#রাজনীতির_রক্তচুক্তি #পর্ব_৫২
~ খান মহল ~
বিকেলের নরম আলো জানালা পেরিয়ে আফসানা খানের ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। হালকা বাতাসে সাদা পর্দাগুলো দুলছে।
বড় বিছানার মাঝখানে বসে আছেন আফসানা খান। তার কোলে ছোট্ট আরু। গোলগাল মুখ, বড় বড় চোখ। আজ দাদীর কোলে বসে সে অদ্ভুত খুশি মেজাজে আছে। আফসানা খানের মুখে বহুদিন পর নিখাদ শান্তির হাসি।
আরু ছোট্ট হাত নাড়ছে, কখনো আফসানার শাড়ি আঁকড়ে ধরছে, কখনো অস্পষ্ট শব্দ করছে।
আফসানা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বললেন,
"জানো আদ্রিতা, আবরাজও ছোটবেলায় ঠিক এমন ছিল। আমার শাড়ি না ধরে তার ঘুম আসতো না।"
আদ্রিতা চুপ করে শুনছে। আফসানা আরুর কপালে চুমু খেয়ে হালকা হেসে বললেন,
“আমি সারারাত জেগে থাকলেও আমার ক্লান্তি লাগতো না। কারণ আমার সন্তান আমার কাছে ছিল।”
কথা বলতে বলতে তার গলার স্বর ধীরে ধীরে ভারী হয়ে আসে।
"একটা সময় ছিল, আমি ভাবতাম ও বড় হলেও আমার কাছেই থাকবে।"
ঠিক তখন দরজার বাইরে এসে থামে আবরাজ। সে আসলে এসেছে আরু কে নিতে। কিন্তু ভেতরের কথাগুলো শুনে আর নড়তে পারল না।
আফসানা তখনও জানেন না আবরাজ বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরুর ছোট্ট আঙুল নিজের হাতে নিয়ে ফিসফিস করে বলেন,
"আল্লাহর কাছে শুধু একটা দোয়া করি, এই বাচ্চাটাকে যেন কেউ তার মায়ের কাছ থেকে দূরে না নিতে পারে।"
আফসানা খানের কথাটা শেষ হতেই ঘরটা কয়েক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে গেল। আদ্রিতা চুপচাপ বসে রইল। কারণ সে বুঝতে পারছে, আফসানা আসলে শুধু আরুর কথা বলছেন না। তিনি নিজের কথাও বলছেন।নিজের সেই সন্তানের কথা, যাকে একদিন তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আবরাজের হাত ধীরে ধীরে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এলো। তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূত হচ্ছে। খুব ছোট্ট একটা ব্যথা। কিন্তু সেই ছোট্ট ব্যথাটাই যেন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বুকে।
আফসানা আরুর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
"মা আর সন্তানের মাঝখানের দূরত্বটা খুব নিষ্ঠুর জিনিস, আদ্রিতা।"
তার ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটল। কিন্তু সেই হাসির ভেতরে বহু বছরের কষ্ট লুকিয়ে আছে।
"যে এই কষ্ট পায়নি, সে কখনো বুঝবে না।"
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আবরাজ চোখ নামিয়ে ফেলল।
তার মাথায় একবার ভেসে উঠলো সেই অন্ধকার ঘর। তার আর্তনাদ। বহু বছর ধরে সে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, এগুলো অতীত। এসবের কোনো গুরুত্ব নেই। কিন্তু আজ তার মায়ের কণ্ঠ শুনে মনে হচ্ছে, সেই অতীত কোথাও যায়নি। শুধু সময়ের ভারে চাপা পড়ে ছিল।
আফসানা আবার বললেন,
"অনেক সময় মানুষ ভাবে, সন্তান বড় হয়ে গেলে আর মায়ের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু একজন মা কোনোদিন তার সন্তানের জন্য অপেক্ষা করা বন্ধ করে না।"
কথাটা শুনে আবরাজের বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। একটা প্রশ্ন আচমকাই মাথায় এলো,
তাহলে কি আম্মিও অপেক্ষা করেছিলেন? এত গুলো বছর তার একটা কথার জন্য? একটা আলিঙ্গনের জন্য? প্রশ্নটার উত্তর সে জানে না। আর সেই না-জানাটাই যেন সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।
ভেতরে আদ্রিতা ধীরে ধীরে আফসানার হাত চেপে ধরল। আফসানা হালকা হেসে বললেন,
"আমি শুধু চাই, আরুর জীবনটা সুন্দর হোক।"
ছোট আরু কিছু না বুঝেই খিলখিল করে হেসে উঠল।
ছোট্ট হাত দুটো নাড়াতে লাগল। আফসানাও সঙ্গে সঙ্গে হেসে ফেললেন।
ঘরের ভারী পরিবেশটা একটু হালকা হয়ে গেল।
আর দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আবরাজ ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকাল। তার চোখ স্থির হয়ে রইল নিজের মায়ের মুখের দিকে। তার অজান্তেই মুঠো করে রাখা হাতটা ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে এলো।
আর বহু বছরের মধ্যে প্রথমবার, আবরাজ খান নিজের মাকে দেখতে দেখতে মনে মনে খুব আস্তে বলল,
"আম্মি।"
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করল আবরাজ। দরজা খোলার শব্দে আদ্রিতা আর আফসানা দুজনেই তাকাল।
আফসানা খান মুহূর্তের জন্য থেমে গেলেন। কয়েক সেকেন্ড আগের কথাগুলো যে আবরাজ শুনেছে কিনা, সেটা তিনি বুঝতে পারলেন না। তবে ছেলের মুখটা আজ অস্বাভাবিক শান্ত লাগছে।
আবরাজ কিছু বলল না। শুধু ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলো। ঠিক তখনই আরু তার বাবাকে দেখতে পেল।মুহূর্তের মধ্যেই ছোট্ট মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে হাত-পা ছুঁড়ে উত্তেজিত হয়ে উঠল। অস্পষ্ট শব্দ করল কিছু। যদিও সে এখনও কথা বলতে শেখেনি, তবুও মনে হচ্ছিল নিজের মতো করে বাবাকে ডাকছে।
আদ্রিতার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল। আফসানা খানও মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলেন।
"দেখো তো, বাবা এসেছে বুঝতে পেরেছে।"
আবরাজের চোখের দৃষ্টি অজান্তেই নরম হয়ে গেল। সে হাত বাড়িয়ে আরুর ছোট্ট গাল ছুঁয়ে দিল। আরু সঙ্গে সঙ্গে খুশিতে হেসে উঠল।
আফসানা খান মৃদু হেসে মাথা নাড়লেন। তারপর খুব যত্ন করে আরুকে কোলে তুলে আবরাজের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,
"নাও।"
আবরাজ এক মুহূর্ত স্থির হয়ে রইল। তারপর দুই হাত বাড়িয়ে মেয়েকে নিজের কোলে নিল। আরু যেন অপেক্ষাতেই ছিল। বাবার বুকে যেতেই ছোট্ট দুই হাত দিয়ে তার শার্ট খামচে ধরল। মুখ গুঁজে দিল বুকের কাছে।
আবরাজ স্বভাবতই এক হাত দিয়ে মেয়ের পিঠে ভর দিল। তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন হয়ে গেল। এত ছোট্ট একটা প্রাণ নিঃশর্ত বিশ্বাস নিয়ে তার বুকের ওপর মাথা রেখে আছে। কোনো ভয় নেই। কোনো দ্বিধা নেই। রয়েছে শুধু নির্ভরতা।
আফসানা খান চুপচাপ দৃশ্যটা দেখলেন। তার চোখের কোণে অজান্তেই জল চিকচিক করে উঠল। হয়তো এই দৃশ্যটাই তিনি নিজের ক্ষেত্রে সবসময় দেখতে চেয়েছিলেন।
আবরাজ আরুকে নিয়ে বেরিয়ে বাগানের দিকে। আদ্রিতা ধীর পায়ে করিডোর ধরে হাঁটছে। বিকেলের আলো বড় বড় জানালাগুলো পেরিয়ে মার্বেলের মেঝেতে পড়েছে। চারপাশটা অদ্ভুত শান্ত। কিন্তু তার ভেতরটা শান্ত নয়।
মাথার ভেতর বারবার ঘুরছে কিছুক্ষণ আগের দৃশ্যটা।আফসানা খানের চোখের জল। আবরাজের নীরব মুখ।আর সেই অদৃশ্য দূরত্ব, যা একই ছাদের নিচে থেকেও একজন মা আর ছেলের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে বছরের পর বছর।
আদ্রিতা ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।মানুষের জীবন কত অনিশ্চিত। আজ যে মানুষটা পাশে আছে, কাল সে থাকবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সে নিজেও বাবার সাথে কত কথা বলতে চেয়েছিল। কত অভিমান ভাঙতে চেয়েছিল। কতবার বলতে চেয়েছিল,
"বাবা, আমি তোমাকে ভালোবাসি।"
কিন্তু সময় তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। কিছু কথা বুকের ভেতরই আটকে গিয়েছিল। কিছু অনুভূতি আর কখনো প্রকাশ করা হয়নি। আর সেই অপূর্ণতাগুলো আজও মাঝে মাঝে বুকের ভেতর ব্যথা হয়ে বাজে।
আদ্রিতা থেমে গেল। করিডোরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দূরের আকাশের দিকে তাকাল। তারপর খুব আস্তে নিজেকেই বলল,
"আবরাজ খান, আপনার যেন কোনোদিন এমন আফসোস না হয়।"
তার চোখের সামনে ভেসে উঠল আবরাজের মুখ। যখন সে বলেছিল,
"আমার মধ্যে ভালো কিছু নেই।"
কতটা ভেঙে পড়লে একজন মানুষ নিজের সম্পর্কে এমন কথা বিশ্বাস করতে শুরু করে?
আদ্রিতা জানে আবরাজ এখনও তার মাকে ভালোবাসে। আর আফসানা খান এখনও তার ছেলের জন্য অপেক্ষা করেন। দুজনের মাঝখানে শুধু বছরের পর বছর জমে থাকা অভিমান আর নীরবতা। হয়তো একটা কথা, হয়তো একটা আলিঙ্গন যথেষ্ট সেই অভিমান ভাঙ্গার জন্য।
আদ্রিতার বুকের ভেতরটা হালকা ভারী হয়ে উঠল। সে চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্ত। তারপর মনে মনে দোয়া করল,
"আল্লাহ, আবরাজ খানের ভাগ্যে যেন আমার মতো কোনো অপূর্ণতা না থাকে। খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই, তার আম্মির সঙ্গে সম্পর্কটা যেন ঠিক হয়ে যায়।"
কারণ কিছু ক্ষত সময় ভরিয়ে দেয়। কিন্তু কিছু আফসোস, মানুষ সারাজীবন বয়ে বেড়ায়।
ইস্তাম্বুলে রাত নেমেছে। বাইরে হালকা ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। দূরে বসফরাসের কালো জলরাশির ওপর চাঁদের আলো পড়ে রুপালি আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর আকাশজুড়ে অসংখ্য তারা জ্বলজ্বল করছে।
ঘরের ভেতরে মৃদু আলো জ্বলছে। বিছানার মাঝখানে ছোট্ট আরু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঘুমের মধ্যেই গোলাপি ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁক হয়ে আছে। একটা ছোট্ট হাত মাথার পাশে ছড়িয়ে আছে।
আবরাজ বিছানার পাশে বসে আছে। তার বড় হাতটা খুব ধীরে ধীরে মেয়ের মাথায় বুলিয়ে দিচ্ছে। এমন একটা দৃশ্য, যা খুব কম মানুষই দেখতে পায়। কারণ পৃথিবীর কাছে আবরাজ খান কঠোর, নির্লিপ্ত, অটল একজন মানুষ। কিন্তু নিজের মেয়ের সামনে সেই মানুষটা সম্পূর্ণ আলাদা।
ঠিক তখনই আদ্রিতা ধীরে ধীরে এসে বিছানার অন্য পাশে বসল। আদ্রিতা একবার আবরাজের দিকে তাকাল। আজ তার মুখটা অস্বাভাবিক নীরব। যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে ধীরে বলল,
"সব অভিমান শেষ করে কি আবার নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া যায় না?"
আবরাজ হাত থেমে গেল। কিন্তু সে মাথা তুলল না। মনে হলো প্রশ্নটা শুনেও শুনেনি।
আদ্রিতা জানালার বাইরে তারাভরা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
"জীবনে অনেক কিছু ভেঙে দেয়। কিন্তু সবকিছু কি ভাঙা অবস্থায় রেখে দিতে হয়?"
কয়েক সেকেন্ড পর আবরাজ ধীরে বলল,
"সবকিছু ঠিক করা যায় না।"
আদ্রিতা মৃদু হেসে বলল,
"চেষ্টা না করলে অবশ্যই যায় না। একবার চেষ্টা করে দেখুন না, সব বাঁধা পেরিয়ে আম্মির কোলে ফিরে যান একবার।”
আবরাজ ধীরে বলল,
"তুমি কিছু জানো না, আদ্রিতা। কিছু সম্পর্ক বাইরে থেকে যত সহজ মনে হয়, ভেতর থেকে ততটা সহজ নয়।"
আদ্রিতা শান্ত গলায় বলল,
"জানতেও চাই না আমি।"
আবরাজ ভ্রু কুঁচকাল।
আদ্রিতা মৃদু স্বরে বলল,
"সত্যি বলছি। আমি জানতে চাই না কে ঠিক ছিল, কে ভুল ছিল। কে আগে কষ্ট দিয়েছে, কে পরে দূরে সরে গেছে।"
এক মুহুর্ত থেমে বলল,
"আমি শুধু এতটুকু জানি, কিছু সময় একবার পেরিয়ে গেলে আর ফিরে আসে না। মানুষ ভাবে সামনে অনেক সময় আছে। আগামীকাল বলব। পরের সপ্তাহে দেখা করব। একদিন সব ঠিক করে নেব।"
তার ঠোঁটে বিষণ্ণ একটা হাসি ফুটে উঠল।
"কিন্তু সেই একদিনটা অনেক সময় আর আসে না। আমি এখনও আফসোস করি। এমন অনেক কথা আছে, যা আমি বলতে চেয়েছিলাম। অনেক অভিমান ছিল, যা ভাঙতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সুযোগ পাইনি।"
আবরাজ বলল,
“লিটিল স্পার্ক!!”
আদ্রিতা আবরাজের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি কখনো চাই না আপনাকে সেই আফসোস নিয়ে বাঁচতে হোক।"
আবরাজের বুকের ভেতর কোথাও একটা চাপা ব্যথা টনটন করে উঠল। আবরাজ ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল। তারপর ফিসফিস করে বলল,
"আমি জানি না কোথা থেকে শুরু করব।"
এবার আদ্রিতার মুখে খুব নরম একটা হাসি ফুটে উঠল।সে ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে আবরাজের চুলে আঙুল চালিয়ে দিল।
আদ্রিতা আস্তে বলল,
"আপনাকে কিছু বলতে হবে না।"
আবরাজ চোখ খুলে তার দিকে তাকাল। আদ্রিতা মৃদু হেসে আবার বলল,
"সত্যি। কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না। আমি গিয়ে একবার মানুষ কার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আম্মি বলে ডাকুন। সব দূরত্ব মুহুর্তে মুছে যাবে।"
আদ্রিতার চোখে অদ্ভুত এক নিশ্চয়তা। আবরাজ অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
জানালার বাইরে রাতের বাতাস ধীরে ধীরে বইছে। আর ঠিক সেই বাতাসের মতোই, কখন যে আবরাজ নিজের অজান্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল, সে নিজেও বুঝতে পারল না।
আবরাজ ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। আদ্রিতা কিছু বলল না। শুধু চুপচাপ তাকিয়ে রইল।আবরাজ একবার ঘুমন্ত আরুর দিকে তাকাল। ছোট্ট মেয়েটা নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।
তারপর সে ধীর পায়ে দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল।করিডোরে বেরিয়ে এলো। খান মহলের রাত আজ অদ্ভুত শান্ত। দেয়ালে লাগানো ঝাড়বাতির আলো মেঝেতে ছায়া ফেলেছে।
দূরে কোথাও ঘড়ির টিকটিক শব্দ ভেসে আসছে।
আবরাজ হাঁটছে। মনে হচ্ছে প্রতিটা পদক্ষেপ তাকে বর্তমান থেকে অতীতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। চৌদ্দ বছরের সেই ছেলেটার কাছে। যে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের হাত আঁকড়ে ধরেছিল। যে বারবার বলেছিল,
"আম্মি... আমি যাব না।"
তার বুকের ভেতরটা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠল। কিন্তু সে থামল না।
নদী যেমন নিজের স্রোতে বয়ে চলে, আবরাজ খানও তেমনই স্রোতে ভেসে এগিয়ে গেল আফসানা খানের ঘরের দিকে।
বহু বছরের অভিমান, বহু বছরের নীরবতা, বহু বছরের অদৃশ্য দেয়াল পেরিয়ে অবশেষে, একজন ছেলে তার মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার পথে হাঁটতে শুরু করল।
দূরে করিডোরের শেষ প্রান্তে আফসানা খানের ঘরের দরজাটা দেখা যাচ্ছে। আবরাজ এসে থামল দরজার সামনে। তার হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত।
হাজার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে তার কখনো ভয় হয় না। কিন্তু আজ, তার মাকে আম্মি বলে ডাকতে তার বুক কাঁপছে।
আবরাজ দরজায় নক করল। আফসানা খান ভেতর থেকে বললেন,
“দরজা খোলা আছে।”
আবরাজ একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল। এতো রাতে ছেলেকে নিজের ঘরে দেখে ভীষণ অবাক হলেন তিনি।
আফসানা খান কিছু বলার আগেই আবরাজ হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল মায়ের সামনে। আফসানার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
"আবরাজ?"
তার কণ্ঠে উদ্বেগ মিশে গেল।
"কী হয়েছে বাবা?"
আবরাজ কোনো উত্তর দিল না। তার মাথা নিচু। দুই হাত মুঠো হয়ে আছে। মনে হচ্ছে যেন বহু বছর ধরে জমে থাকা হাজারটা কথা গলার কাছে এসে আটকে গেছে।
আফসানা ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে ছেলের চুলে স্পর্শ করলেন। এক মুহূর্তে আবরাজের বুকের ভেতর কিছু একটা ভেঙে পড়ল। এই স্পর্শটা সে চেনে। এই স্পর্শটা কোনোদিন ভুলে যায়নি।
আফসানা আবার নরম গলায় বললেন,
"বাবা... কী হয়েছে?"
আবরাজের চোখ ভিজে উঠল। শেষ কবে সে নিজের মায়ের সামনে দুর্বল হয়েছিল, তার মনে নেই। তারপর হঠাৎই ভাঙা গলায় একটা শব্দ বেরিয়ে এলো।
"আম্মি।"
আফসানা খানের কাছে যেন পুরো পৃথিবী থেমে গেল।তার চোখের পলকে জল জমে উঠল। আবরাজ আবার ডাকল,
"আম্মি।"
এবার কণ্ঠটা কেঁপে গেল।
"আমি.... আমি খুব ক্লান্ত।"
আফসানার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। তিনি কোনো প্রশ্ন করলেন না। কোনো অভিযোগ করলেন না।শুধু দুহাতে ছেলের মুখটা তুলে ধরলেন। আবরাজ মাথা তুলতেই তিনি দেখলেন, তার সেই ছোট্ট ছেলেটা এখনও কোথাও রয়ে গেছে।
আফসানা কাঁপা গলায় বললেন,
"আমার আবরাজ।”
এরপর আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।আবরাজকে টেনে নিজের বুকে জড়িয়ে নিলেন। যেভাবে ছোটবেলায় নিতেন। যেভাবে কোনো মা তার হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেলে জড়িয়ে ধরে। আবরাজের চোখ বন্ধ হয়ে গেল। মায়ের বুকের সেই পরিচিত গন্ধ, সেই শান্তি সে অনুভব করল।
আফসানা শুধু মাথায় হাত বুলিয়ে যাচ্ছেন। বারবার বলছেন,
"কিছু বলতে হবে না বাবা। কিছুই বলতে হবে না। তুই ফিরে এসেছিস, এটাই যথেষ্ট।"
দরজার বাইরে করিডোরে দাঁড়িয়ে রয়েছে আদ্রিতা। সে ভেতরে ঢোকেনি। শুধু আধখোলা দরজা দিয়ে দৃশ্যটা দেখছিল। তার ঠোঁটে ধীরে ধীরে একটা শান্ত হাসি ফুটে উঠল।
মা আর সন্তানের সম্পর্কটা আসলে পৃথিবীর অন্য সব সম্পর্কের চেয়ে আলাদা। সেখানে অভিমান থাকতে পারে। ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে। কিন্তু সত্যিকারের বিচ্ছেদ হয় না।
সন্তান হয়তো একদিন অনেক দূরে চলে যায়। জীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যায়। কিন্তু একজন মা কখনো অপেক্ষা করা থামান না।
সন্তান ফিরে আসুক বা না আসুক, একজন মা তার জন্য দোয়া করা বন্ধ করেন না। ভালোবাসা বন্ধ করেন না।
আজকের এই রাত যেন সেই সত্যটারই সাক্ষী হয়ে রইল।
ইস্তাম্বুলের আকাশ আজ অস্বাভাবিক পরিষ্কার। দূরে বসফরাসের কালো জলরাশির ওপর তারার আলো ঝিলমিল করছে।
আর খান মহলের এক ঘরে বহু বছরের জমে থাকা নীরব দূরত্ব ভেঙে পড়ছে নিঃশব্দে। সেখানে কোনো বড় ব্যাখ্যা নেই। কোনো অভিযোগের হিসাব নেই। শুধু রয়েছে “আম্মি” শব্দটা।
__________________**************________________
ইস্তাম্বুলের আইন অনুযায়ী, কোনো নারীর প্রতি সংঘটিত ধ/র্ষ/ণে/র অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃ/ত্যু'দ'ণ্ড কার্যকর করা হবে।
কিন্তু এখন প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। যেসব অপরাধ এই আইন কার্যকর হওয়ার আগেই সংঘটিত হয়েছে, সেসব অপরাধীদের কী হবে?
আবরাজ খান যখন ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন, তখন তিনি এই আইন প্রণয়ন করেছিলেন। বর্তমানে সেই দায়িত্বে আছেন প্রয়াণ খান। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার তার কাঁধে।
কারণ আইনের একটি মৌলিক নীতি হলো, নতুন আইন সাধারণত অতীতের অপরাধের ওপর প্রযোজ্য হয় না। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি আইন প্রণয়নের আগে অপরাধ করে থাকে, তাহলে তাকে সেই সময়কার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচার করা হয়।
তবে এর মানে এই নয় যে পুরোনো অপরাধীরা শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে।
যেসব মামলা এখনও খোলা রয়েছে, যেসব ভুক্তভোগী এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন, আর যেসব অপরাধী বছরের পর বছর ক্ষমতা, অর্থ কিংবা প্রভাবের আড়ালে লুকিয়ে থেকেছে। তাদের ভাগ্য কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছে পুরো ইস্তাম্বুল।
আর সেই উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব এখন প্রয়াণ খানের।
প্রয়াণ নিষ্ঠা ভরে সেই দায়িত্ব পালন করছেও। সে সবচেয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিশেষ তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে পুরোনো অপরাধগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়। আর সেই তদন্তের প্রথম ফাইলটা ছিল এমন একজন মানুষের বিরুদ্ধে, যার নাম কেউ কল্পনাও করেনি।
শাহবাজ খান। হ্যাঁ, নিজের বাবার বিরুদ্ধেই।
সংবাদমাধ্যম, রাজনৈতিক মহল, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছিল। কারণ মানুষ সাধারণত নিজের পরিবারকে রক্ষা করে। কিন্তু প্রয়াণ খান ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিল।
সে খুব স্পষ্টভাবে বলেছিল,
"যদি আমি বাইরের অপরাধীদের শাস্তি দিতে চাই, তাহলে প্রথমে আমার নিজের ঘরের দিকে তাকাতে হবে। কারণ অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে মানুষ আমার দিকেই তাকাবে। প্রথম প্রশ্ন হবে, নিজের পরিবারের অপরাধের বিচার করেছি কি না।"
সেই কারণেই শাহবাজ খানের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা অভিযোগ, গোপন নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং চাপা পড়ে থাকা রিপোর্টগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখা শুরু হয়।
অনেক ক্ষমতাবান মানুষ এই তদন্ত থামাতে চেয়েছিল। কারণ শাহবাজ খানের নাম আসলে তাদের পর্দাও ফাঁস হয়ে যাবে।
অবশেষে এক মাসব্যাপী তদন্তের পর বিশেষ তদন্ত সংস্থা তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা ধীর কণ্ঠে বললেন,
"সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ, ডিজিটাল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং গোপন নথি বিশ্লেষণের পর আমরা একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছি।"
এরপর যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়, সেটি বহু বছর ধরে মানুষের মনে প্রশ্ন হয়ে ছিল।
"১৯ নভেম্বর, ২০২৩ সাল। রাত সাড়ে সাতটা। ইস্তাম্বুল মেডিকেল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের তৃতীয় তলার কমন রুমে কর্তব্যরত এক তরুণী চিকিৎসককে হ/ত্যা করা হয়েছিল।"
বহু বছর ধরে এই ঘটনাটি নিয়ে নানা গুজব, চাপা আলোচনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ থাকলেও সত্য কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু নতুন তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য।
প্রতিবেদনে শাহবাজ খানের নামসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং ক্ষমতাসীন মহলের ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে সেটাই ছিল না সবচেয়ে বড় বিস্ময়।
তদন্ত যত গভীরে এগোতে থাকে, ততই সামনে আসতে থাকে আরও বহু অমীমাংসিত মামলা, গোপন আর্থিক লেনদেন, ক্ষমতার অপব্যবহার, সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং বছরের পর বছর ধরে ধামাচাপা দিয়ে রাখা অসংখ্য অভিযোগের তথ্য।
প্রতিটি নতুন নথি যেন আরেকটি বন্ধ দরজা খুলে দিচ্ছিল। আর সেই দরজার ওপাশে ছিল এমন অন্ধকার, যার গভীরতা কেউ কল্পনাও করেনি।
প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ইস্তাম্বুল পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। একে একে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের।
দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র আলোড়ন। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিল সেই তরুণী চিকিৎসকের মামলাটি।তদন্তে যাদের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের পর আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে।ইস্তাম্বুলের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ধ/র্ষ/ণ ও হত্যার সাথে সরাসরি যারা যুক্ত ছিল তাদের এনকাউন্টারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আর যারা এই অপরাধ আড়াল করা, প্রমাণ নষ্ট করা, সাক্ষীদের ভয় দেখানো, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপরাধীদের রক্ষা করার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই তালিকায় রয়েছে বহু প্রভাবশালী নাম। আর তাদের মধ্যেই একজন হলো শাহবাজ খান।
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা শাহবাজ খানকে দেখে অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না, যে মানুষটা একসময় ক্ষমতার শীর্ষে ছিল, যার একটি নির্দেশে অসংখ্য মানুষ মাথা নত করত, আজ সে নিজেই আইনের সামনে দাঁড়িয়ে।
সবচেয়ে বড় আঘাতটা অবশ্য অন্য জায়গায় ছিল।শাহবাজ খান কখনো কল্পনাও করেনি, একদিন তার নিজের ছেলেরাই তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। তার ধারণা ছিল, ক্ষমতা দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ভয় দেখিয়ে আনুগত্য কেনা যায়। কিন্তু সে বুঝতে পারেনি, আনুগত্য আর ন্যায়বিচার এক জিনিস নয়।
কোর্ট থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার আগে কয়েক মিনিটের জন্য শাহবাজ খানকে আবরাজ ও প্রয়াণের সামনে দাঁড় করানো হলো।
শাহবাজ খান নিজের দম্ভের সাথে বললেন,
"ভালো করলে না এটা তোমরা। নিজের বাবার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কেউ কখনো জিততে পারে না।"
আবরাজ স্থির চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তার মুখে কোনো রাগ ছিল না, কোনো বিদ্বেষও না। সে ঠান্ডা গলায় বলল,
"ভালো আর খারাপের হিসাব আমরা করিনি। সারা জীবন আপনি অন্যদের বিচার করেছেন। আজ শুধু আইনের পালা এসেছে আপনার বিচার করার।"
কয়েক সেকেন্ড থেমে আবরাজ আবার বলল,
"আর একটা কথা, আব্বু, আপনি আমাদের বাবা। সেই সম্মানটা আমরা শেষ পর্যন্ত রেখেছি। কিন্তু যেদিন একজন নিরপরাধ মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন, যেদিন ক্ষমতাকে সত্যের উপরে রেখেছিলেন, সেদিনই আপনি নিজের অবস্থান হারিয়েছিলেন।"
আবরাজের কণ্ঠ আরও শান্ত হয়ে উঠল।
"আজ আমরা আপনার বিরুদ্ধে দাঁড়াইনি। আমরা শুধু অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। দুর্ভাগ্যবশত, সেই অপরাধের আড়ালে আপনার নামও ছিল।"
আবরাজ ধীরে প্রয়াণের কাঁধে হাত রাখল। প্রয়াণ তখনও স্থির চোখে সামনে তাকিয়ে আছে। তার মুখে কোনো বিজয়ের ছাপ নেই। যতোই হোক নিজের বাবাকে এভাবে দেখতে কারও ভালো লাগে না।
আবরাজ তার কাঁধে চাপড় দিয়ে শান্ত গলায় বলল,
"তুই কোনো ভুল করিসনি, প্রয়াণ।"
প্রয়াণ চুপ করে রইল। আবরাজ আবার বলল,
"আজ তুই শুধু একজন ছেলে হিসেবে সিদ্ধান্ত নিসনি। তুই তোর দায়িত্ব পালন করেছিস।"
তার কণ্ঠে দৃঢ়তা ফুটে উঠল।
"তুই তোর পদের মর্যাদা রক্ষা করেছিস। আইনের সম্মান রক্ষা করেছিস। আর সবচেয়ে বড় কথা, তুই প্রমাণ করেছিস যে ন্যায়বিচারের সামনে কোনো সম্পর্ক, কোনো ক্ষমতা, কোনো পরিচয় বড় নয়।"
প্রয়াণের চোখ নিচু হয়ে এলো। আবরাজ মৃদু স্বরে বলল,
"বাবা হিসেবে উনি আমাদের অনেক কিছু দিতে পারেননি। কিন্তু আমরা যেন তার ভুলগুলো নিজেদের মধ্যে বহন না করি।"
কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে সে যোগ করল,
"আজ যা হয়েছে, সেটা কোনো ছেলের বাবার বিরুদ্ধে জয় নয়। এটা সত্যের জয়। তাই মাথা নিচু করিস না। সোজা হয়ে দাঁড়া, মিস্টার মেয়র।"
#চলবে
#লেখনীতে_নীলপ্রজাপতি