সে কিছু বলতে চাই।

- বল।

- নয়নিকা স্বাভাবিক হইছে?

- স্বাভাবিক হইছে বলতে কথা বলছে সবাইকে চিনতে পারছে যদিও কাউকে ভোলেনি শুধুমাত্র সাময়িকভাবে একটু মেন্টালি কোলাপস ছিল।

নবনীকে বেশ বিষাদময় দেখালো। ভেজা কণ্ঠে বলল ,

- জানো ভাইয়া নয়নিকাকে যখন র/ক্তা/ত্ব অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখেছিলাম ভেবেছিলাম মেয়েটা বোধহয় আর বাঁচবে না নিজেকে এত দোষী মনে হচ্ছিলো বার বার মনে হচ্ছিলো আমার জন্য মেয়েটা তার সবচেয়ে কাছের মানুষ হারিয়েছিল আর আমি তাকে রক্ষা করতে পারলাম না।

কথাটা বলে নবনী ঝরঝর করে কান্না করে দিলো। নির্বাণ ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল ,

- যেটা হয়েছিলো তাতে তোর কোন দোষ ছিল না আর তুই ছিলি বলেই কিন্তু নয়নিকার আরো বড় ক্ষতি হওয়ার আগেই হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়েছিলো তাই নিজেকে দোষারোপ করিস না।

নির্বাণের কথায় নবনী কিছুটা শান্ত হলো। ওকে শান্ত হতে দেখে নির্বাণ একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বলে,

- এসব বাদ দিয়ে এখন ভাব নয়নিকাকে তোর ভাবী কিভাবে বানাবি?

নবনী দুষ্ট হেসে বলে,

- যে বউ বানাবে সে ভাববে।

কথাটা বলার পরেই নবনীকে গম্ভীর দেখালো তারপর চিন্তিত সুরে বলল,

- কিন্তু অনিকেত.....

নবনী বাকিটুকু বলার আগেই ওকে থামিয়ে নির্বাণ বলল,

- অনিকেতকে নিয়ে তোর চিন্তা করতে হবে না আমি সামলে নেবো।

কথাটা বলার সময় নির্বাণের ঠোঁটের কোণে ভেসে ওঠা কুটিল হাসিটুকু নবনীর নজর এড়ালো না।

****************

ধীরে ধীরে নয়নিকা চোখ মেলে তাকালো প্রথমে চারপাশটা দেখে অচেনা মনে হলেও পরবর্তীতে মস্তিষ্ক সচল হলো।সে তো এখন নির্বাণের অধীনে। আচ্ছা লোকটা তখন কি বলল ওসব তার নয়নিকাকে চাই! এমনভাবে বলল যেনো সে নয়নিকাকে অনেক আগে থেকে চেনে। বুক চিরে বেরিয়ে এলো এক দীর্ঘনিশ্বাস। কি জানি ভবিতব্য তাকে কোথায় এনে দাঁড় করালো। অনিকেতের সোনার শিকল কেটে সে আবার কোন শিকলে আবদ্ধ হলো! নির্বাণ বলল সে এখন বেলজিয়ামে আছে তার মানে চাইলেও তো এখান থেকে নিজে কোথাও যেতে পারবে না সে।আকাশ পাতাল ভাবার পরে নয়নিকা হাল ছেড়ে দিয়ে নিজেকেই বলল , এত চিন্তা করে আর কি হবে আমার জীবনে আর কিই বা অবশিষ্ট আছে ধ্বংস হওয়ার জন্য অনিকেতের থেকে আর কতটা জঘন্য হবে নির্বাণ।নয়নিকার এই সমস্ত ভাবনার মাঝেই নবনী এলো কক্ষে।

- এখন কেমন আছো?

নবনীর কথা শুনে নয়নিকার ধ্যানভঙ্গ হলো উঠে বসলো সে।খাবারের ট্রে টা বেডসাইড টেবিলে রেখে নয়নিকার পাশে বসলো।

- শরীর ভালো লাগছে এখন?

- তুমি ওনার কথায় আমার পাশের ফ্ল্যাটে উঠেছিলে?

নয়নিকার কথায় নবনী হাসলো তারপর নয়নিকার হাত ধরে বলল,

- ভাই বলেছিলো কথাটা সত্য কিন্তু আমি নিজের জন্যও গিয়েছিলাম।

- মানে?

- কোন একজন আমার জন্য অনেক বড় আত্মত্যাগ দিয়েছিলেন তার ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করার সুযোগ এসেছিলো তাই হাতছাড়া করিনি।

নয়নিকাকে কনফিউজড হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে নবনী হেসে উঠলো তারপর বলল,

- বাদ দাও এগুলো এখন সময় হলে সব জানতে পারবে। আর একটা কথা ভাই কিংবা আমরা কেউ তোমার ক্ষতি চাই না সো বি কমফোর্টেবল বুঝেছো।

বলেই নয়নিকার নাক টেনে দিয়ে বলল ,

- নাও এখন খেয়ে নাও সারাদিন ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিলে তো।

****************

সন্ধ্যায় নয়নিকা সোফায় পা তুলে বসে ছিলো নিজেকে জড়িয়ে দৃষ্টি তার সিলিংয়ে এমন সময় পাশে ধুপ করে কিছু একটা পড়ার আওয়াজে চমকে উঠলো। এলোমেলো নজরে দেখলো ইশান পাশে বসে দাঁত বের করে হাসছে।নয়নিকা ভ্রু কুচকে তাকালো।

- ওওও ভাবীইইইই এভাবে তাকাচ্ছো কেন?

নয়নিকা বিরক্ত হয়ে বলল,

- আমি আপনার কোন জন্মের ভাবী হ্যা?

- এই জন্মেরই।

বলেই চকচকে দাঁত বের করলো যা নয়নিকার বিরক্তি আরো বাড়িয়ে দিলো সেটা বজায় রেখেই বলল,

- আপনাকে কে বলেছিলো আমাকে বাচাতে?

- আরে ভাবীইইই তুমি ম/র/তে গেছিলে তা আগে বলবা না আমি ভাবলাম তুমি মনে হয় নেমে দেখতে গেছো সমুদ্র কতটা গভীর তাই ভাবলাম তোমাকে একটু সঙ্গ দেয়।

বলেই ইশান কিটকিটিয়ে হেসে উঠলো সেই হাসি দেখে নয়নিকার মেজাজ চরম খারাপ হয়ে গেলো। রাগে ফুসতে ফুসতে বলল,

- অসভ্য লোকের অসভ্য ভাই।

বলেই হনহন করে নিজের রুমের দিকে চলে গেলো।ইশান নয়নিকার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আরো জোড়ে হেসে দিলো কিন্তু পরক্ষনেই নির্বাণকে সদর দরজায় দাঁড়ানো দেখে ঘাবড়ে গেলো।মনে মনে ভাবলো এই রে ভাইয়ের প্রিয়তমাকে রাগিয়ে দেয়ার অপরাধে ভাই না এবার গর্দান নেয়। একটু সাহস জুগিয়ে একটা শুকনো হাসি দিয়ে বলতে নিলো ,

- ভাই আমি....

কিন্তু ইশান পুরোটা শেষ করার আগেই নির্বাণ ওর পাশে বসে ঘাড়ে চাপড় দিয়ে বলল,

- কিপ ইট আপ।

ইশানের মনে হলো ও ভুল শুনলো তাই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বলল,

- সরি?

- তোর জন্য প্রথম ম্যাডামের মুখে সাধারণ মানুষের এক্সপ্রেশন দেখলাম নাহলে তো সব সময় নির্বিকার ,উদাস আর বিষাদিনী হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

************

- ওই দুদিনের নির্বাণকে মা*রার জন্য তোমার আমাকে আসতে হলো?

অনিকেতের কথায় মেরুদণ্ড সোজা করে বসলেন সাফায়েত তালুকদার। একটা ক্রুর হাসি দিয়ে বললেন,

- নির্বাণ কোন ছোটখাটো দাবার ঘুটি নয় সেটা তুমি ধীরে ধীরে বুঝতে পারবা।আর সব সময় শত্রুকে তুচ্ছ ভাবাটাও বোকামী বুঝেছো? এই যে কারখানা পুড়লো তুমি জানো আমিও জানি কাজটা কার এমনকি প্রশাসনও জানে খোঁজ নিয়ে দেখো এলাকার সাধারণ মানুষও হয়তো জানে কিন্তু তার দিকে আঙ্গুল তোলা যাচ্ছে না তাহলেই বুঝতে পারছো সে কি জিনিস!

সাফায়েত তালুকদারের কথায় অনিকেত একটা বিরক্তির শ্বাস নিয়ে বেরিয়ে গেলো।মামা যে কেনো সব কিছু এত কমপ্লিকেটেড করে ফেলে বুঝে পায় না সে।

**************

- আমরা পরশু বাংলাদেশ যাচ্ছি।

হঠাৎ পুরুষালী আওয়াজে চমকে ওঠে নয়নিকা।তাকিয়ে দেখলো নির্বাণ দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। বিরক্তি নিয়ে বলল,

- তো যান আমি কি করব?

- আমরা মানে তুমি , আমি আমরা সবাই।

অবাক হলো নয়নিকা। সত্যি সে বাংলাদেশ যাবে? বিস্ময় টুকু আটকাতে পারলো না সে জিজ্ঞেস করলো ,

- সত্যি আমি বাংলাদেশ যাচ্ছি?

- তোমাকে মিথ্যে বলে লাভ কি আমার? তাছাড়া দেশের মাটিতেই বিয়ে করা উচিত আমার তাই নয় কি?

নয়নিকা কিঞ্চিৎ চমকালো ভাবলো লোকটা বিয়ে করছে? কাল যে বলল উনি আমার জন্য অপেক্ষা করবেন? তারপর নিজেকেই বিদ্রুপ করলো নিজের ভাবনা নিয়ে টাকাওয়ালা পুরুষ মানুষের কথার দাম আছে নাকি! ভাবনাগুলো একপাশে রেখে পুনরায় নির্বাণকে জিজ্ঞেস করলো ,

- আপনার বিয়ে কবে?

- তুমি যেদিন রাজি হবে সেদিন।

নয়নিকা এবার সত্যিই বিস্মিত হলো তারপর নির্বাণ ফাজলামো করছে ভেবে খেপে গিয়ে দরজা থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বলল,

- যত্তসব ফাযলামি যান তো এখান থেকে।

নয়নিকা দরজা লাগতে গেলে নির্বাণ হাত দিয়ে আটকে দিলো তারপর ঠোঁট বাকিয়ে বলল,

- আজ বের করে দিচ্ছো একদিন দেখবা মনের দরজাও আমার জন্য খুলে দিয়ে অপেক্ষা করছো।

কথাটা বলে নয়নিকার মুখে ফু দিয়ে সামনে আসা চুলগুলো উড়িয়ে দিয়ে নির্বাণ প্রস্থান করলো পিছনে ফেলে গেলো এক বিস্মিত রমণীকে

...................

বেনাপোল বর্ডারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আশরাফ হোসেন আর তার স্ত্রী। শায়েলা বেগম বিরক্ত হয়ে বললেন ,

- চলে তো এলে এখন কোথায় যাবে?

- কেন তালুকদারের কাছে।

- তালুকদার তোমাকে ফিরতে মানা করেছিলো তবুও এসেছো এখন তালুকদার তোমায় রাখবে কেন?

একটা বিশ্রী হাসি দিয়ে আশরাফ তার বউকে বলল,

- রাখবে রাখবে পুরনো পাপের দোসরকে উপেক্ষা করতেই পারবে না।

*************

সীফাতকে খুব বিচলিত দেখাচ্ছে। নির্বাণ বেশ কিছুক্ষণ সীফাতকে পর্যবেক্ষণ করে জিজ্ঞেস করল,

- এত দুশ্চিন্তা করছিস কেন?

- ভাই অনিকেত মির্জা বাংলাদেশে!

- গুড।

- আশরাফ আর তার বউও আজ বাংলাদেশে এসেছে।

- ভেরী গুড।

- এই অবস্থায় নয়নিকাকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?

...................চলমান....................

বিঃদ্রঃ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন