#বিষাক্ত_ভালবাসা
#পর্ব_৯
#ইশিকা_ইসলাম_ইশা
মাহির ঘুম ভাংতেই পিটপিট করে চোখ খুলে নিজেকে কবীরের বাহুডরে দেখে ঝট করে উঠে বসে।
কবিরের ও ঘুম ভেঙ্গে যায়। মাহির দিকে তাকিয়ে দেখে সে মাথা নিচু করে বসে আছে।
এখন ঠিক আছো??
হু........
আপনার বুকের কাছে রক্ত কেন??
বিড়াল খামচি দিছে.......
এহহহহ.......
ম্যাম আপনি যে আমাকে সেই লিফট থেকে জরিয়ে ধরে ছিলেন এটা তার প্রমান।
সরি........
সরির কিছু নাই।আমার বাচ্চার জন্য আমি সব করতে পারি এটাতো সামান্য ব্যাপার।
মাহি মন খারাপ করে বিরবির করে বলে,
শুধু বেবির জন্য করছে মাহি।নিজেকে এতটাও ভাগ্যবতী মনে করিস না।বেবি হলেই তোর প্রয়োজন শেষ।প্রয়োজন কখনো প্রিয়জন হয়ে উঠে না।
মাহিকে বিরবির করতে দেখে কবির বলে,
কি বিরবির করছ???
মাহির হঠাৎ ই রাগ হয় রেগে বলে,
তাতে আপনার কি??
মাহিকে প্রথম এভাবে রাগতে দেখে ভরকে তাকায় কবির,
তুমি রাগতেও জানো!!!!!
কবিরের কথায় আরও রাগ হচ্ছে মাহির,
না।আমি কেন রাগতে পারব!!রাগ তো শুধু আপনার মতো মহান মানব এর জন্য।মাহি বিরবির করতে করতে বাইরে চলে যায়।
,
,
,
,
নিচে আসতেই কাজল বেগম মুচকি হেসে বলে,
ঘুম হল.... কিছু খাবি???
না খেতে ইচ্ছে করছে না।
না হলেও এই সময় একটু একটু করে খাবি।তোর শরীরের শক্তি দরকার এখন।তুই বোস আমি তোর জন্য ঝাল ঝাল চাউমিন বানিয়ে আনছি।দুইজনে বসে গল্প করব।
মাহি ঠোঁট এলিয়ে হেসে বলে,
ঠিক আছে।
শাশুড়ি বৌমা মিলে অনেক গল্প করল।মাহি আবারো ঘুমিয়ে পড়ে।কাজল বেগম মাহির মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
,
,
,
রাত প্রায় ৯টা বাজে,
কবির মিটিং শেষ করে ফিরতেই দেখে মাহি ঘুমাচ্ছে।
ও এখানে এভাবে কেন????
কিছু না।গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে।যা ওকে নিয়ে রুমে যা। রাতে আমি খাইয়ে দিয়েছি।তোর জন্য খাবার পাঠাচ্ছি খেয়ে নিস।
কবির মাহিকে কোলে তুলে যেতে যেতে বলে,
আপনি না খেলে খেয়ে নিন।
কাজল অবাক হলেও মুচকি হাসে।ছেলে তার খোঁজ করছে।
,
,
,
,
ঘুমন্ত মাহির দিকে তাকিয়ে আছে কবির,
মেয়েটা খুবই ঘুম কাতুরে।কবির পাশে শুয়ে পড়ে।
এপাশ ওপাশ করে ঘুম আসছে না।কবির এবার মাহিকে বুকে টেনে নেয়।শান্তি অনুভব হতেই ঘুমের রাজ্যে পারি জমাই।
এভাবেই চলতে থাকে সময়।কেটে যায় আরও ৪ মাস,
এই ৪ মাসে মাহির পেটটা আরও একটু উঁচু হয়েছে। এখন ৮ মাস চলছে।হাটতে চলতে বেশ কষ্টকর হয়।
আহহহহ.......
কবির ল্যাপটপে কাজ করছিল হঠাৎ মাহির চিৎকারে ছুটে আসে,
কি হয়েছে???
লাথি মেরেছে..
কিহহহ??কে কার এতো সাহস???
আপনার গুনধর বাবুর......
এহহ
মাহি কবিরের হাত পেটে রাখতেই কিছু অনুভব হতেই কবির অবাক হয়ে বলে,
ও নড়ছে...মাহি ও রেসপনস করছে।খুশিতে কবীরের চোখ টলমল করছে।হে মামনি বাবাই......
আমি তোমার বাবা......
আবারো লাথি মারে.....
কবির খুশি হয়ে কান্না করে দেয়।
মাহির চুলগুলো তেল দিয়ে দিচ্ছে কবির।তেল দিয়ে চুল গুলো বাঁধেই।পায়ের কাছে বসে পড়ে।পা বেশ খানিকটা ফুলে গেছে তাকে টেপা লাগছে।
কবির তেল হাতে মাহির পা মালিশ করে দেয়।মাহির বাঁধা দেয় না কারন শুনবেন না।
,
,
,
,
পপকন খাচ্ছে আর আগ্নি চোখে তাকাচ্ছে মাহি কবিরের দিকে।কবির তো কথা বলাই মগ্ন।এত কিসের কথা তার ফুপির মেয়ের সাথে সে বুঝে না।আর এই মেয়েও বলিহারি এসে একদম জমে গেছে যাই না কেন??
উফফফফ নিতু তোকে কতবার বলবো বল তো আমি তোকে ভালবাসি না।
কেন ??ওর মাঝে এমন কি আছে তা আমার মাঝে নাই..... তাছাড়া বাবু হলে তো তোমাকে ছেড়ে চলে যাবে মেঘের কাছে।
কবিরের বুকে তীরের মতো বিধলো কথাটা।
আমি আমার সন্তান নিয়েই থাকব।এতো তৃতীয় কাউকে আমার লাগবে না।
মাহির জায়গা মাহির ই থাকবে।
কিন্তু কেন???আমাকে একবার ভালোবেসে দেখ.....
কবির বিরক্ত হয়ে বলে,
নিতু এককথা বারবার বলতে ভালো লাগে না।ফুপির জন্য তোকে আমি আজ বুঝালাম।
নিতু কবিরের হাত ধরতেই চট করে উঠে বসে মাহি।এখন আর সহ্য হচ্ছে না এসব।যতোই হোক কবির তার বর।রাগে রি রি করে উঠছে শরীর।ডাইনিং ছেড়ে বসার রুমের দিকে হাঁটতেই কিছুর সাথে বেঁধে উবুর হয়ে পড়ল মাহি।বিকট শব্দে পিছে তাকাতেই থম মেরে গেল কবির। ফ্লোরে রক্ত যেন মুহুর্তেই ছড়িয়ে গেল।মাহির আতনাদ কানে আসলেও হুট করে হয়ে যাওয়া ঘটনায় শকড কবির।পাশে নিতু ধাক্কা দিয়ে কবিরকে ডাকে। কবিরের হুস আসতেই ছুটে মাহির কাছে যায়।রক্তে ভেজা হাতের দিকে তাকিয়ে আছে।মাথা যেন কাজ করছে না।
কাজল বেগমের ডাকে হুস আসে কবিরের।
কাজল:মাহিকে কোলে তুলে নে কবির......
কাজল বেগমের কথা যেন কানে বাজতে লাগল।মাহিকে কোলে তুলে গাড়িতে বসে কবির।কোনমতে হসপিটাল পৌঁছাতেই ডক্টর নাস ছুটে আসে।
এককোনায় গুটিয়ে বসে আছে কবির,
একটা নাস তার কাছে ছুটে আসে,
ওনার হ্যাসবেন্ড কে???
কবির উঠে দাড়াতেই নাসটি বলে,
ও আপনি!!
দেখুন আপনার ওয়াইফ এর অবস্থা ভালো না।বাচ্চা আর ওয়াইফ এর মধ্যে যে কোন একজনকে বাঁচাতে পারবে।
কবির দু কদম পিছে সরে যায়,ধপ করে বসে পড়ে চেয়ারে।
আপনারা কাকে বাঁচাতে চান????
কবির থম মেরে আছে।নাসটি আবারো জিঙ্গসা করলে কবির বলে,
আমার ওয়াইফ কে বাঁচান!!!
কবিরের কথায় থমথমে পরিবেশ আরও থমথমে হয়ে গেল।কবিরের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল অশ্রু।ধীরে উঠে বেরিয়ে গেল হসপিটাল থেকে।
আজানের ধ্বনি কানে আসতেই মসজিদের দিকে ছুটল কবির।
এক নাগারে ফোন বেজে চলছে কবিরের।কবির মসজিদেই বসে আছে।গায়ে তার এখনো ছিটে ছিটে রক্ত লেগে আছে।কবিতার নাম দেখে ফোন ধরে কবির।কানে ফোন ধরতেই ভেসে আসে সদ্য জন্মানো কোন বাচ্চার আওয়াজ।ওপাশ থেকে কবিতা বলে,
শুনতে পাচ্ছিস কবির......তোর বাচ্চার কান্নার শব্দ।
কবিরের চোখ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়ে।অস্পষ্ট সরে বলে,
মমমাহি .......আপু
তুই জলদি আয়!!!বলেই ফোন কেটে দেয়। অজানা আতঙ্কে বুক কেঁপে উঠল কবিরের।মাহিকে আবারো হারিয়ে ফেলল না তো।নিজের শরীরকে কোনমতে টেনে তুলে গাড়িতে বসে কবির।হাজারো চিন্তা ভাবনা নিয়ে গাড়ি স্টাট দেয়।
কিছুদূর যেতেই থেমে যায় কবির।সাহসে কুলাচ্ছে না ওর।আবারো সাহস নিয়ে হসপিটাল পযন্ত আসে কবির।এলোমেলো পায়ে হেঁটে আসতেই দেখে কবিতা বসে আছে।হাতে তোয়ালে মোড়ানো একটা বাচ্চা।কবির এসেই ধীর কন্ঠে বলে,
আপু মাহি?????
কবিতা কিছু বলার আগেই ডক্টর বেরিয়ে আসে,
কবিতা:মাহি.........
ডক্টর:বেঁচে আছে।
মেয়েটা অনেক স্ট্রং....আর সাহসী ও বটে।এখনো বাচ্চা টাইপ লাগে।ঐ যে কথায় আছে না রাখে আল্লাহ মারে কে!!
আল্লাহ হায়াত দিলে আমরা তো মানুষ মাএ।ওর ঙ্গান ফিরে না এখনো।আশা করছি ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঙ্গান ফিরবে।
পিটপিট করে চোখ খুলতেই সামনের সাদা ছাদ নজরে আসে মাহির..........
শরিরে অসহ্য ব্যাথা।পেটে হাত দিতেই কেঁপে উঠল মাহি।আমার বাচ্চা বলেই কেঁদে দেয়।
আপনি কান্না করছেন কেন????
আমার বাচ্চা?????
আপনার বাচ্চা বেঁচে আছে।কান্না করবেন না আপনার শরির খুব দুর্বল।
মাহির মুখে হাসি ফুটে উঠল। কিছু বলার আগেই নাসটি বেরিয়ে যায়।নাস বের হওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরেই রুমে ঢুকে কবির। কবিরকে দেখে অবাক হয়ে তাকাই মাহি,
কেমন এলোমেলো লাগছে।
তুমি ঠিক আছো???কষ্ট হচ্ছে??
মাহি মুচকি হাসে।আমার বাবু কোথায়??
আইসিইউ তে......
কি হয়েছে???বলেই কেঁদে দেয় মাহি......
কবির মাহির চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে,
সময়ের আগেই চলে এসেছে তাই কিছুদিন আইসিইউ তে রাখবে ডক্টর।
কেঁদো না প্লিজ তোমরা দুইজন বেঁচে আছো এটাই অনেক।আমার আর এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই।
কবির মাহির কপালে চুমু দিয়ে।হাত জরিয়ে ধরে।চোখ মুখ লাল হয়ে আছে মনে হচ্ছে কেঁদে দিবে। মাহির হাতে পরপর কয়েকটা চুমু একে বুকের সাথে চেপে ধরে।
,
,
,
ব্যাথায় ছটফট করছে মাহি।সিজারের ব্যাথায় হাড় কাপিয়ে জ্বর আসছে এই গরমেও লেপের মধ্যে জরিয়ে আছে মাহি।কবির এভাবে মাহিকে দেখতে পারে না। বেরিয়ে যায়।একদিকে বেবি একদিকে মাহি কবির চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে।না আর পারছে না সহ্য করতে। হঠাৎ কেউ মাথায় হাত রাখতেই পাশে তাকিয়ে কাজলকে দেখে জরিয়ে ধরে কেঁদে দেয় কবির।কাজল বেগম শক্ত পোক্ত ছেলেটাকে কাঁদতে দেখে অবাক হলেও মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
সব ঠিক হয়ে যাবে কবির.........
কবির ফুপিয়ে উঠে বলে,
মাহির কষ্ট ,বাচ্চার কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছে না।নিজেকে অসহায় লাগছে।আমি চেয়েও কিছু করতে পারছি না ওদের জন্য।কাজল বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
চলবে,