#বিষাক্ত_ভালবাসা
#পর্ব_৪
#ইশিকা_ইসলাম_ইশা
কেন করলি এমন কি ক্ষতি করেছিলাম তোর???কেন কেড়ে নিলি আমার ভালবাসা কেন??
মাহি:শুধু কি আমিই কেড়ে নিয়েছি।আপনি কেড়ে নেননি।যদি কখনো জানতে পারেন আমি নির্দোষ ফিরিয়ে দিতে পারবেন আমার সন্মান।ফিরিয়ে দিতে পারবেন আমার ভালবাসা।ফিরিয়ে দিতে পারবেন আমার আগের জীবন????
কবির:তুই আর নির্দোষ??
এখন ধরা পড়ে আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করছিস যাতে তোকে ছেড়ে দিই।
কবির ধোকাবাজদের কখনো ছেড়ে দেয়না।
মাহি: আমি আপনাকে এই ম্যাসেজ করি নি।এটা আমি প্রমান করব।
কবীর:ওহহ রিয়েলি!!!!হা.....
কর প্রমান।তুই মিথ্যা প্রমান করবি আর আমি মেনে নিব ভেবেছিস!!বলেই মাহিকে টেনে বেলকনিতে ফেলে দরজা আটকে দেয়।মাহি ডুকরে কেঁদে ওঠে।বিনা দোষে কিসের শাস্তি দিচ্ছে আল্লাহ তাকে।মাহি কাঁদতে কাঁদতে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে।
,
,
,
,
সকালে আবারো পানির বন্যায় ঘুম ভেঙ্গে যায় মাহির।সামনে তাকিয়ে দেখে কবির জগ নিয়ে রাগী লুকে তাকিয়ে আছে.....
মহারানীর ঘুম হয়েছে।এবার উঠে আমাদের ধন্য করুন।মাহি শরির এমনিতেই খারাপ তার উপর কালকে সারা রাত বেলকনিতে শোয়ায় শরির চলছে না।পেটের ব্যাথায় সবকিছু গুলিতে আসছে। মাহি কষ্ট করে উঠে দাড়াই কিন্তু একধাপ দিয়ার আগেই মাথা ঘুরে পড়ে যায়।কবির মাহিকে ধরে ফেলে।গায়ে হাত দিতেই চমকে উঠে।গায়ে প্রচন্ড জ্বর। কবির মাহিকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে আসে।
,
,
,
কবিতা রেগে ভাইয়ের দিকে তাকাই,
কবিতা: প্রতিশোধ নিবি যখন মেয়েটাকে একবারে মেরে ফেল এভাবে তিলে তিলে কেন মারছিস???
ছি আমি ভাবতে পারিনি এমন জানোয়ারর মতো কাজ আমার ভাই করবে।
ও যখন বলছে ও কিছু করেনি তাহলে তুই ওকে সুযোগ দে নিজেকে প্রমান করার।এতটা অবিচারক হস না পরে না তোকে আফসোস করতে হয়।একবার তাকিয়ে দেখ মেয়েটা নিহাত একটা বাচ্চা।আর তুই.....ছি।তোকে নিজের ভাই বলতেও ঘৃনা করছে।
কাল তোর ভাইয়া আসবে আমি আমার বাড়িতে চলে যাব।বলেই কবিতা বেরিয়ে যায়।
,
,
,
,
২দিন পর,
এই যে মহারানী।বড়লোক বাড়ির বৌ হয়ে এসেছেন দেখে ভেবেন না সব আপনার সামনে হাজির হবে।নিজে গিয়ে নাস্তা খেয়ে আসেন।আপদ যতসব।
বলেই কাজল বেগম চলে যায়।মাহি একটু সুস্থ।এই দুদিন কবিতা মাহির দেখাশোনা করেছে। কিন্তু কাল কবিতা শশুর বাড়ী চলে গেছে।কবির সারাদিনে একবারও এই রুমে আসেনি। উঠে কোন মতে নাস্তা খেয়ে আসে মাহি।
মাহি নিজের ফোন থেকে অনেকবার কল করে নীলাকে কিন্তু ফোন বন্ধ।তার জানতেই হবে নীলা কেন এমন করল।সে তো বিয়ের সময় একবারও বলে নি সে অন্য কাউকে ভালোবাসে।তাহলে .....
মাহি বাড়িতে ফোন করে না।কাকে ফোন করবে।সে ওখানে তার আপন।যে মানুষ দুটা কে আপন ভাবত তারাই তো তাকে তাদের জীবন থেকে বের করে দিয়েছে।মাহি পাশের বাসার বান্ধবী তুলিকা কে ফোন করে।দুবার রিং হতেই তুলিকা ফোন রিসিভ করে।
মাহি কেমন আছিস? কত দিন পর ফোন করলি??জানিস তোকে কতবার ফোন করেছি??তোর ফোন বন্ধ কেন?তুই ঠিক আছিস তো???
না মরে বেঁচে আছি......
এভাবে বলিশ না প্লিজ.....
আমার একটা কাজ করবি??
বল না কি কাজ??
ঐ বাড়িতে নীলা আপু আসলে আমাকে ফোন করে জানাবি??
কিন্তু কেন??
তোকে পরে সব বলব।এখন রাখছি।ভালো থাকিস......
তুলিকা কিছু বলার আগেই মাহি কেটে দেয়।
চোখ বন্ধ করতেই চোখে ভেসে ওঠে অতীত........
দাদুর পরে আগলে রাখার মতো হাত পেয়েছিলো মেঘের।মেঘ যখন মাহিকে মনের কথা বলে তখন মাহি সবে নতুন টেন এ উঠেছে।মাহিকে একটা ছেলে প্রপোজ করেছিল সেদিনই মেঘ রেগে মাহিকে থাপ্পর মেরেছিলে।মাহি রেগে বিভিন্ন কথা বলতেই মেঘ সেদিন বাড়ির সবার সামনে বলেছিলো ও মাহিকে বিয়ে করবে।ওর ইন্টার শেষে।সেদিন সবাই অনেক মানা করলেও সে একই জিদে অটল ছিল।কেউ না মানলেও দাদু মেনে নিয়েছিল। তখনই মেঘ মাহিকে রিং পড়িয়ে দেয়।আর মাহি হয়ে যায় মেঘের।মাহির মনেও ধীরে ধীরে জন্ম হয় মেঘের প্রতি ভালবাসা।শুরু হয় তাদের নতুন অধ্যায়।মাহি ভালোই ছিল জীবনে হাজারো অবহেলার পর কারো ভালবাসা পেয়ে। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হলে না।
গেট খোলার শব্দে চোখ মেলে তাকাই মাহি,
কবির কে ঢুকতে দেখে আবারও চোখ বন্ধ করে নেই।এই মানুষটার ছায়াও যেন তার সহ্য হচ্ছে না।২দিনে তার সাথে কবিরের মখামূখি কম ই হয়েছে।গায়ে কিছু পড়তেই মাহি চোখ খুলে তাকায়.......
কবির:সাইন কর..........
মাহি একবার কবির তো একবার কাগজের দিকে তাকাই।ডিভোস পেপার দেখে বলে
বিয়ের কয়েকদিন পরে ডিভোস।কোট মানবে বুঝি??
কবির মাহির কোন রিএকশন না দেখে অবাক হয়।সে তো ভেবেছিল মাহি কষ্ট পাবে। তার কাছে আকুতি মিনতি করবে যেন তাকে ডিভোস না দেয়। কিন্তু মাহির এমন কথায় কিছুটা ভু কুঁচকে তাকায় কবির।কবির যতটুক মাহিকে দেখছে খুব শান্ত শিষ্ট আর ভীতু টাইপ।তাহলে আজ এমন নিরুত্তর কেন?
সেটা তোকে ভাবা লাগবে না আমি দেখে নিব।
ঠিক আছে আমি সাইন করে দিব। কিন্তু একটা শর্ত আছে।
কত টাকা চাই?যত চাস পেয়ে যাবি?
প্রথমতো টাকা আপনার মতো জানোয়ারের জন্য তুলা থাক।
আর দ্বীতিয় তো সবার সামনে বলতে হবে।আপনি আমাকে তুলে রেপড করেছেন।আর কারন ও বলতে হবে ।পারবেন??
কবির রেগে মাহির মুখ চেপে ধরে,
জানোয়ার হতে তুই বাধ্য করেছিস?আর আমাকে কি মনে করিস?কবির চৌধুরী ভয় পায়??না তোকে তিলে তিলে শেষ করতে তোর গায়ে রেপড নামক কলঙ্ক লাগিয়েছি।আর তোকে বিয়ে করেছি যেন চোখের সামনে তোকে তিলে তিলে কষ্ট পেতে দেখতে পারি।
মাহির চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে,কবির ওর কল্পনার চেয়েও খারাপ। নিজেকে ছাড়িয়ে বলে,
আপনার মতো কাপুরুষের থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায় না।আমি সাইন করে দিলাম।আমাকে কিছুদিন সময় দেন আমি চলে যাব।
এবারও কিছুটা অবাক হয় কবির।এতো সহজে মাহি রাজি হয়ে যাবে ভাবেনি।
তুই কি প্রমান করবি বলছিলি?
প্রমান করে কি করব?ফিরে আসবে কি আমার কলঙ্ক হীন জীবন। তাছাড়া একদিন সত্য সামনে আসবেই।আমি থেমে থাকবে না।আল্লাহর দুনিয়ায় আমি ছোট থেকেই কষ্ট পেতে আছি তাই কষ্টের ভয় আমার নাই।আর না আছে কিছু হারানোর ভয়।বলেই মাহি বের হয়ে চলে যায়।
কিছুদিন পর,
এই মেয়ে কোথায় যাও??
জি একটু বাইরে ।
বাইরে তোমার কি কাজ।এই কলঙ্কনি মুখ নিয়ে বাইরে তাও কিভাবে।
যে এই অন্যায় টা করেছে তার কোন দোষ নাই।অথচ জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে যার সাথে অন্যায় টা হয়েছে সে দোষী।আপনি না একজন মেয়ে।মেয়ে হয়ে মেয়ের যন্তনা বুঝতে পারছেন না।আপনি তো মা আপনার মেয়ের সাথে এমন হলে আপনার কেমন লাগত??
এই মেয়ে থাপ্পর মেরে দাঁত ফেলে দিব।আমার মুখের উপর কথা।
আমি আপনার মুখের উপর বা নিচে কথা বলতে আসি নি।তাই হোক আমি আপনার থেকে এর বেশি কিছু আশা করি না। আসি......
,
,
,
,
পাশাপাশি একটা রেস্টুরেন্টে এ বসে আছে মাহি আর তুলিকা ।তুলিকা সব শুনে অবাক ।
ইয়া আল্লাহ..........
মানুষ এতটা নিকৃষ্ট হতে পারে??নীলাপু যদি ভালোই বাসবে তাহলে বিয়ে করল কেন??
প্রশ্ন অনেক কিন্তু উত্তর জানা নাই।আমি আর ওখানে থাকতে পারছি না।আমাকে ঐ নরক থেকে বের হতে হবে।কোন কাজের খোঁজ করতে হবে।তারপর একটা বাসা ভাড়া করতে হবে।
তুই আমার বাসায় আয়।আমার বাসায় তোর কোন সমস্যা হবে না।
নারে।কষ্ট পেতে পেতে আর ভালো লাগছে না।ছোট থেকে সব মেনে নিয়েছি।মানিয়ে নিয়েছি আর কত?আমাকে একটা ছোটখাটো চাকরি খুঁজতে সাহায্য করবি।
অবশ্যই করব। কিছু খেয়েছিস?
হ্যা।চল .....
কিন্তু......
চল প্লিজ.......
,
,
,
তুলিকা:অনেক তো খুঁজলাম কিন্তু তেমন কোন চাকরি তো পেলাম না।
মাহি:অনেক দেরি হয়ে গেছে।তুই বাসায় যা।
তুলি:তুই??
মাহি:ফিরে যাব ঐ নরকে।তুই যা আমি যেতে পারব।আন্টি বাসায় একা তুই যা।তুলি চলে যেতেই মাহি হাঁটতে থাকে ।চারদিকে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।শরির যেন তার চলছে না।নামাজের জন্য মানুষের ভির কম।কেমন শুনশান পরিবেশ।আগে হলে মাহি ভয়ে এক কদম ও ফেলতো না।আর এখন এই অন্ধকার রাস্তায় যেন তার সঙ্গী। হঠাৎ কারো চিৎকারে মাহি আশেপাশে তাকাই।
চোর চোর..........
মাহি সামনে একটা লোককে আসতে দেখে পাশে থাকা ইট তুলে ছুরে মারে। লোকটার পায়ে লাগতেই লোকটা নিচে বসে পড়ে।আর পিছু করতে থাকা দুইটা লোক তাকে ধরে ফেলে।তারা মাহিকে ধন্যবাদ দেয়।মাহি আবারো নিজের পথে হাঁটতে থাকে।
চলবে,