ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগলো চোখে

২৮তম পর্ব

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে

#পর্বসংখ্যা_২৮

#Esrat_Ety

আজকের পর্বটা অনেক বড় তাই সবাইকে সরাসরি ফেসবুক থেকে পড়ার পরামর্শ রইলো, ফেইসবুক লাইট থেকে পড়তে অসুবিধা হতে পারে।

"আজ আবার নতুন সিমকার্ড? দুদিন আগেও তো নিলি। ঘনঘন সিমকার্ড চেঞ্জ করছিস কেনো!"

হিয়া আলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আলো ফোনটা ব্যাগে ভরে থমথমে মুখ নিয়ে বলে,"একটা অ'স'ভ্য, নির্লজ্জ লোক খুব বিরক্ত করে‌। অনেক বেশি বেহায়া সে।"

_তো দুলাভাইকে বল। মেয়রের বৌকে ডিস্টার্ব করে। কত বড় সাহস! মেরে ঠ্যাং ভে'ঙে দিক।

আলো শুকনো মুখে হিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। হিয়াকে বলে দেবে সেই লোকটা ইয়াসার মির্জা নিজেই?

হিয়া কথা বলতে বলতে হাঁটতে শুরু করে।‌ আলোও গুটি গুটি পায়ে হিয়ার পিছু পিছু হাটে। কন্ঠে অভিযোগের সুর তুলে হিয়া বলে ওঠে,"একটা বার আমাদের জানাতে পারলি না ভাইয়ার কথা? বেশ অবাক হয়েছি তোর আর ইয়াসার ভাইয়ার বিয়ের কথা শুনে। মানে হুট করে? কিভাবে? বলছিস না কেনো কিছু?"

আলো আমতা আমতা করে বলে,"ওসব বাদ দে। পড়ার কথা বল। অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিস তাই না তোরা? আচ্ছা শ্রাবণী কেন আসে না? ওর কি বিয়ে হয়ে গিয়েছে?"

হিয়া মুখ মলিন করে বলে,"আর বলিস না।‌ অনেক ঝামেলার মধ্যে আছে ও। ওদের বাড়ি প্লাস দোকান ঘরটা দখলের চেষ্টা চলছে। ওর বাবা ছোটাছুটি করে অসুস্থ হয়ে পরেছে। সবটা ওকেই দেখতে হচ্ছে।"

আলো অবাক হয়ে বলে,"পুলিশ কি করছে? পুলিশের কাছে যায়নি?"

_টাকা দিয়ে আইন কিনে নিয়েছে দখলদাররা। কিছু করার নেই। ওদের মাথার ওপর শক্ত কোনো হাতও নেই। আতাউর আংকেল যে কিছু করবে সে তো দুমাস ধরে আংকেল অসুস্থতার জন্য গুটিয়ে নিয়েছে নিজেকে এসব ঝু'ট ঝামেলা থেকে।

আলো মাথা নিচু করে শুনতে থাকে হিয়ার কথা। কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছে সে বাবার কথা শুনতেই।

_এই আলো! এই!

হিয়া আলোকে ধাক্কা দেয়। আলোর ঘোর কেটে যেতেই "হু" বলে সাড়া দেয়। হিয়া বলে,"কি ভাবছিলি?"

_কিছু না, বল।

_শ্রাবনীর কথা বলছিলাম। আচ্ছা আলো, তোকে একটা কথা বলতে চাই। কিছু মনে করবি নাতো ?

_না। মনে করবো কেনো। বল।

হিয়া আমতা আমতা করে বলে,"তুই ইয়াসার ভাইয়াকে বলে দেখবি যাতে সে শ্রাবনীদের বিষয়টা একটু দেখে দেয়? আমি নিশ্চিত সে দেখলেই হবে!

হিয়ার কন্ঠে অনুরোধের সুর। আলো অবাক চোখে হিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে, কিছু সময় পরে বলে,"আমি?"

_হ্যা তুই। তুই বৌ, তাই ভাইয়া তোর কথাটা গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। শ্রাবনীর বাবা অসুস্থ শরীর নিয়ে যেতে চেয়েছিল ভাইয়ার কাছে শুনেছি। প্লিজ তুই একটু দেখ! প্লিজ প্লিজ প্লিজ!

হিয়া আলোর হাত ধরে ফেলে। আলো ঘামতে থাকে। সে কিভাবে ঐ লোকটার কাছে অনুরোধ করবে! কিভাবে!

***

"আমরা কত দ্রুত বড় হয়ে গেলাম তাই না ছোটো?"

ড্রাইভ করতে করতে সামিন ইশমামের দিকে তাকিয়ে বলে কথাটা। ইশমাম মাথা নিচু করে বসে আছে। নরম গলায় বলে,"তোমার কন্ঠে আমার প্রতি রাগ ভাইয়া। তুমি শুধু শুধু রাগ করছো। আমি ফিরে আসবো।"

সামিন ম্লান হাসে। তারপর বলে,"রাগ? আমার তো উলটো টা মনে হচ্ছে ছোটো। আমার তো তোর প্রতিটা আচরণে মনে হচ্ছে তুই কোনো কারনে আমার উপর রেগে আছিস অথবা আমি তোকে কষ্ট দিয়েছি।"

ইশমাম ভাইয়ের দিকে তাকায়। স্টিয়ারিংয়ের ওপর রাখা সামিনের বাম হাতের ওপর আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে বলে,"ধূর! তুমি বেশি বেশি ভাবো ভাইয়া।"

_তুই সবসময় অন্যায় কাজ অপছন্দ করিস। আলোর বিষয়টা নিয়ে তুই আমার উপরে রাগ? আমি জেদের বশে সবসময় ঝামেলা করি বলে?

ইশমাম চুপ করে থাকে। তারপর বলে ওঠে,"ঝামেলা করো, আবার সবটা ঠিক ঠাকও তো করে নাও। তাই রাগ নেই।"

***

"আপনার নাম।"

_অদ্রিতা আলো।

লোকটা বাতাসের বেগে আলোর নামটা লিখে ফেলে রেজিষ্ট্রার খাতায়।

তারপর আলোর দিকে তাকিয়ে বলে,"বিবাহিতা?"

অজান্তেই আলোর মুখ থেকে বেরিয়ে যায় কথাটা,"জ্বি।"

তৎক্ষণাৎ আলো নিজেকে শুধরে নিয়ে বলে,"জ্বি না।"

_একবার জ্বি, আরেকবার জ্বি না। মানে কি?

পেছন থেকে হিয়া বলে,"বিবাহিতা। ও বিবাহিতা। আসলে কদিনের জন্য বাপের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে তাই সব খেয়ে বসে আছে।"

কথাটি বলেই দুষ্টুমির ছলে আলোর মাথায় গাট্টা মে'রে দেয় সে। লোকটা একটা ফরমে আলোর নাম ঠিকানা তুলতে থাকে। তারপর বলে,"স্বামীর নাম?"

আলো ঘামছে। হিয়াটা তাকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। সে আমতা আমতা করে বলে,"বাবার নাম দিলে কি সমস্যা?"

_স্বামীর নাম সামিন ইয়াসার মির্জা। এই শহরের মেয়র সামিন ইয়াসার মির্জা।

হিয়া বলে দেয় দ্রুত। লোকটা হা হয়ে আলোর দিকে দীর্ঘ সময় ধরে তাকিয়ে থাকে। ইয়াসার মির্জার বৌ এসেছে তাদের কাছে! আলোকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে বলে ওঠে,"তোমাকে খুব চেনা চেনা লাগছে। কোথায় যেনো দেখেছি।"

"খুব ফেমাস মেয়ে। চেনা চেনা লাগতেই পারে। যেখানে যায় নিজের র'গ'চ'টা স্বভাবের জন্য একটা ঝামেলা বাঁধিয়ে আসে, কিছুদিন আগে টিভিতেও উঠেছিলো। আপনি সম্ভবত দেখেন নি। আপনি তাড়াতাড়ি ফরমটা দিন আংকেল। অফিস তো বন্ধ হয়ে যাবে।"

লোকটা আমতা আমতা করে বলে,"ইয়াসার মির্জার বৌ এসেছে স্টুডেন্ট লোনের জন্য এপ্লাই করতে!"

আলো লোকটার দিকে স্থির দৃষ্টি দেয়। তারপর স্বাভাবিক গলায় বলে,"কেনো? আমার জন্য নিষেধ আছে রাষ্ট্র থেকে? আমাকে লোন দেওয়া যাবেনা?"

_ঠিক তা না। আপনার স্বামীর তো অনেক টাকা.....

হিয়া বলে ওঠে,"প্রবলেম কি আংকেল? স্বামীর টাকা তো কি হয়েছে? একটা মেয়ে নিজের চেষ্টায় স্বাবলম্বী হতে চাইলে সে পারে না? জানেন আমার বান্ধবীর খুব আত্মসম্মান। আর এজন্যই তো ইয়াসার ভাইয়া ওকে পছন্দ করেছে। ওর মতো মেয়ে হয় না।"

_তুই চুপ করবি??

হিয়াকে থামিয়ে দিয়ে আলো লোকটার দিকে তাকায়। তারপর নরম গলায় বলে,"আংকেল প্লিজ। আমার খুব দরকার টাকা টা।"

লোকটা মৃদু হাসে। তারপর কাগজপত্র গুলো আলোর দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বলে,"তোমাকে খুব পছন্দ হয়েছে মেয়ে। আমি তোমার কথাটা মাথায় রাখবো।"

***

সামিনের দিকে একবার ঘুরে তাকিয়ে তৌফ দলের কাছে এসে চুপচাপ বসে পরে। সামিন ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে কথা বলছে। শুভ্র রঙের পাঞ্জাবি পরনে, চোখে সানগ্লাস, পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে রেখেছে। টান টান হয়ে দাঁড়িয়ে, রাশভারী পুরুষালি গলায় চমকপ্রদ কিছু বাক্য দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের মুগ্ধ করছে এই তরুণ মেয়র।

তৌফ দলের ছেলেদের বলে,"ভাইকে দেখছেন আপনারা? একেবারে নায়কের মতো। মনে হচ্ছে এখানে সিনেমার শুটিং চলছে, ভাই তার ডায়লোগ দিচ্ছে।"

রাহাত সামিনের দিকে একপলক তাকিয়ে বলে,"এতো সুন্দর, এতো উপযুক্ত স্বামী রেখে যে মেয়ে তেজ দেখিয়ে চলে যায়, সে মেয়ে মেয়েই না,সাধু সন্ন্যাসীর লেভেলে চলে গিয়েছে।"

আরাফ উঠে বলে,"ও কি সুস্থ স্বাভাবিক মেয়ে নাকি? মাথার তার ছিঁড়ে গিয়েছে অনেক আগেই। মনে নেই ওর কর্মকান্ড? ভাইকে এসে হুট করে চ'ড় মারা, রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে ভাইয়ের অপমান করা। কেউ পাগল না হলে ছাত্রনেতার সাথে এমন করে?"

_এই তুই "ও" বলছিস কাকে? ভাই শুনলে একটা আ'ছা'ড় মারবে তোকে।

চাপা স্বরে চেঁচিয়ে বলে রাহাত। সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। সামিন ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে কথা বলে ওদের দিকে এগিয়ে আসে।

তৌফ আনমনে গান গাইতে শুরু করে,"প্যাহেলি প্যাহেলি বার মোহাব্বত কি হে,কুছ না সামাঝ মে আয়ে মে কেয়া কারু,

ইশ্ক নে মেরি এ্যাছি হালাত কি হে,কুছ না সামাঝ মে আয়ে মেয়ে কেয়া কারু।"

সামিন এগিয়ে এসে তৌফের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,"কি হয়েছে তোর? কি গাইছিস এটা?"

_হিন্দি গান ভাই, এর অর্থ হচ্ছে, "প্রথম প্রথম বার ভালোবেসে ফেলেছি, কিছু বুঝতে পারছি না আমি কি করবো। মন আমার এমন হাল করলো, কিছু বুঝতে পারছি না আমি কি করবো!"

সামিন তৌফের দিকে শীতল চোখে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে বলে,"অর্থ বুঝেছি আমি। কেনো গাইছিস এটা? আমাদের দলটাকে তোর গানের পালা মনে হয়? রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে গান গাই আমরা?"

তৌফ মাথা নাড়ায়। সে ভীষণ ঘা'ব'ড়ে গিয়েছে ভাইয়ের ধ'ম'কে।

সামিন চোখ থেকে সানগ্লাস খুলে ফেলে হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে,"কাজ শেষ আমার। বয়েজ কলেজে যাবি? কতদিন হারুন চাচার টং-য়ের দোকানের চা খাইনা। ফুয়াদকেও ডেকে নে। আর ওখানের ফুটবল টিমকে খবর দে। মন ভালো নেই আমার।"

_ইশমাম ভাইয়ের জন্য মন খারাপ?

সামিন কিছু না বলে রাহাতের দিকে তাকিয়ে বলে,"বাইক স্টার্ট কর।"

আজ সামিন গাড়ি নিয়ে আসেনি। হাই ওয়ে-তে মোট ষোলো টা বাইক সাই সাই করে চলছে। সামিন রাহাতের পেছনে বসেছে। সবাই বয়েজ কলেজের সামনে গিয়ে বাইক পার্ক করে। ফুয়াদ আগে থেকেই গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো। দলবল নিয়ে হারুনের দোকানে ঢুকে পরে সামিন‌।

চা খেতে খেতে সবুজকে বলে,"আমি কত বাজে মেয়র দেখেছিস? জনসেবা রেখে এখানে আড্ডাবাজি করছি। ব'খা'টে'দে'র মতো বাইকে করে ঘুরে বেড়াচ্ছি।"

ফুয়াদ সামিনের হাবভাব দেখেই বুঝেছিলো সামিনের মন খারাপ। কিছুক্ষণ যেতেই সে আমতা আমতা করে বলে ওঠে," তোর কি মন খারাপ?"

সামিন কিছু বলে না। ফুয়াদ বলে,"কি হয়েছে নতুন করে?"

_নতুন করে কিছু হয়নি। সারাদিন ভাবীর জন্য মন খারাপ থাকে আর এখন ইশমাম ভাইয়ের জন্য।

কন্ঠে সামিনের প্রতি সহানুভূতি সবুজের। সামিন সবুজের দিকে চোখ রাঙিয়ে বলে,"বেশি কথা বলবি না। আমি সারাদিন মন খারাপ করি তোর ভাবীর জন্য? কি ধরনের কথা এগুলো?"

ফুয়াদ হাসতে হাসতে বলে,"তোর মতো পুরুষ এগুলো স্বীকার করবে না জানি। তাহলে তোর পৌরুষ চলে যাবে।"

সামিন চুপ হয়ে যায়। তারপর কিছুক্ষণ পরে বলে ওঠে,"সত্যি কথা বলতে মিস করি ওকে। ওর পাগল পাগল আচরণ গুলোকে।"

তৌফ বলে,"ভাবী কে একটা ইমোশনাল মেসেজ লিখে পাঠিয়ে দিন ভাই। মেয়ে মানুষের মন গলাতে এইসব "ভং চং" কথা বার্তা অনেক কাজে দেয়।‌"

সামিন তৌফের দিকে তাকিয়ে বলে,"ভং চং কথাবার্তা মানে?"

_এই ধরেন। কবিতা বা গানের দুইটা লাইন । যা একেবারে একটা মেয়েলোকের হৃদয়ে গিয়ে লাগবে। সারাদিন চিল্লাচিল্লি করে এদের কাছে মার্কেট পাওয়া যায় না,তবে এইসব "ভুগিচুগি" কথাবার্তায় এরা পটে যায়। আমিও আমার গার্লফ্রেন্ডকে এভাবে পটিয়েছি।

সামিন কিছুক্ষণ বোকার মতো তৌফের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর ফোনটা তৌফের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,"লিখে দে অমন একটা মেসেজ।"

তৌফ লজ্জিত ভঙ্গিতে বলে,"ছিঃ ছিঃ ভাই। ভাবীর মেসেজ আপনি নিজের হাতে টাইপ করেন। আমি বলে দিচ্ছি।"

সবাই খুবই আগ্রহী হয়ে দেখতে থাকে তৌফ আর সামিনের কর্মকাণ্ড। তৌফ গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,"লেখেন, যেদিন আমি হারিয়ে, বুঝবে সেদিন বুঝবে।"

সামিন লিখতে থাকে,"যেদিন আমি হারিয়ে যাবো, বুঝবে সেদিন বুঝবে।"

তৌফ বলতে থাকে,"অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে।"

সামিন লিখে ফেলে। তারপর তৌফের দিকে তাকিয়ে বলে,"লাইন দুটো সুন্দর। কার লেখা?"

তৌফ বলে,"কি জানি, জসীমউদ্দীন নয়তো কাজী নজরুল ইসলাম।"

রাহাত বলে,"জসীমউদ্দীনেরই হবে। কাজী নজরুল বিদ্রোহ করে কুল পেতো না এসব "ভুগিচুগি" কথাবার্তা লিখতো কখন?"

ফুয়াদ সামিনের ফোনটা নিয়ে বলে,"দেখি গুগলকে জিজ্ঞেস করে দাড়া।"

সামিনের ফোনটা হাতে নিয়ে ফুয়াদ কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে থেকে সামিনের দিকে তাকায়। হতভম্ব হয়ে সামিনকে বলে,"এসব কি লেখা তোর সার্চ হিস্ট্রিতে? কিসব জানতে চেয়ে বেড়াতি এসব! স্ত্রীর মন জয় করার উপায়!

বৌয়ের উপর রাগ উঠলে তা নিয়ন্ত্রণ কিভাবে করে!

স্ত্রীর সাথে কিভাবে কথা বলা উচিত!"

পড়তে পড়তে ফুয়াদ উচ্চশব্দে হাসতে থাকে। তার হাসি থামছেই না। সামিন থাবা মে'রে ফোনটা কেড়ে নিয়ে থমথমে মুখ নিয়ে বসে থাকে। কিছুক্ষণ পর হাসি থামিয়ে ফুয়াদ বলে,"বেচারা গুগল কে তো বেশ অত্যাচার করেছিস এই ক'দিন।"

সামিন তার দলের ছেলেদের সামনে লজ্জায় পরে যায়। ফুয়াদ বলে,"কিছু শিখতে পেরেছিস?"

তৌফ বলে ওঠে,"ভাই মেসেজ টা পাঠিয়ে দিন ভাবীর নাম্বারে। দেখবেন একটু হলেও মন গলবে। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। তমাকে এটা লিখেই পটিয়েছি আমি।"

সামিন কিছুক্ষণ সবার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,"তমা আর আতাউর আলমের মেয়ে অদ্রিতা আলো এক হলো? এই মেসেজ পাঠালে তোর ঐ ভাবী কি লিখবে জানিস? লিখবে জাহান্নামে যান। মিলিয়ে নিস। দরকার নেই। বাদ দে, বাদ দে।"

তৌফ জোর করে সামিনের ফোনটা নিয়ে বলে,"ধূর ভাই! কিছু হবে না এমন। আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি মেসেজ টা।"

_না তৌফ।

_হ্যা ভাই।

_তৌফ পাঠাস না।

তৌফ দাঁত বের করে বলে,"পাঠিয়ে দিয়েছি ভাই!"

***

মেসেজের টুং টুং আওয়াজে বই থেকে চোখ সরিয়ে মোবাইল টা হাতে নেয় আলো।

"যেদিন আমি হারিয়ে যাব বুঝবে সেদিন বুঝবে, অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে।"

সামিন ইয়াসারের নাম্বার দেখে আলো একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। নতুন নাম্বার টাও জেনে গিয়েছে লোকটা! লোকটা যথেষ্ট বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। আর কত সিমকার্ড চেঞ্জ করবে আলো!

মেসেজটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আলো তার উত্তর টাইপ করতে থাকে।

সামিনের ফোনে নোটিফিকেশনের টুং টাং আওয়াজ হয়। সবাই কৌতুহলী হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। সামিন আলোর নাম্বার দেখে খুশি হয় কিন্তু পরক্ষনেই মেসেজটি দেখেই তার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ফুয়াদ বলে,"কি লিখেছে আলো?"

সামিন থমথমে মুখ নিয়ে বলে,"লিখেছে Go to hell!"

ফুয়াদ ভ্যাবাচাকা খেয়ে যায়। অবশ্য সে জানতো আলো এমন কিছুই বলবে।‌ তৌফ বলে ওঠে,"ভাই আপনি তো বলেছিলেন ভাবী লিখবে জাহান্নামে যান কিন্তু ভাবী লিখেছে Go to hell, আপনার কথা পুরোপুরি মিলে নাই ভাই।"

সামিন শীতল চোখে তৌফের দিকে তাকায়, তারপর রাহাতের দিকে তাকিয়ে বলে,"এই ওর কানের নিচে একটা ঠাঁটিয়ে চ'ড় মেরে দে তো।"

কিছুক্ষণ বিরক্ত হয়ে বসে থাকে আলো‌। আবার ফোনের রিংটোন বেজে ওঠে। শ্রাবনীর নাম্বার দেখে তৎক্ষণাৎ রিসিভ করে কানে ধরে।

ফোনটা কানে চেপে ধরে আলো চুপ করে আছে। ওপাশ থেকে শ্রাবনীর কান্নার শব্দ আসছে। সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। আলো বলে ওঠে,"কাকার কি অবস্থা?"

_আছে। খুবই ভেঙে পরেছে বাবা।

আলো আমতা আমতা করে বলে ওঠে,"আমাকে কি করতে হবে?"

_তুই একটু ইয়াসার মির্জাকে বলে দেখনা। আমি জানি সে পারবে। তার অনেক ক্ষমতা।

আলো অস্বস্তিতে পরে যায়। শ্রাবনীকে কিভাবে মানা করে দেবে সে! কিন্তু ঐ লোকটাকে আলো কি বলবে! এমনিতেই লোকটা আলোর পিছু ছাড়ছে না। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে কিছু একটা চিন্তা করে আলো তারপর শ্রাবনীকে আশ্বস্ত করে নিচু স্বরে বলে,"আচ্ছা। তুই রাখ। আমি দেখছি। তোকে জানাবো।"

***

কলিং বেলের আওয়াজ আলো পেয়েছে। বিছানায় অলস ভঙ্গিতে উপুড় হয়ে শুয়ে একটা বইয়ে মুখ গুঁজে ছিলো সে। একেবারেই উঠতে ইচ্ছে করছে না। দুমিনিট পরে নিচু গলায় রেহেনাকে ডেকে বলে,"মা কে এসেছে?"

"আমি"

ইশিতার গলার আওয়াজ পেয়ে আলো হকচকিয়ে উঠে বসে মাথা ঘুরিয়ে তাকায়। আলোর ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ইশিতা। তার মুখ হাসি হাসি।

বিছানা থেকে ওড়নাটা তুলে গলায় পেঁচিয়ে ইশিতার দিকে ছুটে যায় আলো। ইশিতার হাত ধরে আনন্দিত গলায় বলে,"তুমি!"

ইশিতা হেসে বলে,"খুব কষ্ট করে খুঁজে বের করলাম তোমাদের বাড়ি।"

আলো ইশিতাকে টেনে এনে নিজের বিছানায় বসিয়ে দেয়। ইশিতা আলোকে কয়েক মুহূর্ত দেখে বলে,"সালোয়ার কামিজে তোমাকে ভালো লাগে না ভাবী।"

আলো ইশিতার দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে নিচু স্বরে বলে,"ভাবী ডেকো না আমায়।"

ইশিতা হাই তুলে বলে,

_ডিভোর্স না হওয়া পর্যন্ত তো ডাকতেই পারি।

আলো বিছানার একপাশে বসে। ইশিতার দিকে তাকিয়ে বলে,"রিতু কেমন আছে?"

_খুব একটা ভালো নেই। সারাদিন বমি হতে থাকে।

_তোমাদের দু'জনকে খুব মিস করি।

_আদৌও করো? মনে তো হয়না আমার।

আলো ম্লান হাসে। ইশিতা বলতে থাকে,"আর কাউকে করো না?"

_আর কাউকে করার কথা আপু? কেনো এসব অযৌক্তিক কথা বলছো।

ইশিতা চুপ করে থাকে।‌ আলো বলে,"এভাবে এসো মাঝে মাঝে। আমার ভালো লাগবে।"

ইশিতা আলোর কথার জবাব না দিয়ে বলে,"বাড়িটা একেবারে আগের মতো হয়ে গিয়েছে। তুমি চলে এসেছো, ইশমামও আমেরিকা চলে গিয়েছে। আবার সেই আগের রূপ। সময় কাটে না আমার। তাই খুঁজতে খুঁজতে তোমার কাছে এলাম।"

_ইশমাম চলে গিয়েছে?

আলো জানতে চায়। ইশিতা মাথা নাড়িয়ে বলে,"গত পরশু।"

আলো আর কথা বাড়ায় না। প্রসঙ্গ পালটে বলে,"শান্ত ভাইয়া কেমন আছে?"

_ভালো।

_সব ঠিক আছে? আর কিছু বলেছে তোমাকে তোমার ওই গুণধর ভাইয়া?

ইশিতা মাথা নাড়িয়ে বলে,"ভাইয়া আমার সাথে কথা বলে না সেদিনের পর থেকে।"

***

হুট করে ব্রেক ক'ষে দিয়ে হাত মুষ্টিবদ্ধ ফেলে সামিন। কিছুক্ষণ সামনের দিকে তাকিয়ে থেকে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। সাগর তার নিজের গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। সামিন এগিয়ে গিয়ে দাঁত খিচিয়ে সাগরকে কুৎসিত একটা গা'লি দেয়। সাগর মুচকি হেসে বলে,"মেয়রের মুখে এসব গালি মানায়?"

_সর এখান থেকে। এটা তোর বাপের রাস্তা না।

ধ'ম'কে ওঠে সামিন।

সাগর হেসে ফেলে,বলে,"কোনটা আমার বাপের তা আমি ভালো করেই জানি। শুনলাম তোর বৌ চলে গিয়েছে বাপের বাড়ী! এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে চলে গেলো? শা'লা তোর সাথে আসল জিনিস নেই নাকি!"

কথাটা বলে খিক খিক করে হাসতে থাকে সাগর। সামিন শীতল চোখে সাগরের দিকে তাকিয়ে থাকে। সাগর হাসি থামিয়ে বলে,"সমস্যা নেই। আমার কাছে পাঠিয়ে দিবি। তুই আর আমি তো একই।"

সামিন সাগরের কলার ধরে চেঁচিয়ে ওঠে,"একেবারে জিভ টে'নে ছিঁ'ড়ে ফেলবো বা'স্টা'র্ড!"

সাগর সামিনের হাত ছাড়িয়ে দিয়ে বলে,"দুই কোটি টাকা উসুল করবো আমি তোর থেকে। যেভাবে হোক ইয়াসার মির্জা।"

কয়েক মূহুর্ত চুপ করে থেকে বলে,"অবশ্য তোর বৌকে আমার কাছে দিলে একটু চিন্তা ভাবনা করে দেখতাম...."

কথাটি বলে সাগর শেষ না করতেই সামিন সাগরের নাক বরাবর একটা ঘু'ষি মে'রে দেয়। সাগর নাক চেপে ধরে মাথা ঘুরিয়ে সামিনের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে। সামিন দৃঢ় ভাবে বলে,"তোর সাথে কথা অপচয় করে লাভ নেই। আমি ক্ষে'পে গেলে এই দেশে ভিক্ষা করেও খেতে পারবি না এই কথাটা শুধু মাথায় রাখিস।"

সামিন গাড়িতে গিয়ে উঠে বসে গাড়ি স্টার্ট করে। তারপর গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যায়।

মেজাজ যথেষ্ট বিগ'ড়ে রয়েছে তার। পার্টি অফিসের সামনে গাড়ি থামিয়ে হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে ঢোকে। ছেলেরা তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। যেদিন সামিনের মেজাজ গরম থাকে সবাই খুব ভয়ে ভয়ে থাকে। আজ সম্ভবত সেই দিন। কোনো কথা বললেও দুবার ভেবে কথা বলতে হবে আজ।

***

সামিন ইয়াসারের পার্টি অফিসের সামনে সিএনজি থামে। আলো তার দুইপাশে বসে থাকা হিয়া এবং শ্রাবনীর দিকে তাকায়। তারা শুকনো মুখে আলোর দিকেই তাকিয়ে আছে। আলো বেশ ঘা'ব'ড়ে আছে। সারাদিন যাকে সে তুলোধুনো করে এখন কিনা তার কাছেই হেল্প চাইতে এসেছে সে। এর থেকে লাঞ্ছনার আর কি হতে পারে!

সিএনজির ভাড়া মিটিয়ে তিনজন নেমে পরে। ধীরপায়ে হেটে ইয়াসার মির্জার পার্টি অফিসের গেইটের ভেতরে প্রবেশ করে এদিকে ওদিকে তাকায়।

রাহাত চুপচাপ বসেছিলো। সে আলোকে খেয়াল করেনি। মাথা নিচু করে ফোনে কিছু দেখছিলো।

"রাহাত!"

অবাক হয়ে রাহাত মাথা তুলে তাকায়। আলোকে দেখে তার মুখ হা হয়ে গিয়েছে। আলো কিছু সময় চুপ করে থেকে বলে,"আপনার ভাইয়ের সাথে দরকার ছিলো। তার একটা এপয়েনমেন্ট পেতে পারি?"

রাহাত উঠে দাঁড়িয়ে যায়। বাকি ছেলেরা সবাই মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে।

হতভম্ব ভাব কাটিয়ে রাহাত বলে ওঠে,"ভাই আপনার জন্য অলটাইম ফ্রী। চলুন আমার সাথে।"

_ভাই।

রাহাত ডাকতেই সামিন ধ'ম'কে'র সুরে বলে ওঠে,"বলেছি আগামী একঘন্টায় কেউ আসবি না এখানে।"

_ভাই ভাবী এসেছে।

_কোন ভাবী? আমার কোনো ভাবী নেই।

_ভাই আমাদের ভাবী।

সামিন কিছু কাগজ দেখছিলো। রাহাতের কথায় মাথা তুলে তাকিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

রাহাত পেছনের দিকে তাকিয়ে বলে,"ভাবী আসুন।"

সামিন উঠে দাঁড়িয়ে যায়। ধীরপায়ে হেটে আলো সামিনের অফিসে ঢোকে। তার পেছনে হিয়া এবং শ্রাবনী।

আলো একপলক সামিনের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে নেয়। সামিন এখনও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। আলো নিচু স্বরে বলে,"আমি এখানে একজন মেয়রের কাছে এসেছি। আপনার সাথে কিছু দরকার ছিলো।"

আলোর কথায় সামিনের ঘোর কেটে যায়। সে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে ঠান্ডা গলায় বলে,"ঠিকাছে। আগে বসো।"

হিয়া এবং শ্রাবনী সামিনকে সালাম দেয়। সামিন সালামের উত্তর দিয়ে ওদেরকেও বসতে বলে।

সামিন রাহাতের দিকে তাকায়। রাহাত ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর আলোর দিকে তাকিয়ে বলে,"বলো। কি সমস্যা তোমার।"

আলো কাট কাট ভাবে বলে,"সমস্যা আমার না। সমস্যা আমার বান্ধবীর।"

সামিন শ্রাবনীর দিকে তাকিয়ে বলে,"তুমি শ্রাবনী না? শ্রাবনী দাস। সুজন দাসের মেয়ে? ভালো গান করো।"

শ্রাবনী মাথা নাড়িয়ে বলে,"জ্বি ভাইয়া।"

_কি সমস্যা তোমার?

_ভাইয়া আমার বাবার দূর সম্পর্কের এক ভাইয়ের ছেলেরা জোর পূর্বক আমাদের বাড়ি দখল করেছে, সাথে আমাদের দোকান ঘরটাও , যেটা আমাদের পরিবারের একমাত্র ইনকাম সোর্স ছিলো। এমতাবস্থায় পুরো পরিবার নিয়ে খুব বিপদে পরে আপনার কাছে এসেছি।

_পুলিশের কাছে গিয়েছিলে? সুজন কাকা কোথায়?

শ্রাবনী মাথা নেড়ে বলে,"গিয়েছিলাম। বহুবার। আমাদের থেকে টাকাও নিয়েছে অনেক কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আর বাবা অসুস্থ। তাই আমিই আলোকে রিকোয়েস্ট করে আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি। "

সামিন শ্রাবনীর কথা শুনতে শুনতে আলোর দিকে তাকাচ্ছে বারবার। আলো তার দিকে না তাকিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে।

সামিন চোখ সরিয়ে নিয়ে শ্রাবনীকে বলে,"এটা লিখন দাসের কাজ? যে লিখন দাসের ডান হাতে ছয়টা আঙ্গুল?"

শ্রাবনী মাথা নাড়ায়। তারপর বলে,"বিপদের মাঝ সমুদ্রে পরেছি ভাইয়া। পাশে কেউ নেই, না আছে একটা ভাই। ওরা অনবরত আমাদের চার বোনের ক্ষতি করবার থ্রেট দিয়ে যাচ্ছে।"

সামিন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে,"হুম বুঝলাম। আচ্ছা আমি বিষয়টা দেখবো। জমির দলিল কোথায়?"

_বাবার কাছেই।

সামিন মাথা নাড়িয়ে বলে,"আঙ্গুল টা বাঁকা করতে হবে। তুমি নিশ্চিন্তে বাড়ি যাও। আর তোমাদের বোনদের কিছু হবে না। দুশ্চিন্তা করো না।"

আলো তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে ফেলে। নিজে একটা মেয়ে উঠিয়ে নেওয়া লোক হয়ে অন্য মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে,কি হাস্যকর! খুব হাসি পাচ্ছে আলোর। সামিনের চোখে তা পরে যায়। সে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শ্রাবনীর দিকে তাকিয়ে বলে,"খুব ভালো গান করো তুমি। গত বছর শুনেছিলাম। জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় হয়েছিলে। তোমরা সব বান্ধবীরাই বেশ গুনী দেখছি। কেউ কারাতে জানো,কেউ গান‌। আর তুমি কি জানো?"

হিয়ার দিকে তাকিয়ে সামিন বলে। হিয়া হেসে বলে,"আমি শুধু পৃথিবীর অক্সিজেন নষ্ট করতে জানি ভাইয়া। আমি ওদের মতো গুনী নই।"

সামিন হেসে ফেলে। তারপর শ্রাবনীর দিকে তাকিয়ে বলে,"তোমার গান শুনেছি। তোমার বান্ধবীর কারাতে এখনো দেখার সৌভাগ্য হয়নি।"

আলো সামিনের দিকে তাকায়। সামিন প্রসঙ্গ পালটে বলে,"কি খাবে বলো? ঠান্ডা কিছু আনতে বলি?"

হিয়া মাথা নাড়িয়ে বলে,"না না ভাইয়া। আমাদের ক্লাস আছে আমরা উঠি।"

সামিন বাঁধা দিতে গিয়েও দেয়না। দেখে আলো সবার আগে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে আছে।

শ্রাবনী কৃতজ্ঞ ভঙ্গিতে বলে,"ধন্যবাদ দিয়ে ছোটো করতে চাইবো না ভাইয়া।"

সামিন হাসে। তারপর বলে,"দুদিনের মধ্যে ঝামেলা শেষ করে দেবো আমি। চিন্তা করো না।"

হিয়া বলে,"আসি ভাইয়া?"

_হ্যা। তোমরা গিয়ে নিচে দাঁড়াও। তোমাদের বান্ধবী পাঁচ মিনিট পর যাচ্ছে।

আলো বলে,"মানে টা কি?"

হিয়া আলোর দিকে তাকিয়ে চোখ পাকিয়ে বলে,"চুপ করে দাঁড়িয়ে থাক এখানে। আমরা নিচে আছি।"

আলো বেড়িয়ে যেতে চাইলে হিয়া ধাক্কা দিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে নিচে চলে যায় শ্রাবনীকে নিয়ে।

সামিন আলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আলো একপলক দেখে চোখ সরিয়ে নিয়ে কপাল কুঁ'চ'কে বলে,"কি? কি সমস্যা?"

সামিন ঘরের দরজা ভেজিয়ে দিয়ে বলে,"আমার কাছে তো তুমি এসেছো! আমি তো যাইনি। সমস্যা তো তোমার।"

_সমস্যা আমার বান্ধবীর। আমি একজন মেয়রের কাছে এসেছি।

_মেয়রের কাজ তো এগুলো নয়। এগুলো একটা গুন্ডার কাজ। আমি তো গুন্ডা। গুন্ডার কাছে আসতে আপনার আত্মসম্মানে বাঁধলো না আছিয়া?

আলো ক'ট'ম'ট করে সামিনের দিকে তাকিয়ে বলে,"হ্যা। গুন্ডা দেখেই এসেছি। এবার দয়া করে কাজ টা করে দিয়েন। এসব তো আপনি ভালোই পারেন।"

আলো চলে যেতে নিলে সামিন আলোর হাত টেনে ধরে। টেনে একেবারে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আলো কিছুটা ঘা'ব'ড়ে যায়। অস্ফুট স্বরে বলে,"আপনি আমাকে হ্যা'রা'স করছেন ইয়াসার মির্জা।"

সামিন আরেকটু এগিয়ে গিয়ে নিচু স্বরে বলে ওঠে,"তুমি তো নিজেই এসেছো হ্যা'রা'স হতে।"

_আমি কিন্তু চেঁচাবো। আপনার গায়ে হাত তুলবো বলে দিলাম।

_চেঁচাও। গায়ে হাত তোলো। তোমার কি'ল ঘু'ষি আমার কাছে কাতুকুতুর মতো লাগে।

আলো চেঁচাতে পারে না। কেনো পারে না সে নিজেও জানে না। সামিন আলোর পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখে নিচুস্বরে বলে,"সালোয়ার কামিজে বিশ্রী লাগে তোমাকে। শাড়ি পরবে। আর এভাবে কিশোরী মেয়েদের মতো দুটো বেনী করেছো কেন চুলে? বয়স কমানোর চেষ্টা? খোঁপা করবে।"

_আপনি আমাকে যেতে দিন।

_তোমার বান্ধবীদের থেকে পাঁচ মিনিট নিয়েছি। মাত্র দু মিনিট হয়েছে। আর তিনমিনিট পরে ছেড়ে দেবো।

আলো বুঝতে পারছে সে নিজের পা নাড়াতে পারছে না। সামিন আলোর ঘাবড়ে যাওয়া মুখটা দেখে মুচকি হাসে। তারপর কন্ঠস্বর স্বাভাবিক রেখে বলে,"এতো বড় উপকার করবো তোমাদের? কি দেবে বিনিময়ে?"

_আপনার ছেলেদের নাস্তা-পানির ব্যাবস্থা করে দেওয়া হবে। এর বেশি তো কিছু দেওয়ার নেই। সবটা তো বোঝেন।

_ওসব তো ওরা পাবে! আমি কি পাবো?

আলোর অস্বস্তি বেড়ে যায়। সে দূরে সরে যেতে চাইলে সামিন আবারো তার হাত ধরে টেনে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ঘোর লাগা কন্ঠে বলে ওঠে,"আজ সকাল থেকে মেজাজ টা প্রচুর গরম ছিলো। তুমি এসে ঠান্ডা করে দিলে। তার জন্য তোমাকে একটা ধন্যবাদ দিতে চাই আছিয়া।"

কথাটা বলে সামিন বাঁকা হাসি হাসে। আলো কিছু বুঝে ওঠার আগে তার কপালে একটা চুমু দিয়ে দ্রুত পায়ে হেঁটে নিজের চেয়ারে গিয়ে বসে পরে। আলো পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। তার শরীর একটুও নড়ছে না। সামিন কিছু কাগজ উল্টে পাল্টে মনোযোগ দিয়ে দেখছে। যেন এই মাত্র কিছুই হয়নি। কিছু সময় পরে আলোর দিকে না তাকিয়ে নিচু স্বরে বলে ওঠে,"পাঁচ মিনিট শেষ হয়েছে। যাও।"

চলমান......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন