#বিষাক্ত_ভালবাসা
#পর্ব_২
#ইশিকা_ইসলাম_ইশা
মাহি চোখ খুলে সামনে কাউকে দেখে চমকে উঠে।কবির তার দিকে ঝুঁকে আছে।মাহিকে চোখ খুলতে দেখে কবির শাটের হাতা ফোল্ড করতে করতে বলে,
তুই যদি আমার কথা কাউকে বলেছিস!!তো!!!
আমি কাল রাতের ভিডিও ভাইরাল করে দিব।
মাহির চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।লোকটা কতটা নিষ্ঠুর কাল জানোয়ারের মতো আচরন করে সেগুলো আবার ভিডিও করেছে।কালকের কথা ভাবলেও গা গুলিয়ে উঠছে ওর।
আর ভাইরাল করলে তোর দাদু তা দেখে সোজা উপরে। মাহি ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছে কবিরের দিকে।
এখন ভেবে দেখ আমার নাম নিবি কি না।
মাহি কথা বলতে পারলে একে শ্রেষ্ঠ কাপুরুষ এর উপাধি দিত।কিন্তু কালকের ঘটনার জন্য সে সাময়িক ভাবে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
ওহহহ সরি সরি তুই তো আবার কথা বলতে পারবি না।ভেবে দেখ কি করবি।বলেই কবির চলে যায়।
,
,
,
,
মাহির বাকশক্তি ফেরার পর সে শুধু বলেছে ওরা চোখ বেঁধে দিয়েছিল।
তা কয়জন তোকে ????
মেজো চাচির সবার সামনে করা প্রশ্নে বুক ফেটে কান্না আসছে।মনে হচ্ছে ধারালো কিছু দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিতে।বলতে ইচ্ছে করছে আমার কি দোষ??কেন এমন হল আমার সাথে।
মাহি আর কোন উত্তর দিতে পারল না।
কিরে বল কয়জন??
এবার মাহি আর চুপ থাকতে পারলো না।
এবার একটু চুপ করেন চাচি।আর কত??
চাচি বিরবির করতে করতে রুম থেকে চলে যায়। মাহি দরজা লক করে দেয়।অনেক ডাকার পরও দরজা খুলে না।মাহি পুরো রুম খুঁজে একটা ধারালো কেচি পায়।সেটা দিয়ে নিজেকে আঘাত করার আগেই দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কবির।হাত থেকে কেচি ছুড়ে ফেলে দেয়।সবার সামনে ওকে কিছু না বলে সবার কাছে ভালো সাজার জন্য দু চারটে কথা বলে বেরিয়ে যায়।বাকিরা তাকে যা ইচ্ছা তাই বলতে থাকতে।
এই ঘটনার এক সপ্তাহ হতে চলল।সবার কটু কথায় সে তিলে তিলে মরেছে।এই এক সপ্তাহের মধ্যে মেঘের সাথে একবারও দেখা হয়নি ওর।মেঘ একবারও আসে নি। ঠিকই তো ওর মতো নষ্টা মেয়ে কে কেন কেউ ভালোবাসবে।
,
,
,
,
আমার পক্ষে মাহিকে বিয়ে করা অসম্ভব দাদু!!
ইনতিয়াজ শেখ মেঘের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসে।এই মেঘ ই কিনা মাহিকে বিয়ে করার জন্য দাদুর কাছে কত মিনতি করছে,কতো ভালবাসা দেখিয়েছে।
সবার সামনে কথাটা বলেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইল মেঘ।
আব্বা আপনি এখন আমার ছেলেকে ঐ নষ্টা মেয়েকে বিয়ে করতে বলবেন না।মেঘ বলেই দিয়েছে ও বিয়ে করবে না।
নষ্টা কথাটা কানে যেতেই কবিরের কেমন জেনো লাগল।নিজে বিরবিরিয়ে উচ্চারন করল নষ্টা।
না জানি কয়জনে মিলে শরিরডারে ছিঁড়ে খ.........
আর সহ্য হল না কবিরের,
ইনআফফফফফফ...........
ব্যাস অনেক বলেছেন।আপনি ...........কথাটুকু বলেই কবিরের চোখ যায় সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠা মাহির দিকে।সেদিক থেকে চোখ সরিয়ে আবারো কিছু বলতে যাবে হুট করে কি মনে করেই ছাদের দিকে দৌড়াই কবির।
হঠাৎ এভাবে দৌড়াতে দেখে সবাই সেদিকে তাকাই।এবার সবাই সেদিকে দৌড় দেয়।ছাদের দরজা ভেতরে থেকে লাগানো দেখে সবাই মাহিকে ডাকতে থাকে।কবিরের কেন যেন খুব অস্থির লাগছে।মনে হচ্ছে এই বুঝি সব শেষ হয়ে গেল।কবির পাশে পড়ে থাকা রড দিয়ে টিনের দরজা কিছুটা ফুটো করে ওর মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দেয়।এতে টিনে হাত কেটে রক্ত বের হতে থাকে।কবির ছিকনিটি ভেতর থেকে খুলে ফেলে .....
সবাই ঢুকে পড়ে ।দাদু সহ সবাই মাহির দিকে এগিয়ে যেতেই মাহি কান্না করতে করতে পিছাতে লাগল।
মাহি:কেউ আসবে না। আমি আব্বু আম্মুর কাছে যাব।তারা কেন আমাকে এই দুনিয়াই একা করে রেখে গেছে জানতে চাইব।আল্লাহ কেন আমাকেও নিয়ে নেয় নি। মাহি কথা বলছে আর পিছাচ্ছে।
মেঘ:দেখ পিচ্চি আর এগুস না।আমি তোকে বিয়ে করব। তবুও তুই পিছাস না।পড়ে যাবি।
বড়মা:কি বলছিস এসব??তুই না আমার কসম !!!!
মেঘ:ইনাফ মা......ইনাফ......
বড়মা:তুই ওকে বিয়ে করলে আমার মরা মুখ দেখবি।মেঘ মায়ের কথায় তোয়াক্কা না করে মাহিকে বার বার সরে আসতে বলছে।
মাহি একদম ধারে চলে আসে।আর এক কদম মাহি পড়ে যেতেই সবাই মাহি বলে চিৎকার করে উঠে। কিন্তু পড়ার আগেই এক শক্তিশালী হাত ওর হাত ধরে এক টান দেয়।একদম বুকে এসে পড়ে মাহি।এতখন শ্বাস আটকে আসছিল কবিরের।মাহিকে বুকে জরিয়েই সস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কবির।মাহি কবিরের শাট খামচে ধরে জোরে কেঁদে দেয়।
"আমি আর পারছি না।আমি বাচতে চাই না।আমাকে আব্বু আম্মুর কাছে যেতে দাও।ওর কান্না যেন কবিরের বুকে তীরের মতো বিধছে।সে তো শাস্তিই দিতে চেয়েছিল তাহলে ওর কেন এমন হচ্ছে।মনে হচ্ছিল এখুনি সব হারিয়ে ফেলছিল।কবির ওকে দু হাতে জরিয়ে ধরে।মাহি কাবিরের বুকেই ঙ্গান হারাই। অতিরিক্ত স্টেস্ট এর কারনে।কবির মাহির দিকে এক পলক তাকিয়ে কোলে তুলে নেয়।রুমে এনে শুইয়ে দিয়ে বের হয়ে যায়।
একটু পরেই ফিরে আসে,মেঘ মাহির মাথায় হাত বুলানোর জন্য হাত এগুতেই কবির চিৎকার করে উঠে। মেঘ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তোকে ....আ..ন্টি ডাকছে.....
জলদি যা ওনি আবার কিছু করে না বসে আমি আছি মাহির...
মেঘ অনিচ্ছা সত্ত্বেও একবার মাহির দিকে তাকিয়ে বের হয়ে যায়।
মেঘ যেতেই কবির মাহির কাছে গিয়ে বসে।খোলা চুলে পাগলের মতো লাগছে ।চোখ মুখ ফুলে গেছে।চেহেরা কয়দিনেই বদলে গেছে।চোখের নিচে মোটা কালি পড়েছে। ঠোঁট গুলো শুকনা হয়ে আছে। হঠাৎ ই মাহি বিরবির করে বলে,
প্লিজ ছেড়ে দিন আমাকে প্লিজ....আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে।সহ্য হচ্ছে না ।আর না......
কবিরের সেদিনের চিৎকার যেন কানে ভাসছে আনমনেই চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।ঝট করেই মাহিকে বুকে টেনে নেয় কবির।কি ত্রিব্র যন্তনা হচ্ছে বুকে। হঠাৎ নিজের পরিবতন দেখে হতবাক কবির।মাহি কবিরের বুকে শান্ত হয়ে যায়।
,
,
,
,
ডক্টর:ওনাকে মানসিক চাপ আর দিয়েন না প্লিজ......মেয়েটা নিহাত ই বাচ্চা। তার উপর ফিজিক্যাল টচার।আপনারা কি মানুষ???
আপু আমি মাহিকে বিয়ে করব ।আজ এবং এখুনি।
ভাইয়ের মুখে হঠাৎ এমন কথায় হতভম্ব হয়ে যায়।ড.কবিতা চৌধুরী ।
কবিতার উত্তর এর আশা না করে দাদুর সামনে এসে দাঁড়ায় কবির।তিনিও হতভম্ব।
আপনার নাতির হাত চাইছি।আপনি দিলেও নিবো না দিলেও নিবো।
কবিতা কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই কবির বলে,
যা বলার বিয়ের পর বলবি।এর আগে কিছু বলবি তো সব শেষ করে ফেলব।
কবিতা কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়।ভাইয়ের রাগ সম্পর্ক ধারনা আছে তার।
,
,
,
ওর চেয়ে হাজার গুণ ভালো মেয়ে পেয়ে যাবি।সরি দোস্ত কিন্তু ওকে পাবি না।
কবিরের কথায় মেঘ কি বলবে কিছু বুঝতে না। সে এখনো এটাই বুঝছে না কবির কেন মাহিকে বিয়ে করল।
কবিতা মাহিকে জামদানি লাল একটা শাড়ি পড়িয়ে দেয়। হালকা সাজিয়ে দেয় তবে এতেই মায়াবতী লাগছে মাহিকে।মাহি নিশ্চুপ নির্বাক।মনে হচ্ছে সে একটা পুতুল মে যেই দিকে ঘোরাচ্ছে সে সেই দিকেই ঘুরছে।মুখে হাসির ছিটাফোটাও নাই।থাকবেই কিভাবে সবার এমন ভয়ানক রূপ দেখে সে কিছু বলতে পারছে না।সহ্য করা ছাড়া।
দাদু কে সে মানা করেছিল কবির কে বিয়ে করবে না। দাদু আগে কিছু না শুনেই কসম দিয়ে দেয়।মাহির ইচ্ছে করছে এই দুনিয়া থেকে চলে যেতে।দূরে চলে যেতে।
বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।কবির দাদুর কাছে গিয়ে বিদায় নেই। মাহিকে যাবার কথা বললে সে রোবটের মতো হেঁটে বাড়ির বাইরে চলে আসে।দাদুর সাথেও দেখা করে না।
কবির ,কবিতা বিদায় নিয়ে বেরিয়ে যায়।কবিতা কিছু জানতে চাইলে কবির বলে এখন কোন কিছুর উত্তর দিতে পারবনা।
,
,
,
,
চৌধুরী বাড়িতে প্রবেশ করতেই কেউ ছুটে আসে।
"খবরদার এই নষ্টা মেয়ে নিয়ে আমার বাড়িতে প্রবেশ করবি না বলে দিলাম"। মায়ের কথায় বিরক্তি ফুটে উঠল কবিরের মুখে।
কবির:একদম ওকে নষ্টা বলবে না আম্মু......
কবিরের মা: নষ্টা মেয়ে কে নষ্টা বলব না তো কি বলব?তোর সাহস কিভাবে হয় এই মেয়ে নিয়ে আমার বাড়িতে আসিস।
কবির:মাহি এখন আমার বৌ......
কবিরের মা:আমি মানি না এই বিয়ে ।না মানি ওকে তোর বউ।
কবির: তুমি মানো আর না মানো মাহি আমার বউ।আজ থেকে ও এ বাড়িতেই থাকবে।
কবিরের মা:কবির.......
আমি তোমার মা হয়.......
ওহহহ রিয়েলি.......
মা বুঝি ছেলে মেয়ে ছেড়ে অন্য কারো হাত ধরে পালিয়ে যায়।কবিরের কথায় কাজল বেগম আর কিছু বলে না।নিজের ছেলে যে তাকে এতো ঘৃনা করে।অবশ্য এটা ওর প্রাপ্য।সে তো ভুল করেছে।
কবির..........
তোমার মা হয় কাজল।এভাবে কথা বলতে পারো না।
হুইল চেয়ারে বসা একজন লোক এগিয়ে আসে কথাটা বলে। কবির লোকটাকে দেখে মাথা নিচু করে রাখে।
দাদু আমি মাহিকে বিয়ে করেছি ও আজ থেকে আমার বউ। আর ও এবাড়িতেই থাকবে।
বিয়ে যখন করেছো তখন ও এখানেই থাকবে।তবে তুমি যে ওর মতো নির্যাতিত মেয়েটার পাশে দাড়িয়েছো এতে আমি অনেক খুশি।নিলজ্জ কিছু মানুষের জন্য মেয়েটার জীবন নষ্ট হয়ে যেত।যা হয়েছে এতে মাহির দোষ কোথায়।
কিন্তু আব্বা আপনি এই মেয়েকে.......
চুপ কর কাজল।আজ থেকে ও এই বাড়ির বউ।এটা তোমাকে মানতে হবে।কবিতা দিদিভাই যাও ওকে রুমে রেখে আসো।কবিতা মাহিকে উপরে নিয়ে যায়।মাহি রোবটের মত হাঁটছে শুধু।
চলবে,