ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম শৃঙ্খলে রুদ্ধ রূপসী

২৩তম পর্ব

লেখক: সালসাবিল সারা

#প্রেম_শৃঙ্খলে_রুদ্ধ_রূপসী

পর্ব - ২৩

লেখিকা: সালসাবিল সারা

(কপি করা নিষেধ)

________________

“সত্যি এটা মানিস তো, ঘামান্ডি বেঞ্জামিন স্যারের জন্যে ফিলিংস আছে তোর? তোর কি মাথা ঠিক আছে, নুসু? হুশ জ্ঞান সঠিক রেখেই বলছিস? নাকি….”

অদিতির কথায় অবাক হওয়ার রেশ। তার সুরে যেনো অবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট।

মেয়েটার কথায় লাজে গাল জ্বলে উঠে নুসাইবার। ঐযে ঘামান্ডি লোকের জন্যে মনের এমন অস্থিরতার পর্যায় বন্ধুকে না বলে সে শান্তিটা পাচ্ছিল না। তাই দিন দুনিয়ার শরম ভুলে সে অদিতিকেই প্রথমে জানায়,লোকটার প্রতি তার অনুভূতি আর দূর্বলতার খবর।

“খবরদার,উনাকে তুই ঘামান্ডি বলবি না।”

নুসাইবা প্রতিবাদ করে। ঠোঁটের কোণে লাজুক এক আকর্ষণীয় হাসি। বিছানার চাদরে আঁকিবুকি করে তার আঙুল। যেখানে একটু আগেও শুয়ে ছিল তার প্রাণ ভোমরা। যে বর্তমানে অফিসে।

“ওকে ওকে। সরি। কিন্তু বাকি কথার উত্তর দে হুম? যার থেকে পালাচ্ছিলি বিয়ে না করার জন্যে এখন তার জন্যে এমন দেওয়ানা! জাদুটোনা করেছে নাকি সেই বিজনেস টাইকুন?”

অদিতির হাসিতে ঝনঝন শব্দ হয়। নুসাইবা সইয়ের এমন কথায় আরও নাজুক হয়ে উঠে। আসলেই তো, বেঞ্জামিনকে বিয়ে না করার জন্যে সে কতো কাহিনী না করলো! শেষমেশ সেই মানবেই ঘায়েল হয়ে,তার প্রতি হন্য হয়েছে। এটা কি একদিনে হলো? হঠাৎ হলো? না একদমই না। সে কি এইভাবেই লোকটার জন্যে মরিয়া হয়েছে নাকি! মোটেও না।

সঠিক জবাব না দিয়ে নুসাইবা সইকে ইতস্তত হয়ে শুধায়,

“হয়তো করেছে।”

“উহু উহু,কথা পাল্টালে হবে না। বলতে হবে। বল বল শুনি।”

“একদম না। আমার মনের অনুভূতি কিভাবে উনার জন্যে দুর্বল হলো সেটা আমার মধ্যেই থাক। তুই আমার জন্যে চিন্তা করিস,আমার বিবাহিত জীবন নিয়ে পেরেশানিতে থাকিস। তাই তোকে জানালাম আমি ভালো আছি আমার সাংসারিক জীবনে।”

নুসাইবা কিছুতেই তার মনের অনুভূতির সোচ্চার কীভাবে হলো সেটা জানালো না। কেনো জানাবে? নিজের স্বামীর জন্যে অনুভূতিরা থাকুক না হৃদয়ে গোপনে! তার আপন হয়ে!

আরও বেশ কিছুক্ষণ কথা শেষে ফোন কলের ইতি ঘটে।

নুসাইবা বেঞ্জামিনের বালিশে মাথা রাখে আলতো জড়িয়ে। তাদের বিছানায় দুইটি বালিশ থাকলেও, নুসাইবার তার বালিশে শোয়া হয় না। সে শোয় বেঞ্জামিনের প্রশস্ত বাহুতে,বুকের মধ্যেখানে।

মেয়েটা উল্টে সুবাস নেয় বালিশ থেকে স্বামীর ঘ্রাণের। সেখানে আঙুল বুলিয়েই বলতে থাকে,

“আমার মন চুরি কিভাবে করেছেন আপনি ঘামান্ডি সাহেব? সত্যি বলতে আমি কখনো ভাবতে পারিনি আপনার উপর আমি এমন দূর্বল হবো। তবে আমার জন্যে আপনার এফোর্ট,আপনার চিন্তা,যত্ন,স্নেহ,আবেগ সবকিছু আমাকে আপনার প্রতি ভাবতে বাধ্য করেছে। আর সেই ভাবনা এখন অনেক দূর গড়িয়ে। আপনাকে ছাড়া আমার লাইফের কিছুই আমি কল্পনা করতে পারি না, আরন বেঞ্জামিন। জানিনা কখনো আপনার সামনে মুখ ফুটে এইসব বলতে পারবো কিনা।”

ফোস করে শ্বাস ছাড়ে মেয়েটা। বুকটা কেমন খালি অনুভব হয়। বেঞ্জামিনের প্রতি তার ব্যবহার ছিল অত্যন্ত রূঢ়। কিন্তু সেদিন লোকটা নিজের ফিলিংস যখন বললো,পূর্ব থেকে নুসাইবার লোকটার জন্যে গঠিত অনুভূতিরা কেমন ভালোবাসায় রূপান্তর হলো।

আর সেই ভালোবাসায় মেয়েটা রোজ পুড়ে রোজ। লোকটা যখনই তাকে আলতো করে ছুঁয়ে দেয়,ভেতরটা আকাঙ্খায় ভরে উঠে। সে নিজেও চায় বেঞ্জামিনকে স্পর্শ করতে,কিন্তু লাজের কারণে এখনো নিজ থেকে লোকটাকে তার স্পর্শ করা হয়নি।

মেয়েটার ভাবনার মাঝেই হঠাৎ শব্দ হয় বজ্রপাতের। সে শোয়া থেকে ধড়ফড় করে উঠে। দরজা খট খট করে প্রবেশ করে নুসাইবার অনুমতিতে মেইড।

“ম্যাম, কাঁচের জানালা বন্ধ করতে এসেছিলাম।”

রোজি নামের মেইড ইংরেজিতে মোলায়েম সুরে বলে উঠে।

“শিউর।”

নুসাইবা আলতো করে জবাব দেয়।

রোজি ব্যালকনির অন্যপাশের জায়গায় কাঁচের জানালাগুলো বন্ধ করে। পুরো ব্যালকনিতে রেইন ব্লক টেনে দিয়ে ব্যালকনির মন মাতানো রঙিন আলো জ্বালিয়ে আবারো ফিরে আসে নুসাইবার নিকট,

“লাঞ্চের জন্যে কি বানাবো,ম্যাডাম?”

“আমি আসছি কিচেনে। আপনি আপাতত জিনিসপত্র বের করুন।”

“ওকে ম্যাম।”

রোজি চলে যায় মাথা দুলিয়ে।

নুসাইবা রয়েসয়ে বসে। ঘড়ির পানে চায়। মাত্র এগারোটা বাজে। সে পাজোড়া বুকের সাথে টেনে নিয়ে আয়েশ করে মোবাইল হাতে নেয়।

গ্যালারিতে ঢুকে। তাদের কাপল ছবি হাতেগোনা কয়েকটা। কিন্তু সেগুলোতেও আফিম। মেয়েটা দেখেই কেমন মরিয়া হয়ে উঠে।

বেঞ্জামিনের প্রতি তার অনুভূতির প্রকাশের সবচেয়ে বড় দিক হলো,লোকটা কখনো তাকে শারীরিক আঘাত করেনি।যদিও নুসাইবা অনেক বেয়াদবি করেছে তার সাথে,তারপরও না। রেগে মানব কম কথা বললেও,কখনো যত্নের কমতি রাখেনি। রাতে তাকে তিরস্কার করে ঘুমাতে যায়নি।এমনকি বুকে না টেনে নিয়ে কখনো লোকটা চোখ বন্ধ করার প্রয়াস দেখায়নি। এমন লোকের জন্যে কীভাবে অনুভূতি না এসে পারে? হ্যাঁ হয়তো তাদের বিয়েটা জোর করে হয়েছে,হুমকি দিয়ে হয়েছে তারপরও লোকটা তার ক্ষতি করেনি। তার পরিবারকে কখনো ছোট করেনি। উল্টো সে গোপন থেকে ঢাল হয়েছে তাদের পরিবারের। এমন লোককে ভালো না বাসলে যে কিনা তার স্বামী,তাহলে নুসাইবা জীবনে খুব বেশি বোকামি করতো। যেটা সময়ের সাথে সে বুঝেছে,সবটা মেনে নিয়েছে। লোকটাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে।

চোখ বুঁজে রূপসী। বাহিরে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ ভেসে আসছে।

স্ক্রিনে আঙুল নাচিয়ে বেঞ্জামিনের ফোন নাম্বার বের করে। যেই নাম্বার আগে “গুন্ডা” দিয়ে সেইভ ছিল সেটা এখন “মাই হাজব্যান্ড” এ রূপান্তরিত হয়েছে।

গুণে গুণে দুইটা রিং পড়লেই অপরপক্ষ থেকে বেঞ্জামিনের সুর ভেসে আসে,

“প্রিভিয়েত, ঝিনা…”(হ্যালো, ওয়াইফি)

এই সুর শুনেই মেয়েটার বুকে ধুকধুক শব্দ হয়। লোকটার গলার স্বর গম্ভীর,আবেগাপ্লুত। সে এই রাশিয়ানের অর্থ জানে। বেঞ্জামিনই তাকে শিখিয়েছে। খানিক লাজুক হাসি রমণীর। নিচের ঠোঁট চেপে বলে উঠে,

“হাই! কি করছেন?ব্যস্ত?”

“উহু…বলো। আমাকে মিস করছো? আসবো এখন? দেওয়ালে চেপে একটা ডিপ কিস লাগবে? হুম?”

লোকটার কন্ঠে উন্মাদনা। তার চোখে ভেসে আসে মেয়েটার ঘুমন্ত এলোমেলো রুপ। ঠোঁট উল্টে তার বুকে শান্তির ঘুমে আচ্ছন্ন তার প্রেয়সীর সত্তা পুড়িয়ে মারে তাকে সদা। এইযে আজ সকালেও ঘুম থেকে উঠে মেয়েটার গায়ে নাইটির বেহাল দশা দেখে কি লজ্জা পেয়েছে নুসাইবা। অথচ বেঞ্জামিন তার সেই লজ্জার তোয়াক্কা না করে ফিতে নামিয়ে অধর ছুঁয়ে দেয় মেয়েটার নরম তনুয়। রূপসীর ঠোঁটের মাঝে আচ্ছন্ন শব্দ এখনো কানে রিরি করছে।

মনস্টারের চাপা হাসিটা স্পষ্ট। নুসাইবা সেই হাসিতে কাবু হয়।

লোকটার ঠোঁট কাটা বাক্যে সে শাড়ি খাঁমচে নেয়। নিজেকে সামলে অস্পষ্ট করে বলে,

“শুধু বাজে কথা!”

“উম…আমি খারাপ লোক,আমার মাথায় শুধু বাজে কথায় তো থাকবে।”

বেঞ্জামিন তাকে টিটকারী দেয়।

“আপনি খারাপ না। মোটেও না।”

নুসাইবা ফিসফিস করে শুধায়।

“ওহ…তাহলে আমি কি?”

বেঞ্জামিন আবেগে ভেসে দিশা হারায়। সে জানে মেয়েটা তার প্রেমের সাগরে নিবদ্ধ। কেবল কিছু জড়তার কারণে এখনো মনখুলে হামলে পড়তে দ্বিধা তার বধূর। তবে সেটাও বেঞ্জামিন উপড়ে ফেলবে। প্রথমে স্টকিং,এরপর তার বস হওয়া,এরপর আত্মীয় এরপর তার স্বামী,আর এখন মেয়েটার ভালোবাসা। সবকিছুর জন্যে বিশাল প্ল্যানিংয়ের সাথে বিশাল ধৈর্যের একটা ব্যাপার ছিল। যেটা মনস্টার বেঞ্জামিন কেবল তার ভালোবাসার জন্যে করেছে। নাহয় সে কতটা যে নির্দয় সেটা খানিক পূর্বে তার অফিসের সকলে নিজ চোখে দেখেছে মিস্টার রুশকে হত্যা করার সময়।

“আপনি আমার ব্যাড বয় কিন্তু গুড হাজব্যান্ড। তবে হ্যাঁ,কয়েকটা ব্যাপারে না। যেমন…রাতে যা করেন, অফিসে যাওয়ার সময়,অফিস থেকে এসে…এগুলোর জন্যে খুব খুব ব্যাড বয় আপনি।”

মেয়েটা লাজুক ভঙ্গিমায় উত্তর দেয়।

“আহ জান…এখনো ধৈর্যের মাঝে আছি তাই গুড হাজব্যান্ড মনে হচ্ছে। একবার সেটাতে তুমি সায় দাও, আই সয়্যার আমাকে পদে পদে তুমি লম্পট বলতে বাধ্য হবে।”

বেঞ্জামিন শব্দ করে হাসে। তার সুট,চেহারার ভঙ্গিমা,খরশান চোয়াল,স্তম্ভিত শরীর সবই নজরকাড়া। তবে তার দৃষ্টি অত্যন্ত ধারালো। এই দৃষ্টিতেই যেনো মনস্টারের ছায়া। এলেক্স কাঁচের গ্লাস দিয়ে বেঞ্জামিনের দৃশ্য দেখে আবার দূরে পড়ে থাকা লাশকে দেখে। যেটা গার্ডরা কেরোসিন দিয়ে পোড়াবে খানিকক্ষণ পর।

“দিস মনস্টার ক্যান লাফ এন্ড লাভ ওনলি ফর হিস ওয়াইফ…গড!”

অনেকটা অবাক হয়ে এলেক্স কথাগুলো ভাবে। সত্যি বলতে নুসাইবা বেঞ্জামিনের জীবনে আসার আগ অব্দি এলেক্স তাকে কখনো হাসতে কিংবা কপাল কুঞ্চিত ছাড়া দেখেনি। এখনো কেবল এহেন দৃশ্য দেখতে পায় কেবল তাদের ম্যাডামের জন্যে। নুসাইবা ইয়াসিন জামান তথা মনস্টার বেঞ্জামিনের ওয়াইফের জন্যে!

__________________

“আহ জান…এখনো ধৈর্যের মাঝে আছি তাই গুড হাজব্যান্ড মনে হচ্ছে। একবার সেটাতে তুমি সায় দাও, আই সয়্যার আমাকে পদে পদে তুমি লম্পট বলতে বাধ্য হবে।”

বেঞ্জামিনের এই কথাটা নুসাইবার কানে বাজছে বারংবার। সে লজ্জায় তখন ফোনই কেটে দিয়েছে। পরে বেঞ্জামিন বারংবার কল করলে সে শুধু বলে,

“লাঞ্চ বানাচ্ছি। দ্রুত ফিরবেন।”

বিনিময়ে লোকটার কোনো কথা শুনেনি সে। ফোন রাখে নিভৃতে। তবে এর বিপরীতে একটা মেসেজ এসেছিল স্পষ্ট,

“কামিং সুন,জান। কিসেস ফর এভরি পার্ট অফ ইউ।”

লোকটা ব্যস্ত থাকলে যখন ফোন রিসিভ করতে পারে না শেষ লাইনটা তখন বাকি মেসেজের সাথে পাঠায়। মেয়েটা গালে হাত দিয়ে হাসে। কিভাবে যেনো লোকটার প্রতি এতটা বুদ হলো,লোকটার সঙ্গ ছাড়া কেমন একা একা লাগে।

সে নিচে নামে। হ্যাল্পিং হ্যান্ডের সাহায্যে জিনিসপত্র সব রেডি করে। পরে একাই নিজের স্বামীর জন্যে রান্নার কাজে লেগে পড়ে দ্রুত।

মেন্যুতে রেখেছে ফ্রাইড রাইস,বিফ স্টেক, বাটার চিকেন সাথে সটেড ভেজিটেবল। যদিও জানেনা লোকটা রাইস খাবে কি খাবে না,তাই এক্সট্রা করে পটেটো ম্যাশ করলো। আর শেষে একটা হেলদি ড্রিংকস দিয়ে মেন্যু পূর্ণ করেছে।

ঘড়ির কাঁটা মেপে সে দ্রুতই ছুটল ওয়াশরুমে। উদ্দেশ্য জলদি করে গোসল সেরে নেওয়া। কিন্তু যেই না সে মাথায় পানি দিবে অমনি শব্দ ভেসে এলো দরজায় খটখট হওয়ার।

সাথে বেঞ্জামিনের গম্ভীর সুর,

“ওপেন দা ডোর,লাভ।”

“আমি গোসলে।”

নুসাইবা গায়ের কাপড় চেপে ধরলো আরও।

“আমিও করবো।”

বেঞ্জামিন নক করে জোরে।

“পাঁচ মিনিট দিন!”

মেয়েটা কেমন মোলায়েম সুরে বলে উঠে।

“এক মিনিটও না।”

কথার শেষেই দরজা খোলার শব্দ। বেঞ্জামিন ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে। উদোম শরীরে ট্যাটু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। খাঁজ কাঁটা মাংসগুলো সুবিন্যস্ত। চুলগুলো এখনো সেট হয়ে রইলো। কোমরের অনেকটা নিচ অব্দি ঝুলছে ট্রাউজার। চোখ দুটো নিভু নিভু। নুসাইবা স্পষ্ট দেখলো, তার ভেজা সত্তা লক্ষ্য করে লোকটা দাঁত দিয়ে নিজের ঠোঁট কামড়ে ছাড়লো মাত্র! উফ,মারাত্মক বুকে লাগে লোকটার সুদর্শন কায়া,চেহারা।

ভেজা কাপড়ে সব স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে,এটা মাথায় আসলেই নুসাইবা পেছনে ফিরে।

“যেদিকেই ফিরো,আমি দেখছি। রোজ তো দেখিই সব ছাড়া! তাও লজ্জা?”

কাছাকাছি এসে মেয়েটার পেটের দিকে মোলায়েম স্পর্শ করলো। তারপর ধীরে ধীরে রূপসীকে আগলে নিলো আষ্টেপিষ্টে। মিশে গেলো দুইজনের কায়া। লোকটার নিশ্বাস অস্বাভাবিক। হাত এখন অবাধ্য হয়ে বস্ত্রের আড়ালে চলে যায়। একটু পরে অনুভব করে লোকটা সকল নিয়ন্ত্রণ তার আয়ত্তে নিয়ে নিচ্ছে। নুসাইবা নড়ে। হাত উঁচু করে লোকটার ঝুঁকে থাকা ঘাড়ে হাত রাখলো,

“এমন করছেন কেনো?”

“এরচেয়েও বেশি কিছু করতে চায় তোমার লম্পট হাজব্যান্ড। পারমিশন পাচ্ছে না বিধায়, ছাড় দিচ্ছে। নাহয়, এই শাওয়ার রুমে তোমার অ্যালুইরিং ভয়েসে কাঁদিয়ে আমার নাম হাঁকিয়ে তোমাকে ম্যাড বানিয়ে রাখতাম। জান…ক্যান ইউ ফিল মাই পেইন?”

লোকটা তার অধরের স্পর্শে মাতাল করলো মেয়েটার ঘাড়,গলার কিনারা। সাথে হাতের অবাধ্য উঠানামা বধূকে আরও মরিয়া করে তুলে। নুসাইবা অনুভূতির শীর্ষে। সেও চায় লোকটাকে তার হক বুঝিয়ে দিতে। কিন্তু,কোথাও যেনো মেয়েটা এখনো লজ্জায় হাঁসফাঁস করে। চোখের সামনে ভেসে আসে লোকটাকে তার আঘাত করে কথাবার্তা বলা। তার পূর্বের ব্যবহারের জন্যে নুসাইবা এখনো ভেতরে ভেতরে গুমড়ে থাকে।

“হুম…কিন্তু…আইএম সরি বেঞ্জ..বেঞ্জামিন.. আইএম রিয়েলি সরি।”

কান্নার শব্দ হয় রিরি। বেঞ্জামিন নিজেকে সামলে নেয়। তার অবাধ্য হাতের নাচন নুইয়ে আসে। সে দৃষ্টি স্বাভাবিক করে মেয়েটাকে তার দিকে ফিরিয়ে নেয়,

“হুশ হুশ লাভ,ডোন্ট ক্রাই। কি হয়েছে? সরি বলছো কেনো? তোমার উপর সবই.. আই ক্যান হোল্ড মাইসেলফ।”

“আমার আরেকটু সময় লাগবে প্লিজ…আপনি আমার সাথে রাগ করবেন না তো? আমার উপর বিরক্ত হচ্ছেন?”

নুসাইবা লোকটার উদোম বুকে গুটিসুটি মেরে লুকিয়ে যায়। বেঞ্জামিন মেয়েটার উন্মুক্ত পিঠে ছুঁয়ে রাখে বিশাল বাহুজোড়া। ভেজা মাথার তালুতে অধর স্পর্শ করে। এই মেয়ের সাথে সে রাগ দেখাবে? বিরক্ত হবে? মেয়েটা জানেই না তাকে দেখার পর থেকে যা যা হয়েছে তাদের জীবনে সবটাই ছিল বেঞ্জামিনের পরিকল্পনা। মেয়েটাকে পেতে সে হয়েছে কখনো হিংস্র তো কখনো খুনি,কখনো ম্যানিপুলেটর।

“নো বেবী। আমি সবসময় তোমার উপর সন্তুষ্ট। আমাকে তুমি টাচ করতে দাও ইচ্ছামতো এটাই আমার শান্তি। বাকিটা তোমার মর্জি অনুযায়ী হবে। ডোন্ট ক্রাই।”

বেঞ্জামিন বাথটবে উঠে। তাকে বুকে টেনে নেয়। দুজনেই শাওয়ার ফোমের মাঝে ডুবে যায় মুহূর্তে।

“আমি আরও অনেক কারণেই সরি বলছি আপনাকে। খারাপ ব্যবহার করেছি অনেক,সেগুলো আমি ভুলতে পারি না।”

মেয়েটা মন খারাপ করে বলে। বুকটা এখনো ব্যথিত। বেঞ্জামিন তার গাল আঁকড়ে নেয় বিশাল দুই তালুর মাঝে। চোখে চোখ মেলে দুজনার। মেয়েটা কেমন মায়াময়ী দৃষ্টি ভেজা। বেঞ্জামিন সেই দুই দৃষ্টিতে অধর ছোঁয়ায়,

“সরি দিয়ে কাজ নেই আমার। আপাতত আমাকে শান্তনা পুরস্কার পেতে দাও। লম্পট হতে দাও।”

লোকটার দৃষ্টিতে আফিম মেশানো। সেই দৃষ্টি নুসাইবার কম্পিত তনুতে রাজ করে। লাজে কুঁকড়ে উঠে নুসাইবা। তারপরও মনে শক্তি জোগাড় করে। নিজ থেকে এগিয়ে দিয়ে লোকটার পুরুষালি ঠোঁটে আঙুল ছোঁয়ালে বেঞ্জামিন তাকে বাথটাবের অপর দিকে মাথা না ডুবিয়ে শুইয়ে দিলো। পরপর নিজে উপস্থিত হয় প্রেয়সীর উপরিভাগে। মুখ ডুবিয়ে দেয় মেয়েটার উম্মত্ত সত্তায়।

________________

বেঞ্জামিন সচরাচর রাইস এভয়েড করে। কিন্তু বউয়ের হাতের রান্না সে কোনো কালে অগ্রাহ্য করার মতো পুরুষ না। যা যা বানিয়েছিল নুসাইবা সকল কিছু খায়। বউয়ের রান্নার প্রশংসায় ভাসিয়ে নেয়, ডাইনিংয়েই মেয়েটাকে কোলে বসিয়ে তার ঠোঁটে নিজের অধর জারি করে। সে খুব ভালো জানে,তার উপস্থিতিতে মেইড সকল হাজার মাইল দূরে থাকবে।

রুমে এসেই বেঞ্জামিন ফোনকলে ব্যস্ত হয়। মিটিংয়ের জন্যে তাড়া দেয় এলেক্সকে। ভার্চুয়াল ভয়েস মিটিং হবে। সে রুমের মধ্যেই থাকা অন্য দরজা দিয়ে মিটিং রুমে প্রবেশ করে। এরপূর্বে নুসাইবাকে সে ঘুম পারিয়েছে। কান্নাকাটি করায় মেয়েটার মাথাব্যথা হচ্ছিল। তাই বেঞ্জামিন কাজে নামার পূর্বে বধূকে বুকে টেনে ঘুম পাড়িয়ে দেয়।

তবে মিটিংয়ের মাঝে ডুব দিলে হঠাৎই অনুভব করে দরজায় কারো উপস্থিতি। ঘাড় বাঁকিয়ে পেছনে ফিরলে দেখতে পায় নুসাইবা দাঁড়িয়ে। ঘুমে ঢুলছে। পড়নে ক্রপ টিশার্ট আর ঢোলা ট্রাউজার। সামনের চুলগুলো দুলছে দুইদিকে। আর পেছনের চুলগুলো পনিটেইল করা। জিঞ্জার রঙের চুল তার সফেদ মুখোশ্রীতে কি অমায়িক! হাত উল্টে আড়মোড়া ভাঙলে টিশার্ট অনেকটা উঁচু হয়ে দৃশ্যমান হয় তার পেটের মধ্যখানে বেঞ্জামিনের দেওয়া স্পর্শের ছাপ।

বেঞ্জামিন মিটিং মিউট করে। নুসাইবা ইশারায় কথা বলতে পারবে কিনা জিজ্ঞাসা করলে বেঞ্জামিন তাকে হাতের তুলে কাছে ডাকে,

“এইদিকে আসো,রূপসী।”

নুসাইবা ঢুলতে ঢুলতে আসে। বেঞ্জামিনের ঘাড় জড়িয়ে ধরে কোমর বাঁকা করে,

“ঘুম ছুটে গেলো।”

“আমার হট এন্ড স্পাইসি টাচ ছাড়া ঘুম আসে না, হু?”

বেঞ্জামিন তার কোমরে হাত প্যাঁচিয়ে কোলে বসায় তাকে। মেয়েটা ধরা পড়লো একপ্রকার। তাও দৃষ্টি কিছুটা কঠিন করে জানালো,

“ইশ!লজ্জা নেই লোকের,বেলাজ।”

“আমি বেলাজ হলেও তোমার লাভ,আরামে ঘুমাতে পারো।”

বেঞ্জামিন হাসে। নুসাইবা লোকটার স্পর্শ পেয়ে কেমন হাই তুললো আবার। মানব বরাবরই সবকিছু সত্যি বলে, নুসাইবার সব কাজ সহজে বুঝে যায়।

সে বেঞ্জামিনের কাঁধে মাথা গুঁজে হাত টেনে লোকটার গালে আঙুল ঘষে,

“গুড বাই। ঘুমাচ্ছি।”

“ঘুমাও।যে পজিশনে বসেছো ঘুমালে তোমারই লাভ। নাহয় আমার মাথার তাঁর ছিঁড়ে গেলে রেহাই নেই তোমার মিসেস বেঞ্জামিন।”

মানব কথাটা বলেই মেয়েটার টিশার্ট উল্টে পিঠ স্পর্শ করে। নুসাইবা হেসে উঠে তার কথায়। পরক্ষণে কিসব বিড়বিড় করতে করতেই ওভাবে ঘুমিয়ে যায়। সে ঘুমিয়েছে বুঝে বেঞ্জামিন আবার কল আনমিউট করে। মিটিং যথারীতি চলতে থাকলেও বেঞ্জামিনের নিষ্পলক দৃষ্টি তার বধূর পানে। যে এখন তাকে আরাম করে ঝাপটে ধরে ঘুমাচ্ছে। নুসাইবার মুখের উপরের চুলগুলো সরিয়ে দেয় বেঞ্জামিন। ফিসফিস করে বলে,

“তোমাকে পাওয়ার জন্যে আমি কিসব বেপরোয়া কাজ করেছি,তোমাকে স্টক করেছি,ভয় দেখিয়েছি গোপনে.... সেইসব কিছুই তুমি কখনো জানবে না আমার জান। তুমি শুধু জানবে তোমার হাজব্যান্ড আরন বেঞ্জামিনকে,যে তোমাকে ভালোবাসে…লাইক এ ম্যাডম্যান।”

________________

নুসাইবা আজ ভোরেই ঘুম থেকে উঠেছে। বেঞ্জামিন তখনো মেয়েটাকে জড়িয়ে ঘুমে মগ্ন। প্রত্যেহ মেয়েটা তার আগে ঘুম থেকে উঠলেই লোকটার ঘুমের সৌন্দর্যে মজে যায়। ঠোঁট দুটো ঠিক নুসাইবার কপাল বা মাথায় ছুঁয়ে রাখবে। নাহয় বুকের মাঝে আটকে রাখবে দুই অধর।

আজ ভোরে উঠার কারণ তারা ট্যুরে যাবে। বেঞ্জামিনের ফ্রেন্ড সার্কেল অনেক আগে থেকেই প্ল্যানিং করছিল। মূলত একেকজন একেক দেশে থাকায় সেটা হয়ে উঠছিল না। অবশেষে “এবি টুয়েন্টি টু” ফ্রেন্ড সার্কেলের মোটে বারোজন একত্রে জড়ো হলো। তাও সবাই পার্টনার নিয়ে। বাকিরা এখনো বিভিন্ন দেশে আটকে রইলো।

সেই তাড়নায় নুসাইবা ব্যাপক খুশি। যদিও বেঞ্জামিনের সাথে রাশিয়ার টাউনে প্রায় সকল জায়গায় যাওয়া হয়েছে কিন্তু গ্রামের দিকে যাওয়া হয়নি। “ফায়ারল্যান্ড”(কাল্পনিক নাম) নামক গ্রাম তাদের ডেস্টিনেশন। সেখানে বেঞ্জামিনের ক্রয় করা বেশ কয়েকটি প্লট আছে। ওখানের একটার ফার্ম হাউজে তারা উঠবে। সেখান থেকেই বিভিন্ন জায়গা এক্সপ্লোর করবে পরে।

নুসাইবা শাওয়ার নিয়েই একপাশে রাখা লাগেজ সকলে চোখ বুলিয়ে নেয়। অতঃপর ক্লজেট থেকে পূর্ব থেকে নির্ধারণ করা পার্পল রঙের সিল্ক ডিজাইনিং গাউন বের করে। সাথে একটা হোয়াইট স্কার্ফ। ভালো কিছু সিম্পল জুয়েলারিতে একে একে নিজেকে সাজায়। চুল থেকে তাওয়াল সরিয়ে হেয়ার ড্রায়ার অন করলে পেছন থেকে বেঞ্জামিন তার হাত থেকে সেটা নেয়,

“আমাকে ছেড়ে শাওয়ার নিয়েছো,আবার রেডি’ও হচ্ছো? নট ফেয়ার।”

“আপনার সাথে শাওয়ার নিলে আর গোসল থেকে বেরুনো হতো না। জলদি করুন। দেরী হচ্ছে।”

নুসাইবার চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক। তড়িঘড়ি করে সে ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকানোর মাঝে বেঞ্জামিনের দিকে আড়চোখে তাকায়। কিছু বলার পূর্বেই লোকটা তার অধরের মাঝে নিজেকে সঁপে নেয়। পরপর বলে উঠে,

“লুকিং সো ফাকিং মাইন,ওয়াইফি।”

নুসাইবা মুষড়ে উঠে। জবাব দিতে পারে না। মেয়েটা তো তারই। আরন বেঞ্জামিনের। লজ্জিত ভঙ্গিমায় মানবী নিজের কাজে মন দেয়। বেঞ্জামিন ওয়াশরুমের দিকে এগোয় তখনই।

ব্রেকফাস্ট সেরে তারা গাড়িতে উঠে। ড্রাইভার ড্রাইভ করলো আজ। মূলত সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে ওপারের গ্রামে পৌঁছাবে তারা। গাড়ি থামলে নেমে পড়ে তারা দুজন। নামা মাত্র কয়েকটা লোক হইহুল্লোড় করে এগিয়ে আসে। জড়িয়ে ধরে বেঞ্জামিনকে। বেঞ্জামিনের মুখ অতিখুশীতে রঞ্জিত না। স্বাভাবিক কুশল বিনিময় করল। তবে বাকিদের যেনো খুশির সীমানা নেই। নুসাইবা অবাক হয় না। সে জানে,লোকটা কেবল তার সামনেই একমাত্র প্রাণখুলে হাসে। তাই বলে বন্ধুদের সাথেও না!

বেঞ্জামিন নুসাইবাকে হালকা আড়াল করে পরিচয় করিয়ে দেয়। মেয়েটা স্বামীর বাহু আঁকড়ে ধরেই ইংরেজিতে কমিউনিকেশন করে সবার সাথে। বন্ধুদের বউয়েরা সবাই রুশ হলেও ভালো ইংরেজি জানে। তারা নুসাইবার সাথে খুব আদর করে পরিচয় হয়। বয়সে মেয়েটা সবার ছোট। মেয়ে ছেলে সবার গায়েই ট্যাটু। মেয়েদের পোশাক একটু খোলামেলা। তবে নুসাইবা খেয়াল করলো বেঞ্জামিন একটাবারের জন্যে বন্ধুর বৌদের সাথে না কথা বললো না তাকালো! সে কেবল মেয়েটার পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইলে মগ্ন। একটু পর পর নুসাইবার পানেই দেখছে।

মেয়েদের পোশাক যেমন হোক না কেনো,তারা মনের দিক দিয়ে ভালো। তাই নুসাইবা তাদের সাথে স্নেহপূর্ণ আচরণ করলো। সমুদ্রের জল জাহাজের গায়ে বারি পড়লে অদ্ভুত ভালো লাগার শব্দ হয়। মাঝে মাঝে আশেপাশের কিছু জাহাজও দুরত্ব নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আকাশ আর সমুদ্রের একটা দারুণ দৃশ্যে চোখ যেনো ঝলসে যাচ্ছে।

মেয়েটা প্রকৃতির মাঝে হারানোর মধ্যে সকলের সাথে কথায় ব্যস্ত। কয়েকজন তো তাকে জিজ্ঞাসা করলো হানিমুনে কোথায় কোথায় যাওয়া হয়েছে। বেচারা নুসাইবা কেবল রাশিয়ায় যেখানে যেখানে গিয়েছে সেসবের নাম বললো। আর ডিটেইলস জানানো হয়নি।

মারজেন্ট বন্ধু সকলের বউয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আপন হয়ে যায় নুসাইবার। টুকটাক বাংলাও পারে। আরও অনেক ভাষা জানে সে। সহসাই কথার ফাঁকে মারজেন্ট তাকে ইংরেজিতে জিজ্ঞাসা করে,

“তোমাদের ওয়েডিং রাশিয়ায় কখন হবে?”

“হওয়ার কথা ছিল। বাট আমার বোন প্রেগন্যান্ট হয়ে যাওয়ার কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়। এই সময়ে ওর প্লেনে লং জার্নি সেফ না। এখন ওর তিনমাস চলছে। আর দুইমাস পরেই আসবে। তখন হবে অনুষ্ঠান।”

নুসাইবা জানায়।

“ওয়াও। তো তোমাদের প্ল্যানিং কি? কখন নিবে তোমরা বেবী?”

কথাটা শোনামাত্র নুসাইবার নাক গাল রক্তিম হয়। চাপা হাসিটা ভেসে উঠে মুখে। হঠাৎই এক বিশাল অনুশোচনা তাকে গ্রাস করে। নিচের ঠোঁট চুলকে সে বলে উঠে,

“উনি যখন চায়।”

“আহ, হাউ কেয়ারিং! তুমি অনেক আদুরে কিন্তু।”

বলে সে গালে আলতো করে হাত রাখে।

টুকটাক কথাবার্তার মাঝে মিশেল আরেক বন্ধুর স্ত্রী সকলের জন্যে কিছু কাপড় দেয় গিফট হিসেবে। নুসাইবা হাত টেনে ধন্যবাদ জানিয়ে সেটা নেয়। তাদের পাশে এক এক করে অন্য মেয়েরাও এসে আড্ডায় মগ্ন হয়। তবে নুসাইবার দৃষ্টি অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা মানবের পানে। যার হাতে সিগার। ধোঁয়া উড়ছে। বন্ধুদের সাথে কথার ফাঁকে বউয়ের দিকে মোলায়েম দৃষ্টির মাপটা নুসাইবা ভালো বুঝে। ইশারায় তাদের কথা হয়। নুসাইবা বুঝায় ইশারায়, সে কমফোর্ট ফিল করছে। বেঞ্জামিন কিঞ্চিৎ অধর প্রসারিত করে। সেই হাসিতে নুসাইবার উত্তাল মনে আরো তুফান উড়ে।

বেশ কিছুক্ষণ পর বেঞ্জামিন এগিয়ে আসে তার দিকে। অনেকটা দূরত্ব রেখেই ডেকে উঠে মেয়েটাকে,

“সাইবা,কিছু খাবে আসো।”

নুসাইবা কথায় মগ্ন ছিল। স্বামীর ডাকে তার সম্ভিত ফিরে। সে এগিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলে,

“সবার সাথে খাবো না?”

“নো। কেবিনে বসে আরাম করে খাবে।”

বেঞ্জামিন তার হাত ধরে। নুসাইবা বাকিদের হাত নেড়ে বিদায় জানায়। নুসাইবা ভেবেছিল বেঞ্জামিন তার আরামে খাওয়ার জন্যে কেবিনে নিচ্ছে। অথচ সে জানেই না, কারো কোনোরকম দৃষ্টি সে তার বউয়ের উপর পড়তে দিবে না। সবার সাথে টুরে এসেছে ঠিক,তবে সে বউয়ের জন্যে ঢাল হয়ে থাকবে আজীবন,এইখানেও।

নুসাইবা কেবিনের বিশাল আয়নায় নিজেকে পরখ করে। মাথার উপর স্কার্ফ ঠিক আছে। কিন্তু তার চুলগুলো প্যাঁচিয়ে গিয়েছে সমুদ্রের বাতাসের জন্যে। সে স্কার্ফ খুলে চুলে আঙুল ছুঁয়ে প্যাঁচ ঠিক করে। বেঞ্জামিন তাকে কেবিনে দিয়ে খাবার আনতে গিয়েছিল। এইখানে বুফে সিস্টেম। তাই লোকটা বউয়ের পছন্দ অনুযায়ী খাবার আনে প্লেটে।

খাবার দেখে নুসাইবার খুশির মাঝে লুকিয়ে থাকা খিদে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। দুজনে মিলে খেতে বসে ডাইনিংয়ে। কেবিনে ভেতরে এপার্টমেন্টের মতো। প্রত্যেকটা জিনিসের জন্যে আলাদা রুম আছে। খাওয়া শেষ হতে না হতে বেঞ্জামিনের ফোন আসে। অস্ত্রের ব্যাপারে বিশাল আলোচনা হওয়ায় সে নুসাইবাকে “ইমার্জেন্সী কল,পিক করে বেডরুমে আসছি। ফ্রেশ হয়ে নাও তুমি।”

কথাগুলো বলে অন্যরুমে যায়।

নুসাইবা বেডরুমে গেলে সবার প্রথমে চোখ পড়ে মিশেলের দেওয়া সেই গিফট এর কথা। সে দৌড়ে গিয়ে সেই গিফটের প্যাকেট থেকে ড্রেস বের করলে চোখ কোটর থেকে উপড়ে আসার উপক্রম। একটা শর্ট ড্রেস। তাও অনেক বেশি বড় নেক ডিজাইনের। পড়লে কেমন লাগবে এটা? ভাবলেই নুসাইবার গলা শুকিয়ে আসে। তাও এটা একবার পড়ে দেখার লোভ জাগে অন্তরে। বেঞ্জামিন ফিরতে দেরি হবে ভেবে সে দরজা না লাগিয়েই দ্রুত ড্রেসটা নিজের গায়ে জড়াতে শুরু করে।

সম্পূর্ণ পড়ার পর নুসাইবা নিজের দিকে আর তাকাতে পারলো কই? আয়নায় সরাসরি দৃষ্টি মিলে তার প্রাণের সাথে। লোকটা যেনো পলক ফেলতে ভুলেছে। তার পড়নের টিশার্ট আগে থেকেই কাঁধে ঝুলছিল। যেটা তার সাথে দৃষ্টি মেলায় পর মাটিতে গিয়ে পড়ে।

বেঞ্জামিনের মুখে হাসি নেই,কোনো কথা নেই মুখে। কেবল চোখ জোড়া জ্বলজ্বল করছে। যেই চোখের দৃষ্টি নুসাইবা পড়তে জানে।

মেয়েটা মুখে হাত রাখে। পরক্ষণে বুকের দিকে ঢাকতে নিলে বেঞ্জামিন এসে তার হাত ধরে ফেলে। তাকে আয়নার সাথে মিশিয়ে নেয়। দুইহাত নিজের একহাতে আঁকড়ে ধরে, আরেক হাতের আঙুল দিয়ে আঁকিবুকি করে উন্মক্ত হয়ে থাকা নরম অবয়বে। নুসাইবা শিরশিরিয়ে উঠে। বুকের উঠানামা অস্বাভাবিক।

বেঞ্জামিন ঝুঁকে তার উচ্চতা বরাবর। নামিয়ে রাখা মুখটা নিজের মুখের সাহায্যে ঠেলে নেয়। গালে গাল ঘষে। ড্রেসের একপাশ আঙুল দিয়ে টেনেই সরিয়ে ফেলে। নুসাইবা আর্তনাদ করে অল্প। আবেশে তার পা কাঁপছে। অথচ বেঞ্জামিন তার সাথে আরও লেপ্টে যায়। অধর ছুঁই ছুঁই করে গভীর নিচু সুরে আওড়ায়,

“এই প্রথম আরন বেঞ্জামিন আজ কথার খেলাফ করবে। আরন বেঞ্জামিন ইজ এ ওয়ান ওয়ার্ড ম্যান। বাট ফর ইউ,হি ইজ এ ফাকিং ইরোটিক বাস্টার্ড…মাই লিটল সে₹ বাটারফ্লাই। এই মুহূর্তে আমি সীমাহীন লম্পট,বেলাজ,বেহায়া হবো এন্ড আজীবন এটা চলমান থাকবে।”

চলবে…..

কপি করা নিষেধ।

ফাইনালি ওদের লিখলাম। কেমন হচ্ছে অবশ্যই জানাবে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন