ফন্ট সাইজ:
থিম:
নয়নিকা

২৯তম পর্ব

লেখক: তিশা

#নয়নিকা -অন্তিম পর্ব

#তিশা

ক্যাটাগরি- রাজনৈতিক

জনরা- রোমান্টিক, থ্রিলার

নির্বাণ অনিকেতের দিকে ঝুকে এক গর্দানটা একটু বাকিয়ে বললো,

- প্রথম ভুলটা করেছিলি নিশাদকে বিশ্বাস করে একবারও ভাবলিনা ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির এত বড় একজন ব্যক্তিত্ব যার সব কিছু ঠিকঠাক চলছে সে কেনো তোর ওই অস্ত্র ব্যবসায় নেমে হাত কালো করতে যাবে।তারপর যখন দেখলি আমাকে মা/রা/র জন্য তোর থেকে নিশাদ বেশি উদগ্রীব তখন ওকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করলি এজন্যই তো কাগজপত্র না পড়েই সাইন করা শুরু করলি। এবার বুঝলি ডিভোর্স পেপারে তোর সাইন আসলো কিভাবে? তোর কি মনে হয় এমনি এমনি নয়নিকা তোর আর ইশিতার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে গেলো মোটেও না আমি চেয়েছি তাই হয়েছে।তোর প্রত্যেকটা খারাপ চরিত্রের সাথে নয়নিকার পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছি যাতে তোর মৃ/ত্যুর খবরে ওর একটুও কষ্ট না হয়।তবে এটা সত্যি ওইভাবে নয়নিকাকে আনতে চাইনি কিন্তু ভাগ্য তো আর বদলানো যায় না। তবে তোদের ডিভোর্সের ক্ষেত্রে তোর একটা বিশাল অবদান আছে জানিস তো আমি কোনদিনই নয়নিকা নিজে থেকে তোদের ডিভোর্সের কথা বলতাম না আমি বরাবর চেয়েছি ও নিজের ইচ্ছেতে সম্পর্কটা থেকে বেরিয়ে আসবে। তুই ভেবেছিলি নয়নিকাকে ইমোশনাল কথা বলে সমাজের ভয় দেখিয়ে আবার তোর কাছে নিয়ে যাবি। কত বড় বোকা তুই নয়নিকা যেদিন সমুদ্রে ঝাপ দিলো সেদিনই তোর বোঝা উচিত ছিলো যে নয়নিকার মনে তোর প্রতি ঘৃণা ছাড়া আর কিছু নেই ও ম/রে যাবে তবু তোর কাছে ফিরবে না।যাই হোক সেদিন হাসপাতাল থেকে ফিরে ও নিজেই আবদার করেছিলো ওর তোদের ডিভোর্স করিয়ে দিতে। এখানে নিজের নির্বুদ্ধিতায় তুই নিজের পায়েই কুড়ালটা মারলি। নিজের প্রতি তোর আত্মবিশ্বাস এতই প্রবল ছিলো যে কখন যে তোকে আমি সবদিক দিয়ে মাকড়শার জালের মতো জড়িয়ে দিয়েছি তুই নিজেই বুঝতে পারিস নি।তোর কি মনে হয় আশরাফ এমনি দেশে এসেছে ওকেও আমিই নিয়ে এসেছি আর সবকিছুর মধ্যে যে জিনিসটা আমার পরিকল্পনায় ছিল না সেটা হচ্ছে নয়নিকাকে ভালোবাসা। আমি ওকে তোর কয়েদখানা থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ওকে ভালোবেসে ফেলাটা পুরোটাই মনস্তাত্ত্বিক।

অনিকেত বুঝলো ওর আর বাচার কোন পথ নেই তাই বললো ,

- মেরে ফেল আমাকে।

নির্বাণ একটা অট্টহাসি দিলো তারপর হঠাৎ করে হাসি থামিয়ে অনিকেতের গলা চেপে ধরে বললো,

- এত সহজে মরে যাবি সেটা কি হয়।

বলেই অধরকোণে এক রহস্যময় হাসি ফুটে উঠলো তার।অনিকেত বুঝলো সহজ মৃত্যু তার হবে না।

মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো নয়নিকা এতক্ষণ নির্বাণ থেকে যেতেই জিজ্ঞেস করলো তারপর কি করলেন,

- শুনলে খারাপ লাগবে না তো?

- খারাপ লাগলে কি জিজ্ঞেস করতাম?

নির্বাণ নয়নিকার মাথাটা নিজের বুকে নিয়ে বললো,

- গাড়ির সীটে অনিকেতকে বেধে প্রেটোল দিয়ে জীবন্ত জ্বালিয়ে দিয়েছি।তারপর খাদে ফেলে দিয়েছি।

নয়নিকা কৌতূহল হয়ে জানতে চাইলো,

- আর একটা লা/শ?

- বেওয়ারিশ পোড়া অন্য একটা লা/শ ছিল ওটা।

- ডি এন এ টেস্টে ম্যাচ হলো কিভাবে?

- এখনো বুঝলে না নিশাদই ব্যবস্থা করেছে।

- তাহলে পরে ফিরে আসেন নি কেন?

মন খারাপ করে বললো নয়নিকা।নির্বাণ একটা দীর্ঘনিশ্বাস নিয়ে বললো ,

- সাফায়েত তালুকদার আর আশরাফকে ধরার জন্য। আমি বেচে নেই জানলে ওরা যে তোমাকে টার্গেট করবে আমি জানতাম এজন্যই নাটকটা করা। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি ওটা অনেক বড় ভুল ছিল। যদিও তোমাকে সর্বক্ষণ চোখে চোখে রেখেছি কিন্তু আমি বুঝিনি তুমি প্রেগন্যান্ট তাহলে অন্য ব্যবস্থা নিতাম আমার জন্য তোমাকে আর আমার সন্তানকে এত কষ্ট পেতে হলো আগামী দিনেও স্বাভাবিকের তুলায় বেশি কষ্ট পেতে হবে তোমাকে। আমাকে মাফ করে দিও বউ।

বলে নির্বাণ শক্ত করে নয়নিকাকে জড়িয়ে ধরলো। নয়নিকা বুঝলো লোকটার হাত পা কাপছে হয়তো ভয় পেয়ে আছে এখনো।নয়নিকা নির্বাণকে ছাড়িয়ে নিজের ছোট দুহাত নির্বাণের চিবুকে বুলিয়ে বললো,

- দেখুন আমি তো সুস্থ আছি বাবুও ভালো আছে আপনি আর মন খারাপ কইরেন না।

এরপর নয়নিকার চোখ মুখ শক্ত করে বললো,

- আশরাফ হোসেন আর তার বউয়ের কি করবেন?

নির্বাণ নয়নিকার মানসিক অবস্থা বুঝলো তারপর জিজ্ঞেস করলো ,

- তুমি কি চাইছো?

- এমন অবস্থা করুন যেনো বেচে থাকাকে অভিশাপ মনে করে।

***********************

অনেকদিন পরে সব ভাইবোন একসাথে সকালে ব্রেকফাস্ট করতে বসেছে।সীফাত সবে স্যাণ্ডউইচ টা মুখে তুলবে এমন সময় ইশান ছো মেরে নিয়ে নিলো। সীফাত একটা হতাশার নিঃশ্বাস ছেড়ে নবনীকে বললো তোমার এই ভাইটাকে একদিন আমি গায়েব করে দেবো। নবনী মুচকি মুচকি হেসে অন্য আর একটা স্যাণ্ডউইচ সীফাতের হাতে দিয়ে বললো ,

- থাক কাউকে গায়েব করতে হবে না।

ইশান নবনীকে উদ্দেশ্য করে বললো ,

- ভাই কিন্তু তোকে দেয়া কথা রেখেছে।

নবনী জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো।ইশান নির্বাণের দিকে তাকিয়ে একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বলল ,

- এই যে ভাইয়ের বাচ্চা আর তোর বাচ্চা একসাথে স্কুলে যাবে।

ইশানের কথায় নির্বাণ চোখ রাঙালো তারপর নিজের খাবারে মনোযোগ দিলো।নয়নিকা তখন নিজের প্লেটের সিদ্ধ ডিমটা অগোচরে নিশাদের প্লেটে চালান করতে ব্যস্ত নিশাদের মনোযোগ ছিল ইশানের দিকে তখন। নিশাদ পুনরায় খাবারে মনোযোগ দিতে গিয়ে দেখলো খিচুড়ির পাশে আস্ত একটা ডিম কিন্তু ও তো ডিম নেয়নি তাহলে ডিম কোথা থেকে এলো।

- মুরগি এসে ডিম পেড়ে দিয়ে গেছে।

নির্বাণের কথায় সবাই ওর দিকে তাকালো। নির্বাণ নিশাদের দিকে তাকিয়ে নয়নিকাকে উদ্দেশ্য করে বললো,

- বললাম মুরগি ডিম পেড়ে দিয়ে গেছে তোর প্লেটে।

নিশাদ বুঝলো তারপর একটা হাসি দিয়ে আস্ত ডিম মুখের মধ্যে চালান করে বললো ,

- কোন মুরগী ডাইরেক্ট সিদ্ধ ডিম পাড়ে ভাই?

নয়নিকার মেজাজ খারাপ হলো তারপর উঠে দাড়িয়ে বললো এসব অখাদ্য আমি খাবো না নির্বাণ ওর হাত ধরে আবার বসিয়ে দিলো তারপর আমের আচার দিয়ে খিচুড়ি মাখিয়ে গালে উঠিয়ে দিতে দিতে বললো ,

- কয়টা দিন এসব খাও তারপর সুস্থ হয়ে সুখাদ্য খেও।

নয়নিকার খিচুড়ির টেস্ট এবার ভালো লাগলো কিন্তু স্বীকার করলো না। ইশান জিজ্ঞেস করলো ,

- ভাবী কি খেতে মন চাই তোমার?

- রুটি দিয়ে চকলেট ফ্লেভারের আইসক্রিম।

ইশানের স্যাণ্ডউইচ খাওয়া মাঝপথে থেমে গেলো আর নিশাদ তার সাধের খিচুড়ি ফেলে উঠে গেলো সীফাত নির্বিকার ভাবে খাচ্ছে নির্বাণকে অস্বাভাবিক দৃষ্টিতে নয়নিকার দিকে তাকাতে দেখে সীফাত খেতে খেতে বললো,

- ভাবী সুস্থই আছে ভাই মানসিকভাবে প্রস্তুত হও আরো অনেক নতুন ধরনের খাবারের সম্মুখীন হবে তুমি।

নবনী সেসব পাত্তা না দিয়ে উঠে ফ্রিজ থেকে আইস্ক্রিম বের করে এনে নয়নিকার পাশে বসে বলল,

- রুটি তো আজ বানায়নি চলো আমরা পাউরুটি দিয়ে টেস্ট করি।

নয়নিকাও উৎফুল্ল ভাবে প্রস্তাব গ্রহণ করলো। নির্বাণের মনে হলো বউ চালানোর থেকে দেশ চালানো সহজ বেশি।

******************

রাতে নয়নিকা বারান্দায় দাড়িয়ে নির্বাণের জন্য অপেক্ষা করছে হঠাৎ উদরে অনুভব করলো পুরুষালী দুই হাতের অস্তিত্ব।

- ও বউ।

- হুম

- কবে জেনেছিলে আমাদের ভালোবাসার অংশ আসতে চলেছে।

- কক্সবাজার থেকে আসার একমাস পরে।

- কাউকে জানাও নি কেনো?

- বাবুর বাবার সবার আগে জানার অধিকার ছিল তাই।

নির্বাণ নয়নিকাকে নিয়ে ব্যালকনির সোফায় বসিয়ে নিজে হাটু ভাজ করে ফ্লোরে বসে নয়নিকার দুইহাত মুঠোবন্দী করে বললো,

- যদি না ফিরতাম।

- উহু বললেই হলো আপনার কিছু হলে আমি বুঝতে পারতাম না?

- কিভাবে?

- ভালোবাসি যে তাই।

নির্বাণ যেন শ্বাস নিতে ভুলে গেলো। উঠে দাড়িয়ে নয়নিকাকেও দাড় করালো তারপর বললো ,

- কি বললে বউ? আবার বলো।

নয়নিকা নির্বাণের কোমড় জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে বললো,

- ভালোবাসি এই অসভ্য পুরুষ মানুষকে।

***********************

বরাবরের মত পরিত্যক্ত সেই বাড়ির দরজার বাইরে অশান্ত চিত্তে পায়চারি করছে সীফাত। বন্ধ সেই দরজার ভিতর থেকে ভেসে আসছে একজোড়া মানব মানবীর হৃদয় বিদারক আর্তচিৎকার। ভিতরে যে খুবই বিভৎস কোন ঘটনা ঘটছে সেটা সে খুব ভালোই জানে।

চোখ ধরে করুণ চিৎকার করছে আশরাফ কিছুক্ষণ আগে সালফিউরিক এসিড দিয়ে ঝ/ল/সে দেয়া হয়েছে তার দুই চোখ।পাশেই তার শায়েলা ম/র/ণ যন্ত্রণায় ছটফট করছে অলরেডি তার মুখের একপাশ ঝলসে দেয়া হয়েছে।

নির্বাণ আয়েশ করে চেয়ারে বসলো।

- আমি এভাবে তোদের কষ্ট দিতে চাইনি বিশ্বাস কর।ভেবেছিলাম অল্প একটু কষ্ট দেবো তারপর মে/রে দিবো কিন্তু তোরা একের পর এক অন্যায় করে গেছিস।সব থেকে বড় ভুল করেছিস আমার বউকে তুলে নিয়ে কষ্ট দিয়ে।

তারপর শায়েলা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বললো,

- আপনার স্পেশাল কেয়ার আমি সব সময়ই করতে চেয়েছি যখন বুঝেছি নয়নিকার শরীরের সব দাগ অনিকেতের নয় আর আমি খুব ভালো করেই জানি দশ বছর নয়নিকাকে কতটা যত্ন করে রেখেছিলেন কিন্তু সব থেকে বড় পাপ করেছেন আমার বউ আর বাচ্চা দুজনকেই আঘাত করেছেন। আমার বউকে কথা দিয়েছি আপনাদের মা/র/বো না তবে এমন ব্যবস্থা করবো যেনো জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকার জন্য আফসোস হয়।

বলে নির্বাণ উঠে যেতে যেতে একজন বডিগার্ডকে উদ্দেশ্য করে বলে,

- এদেরকে হাত পা ভেঙে ভিক্ষুক সিণ্ডিকেটের হাতে তুলে দিবি।

******************

ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে পাউরুটিতে আচার আর মেয়োনিজ লাগিয়ে খুব মজা নিয়ে খাচ্ছে নয়নিকা আর তার পাশে ইশান গালে হাত দিয়ে অসহায় ভাবে তাকিয়ে সেই দৃশ্য অবলোকন করছে।খেতে খেতে নয়নিকার নজর ইশানের দিকে ,ইশানকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে নয়নিকা আচার আর মেয়োনিজ ভর্তি একটা পাউরুটি তার দিকে বাড়িয়ে দিলো।ইশান আতকে উঠে দুরে সরে গেলো।একটা মেকি হাসি দিয়ে বললো,

- তুমি খাও ভাবী আমি খেলে তোমার ভাগে কম পড়বে।

- উহু কম পড়বে না বাসায় অনেক পাউরুটি আছে ভাইয়া।

ইশান নতুন কোন বাহানা দিবে তার আগে সীফাত বলে উঠলো ,

- হ্যা ভাবী ওর খুব পছন্দ এই কম্বিনেশনের স্যাণ্ডউইচ।

ইশান যেনো আহাজারি করে উঠলো,

- না ভাবী আমার মোটেই পছন্দ না।

ইশানের কথায় নয়নিকা গাল ফুলালো সেই সময় নির্বাণ এসে ওর পাশে বসলো।নির্বাণকে দেখে নয়নিকা একটা প্রাউড হাসি দিয়ে বললো,

- এইটা খুবই মজা মন্ত্রীমশাইও খায় দেখবেন?

নির্বাণ যেনো তব্দা খেলো।কি বলে তার বউ এসব? সে কবে এরকম উদ্ভট খাবার খেলো? পরের টুকু আর ভাবার সময় পেলো না সে ততক্ষণে নয়নিকা তার মুখের সামনে পাউরুটির এক টুকরো ধরে রেখেছে। নির্বাণ তাকিয়ে দেখলো বউ খুশি খুশি চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। নির্বাণের সেই খুশি নষ্ট করতে ইচ্ছে হলো না বউয়ের খুশির জন্য একটু নাহয় বিস্বাদ খাবার খেলো।নির্বাণ চোখ বন্ধ করে খাবার টুকু মুখে নিলো। ভয়ে ভয়ে চিবুতে লাগলো কিন্তু কই খারাপ টেস্ট তো লাগলো না আর একটু ভালো করে চিবুতেই বুঝলো এটা জ্যাম পাউরুটি।জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে নয়নিকার দিকে তাকাতেই নয়নিকা একটা হাসি দিয়ে বললো,

- জানি তো এত টেস্টি খাবার আপনার হজম হবে না।

নির্বাণ অধর বাকিয়ে হাসলো তারপর মনে মনে ভাবলো যাক বউটার এতটুকু সুবুদ্ধি এখনো আছে।

"অস্ট্রেলিয়ার এক হোটেলে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে বেশ কিছু প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া গেছে।"

টেলিভিশনের নিউজের শব্দে নয়নিকার মনোযোগ সেদিকে নিবিষ্ট হলো। ঘটনায় নিহতদের আলোকচিত্র ফুটে উঠেছে দূরদর্শনের পর্দায় হঠাৎ এক ভিকটিমের ছবি দেখে নয়নিকার চেনা মনে হলো ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বললো,

- ইশিতা!

নয়নিকা প্রশ্নাত্মক চাহনি দিলো নির্বাণের দিকে নির্বাণ বোধহয় বুঝলো সেই চাহনীর অর্থ।মুচকি হেসে নয়নিকাকে বাহুবন্ধনে আগলে নিলো তারপর নয়নিকার স্বল্প স্ফীত উদরে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,

- এই ঘটনায় আমার কোন হাত নেই বউ এটা সম্পূর্ণ একটা দূর্ঘটনা। একটা কথা জানো তো প্রকৃতি কখনো কাউকে ছাড় দেয় না কর্মফল সবাইকে ভোগ করতে হয়। আর ওই হোটেলেও ইশিতা অন্য একজন বিবাহিত পুরুষের সাথে অবৈধ প্রণয়ের উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলো।

নয়নিকা প্রতুত্তরে কিছু বললো না নির্বাণের বুকের মধ্যে আরো একটু ঢুকে যেতে চাইলো বোধহয়। চোখ বন্ধ করে নির্বাণের হৃদস্পন্দন শুনতে শুনতে প্রার্থনা করলো অনেক কষ্ট দিলে সৃষ্টিকর্তা বাকি জীবনটুকু নাহয় এই হৃদস্পন্দনের মালকিন হয়ে থাকার সুখটুকু দিও!

নোট: ভবিষ্যতে #নয়নিকা র সিজন টু আসবে ইনশাআল্লাহ তবে বেশ কিছুটা সময় পরে।খুব শীঘ্রই কাজিন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প শুরু করবো ইনশাআল্লাহ। যেহেতু আমি লেখালেখির জগতে নতুন আপনারা গঠনমূলক সমালোচনা করবেন যেনো আমি ভবিষ্যতে ভুল ত্রুটি শুধরে নিতে পারি।

...............................সমাপ্ত.............................

বিঃদ্রঃ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন