ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগলো চোখে

১৩তম পর্ব

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে

#পর্বসংখ্যা_১৩

#Esrat_Ety

বিছানা ছাড়তে একেবারেই ইচ্ছে করছে না তার। ঘুম ভাঙ্গার পরেও কিছুক্ষণ ম'ট'কা মেরে পরে থাকে সামিন। হুট করে আলোর কথা মাথায় আসতেই সে চোখ খুলে তাকায়। ধ'র'ফ'রি'য়ে উঠে বসে বিছানার দিকে তাকায়। কেউ নেই সেখানে। মেঝেতে পা রেখে ঘরে পরার চটি জোড়া পায়ে দেয়। ঘরের দরজা খোলা। সামিন একবার হাই তুলে ঘরের বাইরে এসে রিতুকে ডাকতে থাকে।

রিতু নিচতলা থেকে নিচু স্বরে জবাব দেয়,"জ্বি ভাইয়া!"

_আলো কোথায়?

রিতু অবাক হয়ে বলে,"জানি না তো ভাইয়া।‌ ঘরে নেই? ভাবীকে তো নিচে নামতে দেখিনি আমি।"

সামিন চোখ মুখ শক্ত করে সিঁড়ি বেয়ে নেমে সোজা সদর দরজার দিকে যায়। বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা বাড়ির দারোয়ান রিয়াজকে ডাকতে থাকে। রিয়াজ প্রায় ছু'টে আসে।

"আলোকে দেখেছিস? বাইরে গিয়েছে?"

_বড় ভাবীকে? নাতো ভাইজান! দেখিনি।

_সকাল থেকে এখানেই ছিলি?

_হু ভাইজান। সকালের বাথরুম আটকে রেখে দাঁড়িয়ে আছি। একটা মাছিও গ'ল'তে দেইনি । পোনা চাচা আসলে বাথরুমে যাবো।

বাইরের কটেজ থেকে পোনা বের হয়। সামিনকে দেখে বলে,"কি হয়েছে?"

_আলোকে পাওয়া যাচ্ছে না।

গম্ভীর কন্ঠে বলে সামিন ফোনে রনির নাম্বার ডায়াল করে ফোন লাগায়।

পোনা কপাল কুঁ'চ'কে এদিক ওদিক তাকাতেই চাঁপা স্বরে চেঁ'চি'য়ে বলে,"ওই তো বড় বৌমা। বাগানে!"

সামিন ফোন কেটে দিয়ে অবাক হয়ে ঘুরে তাকায়। আলোর দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। তার ফুলের বাগানের কাছে দাঁড়িয়ে আছে আলো। শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। পরনে তার লাল রঙের একটা শাড়ি। তাকে একটা ফুলের থেকে কম কিছু লাগছে না। রাতে সামিন এসব কিছু খেয়াল করেনি, কিংবা খেয়াল করতে চায়ও নি সে। কিন্তু সকালের সূর্য তার চোখে আঙুল দিয়ে ওই নারী কায়ার সৌন্দর্য দেখিয়ে দিতে চাইছে।

পোনা এগিয়ে যেতে থাকে আলোর দিকে। সামিন ধীরপায়ে পোনার পিছু পিছু যায়। আলো ওদিক ফিরে দাঁড়িয়ে একটা ফুল ছোঁ'য়।

_বড় বৌমা।

নমনীয় অচেনা পুরুষ কন্ঠ শুনে আলো চ'ম'কে উঠে পোনার দিকে তাকায়। পোনা হাসি হাসি মুখ করে বলে,"আমি পোনা। এই বাড়ির আজীবন মেয়াদী কেয়ার টেকার। ভ'য় পেয়ো না মা।"

আলো একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে পোনার দিকে। সে কি বলবে!

সামিন আলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আলো পোনার থেকে চোখ সরিয়ে আবারো ফুল গাছ গুলোর দিকে তাকায়। পোনা বলে,"এই গাছ গুলো তোমার স্বামী নিজের হাতে লাগিয়েছে। তার ফুল গাছের খুব শখ। সেই ছোট থেকে। এ বাড়ির প্রত্যেকটা বাগান সে নিজের হাতে করেছে।"

আলো ঘুরে দাঁড়ায় পোনার দিকে। ঘুরে দাড়াতেই তার চোখ যায় সামিনের দিকে। সামিনকে দেখেই সে চোখ মুখ শক্ত করে ফেলে। তারপর ফুলগাছের দিকে তাকিয়ে পোনা চাচাকে বলে,"এগুলো সব উ'প্রে ফেলুন। "

পোনা অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আলোর দিকে। সামিনের কোনো ভাবান্তর নেই। সে জানে,আলো তাকে অপমান করে কিছু একটা বলবে এখন।

সামিনের ধারণা সত্যি। আলো তার দিকে আঙুল তুলে পোনা চাচাকে বলে,"এই অ'স'ভ্য লোকটার সাথে ফুল মানায় না। এর সাথে কাঁ'টা মানায়। এই ফুল গাছ গুলো উপ্রে ফেলে এখানে কিছু কাঁ'টা মান্দার গাছ এনে লাগিয়ে দিন। তারপর সেই গাছে দড়ি বেঁধে গলায় পেঁচিয়ে ঝুলে পরতে বলুন এই কু'লা'ঙ্গা'র টাকে।"

পোনার মুখ হা হয়ে যায় আলোর কথা শুনে। আলোর চোখ মুখ জ্ব'ল'ছে রোদে এবং রাগে। সামিন কয়েক মুহূর্ত পরে ঠান্ডা গলায় পোনাকে বলে ওঠে,"ওকে দাড় করিয়ে রেখেই ,ওর চোখের সামনে গাছ গুলো উ'প্রে ফেলে দিন পোনা চাচা। তারপর ওকে বাড়ির ভেতরে পাঠিয়ে দিন।"

সামিন চলে যায় বাড়ির ভেতরে। আলো বিড়বিড় করে বলে,"ফে'রা'উ'ন।"

পোনা আলোর দিকে তাকিয়ে বলে,"এমন কথা বলো না মা,এমন কথা বলে না স্বামীকে!"

আলো তেতে ওঠে,"স্বামী? কিসের স্বামী? ঐ ক্রি'মি'না'ল'টাকে আমি স্বামী বলে মানি না।"

_সামিন ইয়াসার কোনো ক্রি'মি'না'ল না মা।

আলো দাঁত খিচিয়ে বলে,"স্বেচ্ছায় অ'ন্ধ আপনারা। চো'খে পট্টি বেঁ'ধে রেখে কিভাবে দেখবেন সব। আমার সাথে যা হয়েছে তার পরেও বলবেন ও ক্রি'মি'না'ল না ?"

পোনা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে,"দেখো মা, তোমার আর সামিনের বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাইনা। সামিন ছোটো বেলা থেকেই একটু জে'দী। জে'দের বশে করে ফেলেছে। কিন্তু মা,ও খা'রা'প ছেলে না। ওকে আমি এইটুকু বয়স থেকে চিনি। ও কয়টা এতিমখানা চালায় তুমি জানো? ও সবসময় মানুষের উপকার করে। ওর কাছে কেউ সাহায্য চাইলে বিনা প্রশ্নে ও সাহায্য করে। এমন মানুষ আর যাই হোক, ক্রি'মি'না'ল না মা। এই আমাকে দেখো। আমার মতো গরীব লোকের মেয়েকে সামিন ডাক্তারি পড়ায়। ওই যে রিয়াজকে দেখছো,ওর মায়ের হার্ট অপারেশন করিয়ে দিয়েছে সেদিন। প্রত্যেক বছর পারিবারিক ব্যবসা থেকে কত টাকা অসহায়দের মাঝে দান করে জানো?"

আলো একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। তারপর বলে,"আপনাদের কাছে ও মহৎ কারন ও আপনাদের কিছু না কিছু দিয়েছে চাচা। কিন্তু আমার কাছ থেকে তো আমার সব নিয়েছে ওই জা'নো'য়া'রটা, আমার পরিবার,আমার খুশি,আমার ভালোলাগা, আমার গোছালো একটা সুন্দর জীবন.....সব। নিঃ'স্ব করে ছেড়েছে আমায়। ওকে ক্রি'মি'না'ল বললেও তো কম হয়ে যায় চাচা!"

***

"কোথায় যাচ্ছো!"

সিঁড়ির প্রথম ধাপে এক পা দিতেই পি'শা'চ কন্ঠ শুনে আলো থমকে দাঁড়ায়। সামিন রুটি ছিঁড়ে ডালের বাটিতে ডুবিয়ে আলোকে প্রশ্নটি করে। আলো উত্তর দিবে না দিবে না করেও বলে ওঠে,"ন'র'কে।"

_খেয়ে তারপর যাও।

ঠান্ডা গলায় বলে সামিন ইয়াসার। লিভিং রুমের সাথে লাগোয়া ডাইনিং টেবিলে বাড়ির সবাই সকালের খাবার খেতে বসেছে। রিতু নরম গলায় ডাকে,"খেয়ে যান ভাবী।"

আলো তেতে ওঠে,"একদম আমার সাথে সম্পর্ক পাতাবে না বলে দিলাম। বলেছি না আমাকে ভাবী ডাকবে না? বলেছি না?"

রিতু শুকনো হাসি হেসে বলে,"আচ্ছা ডাকবো না। এই শেষ বার। আপনি খেতে বসেন ভাবী। কাল রাতের খাবার খাননি।"

আলো রিতুর কথার উত্তর না দিয়ে ঘুরে আবার সিঁড়ির দিকে যেতে নেয়। সামিন বলে ওঠে,"এ বাড়ির কেউ তোমার চা'ক'রা'নী না। আমার বোন,আমার ভাইয়ের স্ত্রী, কেউ তোমার চা'ক'রা'নী না যে প্রত্যেক বেলা তোমার খাবার ঘরে নিয়ে গিয়ে মুখে তুলে খাইয়ে দেবে।"

_আমি তাদের বলি? আপনার বাড়ির খাবার আমার শরীরে বি'ষে'র থেকে কম প্রভাব ফেলে না।

_চুপচাপ মুখ না চালিয়ে খেতে এসো।

আলো একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে খাবার টেবিলের দিকে এগিয়ে যায়। টেবিলের উপর রাখা রুটির বাটি থেকে একটা রুটি উঠিয়ে নিয়ে সেটা থেকে এক টুকরো ছিঁড়ে মুখে দিয়ে এক গ্লাস পানি হাতে নেয়। তারপর রুটির টুকরো টা পানি দিয়ে গিলে হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে যায়।

আলো ন'র'কে ঢুকে দরজা চাপিয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে। হ্যা,ইয়াসারের এই ঘরটা তার কাছে ন'র'কের থেকে কম কিছু না। শূন্য দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে সে। হঠাৎ তার চোখে পরে দেয়ালে টাঙ্গানো একটা ছবি। ছবিটা আগে চোখে পরেনি তার।তিনজন ছেলে এবং একজন মেয়ে বাচ্চার ছবি। বড় ছেলেটি ওই পি'শা'চ টা তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ‌। চেহারায় পৈ'শা'চি'ক ছাপ স্পষ্ট। তার পরের জন ইলহাম নামের চ'রি'ত্র'হী'ন লোকটা, মেয়েটি ইশিতা নামের মেয়েটি। চেহারায় বেশ মিল পাওয়া যাচ্ছে। ছোটো এই ছেলেটি তবে কে? আলো কিছুক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকে। ছেলেটাকে আলোর কাছে খুব চেনা চেনা লাগছে। মনে হচ্ছে কোথাও দেখেছে সে।

"তোমার বৌ কিন্তু বেশ বাড়াবাড়ি করছে ভাইয়া। ভাইয়ের বৌ তাই আমি কিছু বলছি না।"

_কি করেছে?

ঠান্ডা গলায় বলে সামিন ইয়াসার। ইলহাম বিরক্ত হয়ে বলে,"কি করেছে মানে? আমাকে মুখের উপর রে'ই'প কেইসের আ'সা'মি বললো।"

_মিথ্যে তো কিছু বলেনি। প্রতি মাসে হাজিরা দিস এখনো।

কফির কাপে চুমুক দিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলে ইয়াসার। ইলহাম বিরক্ত ভঙ্গিতে বলে,"তুমি জানো সব মিথ্যা ভাইয়া। ওড়না ধরে টে'নে'ছি'লা'ম শুধু।"

_তোর ওই এক টানে আমাদের পরিবারের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ডাউনফল শুরু হয়েছিলো। জেলে প'চে ম'র'তি। ভালোর মধ্যে ভালো হয়েছে রিতুর মতো একটা মেয়েকে বৌ হিসেবে পেয়েছিস।

ইলহাম নাক চোখ কুঁচকে ফেলে। কি ভালো? একটা গ্রামের মেয়ে। নেহাত ইলহামের সন্তান পেটে ধ'রে'ছে,নয়তো কবে বাড়ি থেকে নামিয়ে দিতো!

সামিন কফি শেষ করে বলে,"ইশমামের জন্য দোতলার উত্তর পাশের ঘরটা পরিষ্কার করে রাখবি ওদের দিয়ে। আমি এখন বের হবো,আজ সংবর্ধনা সভা।"

ইলহাম মাথা নাড়ায়। সামিন বলে,"বাবা আসবে কবে?"

_সামনের সপ্তাহে।

সামিন উঠে দাঁড়ায়। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে তার ঘরের দরজার কাছে এসে সে থ'ম'কে যায়। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ।

সামিন মৃদু স্বরে ডাকে,"আলো।"

বারবার ঐ পি'শা'চ'টার মুখে নিজের নাম উচ্চারিত হতে শুনলেই আলোর গা রিরি করে ওঠে।

সামিন কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে আবারো বলে,"দরজা খোলো। শুধুমাত্র বিছানাটা তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি। এই ঘরটা না। এই ঘরটা আমার আলো। দরজা খোলো।"

আলো দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। সরে গিয়ে চোখ মুখ কুঁচকে দাঁড়িয়ে থাকে। সামিন ভেতরে ঢুকে একবার আলোর দিকে তাকায়। তারপর আলমারি থেকে তার পোশাক বের করে ওয়াশ-রুমে ঢুকে পাল্টে নেয়। শুভ্র সুতির পাঞ্জাবি আর তার উপরে মুজিব কোট চাপিয়েছে আজ সে। পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে নিতে নিতে সে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। নিজের চুল ঠিক করে আয়নার মধ্যে আলোর প্রতিবিম্বের দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে,"তোমার মায়ের জ্ব'র সে'রে'ছে। ভাইয়েরা আজ কলেজে গিয়েছে।"

আলো চ'ম'কে ওঠে। সামিনের দিকে তাকিয়ে নিস্তেজ কন্ঠে বলে,"পেয়ে গিয়েছেন তো আমায়। হয়ে গিয়েছে না প্র'তি'শো'ধ নেওয়া? এখনো কেনো ওদের পি'ছু পরে আছেন? ছেরে দিন ওদের।"

সামিন আলোর দিকে এগিয়ে এসে শুকনো হাসি হাসে, তারপর বলে,"বাহ! এই তো! এভাবে কথা বলবে আলো। মেয়ে মানুষ ঠিক এভাবে কথা বলে, নমনীয় হয়ে। তাহলে যদি পুরুষের মন গ'লে, জে'দ দেখিয়ে কিছু বললে পুরুষ শুনবে কেনো?"

সামিনের এই কথাটিতে সামিনের প্রতি আলোর ঘৃ'ণা আরো একধাপ বেড়ে যায়। সে কিছু না বলে চোখ নামিয়ে নেয়। বলতে বলতে সে ক্লান্ত। সামিন বলে,"নজর রাখছি না ওদের উপর। দেখভাল করছি। তোমার ভাই দু'টো একেবারে যা তা লেভেলের ভী'তু। ওদের দেখভাল করতে হবে প্রচুর। যত যাই হোক,আমি ওদের দুলাভাই।"

"দুলাভাই" শব্দটা শুনে আলো দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে থাকে। সামিন আলোর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আলোর হাত ধরে। আলো এক ঝ'ট'কা'য় হাতটা ছাড়িয়ে নেয়। সামিন আবারো ধরে আলোর হাত তারপর আলোর কনুইয়ের দিকটা দেখে। আলোর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,"এতটা কেটেছে কিভাবে?"

আলো হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে বারান্দায় চলে যায়।

সামিন এক মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে ড্রয়ার থেকে একটা মলম আর তার তিনটা পাঞ্জাবি বিছানার উপরে রেখে বলে,"মলমটা লাগিয়ে নিও।আর আমার বাড়ির প্রাচীর খুব উঁচু আলো। এই প্রাচীর ট'প'কে পালাতে পারবে না তুমি। শুধু শুধু তা'র'কা'টা'য় লেগে নরম তক ক্ষ'ত'বি'ক্ষ'ত হবে। আজ প্রথম এবং শেষ। এরপর কখনো যদি দেখি তুমি বাগানে গিয়েছো তাহলে খুব খা'রা'প হবে। আজকে এই চমৎকার পা'ক'না'মি'র জন্য তোমাকে শাস্তি হিসেবে এই পাঞ্জাবি তিনটা দিয়ে গেলাম। বোতাম গুলো লাগিয়ে রাখবে।

সামিন চলে যায়। আলো চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। চালাক শি'য়া'লটা ঠিক বুঝে গিয়েছে আলো বাগানে কেনো গিয়েছিলো!

***

"আমাদের সময়ানুবর্তী ভাই আজ লেইট করছে,এই ব্যাপারে তোমাদের মতামত কি ভাইলোগ?"

রাহাতের এমন প্রশ্নে সবাই ওর মুখের দিকে তাকায়। ফুয়াদ চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলে,"কাল সারাদিন ধ'ক'ল গিয়েছে। তাই ঘুমটা একটু গভীর হয়েছে বোধ হয়।"

ফুয়াদের এমন উত্তরের বিরোধীতা করে তৌফ বলে,"না ভাই। ভাই তো এই প্রথম এতো ধকল সামলায় না। এসবে ভাইয়ের অভ্যেস আছে। আসলে নতুন বৌ রেখে বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে হয় না পুরুষ মানুষের। আমাকে দেখেন,আমি তো আসতেই চাইনি এতো তাড়াতাড়ি, রনি ভাই ঘা'র ধ'রে নিয়ে আসছে।"

সবাই কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। আরাফ ফুয়াদের দিকে তাকিয়ে বলে,"ভাই ওই মেয়েটাকে নিয়ে কিভাবে সংসার করবে সেটাই তো বুঝতে পারছি না। ওই মেয়েকে তো ভাই ভালোবাসে না।"

_ভালো আজ বাসে না, কাল তো বাসতেই পারে।

তৌফের এমন কথায় রাহাত বলে,"ভাই অমন মেয়েকে কখনোই ভালো বাসবে না। ওই মেয়ে আজীবন একটা জে'দ হয়ে থাকবে ভাইয়ের কাছে।"

_না ভাই, মিলিয়ে নিয়েন আমার কথা। মেয়ে মানুষ জাদু জানে ভাই। দেখবেন একদিন ঠিকই ভাই ওই মেয়েকে বু'কে টে'নে নিয়ে বলবে,"ভে'ঙে'ছো কলসির কানা, তা বলে কি প্রেম দেবো না?"

সবাই চাপা স্বরে হেসে ওঠে তৌফের কথায়। তৌফ মুখ হাসি হাসি করে বলে,"স্ত্রীকে বি'ছা'না'র সৌন্দর্য উপাধি দেওয়া ভাই একদিন ওই মেয়েকে মাথায় তুলে নাচবে। এইটা যদি না হয়,তাহলে আমার নাম উল্টে ফেলবেন।"

রাহাত বলে,"আমি এখনি তোর নাম উল্টে ফেলছি, তোর নাম আজ থেকে ফতৌ।"

এমন সময় সামিন এসে দাঁড়ায় সেখানে। সামিনকে দেখে তৌফ চুপ হয়ে যায়। ফুয়াদ উঠে দাঁড়িয়ে বলে,"দেরী হলো কেনো? প্রথম দিনেই এতো দেরী? জনগণ তো আ'শা'হ'ত হবে নেতা।"

সামিন চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলে,"ইশমাম আসবে কাল। ওর জন্য বাড়িটা একটু গোছগাছ করিয়েছি। লোককে বুঝিয়ে দিয়ে এলাম সবটা।"

তৌফ সামিনের দিকে তাকিয়ে বলে,"ভাই আপনাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে। মুজিব কোট গায়ে আপনাকে পুরো শেখ মুজিবরের মতো লাগছে। শুধু গোঁফ এবং হাতে পাইপটা নেই।"

আরাফ পানি খেতে নিচ্ছিলো,তৌফের কথা শুনে কাশি উঠে যায় আরাফের। ফুয়াদ সামিনের দিকে তাকিয়ে বলে,"এখন চল! বসে পরলি কেনো? আজ তোর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান , তোর কোনো শীত গরম দেখছি না।"

সামিন উঠে দাঁড়ায়। সত্যিই,কোনো এক অজানা কারনে সে আগ্রহ পাচ্ছে না কোনো কিছুতে। মন পরে আছে বাড়িতে। এর কারন কী!

***

"এই দাড়া!"

আজান আয়াত হাঁটতে থাকে। পেছন থেকে কলেজের কিছু সিনিয়র ছেলে ডাকে ওদের।

"এই তোদের দাঁড়াতে বলেছি না?"

দু'জনে দাঁড়িয়ে পরে। ছেলেগুলো ওদের সামনে এসে দাঁড়ায়। এদের মধ্যে একটা খুব লম্বা দেখে ছেলে ধ'ম'কে'র সুরে বলে,"নাম কি তোদের?"

আজান নমনীয় হয়ে বলে,"আমি আজান, ও আয়াত।"

_কোন ক্লাস?

_ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার।

_বড় ভাইদের দেখলে সালাম দিতে হয় জানিস না?

আজান আর আয়াত একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। ছেলে গুলোর মধ্যে থেকে একটা ছেলে লম্বা ছেলেটাকে বলে,"দীপু ভাই। এখনো সালাম দিচ্ছে না। এদের মাথায় কি ঘি'লু নেই?"

দীপু কপাল কুঁ'চ'কে বলে,"হু,তাই তো দেখছি।"

তারপর আজান আয়াতের দিকে তাকিয়ে বলে,"এই কলেজের নিয়ম জানিস?"

আজান আয়াত মাথা নাড়ায়। দীপু বলে,"কলেজে ঢুকে বড় ভাইদের সালাম দিতে হয়।"

একটা ছেলে আজানের চো'খ থেকে চশমা খুলে নেয়। চশমা নিজের চো'খে লাগিয়ে বলে,"এতো পাওয়ার তোর চশমায়। কা'না নাকি রে তুই।"

_ওর চশমাটা দিয়ে দিন। চশমা ছাড়া ওর অসুবিধে হয়।

কঠিন গলায় বলে আয়াত। দীপু কপাল কুঁচকে আয়াতের দিকে তাকিয়ে বলে,"বাবা, বিড়াল তো মিউ মিউ করতে জানে দেখছি। আচ্ছা চশমা ফেরত পাবি, আগে একটু নেচে দেখা। নাচে যদি দশে দশ পাস তাহলে চশমা ফেরত পাবি।"

পাশ থেকে একটা ছেলে দাঁত বের করে বলে,"ভাই আমার পছন্দের গানে নাচবে ওরা।"

কথাটি বলেই ছেলেটা ফোনে একটা হিন্দি গান ছে'ড়ে দেয়।

আজান আয়াত ঘা'ব'ড়ে গিয়ে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে।

রনির নাম্বার দেখে সামিন ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে। ওপাশ থেকে রনি বলে,"আপনার "দু'দু'ভা'তু" শ্যালক দু'টোকে র‌্যাগ দিচ্ছে অনার্সের কিছু রাম-ছাগল। কি করবো?"

_তুই ভালো করে জানিস তুই কি করবি। শুধু শুধু আমাকে ফোন দিয়েছিস কেনো?

ঠান্ডা গলায় জবাব দেয় সামিন। তারপর বলে ওঠে,"দাঁত গুলো নাড়িয়ে দে। একেবারে ফেলে দিস না।"

রনি ফোন কেটে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ভাইয়ের বিয়ের চক্করে রাজনীতি ছেড়ে কখনো সেলসম্যান, কখনো ওষুধের ডিলার কখনো গু'ন্ডা'গি'রি করতে হচ্ছে। কি দিন এলো তার!

***

"আলোকে কোথাও দেখছি না ভাবী। কোথাও গিয়েছে নাকি ও?"

রেহেনা মাথা ঘুরিয়ে খোরশেদের দিকে আ'ত'ঙ্কি'ত মুখ নিয়ে তাকায়। আমতা আমতা করে বলে,"ওর মেজো মামার কাছে গিয়েছে।"

_বজলুর কাছে? খুলনা গিয়েছে? ওর তো শুনেছি সামনের সপ্তাহে ইনকোর্স এক্সাম।

রেহেনা ম্লান হেসে বলে,"ওর নানী একটু অসুস্থ। দেখতে চেয়েছে। চলে আসবে।"

খোরশেদ যেন বিশ্বাস করতে চাইছে না সবটা। বিষয়টা তার কাছে খুব গোলমেলে লাগছে। আতাউর আলম হুট করে নির্বাচন বর্জন করে গর্তে ঢুকে গিয়েছে এদিকে তার মেয়ে বাড়ি থেকে উধাও। বিষয়টি খুবই গোলমেলে।

দীপুর পেছনে দাঁড়িয়ে রনি বলে ওঠে,"নাচ দেখতে ইচ্ছে করছে তোদের?"

আজান আয়াত রনির কন্ঠস্বর শুনে একটা ঢোক গিলে ফেলে। এ তো সেই লোকটা, যে সেদিন রাতে তাদের গলায় ছুরি ধরেছিল। এ এখানেও চলে এসেছে!

দীপু রনিকে দেখে ঘাবড়ে যায়। সামিন ইয়াসারের খাস চ্যা'লা রনি। এ কেনো এখানে এসেছে!

রনি এগিয়ে যায় দীপুর দিকে। কঠিন গলায় বলে,"নাচ দেখবি?"

দীপু একটু সাহসী সাজতে চায় নিজের দলের কাছে। বুক ফুলিয়ে বলে,"এটা আমাদের কলেজের মামলা।"

_কিন্তু ওরা তো আমার লোক।

_আপনার লোক মানে?

_মানে আমাদের সামিন ভাইয়ের একটা নাচের গ্রুপ আছে বুঝলি। ওরা সেই দলের লোক। আমাদের লোক এভাবে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়া নাচে না,তার জন্য অনেক বড় দাম দিতে হয়।

_দাম মানে?

_হু, দাম। আপাতত তোর দাঁত গুলো দে।

দীপু কিছু বুঝে ওঠার আগে স্ব-শব্দে দীপুর ডান গালে একটা চ'ড় বসিয়ে দেয় রনি। ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যেকে আঁ'ত'কে ওঠে।

রনি আজান-আয়াতের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,"ক্লাসে যাও।"

***

সারাটা দিন সামিন বাইরে কাটিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ বাড়ি ফিরেছে। গাড়ির পেছনের সিট দু'টো ফুলের মালায় ভর্তি হয়ে গিয়েছে। গাড়ি থেকে নেমে অলস ভঙ্গিতে হেঁটে বাড়ির ভেতরে যায়। ইহান তার বড় বাবাকে দেখে ছু'টে আসে। ইহানকে কোলে উঠিয়ে গালে চুমু খায় সামিন। লিভিং রুমে এসে দাঁড়ায় ইহানের নতুন টিচার শান্ত। ফরসা এবং সুদর্শন একজন যুবক। কাঁধে ব্যাগ উঠিয়ে নিয়ে সামিনের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে সালাম দেয়। সামিন সালামের উত্তর দিয়ে বলে,"নাস্তা করেছো।"

_জ্বি ভাইয়া।

নিচু স্বরে বলে শান্ত। তারপর চলে যায়। সামিনের কাছে ছেলেটিকে বাড়াবাড়ি রকমের বোকা বোকা মনে হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে,ইশমামের বয়সী। কেমন মাথা নিচু করে হাঁটাচলা করে। মাথায় একটা ঘোমটা দিলেই পুরোপুরি মেয়ে মানুষ লাগতো। সামিনের কাছে ছেলেটির আচার আচরণ হাস্যকর লাগে। এভাবে মাথা নিচু করে হাঁটবে মেয়ে মানুষ, পুরুষ হাঁটবে বুক ফু'লি'য়ে। সিংহের মতো।

রিতু একগ্লাস লেমন ওয়াটার এনে সামিনের দিকে এগিয়ে দেয়। সামিন হাসি দিয়ে গ্লাসটা নিয়ে চুমুক দিতে দিতে বলে,"সব ঠিক ঠাক?"

_না ভাইয়া। একটু সমস্যা আছে।

সামিন চুমুক দিতে গিয়েও দেয়না। রিতু বলে,"ঘরে গিয়ে দেখুন।"

সামিন গ্লাস টা রিতুর হাতে দিয়ে হনহন করে চলে যায় নিজের ঘরে। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকেই তার চোখ ক'পা'লে উঠে যায়। পুরো ঘরে টুকরো কাপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আছে। আলোর তার শখের দামী পাঞ্জাবি তিনটা খুব যত্ন করে কাচি দিয়ে কু'চি কু'চি করে কে'টে ফেলেছে।

আলোর এমন শিশুসুলভ আচরণে সামিনের খানিকটা রাগ উঠলেও সে তার অনুভূতি ব্যক্ত করেনা। বরং ঠান্ডা গলায় বলে,"বড্ড পরিশ্রমী মেয়ে তুমি আলো। পাঞ্জাবি তিনটা মাঝ বরাবর একটুখানি কেটে ফেললেই সেগুলো পরার অযোগ্য হয়ে যেতো। কিন্তু তুমি কত ধৈর্য দেখালে।"

আলো মেঝেতে চুপচাপ বসে ছিলো। সামিনের দিকে না তাকিয়ে বলে,"সুযোগ পেলে আপনার শরীর টাও এভাবে টু'ক'রো করবো আমি।"

সামিন বাঁকা হাসি হেসে আলমারি থেকে তার একটি ট্রাউজার আর টি-শার্ট বের করে আলোর দিকে না তাকিয়ে বলে,"খালি কলসি বা'জে বেশি। প্রবাদটার পারফেক্ট উদাহরণ তুমি আলো।"

কথাটি বলে ওয়াশ রুমে ঢুকে জামাকাপড় পাল্টে নিয়ে বের হয়ে সিতারা কে ডেকে ঘরটা পরিষ্কার করে দিতে বলে সামিন। সিতারা ঘর পরিষ্কার করে দিয়ে চলে যায়। সামিন আলোর দিকে একবার তাকিয়ে বলে,"মেঝেতে বসে থাকো কেনো এভাবে?"

আলো তার উত্তর দেয় না। সামিন আলোকে ভালো করে লক্ষ্য করে বলে ,"ওষুধ লাগাওনি কেন হাতে?"

আলো চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। সামিন বিছানার উপর থেকে মলমটা উঠিয়ে নিয়ে এসে আলোর সামনে বসে। আলোর হাত টা ধরে কিছুক্ষণ ক্ষতটার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,"এরকম একটা গভীর ক্ষ'ত এভাবে খোলা রেখে ঘুরে বেরাচ্ছো। ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে, এতটুকু কমন সেন্স নেই তোমার সচেতন বাবার সচেতন কন্যা?"

_হোক ইনফেকশন, আপনার থেকে ভ'য়ং'ক'র কিছু না সেটা।

ঠান্ডা গলায় বলে আলো। সামিন কিছু না বলে আলোর হাত ধরে ওষুধ লাগিয়ে দেয়ার জন্য। আলো এ ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে,"এভাবে কথায় কথায় আমাকে ছোঁ'য়া'র অযুহাত বের করবেন না। জা'নো'য়া'র , জা'লি'ম কোথাকার।

সামিন ম্লান হেসে আলোর দিকে তাকায়। তারপর আলোর হাতটা তার শক্তিশালী হাতে শক্ত করে ধরে। আলো সামিনের শক্তির সাথে পেরে ওঠে না। সামিন ওষুধ টা আলোর হাতে লাগিয়ে দিতে দিতে বলে,"তোমাকে ছুঁ'তে আমার কোনো অজুহাত কিংবা নাটক করতে হবে না আলো। ভুলে যাচ্ছো তুমি আমার স্ত্রী। তোমাকে ছোঁ'য়া'র ইচ্ছে হলে আমি কোনো অজুহাত খুঁজতে যাবো না।"

আলোর নিজের অসহায়ত্বের কথা সামিনের মুখে আরো একবার উচ্চারিত হতে শুনে ঠোঁট কাঁ'প'তে থাকে। সামিন আলোর ক্ষ'ত তে ওষুধ টা লেপ্টে দিয়ে আলোর দিকে তাকায়। আলোর চোখে পানি দেখে তার হঠাৎ করে মনে হলো এরকম একটা কথা বলা তার ঠিক হয়নি। ভয় পেয়েছে মেয়েটা। পরক্ষনেই মনে পরলো,ভয় দেখানোর জন্যই তো বলেছে সে কথাটা।

সামিন উঠে দাঁড়ায়। আলো অস্ফুট স্বরে বলে ওঠে,"জা'নো'য়া'র, পি'শা'চ।"

সামিন আলোর দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলে,"আচ্ছা তোমার মুখ ব্যাথা করে না? এক কাজ করবে, বারবার কষ্ট করে আমাকে এসব না ডেকে একটা টেপ রেকর্ডারে গা'লা'গা'ল গুলো রেকর্ড করে রাখবে। তারপর আমি বাড়িতে ফিরলেই আমার কানের কাছে রেখে অন করে দিয়ে বসে থাকবে। তোমার কষ্ট হবে না।‌"

আলো মুখ ঘুরিয়ে নেয়। সামিন বলে,"কাল সকালে আমার ছোটো ভাই আসবে আমেরিকা থেকে। তুমি এ বাড়ির বৌ তাই ভাবলাম তোমাকেও বলে রাখি কথাটা। তার সামনে কোনোরকম ঔদ্ধত্য দেখাবে না তুমি। সে খুব ভালো একটা ছেলে, তাকে অপমান করে,গা'লি দিয়ে কোনো কথা তুমি বলবে না। আমি বরদাস্ত করবো না আলো।"

চলমান........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন