ফন্ট সাইজ:
থিম:
হাওয়ায় সুরগান

৭ম পর্ব

লেখক: Sharmin Shaajh nur

#পর্ব_০৭

#হাওয়ায়_সুরগান

#Sharmin_Shaajh_Nur

__শান্তি নাই, শান্তি নাই"।

আরহান বিরবির করে ঐ অবস্থায় ই বের হয়ে গেল ঘর থেকে। হঠাৎ ই তার চোখমুখে রাগের আভাস দেখা যাচ্ছে। চোখমুখ শক্ত একদম। সে নিজের গাড়িটি নিয়ে বেরিয়ে গেল মূহূর্তের মাঝে।

ওদিকে গাজিপুর রোড কোনো জ্যামজট ছাড়া, আজ ফাঁকা ফাঁকা হওয়ায় মায়া সাঁই সাঁই করে গাড়ি ছুটিয়ে চলেছে। অসাধ্য সাধন করতে পেরে মনের মধ্যে দোলা দিচ্ছে তার। মিউজিকের আওয়াজ কমিয়ে নিজেই বিরবির করে,

__আহা, পালানোর স্বাদ ই অন্যরকম, ওয়াহ। এই কি সুন্দর পালালাম ভাবা যায়? ব্রাভো মায়া, ব্রাভো"।

তার কথাটুকু শেষ হতেই হঠাৎই গাড়ির পিছনের সিটে তিক্ষ্ণ নজরে তাকাল। কেমন একটা শব্দ হলো মনে হলো। সন্দেহ হলো তার তবে কিছু একটা নিজ মনেই ভেবে নিয়ে পাত্তা দিল না সেদিকে। আবারো রাস্তায় মনোযোগ দিল। আর বেশিদূর নেই গন্তব্য। সে একহাতে স্টিয়ারিং ধরে অন্য হাতে ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রিন অন করতেই দেখতে পেল সময় দুটোর কৌটায়। মায়া একটি নাম্বার বের করে ডায়াল করল সেটায়। ফোনটা সামনে রেখে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোনটা রিসিভ হলে মায়া ফোন হাতে নিতেই হঠাৎ ই খেয়াল হলো তার গাড়ির ঠিক সামনে সামান্য দূরত্বে একটি গাড়ি ব্রেক কষেছে। মায়া চটজলদি সামলে নিল নিজের গাড়ি। বোধহয় আর একটু হলে একটা এ'ক্সি'ডে'ন্ট হয়েই যেত আজ।

বড় বড় করে শ্বাস নিতেই রাস্তার মাঝে এমন করায় মেজাজ চটে গেলো তার। তিক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সামনের গাড়িটিকে দেখতে লাগল। মনে মনে কয়েকটা গালিও দিল অবশ্য। তখনি দেখল গাড়িটি থেকে বেরিয়ে আসল কেউ। রাতের অন্ধকারে এবং গাড়ির লাইটে শুরুতেই মুখ দেখা গেল না। মায়ার কেমন খটকা লাগল। সেও বের হলো গাড়ি থেকে। আশেপাশের গাড়ি সা সা করে চলছে। মৃদু বাতাস বইছে।

মায়া গাড়ি থেকে বের হতেই অবাকে থ। সামনে আরহান চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। অবাকে উত্তেজিত হয়ে প্রশ্ন করল,

__একি? আপনি এখানে"?

আরহান কোনো কথা বলল না। শক্ত কঠিন দৃষ্টি তার। মায়া কে আরো অবাক করে দিয়ে তার গাড়ির পিছন সিট থেকে বেরিয়ে আসল মায়ান। যে পুরো রাস্তা কোনোরকম শুয়ে শুয়ে আসল। মায়া অবাকের চূড়ান্তে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। কি হচ্ছে এসব?

__মায়ান তুই? তুই এখানে কি করছিস"।

মায়ান দাঁত কেলিয়ে হাসল। মায়া তা দেখে রাগে দুঃখে জ্বলে গেল যেন। এইসব তাইলে এই বিচ্ছুর কাজ। কখন যেন গাড়িতে উঠে বসেছিল। সে খেয়াল ই করে নি? ওয়াহ, তবে সে আর বেশি কিছু বলার আগেই আরহান গম্ভীর ভারি কন্ঠে বলল,

__ছোট সাহেব, আপনি আমার গাড়িতে যেয়ে বসুন। অনেক কষ্ট করেছেন। পিছনের সিটে বসবেন আর হ্যাঁ শুয়ে ঘুমিয়ে যান"।

মায়ান মায়ার দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে সুরসুর করে গেল আরহানের গাড়িতে। এইসব তো তার মায়ের ই পরিকল্পনা। মায়ার অগোচরে গাড়িতে বসে তাকে নজরে নজরে রাখা। যা মেয়ে। কোনো হুস তো থাকে না।

মায়ান যেয়ে গাড়িতে বসতেই আরহান কোনো কথা ছাড়া কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা মায়ার নরম কোমল গালে কষিয়ে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল। রাগে হিসহিস করছে সে। কপালের রগ ফুলে উঠেছে। হাত মুষ্টিবদ্ধ। কটমট করতে করতে ধমকে বলল,

__তোমার কলিজা দিন দিন বড় হয়েই চলেছে তাই না? কতবড় কলিজা হয়েছে তোমার? কার পারমিশনে এই রাতে বের হয়েছো হ্যাঁ"?

মায়া গালে হাত দিয়ে হতভম্ব হয়েগেছে একদম। হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবেই যেন সবকিছু হচ্ছে। সারাক্ষণ হম্বিতম্বি, রাগ, জেদ দেখালেও ননির পুতুল মায়া। হাজার অবাধ্য হলেও কখনো হাত উঠে নি তার গায়ে। আজ তারই গায়ে হাত তুলল আরহান। চোখের কার্নিশে একফোঁটা পানি জমেছে তার। লোকটা তার গায়ে হাত তুলল? তাকে মারল লোকটা? আঘাত করল?

রাগে হিসহিসিয়ে সেও আরহান কে থাপ্পড় দিতে হাত তুলল কিন্তু আরহান হাত টা চেপে ধরল তার সঙ্গে সঙ্গেই। জানত মায়া নিজের রাগ সামাল দিতে এই কাজ ই করবে। তার স্বভাব সম্পর্কে অবগত সে। মায়া এতে যেন আরো ক্ষেপে গেল। আরহানের মুঠোবন্দী হাতে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে হাত পা ছোড়াছুড়ি করতে করতে আরহানের বুকে কিল ঘুষি যা পারল দিল। কিছুটা চিল্লিয়ে বলল,

__আপনি আমাকে মারলেন? হাত তুললেন আমার গায়ে"?

পর মূহূর্তেই আরহানের গাড়ির দিকে এগিয়ে সজোরে একটা লাথি দিল। আরহান এখনো ওর হাতটা চেপে ধরে রয়েছে।

__কোন সাহসে আপনি আমাকে মারলেন হ্যাঁ? আপনি আমাকে মারলেন কেন"?

বলেই আরহানের বুকে ইচ্ছামতো কিল দিতে লাগল। কি তীব্র তার রাগ, তেজ। পারছে না আরহান কে উল্টো চড় দিতে আবার পারছে না নিজেকে সামাল দিতে। আরহান ওর দুই হাত ই চেপে ধরে সোজা করে দাঁড় করিয়ে আরো এক ধমক দিল,

__চুপ। একদম চুপ। বেয়াদব মেয়ে, একেই এই রাতে বের হয়েছো তার উপর নিজের রাগ জেদ দেখাচ্ছো? তোমার কলিজা আসলেই বড় হয়েছে মায়া। আমি দেখতে চাই ঠিক কত বড় হয়েছে তোমার কলিজা"।

__একশো একবার করব। আপনার তাতে কি? ছাড়ুন আমাকে ছাড়ুন। আপনি কোন অধিকারে আমার গায়ে হাত তুললেন? আমি বলেছি না আমি আপনাকে বিয়ে করব না? করব না তোকে বিয়ে"।

আরহানের রাগে যেন ঘি ঢেলে দিল মায়া। দাঁতে দাঁত চেপে আরো একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল। কিরমির করতে করতে বলল,

__অধিকারের কথা বলছিস তুই? আমাকে অধিকার দেখাচ্ছিস? মনেহয় স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়েছে তোর। যা, বিয়ে করা লাগবে না তোর। আমারো শখ নেই, বিয়ে করা বউ কে আবারো বিয়ে করার। চলো বিয়ে করতে হবে না সবাইকে জানিয়ে। আজই আমার সঙ্গে যাবে তুমি"।

বলেই মায়ার হাত টানতে টানতে নিজের গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে লাগল। মায়া তো শান্ত থাকার মেয়ে নয়, সে ছটফটিয়ে নিজের হাত ঝাড়ি মেরে টান দিয়ে নিল।

__যাব না আমি তোর সাথে। সবকিছু নিজেদের মর্জিমতো নাকি "?

__তুই যাবি তোর ঘাড়ও যাবে। ছাড় বেশি দিয়েছিলাম আমি হ্যাঁ? আমাকে অধিকারের কথা তুইই মনে করিয়ে দিলি। আসল অধিকার দেখাব আমি এখন"।

__ছাড়ুন, ছাড়ুন বলছি। আমি যাব না"।

চলবে....

[আপনাদের তো আসলে কিছু বলেও লাভ নাই। পড়ুন]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন