ফন্ট সাইজ:
থিম:
নয়নিকা

১৮তম পর্ব

লেখক: তিশা

#নয়নিকা -১৮

#তিশা

ক্যাটাগরি- রাজনৈতিক

জনরা- রোমান্টিক ,থ্রিলার

কেটে গেছে প্রায় এক মাস , নয়নিকা নিজেকে নতুনভাবে চিনতে শিখেছে মাঝে মাঝে নিজেই অবাক হয় এটা সে নিজেই তো। পরক্ষণেই হাসে আর ভাবে সারাজীবনে তো কখনো চেনার সুযোগ হয়নি নিজেকে তার বিয়ের আগে নিজেকে পরগাছা অনুভব করে গুটিয়ে থেকেছে আর বিয়ের পরে তো ত্রাসের জীবন কাটিয়েছে এসব কিছুর ভীড়ে তো তার নিজস্ব সত্ত্বায় হারিয়ে গেছিলো। ইশান ,নবনী আর সীফাত যেভাবে ওকে আপন করে কাছে টেনে নিয়েছে এই কয়দিনে একবারের জন্যও অনুভব হয়নি যে এরা ওর আপন কেউ নয়। ওদের সঙ্গে নয়নিকা খুঁজে পেয়েছে নিজেকে।

নির্বাণের সাথে সম্পর্কটার নাম নয়নিকা কি দেবে বোঝে না। লোকটা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার একটা সুযোগও মিস করেনা। বিভিন্ন কাজে কথায় বার বার বুঝিয়েছে সে নয়নিকাকে কত চায়। এইতো কয়েকদিন আগে নয়নিকা ড্রয়িংরুমে বসে টিভিতে ফানি মুভি দেখছিলো আর হাসছিলো ঠিক সেই সময় নির্বাণ ফোনে কারো সাথে রাগারাগি করতে করতে ঘরে ঢুকলো নয়নিকাকে হাসতে দেখে ফোন কানে রেখেই তাকালো তার দিকে ওদিকে নির্বাণকে রাগী মুডে দেখে নয়নিকা দ্রুত টিভি বন্ধ করে চুপ করে বসে রইলো।নির্বাণ ওপাশের ব্যক্তিকে পরে কথা বলছে জানিয়ে নয়নিকার পাশের সোফায় বসলো নির্বাণকে আসতে দেখে নয়নিকা যেনো আরো গুটিয়ে গেলো সবটাই নির্বাণ লক্ষ্য করলো তারপর রিমোট নিয়ে টিভি চালু করে বলল,

- বেশ তো দেখছিলে বন্ধ করলে কেন?

- আপনার মেজাজ ভালো না তাই।

আস্তে করে জবাব দিলো সে। নির্বাণ ফোস করে নিশ্বাস ছেড়ে বলল,

- আমার দিকে তাকাও।

নয়নিকা তাকাতেই একটা হাসি দিয়ে বলল,

- আমি সারাদিনে হাজার হাজার মানুষের সাথে কথা বলি হাজার রকম ঝামেলায় থাকি এতে আমার মন মেজাজ খারাপ থাকতেই পারে বিভিন্ন কারণে কিন্তু আমার মন মেজাজ খারাপের জন্য তুমি তোমার কাজ কাম ইচ্ছা আনন্দ তো আর বন্ধ করে বসে থাকবে না তাই না। এরপর থেকে এরকম করবে না নিজের ইচ্ছে খুশিমতো চলবে।

কথাগুলো বলে নির্বাণ চলে গেলো। নয়নিকা নির্বাণের যাওয়ার পানে চেয়ে ভাবলো পৃথিবীতে কত রকমের পুরুষ আছে! যখনই অনিকেত মেজাজ খারাপ করে ঘরে ফিরতো সেই ঝাল মিটাতো নয়নিকার উপরে কখনো শারীরিক তো কখনো পাশবিক।

এরকম অনেক ঘটনায় নয়নিকার মনে নির্বাণের প্রতি অনুভূতির দাগ কেটেছে কিন্তু নয়নিকা কোন এক দ্বিধায় আগাতে পারছে না

********************

অস্ট্রেলিয়ার এক বিলাশ বহুল রেস্টুরেন্টে মুখোমুখি বসে আছে ইশান আর ইশিতা। ইশিতা বুঝতে পারছে না হটাৎ ইশান তার সাথে কেন দেখা করতে চাইলো।জহুরি নজরে ইশিতা দেখে যাচ্ছে তাকে। ইশান একটা হাসি দিয়ে বলল,

- এভাবে তাকিয়ে আছো কেন সুইটহার্ট?

- বাজে কথা না বলে বলো কিজন্য ডেকোছো?

- দেখো সরাসরি বলছি তুমি খুব ভালোই বুঝতে পারছো অনিকেতের শয্যাসঙ্গী হয়ে লাভ নেই তার কাছে তুমি ভোগ্যবস্তু ছাড়া অন্যকিছু নও সেটা তোমার এতদিনে বুঝে ফেলা উচিত তাই আমি তোমার জন্য একটা অফার এনেছি।

ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো ইশিতা,

- কি?

ইশান একটা টাকাভর্তি ব্যাগ ইশিতার দিকে এগিয়ে দিলো।

- আমার কাজটা করে দিলে এর দ্বিগুন পাবে আর পৃথিবীর যেকোন দেশে বিলাশবহুল জীবনযাপন করতে পারবে।

ইশিতা একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বলল,

- কি করতে হবে আমাকে?

********************

আজ নয়নিকা আর নবনী ঘুরতে বের হয়েছে।নবনী প্ল্যান করেছে প্রথমে শপিংয়ে যাবে তারপর দুজনে মুভি দেখবে সবশেষে রেস্টুরেন্টে খেতে যাবে।মূলত গত কিছুদিন নির্বাণ আর সীফাত খুবই ব্যস্ত তাই নবনী ঠিক করেছে তারা দুজনে ঘুরবে আজ।

অপরদিকে আজ অনিকেত আর নিশাদ এসেছে একই শপিংমলে নিশাদের নাকি কিসব কেনাকাটা করার আছে। নিশাদ টিশার্ট এর সেকশনে টিশার্ট দেখছে আর অনিকেতের ফোন আসায় সে করিডোরে চলে যায়। কথা বলা শেষে ফোন পকেটে রেখে সামনে তাকাতেই লিফটে সে নয়নিকাকে দেখলো মুহূর্তেই চমকে উঠলো সে নয়নিকা এখানে? কিভাবে সম্ভব?ছুটে গেলো সে কিন্তু খুঁজে পেলো না এদিকে নিশাদ অনিকেতকে খুজতে খুজতে এসে বলল,

- কি ব্যাপার কোথায় হারিয়ে গেছিলে?

- আমি নয়নিকাকে দেখলাম এখানে।

শিথিল ভুরু জোড় এক জায়গায় এনে নিশাদ বলল,

- নয়নিকা? মানে তোমার ওয়াইফ? কি আবোল তাবোল বলছো?

অনিকেত কিছু না বলেই হাটা শুরু করলো পিছন পিছন নিশাদ আসতে আসতে জিজ্ঞেস করলো,

- কোথায় যাচ্ছো?

- সিকিউরিটি কন্ট্রোল রুমে।

************************

সারাদিন ঘোরাঘুরির পরে ক্লান্ত নয়নিকা আর নবনী কেবল এসে বসেছে এমন সময় হঠাৎ চিৎকারে দুজন লাফিয়ে উঠলো ,

- ভাবীইইইইই

হঠাৎ অপ্রত্যাশিত ইশানকে দেখে দুজনেই খুশি হয়ে গেলো। ইশান এসে ডিংকা চিকা গানের সাথে ডান্স করতে লাগলো। নবনী থামাতে গেলে ওকে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ডান্স করতে লাগলো। এক পর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে নয়নিকার পাশে বসে পড়লো। নয়নিকা জিজ্ঞেস করলো,

- ভাইয়া এত খুশি যে?

- তোমার হিটলার উনি আর আমাকে পাঠাতে পারবে না।

নয়নিকা হেসে ফেলল এমন সময় নির্বাণ আর সীফাত এলো নিশাদকে দেখে তাদের কোন রিয়্যাকশন দেখা গেলো না। ইশান একটু হতাশভাবে বলল,

- দেখেছো ভাবী এতদিন পরে আমি এলাম অথচ এদের কোন ভাবান্তর নেই।

- বাড়ির শান্তি নষ্ট হবে চিন্তা করেই আমরা হতাশ।

সীফাতের কথায় ইশান তেড়ে কিছু বলতে নিবে তার মধ্যেই নির্বাণ জিজ্ঞেস করলো ,

- কাজ কতদূর?

- আগামীকাল সকালেই দেখতে পাবা।

নির্বাণ ঠোঁট বাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বলল ,

- যাহ আর পাঠাবো না তোকে অস্ট্রেলিয়া।

ইশান তার খুশি প্রকাশ করার আগেই সীফাত খ্যাক করে বলে উঠলো,

- ভাই বাঙালি মেয়েদের রুচি ভালো ওর পারফিউম তো কেউ কিনবে না তাহলে তো ওকে বসিয়ে বসিয়ে আমাদের খাওয়াতে হবে!

সাথে সাথে টিভির রিমোট ছুড়ে মারলো সীফাতকে উদ্দেশ্য করে ইশান। সীফাত সরে গেলো কিন্তু বেচারা রিমোট দ্বিখণ্ডিত হলো। রিমোটের অবস্থা দেখে নয়নিকা ছুটে গেলো ফ্,লোর থেকে দুখন্ড হয়ে যাওয়া রিমোট হাতে তুলে নিয়ে মন খারাপ করে বলল,

- একটু পরে আমার তারাক মেহতার নতুন এপিসোড শুরু হবে এখন আমি কিভাবে দেখবো?

বলেই নয়নিকা মন খারাপ করে সোফায় বসে পড়ে। নির্বাণকে নয়নিকার দুঃখী মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে দেখে ইশান বলে ওঠে ,

- ভাবী আমার ল্যাপটপে দেইখো ইউটিউবেও দেয় তো তাও প্লিজ কান্না করে দিয়ো না নাহলে আমাকে আবার অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে দেবে।

নয়নিকা একটু হাসি দিয়ে বলল ,

- থাক ভাইয়া ল্যাপটপ লাগবে না ল্যাপটপে দেখে মজা নেই আমি কাল রিপিট টেলিকাস্ট দেখে নিবো।

- তোরা দুজন এখন যেয়ে রিমোট কিনে নিয়ে আসবি এটা তোদের শাস্তি।

নির্বাণের কথায় সীফাত অসহায় ভাবে বলল,

- ভাই মার্কেট আটটায় বন্ধ হয়ে যায় এখন বাজে সাড়ে নয়টা।

- রিমোট না নিয়ে বাড়ি ঢুকবি না।

কথাটা বলেই জবাবের অপেক্ষা না করে নির্বাণ নিজের ঘরের দিকে অগ্রসর হয়।নয়নিকা একটু হেসে বলে ,

- যেতে হবে না আমি উনাকে বলবানি কিছু বলবে না।

- না ভাবী পরে দেখা যাবে আরো বড় শাস্তি পাচ্ছি।

বলেই দুজনে বেরিয়ে গেলো।নয়নিকার বেশ খারাপ লাগলো ইস রিমোটের জন্য দুঃখ না পেলেই হতো এখন এতরাতে রিমোট কোথায় পাবে তারা।

ঠিক পনেরো মিনিটের মাথায় ইশানকে রিমোট হাতে দেখা গেলো। দাঁত বের করে সগৌরবে রিমোটটা নয়নিকার হাতে তুলে দিলো। নয়নিকা অবাক হয়ে কিছু বলতে নিবে তার আগে খেয়াল করলো এটা একটা পুরনো রিমোট তাই জিজ্ঞেস করলো ,

- এটাতো পুরনো রিমোট।

- সামনের বাড়ি থেকে ধার করে নিয়ে এসেছি বলেছি সকালে ফেরত দিবো।

নয়নিকা বিস্মিত হয়ে বলল,

- ধার দিলো?

- কাচুমাচু করে বলেছি ভাইয়া আমাদের বাসায় একটা ছোট বাবু আছে সে টিভি না দেখে ভাত খেতে পারে না কান্না করে দেয় কিন্তু আমাদের টিভির রিমোটটা একটু আগে ভেঙে গেছে বাচ্চাটা আধাঘন্টা ধরে কাদছে আপনাদেরও তো একই টিভি দেখছি রিমোটটা রাতের জন্য একটু ধার দিন সকালেই ফেরত দিয়ে দেব।

নয়নিকা অবাক হতেও ভুলে গেলো তারপর পুরো বিষয়টা বুঝতেই কুশন ছুড়ে মেরে বলল,

- আমি ছোট বাবু?

ইশান কুশনটা ক্যাচ করে বলল,

- হ্যা ভাইয়ার বাবু। রিমোটের জন্য আর একটু হলে কান্না করে দিচ্ছিলে।

ওদিকে নির্বাণ এতক্ষণ পুরো ঘটনা দেখছিলো ইশান আর নয়নিকার ঝগড়া দেখে মাথা নাড়িয়ে ডাইনিং টেবিলের দিকে চলে গেলো।নবনীকে খাবার বাড়তে দেখে চেয়ারে বসতে বসতে বলল,

- আমি ভেবেছিলাম নয়নিকা ইন্ট্রোভার্ট। শান্ত চুপচাপ কিন্তু মনে হচ্ছে এটা আরেক ইশান।

নবনী হেসে ভাইয়ের পাশে বসে বলল,

- ও মোটেই চুপচাপ নয় যথেষ্ট চঞ্চল এই কয়দিনে অনেক পরিবর্তন দেখেছি তুমি বাসায় থাকোনা তো তাই আজ প্রথম দেখলে। মনে হয় এতদিন চারপাশের পরিস্থিতিতে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলো।

********************

থমথমে মুখে বসে আছে অনিকেত।তখন সিকিউরিটি ক্যামেরা চেক করে সে স্পষ্ট নয়নিকাকে দেখেছে সাথে নবনীকেও। তারপর খোঁজ লাগিয়ে জেনেছে নয়নিকা নির্বাণের কাছে আছে আর নবনী নির্বাণের বোন। নয়নিকা নির্বাণের কাছে পৌছালো কিভাবে আর নবনীই বা অস্ট্রেলিয়ায় তাদের পাশে কেন উঠেছিলো এই সমস্ত ভাবনা অনিকেতকে আরো ব্যতিব্যস্ত করে তুলছে।

...............................চলমান................................

বিঃদ্রঃ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন