ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগলো চোখে

৩৬তম পর্ব

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে

#পর্বসংখ্যা_৩৬

#Esrat_Ety

" ম্যাম পে/শে/ন্টে/র কষ্ট হচ্ছে ওনার হাতের বাঁ/ধ/ন খুলে দেই!? "

ডাক্তার রুবি হে/ড নার্স শিলার দিকে তাকিয়ে বল,"হোক । তুমি পা ধরে রাখো। ও/য়া/শ করাটা জরুরি।‌ এ্যা/ফে/ক্টে/ড এরিয়া গুলো ইমে/ডি/য়েট/লি ক্লি/ন করতে হবে। ওর জামা কা/টো, কাঁচি কোথায়? ধরে রাখো ওকে।"

দুজন এ্যা/সি/স্ট্যা/ন্ট নার্স পা ধরে। তারা দুজনেই সদ্য জয়েন করেছে চাকুরীতে। বাচ্চা বয়সী। এটাই তাদের জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা। দৃশ্য টা তাদের ভেতরটা নাড়িয়ে দিচ্ছে। নিশ্চুপ চোখ দিয়ে পানি ঝরাচ্ছে তারা।

ইমা/র/জে/ন্সি ইউনিটের লোহার দরজা ভেদ করে গগন/বিদারী চিৎ/কারে পুরো হসপিটালে থাকা প্রত্যেকটা স্তন্য/পায়ীকে কাঁ/পি/য়ে দিচ্ছে।

সামিন ধীরপায়ে এক কদম এগিয়ে যায়। পেছন থেকে ফুয়াদ শক্ত করে জা/প/টে ধরে রাখে তাকে।

" সামিন যাস না।"

সামিন নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে যায়। দলের ছেলেরা জাপটে ধরে ,"ভাই দোহাই লাগে যাবেন না।"

কিছুক্ষণ ওদের সাথে ধস্তা/ধস্তি করে সামিন নি/স্তেজ হয়ে ফুয়াদের গায়ে এলিয়ে পরতে চায়। শক্ত করে ফুয়াদ সামিনকে আঁ/কড়ে ধরে রেখেছে।

কান্নার তীব্রতা ক্ষণে ক্ষণে বেড়ে যাচ্ছে।‌ দীর্ঘসময় পরে একেবারে নিস্তব্ধ হয় যায় পুরো ইমা/র্জেন্সি ইউনিট। সামিন অনুভূতি শূন্য হয়ে পরে থাকে করিডোরের মেঝেতে। তার থেকে দূরেই লা/শের মতো পরে আছে আতাউর আলম। এবারও তারা দুজন দুজনের প্রতি/দন্দ্বী। কে কতটা ক্ষ/ত/বি/ক্ষ/ত হতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলছে যেন।

ডাক্তার রুবি দ্রুতপায়ে দরজা খুলে বেরিয়ে আসে। ফুয়াদ এগিয়ে যায়। কিছু জিজ্ঞেস করার পূর্বেই রুবি বলে ওঠে,"হাই ডো/জের

ইন/জে/ক/শ/ন দেওয়া হয়েছে। জ্ঞা/ন নেই। ট্রি/ট/মেন্ট শুরু করবো এখন‌।"

কথাটা শেষ করে রুবি রনির দিকে তাকিয়ে বিরক্ত ভঙ্গিতে বলে,"তুমি কি অশিক্ষিত? জানো না এ/সি/ড এ্যা/ফে/করে/ড এরিয়ায় পানি ঢালতে হয় তৎক্ষণাৎ ? নাকি বুঝতে পারোনি? অবুঝ নাকি?"

রনি উৎ/কণ্ঠা নিয়ে বলে,"ম্যাম পানি ঢেলেছি। মুখে পানি ঢালতে ঢালতে আনা হয়েছে।"

_হোয়াট নন/সে/ন্স! এ/সি/ড গায়ে লেগেছে আর তুমি মুখে পানি ঢেলেছো? গায়ে পর্যাপ্ত পানি ঢালা উচিত ছিলো।

রনি মিইয়ে যায়। দূরে বসে মিহি সুরে কেঁ/দে যাচ্ছে নৌশিন।

সামিন ক্লান্ত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ায়। রুবির দিকে তাকিয়ে নি/ষ্প্রাণ গলায় বলে,"ওকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন আন্টি। কথা বলুন। বো/র্ড বসান। এক্ষুনি। এই মুহূর্তে।"

রুবি সামিনের দিকে তাকিয়ে ধীরে সুস্থে বলে,"শান্ত হও। আই ক্যান ফিল ইউ। ট্রিট/মে/ন্ট বিদেশে যেটা হবে, এখানেও ওকে সেটাই দেয়া হবে। এটা একটা লম্বা সময়ের ব্যাপার। ট্রিট/মে/ন্টের শেষে বুঝতে পারবো সা/র্জা/রি লাগবে কি না। শান্ত হও তুমি। শরীরের বেশ কিছু স্থান এ্যা/ফে/ক্টে/ড হয়েছে। তার ওপর বোকামি করে কেউ পর্যাপ্ত পানি ঢালেনি গাঁয়ে। পিঠ, পেটের ডানপাশ, ডান হাতের কনুই ..."

"শুনতে চাচ্ছি না আন্টি।"

নি/স্তেজ কন্ঠে বলে সামিন। রুবি হাতের গ্লাভস খুলে বলে,"যাস্ট প্রে ফর হার সামিন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।"

রুবি চলে যেতেই সামিন উঠে দাঁড়ায়। এদিক ওদিক অসহায়ের মতো তাকিয়ে দেয়ালে হাত দিয়ে অনবরত ঘু/ষি মারতে থাকে। ফুয়াদ গিয়ে ধরে ফেলে তাকে। সামিন ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলে বলতে থাকে,"আমার জন্য। যা যা হয়েছে সব আমার জন্য, ওর লাইফে আমি একটা অ/ভি/শা/প ফুয়াদ।"

_এসব কি বলছিস? তোর জন্য কেনো হবে?

চেঁ/চিয়ে ওঠে ফুয়াদ।

_এসব আমার শ/ত্রু/রা করেছে। আমি দায়ী ফুয়াদ। কতটা ক/ষ্ট হচ্ছে ওর। আচ্ছা রাস্তায় ও কেমন করছিলো? নিশ্চয়ই গ/লা/কা/টা মুরগির মতো ছটফট করছিলো।

কথাটা বলে সামিন শেষ করতে পারে না। রনি এগিয়ে এসে বলে,"ভাই ছেলে দুটোকে ধরা হয়েছে। পুলিশের হেফা/জতে আছে। "

একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে আশেপাশে তাকায় সে। আতাউর আলম একই ভাবে পরে আছে । সামিন ইমা/র্জে/ন্সি ইউ/নিটের দরজার দিকে একপলক তাকিয়ে শার্টের হাতা গুটিয়ে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। ফুয়াদ বলে,"কোথায় যাচ্ছিস?"

কোনো জবাব না দিয়ে সামিন বেড়িয়ে যায় হসপিটাল থেকে।

***

ভেতর থেকে কান/ ফা/টা/নো আর্ত/নাদে পুরো দালান ভারি হয়ে উঠেছে। কিন্তু কারো সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। যে যার মতো কাজ করে যাচ্ছে। কম্পিউটার অপা/রেটর একমনে ডেস্কটপে কিছু একটা দেখে যাচ্ছে।

থানার কন/স্টে/বল সুধীর দাশ রি/ম্যা/ন্ড রুমের দরজার বাইরে

ব/ন্দু/ক মেঝেতে ঠে/কিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ ভাবলেশহীন।

"সামিন স্টপ। স্টপ সামিন। ম/রে যাবে ও।"

পেছন থেকে গাঁয়ের সর্বোচ্চ শক্তি খাটিয়ে সামিনকে ফেরানোর চেষ্টা করছে সমীর। সাদিক ল/কা/পের একপাশে মেঝেতে গুটিয়ে বসে আছে, ভ/য়া/র্ত চোখে সে সামিনের তা/ন্ড/ব দেখছে। রবিকে বোধ হয় শে/ষ করে ছাড়বে। এরপর তার পালা।

সামিন রবির মাথা পা দিয়ে পি/ষে দিতে চায়। রবি তী/ব্র আর্ত/নাদ করে ওঠে, সামিন চেঁচিয়ে বলতে থাকে, "কি ক্ষ/তি করেছি আমি তোর? কোন জন্মের প্রতি/শোধ নিলি তুই? বল। ম/রা/র আগে বলে যা।"

সমীর সামিনকে জা/প/টে ধরে,"সামিন ছেড়ে দে ভাই। সামিন এটা অন্যায়। আমার চাকরি চলে যাবে। বোঝার চেষ্টা কর।

ওর র/ক্ত/ব/মি হচ্ছে। "

সমীর কে ধা/ক্কা দিয়ে সামিন রবির দিকে তাকিয়ে বলে," জবাব দে তোর কি ক্ষ/তি করেছি আমি।"

_ভাই, ভাই আল্লাহর ক/স/ম আমরা আপনার বৌকে কিছু করতে চাইনি। আমাদের টা/র্গে/ট নৌশিন ছিলো। হুট করে নৌশিন নিচু হয়ে যাওয়ায় আপনার বৌয়ের গায়ে লেগে গিয়েছে। ভাই আপনার বৌকে কিছু করতে চাইনি।

সামিন দাঁতে দাঁত চেপে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে রবির মাথাটা চে/পে ধরে। সমীর কোনো দি/শা খুঁজে না পেয়ে কনস্টেবল ডেকে সামিনকে ছাড়িয়ে নেয়।

সামিন হাপাচ্ছে। সমীর একটা চেয়ার টেনে সামিনকে বসিয়ে দেয়। গায়ের হালকা আকাশি রঙের শার্টে র/ক্তে/র ছো/প ছো/প দাগ । এক গ্লাস পানি খেয়ে নিস্তেজ হয়ে বসে থাকে।

সমীর গিয়ে সাদিককে মা/র/তে থাকে,"নৌশিনকে কেনো এ/সি/ড মা/র/তে চেয়েছিলি? কার কথায়? জবাব দে।"

_স্যার সৈকত ভাই। শমশের ভুঁইয়ার ছেলে।

কেঁ/দে ফেলে সাদিক।

সামিন সাদিকের দিকে তাকিয়ে আছে হিং/স্র দুটি চোখে। এমন সময় সাদিকের ফোন বেজে ওঠে। সমীর গম্ভীর কন্ঠে বলে,"কে ফোন দিয়েছে? "

সাদিক কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা তুলে বলে,"সৈকত ভুঁইয়া ফোন দিয়েছে স্যার!"

_রিসিভ কর। আর যা যা শিখিয়ে দেবো সেটা বলবি। স্পি/কার অন কর।

সাদিক মাথা নাড়ায়।

ফোনটা রিসিভ হতেই ওপাশ থেকে সৈকত বলে,"কিরে শা/লা। ফোন ধরছিলি না কেনো? কাজ হয়েছে? ত/ড়/পেছে ও? রাস্তায় রাস্তায় লাফিয়েছে তাই না? গড়াগড়ি খেয়েছে ওর সুন্দর মুখ চেপে ধরে? "

সাদিক একটা ঢোক গিলে বলে,"ভাই একটা ভুল হয়ে গিয়েছে ।"

"ভুল মানে? কি ভুল?"

_ভাই, এ/সি/ড নৌশিনের মুখে ছুঁ/ড়/তে গিয়ে ভুল করে সামিন ইয়াসারের বৌয়ের গায়ে লেগেছে।

_হোয়াট! আলোর গাঁয়ে?

_হু ভাই।

_কি হয়েছে? ওর মুখ পু/ড়ে গিয়েছে?

_না ভাই। গায়ে লেগেছে। পিঠে।

ওপাশ থেকে সৈকতের পৈ/শা/চিক হাসির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কিছুক্ষণ হেসে নিয়ে বলে," মাত্র? এতো কম শা/স্তি! এটা কিভাবে মানা যায়। এ/সি/ড না, ওকে তো রে/ই/প করতে চেয়েছিলাম আমি। গ্যাং রে/ইং/প। ওর মতো মেয়ের সাথে ওটাই করা উচিত, ওর তেজ ওভাবেই ভাঙা উচিত। ওর জুতার ময়লা মাখিয়ে দিয়েছিলো আমাকে। আমি ওর শরীরে ক/লং/ক মাখিয়ে দিতাম। সামিন ইয়াসার হাত কামড়াতো। শুনেছি ওকে ছে/ড়ে দিচ্ছে সামিন। তাহলে ভালোই হবে। আমরা আমাদের কাজ নি/র্বি/ঘ্নে করতে পারবো। আচ্ছা তোরা চলে আয়। আমাদের ক্লা/ব/ঘরে, নতুন দুটো বোতল আনিয়েছি। একেবারে আসল টা। নৌশিনকেও পরে দেখে নেবো।"

সৈকত ফোন কেটে দেয়। সামিন তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ায়। সমীর আবারও সামিনকে ধরে ফেলে,"কোথায় যাচ্ছিস?"

সামিন শীতল চোখে তাকায় সমীরের দিকে। সমীর চেঁচিয়ে বলে ওঠে,"না। তুই একটুও বাড়াবাড়ি করবি না সামিন। আমি ফো/র্স পাঠাচ্ছি। আমি নিজে যাচ্ছি। তুই কিচ্ছু করবি না। তোর বৌ হসপিটালে সামিন,ডোন্ট ফরগেট দ্যাট!"

সামিন পুনরায় চেয়ারে ধপ করে বসে পরে, বিড়বিড় করে বলে," শু/য়ো/রে/র বা/চ্চা গুলো বুঝতেও পারছে না, ওরা আ/ঘা/ত সামিনের বৌকে নয়। সামিনকেই করেছে।"

***

চোখ খুলে রেহেনা বিড়বিড় করে আলোর নাম ধরে ডাকতে থাকে। ইশিতা এগিয়ে এসে রেহেনার হাত ধরে বলে,"আন্টি ভাবী ঠিক আছে। ভাবী একেবারে ঠিক আছে। ঘুমাচ্ছে ভাবী। আপনি শান্ত হোন।"

রেহেনা দু'চোখ বন্ধ করে ফেলে। চোখের কার্নিশ বেয়ে দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পরে। ঠোঁ/ট কে/পে ওঠে। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,"জানো মা, জীবদ্দশায় আমি এক ওয়াক্ত নামাজ ছাড়িনি। কখনোই রবকে কৃতজ্ঞতা জানাতে কার্পণ্য করিনি। সব প্রার্থনাতে আমি শুধু স্বামী সন্তানের ভালো চেয়েছি। মেয়েটা আমার কিসের

শা/স্তি পাচ্ছে বলো তো। জীবনে কখনো একটা পিঁপড়াকে ক/ষ্ট দেয়নি। একটা মি/থ্যা কথা বলে নি। অ/ন্যা/য়ের সাথে আ/পো/ষ করেনি। তবুও এতো ক/ষ্ট কেন ওর।"

ইশিতা চুপ করে রেহেনার দিকে তাকিয়ে আছে। রেহেনা অঝোর ধারায় কেঁ/দে যাচ্ছে।

সামিন উদাস চোখে মাথা ঘুরিয়ে চারপাশটা দেখতে থাকে। এখানে। এই স্থানেই শুরু হয়েছিলো সবকিছুর।‌ এখানে একটা বিশাল মঞ্চ ছিলো। জনসমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ছিলো । মুখের সামনে ছিলো

মা/ই/ক্রো/ফোন। হঠাৎ গালে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে সামিন ঘুরে তাকাতেই দেখে চোখে পানি নিয়ে অগ্নি/মূর্তি ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে এক শ্যাম-সুন্দরী। ছোটো খাটো দেখতে। মায়াবী আয়তাকার চোখ দুটো রসগোল্লা সাইজের মতো বানিয়ে সামিনের দিকে ঘৃ/ণা নিয়ে তাকিয়ে ছিলো।

চোখের সামনে সে দৃশ্য পুনরায় ভেসে উঠতেই সামিন আনমনে হেসে ওঠে। সেদিন কি পরিমান রা/গ জন্মেছিল ঐ তে/জী মেয়েটার প্রতি। ইচ্ছে করছিলো খু/ন করে ফেলতে। আর আজ সেই মেয়েটির জন্য তাকে খু/ন হতে হচ্ছে। অনূভুতিরা গ/লা টি/পে সামিন ইয়াসারের সত্তাকে খু/ন করছে প্রতিনিয়ত।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সামিন এগিয়ে যায়। পার্কের বেঞ্চিতে বসে থাকে চুপচাপ। হসপিটালে এখন যাবে না সে। তার আছিয়ার সাথে বোঝাপড়া আছে আজ। এতো লোকের ভীড়ে সে তার আছিয়াকে ক/টু কথা শোনাতে পারবে না।

ফোনের রিংটোন বেজে ওঠে। সমীরের ফোন। সামিন রিসিভ করে।

"কি ব্যাপার? কন/স্টে/বল পাঠিয়ে দিলি কেন মাঝ রাস্তায়? তুই হসপিটাল যাসনি?"

_যাবো। কি করেছিস তুই?

সামিন তেজী কন্ঠে বলে ওঠে।

"অন দ্যা ওয়ে সামিন।"

সামিন একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে দিয়ে বলে,"লা/শ হলেও চাই।"

***

ডাক্তার রুবি এসে ফুয়াদের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,"সামিন কোথায়? "

_কোথায় যেন বেড়িয়েছে আন্টি।

রুবি বলে,"ট্রিট/মে/ন্ট চলছে। চিন্তা করতে বারণ করো। সবাই আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাও যে মুখের কিছু হয়নি ফুয়াদ। একটা মেয়ের মৃ/ত্যু হওয়া ভালো তার থেকে।"

ফুয়াদ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মাথা নাড়ায়। সামিন কোথায় গেলো বুঝতে পারছে না সে। কোনো অ/ঘ/টন ঘটায়নি তো আবার। থানায় ফোন দিয়েও কিছু জানতে পারলো না।‌ ফোন বের করে আবার সামিনের নাম্বার ডায়াল করে সে। সামিন ফোনটা রিসিভ করে। ফুয়াদ বলে,"কোথায় গিয়েছিস তুই? কি উল্টো পাল্টা করছিস। হসপিটালে আয়।"

_রাতে আসবো।

_তুই কোথায় সামিন?

_আন্ডার কন/স্ট্রা/ক/শন টা/ও/য়ার টার নিচে।

_ওখানে কি করছিস?

ফুয়াদ অবাক হয়ে জানতে চায়। সামিন ঠান্ডা গলায় বলে,"স্মৃতি নাড়াচাড়া।"

_মানে?

_মানে কিছু না। আমার শাশুড়ির জ্ঞা/ন ফিরেছে?

_হু।

_অদ্ভুত ফ্যামিলিতে জুরে গিয়েছি ভাই। একটা লোকও স্বাভাবিক না‌। কথায় কথায় জ্ঞা/ন হারায়, কথায় কথায় স্ট্রো/ক করে। আর আমার বৌয়ের কথা কি বলবো। সে তো কাঁ/ধে অলটাইম ঝামেলা নিয়ে ঘোরে।

ফুয়াদ চুপ করে থাকে। সামিন বলে,"ওনাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দে। বলে দে ফ্রম নাউ আলো ইজ হার হাজব্যান্ড'স রেসপনসিবিলিটি।"

ফোন কেটে সামিন চুপ করে বসে থাকে। সে এখন যে স্থানে আছে এখানে একদিন ভয় দেখিয়ে আলোকে ডেকে এনে নিজের পা ধরিয়েছিলো সামিন। রা/গ, এই রা/গ মানুষকে দিয়ে কতটা নিচু কাজ করিয়ে নেয়।

চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে থেকে ক্লান্ত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ায় সে। মাগরীবের আজান দিয়ে দিয়েছে। পরি/ত্যাক্ত আন্ডার কন্স/ট্রাক/শন টাওয়ার টা থেকে বেরিয়ে এসে মেইন রোডে দাঁড়িয়ে পরে। আশেপাশের লোকজন তাকে অদ্ভুত চোখে দেখছে। মেয়র সামিন ইয়াসার মির্জা এমন আলুথালু বেশে এখানে কি করছে! এখানে তার কাজ কী?

***

"পুলিশের সাথে ব/ন্দু/ক/যু/দ্ধে বিরোধীদলীয় নেতা শমসের ভুঁইয়ার ছোট ছেলে সৈকত ভুঁইয়া নি/হ/ত। আজ বিকাল পাঁচটা নাগাদ, পুলিশের এক স্পেশাল টি/ম তার ক্লা/বে খোজ চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মা/দ/ক/দ্রব্য ও অ/স্ত্র উদ্ধার করে। পুলিশের থেকে বাঁচতে সে পুলিশের দিকে গু/লি ছো/ড়ে এবং পুলিশ আ/ত্ম/রক্ষায় পাল্টা গু/লি ছু/ড়/লে সে মা/রা যায়। তার লা/শ পো/স্ট/ম/র্টে/মর জন্য সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে সে আজকের মহিলা কলেজ রোডের এ/সি/ড কান্ডের মুল হোতা। ছেলের আ/ক/স্মিক মৃ/ত্যু/র শো/ক না সইতে পেরে হৃদ/রো/গে আ/ক্রা/ন্ত হওয়ায় সাবেক মেয়র শমশের ভুঁইয়াকে গ্রীনলাইফ মেডিকেয়ার হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনো তার বড় ছেলে সাগর ভুঁইয়া এই ব্যাপারে মুখ খোলেনি। "

হসপিটালের ওয়েটিং রুমে হাত বেঁধে টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে সামিন। তার মুখ ভাবলেশহীন। সৈকতের মৃ/ত্যু/র খবরে লোকজনের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে। কোনো না কোনো কারনে সবাই খুশি হয়েছে খবরটায়। কম ত্রা/স সৃষ্টি তো করেনি গত ছয় মাসে। কিশোর গ্যাং-এর গ/ড ফাদার ছিলো। কত অভিভাবকের অভিযোগ ছিলো ওর নামে। এতো অল্প বয়সেই মা/দ/কের সাম্রাজ্য বিস্তার করে বসেছিলো।

ঘুরে ফিরে সবাই সামিন ইয়াসার মির্জাকে দেখছে। পরনে জিন্স প্যান্ট, গায়ে হালকা আকাশী রঙের শার্ট। শার্টে ছোপছোপ কালো কালো দাগ। বলিষ্ঠ দেহে শার্ট টা আঁট/সাঁট হয়ে আছে। পুরো বিধ্বস্ত লাগছে সামিনকে। সব আগন্তুকেরা সামিনের দিকে ঘুরে ফিরে তাকাচ্ছে। মেয়র সাহেবের এই অবস্থা কেন সেটা জিজ্ঞেস করার সাহস নেই তাদের।

"ভাইয়া।"

ইশিতার ডাকে সামিন ঘুরে দাঁড়ায়।

_যাসনি তোরা? ইলহাম রিতু কোথায়?

_ভ/মি/ট হচ্ছে ভাবীর। ওয়াশ রুমে নিয়ে গেছে মেজো ভাইয়া।

_তোরা চলে যা। আমি থাকবো এখানে।

_ইশমাম বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছে ভাইয়া। ওকে বলবো?

_নাহহ। শুধু শুধু টেনশন করবে। এমনিতেই মন খারাপ করে থাকে সারাদিন।

ইশিতা একটা প্যাকেট সামিনের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বলে,"শার্ট টা পাল্টে নাও। তোমাকে বিশ্রী লাগছে।"

সামিন চুপচাপ প্যাকেট টা নিয়ে পাশের একটা বেঞ্চিতে রেখে দেয়। দূরের একটা বেঞ্চিতে আতাউর আলম চুপচাপ বসে আছে। সবাইকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে সেও থেকে গিয়েছে । হাত বেঁ/ধে দৃষ্টি মেঝের দিকে দিয়ে রেখেছে।

সবাই চলে যায়, জামিল চুপচাপ করিডোরের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। সামিন জামিলের দিকে তাকিয়ে বলে," তোর বৌ কে কথা দিয়েছিলাম তোকে দিয়ে চা/ম/চা/মি করাবো না। কিন্তু তুই জন্মগত চা/ম/চা। তোর মধ্যে থেকে চা/ম/চা ভাবটা গেলো না। যা এখান থেকে।

জামিল কিছুক্ষণ তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে চলে যায়।

হসপিটালে থেকে গিয়েছে দু'টো লোক। আতাউর আলম এবং সামিন ইয়াসার মির্জা।

আতাউর আলমের মাথাটা বেশ ব্যাথা করতে শুরু করেছে। কপালের দুপাশের রগ দপদপ করছে। হঠাৎ তার সামনে কেউ একটা ওয়ান টাইম চায়ের কাপ এগিয়ে ধরে। মাথা তুলে সামিনকে দেখে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপ টা নেয়। সামিন নিজের জন্যও এক কাপ চা এনেছে। চায়ের কাপ হাত আতাউর আলমের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বসে পরে।

দু'জনেই কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকে। তারপর সামিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বলে, "এখানের ক্যা/ন্টি/নের চা একেবারে বি/শ্রী। খুবই সস্তা চায়ের পাতা দেয়। মনে হয় যেসব চায়ের পাতা লা/শে/র ক/ফি/নে দেওয়া হয় সেটা। এই চা টা বাইরে থেকে আনলাম।"

আতাউর আলম চায়ের কাপে চুমুক দেয়।

সামিন একপলক তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,"আপনার সাথে কখনোই খোলামেলা আলোচনা করা হয়নি।"

_কি আলোচনা?

আতাউর আলম সামিনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে।

_আমি আপনার এ/ক্সি/ডেন্ট করাইনি। কান ভাঙানো হয়েছিলো আপনার মেয়ের।

_আমিও জামিলকে কো/পা/নোর ব্যবস্থা করিনি। কান ভাঙানো হয়েছিলো তোমার।

দু'জনে আবার চুপচাপ। সামিনের দিকে তাকিয়ে আতাউর আলম বলে,"তোমার ধারনা তুমি আমার মেয়েকে ভালোবাসো?"

_হু।

_তা আমার মেয়েকে কতটা ভালোবাসো তুমি?"

_আপনি যতটা আপনার মেয়েকে ভালোবাসেন তার থেকে একটু কম।

ঠান্ডা গলায় জবাব দেয় সামিন।

আতাউর আলম বলে,"লাভ কি। তুমি একটা গুন্ডা।"

সামিন ম্লান হাসে। আতাউর আলম সামিনের গায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,"গায়ে র/ক্ত কেনো। কাকে কু/পি/য়ে এসেছো আবার।"

সামিন মৃদু হেসে চায়ের কাপটা বিনে ছু/ড়ে মে/রে উঠে দাঁড়ায়। তারপর ক্লান্ত ভঙ্গিতে আলোর কেবিনের দিকে যায়।

দরজার বাইরে থেকে দুমিনিট ভেতরে তাকিয়ে থেকে পা বাড়ায় সামিন। পেছন থেকে ডাক্তার রুবি ডেকে ওঠে,"সামিন।"

সামিন ঘুরে তাকায়।

রুবি বলে,"কোথায় যাচ্ছো?"

_ভেতরে। ওর কাছে!

রুবি সামিনকে ভালো করে লক্ষ্য করে বলে,"নো ওয়ে সামিন। ইন/ফেক/শনের ঝামেলা আছে। তুমি নিজেই জী/বা/ণু নিয়ে ঘুরছো। কি অবস্থা তোমার।"

_আন্টি,শার্ট পাল্টে আসছি আমি। একবার। প্লিজ।

রুবি বলে,"ঠিক আছে। চলো আগে সা/র্জি/ক্যা/ল পোশাক পরে নাও। তারপর ঢুকবে।"

***

হাই ডো/জের ইন/জেকশন দেওয়া হয়েছে। পিঠের ক্ষতটা সবচেয়ে বেশি। যখন এ/সি/ড ছোঁ/ড়া হচ্ছিলো তার কয়েক মুহূর্ত আগে একটা বালুভর্তি ট্রা/ক চলে গিয়েছিলো ওদের পাশ দিয়ে।

পে/ট্রোলের তীব্র গন্ধে আলো মুখে ওড়না চে/পে ধরে ঘুরে গিয়েছিলো। এ/সি/ড ছিটকে লেগে যায় তার পিঠে।

আলোকে কাত করে রাখা হয়েছে। চুল গুলোতে দুটো বেনী করে দিয়েছে নার্স। পুরো শরীর একটা সাদা চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

ধীরপায়ে হেটে গিয়ে সামিন কিছুটা দূরত্ব রেখে একটা চেয়ার টেনে বসে পরে।

দীর্ঘ সময় ধরে আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে সে। উজ্জ্বল শ্যামলা বর্ণের মুখটা এখন অতিরিক্ত ফরসা লাগছে। আলো যদি এখন নিজেকে দেখতো তাহলে নিজেই নিজেকে বলতো "সাদা মুলা।"

চুলে বাচ্চাদের মতো দুটো বেনী করে রাখা। ছোটোখাটো গোলগাল মুখটাকে আরো ছোটো লাগছে। এখন আলোকে দেখে ছাব্বিশ বছরের কোনো ভদ্রমহিলা নয় বরং সতের বছরের কিশোরী মেয়েদের মতো লাগছে। ঐ পাতলা দু'টো ঠোঁট দেখে কে বলবে ঐ ঠোঁট নেড়ে এই অভদ্রমহিলা কত কুৎ/সিত কুৎ/সিত গালি দেয় সবাইকে। চেহারার সাথে স্বভাব আচরণ কিচ্ছু যায়না মেয়েটার। চেহারা দেখে কতটা অবলা লাগে আর আচরণ দেখে মনে হয় জে/ল ফেরত লেডি ড্রা/গ মা/ফি/য়া।

সামিন আনমনে হেসে ফেলে। তারপর একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে অস্ফুট স্বরে বলে ওঠে,"কি বলেছিলে সেদিন? বলেছিলে,ইয়াসার মির্জা। চলুন তাহলে একটা বা/জি ধরা যাক। যদি ইলেকশনে আমরা জিতি তাহলে আমি যা বলবো তাই আপনি শুনবেন, আর যদি আপনি জেতেন তাহলে আপনি যা বলবেন আমি সেটা শুনবো। এটাই বলেছিলে তাই না ? তারপর কি হলো, আমি জিতলাম। বাজিতে জিতে শর্ত মোতাবেক তোমার আমার কথা শোনার কথা ছিলো তাইনা? আর আমি কি বলেছিলাম তোমাকে? তুমি ভালো থাকো এটাই তো তাইনা? এটাই তো শর্ত ছিল। তুমি আমার শর্ত মানলে কই? কেনো ভালো থাকলে না তুমি?"

এ পর্যন্ত বলে সামিন থামে। তারপর আবার বলতে শুরু করে,"শর্ত ভা/ঙ/লে কি হয় জানো তো আছিয়া? যে শর্ত ভা/ঙে তাকে শা/স্তি পেতে হয়। তোমাকেও শা/স্তি পেতে হবে। তোমাকে তোমার স্বামী শাস্তি দেবে আছিয়া।"

কথাগুলো বলে সামিন চুপ হয়ে যায়। চাদরের ফাঁক দিয়ে আলোর বা হাতের আঙ্গুল বের হয়ে আছে। সামিন তার হাত বাড়িয়ে আলোর একটা আঙ্গুল ছোঁ/য়। তারপর তার মুখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে।

কেবিনের দরজার বাইরে থেকে সামিনের দিকে আতাউর আলম তাকিয়ে আছে। তিনি ঐ ছেলেটার ব্যা/কু/ল/তাকে বিচার করতে পারছে না। তিনি শুধু দেখছে তার মেয়ের জন্য কেউ উৎ/কণ্ঠা নিয়ে বসে আছে, তার মতো। তার সাথে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে থাকতে চাইছে। প্রতিযোগীতার ফলাফল কি হবে? কে এগিয়ে থাকবে? কে?

আঙুলের ওপর থেকে হাত সরিয়ে আলোর মাথায় হাতটা আলতো করে বুলিয়ে দিয়ে বলে,"খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হও তুমি। তোমার

শা/স্তি/র জন্য প্রস্তুত হও। আমি অপেক্ষা করছি আছিয়া।"

চলমান.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন