ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিষাক্ত ভালবাসা

১২তম পর্ব

লেখক: আনিকা ইসলাম ইশা

#বিষাক্ত_ভালবাসা

#শেষ

#ইশিকা_ইসলাম_ইশা

সময় প্রবাহ মান।সে তার নিজ গতিতে চলতে থাকে।কবির মাহির জীবনেও চলছে আপন গতিতে।

মাহি এই মাহি.......

আম্মু এই আম্মু.......

মাহি রান্না করছে।এখন ডাকে বিরক্ত সে।

কাজল বেগম:দেখ তো বাপ ছেলে ডাকছে কেন??

মাহি:জি আম্মু।

মাহি চুলার আঁচ কমিয়ে রুমের দিকে যায়।গিয়ে দেখে বাবা ছেলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে আর চেঁচাচ্ছে!!!

ছেলে হয়েছে একদম বাপের কপি।বাপ যা করবে তাকেও তা করা লাগবে।৩.৫ বছরের এই ছেলেকে নিয়ে তার চিন্তার শেষ নেই।

কি হয়েছে কি???

কাব্য তোমার আম্মু কে বল তো পাপা কে মর্নিং কিসি দিতে।

কাব্য আধো আধো করে বলে,

আম্মু পাপা কে তরিং তিচি দাও!!!

কিসের মরিং কিসি।আর আপনি ছেলেকে এসব কি শিখাচ্ছেন শুনি।

বৌকে ভালবাসতে শিখাচ্ছি বুঝলে??

মাহি বিরক্ত হয়ে বলে,

আপনার ফালতু কাজ শেষ হল দুইজনে রেডি হয়ে নিচে আসুন।

দেখছিস তোর মা টা কেমন‌ ঝাঁঝালো মহিলা।সকাল সকাল স্বামি কে আদর করে ডেকে তুলবে কিনা। মেজাজ দেখাচ্ছে।আহারে আমি বৌয়ের ভালবাসার অভাবে একদিন টুস মরে যাব।বুঝলি বাবা তোর মায়ের আমার প্রতি কোন আদর নাই.........

কাব্য বাবার দিকে তাকিয়ে আছে গভীর মুখে আসলে বুঝার চেষ্টা করছে তার বাবার কথা। কিন্তু তার মাথায় কি এখন এসব কি ঢুকবে।সে শুধু তাকিয়ে আছে।

মাহি ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলে রুম থেকে বের হয়,

এটা কবিরের রোজ কারের কাজ।তাকে ডেকে সকাল সকাল ছেলেকে বৌ কে ভালবাসা নিয়ে নীতি বাক্য শোনানো।

এই যে মাহি সকালে ভালবাসার পরশ দিয়েই উঠে এটা কবির ও জানে।মাহি সকালে উঠে বাবা ছেলেকে আদর করে কাব্যকে কবিরের কাছে শুইয়ে দিলে কবির ছেলেকে টেনে বুকে নিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। এই দৃশ্য দেখে রোজ ই একটা ভাললাগা কাজ করে মাহির।

কবিরের উদ্দেশ্য হল ঘুম থেকে উঠেই বৌ ছেলেকে একসাথে দেখা এতে নাকি দিন ভালো যায়।তাই রোজ শুয়ে থেকেই এভাবে ডাকাডাকি করা।

,

,

,

মাহি মুখ বিরক্ত করে বসে আছে সেই কখন ফাংশন শুরু হয়েছে ।লোকজন আসতে শুরু করেছে কিন্তু এই বাপ ছেলের কোন খোঁজ নাই।

আজ কবিতার সাত মাসের অনুষ্ঠান। প্রায় ৭বছর পর তার কোল আলো করে একটা শিশু আসছে।তাই বেশ বড় করেই অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। কবিতা বর ও একজন ডক্টর।খুব শান্তশিষ্ট মানুষ আমায়িক ব্যাক্তিত্বের মানুষ তিনি।এই যে বিয়ের এতো বছর পরেও বাবু না হওয়ার দোষ কিন্তু কবিতার ই ছিল। তবুও কখনো একটা টু শব্দ ও করেনি। আশেপাশে হাজারো মানুষের কথায় তিনি স্ত্রী প্রতি এতটুকু ও অভিযোগ করেনি।কবিতা আসাম কে আরেকটা বিয়ের কথা বললে সে কি রাগ।শান্ত মানুষের রাগ ভয়াবহ হয়।মাহির সাথে তার সম্পর্ক বেশ রমরমা ছোট আপু বলে ডাকে তাকে আসাম।আবার মাঝে মাঝে বেয়ান ও বলে।তার মেয়ের সাথে নাকি কাব্যর বিয়ে দিবে।এসব শুনে কবিতা বলে যদি ছেলে হয়।আসাম বেশ কনফিডেন্স এর সাথে বলে জি না বেগমসাহেবা আমার তো তোমার মতো একটা পিচ্চি কবিতায় চায় তাছাড়া ছেলে হলেও সমস্যা নেই।মাহির মেয়ে হলে দরকার পড়লে তার সাথে বিয়ে দিব।মাহি তখন হো হো করে হেসে উঠে।

কবিতা আর আসামের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো মনে পড়ে মাহির।অজান্তেই হেসে উঠে।আল্লাহর কাছে প্রানভরে দোয়া করে তাদের তিনজনের জন্য।

,

,

,

এবার মাহি চরম রেগে রুমের দিকে এগোই এই বাপ ছেলে পেয়েছেটাকি।এদিকে মেহমান আস্তে শুরু করেছে আর তাদের রেডি হওয়াই হচ্ছে না। হওয়াচ্ছে রেডি আজ।যেখানে সে মেয়ে হয়ে রেডি হয়ে আধঘন্টা আগে থেকে বসে আছে আর এরা বাপ ছেলে.......

মাহি গজগজ করতে করতে রুমে ঢুকতেই হা হয়ে যায়। কবির, কাব্য আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পারফিউম স্প্রে করছে ।কাব্য কে একটা টুলের ওপর দায় করিয়েছে কবির। বাপ ছেলে সেম পাঞ্জাবি পড়েছে সেম ভাবে চুল সেট করেছে,হাতের ঘড়ি টাও সেম শুধু ছোট বড় আরকি।জুতো টাও সেম।

মাহিকে দেখে কবির একহাতে বুকে নিয়ে একটু হেলে বলে,

এতো সুন্দর লাগছে!!!

ছেলেও বাবাকে কপি করে বলে,

এচো চুন্দর লাতছে!!!

মাহি ছেলের কান্ডে ফিক করে হেসে দেয়।এগিয়ে এসে ছেলের কপালে চুমু একে দেয়।

পাপা কেও তিসি দাও!!!

কাব্যর কথায় মাহি অবাক হয় না।এটা নতুন কিছু না।

না দিব না তোমার পাপা পঁচা।

না পাপা তালো......

এহহহ ভালো না ছাই........ হু

তোর মায়ের হিংসা হচ্ছে বুঝলি বাপ।আজ আমাকে তোর মায়ের থেকে সুন্দর লাগছে কি না তাই.......বুঝি বুঝি সব বুঝি।

ঘোড়ার ডিম বুঝেন।নিচে চলুন সব গেস্ট আসতে শুরু করেছে।

কবির কাব্য কে কোলে নিয়ে মাহির কপালে চুমু একে বলে।

মাশাআল্লাহ!!আমার দ্বিতীয় বাবুর আম্মুকে আজ অধিক সুন্দর লাগছে।

কবির এর কথায় একরাশ মুগ্ধতা ফুটে ওঠে মাহির মুখে।আরো বেশি মুগ্ধ হয় যখন কাব্য ও বাবার মতো কপালে চুমু খেয়ে তার আলো আধো ভাষায় বলে মাতাআ্ল্লাহ...তার পরের কথা কি বলেছে তার বাবা মনে পড়ছে না।তাই বাবার দিকে তাকিয়ে আছে ।কবির ছেলের তাকানো দেখে হেসে বলে

সুন্দর লাগছে!!!

কাব্যর চোখ মুখ তখনো গম্ভীর তার বাবা যে এই দুই শব্দ বলে নি তা সে জানে,কবির ছেলের এমন তাকানো দেখে শব্দ করে হেসে উঠে।সাথে মাহিও হেসে দেয়।

,

,

,

মাহি,কবির,কাব্য নিচে আসতেই সবাই হা করে ওদের দেখে এতো সুন্দর লাগছে তাদের।এই সুন্দর দৃশ্য আরো একজন মানুষ মুগ্ধ হয়ে দেখছে।মেঘ।মাহিকে না পাওয়ার বেদনা তার জীবনে হা হাকার সৃষ্টি করে একরাশ ব্যাথা তৈরি হয় এই বুকের মাঝে।

তবুও যখন মাহির হাসিখুশি ভরা মুখটা দেখে তার ভালো লাগে। ভালোবাসলে তাকে পেতে হবে বলে কিছু নেই।এই যে সে সুখে আছে ,ভালো আছে এটাই তো অনেক।তাছাড়া কবিরের মতো ভালবাসার একজন মানুষ পেয়ে সেও কম লাকি না।

মামু........

মেঘকে দেখে কাব্য গুটি গুটি পায়ে ছুটে আসে।মেঘ কাব্য কে কোলে তুলে হাতে বড় বড় দুটি চকলেট দেয়।এইটুকু হাতে চকলেট নিতে না পেরে বুকে নিয়ে জরিয়ে ধরে। তা দেখে কবির এগিয়ে আসে।মেঘ আর কবিরের টুকটাক কথার মাঝেই মাহি এসে কবিরের পাশে দাঁড়াই ।

ভাইয়া ভাবিকে নিয়ে আসলে না যে।

তোর ভাবি মায়ের বাড়ি।আসতে চেয়েছিল কিন্তু এই অবস্থায় জার্নি করে আসাটা ঠিক হবে না তাই রেখে এসেছি।

(মেঘ ১.৫ বছর হয়েছে বিয়ে করেছে পরিবারের জোড়াজুরি আর মাহির কথায়।কারন মাহি এখন অন্যকারো তাছাড়া মাহি নিজে বলেছে সে কবিরকে ভালোবাসে।মেঘ সবার কথা ভেবে বিয়ে করলেও মেনে নিতে বেশ সময় নেয়।সব জেনে কোন দিমত পোষন করেননি অনামিকা ভালবাসা হারানোর যন্তনা সে বুঝে তাই মেঘ কে সে‌ সময় দিয়েছে।ধীরে ধীরে দুইজনেই একে অপরকে মেনে নিয়েছে।তাদের বিয়ের ১০ মাসের মাথায় মা বাবা হওয়ার সৌভাগ্য হয় তাদের।এখন সে ৮ মাসের প্রেগনেন্ট।)

অনুষ্ঠান শেষে যে তার রুমে চলে গেছে।ছেলেকে বিছনায় শুইয়ে চারপাশে মাহিকে খোঁজে কবির।বেলকনিতে শাড়ির আঁচল দেখে সেখানে গিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে।মাহি বিচলিত হয় না।মাহি জানে কে।তাই ক্লান্ত শরীরটা এলিয়ে দেয়।কবির দুহাতে জড়িয়ে নেয়।

কি ভাবছো এখানে দাঁড়িয়ে???

ভাবছি।আপনার #বিষাক্ত ভালবাসায় কিভাবে যে এতটা আসক্ত হয়ে গেলাম।এখন এই বিষাক্ত মানুষটা ছাড়া বড্ড অচল আমি। আপনাকে ছাড়া আমার এক মুহূর্ত চলবে না কবির।এক মুহূর্ত ও না।ভালবাসি আমার দুইবাবুর আব্বুকে।খুব ভালবাসি।

কবির স্তব্ধ হয়ে যায়।এতবছরে আজ প্রথম মাহি নিজে থেকে এতো আবেগ মিশিয়ে ভালবাসি বলেছে।এর আগে একবার রেগে বলেছিল।যেদিন কবির ২দিন পর ফিরেছিল আর সেদিন কবির বলেছিল ভালোবাসো মাহি.......সেদিন অন্যভাবেই তবে স্বিকার করেছিল সে কবিরকে ভালোবাসতে শুরু করেছে।

কবির কিছু বলছে না দেখে পিছে ফিরে কবিরের উজ্জল মুখটা দেখে মুগ্ধ হয় মাহি। দেখেই বোঝা যাচ্ছে সামান্য একটু কথায় কতোই না খুশি লোকটা।খুশিতে কিছু বলতে পারছে না।মাহি কবিরকে আরো অবাক করে দিয়ে সারা মুখে ভালবাসা লেপ্টে দেয়।

ভালবাসি বর মশাই......

ভালবাসি বৌপাখি....

ভালবাসি আমার বাবুদের আম্মুকে অনেক বেশি...... ।

সমাপ্ত

(কিছু ভালবাসা বিষাক্ত হয়ে শুরু হলেও সেই ভালবাসায় আসক্তি খুব সুন্দর হয়)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন