#পর্ব_১১
#হাওয়ায়_সুরগান
#Sharmin_Shaajh_Nur
__আপনার পাঞ্জাবিতে এটা কিসের দাগ? দেখে মনে হচ্ছে রক্তের দাগ। কোথায় থেকে আসল এটা"?
মায়ার করা প্রশ্নে আরহান কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া ছাড়াই তাকায় মায়ার দিকে। খুবই স্বাভাবিক তার চাহনি। মায়া ভ্রু নাচিয়ে জবাব জানতে চাইলে আরহান এবার নজর দেয় পাঞ্জাবিতে। পাঞ্জাবিটা একটু টেনে দেখতে চায় তবে দেখতে পায় আংশিক । মায়া ততক্ষণে রুমের সব লাইট জ্বেলে দিয়ে এসে ফের দাঁড়ায় তার সামনে। আরহান মায়ার সামনে এবার পাঞ্জাবিটাও খুলে, বডি ঢাকা থাকে গেঞ্জিতে।
সে পাঞ্জাবিটা খুলে নিজের চোখের সামনে ধরে। সত্যই রক্তের দাগ কিন্তু এতেও তার ভাবাবেগ দেখা যায় না। বেশ রয়ে সয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উত্তর করে,
__রক্তের দাগ বুঝি? কি জানি হতেও পারে। কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসল, বলো তো"?
মায়ার কুঁচকানো ভ্রু জোড়া অবাকে শিথিল হয়ে আসে। হাতদুটো গুঁজে নেয় বুকে। ঠান্ডা স্বরে বলে,
__গুন্ডামি করে এসেছেন"?
__আমাকে দেখে কি তোমার গুন্ডা মনে হয়"?
__না"।
__তবে"?
__তার থেকেও বড় কিছু মনেহয়। হতেই পারে আপনি একজন মাফিয়া কিংবা মাস্তান"!
হঠাৎ ই আরহানের ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসি খেলে যেতে দেখা যায়। সে মায়ার দিকে এগিয়ে আসে, ঘুচিয়ে দেয় মধ্যকার দূরত্ব। একহাতে মায়ার বুকে গুজা হাত ছাড়িয়ে পাঞ্জাবিটা ধরিয়ে দেয় তার হাতে। ফিসফিস আওয়াজ তুলে বলে,
__সে আমি যাই হই আর পাঞ্জাবিতে যাই লেগে থাক, পরিষ্কার কিন্তু তোমাকেই করতে হবে। আমাকে সামলাতেও হবে সেই তোমাকেই ওয়াইফি..."।
মায়া কথাটা শোনা মাত্রই মুখ বাকায়। হাতের পাঞ্জাবিটা আরহানের মতো করেই বিছানায় ছুঁড়ে মেরে সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে,
__আপনি কিন্তু কথা ঘুরাচ্ছেন। ওগুলো তো রক্তের দাগ ই, তাই না? কোথায় গিয়েছিলেন"?
__এত জেনে কি করবে? অনেক রাত হয়েছে চেঞ্জ করো যাও। উম, আজ মনেহয় আমাদের বাসর রাত। রাইট? ভুলে গেলে চলবে না"।
মায়ার দিকে পিঠ দিয়ে আয়নার দিকে ঘুরে যায় আরহান। মায়া তিক্ষ্ণ চাহনি দেয় আয়না তে। এক ভ্রু তুলে বলে,
__আমি তো ভুলি নি। তবে আপনি বোধহয় ভুলে বসেছেন তা"।
আরহান আংশিক ঘুরে তাকায় মায়ার দিকে। তাকে আপাতমস্তক দেখে নিয়ে দুষ্টুমির সুরে বলে,
__বাহ! অনেক শখ ছিল বুঝি"?
__হ্যাঁ। তা ছিল বটে, তবে আপনাকে তারপানোর"।
আরহান বাঁকা হাসে। এ কথার আর কোনো উত্তর না করে গায়ের গেঞ্জিটাও খুলে ফেলে। হঠাৎ ই আরহানের উদাম শরীর দেখে মায়া কিছুটা নড়েচড়ে উঠে। দ্বিধান্বিত দৃষ্টি এদিক ওদিক করতেই আচমকা দৃষ্টি স্থির করে আরহানের কোমরের দিকে। মায়ার দৃষ্টি গাঢ় হয়। মনোযোগ দিয়ে দেখে, কোমরের সাইডে কাঁটা দাগ। দেখে মনে হচ্ছে তাজা, ছুড়ির আঘাত।
আরহান অন্যমনস্ক দেখে মায়া ডান হাত বাড়ায় তার দিকে। কাঁপা হাতে স্পর্শ করে জায়গা টা। যতই সে জেদি হোক, ঝগড়া, তর্ক করুন তার এসব ভালো লাগে না।
সে জায়গাটা স্পর্শ করতেই আরহান একটু নড়ে টানটান হয় তবুও কিছু বলে না। মায়া সেদিকে তাকিয়ে থেকেই প্রশ্ন করে,
__আপনি কোনো ঝামেলায় গেছিলেন তাই না? মারপিট করে এসেছেন নাকি কোনো আক্রমণের শিকার হয়েছেন, বলুন তো? এই জন্যই আমার রাজনীতি পছন্দ না। এখানে কামের থেকে রক্ত দিয়ে খেলা হয় বেশি। (একটু থেমে) শুনুন মি. আমি কিন্তু অকালে বিধবা হব না বলে দিলাম। আপনার এইসব বিষয়ে আমার কোনো ইন্টারেস্ট নাই তাই জোর দিয়ে কিছু বলব না আর না প্রশ্ন করব। বাছ আমি কোনো অসুস্থ মানুষ রুমে দেখতে চাই না। আমার ভালো লাগে না"।
আরহান মুচকি হেসে বলে,
__তাই নাকি? এর মানে জানো? তুমি আমাকে এটাই বলছো যে, নিজেকে বাঁচানোর জন্য যা খুশি করো। নিজে আগে বাঁচো"।
__হ্যাঁ তাই। দরকার পরলে তাই। নিজে না পারলে আমাকে সঙ্গে নিয়েন। আমারো প্র্যাকটিস আছে"।
বলেই মায়া সরে গেল ওখান থেকে। যাওয়ার আগে বলল,
__মেসিডিন কিংবা প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকলে বার করুন। আমি চেঞ্জ করে আসছি"।
বড্ড ভারী লাগছে তার নিজেকে। রাতের অর্ধেক প্রায় শেষ। দুচোখে সারাদিনের ক্লান্তিরাও ভর করছে। মায়া জামা কাপড় নিয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকতেই আরহানের ফোনটা শব্দহীন ভাবে কেঁপে উঠল বিছানায়। সে বুঝতে পেরে ফোনটা ধরল গিয়ে। ওপাশ থেকে কিছু বলতেই আরহান ওয়াশরুমের দিকে তাকিয়ে ছোট আওয়াজে বলল,
__ওদের ব্যবস্থা কাল করছি। আপাতত এখন ঘুম দরকার। তাই ফোন রাখ"।
চলবে...