#রাজনীতির_রক্তচুক্তি
#পর্ব_২
#কলমে_নীলপ্রজাপতি
সকাল প্রায় ৭টা।
খান মহলে আজ আদ্রিতার প্রথম দিন। অভ্যাস অনুযায়ী আদ্রিতা ভোরেই উঠে গেছে। ফ্রেশ হয়ে একটা লাল রঙের শাড়ি পড়েছে। ভেজা চুল গুলো পিঠে ছড়িয়ে রয়েছে। সত্যি নতুন বউয়ের মতো লাগছে তাকে।
অন্যদিকে আবরাজ যেন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এসব থেকে।তার পরনে সাদা কুর্তা আর জিন্স। তাকে দেখে বোঝা কঠিন যে সে গতকাল বিয়ে করেছে। আবরাজ আদ্রিতা কে কোনো গুরুত্ব না দিয়েই নিচে নেমে যাওয়ার জন্য এগিয়ে গেল।
আদ্রিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল তার দিকে,
“একজন মানুষ এতটা নির্লজ্জ কীভাবে হতে পারে?”
মনে মনে বলল সে।
আজ তার প্রথম দিন হওয়ায় এখানের অজানা মানুষ, অজানা পরিবেশ সবকিছুই নতুন আর অস্বস্তিকর।
ধীরে ধীরে সে আবরাজে কে অনুসরন করে নিচে নামল।
নিচে নামতেই আদ্রিতা বুঝল এটা শুধু একটা বাড়ি না, এটা সম্পূর্ণ অন্য একটা জগৎ।
বিশাল হলরুম।
তার মাঝখানে ঝুলছে ইউরোপিয়ান স্টাইলের বড় ঝাড়বাতি। চারপাশে দামী শোপিসে নিখুঁত সাজসজ্জা। সবকিছুতেই একটা রাজকীয় আভিজাত্য ভাব রয়েছে । এমনকি এই বিশাল ঘরটায়ও এসির শীতল বাতাস বইছে।
আবরাজের মা আফসানা ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন
আদ্রিতার দিকে। তার মুখে একরাশ কোমলতা।
চোখে মায়া। এই কঠিন, ঠান্ডা বাড়ির ভেতরে তিনি যেন
একমাত্র উষ্ণতা।
আদ্রিতার সামনে এসে থামলেন তিনি। মৃদু হেসে বললেন,
“এসো মা।”
কণ্ঠে এমন একটা স্নেহ, যেটা এই বাড়িতে আদ্রিতার
জন্য সম্পূর্ণ অচেনা।
আফসানা ধীরে তার হাতটা ধরে কাছে টানলেন।
তার অনেকদিনের একটা ইচ্ছে ছিল, একটা মেয়ে সন্তান
হোক তার। তবে ভাগ্য তাকে দিয়েছে শুধু দুই ছেলে।
তাই আফসানা আজ যেন সেই শূন্যতাটা একটু হলেও পূরণ করতে চাইছে আদ্রিতাকে পেয়ে।
তিনি একে একে আদ্রিতা কে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।
•শাহবাজ খান।
আবরাজের বাবা। খান পরিবারের কর্তা।
•ফারহান খান।
আবরাজের চাচা। চেহারায় স্বাভাবিক ভাব থাকলেও
চোখে লুকিয়ে আছে হিসেব।
•শর্মিষ্ঠা খান।
আবরাজের চাচি।
•প্রয়াণ খান।
আবরাজের ছোট ভাই। চোখে অগ্ৰাসী ভাব স্পষ্ট।
•আদ্রিয়ান খান।
চাচাতো ভাই। অন্যদের তুলনায় শান্ত।
•প্রিয়ান্তি খান।
চাচাতো বোন। চোখে কোমলতা, মুখে নরম ভাব।
আদ্রিতার দৃষ্টি গিয়ে থামল প্রয়াণের ওপর।
সে তাকে চেনে। চিনবে না বা কেন?
পুরো ইস্তানবুল শহরে প্রয়াণ খান নামটা প্রায় প্রত্যেকেই জানে। আবরাজের তুলনায় সে যেন এক কদম বেশি
বিপজ্জনক।
********
কিছুক্ষণ নীরবতার পর প্রয়াণ ঠোঁট বাঁকিয়ে হালকা হাসল। তার চোখে সেই অদ্ভুত, অস্বস্তিকর ঝিলিক।
“ভাবি।”
শব্দটায় সম্মানের চেয়ে বিদ্রূপই বেশি।
“কেমন লাগছে নতুন পরিবার?”
আদ্রিতা ধীরে প্রয়াণের তাকাল দিকে।
প্রয়াণের সেই দৃষ্টি, সেই ভঙ্গি দেখে তার শরীরটা যেন
অস্বস্তিতে কেঁপে উঠল।
মনে হলো প্রয়াণ শুধু কথা বলছে না সম্পূর্ণ ভাবে তাকে মাপছে।
তবুও আদ্রিতা নিজেকে সামলে নিল। কণ্ঠ একদম ঠান্ডা রেখে বলল,
“সবে তো এলাম, দেখা যাক কেমন লাগে।”
প্রয়াণ এবার হেসে ফেলল। একটা নিচু, অদ্ভুত হাসি।
সে একটু সামনে ঝুঁকে বলল,
“যেখানে আমি থাকি, সেখানে কিছুই বোরিং হয় না।”
অন্যদিকে শাহবাজ খানের দৃষ্টি ধীরে ধীরে গিয়ে থামল
আদ্রিতার ওপর। তাকানোর ধরন দেখেই বোঝা যাচ্ছে
সে আদ্রিতাকে চোখ দিয়েই গিলে খাচ্ছে।
আদ্রিতার শরীরটা অস্বস্তিতে শক্ত হয়ে গেল।
সে জানে এই দৃষ্টি কখনোই সম্মানের না।
তারপর শাহবাজ খান ধীরে বলল,
“তোমার পড়াশোনা কতদূর?”
আসলে এই বিয়েটা এত তাড়াহুড়ো করে হয়েছে যে কেউ আদ্রিতার সম্পর্কে জানার প্রয়োজন বোধ করেনি। হয়তো বা জানতে চাইনি। কারণ এটা কোনো সম্পর্ক না। এটা একটা রাজনৈতিক চাল।
আদ্রিতা নিজেকে সামলে নিল। শান্ত গলায় উত্তর দিল,
“মেডিকেলের থার্ড ইয়ার চলছে।”
এক মুহূর্তের জন্য নীরবতা।
তারপর শাহবাজ খানের ঠোঁটে ধীরে একটা হাসি ফুটে উঠল।
“বাহ… বেশ ভালো তো।”
তার কণ্ঠে প্রশংসা থাকলেও চোখে ছিল অন্য কিছু।
পাশ থেকে প্রয়াণের হাসির শব্দ ভেসে এলো।
সে বাঁকা হেসে তাকিয়ে আছে আদ্রিতার দিকে।
চোখে সেই চেনা হিংস্র ঝলক।
“বাড়িতে একটা ডাক্তার থাকা বেশ ভালো ব্যাপার।”
কথাটা শুনে কারও মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।
যেন এটা একদম স্বাভাবিক।
শাহবাজ খান দৃষ্টি এখনো আদ্রিতার ওপরে। তবে সেই
দৃষ্টিটা অন্যরকম। সে অনেক নারী দেখেছে জীবনে
কিন্তু এই মেয়েটা অন্যদের থেকেও আলাদা।
আরও বেশি সুন্দর। আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী।
আদ্রিতার বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল।
সে বুঝে গেছে এই বাড়ির প্রতিটা পুরুষ একই রকম।
চেহারায় ভদ্রতা থাকলেও ভেতরে ভেতরে তারা সবাই
চরিত্রহীন।
এই বাড়িতে নারীরা মানুষ না শুধু খেলনা। যাদের দিয়ে সময় কাটানো যায়। যাদের থেকে আনন্দ নেওয়া যায়। আর সব শেষে তাদের ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া যায়।
******
রাতে ইস্তাম্বুলের বসফরাস যেন অন্যরূপ ধারণ করে। রাত গভীর হতে না হতেই শহরটা যেন আলোয় জেগে ওঠে। দু’পাশে ইউরোপ আর এশিয়া দুটো মহাদেশ নরম আলোয় ভেসে থাকে, আর মাঝখানে কালো-নীল পানির বুক জুড়ে সেই আলো ঝিকিমিকি করে প্রতিফলিত হয়।
বসফরাসের ব্রিজের আলোগুলো এক একরকম রঙে বদলাতে থাকে। কখনো নীল, কখনো বেগুনি, কখনো আগুনের মতো লাল।
এই দৃশ্যের বিপরীতে খান প্যালেসের রাতের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও রাজকীয়। সকালের পরিবেশ যেমন সুন্দর, রাতের দৃশ্য তেমন আরও জীবন্ত ও আর্কষণীয়।
রাত প্রায় ১১ টা।
উওর দিকের করিডোর জুরে বডিগার্ড।
আবরাজের ঘর টা আলো-আঁধারি তে ডুবে রয়েছে।
আদ্রিতা বিছানার একপাশে শুয়ে আছে। চোখ বন্ধ
থাকলেও ঘুম আসছে না। এই ঘর, এই পরিবেশ সব
কিছুই তার জন্য বিরক্তিকর।
অন্যদিকে আবরাজ তার পাশেই নিশ্চিন্তে শুয়ে ফোনে কথা বলছে।
“হ্যাঁ কালকের মিটিংটা কনফার্ম করো।”
তার একবারো মনে হচ্ছে না এই ঘরে সে ছাড়া অন্য কেউ রয়েছে।
সময় ৫ মিনিট... ১০ মিনিট... ১৫ মিনিট পেরিয়ে গেলেও আবরাজ খানের কথা শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
আদ্রিতার ভেতরে বিরক্তি জমতে শুরু হলো। এমনিতেই অস্বস্তি লাগছে আর আবরাজের কোনো খেয়াল নেই যে তার পাশে একটা মানুষ শুয়ে আছে। অবশেষে সে আর সহ্য করতে পারল না।
চোখ খুলে, উঠে বসে বলল,
“ফোনটা রাখবেন?”
আবরাজ চোখ ঘুরিয়ে ঠান্ডা, নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে। এক মুহূর্ত চুপ থেকে আবরাজ ফোনে বলল,
“হোল্ড।”
তারপর ধীরে কান থেকে ফোনটা একটু সরিয়ে আদ্রিতার চোখে চোখ রেখে বলল,
“কোনো সমস্যা?”
আদ্রিতা এবার স্পষ্ট বিরক্ত গলায় বলল,
“হ্যাঁ, সমস্যা আছে।”
তার কণ্ঠে চাপা রাগ। একটু থেমে যোগ করল,
“একটা মানুষ কীভাবে এতক্ষণ ধরে ফোনে কথা বলতে
পারে? আমি ভীষন বিরক্ত হচ্ছি।”
কিছুক্ষণ নীরবতার পর আবরাজ ধীরে মাথা কাত করল। তার চোখে যেন এক ঝলক বিনোদন খেলে গেল। তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল,
“তুমি বিরক্ত হচ্ছো?”
বলেই ফোনটা হাতে নিয়েই আবার কানে তুলল।
“ইয়েস.. আই এম ব্যাক।”
ওপাশ থেকে কিছু বলল।
আবরাজ শান্ত গলায় উত্তর দিল,
“নো, নাথিং ইম্পর্টেন্ট।”
তারপর একবার তাকাল আদ্রিতার দিকে। সেই একই ঠান্ডা দৃষ্টি নিয়ে।
“জাস্ট… ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েস।”
কথাটা যেন ইচ্ছা করেই বলল।
আদ্রিতার চোখ মুহূর্তে কঠিন হয়ে গেল। এই অপমান, এই অবহেলা সহ্য করার জন্য সে নিশ্চয়ই এখানে আসেনি। ধীরে বলল,
“আপনার কাছে আমি যদি ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েস হই, তাহলে আপনি অন্য কোথাও গিয়ে কথা বলুন।”
আবরাজ ধীরে ফোনটা কানে থেকে নামাল। কয়েক
মুহূর্ত তাকিয়ে রইল স্ক্রিনের দিকে। তারপর সম্পূর্ণ
নির্লিপ্তভাবে কলটা কেটে দিল।
ঘরটা আরও নিঃশব্দ হয়ে গেল।
আবরাজ উঠে বসলো। মাথা ঘুরিয়ে তাকাল আদ্রিতার দিকে। চোখে কোনো রাগ নেই। কোনো বিরক্তিও নেই।
শুধু এক অদ্ভুত ঠান্ডা শান্তি।
“তুমি বড্ড বেশি কথা বলো, জানো?”
কণ্ঠ নিচু কিন্তু ভেতরে স্পষ্ট সতর্কবার্তা।
আদ্রিতাও সরাসরি চোখে চোখ রেখে জবাব দিলো,
“আর আপনি মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে জানেন না।”
আবরাজ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল তার দিকে। তার ঠোঁটের কোণে ধীরে একটা হাসি ফুটে উঠল।
“শেখানোর চেষ্টা করছো?”
আদ্রিতা উত্তর দিল না। শুধু নীরব ভাবে তাকিয়ে রইল।
আবরাজ একটু ঝুঁকে এসে বলল,
“একটা কথা মনে রাখো এই বাড়িতে কে ঠিক কতটা কথা বলবে…”
এক সেকেন্ড থেমে যোগ করল,
“সেটা আমি ঠিক করি।”
আদ্রিতার চোখে আগুন জ্বলে উঠল। সে এমন মেয়ে না
যে চুপ করে সব মেনে নেবে। সে ধীরে, কিন্তু স্পষ্ট
গলায় বলল,
“আমি কী করবো আর কতটা কথা বলবো, সেটা আমি নিজেই ঠিক করবো।”
আরও বলল,
“আপনার মতো একজন অমানুষ কারও জীবন নির্ধারণ করার অধিকার রাখে না।”
আদ্রিতার কথায় আবরাজ হেসে ফেলল। যেন কেউ খুব মজার কিছু বলেছে।
“হুম।”
তার কণ্ঠে বিদ্রূপ মেশানো,
“আর দুর্ভাগ্যবশত আমার মতো অমানুষের সাথেই তোমার জীবনটা জুড়ে গেছে।”
আদ্রিতা চোখ সরাল না।
“ওটা পরিস্থিতির জন্য।”
সে ঠান্ডা গলায় বলল,
“মন থেকে আপনাকে আমি স্বামী হিসেবে মানি না।
আর এই বিয়েটাকেও না।”
আবরাজের চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত কিছুর
ঝলক খেলল। তারপর সে ধীরে বলল,
“তোমার মানা বা না মানা টা খুব একটা জরুরী নয়।”
একটু ঝুঁকে এল,
“তোমায় একটা ‘সো-কল্ড’ ইনফরমেশন দিই!”
তার কণ্ঠ আরও নিচু হয়ে গেল,
“এই বিয়েটা চুক্তির থেকেও নিম্নমানের।”
আদ্রিতা স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল। তার বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল কিন্তু সে কিছু বলল না।
আবরাজ এবার তার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলল,
“তিরিশ কোটি টাকার বিনিময়ে তোমার জন্মদাতা বাবা তোমাকে আমার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।”
“মুখ সামলে কথা বলুন!”
আবরাজের কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদ্রিতার কাঁপা কণ্ঠ শোনা গেল। রাগে, অপমানে কাঁপছে সে।
“একদম উল্টোপাল্টা বলবেন না।”
আবরাজ ধীরে সোজা হয়ে বসল। তার ঠোঁটে সেই ভয়ংকর হাসি।
“বিশ্বাস হচ্ছে না তো?”
একটু থেমে বলল,
“ওয়েট…”
সে পাশ থেকে ফোনটা হাতে তুলে নিলো। কিছু একটা স্ক্রল করে থামল তারপর ফোনটা এগিয়ে ধরল আদ্রিতার সামনে।
আদ্রিতা আবরাজের দিক থেকে চোখ সরিয়ে তাকালো
ফোনের স্ক্রিনে।
স্ক্রিনে একটা চুক্তিপত্রের ছবি। তার চোখ আটকে গেল
নিচের দিকে সাক্ষরে। স্পষ্ট ভাবে সাক্ষর --
অরিন্দম চৌধুরী।
সেই মুহূর্তে আদ্রিতার যেন সবকিছু থেমে গেল। তার
ঠোঁট কেঁপে উঠল। শ্বাস ভারী হয়ে উঠল।
সেখানে স্পষ্ট লেখা --
“তিরিশ কোটি টাকার বিনিময়ে, অরিন্দম চৌধুরী স্বেচ্ছায় নিজের মেয়েকে আবরাজ খানের হাতে তুলে দিচ্ছেন।”
আদ্রিতার হাত কাঁপতে লাগল। ফোনটা তার হাত থেকে পিছলে গিয়ে বিছানার ওপর পড়ে গেল।
তার মনে হতে লাগলো,
“না, এটা সত্যি না। এটা হতে পারে না।”
সে কাঁদতে চায়নি কিন্তু চোখ বাধা মানল না। ধীরে
ধীরে গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। তার বুকের
ভেতরটা যেন কেউ ছিঁড়ে ফেলছে। বিশ্বাস, ভালোবাসা
সবকিছু একসাথে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
আবরাজ ফোনটা তুলে নিলো। কিছু সময় তাকিয়ে
রইল তার দিকে। তার চোখে কোনো মায়া নেই।
“এই বিয়ে নামক নাটকটা শুধু সমাজ কে দেখানোর জন্য।”
তার কণ্ঠ ঠান্ডা।
“কিন্তু ভেতরের সত্যিটা হলো তুমি টাকার বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রি হয়ে গেছো।”
আদ্রিতা মাথা নাড়ল। বারবার বলতে থাকলো --
“না… না… এটা মিথ্যে… এটা হতে...পারে না...”
তার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছে।
তার চোখের সামনে যেন ভেসে উঠতে লাগল কিছু পুরোনো স্মৃতি। একটা ছোট্ট মেয়ে যে প্রথম হাঁটতে শিখেছিল একটা শক্ত হাত ধরে। তার বাবার হাত।
বাবা…
এই শব্দটার ভেতরে কতটা নিরাপত্তা লুকিয়ে থাকে।
একটা মেয়ের জীবনে বাবা মানে বটগাছের মতো ছায়া।
যে ছায়ার নিচে সে নির্ভয়ে বড় হয়। বাবা নামক
মানুষটা মেয়ের কান্না সহ্য করতে পারে না। মেয়ের
হাসির জন্য সবকিছু করতে পারে।
একটা মেয়ের কাছে বাবাই তার প্রথম ভরসা, প্রথম
ভালোবাসা।
তাহলে আজ সেই মানুষটাই কীভাবে পারল?
কীভাবে নিজের মেয়েকে শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে তুলে
দিতে পারল একটা অচেনা মানুষের হাতে?
আদ্রিতার বুকের ভেতরটা যেন ফেটে যাচ্ছে। আজ সে
হারিয়েছে তার বাবাকে। তার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে
পড়ছে অবিরাম।
“বাবা… তুমি এটা করতে পারলে?”
কণ্ঠটা ফিসফিস করে বের হলেও সেই ফিসফিসানির
ভেতরে ছিল অগণিত ভাঙা বিশ্বাসের শব্দ।
অন্যদিকে আবরাজ স্বাভাবিক ভাবে শুয়ে পড়ল। যেন কিছুই হয়নি। আদ্রিতার কষ্ট, কান্না এসব কিছুই তার কাছে কোনো মূল্য রাখে না।
আদ্রিতা পাথরের মতো একভাবে বসে রইল। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। তবে কান্নার কোনো শব্দ নেই। এই নীরব কান্নাই সবচেয়ে বেশি কষ্টদায়ক।
আজ সে শুধু স্বাধীনতা হারায়নি। হারিয়েছে বিশ্বাস,
নিরাপত্তা, পরিবার আর সবশেষে ‘বাবা’ নামক
আশ্রয়টাও।
#চলবে
((আপনারা #অগ্নিমুকুট গল্পে আবরাজ কে যেমন পড়েছিলেন এই আবরাজ খান সেইটার তুলনায় অনেক আলাদা হবে। এমনকি প্রত্যেকটা চরিএই আলাদা হবে।
এই গল্পটায় আদ্রিতা কে লিখতে আমার বেশ ভালো লাগে। তাই গল্পটা আবার দিলাম। 🤌 হ্যাপি রিডিং 🤍))