ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিষাক্ত ভালবাসা

১১তম পর্ব

লেখক: আনিকা ইসলাম ইশা

#বিষাক্ত_ভালবাসা

#পর্ব_১১

#ইশিকা_ইসলাম_ইশা

কেটে গেছে ১টা মাস,

কাব্য,মাহি দুইজনেই এখন অনেকটা সুস্থ।কাব্য আগের চেয়ে একটু গায়ে হাতে হয়েছে।ছেলেটা শান্ত হলেও প্রচুর জেদি।রেগে গেলে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।মাএ ডের মাসের বাচ্চার এমন রাগে হতাশ মাহি।ছেলেকে ছেড়ে দু দন্ড শান্তি নেই তার।যদিও এইসময় টা পেটেয় থাকত কাব্য তবে ভালোই হতো। এখন এইটুকু বয়সে যেমন হাত পা নাড়ে, কাঁদে আর একটু বড় হলে না জানি কি করবে।

ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল মাহি।

কবিতা: মাহি কাব্য ঘুমিয়ে গেছে......

মাহি:জি আপু....এই মাএ ঘুমিয়েছে।

কবিতা:তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো।আমি নিচ্ছি......

মাহি:ঠিক আছে।

,

,

মাহি ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার খেয়ে নেয়।না হলে কাব্য উঠলে আর খাওয়া হবে না।কবির ও বাসায় নাই যে ওকে খাইয়ে দিবে। কাব্যর জেদ উঠলে সে কারো কাছে থাকে না।২দিন হল সে কাজে বাইরে গেছে।২দিনে মাহি কবির কে অনেক মিস করেছে।কবির থাকলে কাব্য কে সহজেই সামলে নিতে পারে।

আচ্ছা আপু কাব্য বিছনায় ঘুমাই না কেন??শুয়ালেই উঠে কাঁদে।

কবিতা মুচকি হেসে বলে,

কারন তোমরা ওকে বুকে নিয়ে ঘুমাও তাই।তাছাড়া ও শুরু থেকেই বুকেই বেশি ঘুমিয়েছে।তখন তো ম্যাচিউর ছিল না তাই বাধ্য হয়েই বুকে নিতে হত।সেই অভ্যাস ই হয়ে গেছে।

,

,

,

,

রাত বাজে ২:১০,

অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছে কবিতা।মাহি কাব্য দুইজনেই কাঁদছে।আধাঘন্টা যাবৎ কেঁদেই যাচ্ছে ছেলেটা।বাড়ির সবাই জেগে আছে।কারো কাছেই থামছে না কাব্য।কবিতা চেক আপ ও করেছে সব ঠিকঠাক আছে তবুও কাঁদছে কেন??কাজল বেগম তেল মালিশ করে দিয়েছে পেটে।কবিতা দেখছে ডানা উঠেছে কিনা। কিন্তু সবই ঠিক আছে তবুও কাব্য কেঁদেই যাচ্ছে।কাব্যর কান্নায় মাহি ও কেঁদে যাচ্ছে।আর বার বার এটা ওটা বলছে ,করছে যাতে কআব্য শান্ত হয় কিন্তু কাব্য তো কেঁদেই চলেছে।

কি হয়েছে কাব্য এতো কাঁদছে কেন??আর মাহি তোমার কি হয়েছে???কথাটা ভয়ে ভয়ে বলে কবির।না জানি কি হয়েছে??

কবিরকে দেখে মাহি ছুটে কবিরকে জরিয়ে ধরে।কবির অবাক হয়।ভয়ে যেন হাত পা নড়ছে না।

কাব্য এতো কাঁদছে কেন??সেই আধাঘণ্টা ধরে কাঁদছে।থামছেই না।কবিরের দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে।

কবির কাব্য কে কোলে তুলে নেয়। বাবার কোলে প্রায় ৫ মিনিট পর শান্ত হয়।সবাই এবার লম্বা শ্বাস ফেলে। মাহি এখনো কাঁদছে।কবির একহাতে মাহিকে জরিয়ে ধরে।চোখের পানি মুছে ইশারাই কাঁদতে মানা করে।

কবিতা ,কাজল বেগম এবার শান্তি পায়।মেয়েটা কাব্যকে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছিল।

কবিতা ফিসফিস করে বলে,

খেয়ে এসেছিস??

না !!

আমি খাবার পাঠাচ্ছি।মা ছেলেকে সামলিয়ে খেয়ে নিস।

কবির মুচকি একটা হাসি দিয়ে মাথা নাড়াই।কবিতাও হেসে বেরিয়ে যায‌।

একটু পরে কবিতা খাবার নিয়ে আসে। কাব্য তখনও কবিরের কোলে ঘুমাচ্ছে।

তুই না আসলে কি হত এখন???বাপরে!!

কবির কবিতার কথায় মুচকি হেসে ছেলের কপালে চুমু দেয়।

মাহি মাথা নিচু করে বলে,

সরি আপু কাব্যর জন্য অনেকক্ষণ সবাই জেগে আছো।

তোমরা শুয়ে পড়।

কবিতা:কবির কে খাবার খাইয়ে তোমরাও ঘুমিয়ে পড়।

বলেই কবিতা বের হয়ে যায়।

তুমি শুয়ে পড় আমি পরে খেয়ে নিব।এখন কাব্য জাগলে আরো কান্না করবে।

মাহি কিছু না বলে হাত ধুয়ে খাবার প্লেট নিয়ে কবিরের সামনে বসে,

হা করেন!!

কবির হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে

এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন??হা করেন।

কবির হা করতেই মাহি খাবার খাইয়ে দেয়।কবির খাওয়া শেষ করে বলে।

তুমি খেয়েছ??

হুম।এবার ওকে আমার কাছে দিন ।আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন।

একটু তুললেই কেঁদে উঠবে।থাক আমার কোলে।দুদিন শান্তি মত ঘুম হয়নি হয়তো তোমার ঘুমাও ‌।

মাহি অবাক হয়।আপনি ও তো মনে হয় ঠিক মতো ঘুমান নি।

আমি ঠিক আছি।

মাহির এখন কান্না করতে ইচ্ছে করছে।সে জানে কবির প্রচুর ট্রায়াড।চোখ মুখে ষ্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।ওকে দেন আমার কাছে।

কেন???

আরে দিন তো!!

কবির মাহির কোলে দিতেই কাব্য কেঁদে ওঠে।মাহি ওকে নিয়ে শুয়ে ওকে খাইয়ে দেয়।কাব্য কিছুক্ষণ কেঁদে চুপ হয়ে যায়।কবির ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে ফ্রেশ হয়ে আসে।

কাব্যর কান্না তো বুঝলাম কিন্তু তুমি কান্না করছিলে কেন??

মাহি কবিরের দিকে তাকায়,

কাব্যর কান্না আর কবিরের না থাকা দুইটা মিলিয়েই কেঁদেছে আজ সে।

আসলে কাব্য এতটা কান্না করছিল।আমি বুঝেছিলাম না কি করব ......

হাহা হা.....

তাই বলে ছেলের সাথে তুমিও কান্না করবে......

আমি না থাকলে কিভাবে সামলাবে তুমি??

মাহি অসহায় ভাবে তাকাই,

আপনি আবার কোথাও যাবেন??

না ।ধরো একে বারের জন্য দুনিয়া থেকে চলে গেলাম তখন........

মাহি বুক ধক করে উঠল।কয়েক ঘণ্টা নাই তাই কেঁদে কেঁদে একাকার মা ছেলে আর ওনি কি বলছেন......এটা কিভাবে বলতে পারল ওনি।

মাহির কাঁদো কাঁদো মুখ দেখে কবির বুঝল মাহির কথাটা পছন্দ হয় নি।সে জানে মাহি তাকে ভালোবেসেছে।ওর চোখের ভাষা পড়তে পারে কবির।মেয়েটা ওর ধারনার চেয়েও বড্ড গুটিয়ে চলে নিজেকে।কবির চায় মাহি কবিরকে ভালোবাসুক,ওদের সুখের স্বাভাবিক সংসার হোক। এটা মাহি ও চায় সেইটাও কবির জানে।তাহলে মুখে বলতে কিসের এত জরতা।মাহিকে চুপচাপ দেখে কবির উঠে মাহির কাছে বসে কাব্যকে বুকে নিতেই আরো গভীর ভাবে ঘুমিয়ে পড়ে।

কবির মাহিকে একহাতে জরিয়ে ধরতেই মাহি ঠুকরে কেঁদে ওঠে।

কাঁদছ কেন???

আমি মজা করলাম তো রে বাবা।

মাহি এখনো কেঁদেই যাচ্ছে।কবির একহাতে মাহিকে জরিয়ে ধরে আছে। কিছু বলছে না।কাদুক কিছুক্ষণ।

ভালোবাসো মাহি???

মাহি ঝট করে কবিরকে ছেড়ে দেয়।একটু চেঁচিয়ে বলে,

কি ভালবাসি ভালবাসি করছেন?আমি কেন মেঘ ভাইয়াকে ভালোবাসতে যাব।আমার ছেলে সংসার ছেড়ে কেন আমি মেঘ ভাইয়াকে ভালোবাসব।আমি যদি ভালোবাসি তাহলে সেটা আপনাকে ভালবাসি।আমার স্বামীকে ভালোবাসি।অন্য কাউকে না।

খবরদার আর মেঘ ভাইয়াকে আমাদের মাঝে আনবেন তো আমি চলে যাব যেখানে খুশি।থাকেন আপনি আপনার ছেলে নিয়ে।অনেক হয়েছে । আমি কিছু বলি না বলে কি আমার কোন দাম নেই নাকি।থাকবে কি করে।তার মা নাই বাবা নাই তার আবার কেউ থাকে নাকি??থাকে না।আজ এতিম...........

এই এই চুপ চুপ!!!এই ছেলে উঠলে হয়েছে!!মাহি কিছু না বলে রাগে ফুঁসতে থাকে

তুমি রাগতেও পারো মাহি!!!

কোন কথার মাঝে কোন কথা।কবিরের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেল। আসলেও তো আমি তো রাগ করতে পারি না।তাহলে আমি রাগ করেছি কেন??মানানোর কেউ আছে তাই বলে কি রাগ করছি,রাগ করা শিখছি আমি!!!নিজের ভাবনায় পড়ে গেল মাহি। আচ্ছা তখন ওনি বললেন ওনার থাকবেন না আমার এত কষ্ট হয়েছে কেন??আমি কি......

আমি কিন্তু নিজের কথা বলেছি!!তোমার ভাইয়ের কথা না। তাছাড়া আমি তোমাকে যেতেও দিব না। দরকার পড়লে বেঁধে রাখব। যত খারাপ হতে হয় হব।আমি তোমাকে আমার এই বিষাক্ত ভালবাসায় বেঁধে রাখব বুঝলে। তাছাড়া এখন আমি একা না আমার ছেলেও আছে।আমার কলিজা।এই এদিকে আসো!!!

মাহি ভু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।কবির হেসে একহাতে বুকে টেনে নিল।

মাহি !!!তোমাদের ছাড়া আমার আর কিছু চাই না। এইভাবেই পাশে থেকো।ভালবাসি বৌপাখি।

মাহি চুপ চাপ শুয়ে রইলো কবিরের বুকে ,শান্তির জায়গা।আরো একটু চেপে গেলো কবিরের দিকে।আহা কি শান্তি।কবির মুচকি হাসল।মা ,ছেলেকে কে দেখে দুইজনেই কপালে চুমু দিয়ে নিজেও চোখ বন্ধ করল। দুটো দিন তার ও ঘুম হয়নি।

চলবে,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন