#ও_যে_মানে_না_মানা
#পর্ব_১২
#ইসরাত_আরা_ইতি
সন্ধ্যার পরে চলে এসেছে সবাই। মেহমানরা এসে ব্যাগ গোছাতে শুরু করেছে,সকাল হলেই তারা রওনা দেবে। বছরের এই সময়ে ছুটিছাটা বেশি পাওয়া যায়নি! তিতলির পেটের ব্যথাটা তখন স্তিমিত। সারা বিকেল ফুরিয়ে এখন ঘরটা ভরে গেছে বলে ওর ভালো লাগছে। ওর ননদ গুলো বেজার মুখো হলেও বাচ্চাগুলো খুবই আদুরে। এখন মিউজিক ছেড়ে নাচ তুলেছে।
আর লোকটা সন্ধ্যা থেকে রুমেই। বাজার থেকে ফিরে নিচে গিয়েছিল ভাড়াটিয়ার ফ্ল্যাটে সালিশ করতে। এখন দোকানের হিসাব তুলছে কাউসারকে কল করে।
_“বুটের ডাল কত কেজি বিক্রি হয়েছে? শুকনামরিচ দুইশোর নিচে বিক্রি করবি না। হরলিক্স সাড়ে চারশোতে দিবি, ওগুলো আগের স্টকের। নতুন গুলোর দাম বেড়েছে দশটাকা।”
তিতলি কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না তাই আলতা পড়ছে পায়ে। আলতা আগে দেয়াই ছিল,ও শুধু গাঢ় করে দিচ্ছিল আবার। ফোনে কথা বলতে বলতেই আফিফ দেখে তা। কল কেটে কাছে এসে বসে,আলাপী ভঙ্গিতে বলে,“আজ কালকের চেয়ে বেশি গরম!”
_“জি!”
একটু চুপ থেকে তিতলি কথাটা পাড়ে,“আমার শনিবার থেকে ক্লাস আছে। যাবো কিনা?”
আফিফ অবাক হয়ে বলে,
_“এটা আবার প্রশ্ন করা কেন?”
_“না মানে,অনেক হাসবেন্ডের আপত্তি থাকে তো সংসার ফেলে রোজ ক্লাস করায়। কেয়ার বর ওকে সেদিন বলল, ‘মাস্টার্সে উঠে আবার কিসের ক্লাস?” যতসব সংসার ফাঁকি দেওয়ার ধান্দা!’
আফিফ তিতলির গোল মুখটায় মিনিটখানেক চেয়ে থেকে বলে,“আমি কেয়ার বর নই। আমি তো আফিফ। একজন রানিং স্টুডেন্টকে বিয়ে করেছি, তার সপ্তাহে তিনদিন ক্লাস থাকে এটা জেনেই করেছি।”
তিতলি নির্লিপ্ত থেকেই পায়ে আলতা ঘষতে থাকে। এ উত্তর শুনে অবাক হয়নি। মনে মনে আলফা ম্যান আফিফ ভাইকে জাপ্টে ধরে দু'টো চুমুও খেয়েছে।
আফিফ দৃষ্টি নামিয়ে তিতলির পায়ে রাখে,“সাজতে ভালো লাগে নাকি!”
_“ওভাবে না। তবে একটা ছোটখাটো ফ্যান্টাসি ছিল বিয়ের পরে সেজেগুজে থাকবো সবসময়!”
_“বাপরে! নতুন জানলাম। আর কোনো ফ্যান্টাসি আছে?”
তিতলি মনে মনে বলল,“আছে। আরেকটা ফ্যান্টাসি হলো আপনার পেটের ভুড়ি ধরে দেখবো। ঢোল বানিয়ে দুষ্টুমি করবো মাঝেমাঝে।”
মুখে বলল,“না নেই।”
আফিফ একটু থেমে থেকে গলা নামিয়ে বলে,“ক্লাস করতে যেয়ো,তবে ভদ্র মতো যেয়ো।”
_“আমি বুঝি অভদ্রের মতো যেতাম আগে?”
তিতলির হঠাৎ করা প্রশ্নে আফিফ হাসে,ঘাড় নেড়ে বলে,“না,অন্য প্রসঙ্গে বললাম। ঐ তোমাদের ক্লাসে নিশ্চয়ই অনেক ছেলে আছে,যাদের সাথে তোমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাও…!”
তিতলির বুঝতে মোটেই কষ্ট হয়না আর। জবাব দেয়,“জি। আমার পরিচিত আছে অনেক। তবে অমন ছেলে বন্ধু নেই। মুখচেনা,দেখা হলে সালাম দেয়া,এই এতটুকুই। ঝালমুড়ি খাওয়া হয়না রাস্তায় দাঁড়িয়ে।”
আফিফের মুখে দাপুটে অস্বস্তি এসে ভিড়েছে। অহেতুক ডলছে কপালটা,জানতে চায়,“আমি কি অতিরিক্ত আদেশ জারি করে ফেলেছি?”
তিতলি চোখ নামিয়ে মাথা দোলায়।
_“না ঠিকঠাক। অতিরিক্ত কেন হবে?”
_“আবার ভাবছো নাকি,এ লোক দেখছি ন্যারো মাইন্ডের। অল্পশিক্ষিত তাই এমন করে ভাবে। এই অল্পশিক্ষিত লোকের সাথে মাইন্ড সেটাপ মিলবে না। ঐ তোমার ভাইয়ের মতো!”
তিতলি খানিকটা চমকায়। মাহবুব আফিফকে অল্পশিক্ষিত বলেছিল এই খবরটা এই লোক বোন মারফত শুনেছে এটুকু বোঝায় কষ্ট হয়নি। তিতলির বেশ লজ্জা লাগছে এখন। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের ফোঁটা জমেছে।
আফিফ ওর জবাবের অপেক্ষায় না থেকে টিভি অন করে নিউজ দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। লোকাল চ্যানেলে দেখাচ্ছে এখনো,শিহাব মজুমদার এখনো পলাতক। এরপর দেখে খেলার খবর। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে দু'টো ভদ্র গালিও দিলো। খুব মনোযোগ টিভিতে।
বাইরে থেকে তখন ডাক পড়ে তিতলির। মামী শাশুড়ি ডাকছেন,“বৌমা এসো। আফিফ আইসক্রিম এনে রেখেছিল বিকেলে,ওসব সবাইকে পাত বেড়ে দাও।”
তিতলি মুখ সাদা বানিয়ে আফিফের মুখের দিকে একবার তাকাল। হুঁশ হারিয়ে টিভিতে তাকিয়ে আছে। ওপাশে গিয়ে এখন নতুন কিছু আবিষ্কার করার আছে বলে তিতলির মনে হয়না। সেই বেজার মুখ কিছু। হয়তো আইসক্রিমের বাটি হাতে তুলে দিতে গেলে কেউ কেউ মুখ ঝামটাও দেবে। আইসক্রিম খাবে না। তবুও মৃদু শ্বাস ফেলে তিতলি ওঠে। আফিফকে কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে ছোট মামী শাশুড়ির সামনে গিয়ে হেসে বলে,“দিচ্ছি।”
তবে এটা ঠিক, সবাই মুখ বেজার করে হলেও তিতলির হাত থেকে আইসক্রিম নিয়েছে। চুপচাপ,কোনোরূপ অযুহাত আর মুখ ঝামটা ব্যতীত কারণ তিতলির পেছনে আফিফ এসে দাঁড়িয়েছিল। নিবিষ্ট চোখে বোনদের মুখের দিকে তাকিয়েছিল বুকে হাত বেঁধে। ভাইকে দেখে ওরা কেউ কথা বাড়ায়নি, চুপচাপ আইসক্রিম নিয়ে খাচ্ছে। তিতলি শুরুতে অবাক হয়, ঘুরে স্বামীর সটান অবতার আবিষ্কার করে থমকায়। আফিফের দৃষ্টি একটানা নিবদ্ধ নিজের বোনদের মুখেই। বোনদের প্রতি ভাইয়ের নিঃশব্দ শাসানি তিতলির নজর এড়ায়না। একটা সুপ্ত শ্বাস চেপে রাখে গলায়। এভাবে রোজ পাহারা দিয়ে সাংসারিক বনিবনা করানো যায়না তাতে সে যত বড়ো সিগমা পুরুষ হোকনা কেন! এই লোক তা হাড়ে হাড়ে টের পাবে! বেচারা,কত শান্তিতে ছিলো। অহেতুক তিতলি নামের একটা আপদ ঘাড়ে তুলে নিলো।
তিতলি চোখ নামিয়ে এপাশে এসে দাঁড়াতেই আফিফ বলল,“তুমি নাও আইসক্রিম?”
_“আর আপনি?”
_“তো দাও!”
তিতলি তৎপর হয়ে আইসক্রিম বাটিতে তুলে এগিয়ে দিয়ে জানতে চাইলো,“রাতে আর কি রাঁধবো!”
_“লোক রয়েছে তো বাড়িতে! দরকার নেই। তুমি তোমার কাজ করো।”
তিতলি কাজ খুঁজে না পেয়ে বাচ্চাদের এঁটো করে রাখা বাটি গুলো নিয়ে সিঙ্কে রাখতে যাবে অমনি শুনলো রুমকি চুলার পাশে দাঁড়িয়ে আসমাকে বলছে,“এক রাতেই কি জাদু করেছে দেখো! বৌ যেখানে যাচ্ছেন তিনি গিয়ে পাহারা দিচ্ছেন! আমরা যদি তার বৌকে মারি?”
তিতলি দাড়াতেই কথা থামিয়ে অপ্রস্তুত হয় দু'জন। পরিস্থিতির বিষ কাটিয়ে তিতলি সিঙ্কে বাটিগুলো ধুয়ে নিতে নিতে বলল,“আমি একরাতে তোমার ভাইয়াকে কি জাদু করেছি জানতে চাও? তবে তোমার ভাইয়ার কাছে গিয়ে প্রশ্নটা করো! তিনি গুছিয়ে জবাব দিতে পারবেন!”
রুমকি আইঢাঁই করছে,ওর ভয় তিতলি এখন এই কথা ভাইয়ের কানে তুলবে। তিতলি ওসব কিছুই করলো না। তার মুডটা এখন বেশ ফুরফুরে, এখন কারো সাথে লাগতে মন চাচ্ছে না। কিন্তু এই অবুঝ মেয়েটাকে আরেকটু জ্বালিয়ে দিতে ঢং করে ডাকলো আফিফকে,“শুনছেন!”
আফিফ ঘর থেকে সাড়া দিতেই ফের প্রশ্ন করে,“চা খাবেন? এক কাপ করে দেবো?”
একটু সময় পরে জবাব এলো,“লিকার হালকা রেখো।”
চুলার পাশে ভোঁতা মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকা আসমার গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়ায় তিতলি,“আপা সরেন তো। আপনার ভাইয়ার জন্য চা বানাই একটু। দেখি সাইড দেন।”
আসমা লাফিয়ে সরলো ওপাশে। দুইবোন গটগট করে রান্নাঘর ছাড়ার পরে তিতলি বেশ কিছুক্ষণ হেসে নিল একা একা। ছোট মামী শাশুড়ি এসে বলে,“নতুন বৌ দেখি একা একা হাসে।”
তিতলি হাসি থামিয়ে গাল লাল করে তাকাতেই ভদ্রমহিলা ওর গাল চেপে বলেন,“সবাই এমন অমন করলে কি হবে? তোমাকে আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। আফিফের পাশে একদম,রাজযোটক। ছেলেটা খুব পরিশ্রম করে এই পর্যন্ত এসেছে গো। তাকে দাম দিয়ো। মানিয়ে গুছিয়ে চইলো। দোয়া করি সন্তানে ভরতি হয়ে থাকুক এই বাড়ি।”
রাতে মুখে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম লাগিয়ে তিতলি বিছানায় শুয়ে পড়তেই দেখল আফিফ একপাশে বসে দোকানের কি একটা হিসেব দেখছে। তিতলি চুপচাপ রয়েছে,ফোনও টিপছে না। আফিফ ওর দিকে তাকিয়ে বলল,“বিরক্ত হচ্ছো? লাইট অফ করে দেবো?”
_“না আপনি আপনার কাজ করুন!”
আফিফ সহজ হেসে এক হাত বাড়িয়ে দিল। তিতলি তার ইশারা বুঝতে পারেনি। প্রশ্নাত্মক চোখের চাহনি। পরপর ব্যাপারটা বোধগম্য হতেই বেশ জড়তা নিয়ে চওড়া বুকের মাঝে ঠাই নিতে নিতে বলল,“আমার না আসলে ভয় ভয় করে অল্প অল্প। মনে হয় আপনি ধমক দিবেন।”
আফিফ ওকে একহাতে আগলে ধরে চোখ বুলায় ডান হাতের কাগজে। ঠান্ডা খসখসে গলায় গলায় প্রশ্ন করে,“আর তারপর কাছে এলে কি মনে হলো?”
_“স্বপ্ন। যেটা আমি ধরে ঘুমাতে পারবো।”
আফিফ তাকায় না আর তিতলির মুখে। গভীর মনযোগে পাতা উল্টেপাল্টে দেখে। কখনো কপালে প্রগাঢ় ভাঁজ পড়ে,কখনো সেই ভাজ সরে শিথিল হয়। ওসব দেখতে দেখতে তিতলি ওর জীবনের সবচেয়ে শান্তিময় দ্বিতীয় রাত কাটায়।
_______
মাথার ওপর সূর্যটা দাঁড়িয়ে আছে আগুনের গোলা হয়ে। চারদিক জুড়ে তার দাহন ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাতাস থমকে গেছে। কোনো স্নিগ্ধতা নেই, কেবল গরমের ভারী নিঃশ্বাস। রাস্তার পিচ নরম হয়ে উঠেছে, হাঁটলেই টের পাওয়া যায়। রাতের দিকে শীত পড়ে অথচ দিনে গরমের তাণ্ডব। বিগত এক সপ্তাহ ধরে তো অতিরিক্ত হচ্ছে।
মাছ বাজারের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে তিতলি। সামনে দিয়ে দুই দফায় মিছিল গিয়েছে। একদফা বিএনপির,একদফা জামায়াতের। এখন সদর রোড ঠান্ডা। কেবল মরুভূমির মতো বালি উড়ছে বাতাসে। আজ গিয়েছিল ক্লাস করতে। দু'টো ক্লাস ছিল,একটা ক্লাস হয়নি তাই আগেভাগেই ফিরতে পেরেছে। সোজা চলে এসেছে আফিফের দোকানে। সেখান থেকে এই মাছ বাজার। ঘরের বাজার ফুরিয়েছে,স্বামী বাজার করবেন তাই।
আফিফ ভেতরে ঢুকে বেশী সময় নেয়নি। চটের ব্যাগে একটা সাড়ে পাঁচ কেজির ভেটকি মাছ কিনে মুখে হাসি ফুটিয়ে এগিয়ে আসছে।
তিতলি আবার হাতের হেলমেটটা মাথায় পরে নিতে নিতে বলল,“বাবাহ! হাসি দেখে মনে হচ্ছে বিশ্বজয় করে এসেছেন!”
_“ডাকে কিনেছি মাছটাকে। কমপক্ষে পাঁচশ টাকা জিতে এলাম। ও তুমি বুঝবে না। এটা অন্যরকম আনন্দ। মাছের সাইজ দেখলে চমকে যেতে। কিন্তু কাটিয়ে আনলাম,তোমরা এই মাছ কাটতে পারবে না।”
_“আচ্ছা বুঝলাম।”
আফিফ আশেপাশে নজর বুলায় ধীরে,“আরেকটু দাঁড়াতে পারবে?”
_“কেন?”
_“সবজি কিনবো। আমি নিচে যাবো কিনতে। ওখানে একটু কমদামে পাওয়া যায় সব! তাজা তাজা।”
তিতলি মজা করে বলল,“সব হিসাব করে কেনেন এভাবে?”
_“তোমার এখানে দাঁড়াতে কষ্ট না হলে হিসাব করবো না। এখান থেকেই কিনে নেবো সব।”
_“না হবে না কষ্ট। আপনি যান। বেশি করে সবজি নিয়েন। গরমে দুপুরে পাঁচমেশালি ঝোল করবো চিংড়ি মাছ দিয়ে। মাছের ব্যাগটা আমাকে দিন।”
আফিফ ব্যাগটা দেয়না। হাঁটতে শুরু করে। সিঁড়ি বেয়ে সবজি বাজারে নেমে যায়। ফিরে আসে তাড়াহুড়ো করে,হাতে আরেকটা ভারী ব্যাগ চাপিয়ে। এরপর পাশের দোকান থেকে কিছু মশলা কিনে বেরিয়ে দেখতে পেল রোদের মাঝে এক মেয়ে কিছু শুকনো গোলাপ বিক্রি করছে। গোলাপগুলো হয়তো সতেজই ছিল কিন্তু রোদের দাবদাহে এখন এই মরা হাল। তিতলি মেয়েটার থেকে একটা গোলাপ কিনে নিয়েছে। আফিফকে দেখেই লাজুক হেসে ওটা ভ্যানিটি ব্যাগে ঢুকিয়ে বলল,“গোলাপগুলো নষ্ট হয়েছে। কিন্তু এই রোদে কত ঘুরবে মেয়েটা,তাই ওর একটা গোলাপ বিক্রি করতে সাহায্য করলাম।”
ফুলওয়ালি মেয়েটা চলেই যাচ্ছিল তখন আফিফ ফেরালো তাকে,“ওগুলো সব দিয়ে যাও। কত টাকার গোলাপ এখানে?”
_“এইহানে তিনশ' টাকার গোলাপ।”
আফিফ তিনশ' টাকা বের করে দিতেই মেয়েটি গোলাপগুলো এগিয়ে ধরে সামনে। কথাটা ধীরে বলে আফিফ,“ঐ আপুকে দাও এগুলো।”
তিতলি শুকনো মরা গোলাপগুলোর দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। বাইকে ওঠার আগে আফিফ একটা বিশাল সাইজের বারোমাসি তরমুজ কিনে নেয়। অর্ধেক রাস্তা চুপচাপ কাটিয়ে আফিফ তিতলিকে বলল,“পরে কখনো কিনে দেবো তাজা গোলাপ। শুকনো গোলাপ গুলো দেখে মনে মনে মাইন্ড করার কিছু হয়নি। আমিও ঐ মেয়ের গোলাপ বিক্রিতে সাহায্য করছিলাম শুধু।”
তিতলি হাসে,তবে হাসিতে শব্দ হয়না। আফিফ বলতে থাকে,“আচ্ছা মনে করো আবার কিছু নিতে ভুলে গেছি? মাছ,সবজি,মশলা, স্ন্যাকস আইটেম, তরমুজ।”
_“ঠিকই তো আছে। কিছু ভোলেননি তো!”
_“তোমার কিছু আছে? যা নেয়া হয়নি?”
তিতলি ভেবে বলল,“না এমন কিছু নেই আপাতত।”
স্পিডব্রেকারে লেগে বাইক ধাক্কা খেলে তিতলি নড়ে খানিকটা। আফিফ বলল,“ধরে বসো,পড়ে যাবে। আচ্ছা ভালো কথা, টয়লেট পেপার সহ কিছু গ্রোসারিজ নেয়া হলো না তো! এগুলো মনে করিয়ে দেবে না?”
_“এসবও আমি মনে রাখবো?”
_“তো আর কে?”
তিতলির প্রশ্নের বিপরীতে কাঠকাঠ জবাব আফিফের। দমে গিয়ে তিতলি জমে থাকে,পরপর অদ্ভুত রকমের হাসিতে ঠোঁট প্রসারিত হয়। অস্ফুটে বলে,“জি। আমারই তো মনে রাখার কথা। দুঃখিত।”
ঘরে ঢুকতেই ফারজুর বাচ্চা দু'টো চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছে,“মাম্মা দেখো মামীর হাতে কত গোলাপ, মামীর হাতে কত গোলাপ!”
ফারজু বিরক্ত গলায় বলে,“চেচিয়ো না তো। চুপচাপ খাবারটা খাও।”
তিতলি বাচ্চা দু’টোর হাতে দু'টো গোলাপ ধরিয়ে দিয়ে রুমে এসেছে। আফিফ বাজারটা রান্নাঘরে তুলির মাকে বুঝিয়ে দিয়ে ওর পেছনে। তিতলি ওয়াশ রুম থেকে মুখ হাত ধুয়ে বেরিয়ে দেখলো ঘরের দরজা বন্ধ। জানতে চাইলো,
_“দরজা আটকালেন কেন!”
আফিফ শুয়ে ছিল হাত পা ছড়িয়ে,সহজ জবাব দেয়,“হুট করে বাচ্চারা ঢুকে পড়বে। ওরা কিছু বোঝে না তো!”
তিতলি বিছানার একপাশে বসে চুলটা আঁচড়ে নেয়।
_“তো আসবে! তাতে কি হয়েছে! সমস্যা তো নেই!”
_“সত্যিই নেই?”
আফিফের প্রশ্নের জবাব গুছানোর আগেই তিতলি টের পায় ওরা খুব কাছাকাছি। আফিফের ডান হাতটা ওর বাম গালের এপাশে, বিছানায় ঠেকিয়ে তিতলির চোখে চোখ রেখেছে। দৃষ্টি খুবই সহজ। তিতলির কপালে লেপ্টে থাকা অগোছালো চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে দৃষ্টি ঘুরিয়ে বালিশের কাছে পড়ে থাকা গোলাপ ফুল গুলো দেখে। হাত বাড়িয়ে গোলাপ কটা তুলে তিতলির হাতে গুঁজে দিয়ে বলে,“এগুলো আমি কেবল ঐ মেয়েটির বিক্রিতে সাহায্য করতে গিয়ে কিনিনি।”
তিতলি চোখ নামায় ধীরে। পরপর ওভাবেই হাত বাড়িয়ে মাথার কাছে রাখা ভ্যানিটি ব্যাগটা থেকে ওর কেনা সেই গোলাপটা বের করে আফিফের হাতে গুঁজে দিয়ে বলে,“আর আমিও এটা নিজের জন্য কিনিনি।”
আফিফ কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বলে,“তুই…স্যরি তুমি কি আমার সাথে প্রেম করতে চাচ্ছো?”
_“আপনার কি মনে হয়?”
_“ভাবে তো এটাই মনে হয়!”
তিতলি নরম হাসতেই আফিফ বলে,“আমি কিন্তু এসব ঢংফং বুঝি না। করতেও পারিনা। তোমার এক্সপেক্টেশন লিমিটের মধ্যে রেখো। পরে কষ্ট পাবে, গার্লস গ্রুপ গুলোতে গিয়ে পোস্ট দেবে ঘনঘন ‘আপুরা আমার স্বামী পাথর দিলের’। সব স্বামী প্রেমিক হতে পারেনা।”
তিতলি হাসি চেপে রেখে বলে,
_“প্রেমিক না হতে পারলে ওরা কি হয়?”
_“তারা হয়তো খুবই ব্যস্ত বাবু হয়। বৌ যদি বলে আজ একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি চলেন,তখন তারা বলে,’না না আজ দোকানে কাস্টমারের চাপ আছে। যাওয়া যাবে না। অনেক টাকার লোকসান হবে!”
তিতলি খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। আফিফ ওকে আরেকটু কাছে টানতেই বলল,“আর বৌকে ঘুরতে না নিয়ে গিয়ে দোকানে বসে ঐ প্রেমিক হতে না পারা স্বামীরা যে টাকা গুলো কামাই করে ঐ টাকা দিয়ে কি করে?”
আফিফ সাথে সাথে জবাব দেয়,
_“হয়তো কারণে অকারণে এমন কিছু শুকনো গোলাপ কিনে ঐ টাকা উড়ায়।”
তিতলির ঠোঁট ছড়িয়ে যায় হাসিতে। ও টের পেল এই হাসি টুকু নিয়ে দিব্যি এখন বাইরে গিয়ে কয়েকটা বেজার মুখ সহ্য করা যাবে। শক্ত বুকের ওপর থেকে মাথা তুলে শাড়ির আঁচল সামলে উঠলো তিতলি। কিন্তু হঠাৎ করে আবার টের পেলো আফিফ ওর হাতটা টেনে ধরেছে। তিতলি প্রশ্নাত্মক চাহনি ছুঁড়তেই আফিফ স্পষ্ট উচ্চারণে জানতে চাইলো,“আমি তোমাকে কবে ছোঁবো?”
তিতলি চমকে গিয়ে সামলে ওঠে দ্রুত। বুকের হাঁসফাঁসানি দমিয়ে রেখে উঠে দাঁড়িয়ে নিভু গলায় বলে,“মুখে একটু শরম রাখেন!”
নীরব হাসে আফিফ। জবাব দিলো,
_“প্রেমিক হলে রাখতাম। তবে সব স্বামী আবার প্রেমিক হতে পারে না।”
তিতলি সুতীব্র কাঁপুনি দমিয়ে রেখে দাঁড়িয়ে থাকে মাথা নিচু করে। আফিফ হাত দিয়ে চোখ চেপে বলে,“একটু বেশি স্বামী স্বামী হয়ে গেলাম নাকি?”
তিতলি দু'পাশে মাথা নাড়ে। লজ্জা চেপে ঘর থেকে বেরুতে বেরুতে বলে,“ঠিক ঠাকই আছেন।”
________
দুপুরের খাবারটা খেতে বসেই ফারিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বেসিনে গিয়ে বমি করে এক শেষ। তখন ওখানে ছিল কেবল আফিফ আর তিতলি। আসমারা চলে গিয়েছে দু'দিন আগে। সোহেল চলে গেলেও ফারজু বাচ্চাদের নিয়ে থেকে গিয়েছে। সে,রুমকি আর বাচ্চারা গায়ে প্রাকৃতিক বাতাস লাগাতে সৈয়দ ভিলার পেয়ারা বাগানে নেমেছে। হেল্পিং হ্যান্ড চলে গিয়েছে। তিতলি ছিল রান্নাঘরে। বাটিতে মাংস তুলছিল। আফিফ এঁটো হাতে উঠে এসে বোনের কপাল চেপে ধরলো। এরপর এদিক ওদিক তাকিয়ে তিতলির চোখে চোখ পড়তেই তিতলি ইশারায় বুঝিয়ে দিল সে আসছে। ঠিক দৌড়ে এসেই তিতলি ভাবীকে আগলে ধরেছে। আফিফ কিচেনের সিংকের কাছটাতে যায় হাত ধুতে।
_“মাইগ্রেন বেড়েছে তোমার ভাবী? এখানে ওষুধ আনোনি?”
ফারিয়া জবাব না দিয়ে আরেকদফা বমি করে। আচমকা তিতলির মুখচোখের শান্ত ভঙ্গিমা পাল্টে অস্থির হয় গোটা মুখ,“তোমার এ মাসের পিরিয়ড কবে হয়েছে ভাবী?”
_“কেন জানতে চাইছো?”
_“না মানে কোনো সুখবর!”
_“হবে না! বন্ধ্যা আমি। এই গোরুতে বাচ্চা বিয়োবে না আর!”
_“এসব কেমন কথা ভাবী?”
_“কেন? তোমার মা-ই তো বলেছিল আমাকে,আমি নাকি বাজা গাই গোরু! তার ছেলে পিতৃত্বের সুখ পাবেনা।”
_“মা বলেছিল,মা মরে গেছে। ব্যস শেষ হয়েছে ওসব কথা! রয়ে গেছে কেবল ভাইয়া। যে তোমাকে কখনো মূল্যায়ন করেনি, কিন্তু তোমাকে ফেলে একটা বাচ্চার জন্য অন্য কোথাও তো যায়নি তাইনা? সবটাই কি মন্দ? ভালো কি নেই কিছু?”
_“জানিনা। আমি কেবল জানি কিছু শেষ হয়নি! ছাড়ো আমাকে তিতলি!”
ফারিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলে তিতলি জোরালো একটা ধমক দিয়ে বসে,
_“আমাকে ভাবী ডাকো! আমি তোমার ভাবী হই!”
ফারিয়ার ঠোঁটে তাচ্ছিল্য। তিতলি কপালের ভাঁজ গাঢ় করে বলল,“এভাবে হেসো না। তোমার ভাইয়াকে কালোজাদু করি বা যা-ই করি না কেন। আমি ভাবী হই তোমাদের। এই সত্য ভুলে যেয়ো না। অবশ্য মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আমি আছি।”
দুর্বল ফারিয়াকে টেনে টেনে তিতলি ঘরের বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দেয়। ফারিয়া ক্ষ্যাপাটে হয়েই বলে,“তুমি একটা বেয়াদব! একটা আস্ত উচ্চশিক্ষিত বেয়াদব আর চালবাজ মেয়ে তুমি! শেষ! আমার ভাইয়ার জীবনটা শেষ!”
তিতলি হন্তদন্ত হয়ে নিজের ঘরে ঢুকে বিছানায় বসে মুখটা বেলুনের মতো ফুলিয়ে রেখেছে। আফিফ হাত ধুয়ে ওকে খুঁজতে খুঁজতে ঘরে এসে বলল,“কী হয়েছে?”
প্রশ্নটি করে আর জিরোতে পারেনি আফিফ। তিতলি গলা কাঁপিয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে ক্ষেপে উঠলো সহসা,“এই আমি বলে দিচ্ছি আবার,তাদের সাথে মিলে খাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। এরা আমার সহ্য সীমার বাইরে!”
আফিফ কিছুক্ষণ তাজ্জব হয়ে চেয়ে থেকে হেসে ফেললো,“কিছু বলেছে তোমাকে? কী বলেছে?”
তিতলি মুখ ঘুরায় না,ওভাবেই গাল ফুলিয়ে বলে,“কিছু বলেনি। আপনি যান। ভাত খান! মুরগীর রান রাখা আছে আপনার জন্য,ওটা খাবেন।”
_“আচ্ছা যাচ্ছি। তুমি একটু চা বসাও। মশলা চা টা খেলে ফারিয়ার মাথা ব্যথাটা যায় তো। ওটা বানিয়ে দাও।”
তিতলির মুঠি শক্ত হয় রাগে, গলা নামিয়ে জেদ ধরে,“আপনি যান,আপনি গিয়ে আপনার বোনকে চা বানিয়ে খাওয়ান। আমি পারবো না। আমাকে গালি দেয়। এখন আমি উচ্চশিক্ষিত হচ্ছি এটাও আমার দোষ? আপনার নানীও সেদিন গালি দিয়ে গেল!
আপনি জোর করে আমাকে বিয়ে করেছেন, এখন দুদিক সামলান! আমি এত তেল খোয়াতে পারবো না আমার। ঘইষ্যা মাইজ্যা রূপ আর হাইদ্যা মাইজ্যা পিরিত কখনো হয়না। এ বাড়িতে আমার কাজ আপনার সেবা করা। আপনার কোনো কষ্ট হচ্ছে কিনা সেটা দেখা। আর কিছু করতে পারবো না।”
আফিফ শব্দহীন হয়ে আরো কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে তিতলির কাঁদো কাঁদো মুখটায়। এরপর মৃদু শ্বাস ফেলে এগিয়ে গিয়ে ফারিয়ার ঘরে উঁকি দেয়। চোখের ওপর হাত রেখে শুয়ে আছে সে। আফিফ মিনিটখানেক ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে দ্রুত পায়ে হেঁটে গিয়ে ইনফ্রারেড চুলাটা অন করে চায়ের পাতিল বসিয়ে দেয়। রান্নাঘর থেকে চামচ ঠোকাঠুকির মৃদু আওয়াজ তিতলি শুনতে পাচ্ছে। ও আর বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারলো না। রাগ সরিয়ে বিগত দিনের মতো ছুটটে রান্নাঘরে গিয়ে আফিফের হাত থেকে লবঙ্গর কৌটা টেনে নিয়ে নরম সুরে ধমকায়,“দিচ্ছি আমি চা বানিয়ে। আপনি খেতে বসেন। ভাত ঠান্ডা হয়ে পানি ছেড়ে দিয়েছে। নতুন করে গরম তুলে খান। আর শোনেন,প্লেট চেঞ্জ করবেন না,ঐ প্লেটেই খাবেন। প্লেটটা ধুয়ে নিন।”
_“কেন? ঐ প্লেট ধুয়েই খাবো কেন? আরেকটা প্লেটে খেলে কি সমস্যা?”
_“নানী বলেছে এক বসায় দুই প্লেটে খেতে হয়না,তবে সেই লোক নাকি দু'টো বিয়ে করে!”
গরম পানিতে দারচিনির গুঁড়ো দিতে দিতে জবাব দেয় তিতলি। আফিফ কিছুসময় বোকা চোখে চেয়ে থেকে হোহো করে হেসে উঠল,বলল,“তুমি জঘন্য পর্যায়ের উচ্চশিক্ষিত। ভয়ংকর কুসংস্কার!”
_“হ্যাঁ। কিছু কুসংস্কার আমি মানি। এখন কি আর করা? খাবেন না মানে খাবেন না আরেক প্লেটে! সাফ সাফ বলে দিলাম!”
_“তা এলে কেন এখানে? তোমার নাকি এ বাড়িতে কাজ কেবল আমার দেখাশোনা করা!”
_“ওটাই করছি। আপনি খেতে বসেন।”
_“আর আমার বোনদের দেখতেই ইচ্ছে করেনা?”
_“না। তাদের ব্যবহার খারাপ। জঘন্য।”
বলে আর শেষ করতে পারলো না তিতলি। দেখলো ফারিয়া আবার দৌড়ে এসেছে ঘর থেকে, লিভিং এরিয়ায় বেসিনে গিয়ে উবু হয়েছে আবার। তিতলি তড়িঘড়ি করে চুলা অফ করে ছুটে গিয়ে ভাবীকে আগলে ধরে। আফিফ নির্নিমেষ চেয়ে থাকে ওর দিকে। অস্থিরতায় গা কাঁপছে তিতলির। ঘাড় ফিরিয়ে আফিফকে বলল,“একটু তারিন ডাক্তারকে কল করেন তো। বটতলা বসে সে। ভাবী মাঝেমাঝে দেখায় তাকে। নাম্বার আমার ফোনেই পাবেন। ফোনের পাসওয়ার্ড হচ্ছে ‘আফিফ ভাই।’ আফিফের ‘এ’ বড়ো হাতের।
আফিফ চোখ নামিয়ে চুপচাপ তিতলির ফোনটা তুলে নাম্বারটা নেয়। ডাক্তারের সাথে কথা বলে ফোনটা রেখে খেতে বসে। এবং আগের প্লেটটাই ধুয়ে গরম ভাত নেয়। নতুন প্লেট আর ধরেনি। তিতলি ফারিয়াকে ধরে ধরে আবার বেডরুমে দিয়ে আসে,“একটু টক কিছু করে দেবো ভাবী? কচি ডাবের শাঁস মাখাটা তুমি তো খুব পছন্দ করো,ওটা করে দেবো?”
ফারিয়া মাথা নাড়ে। তিতলি এসে ফোনটা হাতে তুলে নেয় ভাইকে কল করবে বলে। বিয়ের দিন সকালের সেই দুর্ব্যবহার আর গালাগাল তিতলি ভোলেনি। রাগ তো রয়ে গেছে। আফিফের ওপরও রাগ রয়ে গেছে। নেহাত স্বামী তাই দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি, অবমাননা করতে পারেনি। কিন্তু মাহবুবের প্রতি রাগের সুতাটা টেনেছিল বেশ লম্বাই। আজ সব সরিয়ে ফেলে। ওপাশ থেকে আফিফ বলল,“পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে দিয়েছি আমি। স্বামীকে ভাই সম্বোধন করে না। শুধু ‘ওয়াহিদ আফিফ’ দিয়েছি। ওয়াহিদের ‘ও’ বড়ো হাতের।”
লোকটা খাচ্ছে ধীরে। তিতলি খানিকসময় চুপচাপ থেকে ফোনটা টেবিলের ওপর রেখে বলে,“ওয়াশরুমে যাচ্ছি আমি। এর মাঝে ভাইয়া কল করলে ধরে বাড়িতে আসতে বলবেন। আর পাসওয়ার্ড আবার চেঞ্জ করে দেয়া, যদি প্রয়োজন হয় তাই বললাম, এবারের পাসওয়ার্ড “আফিফ আমার জান।” আফিফের এ বড়ো হাতের।”
বলেই তিতলি হাসি চেপে রেখে ছুটে যায় ঘরে। আফিফ চুপচাপ খেতে থাকে নজর নামিয়ে। ঠোঁটে লেপ্টে থাকা সামান্য হাসিটা সময়ের সাথে সাথে চওড়া হয় ক্রমশ।
চলমান……