ফন্ট সাইজ:
থিম:
ও যে মানে না মানা

১২তম পর্ব

লেখক: ইসরাত ইতি

#ও_যে_মানে_না_মানা

#পর্ব_১৩

#ইসরাত_আরা_ইতি

খবরটা পেয়েছে মাহবুব যখন দোকানে একগাদা কাজের মাঝে ডুবে ছিল। সদরের পশ্চিমেই একটা স্টেশনারির দোকান রয়েছে মাহবুবের। যদিও এতদিন মোটামুটি সংসার চলার মতো চলতো,গড়াতে গড়াতে। সপ্তাহখানেক আগে গ্রামের কিছু জমি বিক্রি করে ভাড়াতে দোকান আরেকটা নেয়া হয়েছে। লাখ খানেক টাকার নতুন মালামাল উঠানো হয়েছে।

সেসব গুছিয়ে যখন হিসেব দেখছিল তখন তিতলির কলটা নজরে পড়ে। সৈয়দ ভিলায় যেতে বলা হয়েছে তাকে, বলতে গিয়ে গলা কাঁপছিল তিতলির। মাহবুব শুনে দুশ্চিন্তায় অস্থির,“বাড়িতে কোনো ঝামেলা হয়েছে মনা? ওদের সাথে তোর ঝগড়া লেগেছে? আফিফ ভাইয়া কই?”

_“না। অন্য ব্যাপার। ভাবীর শরীরটা ঠিক নেই। বটতলা থেকে ডাক্তার ডেকে এনেছি। তুমি একটু এসো।”

মাহবুব ছুটতে ছুটতে বাড়িতে গিয়ে দরজায় দাঁড়াতেই রুমকি ঝলমলে হাসিতে মুখ ভরিয়ে বলল,“মিষ্টি আনা উচিত ছিল তো দুলাভাই।”

হাঁপাতে হাঁপাতে প্রশ্ন করে মাহবুব,

_“মিষ্টি কিসের জন্য?”

বসার ঘরের একপাশে দাঁড়িয়ে ফারজু নিভৃতে কাঁদছে। ওড়না চেপে চেপে চোখের পানি মুছছে বারবার,তবে সেই কান্নাটুকু যেন বিষাদের নয়। মাহবুব দৃষ্টি ঘুরিয়ে রান্নাঘরে উঁকি দিয়ে দেখলো তিতলি রান্নাঘরে। পাতিলের ঠুকঠাক লাগিয়ে কি যেন করছে,আর স্বামীর সাথে গল্পে মশগুল,জানতে চাইছে,“খাসির মাংসটা ভালো। রেজালা খাবেন?”

_“না ঝাল ঝাল করে বাংলা ভুনা করো।”

আফিফ টেবিলে বসে আছে নির্বিকার মুখে,ফোনে কিছু দেখছে। অন্যসময়ে যে লোকটা বোনদের গায়ে সামান্য সুচ ফুটলেও ছটফট করতে থাকে আজ তার এরূপ ঠান্ডা হাবভাব দেখে মাহবুবের সবটা বুঝতে অত বেশি বেগ পেতে হয়নি। ফারিয়ার গুরুতর অসুখ হয়নি,এটুকু নিশ্চিত হয়ে ফোঁস করে দম ছেড়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে ও ছুটে গেল ফারিয়ার ঘরে। বুকটায় সত্যিই প্রবল উচাটন ভিড়েছে। ঘরে গিয়ে মাহবুব অবাক হয়ে ফারিয়ার মুখের দিকে চেয়ে রইল কতক্ষণ। ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে ফারিয়ার পাশে বসলো এরপর। ফারিয়ার মুখচোখ নির্লিপ্ত, কিন্তু চোখের নিচে ক্লান্তির ছটা বেশ স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে কালির মতো। মাহবুব হাতটা বাড়িয়ে ধীরে ধীরে ফারিয়ার হাত টেনে ধরে ওকে মিশিয়ে নেয় নিজের মাঝে। বেশ দীর্ঘক্ষণ দু’জন কোনো কথা বলতে পারলো না। বেশ দীর্ঘক্ষণ পরে মাহবুবের কাঁপা গলাটা খুব চেষ্টা করে বলে,“ডাক্তার কী বলল? চলো ল্যাব এইডে নিয়ে যাই। ওখানে ডক্টর আজমেরী ম্যাডামকে দেখাবো।”

_“যাকে দেখিয়েছি তিনিও ভালো। কতগুলো স্যালাইন করাতে বলেছেন প্রথম তিন মাস। আমি নাকি বেশি দুর্বল।”

মাহবুব সেই দুর্বল মাথাটা চেপে ধরে বুকের সাথে,“তুমি আগামী নয় মাস একটু আমার কথা শুনে চলবে। আর আগামী নয় মাস। এর মধ্যে দয়া করে উত্তেজিত হবে না। লক্ষী মেয়ের মতো নরম হয়ে কথা বলবে। যা খেতে বলবো চুপচাপ খাবে। অহেতুক কারণে ঝগড়া শুরু করবে না।”

পাথুরে চোখ দু'টো তুলে ফারিয়া জানতে চায়,

_“এতো বেশি খুশি? বাবা হচ্ছো বলে? জীবন স্বার্থক হয়ে গেছে তাইনা?”

মাহবুব আনত চোখজোড়া বুজিয়ে অল্প শ্বাস ছেড়ে বলে,

_“যেটুকু হবার কথা ছিল তার ডাবল খুশি!”

_“কেন? ডাবল কেন?”

_“আমি একজনকে তো ধরে রাখতে পারিনি নিজের দোষে। কিন্তু আমি তাকে ধরে রাখতে চাই। আমাকে সাহায্য করতে আমি আরেকজনকে পাচ্ছি,তাই ডাবল খুশি।”

ফারিয়ার চোখে পানি এসে গিয়েছে টের পেয়ে সে জেদ করে দৃষ্টি ঘুরিয়ে জানালার বাইরে স্থির রাখে। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে শেষ বিকেলে। ওপাশে আফিফ ভাগ্নে ভাগ্নিদের সাথে বারান্দায় দাঁড়িয়ে হৈ হল্লা করছে। বাচ্চারা মামার কাছে আবদার জুড়েছে ভুট্টা পুড়ে খাবে, এখন মামাকে ভুট্টা এনে দিতে হবে।

মাহবুব ফারিয়াকে গা থেকে আলগা করে হেডসাইডে হেলান দিয়ে বসিয়ে দেয় ধীরে। ফারিয়ার আঁচল তুলে মুখে জমা ঘামের ফোঁটা গুলো মুছিয়ে দিয়ে হাতটা রাখে মাথায়,বুলিয়ে দিতে থাকে। তিতলি দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছে। মাহবুব ওকে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে বলে,“আমি বেরুচ্ছি। মালামাল সব মেলা খোলা ফেলে রেখে এসেছি দোকানে। সব গুছিয়ে দোকান বন্ধ করে আসবো। কোনো অসুবিধা হলে কল করিস।”

তিতলি মাথা নেড়ে ভাইকে আস্বস্ত করে। ভাবীর খুব কাছে এগিয়ে যায় হাতে দুধের গ্লাস নিয়ে। সাথে দু'টো ডিম সেদ্ধ। ফারিয়ার ভোঁতা মুখটা দেখে হুট করে মেজাজ বিগড়ে যাওয়ায় বলে ফেলে,“আজকের দিনেও ভাইয়ার সাথে ছ্যাতছ্যাত করে কথা বলেছো তুমি?”

_“এসে গেছো আবার ভাইয়ের হয়ে ওকালতি করতে?”

তিতলি শক্ত হয়ে বলে,“এতো বিতৃষ্ণ তুমি সবকিছুর ওপরে তাহলে বাচ্চা নিয়েছো কেন আগ্রহ করে? ঢাকা গিয়ে গিয়ে বড়ো বড়ো ডাক্তার দেখিয়েছো কেন?”

ফারিয়া ক্ষ্যাপে না,চোখ তুলে শীতল গলায় জবাব ফিরিয়ে দেয়,“আ,এসব কি বলছো? আমার স্বামী তো তোমার ভাইয়া। স্বামী যদি বলে আমার মায়ের পা ধরো,আমি ধরবো না? ধরেছি তো কত! স্বামী যদি বলে তোমাকে আমার বিছানায় প্রয়োজন। আমি যাবো না? স্বামী যদি বলে আমরা বাচ্চা নেবো,আমার বাচ্চা চাই-ই চাই, আমি ডাক্তারের কাছে যাবো না ঘটা করে? এসব কেমন প্রশ্ন?”

তিতলি হাতের গ্লাসটা নামিয়ে রেখে বলে,

_“তুমি পাগল হয়ে গেছো আসলে! তোমাকে পাগলা গারদে রেখে আসা উচিত।”

ফারিয়া চুপচাপ শুয়ে আছে। তিতলি ওপাশের বালিশ দু'টো ঠিকঠাক করে দিয়ে বলে,“দুধটা খেয়ে নাও! ঠান্ডা মাথায় এরপর ঘুমাও।”

ফারিয়া আগ্রহ দেখায়না। তিতলির গলায় জেদ চাপে আরো,গ্লাসটা হাতে তুলে বলে,“অবশ্য পাগল ঠিক করতে জানি আমি। ভাইয়ার সাথে যা করছো করো, এসব তোমাদের স্বামী স্ত্রীর ব্যাপার। তবে যে আসছে তার সাথে এসব পাগলামি নয়। তাকে দায়িত্ব নিয়ে আনছো দু'জন, পাগলামি বাদ দিয়ে সংসারে মনোযোগ দাও। এখন সংসারে শাশুড়ি নেই,ননদ নেই,এখন শান্তিতে সংসার করো। নাও দুধটা খাও, নয়তো ডাকবো তোমার ভাইয়াকে।”

_“ভাইয়া এলে কি করবে? ভাইয়াকে ভয় পাইনা আমি।”

_“আচ্ছা তবে ডাকছি….শুনছেন…!

মুখে চ কারন্ত শব্দ করে উঠে বসে ফারিয়া। কপালের মাঝখানে গোটা পাঁচেক ভাঁজ এনে তিতলির হাত থেকে দুধের গ্লাসটা ছিনিয়ে এনে ওটা খেয়ে নিলো চুপচাপ। পরপর তিতলিকে ঝাড়ি মেরে বলল,“এখন যাও। নিজের কাজ করো। ভাইয়াকে মাস্কা লাগাও। ভাইয়া খুশি হবে।”

________

রাতের বেলা যখন আফিফ খেতে বসেছে তার দুই বোন পাশে ছিল। আজ নতুন করে মামু হবে বলে লোকটা বেজায় খুশি তা হাবভাবেই বোঝা যাচ্ছে। যদিও প্রকাশ কম। বরাবরের গম্ভীর মুখটা নেড়ে এটা ওটা আদেশ ছুঁড়ছে তিতলিকে।

_“তুলির মাকে সালাদ কাটতে বলো। এক বাটি মাংস সোহেলের জন্য তুলে রাখো,কাল এসে খাবে। তুলির মাকে মাংস দিয়ো। তুলির জন্য চকলেট রাখা আছে,মনে করে দিয়ো।”

তুলির মাকে বক্স ভরে এক বাটি খাসির মাংস দিয়ে সদর দরজা আটকে এসে আফিফের পাশে দাঁড়ায় তিতলি। নতুন বৌয়ের এক স্বভাব হয়েছে, বারবার ঘোমটা টানে মাথায়। টেনে বলল,“পাতে মাংস দেবো তুলে আপনাকে? আরেহ,দুপুরে ভর্তার কথা বলেছিলেন তাই চিংড়ি শুঁটকি দিয়ে ভর্তা করেছি এই বেলা। ওটা খাচ্ছেন না কেন এখন?”

_“কই ভর্তা,দেখতে পাইনি আমি!”

তিতলি ভর্তার বাটির ঢাকনা তুলতে তুলতে ফারজুর মুখের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল,“আপনার ভাইয়াকে দেখিয়ে দিতে পারতেন তো ভর্তাটা আপা।”

ফারজু ছোট ছেলের মুখে ভাতের লোকমা তুলে দিয়ে গম্ভীর জবাব দেয়,“এতো খেয়াল ছিল না। আমি দেখতে পাইনি তুমি ভর্তা করেছো!”

তিতলি চুপ হয়। ওর কালো মুখে একচোট নজর বুলিয়ে আফিফ ভর্তা তুলে প্লেটে নেয়। একটু খেয়ে তিতলির মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,“ভীষণ মজা হয়েছে। তুমি খেতে বসবে না?”

_“গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়েছি। পনেরো মিনিট পরে খাবো। ভাইয়াও আসুক ততক্ষণে। আপনারা খান!”

_“আচ্ছা। ফারিয়া কি করেছে,খাবে না?”

ফারজু জবাব দেয়,“একটু পেয়ারা মাখা খেয়েছে সন্ধ্যায়। এখন ব্যাগ গোছাচ্ছে,বাড়ি যাবে বলে।”

_“এই শরীরে?”

_“হু, এতদিন স্বামী নিয়ে ভাইয়ের বাসায় খাচ্ছে,এটা নাকি কেমন দেখাচ্ছে!”

আফিফ খেতে খেতে চোখ তুলে ফারজুর মুখের দিকে তাকায়।

_“কেউ কিছু বলেছে ওকে?”

_“কি জানি! আমাকে কিছু বলেনি।”

মাহবুব চলে এসেছে ততক্ষণে। আফিফ খেয়েদেয়ে উঠলো। হাত ধুতেই তিতলি ঘর থেকে তোয়ালে এনে এগিয়ে দিল। আফিফ হেসে ওটা হাতে ধরে মুখ মুছে নিতে নিতে বলল,“এক কাপ চা বানিয়ে দিতে পারবে? আমি ফারিয়ার ঘরে গেলাম!”

_“আচ্ছা যান। দিচ্ছি।”

ফারিয়া ব্যাগ গুছিয়ে রেডি, মাহবুব খাওয়া-দাওয়া সেরে ফেললেই বেরিয়ে যাবে এমন প্রস্তুতি। শরীরের অবসন্নতা তখনো কাটেনি। গলার খুব কাছেই বমি চেপে আছে। আফিফ গিয়ে দরজায় উঁকি দিয়ে বলল,“আসবো?”

_“এসো।”

ভেতরে ঢোকে আফিফ,“ব্যাগ গোছাচ্ছিস কেন?”

_“যাবো না বাড়িতে? কতদিন তোমার ঘাড়ে খাবো?”

আফিফ বোনের ক্লান্ত মুখের দিকে এক মিনিট চেয়ে থেকে বলে,

_“মাসখানেক পরে যা। ডাক্তার বলল কতকত স্যালাইন দিতে হবে! এখানে থেকে দিবি। তুই অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলে তোর সংসারের কাজ করবে কে?”

ভাইয়ার আপত্তি বিশেষ পাত্তা না দিয়ে ফারিয়া হাতের ব্যস্ততা বাড়ায়। আফিফ বলে,“তিতলি গিয়ে দেখাশোনা করতে পারবে না তোর। আমি আমার বৌকে তার সংসার ফেলে এ বাড়ি ও বাড়ি গিয়ে কাজ করতে দেবো না।”

ফারিয়া চোখ তুলল হঠাৎ,বলল,“কথাটা তো একদম আমার শাশুড়ির মতো বললে তুমি! মনে আছে ফারজু আপুর সিজারের সময় আমি গিয়ে একটু হাসপাতালে রাতে আপুর পাশে থাকবো,আমাকে সেই পারমিশন টুকুও দেয়নি ঐ মহিলা। ইনিয়ে বিনিয়ে কত কথা শুনিয়েছে। তাতে আবার তাল মিলিয়েছে তার ছেলে।”

আফিফ সহজ হেসে বলে,“ঐ জন্যই একটু শোধ নিচ্ছি মাহবুবের ওপর। ফারজুর বিপদে তার বোন ফারিয়াকে পাশে থাকতে দেয়নি, তাই তার বৌয়ের বিপদে আমিও আমার বৌ বা বোনদের গিয়ে তার বাড়িতে চাকরানীর কাজ করতে দেবো না।”

ফারিয়া ব্যাগের চেইন আটকে বলে,“আমার কাউকে প্রয়োজন নেই। তোমার বৌকে তো একদমই প্রয়োজন নেই। তোমার বৌকে তুমি শোকেসে সাজিয়ে রাখো। বিয়ে তো তুমি নিজের জন্যই করেছো।”

বোনের রাগ দেখে আফিফ জোরে হাসছে এখন, ফারিয়ার হাত থেকে ব্যাগটা কেড়ে নিয়ে আলমারির ওপর রেখে দিয়ে বলে,“হ্যাঁ নিজের জন্যই করেছি। বিয়ে তো মানুষ নিজের জন্যই করে! তবে ভাবছি মাঝেমাঝে তোদেরও একটুখানি ভাগ দেবো আমার বৌয়ের। এই ধর, তোদের পাত পেড়ে খাওয়াবে, চা বানিয়ে খাওয়াবে, অসুস্থ হলে সেবাযত্ন করবে।”

শুনে শ্বাস টেনে দাঁতে দাঁত চাপে ফারিয়া,

_“ব্যাগ দাও ভাইয়া। বাড়ি যাবো আমি!”

_“মাসখানেক পরে। আচ্ছা আমি আগে পটুয়াখালী থেকে ফিরি। তারপর। আচ্ছা শোন, আমার বৌ আমার জন্য চা বানাতে গেছে,তুই কি চা খাবি? বানাতে বলবো?”

নাকের পাটা ফুলায় ফারিয়া,“তোমার বৌয়ের চা তুমিই খাও।”

_“আরে বলেছি তো তোকেও একটুখানি আমার বৌয়ের ভাগ দেবো। ও দারুণ চা বানায়। রান্নাবান্নাও করে চমৎকার। ওকে বিয়ে করে আর যাই হোক,শান্তি মতো পেট ভরে দু'টো ভাত খেতে পারবো বল!”

ফারিয়া মেজাজ চেপে বলল,

_“যাও তো ভাইয়া‌‌। ঘুমাবো আমি। যাচ্ছিনা বাড়িতে। যাও এখন। তোমার বৌয়ের কাছে যাও। বৌয়ের রান্নার প্রশংসা বৌকে গিয়েই শোনাও।”

_“তা তুই না বললেও যাবো।”

শেষের কথাটা বলেছে আফিফ ধমকেই,কিন্তু মুখে হাসি। ফারিয়া সরু চোখে চেয়ে রয়। আফিফ হাসতে হাসতে বোনের ঘর থেকে বেরিয়েছে,তিতলি দরজার বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিল চা হাতে, ঠোঁট টিপে হাসছিল সেও। আফিফকে দেখে হঠাৎ চমকাতেই আফিফ ধীরে বলল,“আড়ি পাতছিলে নাকি! দেখতে পেলে অনেক কথা শোনাবে। ভাগো!”

তিতলি স্বামীর হাতে চায়ের কাপ তুলে পেছন পেছন যায়,“হ্যাঁ আড়ি পাতছিলাম। কথা শোনালে শোনাক। আপনি বাঁচিয়ে নিয়েন।”

কলিং বেল বাজে আবার। রাত এগারোটার কাটা ছুঁয়েছে তখন। নিচতলা থেকে আহসান স্যার এসেছে ঘর ভাড়া নিয়ে। আফিফকে পেয়ে বলল,“এই দেখুন ভাই, অবশেষে আপনাকে পেলাম। ভাড়া দিতে এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে এ মাসের। আজ সারাদিনে আপনার বাসায় তিনবার এসেছি। একবারো আপনাকে পাইনি। সন্ধ্যার পরে এসেও ফিরে গেলাম।”

আফিফ হাত বাড়িয়ে টাকাটা নিতে নিতে খুব সহজ গলায় বলল,“বিকেল থেকে আপনার ভাবী ছিল তো বাসায়। এখন থেকে আমাকে না পেলে আপনার ভাবীর হাতে দিয়ে যাবেন বাসা ভাড়া।….তিতলি এটা ওয়ালেটে রেখে আসো।”

ফারজু রুমকি বসার ঘরের সোফা ঠেশে বসে আচার খেতে খেতে সিরিয়াল দেখছিল। ভাইয়ের কথা শুনে চোখ তুলে ভাইয়ের হাতটা দেখে। এরপর দৃষ্টি ঘুরায় তিতলির মুখে। তিতলি সবার নজর এড়িয়ে বেশ জড়তা নিয়ে হাত বাড়িয়ে টাকা গুলো নেয়,অস্ফুটে বলে,“রাখবো কই?”

_“ওয়ালেটে। আমি গেট আঁটকে আসছি নিচ থেকে।”

ঘরে ঢুকে তিতলি বইখাতা গুছিয়ে টেবিলে রাখে। অনেক ছুটিছাটা কাটিয়েছে, আজ থেকে টুকটাক চাকরির পড়া শুরু করতে হবে। বিয়ের দিন থেকে চাপা জেদটা মাথায় কিটকিট করছে যখন থেকে ফারিয়া তাকে বাদর বলেছে। তিতলি বাদর নয়,কিংবা পয়শা ওয়ালা ছেলে বিয়ে করে লাইফ সেটেলড ভেবে নিশ্চিন্তে ঢেঁকুর তোলা গোল্ড ডিগারও নয় এটুকু অন্তত একটা মোটামুটি চাকরি জুটিয়ে সৈয়দ ওয়াহিদুল আফিফের এই রাগান্বিত বোনদের চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিতে হবে। দিতে হবেই।

টাকাগুলো ওয়ালেটে ঢুকিয়ে রাখতে গিয়ে তিতলির নজরে পড়ে ওটা। আফিফের মা মানে তিতলির শাশুড়ির হাসিখুশি মুখের একটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি ভদ্রলোকের ওয়ালেটে। ভদ্রমহিলাকে যতটুকু দেখেছে তিতলি,বেশ ভালো ছিলেন। হয়তো বেঁচে থাকলে তিতলিকে আদর করতেন,হয়তো মেয়েদের মতো এমন শক্ত থাকতেন না তিতলির প্রতি। বিল্ডিংয়ের গেট আঁটকে এসে আফিফ ঘরে ঢুকতেই দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিললো দু’জনের। তিতলি লজ্জা পেয়ে বলল,“টাকা গুনছিলাম না আপনার মানিব্যাগের, আমার শাশুড়ির ছবিটা দেখছিলাম।”

আফিফ অস্ফুট হেসে টেবিলে নজর বুলায়,“পড়তে বসবে নাকি। আচ্ছা পড়ো। আমি শুয়ে পড়বো এখন,কাল সাতটার বাস ধরবো।”

বলতে বলতে বড়ো আলমারি খোলে আফিফ,“চাবি এভাবে ঝুলিয়ে রেখো না আলমারির সাথে। নিজের কাছে রাখো চাবি। এটার মধ্যে কিছু জিনিস আছে।”

_“কি জিনিস? এটা তো জামাকাপড়ের আলমারি।”

আফিফ ভেতর থেকে একটা বক্স বের করে বিছানায় রেখে বলে,“ব্যস্ততায় দেখানো হয়নি তোমাকে এসব। এখানে কিছু খুচরা গয়না আছে। আম্মার সব। তুমি এখান থেকে একভাগ পাবে,বাকিসব তোমার ননদদের।”

_“তো তাদেরটা নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন কেন?”

আফিফ মলিন হেসে বলল,“আমি যখন বিদেশ যাবো তখন ওরা সবাই নিজেদের ভাগের গয়না বিক্রি করে আমাকে টাকা দিয়েছিল। আমার বোনগুলো আমাকে খুব ভালোবাসে জানো তিতলি! বিনিময়ে আমার থেকে ওরা কিছুই আশা করেনি তখন।”

তিতলি জানে এ কথা,আর এটুকুও জানে এই লোকটা তার চেয়েও বেশি ভালোবাসে তার সব বোনকে।

_“এরপর তো বিদেশ খেটে ওদের কত কি গড়ে দিলাম। কিন্তু মায়ের এই গয়না গুলোর কথা আমার মাথা থেকে কখনো যায়নি যেগুলো ওরা আমার জন্য ত্যাগ করেছিল। গতবছর সেই রিলেটিভ,যার কাছে গয়না বেঁচেছিল ওরা, সে একটা প্রয়োজনে এসব বিক্রি করতে ইচ্ছুক শুনে আমি আবার গিয়ে কিনে নিলাম।”

_“তো বোনদের দেননি কেন?”

_“থাকুক আমার কাছে। এক একটা গাধার সাথে বিয়ে বসেছে তো সবকটা। আবার যদি এই গয়না বেঁচে খায়? এগুলো পরে দেবো। ভাগ্নে ভাগ্নিরা বড়ো হোউক! তোমাকে দেখিয়ে রাখলাম,সাবধানে রেখো চাবি। এভাবে ফেলে রাখবে না।”

গয়নাগুলো সামলে রেখে আফিফ বিছানার একপাশে শুয়ে পড়লো। তিতলি আফিফের গম্ভীর মুখটার দিকে বেশ অনেক সময় চেয়ে থাকে চুপচাপ। ওর জানা নেই লোকটা কখনো ওর প্রেমে পড়ে কিনা। কিন্তু ও যে এভাবে কারণে অকারণে ধুপধাপ প্রেমে পড়ে এই লোকের তা ও বেশ জানে। প্রেম তিতলির কাছে ইদানিং ডালভাতের মতো। যা স্বামীর প্রতি নিত্যই ঘটে, এবং বেশ তৃপ্তি নিয়েই।

_________

আফিফ পটুয়াখালী পৌঁছেছে পরেরদিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ। দুপুর সাড়ে বারোটায় একবার কল করেছিল তিতলি। যদিও আফিফ কলব্যাক করেছিল তবে কথা খুব একটা হয়নি। ওপাশে রাজ্যের পুরুষ লোক আর তাদের হৈচৈ। তালা লেগে গিয়েছে তিতলির কানে।

_“কিছু বলবে? জরুরী কিছু? বাসায় কিছু হয়েছে?”

_“না জরুরি কিছু না,আপনার সালিশি কতদূর?”

_“এই তো একটা শেষ প্রায়। আমাদের জমি থেকে পাচ্ছেনা কিছুই। উল্টে তাদের জমিতে দশ শতাংশ ভাগ পড়েছে আমাদের।”

_“খাওয়াদাওয়া করেছেন?”

_“না। সকালে এসে বাজার করে দিয়েছি যোহরা চাচী আম্মার কাছে। তিনি গোরুর গোস্ত আর পোলাও রাধছেন। গোসল করে খাবো এখন। তুমি খেয়েছো?”

_“এই তো,গোসল করে এলাম। নামাজ পড়ে খাবো!”

আফিফ একটু সময় চুপ থেকে জানতে চাইলো,“ওরা সবাই ঠিকঠাক?”

_“বেঠিকের কি আছে? তাদের মতো তারা, আমার মতো আমি।”

আফিফ ফের চুপ থাকে মিনিটখানেক,

_“ফারিয়ার যত্ন নিয়ো। সব ভালোটা করবে। টাকা আলমারিতে আছে। খরচা করবে। যা খেতে মন চায় আনিয়ে দেবে। কামরুল আছে নিচে,ওকে বললেই বাজার এনে দেবে। মাছ লাগলে আনিয়ো। শ্বশুর বাড়িতে পাঙ্গাস মাছ ছাড়া ভালো কিছু জোটে কারোর কপালে?”

কথাটা তিতলির খুব গায়ে লাগে হঠাৎ, ঠোঁট উল্টে বলে,“আমার ভাইয়া সবসময় পাঙ্গাস মাছ কেনে না। ভাইয়া সাধ্যের মধ্যে সবসময় ভালো মাছ কেনে।”

আফিফ হেসে ফেলে,“বাপরে! মাইন্ড করেছো?”

_“একটু।”

এবার দু'জন হাসে একসাথে। পরপর আফিফ বলে,

_“আচ্ছা রাতে কল করবো! বিকেলে আরেকটা সালিশি আছে। কল করলে ধরতে পারবো না। আর শোনো তোমার একটা ছবি পাঠিয়ে রাখো আমাকে,চাচী আম্মারা দেখবে।”

রাতের বেলা ঠিক দশটা নাগাদ আফিফের কল আসে। তিতলি জেগেই ছিল, পড়ছিল। আজ সারাটা দিন গুমোট কেটেছে। রান্না করে টেবিলে রেখেছে,ননদরা যে যার মতো খেয়ে নিয়েছে। হ্যাঁ ওর জন্য তরকারি রেখেছে,প্লেট ধুয়ে রেখেছে, তুলির মা আসেনি তাই রান্নাঘরে ঢুকে এঁটো বাসনও ধুয়েছে, এটুকু অবশ্য করেছে। ফারিয়ার শরীরটা আজ ভীষণ খারাপ,সে খুব একটা রুম থেকে বেরোয়নি।

বাইরে ঝড় তুফান বয়ে যাচ্ছে তাই পড়ার টেবিল ছেড়ে ঘুরে ঘুরে ঘরের সব জানালা গুলো চেক করে বারান্দার ক্যাকটাস প্ল্যান্টস গুলো টেনে টেনে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছিল তিতলি। ঘরে ঢুকে আঁচলে হাত মুছে ফোনটা রিসিভ করতেই কাঙ্ক্ষিত গলাটা বলল,“কি করছো?”

_“ঘরের কিছু কাজ। আপনি কি করছেন?”

সুস্থ স্বাভাবিক তিতলিকে চমকে দিয়ে আফিফ বলল,

_“তোমাকে মিস করছি!”

একটু সময় নিয়ে সামলায় তিতলি নিজেকে,“পাশে লোক আছে নাকি একা শুয়েছেন চাচার বাড়িতে?”

_“আছে।”

_“এসব কথা তারা শুনতে পেলে?”

_“এরা মিস করা শব্দের অর্থ জানে না।”

বলেই হাসছে আফিফ। লোকটা কথাবার্তা বলছেও ফিসফিসিয়ে। তিতলি হুট করে বলে উঠলো,“আমিও আপনাকে ভীষণ মিস করছি!”

টিনের চালে ঝমাঝম শব্দ হচ্ছে। ঘুমঘুম পেয়ে বসেছিল আফিফকে। তিতলির নরম গলাটা শুনে আর সহ্য হয়নি। ঘুম ভেগেছে লেজ গুটিয়ে। পুরুষালি মনটা বড্ডো অধৈর্য করে ছাড়লো তাকে। এলোমেলো মস্তিষ্ক নিয়ে উঠে চলে এলো বারান্দায়। ঝড়ের দাপটে গা হিম হবার যোগাড়। পরোয়া না করে আফিফ দেয়ালে চওড়া পিঠ ঠেকিয়ে দিয়ে বড্ডো নির্লজ্জ হয়েই প্রশ্ন করে,গলাটা নিচে নামে আরো।

_“আমি এখন তোমার কাছে থাকলে কি করতে?”

তিতলি টের পায় ওর গালের দুপাশ শিরশিরিয়ে উঠেছে,বলল,“কি করলে আপনি খুশি হতেন?”

_“বলবো?”

ভারী গলায় মাদকতা চেপে বসেছে বেশ টের পায় তিতলি। নিবিষ্ট মনোযোগ নিয়ে বালিশের নিচে মাথা ঢুকিয়ে বাচ্চাদের মতো আপত্তি করে বসে ও,“আজেবাজে কথা বললে কিন্তু কল কেটে দেবো!”

আফিফ হাসে,“তবে চুপ থাকি! আমি মুখ খুললে কল কাটবে তুমি!”

এইবার তিতলির গাল দু'টো শিমলা মরিচের মতো হয়,“না বলেন। কিছু বলবো না!”

আফিফ কোনো রাখঢাক রাখলো না,

_“আমাকে আদর করতে বলতাম! চুমু চাইতাম! ধরে রাখতাম কাঁথার নিচে।”

_“তারপর!”

_“শোনা লাগবে বাকিটাও?”

_“হু।”

_“ফাজিল আছো!”

তিতলি চোখ চেপে ধরে প্রকট লজ্জায়। দু'জনের মাঝে নীরবতা বেশ ভারী হয়ে ওঠে আবার। আফিফ হুট করে জানতে চাইলো,“আমি কাল-পরশুর মধ্যে চলে আসবো সব ঝামেলা মিটিয়ে। এরপর, হানিমুনে যাবে তিতলি?”

তিতলি সাথে সাথে বলে উঠলো,“যেতে পারি। তবে গেলে এবার আমার প্রেমে পড়তে হবে! প্রেমিক কায়দার প্রেম। স্বামী কায়দার নয়।”

_“আচ্ছা চেষ্টা করবো। তবে অত ভালো হবে না বোধহয়। তোমার ডিসাপয়েন্ট হবার চান্স আছে।”

_“কোথায় যাবো হানিমুনে?”

_“পাহাড়ে যাবে?”

তিতলি বাচ্চাদের মতো উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলো শুনেই,“দারুণ। কিন্তু আপনার দোকানে এই ক'দিন লস হবে না?”

মশকরা করে তিতলি ঠোঁট চেপে আছে। আফিফ সাথে সাথে ঠান্ডা গলায় জবাব দিলো,“তা তো হবে। কিন্তু এই লসটা অন্যভাবে পুষিয়ে যাবে,যদি তুমি পুষিয়ে দাও।”

তিতলি আর কথা বাড়াতে পারেনা,লাল মুখটা শাড়ির আঁচলে চেপে ধরে আছে। আফিফ বলল,“সুস্থ হয়েছো? তোমাকে ঢাকা নিয়ে ডাক্তার দেখাবো সামনের সপ্তাহে। আমাকে মশা কামড়াচ্ছে তিতলি! ভেতরে যাই? আমি বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম এতক্ষন!”

_“কেন? চাচাদের মাঝখানে শুয়ে ইংরেজি কপচাতেন! তারা তো আর বুঝতো না!”

_“আমি তো অত ভালো ইংরেজি জানি না,আর এসব কথা ইংরেজিতে বলেও আনন্দ নেই! ইংরেজিতে বলে কিস মি,বাংলায় বলে চুমু দাও। বলো কোনটা শুনতে ভালো লাগে?”

তিতলি মুখ চেপে হাসে। পরপর ফিক করে হেসে দিয়ে জবাব দেয়,

_“কিছের চেয়ে চুমুটা শুনতেই ভালোলাগে।”

_“রাখছি। ঘুমাও!”

তিতলির মন সায় দেয়না, বাচ্চাদের মতো আবদার করে বসে,“আচ্ছা ভেতরে গিয়ে শুয়ে পড়েন। তবে ঘুমাবেন না। মেসেজে কথা বলবেন আমার সাথে”

_“তিতলি আমার টাইপিং এতো বাজে। আমার সাথে মেসেজে কথা বলতে গেলে তোমার মুড নষ্ট হয়ে যাবে! জানো,এই টাইপিংয়ের জন্য আমাকে রিজেক্ট করে দিয়েছিল এক মেয়ে। আমি আনস্মার্ট বলে।”

তিতলি একটু থেমে থেকে গম্ভীর হয়ে প্রশ্ন করে,“আপনি মেয়েদের সাথে কথা বলতেন?”

_“আরে বিয়ের সম্বন্ধ চলছিল। মেয়ে আবার জেনজি জেনারেশনের। খুব চালু। পড়ে সরকারি মহিলা কলেজে,ইন্টারে। টাইপিংয়ে একটু বানান ভুল করেছি। অমনি ঘটকের কাছে নালিশ দিয়েছে আমি নাকি আনস্মার্ট। আমি নাকি মাকাল ফল।”

তিতলির মেজাজ গরম হয় আরো,“ক’দিন কথা বলেছেন ওই মেয়ের সাথে? অথচ আপনি ভাব করতেন আপনি বেগানা নারীদের সাথে কথা বলায় উৎসাহী নন!”

_“আরে রাগ করছো কেন? তিন চার মিনিটের কনভারসেশন। সে আমাকে সালাম দিলো,আমি লিখলাম কেমন আছেন? লেখাটা হয়ে গেল কামন আচেন [ kamon acen?] অমনি মেয়ে ফুশ! ভাবলো,এই ক্ষ্যাত লোকের সাথে বিয়ে হলে জীবন বরবাদ,তাই টাটা বাইবাই।”

আফিফ হোহো করে হাসছে। তিতলির নাকের ডগা থেকে রাগ নামেনা,“আপনি বাড়িতে আসেন,আপনাকে আমি কাঁচা খেয়ে ফেলবো!”

হাসি থামিয়ে নীরব হয় আফিফ,খানিক পরে ধীরসুরে বলে,“আর আমাকে অহেতুক কারণে ভুল বুঝে ফোঁস ফোঁস করলে আমিও কাঁচা খেয়ে ফেলবো। বললাম না দুই তিন মিনিটের কনভারসেশন ছিল ওটা? প্রেম নয়!”

তিতলি চুপ হয়ে যায়। আফিফ গলার সুর পাল্টে হুট করে বলে,“চুমু দাও একটা!”

তিতলির নিশ্চুপতা ওভাবেই বজায় থাকে,ওকে নাড়িয়ে দিতেই বোধহয় আফিফ কথাটা বলে ফেলল,“কাল এসে তোমাকে ছোঁবো আমি!”

_“আচ্ছা রাখছি!”

থরথরিয়ে কেঁপে উঠে তিতলি কল কাটতে চাইলে দিলো না আফিফ,“কেটো না কল! আমি যা বলছি শোনো, লজ্জা পাওয়ার ভান ধরতে হবে না। তোমাকে বেহায়াও ভাববো না। আবার বলি,কাল এসে তোমাকে ছোঁবো আমি।”

_“আচ্ছা রাখুন,মশা কামড়াচ্ছে তো আপনাকে!”

_“ওতে কিছু হয়না। তোমার গলাটা মিষ্টি লাগছে। আমারো হঠাৎ করে খুব একা লাগছে। কিছু কথা বলো।”

_“আমি এতো কথা জানি না। মনে মনে অনেক কথা বলতে পারি, তবে ওসব তো আর আপনি শুনবেন না।”

_“কী কী লাগবে বাসায়? আমি ফেরার পথে নিয়ে আসবো।”

_“তা আমি কি জানি?”

_“তো আর কে জানবে? আশ্চর্য! খুঁজে খুঁজে বলো!”

_“এখন? এই রাতে?”

_“হু! পরে তোমার মনে থাকবে না।”

তিতলি রান্নাঘরে ঢুকে সব কটা বৈয়াম হাতিয়ে দেখলো। ফ্রিজ খুলে দেখলো।

_“সবই তো আছে। হ্যাঁ, চা পাতাটা ফুরিয়ে গেছে। ভালো কথা আপনার দু তিনটা শার্টে দেখলাম বোতাম নেই। আমি কাল নিউমার্কেট যাবো ম্যাচিং বোতাম আনতে। লাগিয়ে দেবো পরে।”

আফিফ চুপ করে শুনছে তিতলিকে। তিতলি হুট করে থেমে গিয়ে জানতে চাইলো,“বিয়ে করলেন কেন আমায়?”

হাসে আফিফ নিঃশব্দে,আজ সততা নিয়েই বলে,“ভীষণ লোভে পড়ে!”

_“কিসের লোভ?”

_“বাধ্যতার। আশা করি সেটা খুব ভালো মতো দেখাবে!”

তিতলি গলা নামিয়ে জবাব দেয়,“জি!”

শ্বাস ছাড়ে আফিফ,“আমি এ জীবনে খুব কম শান্তি পেয়েছি তিতলি। আমার কথা শুনবে তুমি। আমাকে শান্তি দেবে!”

তিতলি নিশ্চুপ থাকলে ভারী খসখসে গলাটা ফের হ্যাংলামো করে বসে,

_“আচ্ছা এবার একটা চুমু দিয়ে কল রাখো!”

_“না।”

_“বাড়িতে এলে কিন্তু ডাবল তুলবো।”

আঙুলে আঁচল পেঁচিয়ে যাচ্ছে তিতলি,মিনমিনিয়ে বলল,“আচ্ছা তখন।”

_“আমি কিন্তু বড্ডো নির্মম হবো।”

_“কেমন নির্মম! হিটলারের চেয়ে বেশি?”

আবার খিলখিলিয়ে হাসলো তিতলি। আফিফ বলে,“তা দেখতেই পাবে! পরে আবার নালিশ করো না সবাইকে!”

তিতলি একটু থেমে থেকে বলে,

_“আমার তো নালিশ করার আর কেউ নেই,আমি আপনার কাছেই নালিশ করবো!”

আফিফের ঠোঁট ছড়ানো হাসিটা দেখে না তিতলি এরপর। কেবল সেই চিরায়ত গম্ভীর গলাটাই শুনতে পায়,“রাখছি,ঘুমাও। জানালা আঁটকে নিয়ো ভালো করে। কাল ফিরবো,যত যাই হোক, তৈরি থেকো!”

_________

আজকের দিনটা ছিল রৌদ্রজ্জ্বল। আবহাওয়ার সুবিধা পেয়েই তিতলি বিকেলের দিকে নিউমার্কেট গিয়ে কিছু কেনাকাটা করে ফিরেছে। সাথে এনেছে কিছু টাটকা সবজি। আফিফের সাথে বিকেল নাগাদ যখন কথা হয়েছে তখন জেনেছে সব গুছিয়ে লোকটা সন্ধ্যা নাগাদ রওনা দেবে। সালিশে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি বিরোধী পক্ষ। কেস মামলা অবধি গড়াবে না এসব। তার আগেই মিটবে।

রাত আটটা নাগাদ তিতলি যখন কল করে আফিফ তখন বাবুগঞ্জ সদরের একটা গ্যারেজে,সেদিন বাইকটাকে যেখানে রেখে গিয়েছিল। তিতলির কল রিসিভ করে বলে,“হ্যাঁ আর ঘন্টাখানেক লাগবে আমার। কোনো অসুবিধা?”

_“বসে আছি আপনার জন্য। এলে একসাথে খাবো!”

আফিফ নরম হাসে শুনে,“কি রেঁধেছো?”

_“বড়ো রুই মাছের মাথাটা ভেঙে মুরোঘন্ট করেছি। ইলিশ মাছ তেলে ভেজেছি আর ঢেঁড়স চিংড়ি।”

_“বাহ। সবগুলো আমার পছন্দের। খিদেও পেয়েছে খুব। আসছি,ওয়েট। সবাই খেয়েছে?”

_“হু। শুয়ে পড়েছে তারা।”

_“আচ্ছা আমি আসছি।”

একটু থেমে থেকে তিতলি বলে ফেলল ফিসফিসিয়ে,“শুনুন,একটু সাজবো কি?”

চারপাশে লোক গিজগিজ করছে। গরমে উত্তপ্ত মেজাজে চট করে সাইবেরিয়ার বরফ ছিটকে পড়ে আফিফের,“এই অদ্ভুত প্রশ্ন কেন?”

_“বেহায়া ভাববেন না তো? ভাববেন না তো আমার গরজ বেশি! আমি আপনার জন্য ভিখারির মতো অপেক্ষা করছিলাম,হ্যাংলার মতো অপেক্ষা করছিলাম!”

হাসলো আফিফ,

_“না। ভাববো না। সাজো। রাখছি।”

কল কেটে তিতলি ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। ওর পয়নামা, বিয়ের দিন যেটা আফিফের ওপর রাগ করে ভালো করে দেখেনি আজ সেটা বড্ডো আবেগ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে সবচে সুন্দর শাড়িটা শাড়িটা বের করে সাজে তিতলি। গালের ব্রণের দাগ ঢাকতে পাউডার ঘষে, পরক্ষণেই আবার পাউডার তুলে ফেলে গালটাকে ওভাবেই রাখে। ঠোঁটজোড়া অবশ্য হালকা লিপস্টিকে রাঙায়। রাত বেড়ে তখন দশটার কাছাকাছি, একঘন্টা বলে দুই ঘন্টা লেট করায় তিতলির রাগ বাড়ে লোকটার ওপর। রেগে ফোন হাতে তুলতেই যাচ্ছিল তখন নিচ তলার কামরুল ছুটতে ছুটতে এসে কলিং বেল চাপে। তিতলি দরজা খুলে দেখলো ছেলেটা হাপাচ্ছে চোখ লাল বানিয়ে।

_“কি হয়েছে?”

_“তিতলি ভাবী, আমাকে মোড়ের মাথা থেকে সৌভিক ভাই পাঠিয়েছে তোমাকে ডাকতে! নিচে দু'টো অটো দাঁড়িয়ে আছে, শিগগির চলো।”

_“কেন কি হয়েছে?”

ছেলেটার গা কাঁপছে ভীষণ, কোনোমতে বলল,“সদর হসপিটালে যেতে হবে। আফিফ ভাইয়ের এক্সিডেন্ট হয়েছে। কারা যেন ভাইকে কুপিয়ে গিয়েছে,তেরো কোপ পড়েছে গায়ে।”

বলতে বলতে কামরুল কেঁদে ফেলেছে। তিতলি দরজা ধরে বোকাচোখে ছেলেটার মুখের দিকেই চেয়ে আছে। এসব কেমন ফাজলামো সে বুঝতে পারছে না। লোকটার সাথে দুই ঘণ্টা আগে কি সুন্দর কথা হলো তার। লোকটার পেটে ভীষণ খিদে ছিল। তিতলি বোকা চোখ ঘুরিয়ে আবার টেবিলে ঢাকা দেয়া ভাতের প্লেট দেখে।

__________

বাইরে দাপুটে ঝড় উঠেছে এক সন্ধ্যা ভ্যাপসা গরম ফেলে। হাইওয়ের সাদা পিচে লেগে থাকা টকটকে লাল পিচ্ছিল রক্ত ধুয়ে নামে বৃষ্টির সাথে। যতক্ষণে জায়গাটা ধুয়েমুছে সাফ হয়নি,সদর রোডের কৌতুহলী মানুষগুলোর ভিড় জমে থাকে জায়গাজুড়ে। জায়গাজুড়ে এখনো পুলিশি টহল।

অটোতে বসে তিতলি দেখেছে দৃশ্যটা। ফারিয়া আহাজারি শুরু করতেই ওর দুই বোন দুই পাশ থেকে জাপ্টে ধরে নিজেরাও আহাজারি শুরু করেছে। তিতলি বসে আছে একা,হয়তো তাকে ধরার কেউ নেই তাই সে বুক ফাটাতে পারছিল না। কেবল বোকার মতো মুখ করে কামরুলের পেছন পেছন হসপিটাল চত্বর হয়ে জরুরী বিভাগের লম্বা করিডোরে পৌঁছাল ছুটতে ছুটতে। গায়ে নতুন শাড়িটা তার,শাড়ি পরে এভাবে হাঁটার অভ্যাস নেই বিধায় ক্ষণে ক্ষণে পা জড়িয়ে আসছে।

ওপাশে এক নারী ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে, তিতলি আরো দুই পা এগিয়ে আবিষ্কার করলো ওটা আসমা। মাহবুব, জুলহাস আর সোহেল একপাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের সাথে কথা বলছে। সৌভিকও রয়েছে সেখানে। তিতলি গিয়ে যান্ত্রিক গলায় জানতে চায়,

_“কি হয়েছে? ভাইয়া?”

তিতলিকে খুবই শক্ত দেখা যাচ্ছিল। মাহবুব হাতের ইশারায় ওকে থামিয়ে কনস্টেবলের মুখে মনোযোগ রাখে, কনস্টেবলের হাতে একটা পলিথিনে মোড়ানো প্যাকেট,“এটা ছিনতাইয়ের কেস নয় যতটুকু বুঝলাম। পার্সোনাল মামলা। নাহলে ওয়ালেট, মোবাইল এভাবে ফেলে রেখে যেত না। রাখুন এসব, এগুলো ভিক্টিমের সাথে পেয়েছি। আরেকটা বাজারের ব্যাগ আছে,ওটা থানা থেকে কালেক্ট করবেন কাইন্ডলি।”

মাহবুব পলিথিনটা নিয়ে তিতলির হাতে দিয়ে নরম সুরে ফিসফিসিয়ে বলে,“ঠিক আছে মনা। সুস্থ হয়ে যাবে। তুই বোস।”

তিতলি মাথা নাড়ে দুই পাশে,“উনি কোথায়?”

_“ট্রিটমেন্টের পরে আইসিইউতে দেয়া হয়েছে। ঢাকা নিতে হবে কিনা পরে বলবেন ডাক্তাররা।”

তিতলি আর কোনোদিক তাকায়না,জানতে চায়,“নতুন দালানে?”

_“জি।”

তিতলি ছুটতে ছুটতে উঠলো, মাহবুব ওর পেছনে সমান তালে দৌড়ায়। তার পেছনে বাকিরা। তবে কাঁচের খুব কাছে আর যাওয়া হয়নি তিতলির,ডক্টর এক ধমকে থামিয়ে দিল,“এই ওয়াইফ নাকি! সিস্টার কোথায়! এখানে এমন করা যাবে না তো।”

তিতলি চোখ চেপে দম নেয়,“আচ্ছা যাবো না কাছে। তার অবস্থা বলুন।”

_“সিভিয়ার ইনজ্যুরি। পা একটা ভেঙেছে সম্ভবত। আর সারা বডিতে তেরোটা কোপ। বাড়তি কিছু ইনজুরি রয়েছে,মুখটা ঘষা খেয়েছে পিচে। ব্লাড গেছে অনেক। ভালো কথা,আরো দু'জন রেডি রাখুন ব্লাড ডোনার।”

তিতলি বোকার মতো ভাইয়ার মুখের দিকে তাকায় ঘুরে। মাহবুব বোনের শোচনীয় মুখটা দেখে ওকে কাছে টানে,“আরে মনা দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আল্লাহ আল্লাহ কর। ব্লাড ডোনার রেডি আছে। ভালো হবে মনা।”

তিতলি আত্মভোলা হয়ে ভাইয়ার হাতের পলিতে নজর বুলায় তখন। সাদা পলিতে একটা টকটকে গোলাপ,দেখা যাচ্ছে উপর থেকে। অস্থির হয়ে ওঠে তিতলি ক্রমশ,গোলাপটা বের করে দেখে ওটা রক্ত জ্বলে ভিজে আসলেই টাটকা হয়ে আছে,সেদিনের মতো চিমসে নয়। আফিফ সেদিন বলেছিল এরপর কখনো তাজা গোলাপ কিনে দেবে তিতলিকে,এই গোলাপ সেটাই কিনা ভাবতে গিয়ে তিতলি টের পেলো না ওর চোখের পানিতে তখন গাল ভিজে যাচ্ছিল। ওপাশে আফিফের চার বোন বেহুশের মতো ফ্লোর ঘেঁষে বসে আছে। পাত্তা না দিয়ে তিতলি পলিথিনটা হাতিয়ে দেখে আবার,ওয়ালেটের ভাঁজ খুলে আছে,আর ওখানে আফিফের মা নুরজাহানের পাশে তিতলির পাসপোর্ট সাইজের ছবিটা। যেটা সে গতকাল রাতে পাঠিয়েছিল আফিফকে। খুব সুন্দর লাগছিল ছবি দুটি পাশাপাশি। ওয়ালেটটা যদিও রক্তে ভিজে জবজবে।

তিতলি আর সহ্য করতে পারেনি। গোলাপটা তুলে বুকে চেপে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো দোতলার স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল কাঁপিয়ে। উঠে একদম ছুটে গিয়ে আইসিইউর তিন নাম্বার কেবিনের আবছায়া কাঁচে মাথা ঠুকে গলা ফাটিয়ে চেঁচায়,“আফিফ আমি তো মরে যাবো! আফিফ আমি তো মরে যাবো! আমার তো আপনি ছাড়া আর কোনো জীবন নেই আফিফ। আমাকে মারবেন না…….হায় আল্লাহ…..আমি তো কোনো পাপ করি নি বলো। মাত্র ক'দিন পেলাম লোকটাকে। অথচ আমি সারাজীবনের জন্য চেয়েছিলাম তো! আমি তো আগে মরতে চেয়েছিলাম। দুপুরেও না তোমাকে কতকরে বললাম আমার স্বামীর হায়াত দাও, আমার চেয়ে বেশি দাও। এই কথা আর কেউ না জানলেও তুমি তো জানো আল্লাহ! তোমাকেই তো বলতাম সবসময়। কেবল এইটুকু সুখ দিয়ো না আমাকে, লোকটাকে আমাকে দাও। এই মানুষটা ছাড়া আমার আর কিছু চাইনা। আল্লাহ দয়া করো! আফিফ শুনুন, আমাকে এভাবে মারবেন না। আমি আপনার সাথে সংসার করবো তো। অনেক অনেক দিন। স্বার্থপরতা করবেন না আমার সাথে, এভাবে লোভ দেখিয়ে, আফিফ!”

আসতে যেতে আগন্তুকরা হুট করে দাঁড়িয়ে পড়ে তিতলির পাগলামি দেখছে। মাহবুব বল খাটিয়ে বোনকে টেনে একপাশে আনলো,“মনা শান্ত হ। কিচ্ছু হবে না তো।”

তিতলি লুটিয়ে পড়ে ভাইয়ার গায়ে,

_“ভাইয়া তুমি জানো না আমি তাকে কতটা চেয়েছি হ্যাংলার মতো। বলিনি তো কখনো তোমায়। ভাইয়া আমি মরে যাবো তো! আল্লাহ আমার সাথে এটা কেন করলো। আমি দুপুরেও তাকে কত করে বললাম লোকটা যেন ভালো থাকে!”

পা নাচাচ্ছে তিতলি। মাহবুব বোনকে ধরে রাখতে পারছে না। দৃষ্টি ঘুরিয়ে ফারিয়াকে দেখে আবার,ঢুলছিল ফারিয়া। বোনকে ছেড়ে একবার ফারিয়াকে গিয়ে ধরলো মাহবুব।

তিতলি ততক্ষণে হামাগুড়ি দিয়ে কেবিনের দরজা ধরে কপাল ঠুকলো,“আফিফ আপনি আমার ডায়েরী পড়েছেন কখনো! পড়েননি বোধহয়। আমি গতকাল রাতেও লিখেছি আমি আপনার খুব ভালো একটা বৌ হবো। আপনি একটু দেখবেন আমাকে। পায়ে পড়ি আপনার। শুনুন,আমি আপনার আগে মরতে চাই, আপনার ঐ সহজ মুখটা দেখতে দেখতে। আর এর মাঝে আমাদের অনেকগুলো বাচ্চা হবে ভেবে রেখেছিলাম আফিফ। আর সবাই আপনার মতো হবে,অনেক চমৎকার। এবং আমি নিজের মতো করে সবাইকে ভালোবাসবো। আফিফ,আফিফ! আর আমি তখন ঢং করেছি, আমি কিন্তু ভিখারির মতোই আপনার অপেক্ষায় ছিলাম।”

#চলমান….

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন