ফন্ট সাইজ:
থিম:
রাজনীতির রক্তচুক্তি

৯ম পর্ব

লেখক: নীলপ্রজাপতি

#রাজনীতির_রক্তচুক্তি

#পর্ব_৯

#কলমে_নীলপ্রজাপতি

প্রয়াণ বিরক্ত হয়ে বলল,

“ফালতু কথা বলিস না।”

রাহির চোখে জল চিকচিক করে উঠলো।

“মেয়ে সারাদিন অপেক্ষা করে গেল বাবা কখন আসবে

কিন্তু সে তো জানেই না তার বাবা রাতে ম'দ খেয়ে অন্য

মেয়েদের সাথে পড়ে থাকে।”

ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।

প্রয়াণ চোয়াল শক্ত করল। কিন্তু আজ তর্ক করার শক্তিটা যেন নেই।

“রাতে জ্বালাস না, রাহি। নিজে ঘুমা চুপচাপ আর আমাকেও ঘুমাতে দে।”

সে টেবিল থেকে এসির রিমোট তুলে নিয়ে এসি অন

করল। ঠান্ডা হাওয়া ধীরে ঘরে ভরতে লাগল।

তারপর সে এসে বিছানায় শুয়ে পড়ল।

রাজন্যার পাশে।

ধীরে হাত বাড়িয়ে মেয়ের গাল ছুঁল। আঙুল দিয়ে আলতো করে নেড়ে দিল।

“প্রিন্সেস।”

তার গলা অনেক নরম।

“এই দেখো… বাবা এসেছে।”

রাহির চোখ জ্বলে উঠল। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“মেয়েকে উঠাচ্ছো কেন?”

তার কণ্ঠ কাঁপছে। রাগে না ব্যথায় বোঝা কঠিন।

“অনেক কষ্টে ঘুম পাড়িয়েছি ওকে।”

প্রয়াণ থামল না। মেয়ের দিকে তাকিয়েই বলল,

“আমার মেয়ে আমি ডাকব।”

রাহি এগিয়ে এল এক পা। চোখে আগুন।

“তোমার মেয়ে? শুধু তোমার?”

একটু থেমে বলল,

“দিনে একবারও সময় দিতে পারো না আর এখন রাতে এসে ‘বাবা’ হওয়ার শখ জেগেছে?”

প্রয়াণের চোখ ঠান্ডা হয়ে গেল। সে কাটা গলায় বলল,

“ও আমার মেয়ে আমি ওর বাবা। তুই কেউ না।”

মুহূর্তেই ঘরটা যেন থেমে গেল।

রাহি দাঁড়িয়ে রইল। তার মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

শুধু চোখ দুটো ধীরে নিস্তেজ হয়ে গেল।

“হ্যাঁ।”

সে খুব আস্তে বলল,

“সেই আমি তো কেউ না।”

সে এগিয়ে গিয়ে এসির রিমোটটা তুলে নিল। তাপমাত্রা কমিয়ে দিল।

প্রয়াণ বিরক্ত হয়ে বলল,

“কমাস না গরম লাগছে আমার।”

রাহি ঠান্ডা গলায় জবাব দিল,

“ম'দ গিললে গরম হবেই।"

সে বিছানার দিকে তাকাল। রাজন্যা শান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে।

রাহি ধীরে একটা নরম ব্ল্যাঙ্কেট তুলে মেয়েটার গায়ে

দিয়ে দিল খুব যত্ন করে। যেন বাইরের ঠান্ডা ওর গায়ে

না লাগে।

ওদিকে প্রয়াণ হাত বাড়িয়ে মেয়েকে নিজের দিকে টেনে নিল।

কিছুক্ষণ পর প্রয়াণ নিজেও নেশার ঘোরে ঘুমিয়ে গেলো। তার বুকে মাথা রেখে রাজন্যা নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। রাহি চুপচাপ তাকিয়ে রইল সেই দৃশ্যের দিকে।

তার চোখে অদ্ভুত একটা মিশ্র অনুভূতি।

কষ্ট, অভিমান আর কোথাও লুকানো ভালোবাসা।

মেয়েটা কত সুন্দর করে বাবার বুকে গুটিসুটি মেরে

ঘুমাচ্ছে। যেন এটাই তার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।

রাহির চোখ ভিজে উঠল। একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে।

মনে পড়ে গেল একসময় সেও ঠিক এভাবেই ঘুমাতো,

প্রয়াণের বুকের ওপর মাথা রেখে।

প্রথম প্রথম সবকিছু কত সহজ ছিল।

প্রয়াণের হাতটা তখন এভাবেই তাকে জড়িয়ে রাখত।

যেন পৃথিবীর কোনো কষ্টই তাকে ছুঁতে পারবে না।

রাহি ধীরে চোখ বন্ধ করল। স্মৃতিগুলো যেন একে একে ভেসে উঠছে।

হাসি, অপেক্ষা, ভালোবাসা। আর আজ এগুলোর

কিছুই নেই।

-------

সকালের আলোটা ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকছে। জানালার

ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়েছে বিছানার এক কোণে।

রাজন্যার চোখ পিটপিট করে খুলল। ঘুম ভাঙার পর

প্রথম কয়েক সেকেন্ড সে চুপচাপ রইল। তারপর মাথা

একটু নড়াল। নরম কিছুর ওপর মাথা রাখা।

আর সেই পরিচিত গন্ধ। সে বুঝল এটা পাপা।

ছোট্ট মুখে সঙ্গে সঙ্গে একটা হাসি ফুটে উঠল।

সে একটু গা ঘেঁষে আরও কাছে সরে এলো।

দুই হাত দিয়ে বাবার শার্ট আঁকড়ে ধরল।

মুখটা আলতো করে ঘষল তার বুকে। একদম আদুরে ভঙ্গিতে।

“পাপা।”

ঘুম জড়ানো নরম গলায় ডাকল সে।

প্রয়াণ তখনও গভীর ঘুমে। তার নিঃশ্বাস ভারী। নেশার

ক্লান্তি এখনো কাটেনি।

রাজন্যা আবার একটু নড়ল।

এইবার ছোট্ট হাত দিয়ে বাবার গালে ঠেলা দিল।

“পাপা।”

আরও একটু জোরে।

তার চোখে এখন পুরো জেগে ওঠার উচ্ছ্বাস। যেন

পৃথিবীর সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো বাবাকে উঠানো।

সে ধীরে ধীরে বাবার ওপর উঠে বসল। ছোট্ট হাঁটু দিয়ে

বুকের ওপর ভর করে।

“উঠো।”

তার গলায় হাসি মেশানো আদেশ।

প্রয়াণ কেঁপে উঠল একটু। ভ্রু কুঁচকে চোখ খুলতে চেষ্টা

করল। আলোয় চোখে লাগছে। মাথা ভারী।

কিন্তু চোখ খুলতেই সামনে এলো রাজন্যার মুখ।

সে হাসছে।

এক সেকেন্ডের জন্য সব ক্লান্তি, সব রাগ, সব

বিশৃঙ্খলা থেমে গেল।

তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটল।

“প্রিন্সেস।”

গলা এখনো ভারী তবুও নরম।

সে হাত তুলে মেয়েটাকে ধরে ফেলল। নিজের কাছে টেনে নিল।

রাজন্যার চুলে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিল।

আঙুলগুলো ধীরে ধীরে নরম চুলের ভেতর দিয়ে চলে গেল।

“ঘুমা তুইও, প্রিন্সেস। আমিও ঘুমাই।”

কথাগুলো বলার সময় তার চোখ আবার আধো বন্ধ

হয়ে আসছে। ঘুম যেন আবার টানছে তাকে।

কিন্তু রাজন্যা আজ একদম অন্য মুডে।

সে মাথা নাড়ল জোরে জোরে।

“নাহ!”

ছোট্ট গলায় প্রতিবাদ।

তারপর দুই হাত দিয়ে বাবার মুখ চেপে ধরল।

“উঠো!”

খিলখিল করে হেসে উঠল সে।

গতকাল থেকে বাবাকে পায়নি আজ আর ছাড়বে না।

সে আবার বাবার গালে চাপড় দিল। আদুরে কিন্তু জেদি ভঙ্গিতে।

“পাপা… ওতো।”

প্রয়াণ বিরক্ত হওয়ার চেষ্টা করল। ভ্রু কুঁচকাল।

“এই প্রিন্সেস।”

কিন্তু কথা শেষ করার আগেই রাজন্যা তার নাক টেনে

ধরল। সে আবার হেসে উঠল আরও জোরে।

প্রয়াণ এবার চোখ পুরো খুলল। মাথা ধরছে, ঘুম

আসছে তবুও এই ছোট্ট ঝামেলাটার সামনে তার সেই

আগ্রাসী রাগটা টিকে থাকল না।

সে ধীরে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর মেয়েটাকে আরও

শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

“কিন্তু পাপার তো অনেক ঘুম পাচ্ছে, মাম্মা।”

রাজন্যা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল,

“না… ওতো পাপা… ওতো।”

তার জেদি গলায় আদর মেশানো আদেশ।

প্রয়াণ হালকা হাসল।

তারপর নিজের মাথাটা আলতো করে মেয়ের কোলে রেখে দিল।

“এইবার… চুলগুলো টেনে দে, মাম্মা।”

রাজন্যার চোখ ঝলমল করে উঠল। যেন তাকে কোনো

বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে দুই হাত দিয়ে বাবার

চুলে হাত দিল। আস্তে আস্তে টানতে লাগল, এলোমেলো

করে দিতে লাগল। পুরো মন দিয়ে খেলায় মেতে উঠল।

প্রয়াণের চোখ আবার বন্ধ হয়ে এল। এই ছোট্ট ছোঁয়ায়

তার ভেতরের অস্থিরতাটা অদ্ভুতভাবে শান্ত হয়ে যাচ্ছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আবার আধো ঘুমে ঢুকে গেল।

ঠিক তখনই রাহি ঘরে ঢুকল। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে

কিছু সেকেন্ড চুপচাপ তাকিয়ে রইল এই দৃশ্যটার দিকে।

তারপর ধীরে রাজন্যাকে বলল,

“উঠবি না তুই?”

রাজন্যা মাথা তুলে তাকাল। হালকা হাসি।

“পাপা ঘুম তো।”

রাহি এগিয়ে এলো একটু। তার কণ্ঠে হালকা কটাক্ষ,

“তোর বাবা সারারাত অনেক কষ্ট করেছে ঘুম তো আসবেই।”

কথাটা শুনে প্রয়াণের ভ্রু সামান্য কুঁচকে উঠল কিন্তু চোখ খুলল না।

রাজন্যা কিছুই বুঝল না। সে আগের মতোই বাবার চুল

নিয়ে খেলায় মগ্ন।

রাহির গলা এবার একটু কড়া হয়ে উঠল,

“রাজন্যা… খেতে চল। কটা বাজে খেয়াল আছে?”

রাজন্যা থেমে গেল। বাবার চুল থেকে হাত সরিয়ে

তাকাল মায়ের দিকে।

“কিন্তু পাপা।”

তার কণ্ঠে স্পষ্ট অনিচ্ছা।

রাহি এগিয়ে এল আরেকটু। এইবার গলা ঠান্ডা, কিন্তু শক্ত।

“তোমার বাবার যখন টাইম হবে, তোমার বাবা তখন খাবে। তুমি খাবে এখন। চলো।”

ঘরের ভেতর হালকা টানটান ভাব। প্রয়াণ চোখ এখনো পুরো খোলেনি। তবে বিরক্ত হয়ে মুখ কুঁচকে বলল,

“কেন সকাল সকাল মেয়ের সামনে শুরু করছিস?”

রাহি এক সেকেন্ডও দেরি না করে উওর দিল,

“আমি কিছুই শুরু করিনি।”

তার কণ্ঠ এবার নিচু কিন্তু ভেতরে জমে থাকা রাগ স্পষ্ট।

“দয়া করে উঠো। তোমার মেয়ে অপেক্ষা করছে খাওয়ার জন্য।”

প্রয়াণ চুপ করে রইল। রাজন্যা আবার বাবার দিকে তাকাল। চোখে ছোট্ট আশা।

“পাপা… চলো?”

প্রয়াণ ধীরে ধীরে উঠে বসল। মাথাটা ভারী। নে'শার

ধাক্কা এখনো কাটেনি পুরোপুরি। সে কপালে হাত দিয়ে

কিছুক্ষণ বসে রইল। তারপর উঠে ওয়াশরুমে গেল।

ঠান্ডা পানি মুখে পড়তেই চোখের ঝিম ধরা ভাবটা

একটু কেটে গেল।

বেরিয়ে এসে সে রাজন্যাকে কোলে তুলে নিল।

“চল প্রিন্সেস… ফ্রেশ হবো।”

রাজন্যা খুশি হয়ে বাবার গলায় হাত জড়িয়ে ধরল।

কিছুক্ষণ পর বাবা-মেয়ে দুজনেই ফ্রেশ হয়ে নিচে নামল। ডাইনিং হলে তখন প্রায় সবাই খাওয়া শেষ করে উঠে গেছে।

প্রয়াণ গিয়ে চুপচাপ চেয়ারে বসে পড়ল।

রাজন্যা তার কোলে। ছোট্ট দুটো হাত বাবার শার্ট

আঁকড়ে ধরে আছে।

রাহি এগিয়ে এসে খাবারটা সামনে রাখল।

কোনো কথা বলল না শুধু প্লেটটা রেখে সরে দাঁড়াল।

প্রয়াণ নিজের হাতেই খাবার মেখে রাজন্যার মুখে তুলে

দিতে লাগল।

বাবা বাড়ি থাকলে রাজন্যা বাবার হাত ছাড়া খেতে চায় না। মুখ খুলে অপেক্ষা করছে, মাঝে মাঝে হেসে

ফেলছে।

কিছুক্ষণ পর রাজন্যা হঠাৎ বাবার দিকে তাকাল।

তার চোখে কৌতূহল আর একটু ভয়ও যেন লুকানো।

“পাপা।”

প্রয়াণ তাকিয়ে বলল,

“হুঁ?”

রাজন্যা ধীরে শিশুসুলভ গলায় বলল,

“তুমি… আজ… বাড়ি তো?”

কথাটা খুব ছোট কিন্তু তার ভেতরে অনেকদিনের

অভ্যাস, অপেক্ষা, আর অভিমান।

প্রয়াণ এক সেকেন্ড থেমে গেল। তারপর ধীরে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।

“হুম… থাকবো।”

গলা নরম হয়ে এলো,

“আমার প্রিন্সেসের কাছেই থাকবো।”

রাজন্যার মুখে সঙ্গে সঙ্গে হাসি ফুটে উঠল। সে বাবার গলায় জড়িয়ে ধরল।

“ইয়েয়…”

আনন্দে ভরে উঠল তার‌ মনটা।

ওদিকে রাহি চুপচাপ দাঁড়িয়ে সব দেখছে।

তার ঠোঁট নড়ল কিন্তু কিছু বলল না।

কারণ এই “থাকবো” কথাটা সে আগেও অনেকবার

শুনেছে আর প্রতিবারই সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে যেতে

দেখেছে।

প্রয়াণ আজ সত্যিই বাড়িতে রয়ে গেল।

ঘরের ভেতর এসি চলছে ঠান্ডা, নিস্তব্ধ একটা পরিবেশ।

মেঝেতে বসে রাজন্যা রঙিন ব্লক নিয়ে খেলছে‌।

একটা একটা করে সাজাচ্ছে, আবার নিজেই ভেঙে দিচ্ছে। নিজের ছোট্ট দুনিয়ায় মগ্ন।

প্রয়াণ বিছানায় হেলান দিয়ে বসে ফোন স্ক্রল করছে।

মাঝে মাঝে চোখ তুলে মেয়ের দিকে তাকাচ্ছে। আবার

ফোনে ডুবে যাচ্ছে।

রাহি ঘরে ঢুকল। এক নজর মেয়ের দিকে তাকাল

তারপর সোজা গিয়ে এসির রিমোট তুলে নিল।

“মেয়ের ঠান্ডা লাগবে।”

বলেই এসিটা বন্ধ করে দিল।

ঘরের ঠান্ডা হাওয়া থেমে গেল ধীরে।

প্রয়াণ ভ্রু কুঁচকাল। মুখ তুলে তাকাল তার দিকে।

রাহি কিছু না বলে ঘুরে বেরিয়ে যেতে যাচ্ছিল।

হঠাৎ প্রয়াণ হাত বাড়িয়ে তার কব্জি চেপে ধরল।

এক টানে তাকে থামিয়ে দিল।

রাহি থেমে গেল পেছন ফিরে তাকাল। তার চোখে

বিরক্তি।

প্রয়াণ ধীরে উঠে বসল। তার হাত এখনো শক্ত করে ধরা।

“কি সমস্যা তোর?”

কণ্ঠ নিচু কিন্তু ভেতরে চাপা রাগ।

রাহি হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করল,

“হাত ছাড়ো।”

প্রয়াণ ছাড়ল না।

“প্রশ্নের উত্তর দে আগে।”

রাহি এবার সরাসরি চোখে চোখ রাখল,

“মেয়ের ঠান্ডা লাগবে বলেছি।”

প্রয়াণ ঠান্ডা হাসল,

“সমস্যাটা কোথায় আমি জিজ্ঞাসা করেছি?”

রাহি হাত ছাড়িয়ে নিল এবার। চোখে সরাসরি তাকিয়ে বলল।

“সমস্যা আমার না সমস্যা তোমার।”

রাহির গলায় হালকা তিক্ততা। বলল,

“মদ গিলে বাড়ি আসতে খুব ভালো লাগে তাই না?”

মুহূর্তেই ঘরটা থেমে গেল।

প্রয়াণ চোখ সরিয়ে তাকাল রাজন্যার দিকে। সে এখনো

ব্লক নিয়ে খেলছে। সে শান্ত গলায় বলল,

“মাম্মাম যাও তো দাদির কাছে একবার ঘুরে আসো।”

রাজন্যা মুখ তুলে তাকাল তারপর নিজের ব্লকগুলো হাতে নিয়ে খুশি খুশি হেঁটে বেরিয়ে গেল।

প্রয়াণ উঠে দরজা বন্ধ করে দিলো। ঘরে এখন শুধু দুজন।

প্রয়াণ কয়েক পা এগিয়ে এসে রাহির সামনে দাঁড়াল।

খুব কাছে।

“কি হয়েছে? আবার কি করেছি আমি?”

একটু থেমে বলল,

“নিজের মতো খেয়েছি। তোর সাথে কি খারাপ ব্যবহার করেছি?”

রাহি তাকিয়ে রইল। তার চোখে জল নেই কিন্তু ক্লান্তি আছে। সে ধীরে বলল,

“মদ জিনিসটা ভালো লাগে না আমার।”

প্রয়াণ কিছুক্ষণ চুপ। তার চোয়াল শক্ত হলো আবার ঢিলে হয়ে গেল।

“সবকিছু তোর ভালো লাগার মতো হবে এটা আশা করিস না।”

কথাটা শান্ত কিন্তু দূরত্ব স্পষ্ট।

রাহি হালকা হেসে ফেলল।

“আমি তো অনেক আগেই আশা করা ছেড়ে দিয়েছি, প্রয়াণ।”

তার গলা এবার আরও নিচু,

“শুধু মাঝে মাঝে মনে হয় যে মানুষটার জন্য সব ছেড়েছিলাম সেই মানুষটা কোথায় হারিয়ে গেল।”

প্রয়াণ ঠান্ডা গলায় জবাব দিল,

“এইসব কথায় আমার মধ্যে কোনো ইফেক্ট পড়ে না।”

রাহি চোখ না সরিয়েই বলল,

“পড়বেও না কারণ তুমি মানুষ না।”

প্রয়াণের ভ্রু কুঁচকে গেল। গলা নিচু, চাপা রাগে ভরা।

“রাগাস না আমায়, রাহি।”

রাহি এক চুলও সরল না। ঠোঁট শক্ত করে বলল,

“কি করবে? মারবে আমায় ?”

রাহি আবার বলল,

“তুমি বদলাওনি তুমি আসলে প্রথম থেকেই এমন ছিলে। আমি চিনতে পারিনি।”

প্রয়াণ মুখ ফিরিয়ে নিল,

“ড্রামা বন্ধ কর।”

রাহি বলল,

“ড্রামা? “আমার জীবনটাই তো তোমার কাছে ড্রামা।”

প্রয়াণ বিরক্ত হয়ে বলল,

“তুই থাকতে চাইলে থাক, না চাইলে চলে যা।”

রাহি স্থির গলায় উওর দিলো,

“যাওয়ার জায়গা থাকলে অনেক আগেই চলে যেতাম।”

#রাজনীতির_রক্তচুক্তি

“যেখানে সম্পর্ক নয়, ক্ষমতাই শেষ কথা। আর মানুষ সেখানে শুধু একেকটা শর্ত।”

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন