ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম শৃঙ্খলে রুদ্ধ রূপসী

২২তম পর্ব

লেখক: সালসাবিল সারা

#প্রেম_শৃঙ্খলে_রুদ্ধ_রূপসী

পর্ব - ২২

লেখিকা: সালসাবিল সারা

(কপি করা নিষেধ)

________________

“আমার সাইবা? লোকটা গতরাতে বুকের ভেতর মুখ গুঁজে তো এটাই জপছিল। আমি উনার সাইবা কবে থেকে? ঘামান্ডি লোকের নিশ্চয় জ্বরের জন্যে মাথাটা গেলো।”

নুসাইবা বিড়বিড় করে নিজের সাথে। এইযে তার বুকের মধ্যিখানে লোকটা এখনো মাথা রেখে ঘুমিয়ে। জ্বরে সারারাত ছটফট করলো। কোনোভাবে নুসাইবা বেড সাইড টেবিলের জগের পানিতে অল্প কাপড় ভিজিয়ে দানব লোকের কপাল,মুখ মুছে দিয়েছে। ডাক্তার যে ডাকবে সেই সুযোগ আর হয়নি। ফুলে ফেঁপে থাকা বাহু জোড়া তার পিঠেই আটকে ছিল রাতভর। সাথে লোকটার ফিসফিস সুরে “তার সাইবা” বলার গুঞ্জন।

নুসাইবা মাথা নিচু করে।মানবের উদোম পিঠ স্পষ্ট। বাহুতে খচিত ট্যাটু চিকচিক করছে। রাশিয়ানে কিছু লিখা। মেয়েটা অন্য মনস্ক হয়। আঙুল ছুঁয়ে দেয় সেই ট্যাটুর ছায়ায়। কোমরে একটা বিশাল লেখা লম্বাভাবে। সেটাও রাশিয়ানে। তারপর আর দৃষ্টি দিতে পারল না। পরনের ট্রাউজার অনেকটা হেলে আছে। বুকটা তার আলোড়ন করে।

বেঞ্জামিন এরমাঝে কয়েকবার মুখ ঘষলে তার বুকে মেয়েটার গায়ের রঙ রক্তিম হয়। আলতো হাতে ঘাড় ধরে সামান্য টানার ভঙ্গিমা করেই আওড়ায়,

“সরুন প্লিজ!”

“উম…ডোন্ট মুভ, সাইবা।”

আবারো নাক ঘষে মেয়েটার আধখোলা বুকে। চুমুও দিলো কি গোপনে? বুঝায় না বেঞ্জামিন তার ভাবভঙ্গি। ওভাবেই পড়ে থাকে।

নুসাইবা ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে। বালিশের নিচ থেকে মোবাইল হাতড়ে নেয়। ঠিক কতদিন মোবাইল দেখা হয় না তার ঠিকভাবে নিজেও জানেনা।

অনেকদিন পর আইডিতে লগইন করলে সবটা যেনো নতুন লাগে। এত বছরের পুরোনো সব মানুষের পোস্টার ছড়াছড়ি।

বেশ কিছুক্ষণ মানুষজনকে দেখলে এখন তার ইচ্ছে জাগলো তার বুকে লেপ্টে থাকা লোকের প্রোফাইলটা দেখার। এমন একটা মানুষ আরন বেঞ্জামিন,যার হাইফাই প্রোফাইলে নিশ্চয় তার অহংকার,দাপট আর বিচিত্র মানুষের ছড়াছড়ি!

লোকটার নাম কয়েকবার সার্চ দিয়ে পেলো না। পরেরবার “Arôñ Benjamïn” এমন একটা ট্যাগ পোস্টের মাধ্যমে পেয়ে যায় লোকটার আইডি। নুসাইবার মুখে হাসি ফুটে অনায়াসে। এতক্ষণ চেষ্টার ফল যে পেলো। মানবের প্রোফাইলে সব ব্যবসায়িক পোস্ট কিংবা রাজনৈতিক। সবটা রাশিয়াকে ঘিরে। বাকি পোস্ট তাকেই ট্যাগ করা। নানান মিডিয়ার,বিশাল কোম্পানি কিংবা ব্র্যান্ডের। এরমধ্যেই হঠাৎ একটা পোস্টে চোখ আটকে আসে নুসাইবার। ছবিতে বেঞ্জামিনের বিশাল হাতের তালুর মাঝে তার ছোট্ট হাতটি,আঙুলের মাঝে জ্বলজ্বল করছিল তার সোনার রিং। হিসেব করে দেখে সেদিনই তাদের বিয়ে হয়।

ক্যাপশন রাশিয়ান ভাষায় লেখা। সেটা ট্রান্সলেট করলে নুসাইবা গোটা অক্ষরে দেখতে পায়,

“মনস্টার তার পরীকে নিজের করেছে।”

সেই পোস্টে সাত মিলিয়ন লাইক। কমেন্ট,শেয়ারের ছড়াছড়ি।

মেয়েটার চোখ ছানাবড়া। বুকটা ধুকধুক করে। যাকে সে কেবল বোনের ভাসুর জেনে বিয়েতে বসেছিল,সেই ভাসুরই কিনা বিয়ের রাতে তাকে তার পরী বলেছে, এমনকি নিজের করেছে বলেছে!

এরমানে কি দাঁড়ায়? কি দাঁড়ায়?লোকটা…লোকটা….

“ম্যাম,মিস্টার এলেক্স বসের খোঁজ করছেন।”

মেইডের ইংরেজি কথাটা বারংবার ভেসে আসতে থাকে দরজার দিকের স্পিকারের থেকে। নুসাইবা বিশাল দরজার পাশের মনিটরে দৃষ্টি মেলে দেখে একজন মেইড আর এলেক্স দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে। মেইডের কথাটা রিপিট করলে, নুসাইবা বেঞ্জামিনকে ধাক্কা দেয়,

“এলেক্স আপনার খোঁজ করছে। উঠুন।”

বেঞ্জামিন সরে মেয়েটার সত্তা থেকে। চোখ এখনো বন্ধ। মোবাইল হাতড়ে নেয়। ফোন তার সুইচড অফ। কখন হয়েছে নিজেও জানেনা। মোবাইল অন করে সাথে সাথে সে এলেক্সকে ফোন দেয়।

নুসাইবা মনিটরে দেখলো লোকটা ফোন পেয়ে সরে যাচ্ছে দরজার সামনে থেকে। মেয়েটা বসে রইলো বিছানার এক কোণায়। বেঞ্জামিনকে খেয়াল করে সে। অত্যধিক সুদর্শন এক মানব। তার ভেতরটা রহস্যে ঘেরা। বিশেষ করে তাদের বিয়ের রহস্যটা বড্ড গভীর। তার মাথায় কিছুতে আসছে না লোকটা কেনো বিয়ের রাতেই তাকে নিয়ে এমন পোস্ট করলো!

সে বেঞ্জামিনের দিকে তাকিয়ে ছিল। লোকটার ঘুমঘুম চেহারা এখন কি মারাত্মক রেগে! ঐযে বাম কানটা,এটা পুরো লাল। কঠোর সুরে কিসব বলছে। পরপর নুসাইবার সাথে দৃষ্টি মিললে মেয়েটার শরীর শীতল হয়ে আসে। মনটা আনচান করে। মনস্টার লোকটা ওভাবেই উঠে দাঁড়ায়। ওয়াশরুমের দিকে হেঁটে গেলে নুসাইবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। নিজের বুকের দিকে এখন দৃষ্টি পড়লে পুরো কায়া ঝিনঝিন করে। কি করেছে মানব তার! আর এখন কোনো কথা না বলেই হনহন করে চলে গেলো?

লাজে,অপমানে নুসাইবার নজর ঝুঁকে আসে। সে নিজেকে পরিপাটি করে নেয় দ্রুত। শাড়ির আঁচল মাথায় টেনে দেয়।

বিছানা থেকে নামলে শুনতে পায় বাহির থেকে কিসের শব্দ ভেসে আসছে। সে দ্রুত কদমে ব্যালকনিতে যায়। বাহিরে শতখান গাড়ি হবে। একেকটা গাড়িতে কয়েকজন করে লোক বাহিরে দাঁড়ানো। উঠোন থেকে শুরু করে মেইন গেইটের বাহিরে পার হয়েছে লোকদের সারি।

সচরাচর এই বাড়িতে ব্যবসায়িক বা অস্ত্রের কারখানার কোনো কথায় বাতাসের সাথে উঠে না। কেবল গার্ডস্ থাকে সুরক্ষার জন্যে। পুতুল এমন ঝামেলা পছন্দ করে না। তবে আজ ফ্যাক্টরিতে বিশাল বিবাদ হয়েছে। তাই তারা যাওয়ার পূর্বে বেঞ্জামিনকে সাথে নিচ্ছে। কারণ অস্ত্রের ফ্যাক্টরীর ব্যাপারে বেঞ্জামিন সদা সর্বাধিক রূঢ়।

সরল মেয়েটা কিছু জানেনা। সে দৃশ্যটা দেখে ব্যালকনি থেকে সরে আসে। ভেতরে আসলেই নজরে শোভা পায় বেঞ্জামিন পুরো তৈরি। কালো কোট-শার্ট,কালো প্যান্ট,ysl খচিত সুজ। নুসাইবা লোকটার সত্তায় নজর ঘুরায় ,গলা অব্দি নানান কথা এগিয়ে আসছে। কিন্তু মুখ ফস্কে যে বের করবে এটার সাহস পাচ্ছে না। লোকটার ভ্রু কুঁচকে আছে,মুখে শত জনমের গাম্ভীর্য।

জ্বর কি সেরেছে? নাকি এখনো আছে? খিদে লাগেনি লোকটার? হাজারো কথা মন ভেবেছে তবে মুখ খুলল এক অন্য প্রশ্নে,

“আমাকে কেনো বিয়ে করেছেন? নিশ্চয় কোনো ভ্যালিড রিজন আছে! নাহয় আমার হাতের ছবি আপনি কেনো আপনার হাইফাই প্রোফাইলে থাকবে? উত্তর দিন।”

“ব্রেকফাস্ট করে নিও।”

সকল প্রশ্ন উহ্য করে বেঞ্জামিন কথাটা বলতে বলতে বেরুতে নিলে নুসাইবা লোকটার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।

দুইহাত মেলে দেয়। অর্থাৎ লোকটাকে সে যেতে দিবে না।

চুলগুলো এলোমেলো,ঘোমটা মাথায় অর্ধেক আর অর্ধেক কাঁধে। গলায় লাল হয়ে আছে বেঞ্জামিনের অধরের ছোঁয়ায়। সম্মতি নেই বলে মেয়েটাকে গিলে ফেলছে না সে। নাহয় এতক্ষণে কায়ার প্রত্যেকটা স্বাদ সে নিয়েই দম নিতো।

“কথা কি কানে যায় না? বিয়ে করেছেন আর ভেবেছেন আমি আপনার দাসী? যেটা বলবেন সেটাই করব? আমাকে উত্তর দিন কেনো বিয়ে করেছেন? আর নাহয়…”

বেঞ্জামিন তাদের দূরত্ব মিটিয়ে নেয়। ছিটকে ফেলে তার মাথার কাপড়। নুসাইবা ধড়ফড় করে। সে লোকটার উত্তপ্ত হাত কোমরে হামলে পড়ল বুঝে,মানবের জ্বর এখনো সাড়েনি। কেমন হাহাকার করে তার ছোট্ট তনু। এক হাত উঁচু করে বেঞ্জামিনের গলার নিচে নিতে উদ্যত হলে বেঞ্জামিন সে হাতটাও ধরে ফেলে,

“এতটুকু একটা মেয়ে তুমি,আমার সাথে গলা উঁচু করো?”

“ছাড়ুন আমাকে।”

নুসাইবা তার কোমর থেকে কঠোর হাতটি ছাড়াতে চায়।

“নেভার।”

বেঞ্জামিন ঝুঁকে যায়। ঠিক মেয়েটার ঠোঁটের কিনারায় জালিম অবাধ্য ঠোঁট ছুঁয়ে দেয় নিজের। নুসাইবার সত্তার জ্বলন বাড়ে। সে লোকটার একটা বাহু খাঁমচে নেয়। আর্তনাদ করে সজোরে।

“নিজেকে কি ভাবেন আপনি? আমাকে কষ্ট দেন,আবার পোস্টে আমাকে নিজের পরী বলেন,আপনার বলেন…এগুলোর একটা মানে তো আছে। সেই মানে নিজ মুখে বলুন। আজ সব কথার জবাব দিবেন। নাহলে আমি আপনার সাথে এক মুহূর্তও থাকবো না…”

“ট্রাই ইট…”

বেঞ্জামিন ভড়কে যায়। তাকে কেউ চ্যালেঞ্জ ছুড়বে এটা তার সহ্যের বাহিরে। আর যে এমনটা করছে সেই তার প্রাণ। অধর বাঁকা করে বেঞ্জামিন। চোখে তার মারাত্মক ক্রোধ। সব কথার উত্তর অনায়াসে দিতো সে কিন্তু মেয়েটার বলা অবাধ্য শেষ কথাটা পুরো মেজাজের জানাজা পড়ায়।

তার বৃহৎ আঙুলগুলো আটকে গেলো মেয়েটার ছোট্ট মুখের ভাঁজে। চোখে টলটল করছে নোনাজল। মন গলেনি পাষাণের। উল্টো কঠোর সুরে সারা কক্ষ ভস্ম হয়,

“অবাধ্যকতা একবার দেখিয়ে সখ না মিটলে এইবার করে দেখো… আই সয়ার, দিনে তারা দেখিয়ে ছাড়ব। বুঝছো তো কিভাবে? আমার জন্যে তুমি বৈধ। আর তোমার ভাষ্যমতে আমি ভালো পুরুষ না।”

বেঞ্জামিন মেয়েটাকে ছেড়ে দেয়। শেষবার বেরুনোর পূর্বে অগোছালো শাড়ির তার পরীকে পরখ করে। দিন যত যাচ্ছে মেয়েটার অবাধ্যকতা আর হিন্য কথাবার্তা তাকে মাতাল করে ছাড়ে। মনে হয় না তার ধৈর্য আর টিকবে মেয়েটার এলোমেলো বাচনে। তারই উন্মাদনা মেয়েটা,সে ঠিক জানে কীভাবে পক্ষীর পাখায় শিকল বাঁধতে হয়।

বেঞ্জামিন চলে যায় আর দেরি না করে। মেয়েটা হয়ে যায় একেবারেই একা। মেইড নাস্তা নিয়ে আসে সাথে সাথে। যেনো বেঞ্জামিনের বেরুনোর অপেক্ষায় ছিল।

“ম্যাম খেয়ে নিন। নাহয় স্যার আমাকে চাকরি থেকে বের করবেন।”

নুসাইবা চোখ তুলে তাকায়। কতটুকু আর বয়স হবে মেয়েটার? ষোলো,সতেরো? নিশ্চয় পারিবারিক চাপের কারণে এমন পেশায় আছে। গলা শুকিয়ে আসে তার। শয়তানটা তার না খাওয়ার শাস্তিও অন্যকে দিবে তাও তাকে দিবে না?

পরপর সে মনে মনে আওড়ায়,

“আমাকেই তো দেয় শাস্তিগুলো। যদি নাস্তা না করি তাহলে এই মেয়ের চাকরি নিয়ে আমাকে গিল্ট ফিল করাবে । অনুশোচনার চেয়ে বড় কষ্ট কি আর কিছু আছে?”

নুসাইবা মাথা নাড়ায়। হেল্পিং হ্যান্ড মেয়েটা ট্রে রেখে চলে যায়। মেয়েটা নিজের হাত দেখে। উষ্ণতা যেনো হাতের মাঝেই লেপ্টে রয়েছে। সে কি যেনো ভেবে উল্টো ফিরে বারান্দায় দৌড়ায়। তখনই দেখলো কঠোর মানব গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে। আরেকটু ঝুঁকি দিয়ে দেখতে গেলেই লোকটার তার পানে ফিরে। ফলাফল তাদের দৃষ্টি মিলেছে।

নুসাইবার কেমন মায়া হলো সেই কঠোর লোকের সুদর্শন মুখখানার জন্যে। জ্বর নিয়ে আবার কোথায় যাচ্ছে? প্রশ্ন করবে? বাঁধা দিবে? শুনবে তো সে? জানেনা মেয়েটা, কিছুই জানেনা।

কেমন এক অনুভূতি পেটে চেপে ধরে। লোকটা কঠোর হলেও, নুসাইবার যত্নে কখনো কমতি রাখেনি। কখনো না।

বেঞ্জামিনের বিশাল দেহ গাড়ির ভেতর প্রবেশ করে। নুসাইবা এইবার পিলারের দিক থেকে নিজেকে প্রকাশ করে। আসলেই তার মাথায় নানান প্রশ্ন হানা দিচ্ছে। আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো,

“বেঞ্জামিন কি তাকে ভালোবাসে?”

_________________

রাশিয়ায় আসার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হয়। বেঞ্জামিন আজকাল রাত করে বাড়ি ফিরে। সকালে বেরোয়। নুসাইবা সারাদিন একা একাই থাকে। শুনেছে কাজের প্রেসার এমন আকাশছোঁয়া,অথচ লোকটার সম্পদের তো অভাব নেই!

সে যায় হোক,লোকটা যায় করুক, নুসাইবার প্রতি সদা দায়িত্বপরায়ন।

প্রত্যেক বেলায় তাকে ফোন করে দুই সেকেন্ডের জন্যে হলেও খবর নেয়, সে খেয়েছে কিনা! এতটুকুই কাজটা মেয়েটাকে কেমন অভ্যাসে বদলেছে তার। যদি একটু ফোন আসাতেই দেরী হয় নুসাইবা ভেবে পায় না কোনো বিপদ হলো কি! পুতুল তাকে ছেলের দেখাশোনা ঠিকভাবে করার জন্যে,একটু খেয়াল রাখার জন্যে আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু মেয়েটা পুতুলের কথা রাখতে পারেনি। সেদিন যে নুসাইবা বেঞ্জামিনের সাথে তর্কে মজেছিল,এরপর থেকে বেঞ্জামিন কেবল তার সাথে যতটুকু দরকার ততটুকু কথা বলে। না বেশি না কম।

তবে নুসাইবার ভেতরটা দপদপ করে লোকটার সাথে কথায় মজতে। কারণ নুসাইবা লোকটার যত্নে,রাতে তার বুক ছাড়া না ঘুমানোর অভ্যাসে এতটুকু বুঝতেই পেরেছে লোকটা তার প্রতি বুদ।

হয়তো সময়ের অপেক্ষায় কিছু স্বীকার করে না। নাকি অন্য কোনো কারণ?

নুসাইবার দিনরাত পার হয় এই একটা মানুষের কথা ভেবেই।কারণ পুরো ঘরে লোকটা আর সে ছাড়া কারো সাথে কথা বলা হয় না। মেইডরা স্ট্রিক্ট তাদের কাজের ব্যাপারে, বস আর তাদের ম্যাডামের ব্যাপারে।

বাড়িতে,শ্বশুরবাড়িতে যা একটু কথা বলার সে বলে কিন্তু বাকিটা সময় সেই কঠোর লোকের খেয়ালেই মজে। সবচেয়ে বেশি অবাক করার হলো, নুসাইবা আজকাল বেঞ্জামিনের দিকে অন্যরকম দৃষ্টিতে তাকায়। যেমনটা মেয়েরা তাদের স্বামীর পানে হন্য হয়। না,না কোনো ভালোবাসা বা অন্য অনুভূতি! এটা কেবল স্বামীর প্রতি মেয়েদের একটা বিশাল টানের আবির্ভাব। এমনটা ভেবে এসেছিল সে এতদিন! কিন্তু গতরাত থেকে যে তার পায়ে ব্যথা অজানা কারণে লোকটা কেমন বিচলিত ছিল অফিস থেকে এসেই। ডাক্তার দেখিয়েছে সাথে রাতভর গরম পানির সেঁক দিয়েছে জেগে। মাঝে মাঝে পায়ের তালুতে চুমু দিতেও ভুলেনি। সাথে “ব্যথা কমেছে?” বাক্যটা লেগেই ছিল।

নুসাইবা হেসে উঠে নিজে নিজে। বুকের উপর হাত রাখে। পাগল লোকটা তাকেই পাগল বানাচ্ছে দিনদিন!

আজল মেয়ে বুঝলো না তার স্বামী তাকে এইভাবেই দেশ থেকে রেগে আনেনি। এটা একটা সুদীর্ঘ প্ল্যানিং। যেনো মেয়েটা বেঞ্জামিনের তাৎপর্য বুঝে,তার কদর করতে শিখে,তার ব্যাপারে ভাবে। যে প্রকল্পে আরন বেঞ্জামিন প্রায় সফল।

_____________

প্রত্যহের মতো আজও নুসাইবা অপেক্ষায় লোকটার। রাতের প্রায় দেড়টা বাজে। কিন্তু লোকটা আসার হদিস নেই। সচরাচর রাত দশটার দিকে বেঞ্জামিন বাসায় ঢুকে। ব্যালকনিতেও কিছুক্ষণ হাঁটলে সে,হঠাৎই ফোন বেজে ওঠে। সে রুমে আসে। অচেনা এক নাম্বার। সে আলতো করে ফোন স্লাইড করে কল রিসিভ করলে একটা গম্ভীর সুর ভেসে আসে,

“আপনার হাজব্যান্ডের গুরুতর এক্সিডেন্ট হয়েছে। জলদি আসুন। গেইটে গাড়ি পাঠিয়েছে এলেক্স।”

নুসাইবার হাত খসে মোবাইল মেঝেতে পড়ে। ভেতরটা যেমন ঝাঁঝরা হয়ে আসে। সে ওভাবেই শাড়ির উপরে একটা স্কার্ফ মাথায় প্যাঁচিয়ে সিঁড়ি ভেঙে নামতে থাকে। গার্ডের সদস্যরা তাকে দেখে প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকায়। কয়েকজন তার সামনে এসে অবরোধ করে,

“ম্যাডাম আপনি আমাদের সঙ্গ ছাড়া কোথাও যেতে পারবেন না।”

“এলেক্স গাড়ি পাঠিয়েছে আমার জন্যে।আমি সেইফ।”

নুসাইবা কথাটা বলে তাদের ঠেলে লোহার বড় দরজা ভেদ করেই গাড়িতে উঠে পড়ে। মেয়েটা কেঁদে অস্থির। বেঞ্জামিনের ঘুমন্ত মুখটা তার সর্বাঙ্গ জ্বালিয়ে মারছে। লোকটা তার দিকে যেভাবে তাকায়,স্পর্শ করে সেইসব তো বুঝিয়ে দেয় লোকটা কতটা উন্মাদ তার জন্যে!

নুসাইবা যে বেঞ্জামিনের কম কথা বলায় কান্নাকাটি করছিল,সেসবের জন্যেই বেঞ্জামিন দ্রুত ফিরতো, মেয়েটার সাথে নানান কথা বলত,সবটা চোখে ভাসছে।

লোকটা তার যত বেশি যত্ন করতো বিনিময়ে নুসাইবা তাকে সেই মর্যাদা দিতেই পারেনি। অনুশোচনায় গায়ে কাঁটা দেয় তার। এখন অ্যাক্সিডেন্টের কথা শুনে মেয়েটার সারা দুনিয়া কেবল বেঞ্জামিনের নামেই মেতে উঠেছে। প্রথম থেকে সব মনে আসছে,লোকটা তার জন্যে তাকে রক্ষা করার জন্যে কতটা ক্ষত সহ্য করেছে। নুসাইবা ফিসফিস করে,বুকের পাশে হাত রেখে শুধায়,

“বেহায়া হৃদয় আপনার জন্যে মরিয়া হচ্ছে,বেঞ্জামিন! উনাকে ঠিক রাখুন,আমার খোদা!”

তাদের সেই অপরিচিত গাড়ির সঙ্গে গার্ডের গাড়ির বাহার পিছে ছুটতে থাকে। অন্য গাড়িটি সেটা বুঝতে পেরে গতি বাড়ায় ভয়ানকভাবে। নুসাইবার অন্তর নড়ে উঠে। তখনই ঠিক তখনই শোনা যায় এক বিধ্বস্ত গোলাগুলির শব্দ।

সে যে গাড়িতে অবস্থান করেছে সেই গাড়ির পেছন সিট থেকেই তিনজন বেরিয়ে আসে অনায়াসে। নুসাইবা তাদের দেখে চিৎকার করে। বেঞ্জামিনের নাম ধরে আর্তনাদে মাতে। চোখ তার আঁখি কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। গার্ডের ওরাও সমানতালে গুলি ছুঁড়ে।

হঠাৎই একটা তীব্র ব্রেক কষলে নুসাইবা হেলে পড়ে নিচে। কাঁধের দিকে প্রচুর ব্যথা হয় তার। গাড়িটা চারিদিকে ঘিরে যায় কালো রঙের কয়েকটা বিশাল বিশাল গাড়ি দিয়ে। এরমধ্যে একজন নুসাইবার চুল টেনে ধরে। তার মাথায় বন্দুক চেপে তাকে টেনে হিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামায়।

বেঞ্জামিন শুট করতে করতেই এগিয়ে আসে। নুসাইবা ঐ লোকের হাতে জোরে খামচি কেটে বেঞ্জামিনের দিকে ফিরে। সে ভেবেছিল গার্ডরা গুলি করছে কিন্তু বেঞ্জামিনকে দেখে তার দুনিয়া হেলে উঠে। এই লোকটা কি তার হৃদয়ের জ্বালাতনকারী? যার অ্যাক্সিডেন্টের কথায় মেয়েটার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে এসেছিল? খবর শুনে দৌড়ানোর মুহূর্তে সে ভেবে নিয়েছে লোকটার প্রতি তার টান স্বামী স্নেহের চাইতেও বেশি! কিন্তু এখন সেইসব অনুভূতি গলা চেপে দাঁড় করালো তাকে। লোকটার অবয়ব ভয়ানক। শার্টের ইন বেরিয়ে আছে। কোটের এক হাত উঠানো। চোয়াল এমন শক্ত এই জনমে নুসাইবা দেখেনি।

শা করে একটা বুলেট তার পাশের লোকটাকে ছুঁয়ে যায়। চিৎকার করে লোকটা লুটিয়ে পড়ে। বেঞ্জামিন তার পাশে এসে ক্ষান্ত হয়নি,বরং লোকটার বুকে ফুলের পাপড়ির মতো ছড়িয়ে পড়ে বুলেটের বর্ষা।

নুসাইবা “আহ” বলে কানে হাত চেপে বসতে নিলে,বেঞ্জামিন তাকে আটকে নেয় নিজের সাথে। রমণী হচকিয়ে উঠে।

সে বেঞ্জামিনকে ভয় পাচ্ছে প্রচুর। তারপরও লোকটার হাতের উপর হাত চেপে ধরে। লোকটা ঠিক আছে তো? এক্সিসডেন্টে কোনো ক্ষতি হয়নি তো!

মেয়েটা তাকে খুঁটিয়ে দেখে,কিন্তু উচ্চারণ করার মুরোদ নেই এক অক্ষরও। এরমাঝে অচেনা গাড়িটির ফুয়েল লিক হয়ে ব্লাস্টের জন্যে গটগট করে জ্বলে উঠলে বেঞ্জামিন নুসাইবাকে কোলে তুলে নেয়। দৌড়ানোর মাঝেই গাড়িটি তীব্র ব্লাস্ট হয়। সবাই যে যার হাল থেকে নিরাপদ থাকার চেষ্টায়। নুসাইবা অবাক হয়,সেই বিশাল লোকের কান্ডে। বেঞ্জামিন পুরোটা সময় তাকে ঝিনুকের মাঝে মুক্তার মতো প্রোটেক্ট করে নিলো।

আগুনের তেজ বেশ কিছুটা ভস্ম করে বেঞ্জামিনের পিঠ। নুসাইবা কেঁপে উঠে আরও শক্ত করে জড়িয়ে নেয় তার স্বামীকে।

কিন্তু লোকটা তো স্থির থাকার মানুষ নয়। তাকে উঠায় গাড়িতে। ড্রাইভারের পেছন দিক দিয়ে কালো গ্লাসে ঢাকা। এর উপর পর্দা দেওয়া। মাঝের সিট রেখে পেছনের দিকে সে নুসাইবাকে ছিটকে বসায়। পরপর নিজে সেখানে বসে এতক্ষণের জমানো চিৎকার একবারেই সজোরে করে,

“তোর সাহস কি করে হয় মাঝরাতে বাড়ি থেকে বেরুনোর! হ্যাঁ? তোকে সুযোগ দিয়ে মাথায় তুলেছি আমি? তোর ধারণা আছে তুই কি করেছিস আজকে?”

“বস? বস? একজন আহত যে ছিল সে মুখ খুলেছে। মূলত আপনার নতুন শত্রু,দূর্বল দেশ নেপালের। তারা ভাবতেও পারেনি আপনার পাওয়ার সম্পর্কে। নতুন যে এই পথে। টিপিক্যাল ভাবনা নিয়ে ম্যাডামকে অপহরণের চেষ্টায়। তবে আমাদের গার্ডদের জন্যে সেইসব সম্ভব হয়নি।”

“মূলসহ উপড়ে ফেলো বাইনচোদদের। আমি নিজ হাতে গুস্টি ধ্বংস করবো এদের। আমার বউয়ের দিকে চোখ দেওয়া? টুকরো করেও শান্তি পাবো না। জীবন্ত রেখে নরক দেখাব।”

তার কর্কশ রাশিয়ান শুনে বাকিরাও নড়ে উঠে। কেবল নুসাইবা কিছুই বুঝলো না। তবে বুঝলো তার পূর্বের কথা। যেখানে তার স্বামী তাকে তুই তোকারি করছে। মেয়েটার শাড়ি উল্টে পা অনেকটা দেখা যাচ্ছে। বেঞ্জামিন গাড়ির ঐ ছোট্ট জানালা বন্ধ করে দেয়। এতক্ষণ সে বউকে আড়াল করেই রেখেছিল।

“আপনি…আপনি ঠিক আছেন তো? কোথাও ব্যথা পাননি?”

নুসাইবা শাড়ির আঁচল ঠিক করতে নিলে,বেঞ্জামিন তার হাত ধরে নেয়।

“নিজের চিন্তা কর তুই, তোকে হাত করা এত সহজ কেনো? কেনো বাসা থেকে বেরিয়েছিলি?কি কারণে? তোর কিছু হলে…তোর কিছু হলে আমার…”

বেঞ্জামিন শ্বাস ছাড়ে। আধ শোয়া হয় মেয়েটার গায়ের উপর।

“হুম? আমার কিছু হলে আপনার? আপনার কি?”

নুসাইবা অত্যন্ত নরম সুরে আওড়ায়। লোকটার মুখ থেকে সে কথাগুলো স্পষ্ট শুনতে চায়। সে জানতো এমন ক্ষমতাশালী লোকের কাছে গোলাগুলি,ডার্ক ওয়ার্ল্ডের সাথে কানেকশন থাকা স্বাভাবিক। তাই লোকটার এমন ভয়ানক রূপে অবাক হয়নি,বরং ভয় পেয়েছে। কি বিপদ থেকে না রক্ষা পেলো!

“বাসা থেকে কেনো বেরিয়েছিলি? গার্ড যখন ফোন করেছিল তুই এলেক্সের পাঠানো গাড়িতে উঠেছিস,আমার রুহ তখন বেরিয়ে আসার উপক্রম। গাড়িতেই যদি ওরা তোকে কিছু…”

বেঞ্জামিন আর ভাবতে পারেনা। চোয়াল তার অত্যন্ত কঠোর।

নুসাইবা তিরতির করা হাত লোকটার চোয়ালে ছুঁয়ে দেয়। দৃষ্টি মিলে দুজনের। গাড়ির ভেতরকার একটা মৃদু লাল রঙের আলোয় দুইজনের সত্তায় জ্বলজ্বল রূপ স্পষ্ট।

“আমি ঠিক আছি তো। ফোনকলে যখন বলেছিল আপনার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে আমার দুনিয়াটাই কেমন হয়েছিল। আপনার জন্যে আমার বুকটা মরিয়া হয়ে যাচ্ছিল। একটাবার আপনাকে দেখার,সরি বলার জন্যে আমি সত্যিই মরে যাচ্ছিলাম। আমি অনেক দুঃখিত আপনাকে ঝামেলায় ফেলেছি। সবকিছুর জন্যে আইএম সরি,আইএম সরি বেঞ্জামিন।”

মেয়েটা পিঠে হাত রাখে বেঞ্জামিনের। সেই হাত টেনে আবার মুখের সামনে আনে। লোকটার কুঁচকে থাকা ভ্রু স্পর্শ করলে সেটা সহজে সটান হয়ে যায়। সেই হাত চোখে ছুঁয়ে দিলে বেঞ্জামিন খপ করে হাত ধরে ফেলে। আঙুলের ভাঁজে আঙুল আটকে নেয়। নুসাইবা অনুভব করছে বেঞ্জামিন কেমন নিভে যাচ্ছে। লোকটার চোখ ছোট হয়ে আসে। কেমন এক হালাল লালসার দৃষ্টি সেই চোখ দুটিতে।

বেঞ্জামিন আরো ভার ছাড়ে নুসাইবার উপর। এক পর্যায়ে তাকে টেনে কোলে বসায়। নুসাইবা শাড়ির আঁচল খিঁচে ধরতে চাইলে বেঞ্জামিন সেইসব এলোমেলো করে। সিটের সাথে মেয়েটাকে ঠেকিয়ে গলায় ঠোঁট ছুঁয়ে প্রশ্ন করে,

“ আমার অ্যাক্সিডেন্ট হলেও তোমার কি? তুমি তো আমাকে পছন্দও করো না।”

“হুঁ? আমার কি! আমার কিছু না হলে কি আপনার সাথে থাকতাম?”

মেয়েটা হতদন্ত হয়ে বিপরীতে প্রশ্ন করে।

“কি হই আমি তোমার?”

বেঞ্জামিন পাগলের মতো রেগে,অথচ তার স্পর্শ মেয়েটাকে বুঝাচ্ছে লোকটা তার,কেবল তার।

“হাজব্যান্ড,ইউ আর মাই হাজব্যান্ড আরন বেঞ্জামিন। আমি আপনার কেয়ার করি,আপনার জন্যে আমার সব ফিলিংস। প্রমিজ…প্রমিজ। আর কখনো আপনাকে না জানিয়ে ঘর থেকে বাহির…”

কেঁদে কেঁদে মেয়েটা কথাগুলো বলতে নিলেও বলতে পারে না। তার অধরের ভাঁজ দখল করে পাপিষ্ঠ এই মানব।

ঠোঁটে ঠোঁটের এমন স্পর্শে নুসাইবা মারাত্মক ফিচেল আর্তনাদ করে। ছুটতে চায়। কিন্তু তার সাথে যেজন আছে সে তো এক ভালোবাসার দেওয়ানা। সে মেয়েটার কোমর আঁকড়ে নিজের কোলে আরও ভালো করে বসিয়ে দেয়। শাড়ির তাল উঠিয়ে নেয় নিজের সুবিধায়। অবাধ্য স্পর্শ করে মেয়েটার উরুতে, পেটে,বুকে। নুসাইবা তার স্পর্শের তাল সামলাতে পারে না। প্রথমবার ঠোঁটের এমন বেহাল দশায় সে কুপোকাত। কিন্তু লোকটা যে তাকে ভালোবেসে স্পর্শ করছে এটা বুঝতে তার একটুও দ্বিধা লাগলো না।

সে লোকটার ঘাড়ে হাত রাখে। অল্প সময়ের জন্যে বেঞ্জামিন ঠোঁটের মাঝে দুরত্ব আনে। মেয়েটার গলায় স্লাইড করে আওড়ায়,

“আইএম ফাকিং অবসেসড উইথ ইউ ওয়াইফি…ইউ আর ওনলি মাইন, মাইন,মাইন। ইউ আর সো বিউটিফুল মাই হার্ট,মাই ম্যাডনেস।”

চলবে।

কপি করা নিষেধ।

সবাই গঠনমূলক মন্তব্য করে জানাবে কেমন হচ্ছে পাগলাটে বেঞ্জামিন আর তার সাইবার প্রেম কাহিনী!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন