ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম শৃঙ্খলে রুদ্ধ রূপসী

২৪তম পর্ব

লেখক: সালসাবিল সারা

#প্রেম_শৃঙ্খলে_রুদ্ধ_রূপসী

পর্ব - ২৪

লেখিকা: সালসাবিল সারা

(কপি করা নিষেধ)

__________________

“এই প্রথম আরন বেঞ্জামিন আজ কথার খেলাফ করবে। আরন বেঞ্জামিন ইজ এ ওয়ান ওয়ার্ড ম্যান। বাট ফর ইউ,হি ইজ এ ফাকিং ইরোটিক বাস্টার্ড…মাই লিটল সে₹ বাটারফ্লাই।”

বেঞ্জামিনের নিচু সুর আর কন্ঠে অস্থির মাতলামোতে কেবিনের বেডরুম যেনো এক শিহরণ ছড়িয়ে দেয় চারিদিকে। বেডরুমের সাথে লাগানো ছোট গোলাকার জানাগুলো বন্ধ। তবে জাহাজের গায়ে পানির ছটাক শব্দ এখনো স্পষ্ট ভেসে আসছে। সেই শব্দের সাথে বেঞ্জামিনের গভীর ভোকাল তছনছ করে নুসাইবার সত্তা। এইযে লোকটা তার অধরের সামনে কিছু ইঞ্চির দুরত্ব রেখেছে,অথচ দৃষ্টি! দৃষ্টিতে বিষ মেশানো। যেই বিষে নুসাইবা নিজের ভেতরকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে না। মুহূর্তে সে বেঞ্জামিনের নজরের মধ্যে হামলে পড়তে চাচ্ছে।

গলা শুকিয়ে আসে মেয়েটার। হাত দুইটি এখনো বেঞ্জামিনের শক্ত পাঞ্জার মধ্যে আটকে। বুকের উঠানামা কমাতে চাইলেও পারলো না। লোকটার নজর একবার তার চোখ,ঠোঁটে তো আরেকবার….ভাবতে পারলো না নুসাইবা। অধর কাঁপিয়ে মুখে পাশে ফিরতে নিলে বেঞ্জামিন তার ছোট্ট মুখখানা হাতের আজলে তুলে নেয়,

“ভয় লাগছে?”

নুসাইবা শব্দ করে না। সে মনে মনে লোকটাকে চায়,নিজের চেয়েও বেশি চায়। তবে…তবে কিসের জন্য তার মুখ বন্ধ সেটা নুসাইবা বুঝতে চেয়েও প্রকাশ করতে হিমশিম।

“বলো সাইবা? আমার রোমান্সের কথা শুনে ভয় হচ্ছে?”

ফিচেল একটা হাসি। মনস্টার লোকটার চোখের পাশে ভাঁজ পড়ে। সচরাচর তার প্রতি মানবের যত্নের সাথে লোকটার এমন হাসিতেই নুসাইবা লোকটার প্রতি প্রথম গলতে শুরু করেছিল। যেটা এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে জমে ক্ষীর। বেঞ্জামিন আর পুরো দুনিয়ার মধ্যে যেকোনো একটিকে পছন্দ করতে বললে নুসাইবা সামনের এই লোকটাকেই করবে। এর কারণ? হাজারটা! কিংবা তারচেয়েও বেশি।

মনে সহস্র অনুভূতি লুকানো মেয়ের। কিন্তু মনের মাঝে সুপ্ত বাসনা নিয়ে এইবার রমণী মুখ খুলে,

“সত্যি একটা কথা বলুন…আমার মতো সাধারণ একটা মেয়েকে ভালোবাসার কারণ কি?”

নুসাইবা ভেবেছিল বেঞ্জামিন এটার উত্তর যেভাবে কখনো দেয়নি,আজও দিবে না। সে অজান্তেই প্রশ্নটা করে। মনে হলো,লোকটার সাথে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান প্রহর শুরু করার পূর্বে ব্যাপারটা নিয়ে আরেকবার কথা বলা যাক!

তাকে অবাক করে দিয়ে বেঞ্জামিন তার কোমর আঁকড়ে ধরে। হাত দুটো মুক্ত হয়। বেঞ্জামিনের হ্যাঁচকা টানের সাথে তাল মেলাতে না পেরে নুসাইবা লোকটার পিঠ খামচে ধরে আলগোছে। পরপর নিজেকে আবিষ্কার করে তার প্রাণের কাঁধের উপর।

প্রশস্ত সেই কাঁধে নুসাইবা খুব সহজে আটকে রয়।

“নামিয়ে দিন। পড়ে যাবো!”

মেয়েটা কিছুটা আর্তনাদ করে।

বেঞ্জামিন তাকে নরম মখমলের চাদরে নামায়। শর্ট সেই ড্রেস তখন উরুর অনেকটা উপরে উঠে যায়। নুসাইবা সেটা ঠিক করতে নিলে বেঞ্জামিন সেখানে অধর ছোঁয় অত্যন্ত গভীর ভাবে। নিজের চিহ্ন দিতেও ভুলে না।

“শান্ত হোন..আমি এমনি জিজ্ঞেস…”

মেয়ের কথা শেষ হয় তখনি অথচ বাক্যটা ইতি টানল না। বিছানার কিনারায় তার সামনে ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে মনস্টার। শরীরের সকল পেশী টানটান। চুলগুলো একদম বসে রইলো নির্বিঘ্নে। দৃষ্টি জোড়া নিভুনিভু। ফুলে থাকা দুই বাহু কোমরের সাথে ঠেস দিয়ে রইলো। শ্বাস চলমান এলোমেলো। জিহ্বা দিয়ে উপরের ঠোঁট ভেজায়। অতঃপর বিছানায় গা ঘেঁষে নুসাইবার সত্তার দৃশ্যমান স্থান একেবারে উন্মুক্ত করে দিয়ে আওড়ায়,

“আইস…ইওর আইস…তোমার দুই চোখ আমাকে মেরে ফেলেছিল প্রথম দিনেই।”

নুসাইবা কুঁকড়ে উঠে। লোকটার পালোয়ান হাত সরাতে চেয়েও থেমে গেলো তার পেলব আঙুলগুলো। ভেতরটা অস্থির হয়ে গান করে।

“মানে? আমার ফেস না দেখেই..শুধু চোখ…”

“হেল ইয়াহ,লাভ।”

বেঞ্জামিন বিছানার সাথে লেপ্টে মেয়েটার সাথে লতাপাতার মতো জড়াতে শুরু করলো।

“অর্থাৎ, যেটা আমার জন্যে ফোর্সড ম্যারেজ ছিল,সেটা আপনার জন্য…”

“লাভ ম্যারেজ? উহু…অবসেশন ম্যারেজ। আমার জন্যে আমাদের বিয়েটা অবসেশন ম্যারেজ।”

বেঞ্জামিন এইবার উঠে দাঁড়ায়। সরে অনেকটা দূরত্বে। ঢিলে হয়ে থাকা প্যান্টের বেল্ট টাইট করে। নুসাইবা শুকনো ঢেঁকুর গিলে।

“কি বলছেন? বিস্তারিত জানতে চাই আমি।”

মেয়েটা নামে বিছানা থেকে। চোখেমুখে বিস্ময়। তার সেই গোলগোল নজর বেঞ্জামিনের হজম হয় না। সে উল্টো দিকে ফিরে কঠিন শব্দে আওড়ায়,

“সেইসব আমার ভেতরেই থাকুক।”

নুসাইবা আর এগোয় না। পা থমকে রাখে বেশ দূরেই। লোকটার পিঠের ট্যাটু জ্বলজ্বল। সেখানে একটা চুমু দিতে ভীষণ ইচ্ছে করছে। মানব তার জন্যে কেমন উন্মাদনায় ভরপুর আর সেখানে কিনা সে লোকটাকে যা তা বলেছিল,ব্যবহার ছিল মেয়েটার অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ!

নুসাইবার আবারো অনুশোচনায় বুকটা ভরে উঠে।

“ঘুমাবে কিছুক্ষণ? নাকি বাহিরে যাবে?”

বেঞ্জামিন প্রসঙ্গ পাল্টায়। জাহাজের দেওয়ালে লেপ্টে থাকা ছোট গোলাকার জানালার পর্দা সরিয়ে বাহিরে দেখে। উঁচু ঢেউ ব্যতীত বাকিসব ধোঁয়াশা।

“সরি।”

একটা ভাঙ্গা কন্ঠ। অশ্রু মিশ্রিত।

বেঞ্জামিন পর্দা টেনে দ্রুত পেছনে ফিরলে অনুভব করে বুকের সাথে লেপ্টে গেলো একটা ছোট রমণী। নিজ পালোয়ান দেহের সামনে যেটি অত্যন্ত পেলব,আদুরে। বেঞ্জামিন তাকে টেনে কোমরের সাথে আটকে নেয়।

পিঠে হাত বুলিয়ে মোলায়েম অথচ কঠোর কন্ঠে আওড়ায়,

“কি হয়েছে,লাভ? হু? ভয় হচ্ছে? পরে হবে সব। আমি কন্ট্রোল করছি তো নিজেকে। ঘুমাবে?”

হৃদপিণ্ড হড়বড় করে লোকটার। নিজেকে সামলানোর সত্যি ব্যাপক মুশকিল। আদুরে একটা ছানা তার বধূ। মেয়েটা বেঞ্জামিনের আফিম। মেয়েটা তখন ঐ প্রশ্ন করার ছলে সে বুঝে, বধূ তার প্রস্তুত নয়। যদিও সে রেড ফ্ল্যাগ-সিগমা মেল,কিন্তু তার রূপসীর শরীরে মেয়েটার অনিচ্ছায় দখল করার মতো পুরুষ সে না। এত মাসে কত কোটি বাসনা জেগেছে মেয়েটাকে নিয়ে, কতরাত মেয়েটার বুকেই মাথা রেখে সেই বাসনার সাথে ছলনা করে পার করেছে সেটা কেবল তার জানা।

বেঞ্জামিন আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে প্রেয়সীর কোমর। এক পর্যায়ে হেঁটে বিছানায় বসে তাকে কোলে নেওয়া অবস্থায়।

“আমি সরি…আমার বিহেভিয়ারের জন্যে সরি। আপনি আমার জন্যে কেমন অনুভূতিতে ডুবে ছিলেন আর আপনাকে আমি চড় অব্দি দিয়েছিলাম। আমি কিভাবে ভুলব এগুলো? আমাকে মাফ করেছেন তো আপনি? আই লাভ ইউ বেঞ্জামিন। আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ,আমি আপনাকে ভালোবাসি।”

মেয়েটা যেনো খেঁয় হারিয়ে ফেলে নিজের। জড়িয়ে ধরাটা এমন প্রখর করলো তার থুতনি লোকটার কাঁধে দেবে যায়। নখের আঁচড় লাল করে মানবের পেশীবহুল পিঠ।

বেঞ্জামিন চোখ বুঝে। একটা শান্তি তার বাসনার মাঝে সূর্যের চেয়ে প্রখর হয়ে উঁকি দেয়। নিচের ঠোঁট কামড়ে শান্তির শ্বাস ফেলে। ভ্রু জোড়া বুঝাচ্ছে কেমন তার মুখের অভিব্যক্তি। কামনায় লাল হওয়া চোখ দুটো এখন নেশালো হয়ে উঠে। সে ঘাড় আঁকড়ে নেয় রূপসীর।

মেয়েটা হিঁচকি তুলে কাদঁছে। বেঞ্জামিন গলা নামিয়ে আনে নিচে। কপালে কপাল ঠেকায়। বধূর অশ্রু গাল দিয়ে ঘষে মুছে। এই কথাগুলো শোনার জন্যে সে কতটা ব্যাকুল ছিল,কত কী করেছে সেটা কেবল নিজ সত্তার জানা।

“সে এগেইন…সে এগেইন সাইবা।”

দরদর শব্দ করে মানবের নিঃশ্বাস।

“আই লাভ ইউ,বেঞ্জামিন।”

কথাটা শেষ করার পরপরই বেঞ্জামিন নিজেকে সামলাতে পারল না আর। মেয়েটার কম্পিত অধরের ভাঁজে দখল করায় তার পুরুষালি অধর। হাতের স্পর্শে মেয়েটা টালমাটাল। অন্য হাতে কোমর টেনে মেয়েটাকে আরও গভীরে নেয় সে।

নুসাইবা তাল মেলাতে হিমশিম। অথচ নিজের সকল অনুভূতি প্রকাশ করে কেমন শান্তির নীড়ে সে। দুইহাত জড়িয়ে নেয় লোকটার ঘাড়।

ঘন শব্দ,আর নিঃশ্বাসে বেঞ্জামিন হারাচ্ছে নিজের হুশ। সে বধূর কাপড় টেনে নামায়। অধরের স্পর্শে উত্তাল করে দুজনার মাঝের অবস্থা।

নুসাইবা আর্তনাদ করে। হাপিয়ে উঠে। লোকটার দৃষ্টির সাথে দৃষ্টি মেলানোর সাহস করে না। বাহুতে কঠোর নখ দাবিয়ে ফেলে সে। বেঞ্জামিন “ইয়াহ জান…ওহ শিট! হেল নো!” এতটুকু বলে দূরত্ব সৃষ্টি করে।

নুসাইবা বিছানায় নুয়ে। বেঞ্জামিন তার উপর আধশোয়া। কায়া দৃশ্যমান। ঘাম চিকচিক করছে শক্ত মাংসের আড়ালে।

এই যাত্রায় নুসাইবা চোখ খুলে পিটপিট করে। বেঞ্জামিনের নাক,চোখ অত্যন্ত রক্তিম। দৃষ্টি কেমন ঝাঁঝালো। নিশ্বাসের প্রখরতায় তার বিশাল দেহ কেমন ছারখার!

“আর ইউ ওকে,জান? বুকে কেটেছে। জ্বলছে বেশি?”

বেঞ্জামিন চোখ আধা বন্ধ করে অল্প,আবারও খুলে অত্যন্ত কামুকতায়।

নুসাইবা বুঝলো লোকটা তার অনুমতির অপেক্ষায়। লোকটা এমন মনকাড়া কেনো? প্রশ্নও করলো না, কোনো চাহিদার খোরাক করলো না,কেমন অধিকারবোধের নাম দিয়ে ভোগ করলো না। যত্ন,চিন্তা,ভালোবাসা,পাগলামি এইসবই দেখিয়েছে,এখনো দেখাচ্ছে!

খুব মায়া লাগলো নুসাইবার। বিয়ের আগে থেকেই লোকটা তার প্রতি দুর্বল,উন্মাদ। তারপর বিয়ে হলো,তাদের মাঝে মেয়েটা দুরত্ব রেখেছিল। অনুভূতির যে অভাব ছিল!

কিন্তু এখন? এখন সেইসব অতীত। লোকটা তাকে কতটুকু চায় সে জানেনা,তবে মেয়েটা তাকে চায়। নিজের মাঝে প্রাণের সত্তার বিচরণের কারণে ধুকধুক করে হৃদয় অরণ্য।

সে দুইহাত বাড়িয়ে দেয়। ইশারায় লোকটাকে কাছে ডাকে। বেঞ্জামিন হাত ধরে তার। গালে স্পর্শ করায় প্রিয়তমার তালু,

“বলো জান!”

“আমাকে ক্ষমা করেছেন তো?”

“কেনো বুলশিটস বলে আমার মেজাজ খারাপ করো, সাইবা? ফার্দার এমন প্রশ্ন করলে আমি তোমার কোনো বাঁধা,মানা কিছুই শুনবো না। নিজের অস্তিত্বে জড়িয়ে তোমায় ধ্বংস করবো।”

লোকটা গালে তখনো হাত ঘষে যাচ্ছিল।

“করুন।”

ছোট্ট করে আওড়ায় নুসাইবা।

বেঞ্জামিন যেনো কানে ভুল শুনলো। এক মুহূর্তেই তার চেহারার নকশায় চাকচিক্য সাথে কামুকতা স্পষ্ট হয়। নুসাইবার গা রিরি করে। তাও নিজেকে বুঝিয়ে যাচ্ছে সে সমানতালে। সুঠামদেহী বেনজামিনের কাঁধ দুলে। দাঁতের সাথে দাঁত পিষে। ওভাবেই আধশোয়া অবস্থায় কক্ষে প্রতিধ্বনিত হয় লোকটার অমায়িক মাধুর্যের কন্ঠস্বর,

“কি বলছো বুঝে বলছো তো? যেটা করতে বলছো সেটা আজকের পারমিশনে আনলক হবে। কিন্তু আর কখনোই তোমার পারমিশনের জন্যে অপেক্ষা করব না আমি। সো…”

“হুম, জা…নি।জে…নে ব…লছি।”

নুসাইবা থেমে থেমে উত্তর দেয়। উত্তাপে তার পুরো শরীর নড়ছে। অনুভব করছে তার পুরুষের অবস্থান,তার চঞ্চলতা,তার বেপরোয়া সত্তা।

“ডু ইউ ওয়ান্ট মি,লাভ?”

বেঞ্জামিন হাসে। বক্র অধরের সেই মন মাতানো। আঁখির তেজ বড্ড শিরশির অনুভূতিতে হন্য করছে।

নুসাইবা নিজের সকল লজ্জা পায়ে পিষে। অস্ফুট সুরে আওড়ায়,

“ইয়েস।”

এতটুকু বাক্য আর ঝড়ের বেগে বেঞ্জামিন তার ভালোবাসার সাথে মিশিয়ে নেয় নিজেকে আষ্টেপিষ্টে। বেপরোয়া হয় তার প্রত্যেকটা স্পর্শ। যেই স্পর্শ সহ্যের বাহিরে নাজুক মেয়েটার। রমণী হাঁপিয়ে উঠে। সামলানোর চেষ্টায়। কিন্তু তার পুরুষ! সে তো এক পাগলাটে আশিক। যে প্রিয়তমার প্রত্যেকটা অংশে তার নামের দলিল লিখছে।

নুসাইবা কেঁদে হয়রান। সে আসলেই সুঠাম মানবকে সামলাতে হিমশিম। তার গালে লেপ্টে রইলো অশ্রুজল। বেঞ্জামিন চেয়েও নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলো না। দুমড়েমুচড়ে ফেললো তার আসক্তিকে। মেয়েটার গালে কপালে স্পর্শ করে বেঞ্জামিন, আফিম মেশানো কন্ঠে বলে,

“ডোন্ট ক্রাই,ডোন্ট ক্রাই। এইতো…পরেরবার থেকে পেইন কমে যাবে। একদমই হবে না।”

“ইটস বার্নিং বেঞ্জামিন.. উমমম…পেইন হয়। প্লিজ….”

“ডোন্ট স্যা প্লিজ জান। এইক্ষেত্রে তোমার প্লিজ আমি কখনো শুনবো না। নেভার…রূপসী আমার রূপসী। “

লোকটা আরও খেয় হারায়। কক্ষজুড়ে তাদের মধুর গুঞ্জন। মানবের উত্তপ্ত শ্বাসে,অবাধ্য ছোঁয়ায় ভস্ম হয় তুলতুলে মানবী। ধ্বংস করে লোকটা ভালোবাসার ছোঁয়ায় মেয়েটার নরম কায়া। অতঃপর নিজের বুকে উঠিয়ে নেয় তার প্রেয়সীকে।

অধরের ছোঁয়া পড়ে মেয়েটার অগোছালো রেশম চুলে। নুসাইবা চোখ বন্ধ করে রয়। শক্ত বাঁধন তার লোকটার গলার নিচে। গুটিসুটি হয়ে রইলো।

“আর না আর না” বলে কি লাভ হলো হু? উল্টো তোমার সেই সে₹ সুরে আমি আরও ম্যাড হয়েছি। কষ্ট পেয়েছো তুমি।”

বেঞ্জামিন বৃদ্ধাঙ্গুল পিঠে ঘষে। চোখেমুখে তৃপ্ততা। নুসাইবা দৃষ্টি মেলে পিটপিট করে। লোকটার এমন সুদর্শন চেহারায় তৃপ্ততা দেখে হিয়া পূর্ণ। সে এহেন ব্যথার মাঝেই অধর প্রসারিত করে,

“ইশ,লম্পট একদম। কি বেহায়া!”

“ইয়েস। অল ইয়োর্স।”

বেঞ্জামিন তাকে আরও গভীরে আলিঙ্গন করে। এরমাঝে মেয়েটা ব্যথায় নড়ে। অবস্থা করুণ বুঝে সে উঠে বসতে চায়। এরপূর্বে বেঞ্জামিন নিজে সতর্ক হয় দ্রুত।

“আসো,আমি ক্লিন করছি।”

পরপর লোকটা তাকে ওয়াশরুমে নেয়। দুইজনেই গোসল সাড়ে দ্রুত। তবে সেখানেও রমনীর রক্ষে হয়নি। প্রিয়তমের স্পর্শে নাজুক মেয়ে আরো নুইয়ে পড়ে। নুসাইবা পা ফেলার মধ্যে নেই। তাকে বেঞ্জামিন কোলে তুলে আলগোছে। কাউচে রাখে। পরপর সবটা পরিষ্কার করে এই রুশ মনস্টার। কে বলবে লোকটা চোখের পলকে হিংস্র হয়ে জনে জনে হত্যা করে? তাও নিশৃংস হত্যা! অথচ এখন সে বউয়ের চোখে সবচেয়ে সুপুরুষ, নির্ভয়ের স্থান।

সবকিছু নতুন করে বিছিয়ে নিলে বেঞ্জামিনের ফোন বেজে ওঠে। নুসাইবা ওভাবে সোফায় অস্থির হয়ে পড়ে হয়। লোকটা রুশ ভাষায় কিছু বলছে। বুঝলো না সে। কিন্তু এটা আয়ত্বে এসেছে লোকটার কন্ঠ বড্ড কর্কশ। অত্যন্ত রেগে। ক্রোধে উন্মত্ত।

সে নরম কণ্ঠেই অন্য রুম থেকে জিজ্ঞাসা করে,

“কি হয়েছে?”

বেঞ্জামিন উত্তর দেয়নি তখন। তবে,সামনে এসে মেয়েটাকে কোলে তুলে নেয়। তাকে টিশার্ট আর জিন্স পড়ুয়া দেখে নুসাইবা আবারো প্রশ্ন করে,

“কোথায় যাবেন?”

“রেস্ট নাও। আমি আসছি। আমি না আসা অব্দি দরজা খুলবে না। ড্রয়িং রুম ছাড়া কোথাও নড়বে না।”

বেঞ্জামিন তাকে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে। নুসাইবা তার খরশান গালে হাত ছোঁয়ায়,

“আমার ঘুম এসেছে। একটু থাকুন?”

বেঞ্জামিনের মনের বরফ গলে। সে হাত ঘড়িতে সময় মেপে নুসাইবাকে কোলে শুইয়ে দেয়। পরপর হাত বুলাতে থাকে মেয়েটার ঝলমলে কেশে,

“সারাজীবন আছি।”

নুসাইবা অল্প হাসলো মুচকি। অনুভব করে লোকটা গভীরভাবে তার ঠোঁটের মাঝে হামলে পড়েছে। সেও সায় দিলো। পরপর রমণীর যন্ত্রণায়, মোহে,আবেশে দৃষ্টি জোড়া জ্বালা করে। চোখ বুঁজে সে। পরম আদরে যার কোলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে মেয়েটা জানেই না লোকটা এক উন্মত্ত কিলিং মনস্টার। যে এখন ভয়ানক উদ্দেশ্যেই বেরুচ্ছে। তাও অতল সমুদ্রের মাঝে।

চলবে……..

কপি করা নিষেধ। সবাই গঠনমূলক মন্তব্য করবে। আমার পেইজে ফলো দিবে। যাদের কাছে গল্প পৌঁছায় সবাই অবশ্যই রিয়েক্ট কমেন্ট করবে,সবার সাথে কমেন্টের রিপ্লাই এ কথা হবে। কেমন লাগছে ওদের এটা আমাকে জানাও।তোমাদের মন্তব্য আমার শক্তি,আমার অনুপ্রেরণা।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন