#নয়নিকা -২২ (বিবাহ স্পেশাল )
#তিশা
ক্যাটাগরি- রাজনৈতিক
জনরা- রোমান্টিক, থ্রিলার
কেক কাটা শেষে নির্বাণ ভাই বোনদের কেক খাওয়ালো।ইশান বললো,
- আরে ভাইয়া তোমার জন্য এত কষ্ট করে যে কেক বানাইলো তাকে খাওয়াবে না?
নির্বাণ বিস্মিত! নয়নিকা বানিয়েছে কেক? এক টুকরো নিয়ে নয়নিকার মুখে ধরতেই সে লাজুক মুখে খেলো। নির্বাণ জিজ্ঞেস করলো ,
- তুমি বানিয়েছো?
নয়নিকা অস্বস্তি নিয়ে বলল,
- ওরা সবাই আপনাকে কিছু না কিছু গিফট কিনে দিয়েছে আমার তো ওই সামর্থ্য নেই আপনার টাকা দিয়ে আপনাকে কি গিফট দেবো তাই এটাই আমার পক্ষ থেকে গিফট।
- একদিন বলেছি না আমার সবকিছুই তোমার আর পুরো তুমিটাই তো আমার গিফট এই যে এত সুন্দর করে বউ সেজে এসেছো এটাই বা কম কি? বাই দ্যা ওয়ে কেকটা মজা ছিল।
নবনীর আওয়াজে দুজনে কথার সুতো কেটে গেলো। নবনী ছাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলল,
- ভাইয়া তোমাকে আমার আর একটা গিফট দেয়া বাকি।
নির্বাণ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই নবনী একটু লাজুক হেসে বলল,
- তুমি মামা হতে যাচ্ছো।
নির্বাণ আর ইশান কিছুক্ষণের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গেলো তারপর দুজন একসাথ বোনকে জড়িয়ে ধরলো।নির্বাণ বললো,
- আগে বলিস নি কেন?
- উহু তাহলে সারপ্রাইজ হতো কি তোমার বার্থডে তে।
নির্বাণ বোনের মাথায় চুমু দিয়ে বলল,
- পৃথিবীর সব সুখ তোর হোক।
- আরে ভাইয়া পৃথিবীর সব সুখ আমাদের হোক।
বলেই তিন ভাইবোন হেসে উঠলো। গতকাল ডাক্তারের কাছে যেয়ে জেনেছিলো সে পরে নয়নিকার অবস্থা দেখে ওকে আর বলা হয়নি ওর তবে রাতে সীফাতকে জানিয়েছিলো সীফাত তো বাচ্চাদের মতো লাফাচ্ছিলো,নবনীই ওকে থামিয়েছে কাউকে বলতে নির্বাণের জন্মদিনে সারপ্রাইজ দিবে তাই।
********************
আজ নির্বাণের অফিসে এসেছে নবনী আর নয়নিকা। দুজনে মিলে সীফাত আর নির্বাণের পছন্দের খাবার রান্না করেছে সকাল থেকে কিন্তু ফোন দিলে জানতে পারে অফিসে কাজের প্রচুর চাপ দুপুরে বাসায় আসতে পারবে না তাই ওরা প্লান করেছে অফিসে এসে সারপ্রাইজ দিবে। রিসেপশনে এসে জানতে পারে নির্বাণ কেবিনেই আছে। করিডোরেই সীফাতের সাথে দেখা হলো ওদের সীফাত নবনীকে নিজের সাথে নিয়ে গেলো আর নয়নিকাকে নির্বাণের কেবিন দেখিয়ে দিলো নয়নিকা একটু অস্বস্তিতে পড়লো দোনামোনা করে আগালো।কেবিনের দরজা খুলতেই প্রত্যাশিত দৃশ্যে তার হাত থেকে লাঞ্চবক্স সশব্দে নিচে পড়ে গেলো।
*********************
কাজী অফিসের বাইরে মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নয়নিকা তার পাশে নির্বিকার নির্বাণ। সীফাত ,ইশান আর নবনী মুচকি মুচকি হাসছে ওদের হাসি দেখে নয়নিকার মেজাজ খারাপ হলো।
- অসভ্য পুরুষ মানুষ আপনার সাথে আমি কোথাও যাবো না। ফিরবো না আর আপনার বাড়িতে।
বলেই হনহন করে হাঁটা শুরু করে। নির্বাণ ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফোস করে নিশ্বাস নিয়ে ইশানদের বলল,
- তোরা বাড়ি যেয়ে বাসরের ব্যবস্থা কর আমি বউ নিয়ে আসছি।
কথাটা বলে নির্বাণ নয়নিকার পিছন পিছন হাঁটা শুরু করে। ইশান আফসোসের সুরে বলল,
- বেচারা ভাইয়ের সুখের দিন শেষ হয়ে গেলো।
নয়নিকা রাগে কোনদিকে যাচ্ছে তার হুশ নেই মনে মনে নির্বাণকে গালি দিচ্ছে।তখন নির্বাণের অফিসের দরজা খুলে দেখলো নির্বাণের কোলে একটা মেয়ে বসা আর মেয়েটির কোমরে ওর হাত। এটা দেখে নয়নিকার মনে পড়ে গেলো অনিকেতের সাথে ইশিতার সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কথা। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো তার তাহলে কি আবার ঠকে গেলো সে! জীবন তাকে আবার ধোকা দিলো!
এদিকে কিছু পড়ার শব্দে দরজার দিকে তাকিয়ে কান্নারত নয়নিকাকে দেখে নির্বাণ মেয়েটিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো কিন্তু ততোক্ষণে নয়নিকে ছুটে বেরিয়ে গেছে।নির্বাণও ওর পিছু নিলো।নয়নিকা চোখ মুছতে মুছতে এরকম দৌড়ে বেরিয়ে যেতে নেয় তখনি নির্বাণ পিছন থেকে এসে ওকে জড়িড়ে ধরে।
- নয়নিকা আমার কথাটা শোনো প্লিজ।তুমি যেটা দেখেছো সেটা ঠিক নয় আমার কথাটা শোনো প্লিজ।
- কিছু শুনতে চাই না আমি সব পুরুষ মানুষের চরিত্র এক সবাই ধোকাবাজ।
বলেই জোর জবরদস্তি নিজেকে ছাড়াতে লাগলো কিন্তু নির্বাণ আরো জোরে চেপে ধরলো।
- আমারই ভুল আপনাকে ভালোবেসে ফেলাই আমার উচিত হয়নি।
বলেই কান্না করতে লাগলো আর নিজেকে ছাড়াতে চাইলো। অফিসের সবাই উৎসুকভাব তাকিয়ে আছে নবনী আর সীফাতও চলে এসেছে চিল্লাচিল্লি শুনে। এই পার্যায়ে নির্বাণ নয়নিকাকে একটা জোরেশোরে ঝাড়িই দিলো। এত জোরে বকা খেয়ে নয়নিকা চুপ হয়ে গেলো কিন্তু পরক্ষণেই জোরে কেদে দিলো নির্বাণ এক হাত দিয়ে চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বলল,
- আল্লাহর দোহাই লাগে সোনা একটাবার আমার কথাটা শোনো তারপর তোমার যা ইচ্ছা তাই কইরো দরকার হলে আমাকে মেরো।
নয়নিকা হিচকি দিতে দিতে অশ্রুসিক্ত চোখে নির্বাণের দিকে তাকালো নির্বাণ ওর হাত ধরে নিয়ে যেতে লাগলো আর বলল ,
- কিছু বলবো না নিজের চোখেই দেখবা এসো।
নির্বাণের অফিস কক্ষের সোফায় বসে আছে নয়নিকা নির্বাণ ল্যাপটপে সিসিটিভি ফুটেজ চালু করে নয়নিকার পাশে বসলো।নয়নিকা দেখলো সেই মেয়েটি একটি ফাইল নিয়ে নির্বাণের কাছে আগাতেই জুতা স্লিপ করে নির্বাণের উপরে পড়ে যায় আর নির্বাণও ব্যালেন্স রাখতে মেয়েটিকে ধরে ফেলে আর ঠিক সেই মুহুর্তে নয়নিকাও কেবিনে প্রবেশ করে।
- এবার বিশ্বাস হলো?
নয়নিকা গাল ফুলিয়ে বলল,
- আপনার অফিসের মেয়েদের বলে দিবেন এরকম চার পাঁচ ইঞ্চি উচু হিল পরে যেন অফিসে না আসে।উচু উচু জুতা পরে হাটতে পারবে না আর বসের কোলের উপর বসে পড়বে।
নির্বাণ হাসলো তারপর বলল,
- আপনার হুকুম শিরোধার্য ম্যাডাম। আর কিছু?
এবার নয়নিকার বোধোদয় হলো বুঝি এতক্ষণ কি কি করেছে আর বলেছে বুঝে অস্বস্তিতে মাথা নিচু করে ফেললো। নির্বাণ গভীর দৃষ্টিতে নয়নিকাকে দেখলো তারপর ওর হাত ধরে বসা থেকে উঠিয়ে বলল,
- চলো।
বাইরে বের হয়ে সীফাত আর নবনীকেও আসতে বললো। গাড়িতে ইশানকেও ফোন করে একটা ঠিকানা দিয়ে আসতে বললো।
- ভাইয়া আমরা কোথায় যাচ্ছি?
নবনীর প্রশ্নে নির্লিপ্ত ভাবে বলল,
- বিয়ে করতে।
নয়নিকা চমকে তাকালো আর নবনী বিস্মিত হয়ে বলল,
- মানে?
- বউ আমাকে ভালোবাসে বলে দিয়েছে তাই আর দেরী করতে পারছি না। এখন বিয়ে করব রাতে বাসর করবো এক বছর পরে বাচ্চা আসবে আর চারবছর পরে তোর আর আমার বাচ্চা একসাথে স্কুলে যাবে।
নয়নিকা অবাক হতেও ভুলে গেলো আর নবনী ভাইয়ের কথা শুনে থতমত খেলো ওদিকে সীফাত ঠোঁট চেপে হাসছে।হতভম্ব ভাবটা কমতেই খেকিয়ে উঠলো নয়নিকা,
- অসভ্য পুরুষ মানুষ আপনাকে আমি বিয়ে করবো না।
নির্বাণও যেনো খ্যাক করে উঠলো,
- তাহলে অন্য মেয়ের সাথে আমাকে দেখে ভ্যা ভ্যা করে কাদছিলে কেন? তুমি করবে না তাহলে ওই মেয়েটাকে এনে বিয়ে করে ফেলি?
- ফালতু কথা বললে আপনার মাথার চুল ছিড়ে নেবো কিন্তু বেয়াদব মন্ত্রী কোথাকার।
নবনী আর সীফাত হা করে ওদের ঝগড়া দেখছিলো। নির্বাণ ঝাড়ি দিয়ে সীফাতকে বলল,
- গাড়ি থামালি কেন?
- ভাই চলে এসেছি।
তারপরের ব্যাপারটা পুরোটাই নাটকীয়।নয়নিকা কবুল বলবে না বলে মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলো।নির্বাণ হতাশ হয়ে পকেট থেকে ফোন বের করতে করতে বলল,
- আচ্ছা রিমিকে ফোন করে আসতে বলি তুমি যেহেতু কবুল বলবে না ওকেই নাহয় বিয়ে করব।
সাথে সাথে নয়নিকা কবুল বললো তাও তিনবার নয় পাঁচবার। নির্বাণ বাঁকা হেসে ফোন পকেটে রেখে দিলো।
- ও বউ।
এতক্ষণ কি অদ্ভুতভাবে তার বিয়ে হয়ে গেলো সেটাই ভাবতে ভাবতে হাটছিলো ,নির্বাণের ডাক শুনে ধ্যান ফিরলো।পুনরায় নির্বাণ ডেকে উঠলো ,
- ও বউ আর কত হাটবা এবার তো হাটতে হাটতে ঢাকার বাইরে চলে যাবো আমরা।
- কি তখন থেকে বউ বউ করছেন হ্যা?
- আরে এতদিনে তোমাকে ডাকার মত একটা মনমতো নাম পেয়েছি আমি। বাড়ি চলো তো আমার পা ব্যথা হয়ে গেলো। সাংবাদিকেরা দেখতে পেলে কালকের হেডলাইন হবে 'নতুন বউ নিয়ে পথে পথে ঘুরলেন মন্ত্রী নির্বাণ শাহরিয়ার।'
বলেই জোর করে নয়নিকাকে নিয়ে রিকশায় উঠলো সে।
রিকশা যখন শপিংমলের সামনে দাড়ালো তখন নয়নিকা জিজ্ঞেস করলো,
- এখানে কেনো এসেছি আমরা?
নির্বাণ নেমে নয়নিকার হাত ধরে নামাতে নামাতে বললো ,
- গেলেই দেখতে পাবে।
নির্বাণ নয়নিকাকে নিয়ে একটা জুয়েলারি শপে ঢুকলো তারপর সেলস গার্লকে আংটি দেখাতে বললো নয়নিকা বুঝলো না নির্বাণ আংটি দিয়ে কি করবে? বেশ কিছু ডিজাইনের আংটি নির্বাণকে দেখানো হলে সেখান থেকে সিম্পল একটা ডায়মন্ডের আংটি তুলে নিয়ে নয়নিকার অনামিকাতে পরিয়ে দিতে দিতে বলল,
- মিনিস্টারের হোম মিনিস্টারকে বিয়ের শুভেচ্ছা আর এটা তার বিয়ের গিফট। কি ভেবেছিলে কাজী অফিসে বিয়ে করেছি বলে কিছু দেবো না।
নয়নিকা বোধহয় লজ্জা পেলো তারপর সামনে থাকা রিংগুলোর মধ্যে থেকে একটা একদম সিম্পল জেন্টস রিং তুলে নির্বাণের অনামিকাতে পরিয়ে দিয়ে বলল,
- মন্ত্রী মশাইকেও বিয়ের শুভেচ্ছা।
নির্বাণের চোখেমুখে প্রাপ্তির খুশি দেখা দিলো।
বিল পেমেন্ট করার সময় নির্বাণ যখন দুইটা আংটির বিল দিতে গেলে নয়নিকা নির্বাণকে থামিয়ে বলল আপনার আংটির বিল তো আমি দিবো বলে ব্যাগ থেকে নির্বাণের দেয়া সেই ক্রেডিট কার্ড বের করে কাউন্টারে দিলো তারপর নির্বাণকে উদ্দেশ্য করে বলল,
- আপনার টাকা কেনো নিবো আপনি জানেন আমার জামাইয়ের অনেক টাকা।
নির্বাণ একটা বাকা হাসি দিয়ে বললো,
- ও তাই? জানতাম না তো!
...................................চলমান.................................
বিঃদ্রঃ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।