ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিষাক্ত ভালবাসা

১ম পর্ব

লেখক: আনিকা ইসলাম ইশা

" আজ আমার বিয়ে আমাকে যেতে দেন প্লিজ কবির ভাইয়া"

চুপ একদম চুপ!!! আমার জীবন নষ্ট করে।আমার নীলাকে আমার জীবন থেকে কেড়ে নিয়ে এখন তুই বিয়ে করে নিজের জীবন সাজাবি ভাবছিস!!!!

মাহি কবিরের কথায় কিছু না বুঝে চেয়ে আছে।

অসম্ভব মায়াবী দেখতে মেয়েটিকে বধু বেশে সুন্দর লাগছে। কিন্তু তার সৌন্দর্য আর মায়াবী মুখ খানা দেখেও কবিরের কোন মায়া হল না।তেজ নিয়ে বলল,

এমন মুখ করে আছিস যেন ভাজা মাছ উল্টিয়ে খেতে জানিস না।তুই যে কষ্ট আমাকে দিয়েছিস তার দশগুণ যদি তোকে ফেরত না দি আমার নাম কবির চৌধুরী না।

আমি কি করেছি???

কবির রেগে মাহির মুখ চেপে ধরে বলে,

আমার জীবন নষ্ট করে এখন।আমার জীবন আমার থেকে কেরে নিয়ে এখন বলছিস কি করেছিস??

মাহি ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে।কবির এতটাই হ্রিংস রূপে আছে যে মাহিকে মেরে ফেলতেও দু বার ভাববে না। কবির কথা গুলো বলে ধাক্কা দেয় মাহিকে।ছুটে গিয়ে দেওয়ালে ঠাস করে লাগে মাথায়।কপাল কেটে রক্ত বের হতে থাকে।মাথা ঝিম ঝিম ধরে আছে মাহির।

কবির এতোটাই রেগে আছে যে ওর হুস ও নাই ও কি করছে। কবির মাহির চুলের মুঠি ধরে বলে,

বিয়ে করবি তাই না!!!!

সংসার করবি তাই না!!!

আজ তো তোর বাসর রাত ও হতো।কি জেন নাম ও হ্যা মেঘ এর সাথে।

আহারে কিন্তু আজ তোর বাসর তো হবে!!

কিন্তু তোমার ভালবাসার সাথে না।আজ তোর করা অন্যায় এর শাস্তি পাবি তুই।এই শাস্তি সারাজীবন ভোগ করবি তুই !!!

কবিরের কথায় মাহি কেঁপে উঠলো।চুলে প্রচুর ব্যাথা করছে।

কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,

বলুন আমি কি করেছি????

কি করেছিস ????আমার ভালবাসা, আমার জীবন,আমার অনুভূতি,আমার নীলা কে‌কেড়ে নিয়েছিস........

এর শাস্তি তো তুই পাবিই....এর শাস্তি সারাজীবন ভোগ করবি তুই.....

প্লিজ ভাইয়া .....আমার কথা শুনন.......

কবিরের আগানো দেখে মাহি পেছাতে লাগল.......

কবিরের চোখে যেন কেউ আগুন ঢেলে দিয়েছে।ভয়ে রিতিমত কাঁপতে লাগলো মাহি। তবুও কবিরকে বোঝানোর চেষ্টা করছে।

কবির ভাইয়া আমি আপনার পায়ে পড়ি আপনি আমার এত বড় ক্ষতি করবেন না।

তুই যে আমার ক্ষতি করেছিস তার বেলায়???

আমি কি করেছি???প্লিজ বলুন???

দয়া করুন ভাইয়া প্লিজ.......

মেঘ আমার জন্য অপেক্ষা করছে।প্লিজ আমাকে যেতে দিন।আমি আপনার পায়ে পড়ি।

মেঘের নাম শুনেই আরো হিংস্র হয়ে ওঠে কবির.....এক ঝাটকায় মাহিকে বিছনায় ফেলে হ্রিংস জানোয়ার এর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে।

মাহি হাজার আকুতি মিনতি করেও নিজেকে রক্ষা করতে পারলো না। যন্তনা সহ্য করতে না পেরে একসময় ঙ্গান হারাই মাহি।

,

,

,

,

পিট পিট করে চোখ খুলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাদা ছাদ।শরির যন্তনায় নড়াতে পযন্ত পারছে না। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল কয়েক ফোঁটা জল।তাতেও যেন জ্বলে উঠছে শরির। আশেপাশে চোখ ঘুরিয়ে বুঝতে পারলো এটা হসপিটাল।উঠে বসার চেষ্টা করতেই একজন নাস ছুটে আসে।মাহিকে বসিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সবাইকে খবর দেয়।এক এক করে সবাই ভেতরে ঢুকে। মাহি সবাইকে দেখে ডুকরে কেঁদে ওঠে।অথচ একটা মানুষ ও এগিয়ে আসে না।ওকে একটু জরিয়ে ধরে শান্তনা দেবার মতো।মাহি ওর দাদা ইনতিয়াজ শেখের দিকে তাকায়। ওর দাদু ছাড়া ওকে কেউ ভালোবাসে না।সেও দাদু ও আজ মাথা নিচু করে বসে আছে।এগিয়ে এসে বলছে না কি হয়েছে দিদিভাই।

দেখছেন আব্বা আপনাকে বলেছিলাম না।এই মেয়ের চালচলন ভালো না।দেখলেন তো মুখ পুড়িয়ে এসেছে।

দাদু নতজানু হয়ে মেজো চাচির কথা গুলো শুনতে থাকে। অন্য সময় হলে এক ধমক দিতো।আজ টু শব্দ ও করল না। এতে আরো কষ্ট পেল মাহি।

এই মুখপুড়ি কার সাথে ফষ্টিনষ্টি করে এসেছিস???

তোর যদি সম্পকোই থাকত করো‌ সাথে আমাদের বললে কি আমরা দেখেশুনে দিতাম না।মেঘের মতো এত ভালো একটা ছেলের জীবন তো আর নষ্ট করতাম না।

ভালোই হয়েছে আমার ছেলেটা বেঁচেছে এই মুখপুড়ির হাত থেকে।নষ্টা মেয়ে মানুষ একটা।

বড় চাচির কথায় চোখ দুটো মেঘকে খুঁজতে লাগল।কোই তাকে তো দেখছে না।সেও কি বাকি সবার মতো ভুল বুঝবে।একটা বারো কি জিঙ্গসা করবে না কি হয়েছে।

এত যন্তনা করছে যেন পুরো শরির কেউ কেটে জোড়া লাগিয়েছে।তার ওপর এদের কথা কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো কাজ করছে ।মাহি চোখ বন্ধ করে রাখে। কথাটুকু বলার শক্তি ও পাচ্ছে না।

এবার আসি পরিচয়ে.......

মাহির পুরো নাম মেহজাবিন ইসলাম মাহি।সবেই ইন্টার এ পড়ছে।বয়স ১৮।দেখতে মাশাআল্লাহ। উজ্জল শ্যামলা বর্ণের সুন্দর একটা মেয়ে।মাহির মুখে উপচে পড়া মায়া।চুল গুলো বেশ লম্বা সিল্কি।স্বাভাব শান্ত আর মিশুক। মহিউদ্দিন শেখ আর মনি বেগমের একমাত্র মেয়ে।জন্মের আগে এক্সিডেন্ট এ বাবা মারা যায়।আর জন্মের সময় মা মারা যায়।তার পর থেকে সে অনাথ।চাচারা ভালোবাসলেও চাচিরা তাকে খুব একটা ভালো চোখে দেখে না।তাদের মতে সে অপয়া।বাড়ির কেউ তাকে খুব একটা পছন্দ করে না।তারও বিভিন্ন কারন আছে।

ইনতিয়াজ শেখের তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে হল মহিউদ্দিন শেখ।আর মাহি তার নাতনি।বাবা মা মরা নাতনি কে ওনি খুব ভালোবাসে।আর বড় ছেলে মিয়াজ শেখ।তার দুটো ছেলে।মেঘ আর মাহাদ।মেঘ পড়াশুনা শেষ করে একটা কোম্পানিতে জব করে।আর মাহাদ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে সে পড়াশুনার সুবাদে বাইরে থাকে।

মেজ ছেলে নিয়াজ শেখ এর দুই ছেলে মেয়ে। নীলাঞ্জনা,আর নিহাল। নিহাল বিয়ে করে বৌ নিয়ে চাকরির সুবাদে বাইরে থাকে।আর নীলাঞ্জনা বর্তমানে বিয়ে করে শশুর বাড়ীতে থাকে।নীলা দেখতে সুন্দরী হলেও স্বভাব ভালো না।

ছোট থেকে মাহি এদের সাথেই মানুষ হয়েছে।নীলা বড় আর মাহি ছোট তারা একটাই রুম শেয়ার করত।এতে নীলা বেশ বিরক্ত হত। কিন্তু দাদুর মুখের ওপর দিয়ে কথা বলার সাহস নাই। মাহি সবসময় নীলার সুবিধা অনুযায়ী ই চলত যাতে অশান্তি না হয়।রুমটা বেশ বড়। দুই পাশে দুইটা খাট, দুইটি আলমারি,দুটা পড়ার টেবিল আরো কিছু জিনিস আছে।নীলার সুবিধা হলেই চলত ও মাহিকে এমন না যে ঘৃনা করত কিন্তু নিজের সুবিধা আগে দেখত।

মাহির দিন শুরু হতো পড়াশুনা, কলেজ, প্রাইভেট, দাদুর সেবা,আর বাসার টুকটাক রান্না করে।এভাবেই চলছিল তার দিন ,মাস,বছর।

কিন্তু হঠাৎ একটা ঝরে সব পাল্টে গেল।

#বিষাক্ত_ভালবাসা

#সূচনা_পর্ব

#ইশিকা_ইসলাম_ইশা

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন