ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিষাক্ত ভালবাসা

৫ম পর্ব

লেখক: আনিকা ইসলাম ইশা

#বিষাক্ত_ভালবাসা

#পর্ব_৫

#ইশিকা_ইসলাম_ইশা

এখন আসার সময় হলো।কোথায় ছিলি??

তার উত্তর আপনাকে দিতে বাধ্য নয় আমি।

কি বললি?খুব সাহস বেড়েছে তাই না।

আপনি এখন আর আমার স্বামী না।তাই আমি কোথায় গেছি সেটি আপনাকে বলতে বাধ্য নয়।

তুই রাত করে ফষ্টি নষ্টি করবি আর আমাকে বলতে বাধ্য নয়।

ভাষা ঠিক করুন।আর আমি যাই করি তাতে আপনার সমস্যা কোথায়? আমি খারাপ কাজ করলেও আপনার কি?নাকি শারীরিক চাহিদা মেটে.......

ঠাসসস......

মাহি ছিটকে পড়ে খাটের কোনায় মাথা কিছুটা ছিলে যায়।কবির রাগে টগবগ করে বের হয়ে যায়।

মাহি চুপচাপ বসে থাকে।এত ব্যাথা সহ্য করে এই ব্যাথা তার কাছে তুচ্ছ।

রাত প্রায় ২.৩০......

কবির রুমে এসে দেখে মাহি আগের মতো সেখানেই বসে গুটিসুটি মেরে ঘুমোচ্ছে।কপালের ক্ষত এখনো শুকায় নাই।রক্ত জমাট বেঁধে আছে। কবির বক্স থেকে ওষুধ বের করে কাটা জায়গায় লাগিয়ে দেয়।ব্যাথায় ঘুমের মাঝেও কেপে কেপে উঠছে। কবির সেখানেই বসে পড়ে।মাহি গরম কিছুর সন্ধানে কবিরকে জরিয়ে ধরে।কবির মাহির দিকে তাকিয়ে আর নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় না।কেন জানি শান্তি লাগছে।

আজানের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় মাহির।কবির কে নিজের এত কাছে দেখে ছিটকে সরে আসে মাহি। মাহি সরে আসতেই কবির পড়ে যেতে লাগলে জরিয়ে ধরে মাহি।কবিরের গা বেশ গরম হয়ে আছে। মাহি কপালে হাত রেখে বুঝতে পারে কবিরের জ্বর এসেছে।মাহি কোন মতে তুলে বিছনায় শুইয়ে দেয়।কাঁথা টেনে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে নেয়।

ইয়া আল্লাহ....আমি জানি না।কোন ভুলের শাস্তি আপনি আমাকে দিচ্ছেন।আমি আর পারছি না মেনে নিতে।আমি আমার জীবনের নতুন পথ বেছে নিতে চায়।আমাকে সাহায্য করুন আমিন।

নামাজ শেষ করে,

মাহি একবার কবিরের দিকে তাকাই।জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সেবা না করা কি ঠিক হবে।যতোই হোক স্বামি তার।মাহি ভয়ে ভয়ে কবিরের পাশে বসে। মাথায় হাত রাখতেই কবির হাত টেনে জরিয়ে ধরে।মাহি চমকে সরে আসতে চেয়েও পারে না।কবির কি যেন‌ বিরবির করছে।মাহি মুখটা নামিয়ে শুনতে পেল,

আমি যে আমার প্রিয়োসিনী কে অনেক ভালোবাসি।কেন করল আমার সাথে এমন।ওকে ছাড়া যে আমি ভালো নেই।ওর গান যে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে।ওর মধুর কন্ঠ না শুনলে যে মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠে।

মাহি বুঝল নীলার কথা বলছে।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পানি এনে কবিরের মাথায় দিতে থাকে।কবির পিটপিট করে একবার মাহিকে দেখে আবারও চোখ বন্ধ করে নেয়।

মাহি পানি ঢেলে এবার মাথা মুছিয়ে দেয়। কবির বার বার মাহির কাঁধে হেলে পড়েছে এতে মাথা মুছতে সমস্যা হচ্ছে।কোনমতে মুছিয়ে ওষুধ খাইয়ে দেয়।

ঘড়িতে ৬টা বাজে।এতো সকালে এই বাড়ির কেউ উঠে না।মাহি নিজের লাগেজ বের করে সব গুছিয়ে নেয়।একটা নোট লিখে বেরিয়ে আসে ঐ রাজমহলের খাঁচা থেকে।

অজানা গন্তব্যে হাটতে থাকে মাহি।আল্লাহর উপর ভরসা করেই সে বাকি পথ এগুবে।

,

,

,

,

১৫ দিন পর,

কবিররররররর..... কোথায় তুই বের হ!!!!!

কবির নাস্তা করছিল। হঠাৎ মেঘের আগমনে কিছুটা অবাক হয়।

কবির:কী হয়েছে সকাল সকাল এভাবে চিল্লাচিল্লি করছিস কেন?

মেঘ কবিরের কলার ধরে বলে,

কেন ওর সাথে এমন করলি??কি ক্ষতি করেছিল মাহি তোর???

দাদু:মেঘঘঘ ছাড়ো.....

মেঘ কারো কথা শুনে না।আবারো চিল্লিয়ে বলে,

কেন???কী ক্ষতি করেছিল মাহি বল?আমিই বা কি করেছ তোর বল?কেন কেড়ে নিলি আমার জীবন থেকে কেন??কেন ওর এতবড় ক্ষতি করলি?

তুই ওকে তুলে নিয়ে রেপড করেছিস।

কথাটা যেন বাড়িতে বাজতে লাগল।বলললল কবির কেন করেছিস????

কারন ও আমার থেকে আমার ভালোবাসা কেড়ে নিয়েছে???আমি তো শাস্তি দিয়েছি।

ভালোবাসা মানে??

হ্যা!ভালোবাসা ......

ও আমার থেকে আমার নীলাকে কেড়ে নিয়েছে।আমার ভালবাসা কেড়ে নিয়েছে।

কি???

অবাক হচ্ছিস??আরে ঐ মেয়েটা আমার সাথে ধোঁকা করেছে।আর তুই ভালোই জানিস ধোকাবাজদের আমি ছেড়ে দিই না।

ধোঁকা??

কবির সব বলতেই মেঘ অবাক হয়ে বলে,

নীলা তোকে ভালোবাসে???

হ্যা...... কিন্তু ঐ মেয়েটার জন্য আমি ওকে হারিয়ে ফেলেছি।

তুই পাগল হয়ে গেছিস???কোন কিছু না জেনে?তুই ওর এতো বড় ক্ষতি করেদিলি।

আর নীলা যদি তোকে ভালোবাসবে তাহলে বিয়ের দিন একবারও বলে নি কেন??

তাছাড়া নীলা রিয়াদ কে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। কেউ ওকে জোর করে নি।

তুই মিথ্যা বলছিস।নিজের ভালোবাসা বাঁচানোর জন্য মিথ্যা বলছিস???

আমি মিথ্যা বলছি না।তুই ভালোই জানিস আমি মিথ্যা বলা পছন্দ করি না।

আর ম্যাসেজ এর কথা বলছিস না।যেদিন নীলার বিয়ে হয় সেদিন মাহি সারাটাখন আমার সাথে ছিল।ওর কাছে ফোন ছিল না।ও তো সেদিন ফোন খুঁজে পাচ্ছিল না।

মেয়েটা সেদিন কত কেঁদেছিল।আমার দেওয়া ফোন সে হারিয়ে ফেলেছে বলে।আর মাহি মেসেজ করলে বাংলায় করে ইংলিশ এ করে না।

যদি তুই সত্য বলিস?তাহলে ঐ ম্যাসেজ??

জানি না।আজ থেকে তোর সাথে বন্ধুত্ব শেষ। মাহি কে ডেকে দে আমি ওকে নিজের সাথে নিয়ে যাব।চলে যাব এখান থেকে অনেক দূর।মাহি মাহি............

দাদু:মাহি তো নেই......ও তোমাদের বাসায় নাই??

মেঘ:আমাদের বাসায় মানে?? বিয়ের পর ওর সাথে আমাদের কোন কথা হয়নি।ওর ফোন বন্ধ।

দাদু: কিন্তু মাহি তো ১৫দিন আগেই এ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।আমি ভেবেছি ও তোমাদের বাসায় আছে।

মেঘ:কিহহহহ??ও বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে আর একথা একবারও আমাদেরকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেন নি।

আই সোয়ার যদি মাহির কিছু হয় আমি তোকে ছাড়ব না কবির।

কবির ধপ করে বসে পড়ে।

,

,

,

,

কিছুদিন পর,

মেঘ ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে এতো খোঁজ করেও মাহিকে পেল না মেঘ।মেঘ সোফায় বসে মাথা এলিয়ে দেয়।

ফিরে আয় মাহি প্লিজ......তোকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাব‌। আর কষ্ট পেতে দিব না।ফিরে আয় না প্লিজ।মাফ করে দে আমায়। আমি তোকে রক্ষা করতে পারিনি।মেঘের গাল বেয়ে কয়েকফোটা জল গড়িয়ে পড়ে।

,

,

,

,

মুখোমুখি বসে আছে মেঘ আর নীলা।

নীলা:কি হয়েছে ভাইয়া আমাকে জরুরি ভাবে ডাকলে.......

মেঘ:মা জিজ্ঞেসা করব সব সত্য বলবি।একটাও যদি মিথ্যা বলছিস তোকে এখানেই কবর দিব।

নীলা:এভাবে বলছো কেন কি হয়েছে??

মেঘ:তুই কবির কে ভালোবাসিস???

নীলা চমকে উঠে......

তুমি কি করে.......

মেঘ:বল??

নীলা:না.......

মেঘ:কবির তোকে পাগলের মতো ভালোবাসে তুই জানিস???

নীলা:হুম জানি।

মেঘ:তোর আর কবিরের রিলেশন ছিল???

নীলা :হ্যা।ছিল .....

মেঘের রাগে রগ ফুলে উঠছে,

মেঘ:তুই কবিরকে ধোঁকা কেন দিয়েছিস??

নীলা:আমি আসলে.......

মেঘ:নীল তুই জানিস আমার মিথ্যা পছন্দ না ।তাই সব সত্য বলবি।বল কেন ধোঁকা দিয়েছিস??ছেলেটা তোকে পাগলের মতো ভালোবেসেছে আর তুই ওকে ধোঁকা দিয়েছিস??? বলললল কেন করেছিস এমন???????

নীলা কেঁদে দেয়,

আমি ইচ্ছে করে কিছু করিনি।আম........

আগে কিছু বলার আগেই কারো শক্ত হাতের স্পর্শ গালে পড়ে নীলার।উপরে তাকাতেই শকড হয়ে যায় নীলা। কাঁপতে থাকে শরির।লাল টুকটুকে চোখে তাকিয়ে আছে কবির।যেন চোখ দিয়ে আগুন বেরোচ্ছে।

কবির:তুই কিছু করিসনি!!!!এই তুই কিছুই করিস নি তাই না????

নীলা:না না না......

আমি ধোঁকা দেয়নি। অন্য কারো ভালোবাসা নিয়ে আমি থাকতে চাইনি।

কবির: অন্য কারো ভালবাসা মানে???আমি তোকেই ভালোবাসতাম।

নীলা:না .....

তুমি আমাকে না।তুমি সেই কন্ঠের মালিককে ভালোবেসেছো।

কবির:কি বলতে চাস........

নীলা:তুমি আমাকে না মাহিকে ভালোবেসেছো।কারন তুমি তার কন্ঠের গান কে ভালোবেসেছো আর সে আমি না মাহি।

কবির আবারো ধস করে বসে পড়ে।

মেঘ:মানে?সবটা বল?

নীলা: ভাসিটিতে প্রথম কবিরকে দেখেই আমার ভালোলাগে।কিন্তু সব মেয়েদের সাথে কথা বলত না।হাজার চেষ্টা করেও ওর আশেপাশে যেতে পারিনি।একদিন কবিরকে আমি আমাদের বাসায় দেখি তোমার সাথে।সেদিন জানতে পারি কবির তোমার বন্ধু।সেদিন আমাদের বাসায় বসেছিল আর মাহি ছাদে গান করছিলো।কবির মাহির গানে মুগ্ধ হয়ে শুনছিল।আর উপরে আসছিল।আমি বুঝতে পেরেছিলাম কবিরের মাহির গান পছন্দ।তাই কবিরের নজরে আসার জন্য সেদিন মাহিকে উঠিয়ে আমি গিটার হাতে বসে ছিলাম।আর কবির আমার হাতে গিটার দেখে ভাবে আমি গান করেছি।গানের জন্য কবির ভাসিটিতে আমার সাথে কথা বলত।প্রায় করে বাসায় আসতো।তখন বাসায় আসতো আমি মাহিকে গান করতে বলতাম।কবির ভাবত গান আমি গাইছি।এভাবে আমাদের সম্পর্ক শুরু হয়।ধীরে ধীরে বুঝতে পারি।কবির আমার সৌন্দর্যে কে না।সেই গানের মালিক কে ভালোবাসে। তবুও ভেবেছিলাম আমার রুপের প্রেমে তো পড়বে কখনো। কিন্তু না এমনটা হয় নি।

কবিরের ভালবাসা আমাকে মুগ্ধ করতো কিন্তু তা আপন লাগতো না।যেন অন্য কারো ভালোবাসা আমাকে দিচ্ছে।

কবির ব্যাস্ত হোয়ার পর।ধীরে ধীরে তার প্রতি ভালোলাগা কাটতে থাকে।তখন আমার জীবনে রিয়াদ আসে।আমাকে ভালোবাসে।আমাকে প্রপোজ করে। আমিও তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি।এভাবেই আমাদের সম্পর্ক শুরু হয়।আমি কবিরকে সবটা বলতে চেয়েও পারিনি। তাছাড়া মাহির তখন তোমার সাথে ইনগেইজ ছিল।

বিয়ের আগের দিন যখন কবির আমাকে কল করে আমার ভয় হয়।আমি ভয়ে কবির কবির কে বানিয়ে বলেদি জোর করে আমার বিয়ে দিচ্ছে।কবির রেগে তার সোস কাজে লাগাতে চাই কিন্তু এতে বিপরীত হত।তাই সেদিন মাহির ফোন থেকে ম্যাসেজ করে দিই।পরে

ওর ফোন থেকে সব মুছে দিই।

কথা শেষ করতেই কবির রেগে নীলার গলা চেপে ধরে।নীলা হাত পা ছুরতেই মেঘ ওকে বাঁচিয়ে নেয়।কবির কিছু বলছে না শুধু চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে।রেগে আশেপাশে সব ভাংচুর করে।নীলার দিকে এগুতেই নীলা ভয়ে জরোসররো হয়ে যায়।

তোর জন্য আমি নিজে আমার ভালবাসার ক্ষতি করেছি।মাহিকে খুঁজে না পেলে তোকে আমি ছাড়ব না।আমার ভালবাসা যদি এতো ভয়ংকর হয় তাহলে রাগ কতটা ভয়ংকর হতে পারে ভাবতেই পারবি না।আজ যাস্ট মেয়ে বলে তোর রক্ষা নাহলে এখুনি কবর দিয়ে দিতাম।

বলেই বেরিয়ে যায়।

চলবে,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন