ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগলো চোখে

৩৫তম পর্ব

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে

#পর্বসংখ্যা_৩৫

#Esrat_Ety

" আপনার স্ত্রীকে আপনি ডি/ভো/র্স দেবেন? "

কাজী সামিনের দিকে তাকিয়ে আছে । সামিন একটা চেয়ার টে/নে বসে গম্ভীর কন্ঠে বলে, " প্রথমত আমাকে "আপনি" করে বলবেন না। আমি আপনার ছেলের বয়সী। "

কাজী বিনয়ী হয়ে বলে," তুমি কেন ওকে তা/লা/ক দিতে চাচ্ছো? "

_জরুরি তা/লা/ক দেওয়া টা। আপনি কাগজ পত্র রে/ডি করবেন। কত সময় লাগবে? বেশি দেরী হবে?

কাজীর হতভম্ব ভাব কাটছে না। সে বলে, কিছুক্ষণ আগে তুমি পুনরায় মেয়র নির্বা/চিত হলে। আর তুমি এখন এসেছো বৌকে

তা/লা/ক দিতে? কেনো? কি করেছে তোমার বৌ?

_ও কিছু করেনি। আমি করেছি।

_কি করেছো?

_ওকে বিয়ে করেছি।

কাজী সামিনকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। সেই সামিন আর এই সামিনের মধ্যে বি/স্তর ফারাক। এই সামিন ইয়াসারের চোখে সেদিন হিং/স্র/তা দেখেছিলো। আজ দেখছে উদাসীন দুটি চোখ।

সামিন বলে ওঠে, " বেশি দেরী হবে আংকেল? "

কাজী মাথা নাড়িয়ে বলে,"দু দিন লাগবে। "

সামিন একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে। তারপর কাজীর টেবিলের ওপরে একটা ঢেকে রাখা পানির গ্লাসে চোখ যায় তার। কাজীর দিকে তাকিয়ে শুকনো গলায় বলে,"পানি টা কি ভালো? আমি খেতে পারি?"

কাজী মাথা নাড়িয়ে গ্লাসটা সামিনের দিকে এগিয়ে দেয়। সামিন ঢকঢক করে গ্লাসটা খালি করে উঠে দাঁড়ায়। কাজীর দিকে তাকিয়ে নিস্তেজ কন্ঠে বলে,

"কাগজ পত্র রেডি রাখবেন। চেয়েছিলাম মিউ/চুয়াল ডি/ভো/র্স দিতে। কিন্তু অত সময় অপেক্ষা করতে ইচ্ছে করছে না। ওর কষ্ট হবে।"

কথাটা বলে সামিন ধীরপায়ে হেঁটে কাজী অফিস থেকে বেরিয়ে আসে‌ । কাজী ফ্যাল/ফ্যাল করে সামিন ইয়াসারের যাওয়া দেখে।

বসার ঘরে রিতু সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বসে ছিলো। সামিনকে দেখে তড়ি/ঘড়ি করে উঠে দাঁড়িয়ে তার কাছে আসে। সামিনের দৃষ্টি দেখে সে থ/ম/কে যায়। উৎ/কণ্ঠা নিয়ে বলে,"কি হয়েছে ভাইয়া? শরীর খা/রা/প আপনার? চোখ এমন লাগছে কেনো?"

_কেমন লাগছে?

_সারাদিনে কিচ্ছু খাননি। আমি আপনার জন্য বসে আছি। আসুন খাবেন।

সামিন ম্লান হেসে রিতুর মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে বলে,"খেয়ে নাও তুমি। চুনু কাকার দোকান থেকে একটা ভেজি/টেবল রো/ল খেয়েছি আমি।"

রিতু থম/থমে মুখ নিয়ে সামিনের যাওয়া দেখে। ঐ শুভ্র পাঞ্জাবি গায়ে, ব/লি/ষ্ঠ শরীরের মানুষটার জন্য তার ভীষণ ক/ষ্ট হচ্ছে। ভীষণ।

***

উত্তপ্ত দুপুর। গরমে ঘে/মে নেয়ে একাকার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওড়না দিয়ে মুখ মুছে এদিকে ওদিকে তাকায় আলো। হিয়া বলে,"চল রিকশার জন্য দাড়িয়ে থেকে লাভ নেই। আজ বো/র্ড পরিক্ষা,সবাই হাই স্কুলের সামনে গিয়ে বসে আছে বোধহয়। মাত্র পনেরো মিনিটের রাস্তা। চল হেঁটেই যাই।"

আলো ক্লান্ত চোখে হিয়ার দিকে তাকিয়ে নি/ষ্প্রা/ণ গলায় বলে,"চল।"

দু'জনে হাঁটতে থাকে। কিছু পথ যেতেই নীরবতা ভেঙে হিয়া বলে ওঠে,"শেষ পর্যন্ত তোর সিদ্ধান্তই থাকলো। কি বলিস।"

আলো চুপ করে থাকে। হিয়া বলে ওঠে,"মা সবসময় আমাকে বলতো, "একটু আলোর মতো হতে পারিস না?" । তখন আমিও ভাবতাম, ইশশশ আমি যদি তোর মতো হতে পারতাম। কিন্তু এখন আমি মোটেও তোর মতো হতে চাই না। ভ/য় হয় আমার তোকে দেখলে। "

আলো এখনো নিশ্চুপ। হিয়া আলোর নীরবতা দেখে তার দিকে তাকায়। কলেজের গেইটের ডানপাশে সৈকত নৌশিনের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। নৌশিন কোনো নড়া/চড়া করছে না কিন্তু তার চোখে মুখে ভ/য়ে/র ছা/প স্পষ্ট। আলো সেদিকে তাকিয়ে আছে। হিয়া পাশ থেকে বলে,"এই এই আলো? তুই কি এখন আবার ঝামেলা করবি? দেখ, ওরটা ও বুঝে নেবে‌ । তখন এতো করে নি/ষে/ধ করলাম প্রেমের প্র/স্তা/ব গ্রহণ না করতে। শুনলো না। আমার আর ভালো লাগছে না তোকে ঝামেলায় পরতে দেখতে। চল গেইটের ভেতর চল।"

হিয়া আলোকে তাগাদা দেয়। সৈকতের সাথে দিঘির পাড়ের ঘটনার কথা মনে পরলেই তার পুরো শরীর এখনো অ/সা/ড় হয়ে যাচ্ছে। ঐদিন কেউ না পৌছালে তার অবস্থা খুব খা/রা/প হতে পারতো। সে ইহ/জনমে সৈকতের চোখের সামনে পরতে চায় না।

"কিরে বিয়ে ঠিক হয়েছে নাকি তোর? তা তোর হবু স্বামীকে বলে দেবো? আমি তোর কোথায় কোথায় ছু/য়ে/ছি? বলে দেবো তোর কোথায় কোথায় তিল আছে?"

জ/রানো কিন্তু তে/জী কন্ঠে নৌশিনের হাতের ক/ব্জি চে/পে ধরে সৈকত বলতে থাকে। নৌশিনের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরা দু ফোঁ/টা তরল দেখে বোঝার উপায় নেই সে ভেতরে ভেতরে গ/লা/কা/টা মুরগির মতো ত/র/পা/চ্ছে। আবেগের বশে একটা ভুলের জন্য তার জীবনের চরম প্রতিদান দিতে হচ্ছে, হবে। তার নি/স্তার নেই এই

জা/নো/য়া/র/টা/র থেকে। নৌশিন চেচাতেও পারছে না। ঝা/প/সা চোখে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। কানের কাছে সৈকতের বলা কথাটা প্রতি/ধ্বনিত হচ্ছে, "বলে দেবো নৌশিন? বলে দেবো?"

আলো হিয়ার হাত ছাড়িয়ে দিয়ে সৈকতের দিকে এগিয়ে যায়। গিয়ে সৈকতের হাত থেকে নৌশিনের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে নৌশিনকে আগলে নেয়। তারপর নৌশিনকে ধম/কের সুরে বলে,"চেঁ/চা/তে পারিস না স্টু/পিড?"

নৌশিন ভ/য়ে গুটিয়ে গিয়েছে। সৈকত একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বলে,"তুই আবার এসেছিস। তোর সমস্যা কি?"

_এখান থেকে যা।

ঠান্ডা গলায় বলে আলো। সৈকত বলে ওঠে,"স্বামীর মতো বেশ সাহস না তোর? "

_আমি এক দুই তিন গুনবো। এখান থেকে যাবি সৈকত। নয়তো আজ ভ/য়া/ব/হ কিছু হবে।

_তাই নাকি? কি হবে? দেখা?

নৌশিন খ/প করে আলোর হাত ধরে বলে,"ও নে/শা করে আছে আলো।"

আলো নৌশিনের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সৈকতের দিকে কিছু মুহূর্ত চুপ করে তাকিয়ে থেকে পায়ের জুতা খুলে মা/র/তে শুরু করে।

মুহুর্তেই ভীড় জমে যায় কলেজের সামনের রাস্তাটায়। কিছু ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েরাও এসে আলোর সাথে সমান তালে পে/টা/তে থাকে সৈকতকে।

নৌশিন একটু সাহস পায়। তীব্র ঘৃ/ণা নিয়ে চেঁচিয়ে বলে ওঠে,"পে/টা। আ/রো পেটা।"

সৈকতের কানে নৌশিনের সে চিৎ/কার পৌঁছায়। হিং/স্র হা/য়ে/না/র মতো নৌশিনের দিকে তাকিয়ে থাকে সৈকত। নৌশিনের চোখ বেয়ে অঝোর ধারায় পানি গড়িয়ে পরতে থাকে।

অবস্থা বেগতিক দেখে হিয়া এসে আলোকে পেছন থেকে জা/প/টে ধরে সরিয়ে নেয়। বেশ কিছু লোক এসে পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করে,তবে উচ্চ/বাচ্য বলে না সৈকতকে। সবাই খুব ভ/য় পায় নতুন এই ত্রা/স/কে। সৈকত গা ঝাড়া দিয়ে নৌশিনের দিকে তী/ক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে এক পলক তাকিয়ে থেকে বাইক স্টার্ট করে চলে যায়।

***

"ভাইজান!"

সামিন কিছু কাগজপত্র দেখছিলো। সিতারার ডাকে তার দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলে,"হু।"

_ঘর গোছাতে এসেছিলাম।

_অগোছালো তো কিছু নেই আমার জীবন ছাড়া।

ঠান্ডা গলায় সামিন কথাটি বলে নিজেই বেশ অবাক হয়। এসব কি ধরনের কথা বলছে সে সিতারাকে!

সিতারা মৃদু স্বরে বলে,"ঝুল ঝা/ড়/তে পাঠিয়েছে মেজো ভাবী।"

"ঝা/ড় তাহলে।"

সামিন আবারো কাগজে মন দেয়। সিতারা ঘর গোছাতে গোছাতে সামিনের ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকটা সং/কোচ নিয়ে নিচু স্বরে বলে,"এগুলো এখান থেকে সরিয়ে ফেলবো ভাইজান?"

"কোনগুলো?"

সামিন না তাকিয়েই জিগ্যেস করে। সিতারা আগের থেকেও নিচু স্বরে বলে ওঠে,"বড় ভাবীর সাজার জিনিস।"

সামিন মাথা তুলে তাকায়। তার ড্রেসিং টেবিলের সামনে এখনো আছিয়ার অব্যবহৃত প্রসা/ধনী অযত্নে পরে আছে। যা কখনো ঐ মেয়েটা ছুঁ/য়ে/ও দেখেনি।

সামিন একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বলে,"না। ওগুলো ওখানে থাকুক। দেখতে ভালো লাগছে।"

সিতারা আর কিছু বলে না। ঘর পরিষ্কার করে দিয়ে চলে যায়। সামিন আবারো কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে ড্রেসিং টেবিলের দিকে তাকায়। অপলক তাকিয়েই থাকে সেদিকে।

***

"কু/কু/র ভাগ্য" বলে যদি কিছু থাকে তাহলে আলোর ক্ষেত্রে শব্দটা প্রযোজ্য। তার কু/কু/রে ভীষণ ভ/য়। ক্লাস ফাইভে একবার

কা/ম/ড়ে আলোকে বে/হুঁ/শ বানিয়েছিলো তখন থেকে এই প্রানীটাকে জ/মের মতো ভ/য় পায় সে। কিন্তু রাস্তাঘাটে এই প্রানীটার সাথেই আলোর হুট হাট দেখা হয়ে যায়।

আলো একটা ঢোক গি/লে এদিক ওদিক তাকায়। কিছুক্ষণ আগে হিয়া সাথে ছিলো। তখন আসতে পারলো না অ/স/ভ্য গুলো। এখন আলোর সাথে কেউ নেই। আলোর বুকটা ধর/ফরিয়ে উঠছে। দুই পায়ের কু/কু/র গুলোকে তো জুতা/পে/টা করে সামলানো যায় , চার পায়ের কুকুর গুলোকে সে কিভাবে সামলাবে? মনে হচ্ছে এক্ষুনি কা/ম/ড়ে দেবে। ঝাঁ/পি/য়ে পরে ছিন্ন/ভিন্ন করে দেবে আলোকে। এক পা সামনে এগোতেই একটা কুকুর ঘেউ/ঘেউ করে ওঠে।

আ/তং/কে আলো জমে যায়। ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখে আরো দুটো কু/কু/র এসে বাকি তিনটার সাথে যোগ দিয়েছে। সবকটা ঘেউ/ঘেউ করতে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে এরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে কে আগে প্রথম কা/ম/ড় বসাবে। আলো এক লাফে পেছনে আগায়। আশে পাশে ত্রিসীমানায় কেউ নেই। সব লোক কোথায়! পাশের মসজিদে যোহরের আজান দিয়ে দিয়েছে। কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে সে ঘুরে দৌড়াতে শুরু করে এদিক ওদিক না তাকিয়ে। কু/কু/রে/র কামড় খেয়ে ম/র/তে সে ইচ্ছুক নয়। প্রান হাতে নিয়ে দৌড়াতে গিয়ে হুট করে তার পায়ের সাথে একটা ভাঙ্গা ই/টের ধা/ক্কা লেগে যায়। ঘটনার আক/স্মিক/তায় আলো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নাকে তী/ব্র পি/চের গন্ধ অনুভব করে। রোদের তাপে রাস্তার পিচ গ/লে গন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে। নাকের কাছে তী/ব্র য/ন্ত্র/না অনুভূত হয়। ধীরে ধীরে মাথা তুলে ওপরে তাকাতেই দেখে একটা ব/লি/ষ্ঠ হাত তার দিকে কেউ বাড়িয়ে ধরে রেখেছে। আলোর হাটুর কাছটায় য/ন্ত্র/না হচ্ছে। ছি/লে গেলে যেমন হয়। ধীরে ধীরে হাতের মালিককে দেখবে বলে সে মাথা তুলে তাকাতেই থ/ম/কে যায়।

অসহায়ের মত এদিক ওদিক তাকিয়ে কি মনে করে হু/ট করেই সামিনের হাতে হাত রাখে। সামিন গ/ম্ভী/র মুখে টেনে তোলে আলোকে। নাকে বা/রি খে/য়ে নাকের ডান পাশের ছিদ্র থেকে র/ক্ত ঝ/র/ছে। হাঁটুর কাছটা ছিলে গিয়েছে, নতুন চুড়িদার টা রক্ষা পায়নি। লজ্জায় আলো গুটিয়ে যায়। প্রকৃতি তাকে ক্ষণে ক্ষণে মুখ থু/ব/ড়ে পরার ব্যাবস্থা করে দিচ্ছে।

সামিন আলোর দিকে না তাকিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কু/কু/র গুলোর দিকে এগিয়ে যায় দুকদম। কু/কু/র গুলো উল্টোপথে দৌ/ড়ে যায়। আলো ব্যা/থা/তু/র শরীরে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। সামিন যেন আলোর মনের কথা বুঝে যায়।

নিচু স্বরে বলে ওঠে," ওরা আমার স্বজাতি তো। আমাকে খুব মানে। "

আলো মাথা তুলে সামিনের দিকে তাকায়। সামিন মাথা ঘুরিয়ে আলোর দিকে তাকাতেই দুজনের চোখাচোখি হয়। আলো চোখ নামিয়ে নেয়।

সামিন তাচ্ছিল্যের সাথে বলে,"তোমাকে ফলো করছিলাম না। আমাকে অপ/বাদ দিও না। এখানে কাজ ছিলো।"

_কাজ? মহিলা কলেজের সামনে?

হুট করে আলো নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করে বসে। সামিন ঠান্ডা গলায় বলে,"না, মহিলা কলেজের পাশে। কাজী অফিসে। "

আলো পুনরায় মাথা তুলে তাকায়। কৌতুহলী হয়ে না চাইতেও বলে ওঠে,"কাজী অফিসে কী? বিয়ে করছেন নাকি!"

সামিন একপলক আলোর দিকে তাকিয়ে বলে,"আমাদের ডি/ভো/র্সের কাগজ পত্র গোছানো হয়েছে কিনা খোজ নিতে এসেছি। কাজীর নাতী হস/পি/টালে। আজ হবে না। তোমার দূ/র্ভা/গ্য।"

আলো সামিনের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। সামিন আলোর দৃষ্টি উ/পে/ক্ষা করে ধীরপায়ে এগিয়ে যায়।

হঠাৎ করে আলোর ভীষণ রা/গ হতে শুরু করে। এতটা আ/ঘা/ত পেয়েছে আলো, লোকটা ভদ্রতা করেও একবার জিজ্ঞেস করলো না আলোর ব্যা/থা করছে কিনা! আগে তো আলো না চাইতেও ব্যা/থা পেলে কোলে নিয়ে দৌড়া/দৌড়ি করতো! খুব রা/গ হচ্ছে। কেনো হচ্ছে তার উত্তর আলোর জানা নেই।

***

"পে/ই/ন কি/লা/র নিয়েছিস?"

রেহেনা এসে আলোর মাথার কাছে বসে। আলো চোখ মেলে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,"নিয়েছি। জ্ব/র আসছে সম্ভবত।"

রেহেনা কিছুক্ষণ মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে ওঠে," একটাবার ভেবে দেখবি ম/না? শেষ বারের মতো?"

রেহেনা যখন আলোর কাছে বিশেষ কোনো আবদার করতে চায় তখন ম/না বলে সম্বোধন করে।

আলো নিশ্চুপ হয়ে থাকে। রেহেনা বলতে থাকে,"তুই রে/গে যাস না মা। অশিক্ষিত বাঙালি মায়ের মন তো, তাই মানছে না।"

কথাটা বলে রেহেনা শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের পানি মো/ছে। তারপর বলে ওঠে,"কোনো মানুষ কি আবেগ,রা/গ,জে/দ, প্র/তি/হিং/সা প/রা/য়/ণ/তা, ভুলের উর্ধ্বে? তুই আমাকে দেখা এমন একটা মানুষ?"

আলো চুপ করে মায়ের কথা শুনতে থাকে। রেহেনা আলোর নি/র্জী/ব/তা দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ায়। দরজার বাইরে আতাউর আলম দাঁড়িয়ে ছিলো। রেহেনা নিজের স্বামীকে দেখে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়ায়। তারপর চলে যায়।

***

" আজকের ভেলিভারি দিয়ে আর কাজ নেই। আমি অ/র্ডা/র নেইনি। আমার সে/কে/ন্ড ইন/কো/র্স এ/ক্সা/ম কাল। আজ ইউ/নিভা/র্সিটি যাচ্ছি। তোমরাও চলে যাও। "

সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে আলো নি/স্তেজ কন্ঠে বলে সবাইকে। সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে হিয়া আলোকে ডাকতে থাকে,আলো ঘুরে তাকায়। হিয়া বলে,"আজ মশলা ভেলি/ভারি দেওয়ার ছিলো। তুই আচার দিয়েছিস কেনো? সব খেয়ে বসে আছিস?"

_তাই তো। ডেলিভারি বয় চলে গিয়েছে? দাড়া আমি চে/ঞ্জ করে দিচ্ছি।

_তুমি থাকো,আমরা যাচ্ছি। শরীর ভালো নেই তোমার।

বিউটি বলে ওঠে।‌ সবাই কাজে ব্য/স্ত হয়ে পরে। হিয়া এগিয়ে আলোর সামনে এসে দাঁড়ায়। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আলোকে দেখে বলে ওঠে,"কি ব্যাপার বল তো। কি হয়েছে তোর?"

_কি হবে।

আমতা আমতা করে আলো। হিয়া বলে ওঠে,"দুদিন ধরে বেশ খেয়াল করছি অন্য/মনষ্ক থাকিস তুই। কেমন কেমন করে কথা বলিস। আংকেল হে/রে/ছে বলে?

আলো মাথা নাড়িয়ে বলে,"আব্বুর হার নিয়ে আমার আ/ক্ষে/প নেই। সে তো তৃতীয় হয়েছে।"

হিয়া অলস ভঙ্গিতে একটা চেয়ার দখল করে টেনে বসে এদিক ওদিক তাকিয়ে বলে,"তোকে একটা সি/ক্রে/ট বলি? আমি আতাউর আংকেলকে ভোট দিইনি। ইয়াসার ভাইয়াকে দিয়েছি।"

আলো হিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।

হিয়া বলতে থাকে,"আ'ম প্রি/টি শিওর আমাদের ক্লাসের সব মেয়ে ইয়াসার ভাইয়াকে ভোট দিয়েছে। ইন/ফ্যা/ক্ট তরুণের দল ইয়াসার ভাইয়াকেই বেছে নিয়েছে। আর বাকিরা তো সব বুড়ো লোক।"

একটু থেমে হিয়া হাই তুলতে তুলতে বলে,"আমাদের ক্লাসের অধিকাংশ মেয়ের ক্রা/শ তোর স্বামী। তারা কি বলাবলি করে জানিস, বলে ইয়াসার ভাইয়া তাদের তুলে নিয়ে বিয়ে করলে তাদের জীবন ধ/ন্য হয়ে যেত।"

কথাটা বলে হিয়া উচ্চ/শব্দে হাসতে থাকে। তারপর বলে,"ইতিহাসে তোর কে/স টাই বোধ হয় প্রথম যেখানে ভি/ক/টি/মের প্রতি বিরক্তি এবং অপ/রাধীর প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছি আমরা।"

আলো হিয়ার থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে নিচু হয়ে আচারের বৈয়ম গুলো সরিয়ে রাখে। হিয়া বকবক করতে থাকে। একটু পরে আলোর দিকে তাকিয়ে বলে,"চুপ করে আছিস কেনো?"

_কি বলবো?

_অন্যসময় হলে তো আমাকে কাঁ/চা খে/য়ে ফেলতি, আজ ইয়াসার ভাইয়ার নামে এতো এতো কথা বলছি আর তুই চুপচাপ শুনছিস? আমাকে ঝা/ড়ি মা/র/ছি/স না কেন? । ব্যাপার কি বলতো? প্রেমে টেমে পড়লি নাকি আমার দুলাভাইয়ের? দেখ প্রেমে পরলে আমাকে কানে কানে বলে দে সময় থাকতে......

"আপু তোমার জন্য নো/টিশ এসেছে।"

আলো চ/ম/কে উঠে দাঁড়ায় আয়াতের কথা শুনে। আয়াত দাঁড়িয়ে আছে। আলোর অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। সে কাঁ/পা কাঁ/পা গলায় বলে,"কাজী অফিস থেকে?"

আয়াত অবাক হয়ে বলে,"কাজী অফিস থেকে নো/টিশ আসবে কেন? ব্যাং/ক থেকে এসেছে। তোমার ডি/পো /জি/টে/র ।"

আলো একটা লম্বা নিঃশ্বাস ছা/ড়ে। হিয়া আলোর অ/স্বা/ভাবিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।

***

"মা/স্ক পর। একটু ভুল হলে আজ গন/পি/টু/নি/তে ম/র/বি।"

ফিসফিসিয়ে রবিকে বলে সাদিক। রবি বিরক্ত ভঙ্গিতে মা/স্ক পরে নেয়। রোদের তাপে কপাল থেকে টপটপ করে ঘাম বেয়ে নামছে। মে/জা/জ যথেষ্ট খা/রা/প। মুখে চ কা/রন্ত শব্দ করে বলে ওঠে,"কি বলতো, এতো দেরী করছে কেন? আসেনি নাকি?"

_না এসেছে, ভাই নিজে ইন/ফর/মে/শন দিয়েছে।

সাদিকের কথা শেষ হলে রবি এদিক ওদিক তাকায়। কলেজের গেইটের বাইরে এতো গুলো পাখির মধ্যে তাদের টা/র্গে/ট/কে খুজে বের করা ভীষণ ক/ষ্ট সাধ্য ব্যাপার। হাতের ছোটো বো/ত/লটার দিকে একপলক তাকিয়ে বো/ত/লটা আবারো আ/ড়াল করে ফেলে সে। তারপর মোবাইলে একটা হি/ন্দি গান ছেড়ে তী/ক্ষ্ণ দৃষ্টিতে গেইটের দিকে তাকিয়ে থাকে।

"এই এই। ম/র/তে চাস নাকি?"

আলোকে ধা/ক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় নৌশিন। হু/স করে পাশ দিয়ে একটা মি/নি ট্রা/ক চলে যায় আলোর। বু/কে হাত দিয়ে বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছে সে। নৌশিন আলোর হাত ধরে রেখেছে। নিজেকে সামলে নিয়ে আলো নৌশিনের দিকে তাকিয়ে শু/ক/নো গলায় বলে,"থ্যাংকস।"

নৌশিন আলোর হাত ধরে বলে ,"কি হয়েছে তোর? পুরো ক্লাসে অন্য/ম/নস্ক ছিলি। একটু হলে আজ ট্রা /কে /র নিচে পরে ম/র/তি। সমস্যা কোথায়? "

আলো মাথা নাড়িয়ে অস্ফুট স্বরে বলে,"কিছু না।"

নৌশিন হুট করে আলোর কপালে হাত দিয়ে বলে,"গা গ/র/ম তোর। চল তোকে রিকশায় তুলে দেই মো/ড়ের মা/থা থেকে। চল!"

দু'জনে হাঁটতে থাকে। কিছুক্ষণ পরে আলো বলে ওঠে,"সৈকত তোকে আর বি/র/ক্ত করেছিলো?"

নৌশিন বলে," না। আমিও অবাক হচ্ছি আলো। ও এত সহজে আমার পিছু ছে/ড়ে/ছে। খুবই অবাক হচ্ছি।"

_এসব কু/কু/র/কে এভাবেই সোজা করতে হয়।

শুকনো গলায় বলে ওঠে আলো।

সাদিক আর রবি তী/ক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আলো আর নৌশিনের দিকে তাকিয়ে আছে। রবি অবাক হওয়ার মতো করে বলে, "আসল কোনটা? দুটোর চেহারা তো এক।"

_নে/শা করেছিলি সকালে? লাল জামায় নৌশিন, হলুদ জামায় সামিনের বৌ।

_এখন কি করবো? দু'টো আ/ঠা/র মত লে/গে আছে কেন? দু'টোকেই দেবো নাকি?

_মাথা খা/রা/প? সামিন তোকে তোর বাপ মা সহ ক/ব/রে পাঠাবে। ভাই যা বলেছে সেটা কর। চল বাইক স্টা/র্ট দে। এখানে ভী/র। মনে হচ্ছে মো/ড়ে/র মাথায় যাচ্ছে। চল ,চল।

নৌশিন এদিক ওদিক তাকিয়ে রিকশা খুঁজতে থাকে। আলো পাশে অন্য/ম/ন/স্ক হয়ে দাঁড়িয়ে। হঠাৎ করে নৌশিনের পা/র্স ব্যাগ টা হাত থেকে নিচে পরে যায়। নৌশিন ব্যাগটা তোলার জন্য ঝু/কে যেতেই হু/স করে তাদের পাশ দিকে একটা মটর/সাইকেল চলে যায়।

ক্ষণবাদেই একটা বি/ক/ট চিৎকার শোনা যায়। যে চিৎকারে কেঁ/পে ওঠে মহিলা কলেজের পুরো এড়িয়া। থ/ম/কে যায় পথচারীরা।

কাঁ/প/তে থাকে আকাশ এবং পাতাল।

***

"এখান থেকে একটা ক/পি আমরা সি/টি ক/র্পো/রেশ/নের চেয়ার/ম্যা/নের কাছে পাঠাবো এবং ন/ক/ল তোমার স্ত্রীর কাছে। নব্বই দিনের আগে কার্যকর হবে না।"

কাজীর থেকে চোখ সরিয়ে সামিন তার হাতের কাগজ গুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পরে বলে,"আমি কি কাগজপত্র গুলো দেখতে পারি?"

_জ্বী অবশ্যই।

কাজী কাগজ গুলো এগিয়ে দেয়। সামিন কাঁ/পা কাঁ/পা হাতে কাগজ গুলো নিয়ে দেখতে থাকে উল্টে পাল্টে। একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বলে,"কোথায় সা/ইন করতে হবে?"

ফুয়াদ পাশের চেয়ারে বসে সামিনের দিকে এক/দৃষ্টে তাকিয়ে আছে। কাজী একটা কলম এগিয়ে দিয়ে বলে,"এই যে নিচের দিকে।"

সামিন কাজীর থেকে কলমটা নিয়ে ফুয়াদের দিকে তাকায়। তারপর ম্লান হেসে কাগজে সা/ইন করতে যায়। পর/ক্ষনেই কাজীর দিকে তাকিয়ে বলে,"আংকেল আরেকটা কলম দিন। এটাতে সম্ভবত

কা/লি নেই।"

কাজী মাথা নাড়িয়ে ড্রয়ার খোলে। ফুয়াদ সামিনের দিকে তাকিয়ে বলে,"তোর ফোন বাজছে।"

_পরে কথা বলবো।

_আরে রিসিভ কর। ইম্প/র/ট্যান্ট কিছু হবে।

সামিন ক্লান্ত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবির পকেট থেকে ফোন বের করে। রনি ফোন দিচ্ছে। সামিন ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রনি কাঁ/পা কাঁ/পা গলায় বলে ওঠে," ভাই ভাবী!"

_রনি। আমি তোদের বলেছি ওকে ওর মতো ছে/ড়ে দে। কেনো বিরক্ত করছিস।

রনি একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বি/ক/ট চিৎ/কা/র দিয়ে বলে,"ভাই ভাবীর গায়ে কেউ

এ/সি/ড ছু/ড়ে/ছে।"

চলমান.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন