ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম শৃঙ্খলে রুদ্ধ রূপসী

১৫তম পর্ব

লেখক: সালসাবিল সারা

#প্রেম_শৃঙ্খলে_রুদ্ধ_রূপসী

পর্ব - ১৫

লেখিকা: সালসাবিল সারা

(কপি করা নিষেধ)

___________________

“আমার বোনের ভাসুর আরন বেঞ্জামিন যে আমাকে একদণ্ড সহ্য করতে পারে না,আমাকে কথায় কথায় খোটা দেয়,হার্ট করে কথা বলে সেই লোক আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। আজকে তোকে আমার এককালীন বসের কথা নয় বরং হাবিবার ভাসুরের কথা বলছি। হ্যাঁ ঠিক শুনেছিস, মিস্টার বেঞ্জামিন আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। আমার পরিবারও রাজি এক পায়ে কিন্তু আমি এই বিয়ে কখনো করব না… কোনোদিনও না।”

নুসাইবা কেঁদে অস্থির। সে হাঁপাচ্ছে। হাতে তার মুঠোফোন শক্ত ভাবে আঁকড়ে রইলো। নিচের ঠোঁট এক পর্যায়ে সে দাঁত দিয়ে কামড়ে নেয়। বেঞ্জামিনের পরিবার নিচ থেকে কখন গেলো জানেনা সে। মা তার কাছে এসেছিল মেয়েটা রুমে যাওয়ার আরও এক ঘণ্টা পর। এসেই বেঞ্জামিনের নামে সুনাম,সেই পরিবারের সুনাম করে হয়রান। বিয়েটা নিয়ে তার কোনো মতামত শোনার প্রয়োজন মনে করলো না।

নিজে যেঁচে কিছু বলবে এমনও পরিস্থিতির মধ্যে মা তাকে রাখেনি। কারণ অতসব কথা বলতে গিয়ে হেনার মাথা ব্যথা হয়। আজ বোনের বিয়ে,বিয়েতে যেনো কোনো ঝামেলা না হয়,মা সুস্থ থাকে তাই মেয়েটা এক বাক্য আওড়ালো না। বাবা বাহিরে,ঐখানে থেকে সোজা যাবে ক্লাবে। মাঝে বাবার সাথেও এই ব্যাপারে কথা বলা যাবে না। কারণ মা বাবাকে রাজি করবেই করবে। আর সবচেয়ে বড় কথা নুসাইবা বেঞ্জামিনের মুখোমুখি না হয়েই তাকে নাকচ করতে চায়। এমন কিছু করতে চায় যেনো বেঞ্জামিন বুঝে নুসাইবা তার এই প্রস্তাবে রাজি না। কখনো না।

বোনের বিয়েতে গেলো না নুসাইবা নিজের জ্বরের বাহানা দিয়ে,যেটা এখন থার্মোমিটারে ১০৩ এ ঠেকেছে। মাও আর জোর করলো না,মেয়েকে রেস্ট করার জন্যে আহ্বান জানিয়ে বিদায় নেয়।

সেই সুযোগে নুসাইবা ফোন করে অদিতিকে। তার কথা শুনে অদিতির দুনিয়া গোলগোল ঘুরে। সে অনেকটা চিল্লিয়ে বলে,

“হোয়াট? বেঞ্জামিন স্যার আর তোকে বিয়ে? কিভাবে কি?”

“আমিও বুঝছি না। এই লোক কখনো আমাকে ভালো একটা কথা অব্দি বলেনি। যখন বলেছে তখনই অহংকারে পা মাটিতে পড়ে না এমন ভাব। আমাকে চাকরি থেকে বের করেছে,আমাকে সবসময় কষ্ট দিয়েছে। আর এখন বিয়ের প্রস্তাব! আমি টাকার কাছে বিক্রি হবো? নাহ। ইহকালে না।”

নুসাইবা মোবাইল স্পিকারে রেখে একটা পৃষ্ঠা ছিঁড়ে নোটবুক থেকে। সেখানে একটা বিদায় পত্র লিখে। বলতে গেলে বিদায় পত্র না, বেঞ্জামিনকে নাকচ করার পত্র। যে পত্র পড়ে বাবা বা মা কেউ যেনো বিয়েতে তাকে জোর না করে।

“এখন…এখন কি করবি? উনি যেহুতু এতকিছুর পরও বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে তাহলে উনি তোকে নিয়ে সিরিয়াস। অনেকটা সাইকো টাইপ বলতে পারিস। পালানোর পথ আছে?”

অদিতি বন্ধুর জন্যে ভয়ে। বেঞ্জামিনের অনেক বেড়াজাল। আর সেই বেড়াজালে তার স্নিগ্ধ বন্ধু আটকে যাবে এটা কখনো সম্ভব না কখনো! তাদের লাইফ আর বেঞ্জামিনের লাইফস্টাইল আকাশ পাতাল পার্থক্য!

“আছে। আমি একটা চিঠি লিখলাম। যেটা পড়ে বাবা মা কেউই রাজি হবে না ঐ নীরব রাক্ষসের সাথে আমাকে জড়াতে। আপাতত একটা ট্রেনের ব্ল্যাক টিকিটের ব্যবস্থা করে দে। তোদের গ্রাম সেফ?”

নুসাইবা উঠে পড়ে ওভাবে। ক্লজেট হাতড়ে ছোট একটা ব্যাগে তার কয়েকটা কাপড় ঢুকিয়ে নেয়। মানিব্যাগ হাতড়ে ক্যাশ ভর্তি করে যা তার পিগি ব্যাংকে ছিল।

“হ্যাঁ সেফ। দিদার কাছে যা। আমি আধা ঘণ্টার মাঝে ব্ল্যাকের টিকিটের ব্যবস্থা করে দিবো। লিংক আছে।পালিয়ে যা,ফোন অফ রাখিস। পৌঁছে দিদার নাম্বার থেকে ফোন দিলেই হবে আমাকে।”

অদিতি তখনই ব্যস্ত হাতে মেসেজ করলো কাউকে। একটা ব্ল্যাক টিকিটের খুব দরকার তার বন্ধুর,খুব।

“হুম জানাবো। রাখছি তবে। কথা হবে আবারো।”

নুসাইবা ফোন কাটে। যেটা পড়া ছিল কাপড় ওটার উপরেই একটা কালো আবায়া পড়ে। মাথা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে নাকে কাপড় টানে। শরীর টলছে তার। তাও হার মানবে না। ঝুঁকবে না ঐ অহংকারী লোকটার চরণে।

নুসাইবা পত্রটা তার রুমের ছোট টেবিলের উপর রেখে নিজেকে আয়নায় আরেকবার পরখ করে। চেনা যাচ্ছে না তাকে। অতঃপর মনে ঐ শকুনের থেকে দূরে যাওয়ার জন্যে নিজের প্রতি নিজেকে শক্ত করলো। ব্যাগ হাতে তুলে পা ফেলে সে রুমের বাহিরে।

কমিউনিটি সেন্টারে মানুষের গিজগিজ ভাব বহমান। বেঞ্জামিন সামান্য ব্যস্ত ছিল গেস্টদের নিয়ে। তবে প্রেয়সীর জন্যে তার চেকিং সদা জারি। কয়েকটা ক্লিপ সে মিস করেছে সিসিটিভির। বেঞ্জামিনের রূপসী ঘরে নেই। গার্ডদের কিছু টেক্সট আর ফোনকল এসে বিপবিপ ভাইব্রেশন দিচ্ছে মোবাইলে। কিন্তু বেঞ্জামিন সেগুলো দেখলো না, তুললো না। সিসিটিভি ওপেন করে।

সেখানে মেয়েটার এতক্ষণের কর্মকাণ্ড মনভরে দেখলো। পত্রের দিকটায় ঝুম করে,সেই পত্র পড়তে শুরু করলো,

“মা,বাবা….

জানিনা আমাকে ঠিক কী কী বলে ঐ লোকটার সাথে বিয়েতে রাজি করাবে তোমরা,কিন্তু শুনে রাখো আমি লোকটাকে বিয়ে করব না। আরন বেঞ্জামিন একজন অহংকারী লোক,উনার সাথে আমার কখনোই যায় না। আমি সারাজীবন একটা ডিসেন্ট ভালোবাসাময় সঙ্গী চেয়ে এসেছি।সেখানে এমন রাগী,অহংকারী আর হ্যাঁ ভালোবাসাহীন এক লোককে আমি বিয়ে করব না কখনো। আমি পালিয়ে যাচ্ছি না। শুধু বুঝিয়ে দিচ্ছি আমার এই প্রস্তাবে কোনো আগ্রহ নেই। আমি মরে গেলেও উনাকে বিয়ে করবো না।

তোমাদের,

নুসাইবা।”

বিড়বিড় করে শেষ নামটা বেঞ্জামিন। ক্রোধ তার পুরো শরীরে বহমান। এইভাবে তাকে নাকচ করা? বড্ড আত্মসম্মানে লেগেছে বেঞ্জামিনের। এতটা রাগ জমেছে তার,সে জোরে শ্বাস নিয়েও শরীরে উষ্ণতা বাড়ছে ক্রোধের।

ভরা মজলিশ ফেলে সে দ্রুত পায়ে এগুচ্ছে। একেকটা পদচিহ্ন যেনো টাইলস মাড়িয়ে ফেলবে। হাঁটা অবস্থায় সে গার্ডদের মেসেজ দেখে,

“বস ম্যাডাম ছদ্মবেশে কোথাও যাচ্ছে।”

“বস ফলো করছে ইথেন উনাকে।”

“বস আরও কাউকে এড করবো!”

বেঞ্জামিন সেইসব মেসেজ দেখে না আর।

ফোনের ডায়াললিস্ট থেকে এলেক্সের নাম্বার খুঁজে বের করে। নুসাইবাদের সামনের বিল্ডিংয়ে আছে সে।

“সাইবার রুমে একটা লেটার আছে,সেটা নাও। এরপর ইথেনকে পিছু করো। আর ওকে বলো ম্যাডামের লাইভ লোকেশন পাঠাতে আমাকে।”

তার রাশিয়ান ভাষার হুংকার শুনে এলেক্সের কপালে ঘাম জমে। এমন ভয়ানক কন্ঠ তার বসের… শুনলেই টেনশনে মাথা কাজ করে না। তারপরও সে মাথা ঠাণ্ডা রেখে “ওকে,বস” বলে।

বেঞ্জামিন ততক্ষণে গাড়িতে উঠে। এসকেল্টর চাপে দানবীয় ভঙ্গিমায়। দাঁতে দাঁত খিঁচে যায়। বিড়বিড় করে সে,

“সাইবা…সাইবা…সাইবা…কাজটা ভুল করেছো। বিরাট ভুল। বেঞ্জামিন থেকে পালাবে? পালাবে? পালাও। পালাও। বেঞ্জামিন ধরবে আজ তোমায়…চিনিয়ে দিবে কার ঘুঘু তুমি।”

টুং শব্দ হয় মোবাইলে। লোকেশন পাঠানো হয়েছে। বেঞ্জামিন স্টিয়ারিং ঘুরায় কৌশলে। শায় শায় শব্দে তার গাড়ি এগোয়। লোকেশনে গ্রিন সিগন্যাল চলে আসে। ইথেনের গাড়ির দূরত্ব অতি নিকটে। লোকটা নিজের পড়নে কোট খুলে ফেলে। শার্টের বোতাম দুটো খুলে দেয়। চোয়ালের শক্তভাব আরো দৃঢ় হয়। মেয়েটা তার জীবনের অন্যতম ভুল করেছে পালিয়ে যাওয়ার মতো কাজ করে,তাকে নাকচ করে। পেছন থেকে বেঞ্জামিনের গাড়ির ছটক ভেসে আসে ইথেনের গাড়ির লুকিং গ্লাসে। পাশাপাশি এলেক্সের গাড়ি। তারা বেঞ্জামিনের গাড়ি দেখতে পেয়ে গতি স্লো করে ফেলে। একপর্যায়ে থামে। গার্ডের গাড়ি কিছু উল্টো দিকে আসে তো কিছু পিছন দিকে। ব্লক করছে এই রাস্তাটা।

বেঞ্জামিনের গাড়ি বাতাসের গতিতে ছুটে। নুসাইবার অবস্থানরত সিএনজির পাশ কাটিয়ে গাড়ি অতিক্রম করলে বুক ধ্বক করে উঠে মেয়েটার। সে ব্যাগটা বুকের সাথে আঁকড়ে নেয়। জ্বর তার শরীর জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

মেয়েটা ফোন বের করতে নিবে তখনই সিএনজি জোরে ব্রেক কষে। সামনে হেলে পড়তে নিয়েও নিজেকে সামলে ফেলে মেয়েটা। এইদিকের রাস্তাতে কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। সবার গাড়ি নিজেদের মতো চলছে। সামনের দিকে উঁকি দিলে তার রুহ কেঁপে উঠে। গাড়ি থেকে সেই দানবীয় আকৃতির লোক নেমেছে। সে তড়িঘড়ি করে ফোন যে দিবে অদিতিকে সেটাও সম্ভব নয়। হাত কাঁপছে। বুকের ভেতরের অস্থিরতা।

“আফামণি ঐ লোকের জন্যে যেতে পারতাছি না সামনে।”

সিএনজি ড্রাইভার কথাটা বলে দম ফেলতে পারেনি। অমনি ঝড়ের বেগে বেঞ্জামিন সেখানে পৌঁছে। তার এমন রূপ নুসাইবার প্রথম দেখা। এতটা ক্রোধ ঐ চোখ দুটোতে,ভেবেই মেয়েটার বুকের ভেতরকার অবস্থা বেগতিক।

“ আমার থেকে পালাচ্ছো, সাইবা? যেখানে তোমার সব গন্তব্যের শেষ ঠিকানা এই আরন বেঞ্জামিন!”

দুর্ধর্ষ এক কন্ঠস্বর। সিএনজির বাহিরে লোকটার অবয়ব এক লোমহর্ষক অনুভূতি। শার্টের আঁটসাঁট ভঙ্গিমায় জানান দিচ্ছে,কতটা শক্তিশালী এই লোক! সিএনজির দরজায় হ্যাঁচকা টান দিলেই সেটা খুলে যায়। নুসাইবার স্কার্ফ মাথা থেকে সরে সে পিছিয়ে গেলে। উন্মুক্ত হয় চেহারা। জ্বলজ্বল করছে এই অল্প আলোতেই। মেয়েটা গভীরে চলে যায় সিএনজির অপরপাশে। বেঞ্জামিন দুয়ারে দাঁড়িয়েই মেয়েটার মোলায়েম পায়ে হাত দেয়। নুসাইবা তাকে ব্যাগ ছুঁড়ে দেয়,

“ছাড়ুন আমাকে। ছাড়ুন বেঞ্জামিন। আমাকে ছুঁবেন না বাস্টার্ড।”

মেয়েটা কেঁদে উঠে। কিন্তু ঘৃণায় তার দৃষ্টি ইস্পাত কঠিন।

বেঞ্জামিন তার কথায় আরও উন্মাদ বনে। রমণীর গায়ের উষ্ণতাও তাকে কাবু করে না। সে ওভাবেই মেয়েটার পা ধরে সোজা করে। হিঁচড়ে বের করে সিএনজি থেকে। সোজা তুলে নেয় কাঁধে। অতি তুলোর মতো মেয়েটার ছোট্ট শরীর বেঞ্জামিনের শক্ত কাঁধে আরামসে এঁটে যায়।

সিএনজি ড্রাইভার কিছু বলতে নিলেও চুপ থাকে লোকটার কোমরে গুঁজে রাখা রিভলবার দেখে। বেঞ্জামিন মানিব্যাগ থেকে হাজারের একটা নোট ধরিয়ে দেয় সিএনজি ড্রাইভারকে।

তারপর হাঁটতে আরম্ভ করে নিজের গাড়ির দিকে। আশেপাশের কেউ যে দেখবে এটা সেইসব সম্ভব হয়নি লোকটার গার্ড সকল সামনে পিছনের দিকটা অবরোধ করে রেখেছে।

নুসাইবা ধড়ফড় করে। নামতে চায়। বেঞ্জামিনের পিঠে অসংখ্য কিল ঘুষি পড়ে। কিন্তু লোকটা একটাই স্পর্শ করে। মাথা ঘুরিয়ে মেয়েটার পিঠের উপর ভয়ানক এক চুমু দেয়। চিল্লিয়ে বলে,

“এরচেয়ে বেশি কিছু করতে আমার দুই সেকেন্ড সময় লাগবে, রূপসী।”

নুসাইবা জমে যায় বরফের মতো। কি হলো এটা? পিঠের উপর লোকটার স্পর্শ যেনো এখনো জারি আছে। সেথায় শীতল হয়ে এক অনুভূতির তিক্ততা ছড়িয়ে দিল। নুসাইবা হুহু করে কেঁদে উঠে। লোকটা একটা শয়তান!

বেঞ্জামিন একপ্রকার তাকে সিট ছুঁড়ে মারে। নুসাইবা উবুত হয়ে পড়ে। চুল কাপড় সব মিলেমিশে একাকার। নিজেকে যে সামলাবে এমনটা ভাবনার আগেই বেঞ্জামিন ততক্ষণে অপর দিকে উঠে বসেছে। গাড়ির স্টার্টিংয়ের শব্দে গার্ডরা চারিদিক ক্লিয়ার করে ফেলে। গতি বাড়িয়ে ছুটতে থাকে বেঞ্জামিনের গাড়িটা।

“আমার থেকে পিছু ছোটানোর কোনো পথ নেই। তুমি বুঝো আমার জীবনে তুমি কি? সেই আমাকেই তুমি নাকচ করতে চাও? হ্যাঁ? পালাতে চাও? পাখা ভাঙার সময় এসেছে তোমার।”

বেঞ্জামিন নিজের শার্টের হাতা বটে নেয়। নুসাইবা নিজেকে সামলে বসে। গাড়ির জানালায় জোরে জোরে চড় দেয়,

“হেল্প! হেল্প! প্লিজ হেল্প মি!”

“হেইইইই!”

বেঞ্জামিন মেয়েটার ঘাড় চেপে ধরে। বুঝতে পারে মেয়েটার গায়ে জ্বর। কিন্তু তার রাগী সত্তা কিছুতে শান্ত হওয়ার না। নিজের অত্যন্ত কাছে নিয়ে আসে মেয়েটাকে। দৃষ্টি মিলে দুজনের। নুসাইবার আঁখিতে অশ্রুরা খেলছে। মায়া হয়নি কঠোর লোকটার। বৃদ্ধাঙ্গুলে গভীর ছুঁয়ে দেয় মেয়েটার সফেদ ত্বক,

“তোমাকে যে হেল্প করতে আসবে সে মরবে।”

“আপনি একটা রাক্ষস!”

নুসাইবা তার হাত সরিয়ে নিতে চায় গাল থেকে। কিন্তু, পারে না। বেঞ্জামিন তাকে নিজের সাথে আগলে নেয়। সেই এক ঝাঁঝালো মোহনীয় ঘ্রাণ নাকে এসে লাগে নুসাইবার। যে এখন বাম পাশে আটকে আছে তার কথিত রাক্ষসের।

“রাক্ষস মানুষ খায়। তবে আমি বেঞ্জামিন দা গ্রেট রাক্ষস খাবো একটা নির্দিষ্ট মেয়েকে,আজীবন। নাম… নুসাইবা।”

কথায় নেই কোনো টান,কোনো মায়া। আছে এক ভয়ার্ত পরিবেশের মাঝে উত্তাল সুর। নুসাইবার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে।

সে লোকটার সত্তা থেকে ছুটতে চায়। পালাতে চায়। এমন ঘৃণিত কথায় তার গা গুলিয়ে আসে। বেঞ্জামিন যে পরিপাটি একজন অহংকারী লোক হিসেবে জানতো আজ তার ব্যবহারে তাকে কোন উপাধি দিবে নুসাইবা একটুও বুঝছে না। একটুও না।

“আপনি কেনো আমার সাথে এমন করছেন?”

নিজেকে ছুটানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে মেয়েটা। অথচ লোকটা খুব বাজেভাবে তার কাপড় সরিয়ে উন্মুক্ত পেটে হাত প্যাঁচিয়ে নিলো। যেখানে অনুভব করছে নুসাইবা লোকটার পাঁচটা আঙুল,শক্ত তালুর ছোঁয়া।

সাথে সাথে তার এক হাত পৌঁছে যায় বেঞ্জামিনের কলারে,

“ইউ পারভার্ট !”

তখনই গাড়ি থামে। কোথায় থামলো নুসাইবা দেখলো না। শুধু অনুভব করলো বিশাল কঠিন একটা ব্রেক করেছে এই শয়তান লোকটা।

নুসাইবা ভ্রু কুঁচকে দৃষ্টি বাহিরে দিবে সেই সুযোগ হয়নি। মেয়েটাকে চেপে ধরে বেঞ্জামিন গাড়ির সিটে। নেশালো দৃষ্টিতে অত্যন্ত ভয়ানক উন্মাদনা। মেয়েটা নাক টেনে শব্দ করে কান্না করলেও গলেনি মনস্টারের মন। কলার ধরা হাত প্যাঁচিয়ে ধরে সে নুসাইবার। অতঃপর ঝুঁকে ঠোঁট ছুঁয়ে দেয় রূপসীর গলার ভাঁজে। অমৃতের মতো শুষে নেয় গলার সেই মিষ্টান্ন স্বাদ।

“আহ…আহ ছাড়ুন…”

নুসাইবা আর্তনাদ করেও ছাড় পেলো না। বেঞ্জামিন দাগ বসিয়ে মাথা তুলে। চোয়াল চেপে ধরে রমণীর। ফুলো অধর আরও ফুলে উঠে। সেথায় বৃদ্ধাঙ্গুল ঘষে অত্যন্ত বেহায়াভাবে,

“ছাড়ুন বলতে কিছু নেই আমাদের মাঝে সাইবা। পারভার্ট বলেছো না! একদম ঠিক বলেছো। আমি পারভার্ট থেকেও জঘন্য তোমার জন্যে। এন্ড ইউ নো হোয়াট…!”

বলে থামে বেঞ্জামিন। নুসাইবার বুকের গতি অস্বাভাবিক। তার সামনে এই সুদর্শন পুরুষ এক ভয়ানক সত্তা। যার শার্টের আবরণ সরে অশালীন খাঁজ কাঁটা একপাশের বুক দৃশ্যমান হালকা আলোতে। চোখে অত্যন্ত তেজ। মেয়েটা চোখ বুঁজে নেয় ভয়ে।

স্কার্ফহীন মেয়েটার বুকের দিকে নজর দিলে শরীরের উত্তাপ হুরহুর করে বাড়ে বেঞ্জামিনের। তারপরও মেয়েটা তার থেকে পালাতে চেয়েছে ভেবে হাত মুঠ হয়ে আসে মানবের,

“এই পারভার্ট থেকে তোমার মুক্তি নেই মিসেস বেঞ্জামিন….আজীবনের জন্য আটকে তুমি আমার জীবনে। আমার পাখি হয়ে আমার খাঁচা থেকে উড়াল দেওয়ার শাস্তি তো পাবে তুমি। ভাবতে পারছো কেমন জঘন্য শাস্তি!"

বেঞ্জামিনের এক লাগামছাড়া দৃষ্টি ছড়িয়ে যায় মেয়েটার পুরো সত্তায়। লোকটার সেই কটু নজর কেমন মাতাল মাতাল! সুদর্শন লোকটার এমন বিষাক্ত নজরের এক ঝাঁঝালো ঝাঁকি নুসাইবার পুরো শরীরকে গ্রাস করে।

চলবে……

কপি করা নিষেধ।

অত্যন্ত মাথা ব্যথা আমার। চোখের পানি নাকের পানি এক হচ্ছে এই মাথার যন্ত্রণায়। কেউ পর্ব ছোট বলবে না। নেক্সট পর্বের ধামাকার জন্যে তৈরি থাকো সবাই। রেসপন্স করো সকলে,তাহলে গল্প তাড়াতাড়ি আসবে ইন শাহ্ আল্লাহ্।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন