#নয়নিকা -২১
#তিশা
ক্যাটাগরি- রাজনৈতিক
জনরা- রোমান্টিক ,থ্রিলার
- আশরাফ এবং তার স্ত্রীকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে।
সাফায়েত তালুকদারের কথায় অনিকেত ভ্রু কুচকে বলল ,
- এটা তো হওয়ারি ছিল তাকে তো আসতে নিষেধ করা হয়েছিল দেশে তারপরও কেন এসেছিলো।
- এত পুরনো কেস তার উপর সেরকম গুরুত্বপূর্ণও নয় তাহলে উদ্যোগ নিয়ে এই কাজ করলো কে?
- মামা তুমি তোমার চিন্তা করো তো জেলে গেছে ভালো হইছে আপদটা কয়েকদিন জেল খেটে আসুক।
সাফায়েত তালুকদার অনিকেতের কথায় শান্ত হতে পারলেন না তার মন বলছে এর পিছনেও নির্বাণের হাত আছে।
********************
আগামীকাল নির্বাণের জন্মদিন সকাল থেকে নবনী প্লান করছে কি করবে আর কি করবে না। নয়নিকা একটু ইতস্ততভাবে নবনীকে বলল,
- বলছিলাম কি কেক অর্ডার দিও না আমি উনার জন্য কেক বানায়?
নবনী মুচকি হেসে নয়নিকার দিকে তাকাতেই নয়নিকা পুনরায় বলল,
- আমি ভালো করে বানাতে পারবো বিশ্বাস করো।
নবনী জোরেসোরে হেসে উঠলো তারপর নয়নিকার হাত ধরে বললো,
- তোমার উনি তুমি কেক বানাবে এতে পারমিশনের কি আছে?
নয়নিকা সায় জানিয়ে রান্নাঘরের দিকে গেলো আর নবনী ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবলো তারপর ঠোটের কোণে দেখা দিলো দুষ্টু এক হাসি।
বিকালে নয়নিকা ,নবনী আর ইশান শপিংমলে এসেছে নির্বাণের জন্য গিফট নিতে।নয়নিকা দেখলো ইশান আর নবনী একটু পর পর ফিসফিস করছে কিছু একটা নিয়ে।হঠাৎ একটা মেয়ে এগিয়ে এলো ওদের দিকে।নবনীকে উদ্দেশ্য করে বলল,
- এক্সকিউজ মি? আপনি মিনিস্টার নির্বাণ শাহরিয়ারের বোন না?
নবনী একটু ভালোভাবে খেয়াল করে দেখলো বাইশ তেইশ বছরের এক আধুনিক যুবতী মেয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে।নবনী একটা সৌজন্যতার হাসি দিয়ে বললো,
- জ্বী।আপনাকে তো চিনলাম না?
- আমি নির্বাণ স্যারের অনেক বড় ফ্যান বলতে পারেন আমার ক্রাশ উনি। উনার পার্সোনালিটির উপরে পুরাই ফিদা।
নয়নিকা খেয়াল করলো মেয়েটাকে তার ভীষণ অপছন্দ হয়েছে এক কথায় সহ্য করতে পারছে না কিন্তু কেন? এসব ভাবনার মাঝেই শুনলো মেয়েটি বলছে,
- আমি প্লিজ ওনার সেলফোনের নাম্বারটি পেতে পারি?
নয়নিকার কি হলো কে জানে চড়া মেজাজে বলে উঠলো মেয়েটিকে,
- দেখুন উনি কোনো সেলিব্রিটি বা মডেল নয় যে ফ্যানদের জন্য আলাদা করে সময় বের করে কথা বলবে উনি একজন মন্ত্রী অনেক ব্যস্ততা ,ফ্যান মিটিং করার সময় নেই তার।
বলেই নবনীর হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে চলে গেলো মেয়েটি কনফিউজড হয়ে সেদিকে তাকালো ইশান একটু কেশে বলল,
- আসলে ভাবী ভাইয়ের ব্যাপারে খুব পজেসিভ তো কিছু মনে করবেন না।
মেয়েটি অপ্রস্তুতভাবে বললো,
- সরি আসলে জানতাম না স্যার বিবাহিত আর ওনার বিয়ের কোন নিউজও পাইনি তো তাই আর কি।
- ইটস ওকে পারিবারিক ভাবে হয়েছে এখনো পাবলিক করা হয়নি।
বলেই ইশান মেয়েটির থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলো।
শপিং শেষে শপিংমলের ফুড কোর্টে এসে বসেছে ওরা নয়নকার মেজাজ খুব খারাপ ইশান আর নবনী ওকে দেখে মিটিমিটি হাসছে। নয়নিকা যে নির্বাণকে ভালোবাসতে শুরু করেছে ভালোই বুঝতে পারছে ওরা। কিছুক্ষণ পরে নির্বাণ এলো সীফাতকে নিয়ে। নয়নিকাকে গম্ভীর মুখে বসে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ভাইবোনের দিকে তাকালো সে কিন্তু কোনো উত্তর পেলো না উল্টে ওর দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমির হাসি দিলো।
পুরোটা সময় নয়নিকা গম্ভীর মুখে থেকেছে কোন কথা বলেনি। খাওয়াদাওয়া শেষে নির্বাণ নবনীকে জানালো তার কিছু শপিং করা দরকার কথাটা শুনে নয়নিকা যেনো খ্যাঁক করে উঠলো ,
- হ্যা তাই তো দেশের উন্নতি করার নামে খোজ নেই সারাদিন শুধু মাঞ্জা মেরে ঘুরে বেড়ানো আর মেয়ে পটানো অসভ্য পুরুষ মানুষ কোথাকার।ইশান ভাইয়া বাসায় যাবো আমি।
কথাটা বলেই এক মিনিটও বসলো না হনহন করে চলে গেলো ইশানও পিছন পিছন ছুটলো নাহলে দেখা যাবে হারিয়ে গেছে রাগের মাথায়।
নির্বাণ যেনো তব্দা খেলো এই মেয়ে এরকম রাগ দেখালো কেন সে রাগার মত কিছু করেছে বলে মনে পড়ছে না তো তার। নবনী এবার খিলখিল করে হেসে উঠলো তারপর বিস্তারিত খুলে বললো নির্বাণকে।নির্বাণ একটা বাঁকা হাসি দিয়ে মনে মনে বললো ,
- ম্যাডাম তাহলে মনের দরজা খুলতে শুরু করেছে।
গাড়িতে একটা কথাও বলেনি নয়নিকা ,নির্বাণ একটু পর পর আড়চোখে দেখে গেছে আর মিট মিট করে হেসেছে।গাড়ি থেকে নেমে কোন কথা না বলে নয়নিকা সোজা নিজের ঘরে চলে গেছে সে।
জরুরি কাজে বের হচ্ছে নির্বাণ তখন শপিংমল থেকে ফেরার পর থেকে নয়নিকা ঘাপটি দিয়ে ঘরে বসে আছে বেরও হয়নি কথাও বলেনি কারো সাথে।নির্বাণ বের হওয়ার আগে নয়নিকার ঘরে উকি দিলো দেখলো নয়নিকা ব্যালকনিতে উদাস হয়ে দাড়িয়ে আছে।নির্বাণ নিশব্দে সেদিকে এগিয়ে গেলো নয়নিকার পিছনে দাঁড়িয়ে ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
- জেলাস?
নয়নিকা চমকে লাফিয়ে উঠলো কিন্তু পরক্ষণেই নির্বাণকে দেখে মুখ বাকালো নির্বাণ অসহায় মুখ করে বললো,
- আরে বাবা আমি কি ওই মেয়েকে বলেছি আমার উপর ক্রাশ খেতে নাকি আমার নাম্বার দিতে চেয়েছি? আমি তো চিনিই না তাকে তাহলে আমার দোষ কোথায়।
নয়নিকা কিছু না বলে চলে যেতে নিলে নির্বাণ ওর হাত ধরে আটকে দিলো তারপর মাথা সামান্য নিচু করে নয়নিকার চোখের দিকে তাকিয়ে গাইলো,
'পেছনে ফিরে দেখো তুমি
অপ্রত্যাশিত কোনো অতিথি
চোখ ফেরালে বল কেন?
ভয় পেয়েছ, নাকি আরতি
জানি প্রতিটা স্বপ্নে তুমি দেখেছো আমায়
নিরন্তর ছিলে আমার-ই ছায়ায়
তবে, চোখ মেলাতে কি বিরোধ?
ভুল করে একটা বার প্রাচীরটা ভেঙ্গে দেখো
জমে আছে কত কথা ভুল করে বলে দিয়ো
জন্মান্তর যদি মিথ্যে হয়, এই হবে শেষ দেখা
ভালবাসি কেনো যে তোমায় হবে না কখনো বোঝা।'
নয়নিকা বিমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো নির্বাণের ওই ধূসর নেত্রের দিকে।দিন দিন যে লোকটার মায়ায় পড়ে যাচ্ছে ভালোই বুঝতে পারছে সে।গান শেষে নয়নিকার হাত ছেড়ে দিয়ে যেতে যেতে শয়তানি হাসি দিয়ে বলে গেলো,
- তাড়াতাড়ি মনের দরজা খুলে দাও সুন্দরী নাহলে দেখবে কোনদিন কেউ আবার আমাকে তুলে নিয়ে যেতে এসেছে।
নির্বাণের কথা শুনে নয়নিকা নিজে নিজেই ফিসফিস করে বলল,
- অসভ্য পুরুষ মানুষ।
কেকের মিশ্রণ মিক্সড করতে করতে নয়নিকাকে অন্যমনস্ক দেখে নবনী জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে বিপরীতে নয়নিকা হাসি দিয়ে জানিয়েছে কিছু না।পুনরায় নয়নিকা ভাবনার সমুদ্রে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো।হঠাতই নয়নিকা একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলো নিজের মনেই এভাবে আর নয়।
রাতের সাড়ে এগারোটা বাজে নয়নিকাকে জোর করে শাড়ি পরিয়েছে নবনী সেই সাথে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে। নয়নিকার হাজার বারণ মানেনি সে তার একটায় কথা নয়নিকা এভাবে নির্বাণের সামনে গেলে সেটাই হবে নির্বাণের বার্থডের বেস্ট গিফট। নয়নিকা বুঝতে পারছে না এভাবে সে কি করে ওই অসভ্য পুরুষ মানুষের সামনে যাবে!
বারোটা বাজার কিছু পূর্বে নির্বাণ বাড়ি ফিরলো কিন্তু পুরো বাড়ি অন্ধকার দেখে ভ্রু কুচকে এলো তার সীফাতকে উদ্দেশ্য করে বললো,
- সব এরকম চুপচাপ আর অন্ধকার কেনো?
- জানি না তো ভাই।
পুরো বাড়িতে যখন কাউকে খুঁজে পেলো না তখন নির্বাণকে চিন্তিত দেখালো। সীফাত আশ্বস্ত করে বললো ,
- চিন্তা করো না ভাই তুমি ছাদে দেখে এসো আমি বাগানের দিকে যাচ্ছি।
নির্বাণ সম্মতি জানিয়ে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে লাগলো সীফাত সেদিকে তাকিয়ে সোফায় ঠাস করে বসে শরীর এলিয়ে দিয়ে মুচকি হাসলো।
নির্বাণ ছাদে এসে মুখোমুখি হলো নিরেট অন্ধকারের সাথে। পরিচিত পদক্ষেপে সুইচবোর্ডের দিকে আগাতেই এক চিলতে আলো দেখা দিলো সামনে বেখেয়ালে সেদিকে তাকিয়ে আবার অন্যদিকে তাকাতে নিয়েও দৃষ্টি থমকে গেলো তার। নির্বাণের সামনে শাড়ি পরিহিতা এক অতীব সুন্দরী তনয়া দন্ডায়মান।মোমবাতির এক চিলতে আলোয় মনে হলো নির্বাণের এই অপার্থিব সৌন্দর্যে তার হৃদপিণ্ড থমকে গেছে। নির্বাণ যখন অপলক নেত্রে নয়নিকাতে মুগ্ধ হতে ব্যস্ত তখনই গুটিগুটি পায়ে তার দিকে এগিয়ে এলো নয়নিকা।জ্বলন্ত মোমবাতি সহ কেকটা সামনে বাড়িয়ে লাজুক নেত্র জমিনে নিক্ষেপ করে নরম সুরে বলল,
- শুভ জন্মদিন।
নির্বাণের এবার চেতনা ফিরলো ভালো করে খেয়াল করে দেখলো সেদিনের সেই সবুজ জামদানী পরেছে নয়নিকা সাথে নির্বাণের কিনে দেয়া সেই কাচের চুড়িগুলো। মুখে একটা সন্তুষ্টির হাসি ফুটলো নির্বাণের।
ওদিকে সিড়ির দরজার পিছন থেকে উকি দিচ্ছে তিনজোড়া উৎসুক চোখ।এতক্ষণ নির্বাণের অবস্থা দেখে মিট মিট করে হাসছিলো তারা এবার বেরিয়ে এসে একসাথে চিৎকার করলো,
'Happy Birthday Vaiya.'
নির্বাণ হেসে ভাইবোনকে জড়িয়ে ধরলো তারপর নয়নিকাকে দেখিয়ে বললো,
- তোদের প্লান এসব না?
- ভাবলাম তোমাকে বেস্ট গিফটটাই উপহার দেয়।
চনমনে উত্তর ইশানের।নির্বাণ বাকা হেসে নয়নিকার দিকে তাকিয়ে বললো ,
- আসলেই বেস্ট গিফট ছিল।
............................চলমান.........................
বিঃদ্রঃ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।