ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ে চলছে চৈতন্য চৈত্র

৯ম পর্ব

লেখক: বিলাইর মা

গল্প - #হৃদয়ে_চলছে_চৈতন্য_চৈত্র - ৯

লেখিকা - #বিলাইর_মা (ছদ্মনাম)

কাল থেকে রোজা শুরু, সকলে মজে আছে রোজার আমেজে। সকাল থেকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। আকসা আজ কাজের উপর কাজ করতে করতে অনেক ব্যস্ত। আজকে অনেক কাজ আছে তার, কারণ আজকের পর থেকে রোজা চাইলেও কোনো প্রকার সম্মেলনে যেতে পারবে না।

একটা সমস্যা আকসার মাথায় চারা দিয়েছে। আকসার প্রতিপক্ষ দল অভিযোগ করছে, যা আসলে আকসার দলের কেউ করে নি—যেমন: আকসাদের দলের লোক নাকি বিভিন্নভাবে স্কুল কলেজের মেয়েদের উতপ্ত করে। এছাড়া মিথ্যা মামলাও দিচ্ছে। এতে করে এখন অনেক সমস্যা হচ্ছে। আকসার নামে ৩ টা মামলা দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে আকসা অনেক সমস্যায় আছে।

দেওয়ান মঞ্জিলে সকলে যে যার মতো ঘুমাচ্ছে। অনামিকা আকবরের ঘুম ভাঙলো এলামের আওয়াজে। ঘরিতে সময় দেখলেন ৩:০০ বাজে। তারাতাড়ি উঠে মুখ হাত ধুয়ে কিচেনে চলে গেলেন। এই বাড়িতে রান্না বিশেষ করে বাড়ির বউয়েরাই করে, এটা বাড়ির নিয়ম বললেও চলে। অনামিকা আকবর তারাতাড়ি করে রান্নায় হাত দিলেন, এর মধ্যেই অনামিকা আকবরের মেঝো জা রুবিনা বেগম ও অনামিকা আকবরের ছোট্ট জা মারিয়া রহমান এসে রান্নায় হাত দিলেন।

এক সময় রুবিনা বেগম বলে উঠলেন:

"আচ্ছা আপা, আর কত…?"

অনামিকা আকবর বুঝতে পারলেন না, তাই জিজ্ঞেস করলেন:

"কি আর কত?"

রুবিনা বেগম বললেন:

"আকসা আর আবেশের সম্পর্ক। আর কত, আপা? ওরা তো কেউ কাউকে মানে না।"

অনামিকা আকবর নির্দিধায় বললেন:

"মানে না মানবে, সময় তো যাচ্ছে। আর আবেশ আগে আকসা পছন্দ করতো না, ও ছোট্ট আর বোকা বলে। এখন বয়সেও বড়, সাথে ও এখন অনেক বদলে গেছে। আকসা এখন দেখতে যেমন সুন্দর, যেকোনো ছেলে রাতের ঘুম কাড়তে সক্ষম—আবেশও। তাই ওদের সময় দেওয়া দরকার।"

রুবিনা বেগমের কথাটি যেন ভালো লাগলো না, তিনি বললেন:

"আবেশ এখন আর সেই আবেশ নেই। ওর আর কতো সময় নেবে? বয়স বাড়ছে, বই কমছে না। আকসা সেদিন ঠিকই বলেছিল, আবেশ যদি ওই সময় বিয়েটা মেনে নিতো, তহলে আজ আবেশে বাচ্চা এ ঘর ঘিরে রাখতো। আমি বলি কি, ওদে ছারা ছারি…"

রুবিনা বেগম আর কথা বলতে পারলেন না, তার আগেই অনামিকা আকবর বাধা দিলেন:

"একবার বেলেছিস আমার সামনে আর বলিস না এ কথা, মেঝো। শোন, একটা সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অনেক কষ্ট লাগে, কিন্তু ভাঙার জন্য লাগে না এক সেকেন্ড সময়। তুই জানিস আকসার, আমরা ছারা কেউ নেই। ও নিজেকে যেমন দেখায়, মোটেও তেমন না। তাই তো আমি বার বার বলি, ওকে কষ্ট দিয়ে কথা বলবি না। তোর, মারিয়ার, আমার সবার সন্তানের মতো করে আমি আকসা কেও দেখি। তাই আমার সামনে এই কথা তুলবি না, কারণ কোনো মা তার সন্তানের সংসার ভাঙতে বা দেখতে চায় না।"

মারিয়া রহমানও এসে বললেন:

"আমি ও আপার সাথে একমত, কারণ আকসার তো আমরা ছারা কেউই নেই। ওকে আবেশ ছাড়া দিলে ও হারিয়ে যাবে, আর আমরা পাবো না। ও যাই করুক না কেনো, দিন শেষে ও ছারা এই বাড়ি অচল।"

---

আকসা ঘুম ভাঙতেই ফ্রেশ হয়ে হেলেদুলে হাজির হলো ডাইনিং টেবিলে। এসে দেখে এখনো কেউ উঠে নি। তাই কিচেনে এসে হেলেদুলে। কিচেনে এসে দেখে বাড়ির সকল বউ রান্না করছে। আকসা একটু উঁকি দিয়ে দেখলো, মারিয়া রহমান চিংড়ি ভাজছে। আকসা পাশের থেকে একটি ছোট্ট বাটি নিয়ে মারিয়া রহমানের কাছে পাগলামি করতে থাকে চিংড়ি মাছের জন্য।

"আহ আকসা, দেখ মা, এখনো চিংড়ি মাছটি কাচা। ভাজা হোক, তার পর খাবি।"

"ছোট মা, প্লিজ দেও না, প্লিজ। আমি কাচা টাই খাবো, প্লিজ।"

"যাবি তুই এখান থেকে।"

"দেও না প্লিজ, প্লিজ।"

"আচ্ছা, দিবো, আগে সবগুলো শয়তানগুলোকে উঠিয়ে গিয়া।"

"আগে দে না, তার পর ওদের উঠাবো।"

এতো সময় ধরে কথা বলতে বলতে চিংড়ি মাছ ভাজা হয়ে গেছে। তাই আকসাকে একটি বড় মাছ দিয়ে পাঠানো হলো। সকলকে উঠাতে গিয়ে, আকসা চিংড়ি মাছ খেতে খেতে সবাইকে তুললো।

আকসা সকলকে তুলে আবেশের রুমের দরজায় নক করলো, কিন্তু কোনো সাড়া পেলো না। দরজায় আর একবার নক করতেই দরজা খুলে গেল। আকসা চোরের মতো উকি দিয়ে দেখলো ভিতরটা অনেক অন্ধকার। টাউজারের পকেট থেকে ফোন বের করে ফ্ল্যাশ অন করে ঢুকতেই দেখলো আবেশ উপুড় হয়ে শুয়ে আছে।

হঠাৎ আকসার মাথায় একটা শক্তানি বুদ্ধি খেললো। তাই সময় নষ্ট না করে আবেশের পায়ে শুরশুরি দিতে শুরু করলো। কিন্তু হিতে বিপরীত হল, আবেশ ঘুমের ঘোরে লাথি মেরে আকসাকে মেঝেতে ফেলে দিলো। আকসা মেঝেতে পড়ে নিজেকে সামলে উঠে আবেশের মাথার কাছে গিয়ে নিজের মাথার খোপ খুলে কিছুটা চুল নিয়ে আবেশকে নাকে-মুখে শুরশুরি দিচ্ছে। আবেশ আকসাকে নিজের বাহুতে আবদ্ধ করে। আকসা মুক্তি পেতে কসরত করতে থাকলেও শেষে না পেরে আবেশের নাক টিপে ধরে।

আবেশ হঠাৎ করে নিশ্বাস নিতে না পেরে ঘম ভেঙে যায়। চোখ খুলতেই আকসাকে নিজে বাহুতে আবদ্ধ পেয়ে রেগে যায়। আকসাকে এক ঝটকায় সরিয়ে ফেলে, তার পর গম্ভীর কণ্ঠে বলল:

"আমার রুমে এসে আমাকে সিডইউস করছিস? তুই এতোটা নিলজ্জ, ছিঃ! আমি তো ভাবতেই পারি না।"

আকসা আবেশকে ভাঙিয়ে বলল:

"যেই না চেহারা নাম তার পেয়ারা, ছিঃ! আমার চয়েজ এতই খারাপ না। এখন উঠে ছেহেরি করতে আসুন নাবাব জাদা, আপনাকে উঠাতে এসেও মানুষও বিরক্ত, খেয়ে দেয়ে আমাকে উদ্ধার করুন।"

এ কথা বলে আকসা আবেশের রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। আবেশ অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো আকসার যাওয়া দিকে। এই মেয়ে তাকে কি পেয়েছে এতো ইনসাল আর মানা যায় না। এই মেয়ের কিছুতো একটাও করতে হবে। ভাবনার মাঝেই বির বির করে বলল:

"আমার চেহারা খারাপ না, মোটেও না, তাহলে কি আমার পিছনে এতো মেয়ে কেন ঘুরতো?"

এ কথা বলে নিজেকে শান্তনা দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।

---

📊 শব্দ সংখ্যা:-৮৫০ (প্রায়)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন