#পর্ব_০৪
#হাওয়ায়_সুরগান
#Sharmin_Shaajh_Nur
সময়টা সকাল এগারোটা। সিরির মধ্যের এক হাতে গ্ৰিল চেপে ধরে বসে আছে মায়া। অন্যহাত তার মা টেনে ধরে আছে। উঠানোর চেষ্টা করছে তাকে অথচ সে উঠতে নারাজ। আশা বেগম জোর প্রয়োগ করলে সে আরো শক্তি খাটিয়ে গ্ৰিল চেপে ধরছে। মেয়ের এমন কান্ড দেখে হতভম্ব হয়ে আছে আশা বেগম। বান্ধবীর বাসায় যাবেন বলে মেয়েকে অনেক কষ্টে সাথে যাওয়ায় জন্য রাজি করিয়ে বেরিয়েছিলেন।
মায়া এক প্রকার মায়ের জোরাজুরিতেই রাজি হয়েছিল কিন্তু যেই না শুনেছে ওদিক দিয়ে বিয়ের শপিং করতে যাবেন আশা বেগম, তাও আবার আরহানদের সঙ্গে ওমনি বেঁকে বসেছে সে। কিছুতেই যাবে না। বিয়েই যেখানে করবে না সেখানে শপিং কিসের?
__ভালো হচ্ছে না কিন্তু মায়া। এটা কি ধরনের আচরণ? সিরির মধ্যে থেকে উঠে আ/য় বলছি। উঠ"।
__বলছি তো যাব না আমি। তোমার যাওয়ার হলে তুমি যাও আমি যাব না। না মানে না। দরকার হলে এখানেই বসে থাকব। তোমার ফ্ল্যাটের দরজাও খুলে দেওয়া লাগবে না। যাও গা। আমি বাহিরেই বসে থাকব"।
একদম কাঠ কাঠ জবাব তার। আশা বেগম বিরক্তিতে পারছে না কিছু করতে। এমন জেদি মেয়ে তার পেটে ছিল ভাবতেও হা হুতাশ হয় তার। হাত ছেড়ে দিলেন তিনি। মায়া হাত ছাড়া পেতেই দুহাতে গ্ৰিল চেপে ধরল। আশা বেগম কম কিসে? সেও কাঠ কাঠ করে বলে দিলেন,
__ঠিক আছে। তুই এখানেই বসে থাক। গেটের চাবিও পাবি না। আমি গাড়িও নিয়ে যাব। দেখি কেমন শখ তোর সিরির মধ্যে বসে থাকার। এত বড় মেয়ে তাও বাচ্চামো স্বভাব যায় না"।
মায়া চোখ মুখ কুঁচকে নিল। বলল,
__যাও গা। লাগবে না আমার চাবি, লাগবে না গাড়ি। এমনিতেও কোথাও যাওয়ার নেই। আমার সাথে ফোন আছে তাইলেই হবে। ঐ বেডার সাথে সময় কাটানোর থেকে এখানে বসে ফোন টেপা ভালো"।
আশা বেগম এমন কথায় কেমন অদ্ভুত হাসলেন। যা দৃষ্টি কাড়ল মায়ার তবে কিছু বলল না। নির্লিপ্তভাবে বসেই রইল। আশা বেগম কয়েক সিরি নেমে গেলেন চুপচাপ। হঠাৎ পিছন ঘুরে বললেন,
__তো, তোর ফোন টা যেন কোথায়"?
__আমার ফোন"?
হতবাক হয়ে বলল মায়া। আশা বেগম কুটিল হাসলেন। নিজের কাধ ব্যাগ থেকে মায়ার ফোনটা বের করে দেখিয়ে বললেন,
__তুই বরং এখন ফকিন্নির মতোন বসে থাক এখানে। চাইলে একটা ভাঙা প্লেট নিতে পারিস। আমি বান্ধবীর বাসায় যাব, আড্ডা দিব তারপর মায়ান এর স্কুলে যাব। ওকে নিয়ে শপিং এ যাব। বাই বাই টাটা"।
নেমে গেলেন আশা বেগম। মায়া বাকরুদ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ বসে থেকে তড়িঘড়ি করে উঠল। ধুপধাপ পা ফেলে কয়েক সিরি নেমে মা মা করে চিচাঁল কিন্তু কাজ হলো না। আশা বেগম নেমে গেছে। অবশ্য পুরোপুরি নামেন নি তিনি। মাঝখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে যদি মেয়ে আসে কিন্তু সেগুড়ে বালি। মায়া গজগজ করতে করতে ছাদের দিকে গেছে। আশা বেগম হতাশ হলেন তবে প্ল্যান বি আছে তার কাছে। সে আপন মনে আবারো নামতে লাগলেন। একটু কষ্ট হচ্ছে আট তলা থেকে নামতে কিন্তু কিছু করার নেই। তাদের বাসায় লিপ্ট থাকলেও দুদিন ধরে কি সমস্যা হয়েছে তাতে। কাজ চলছে।
ওদিকে মায়া ছাদে উঠে এমাথা ওমাথা গটগট করে হাঁটতে লাগল। রাগ লাগছে তার ভীষণ কিন্তু আফসোস হচ্ছে রাগ ঝাড়ার মতো কিছু পাচ্ছে না। এভাবে জব্দ করল তাকে? শেষ সম্বল ফোন সেটাও কখন জানি নিয়ে নিছে? কি ভ*য়ং*ক*র ব্যাপার। ওয়াহ। আকাশে কড়া রৌদ্দর সঙ্গে গরমে বেশিক্ষণ থাকতে পারল না মায়া। নেমে আসল ছাদ থেকে। নিজেদের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে কিছুক্ষণ অসহায় ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকল। কখনো আবার সিরি ধরে ধরে ছোট বাচ্চাদের মতোন এক পা এক পা করে উঠা নামা করতে লাগল লাফিয়ে লাফিয়ে। আবার কখনো সিরির মধ্যেই বসে গেল। এরকম কত সময় যে গেল জানা নেই। সময় দেখার ও উপায় নেই। কোথাও যাবে তারও উপায় নাই। সম্পূর্ণ খালি হাত যে তার।
__ঐ অ্যাটিটিউড এর দোকান"?
হঠাৎ কারোর গলার আওয়াজ পেয়ে হকচকিয়ে উঠল মায়া।মাথা তুলে চাইল। সিরির মধ্যে বসে থেকেই চোখ লেগে এসেছিল তার। দেখল সম্পূর্ণ কালো প্যান্ট পরিহিত একটি লম্বা চওড়া মানুষ। ভ্রু কুঁচকে আসল। চোখ বার কয়েক পিটপিট করে খোলা চুলগুলো হাত দিয়ে পিছনে সরিয়ে ভালো করে দেখল। আরহান দুই পকেটে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখতেই মায়া চটে গেলো। বসে থেকেই তিক্ষ্ণভাবে বলল,
__আপনি আমাকে কি বললেন"?
__যদি কানে কম শুনো তাহলে সেটা স্বীকার করো আমি আবারো বলব"।
নির্লিপ্ত গলা আরহানের। মায়ার নাক টা ফুলে উঠল। কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,
__আমার বাসায় এসে আমাকে অপমান? এখানে কি করেন আপনি"?
__তোমাকে ভিক্ষা দিতে আসলাম। আন্টি বলল, এক ভিখারি নাকি ভিক্ষার আশায় দরজার সামনে বসে আছো অথচ কেউ দেওয়ার মতো নেই। আমি আবার হৃদয়বান ব্যক্তি। সমাজে যেখানেই অসহায় মানুষ সেখানেই আমি"।
মায়ার মেজাজ এমনিতেই সপ্তমে। আর তার উপর এই আরহান নামক মানুষটা এসে তাচ্ছিল্যের সুরে কথা বলছে! দাঁতে দাঁত চেপে উঠে দাঁড়াল সে।
__আপনি এখনই চলে যাবেন। নইলে…"
__নইলে কী"? আরহান ঠোঁট বাঁকিয়ে তাকাল, দরজার সামনে বসে কান্না ধরবে"?
__দেখুন...!
__দেখলাম"।
আর সহ্য হলো না মায়ার। আঙ্গুল তুলে বলল,
__ঐ মি. । ভালো হবে না বলে দিচ্ছি। আমার বাসা আমার যেমনে মন চায় ওমনে থাকমু তোর কি"?
আবারো তুই তুকারি। আরহান রেগে যেতে চেয়েও যেন গেল না উল্টো মায়ার আঙ্গুল তোলা হাতের কব্জি চেপে ধরে বলল,
__আমার অনেক কিছুই। আমার সঙ্গে দেখা হবে জন্যই তো আন্টির সঙ্গে যাও নি মনেহয় তাই না? এখন আমার সাথেই যাবে চলো"।
__না। আমি যাব না। আপনি একটা বেয়াদব অসভ্য। কোথায় কোথায় হাত ধরেন কেন? আমি তোকে বিয়ে করব না ছাড়"।
নিজের হাত টানতে টানতে বলল মায়া। প্রাণপণে চেষ্টা করছে হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার। আরহানও ওকে টেনে নামাতে নামাতে ঠান্ডা গলায় বলে,
__এখন আমার একটা ভাইও নাই যে, আমাকে বিয়ে করবে না জন্য ভাইকে দিয়ে বিয়ে করাব। যেহেতু ভাই নাই সেহেতু আমাকেই করতে হবে কিচ্ছু করার নাই। সবি ঠিকঠাক"।
__কেন? তোগো পচা নর্দমায় তো সবাই ভাই ভাই। একটা ভাই হলেই হইছে"।
__না। ভাইয়ের মতোন ভাই থাকা লাগবে, চলো"।
__আমি যাব না। হাত ছাড়। শ*য়*তা*ন, বেয়াদব আমি যাব না। ঠিক এই জন্যই তোকে বিয়ে করব না। বেয়াদব। ফালতু। কথায় কথায় হাত ধরে। হাত ছাড়"।
__চুপ। একদম চুপ"।
এ পর্যায়ে বড়সড় একটা ধমক দিল আরহান। হাতের বাঁধন শক্ত। চোয়াল শক্ত। রাগ তার চোখে ফুটে উঠেছে। মায়ার মুখ এক মূহুর্তের জন্য থেমে গেল। সে অন্যহাতে গায়ের শক্তি খাটিয়ে গ্ৰিল চেপে ধরল। আরহান ও টানতে লাগল অপর হাত। তার টানাটানি তে মায়া পারছে না স্থির থাকতে তবুও চেষ্টা করছে। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
__ছাড়েন বলছি, আমি যাব না। এ্যাঁ"।
__তুমি কি চাইছো আমি তোমাকে কোলে তুলি"?
একটু থেমে বলল আরহান। মায়া হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল,
__না"?
__তাহলে চুপচাপ যাবে এখন"।
__যাব না"।
এই বলে সে ধপ করে বসে গেল। আরহান কপাল কুঁচকে আছে। এ কোন বাচ্চামো স্বভাব? আরহান এবারে কৌশল খাটিয়ে সত্যি সত্যিই মায়া কে কোলে তুলে নিল। মায়া ছটফট করে উঠল, আরহান পাত্তা দিল না। ধুপধাপ পা ফেলে নামতে লাগল। সঙ্গে বললো,
__এত বাচ্চামো স্বভাব তোমার মধ্যে এখনো আছে জানতাম না তো? ভালোই হলো, নিজের বাচ্চা হওয়ার আগেই বাচ্চার ফিল পাওয়া যাবে। আই লাইক ইট"।
চলবে...
[ দয়া করিয়া একটু নিজেদের মনোভাব পেশ করিবেন প্লিজ। কেমন মজা লাগছে না লাগছে একটু গঠনমূলক মন্তব্য করলে ভালো হয়। একটু বুঝুন 😒]