ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম শৃঙ্খলে রুদ্ধ রূপসী

২৬তম পর্ব

লেখক: সালসাবিল সারা

#প্রেম_শৃঙ্খলে_রুদ্ধ_রূপসী

পর্ব - ২৬

লেখিকা: সালসাবিল সারা

(কপি করা নিষেধ)

_________________

গ্রাম যেনো গ্রাম নয়,এক অপার্থিব সৌন্দর্যের ফোয়ারা। নুসাইবা এইখানে পা রাখা অব্দি সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে কেবল ড্যাবড্যাব চোখে প্রকৃতির মাঝেই হারিয়ে রইলো। এইযে তাদের রুম থেকে বিশাল গ্লাসের তৈরি দেওয়ালের আড়ালে দৃশ্যমান সবুজের সমারোহে মাঠ,সেখানে একপাশে হাজারো ফুলের বাগান এবং তার দূরেই কিছু বাচ্চা গরু আর ছাগল নিয়ে ভিড় করছে,খেলছে। মেয়েটা অবাক হয়ে চেয়ে রয়। কাঁচের দেওয়ালটায় পুরোটা কালো রঙের পর্দা দিয়ে ঢাকা। নুসাইবা কেবল সামনের অংশটুকু তার হাত দিয়ে সরিয়ে দেখে অল্প। অনায়াসে তার মনটা রঙিন হয়ে আসে। মুখে হাসির ঝিলিক রিরি করছে। আরেকটু করে পর্দা সরাতে গেলে টান পড়ে তার পেটের উপর। বেঞ্জামিনের বলিষ্ঠ হাত তার কোমর জড়িয়ে লতার ন্যায়।

নুসাইবা ঠোঁট টাইপ হাসে। মাথা নুয়ালে দুই গোছা চুল দুইদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েটা পরনে বেঞ্জামিনের টিশার্ট। যেটা খানিকক্ষণ পূর্বে শাওয়ার নিয়ে পড়েছে। অবশ্য শাওয়ার নেওয়া কম বেঞ্জামিনের অবাধ্য স্পর্শ উন্মাদনায় তার কান্নাকাটি করা বেশি হয়েছে। লোকটা এমন উন্মাদ তার জন্যে!

তাদের বিশেষ মুহূর্তের কথা মনে পড়ে ফের! মেয়েটা নুইয়ে যায় লাজে। তখন সেই অবস্থায়,এই বলিষ্ঠ লোকটা কেমন ছটফট করে! কেমন অস্থির হয়ে যায়! যদি পারতো লোকটার বুকে ঢুকিয়েই ফেলতো সে রমণীকে।

কথাগুলো ভাবতেই নুসাইবা আরও ঝুঁকে তার স্বামীর পানে। লোকটার চোখ বন্ধ। গভীর ঘুমে সে। পিঠের দিকে দৃষ্টি দিলে মনটা আনচান করে। কেমন ফুলে ফুলে আছে নখের আঁচড়ে। হাত বাড়িয়ে সেথায় অল্প করে ছুঁয়ে দেয় নুসাইবা।

পুরু ভ্রু,খরশান চোয়াল বেঞ্জামিনের বড্ড আকর্ষণীয়। নুসাইবা লোকটাকে ছাড়া যেনো নিশ্বাস নিতেও ভুলবে! চোখের কোণে সে চুমু দেয় স্বামীর আলগোছে। অত্যন্ত ফিসফিস করে আওড়ায়,

“বড্ড ভালোবাসি আপনাকে ঘামন্ডি বস।”

পূর্বের সকল কথা মনে আসলে মেয়েটা আরও শঙ্কিত হয়। দুনিয়া কি অদ্ভুত! যে এককালে এই লোকটার প্রতি ছিল না কোনো অনুভূতি,এখন সেই লোকটাই তার সকল অনুভূতির একমাত্র নাম।

নুসাইবার পলক পড়ে না স্বামীর সুদর্শন কায়া হতে। তবে মোবাইলে বিপবিপ শব্দ হলে তার টনক নড়ে। মেয়েটা বালিশের দিক থেকে মোবাইল হাতড়ে বের করে। হাবিবা কল দিয়েছে। সাথে সাথে রিসিভ করলে ভেসে আসে পুতুল,হেনা দুইজনেরই কন্ঠ,

“কি ব্যাপার,তোমরা পৌঁছে আমাদের জানাওনি কেনো?”

নুসাইবার গাল গরম হয়ে আসে। রুমে পৌঁছেই তো লোকটা তার ব্যাগ কাঁধ থেকে নামানোর পূর্বেই ড্রেস কাঁধের দিক থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। সেকেন্ডের মাঝে তার পরনে ড্রেস মেঝেতে লেপ্টে আর লোকটা কেমন ছারখার করেছে তার পুরো সত্তা! বক্ষদেশের পীড়ায় মেয়েটা এখনো জর্জরিত!

“টায়ার্ড ছিলাম…ঘুমিয়ে উঠলাম মাত্র।”

নুসাইবা ইতস্তত হয়ে জানায়।

“ওহ। আমরা বেশ চিন্তায় ছিলাম। তা খাওয়া দাওয়া করেছো? পানি খাচ্ছো ঠিক মতো?”

হেনা মেয়েকে জিজ্ঞেস করে।

“হ্যাঁ মা খাচ্ছি। একদম চিন্তা করবে না।”

মুচকি হাসে নুসাইবা।

“এই আপু,ঐখানে যদি কিছু ক্লাসিক্যাল ক্লথ বা মেক্সি পাও আমার জন্যে অবশ্যই আনবে।”

হাবিবা হেঁটে আসে। তার কয়েক মাসের প্রেগন্যান্সি বাম্প স্পষ্ট। চোখ জ্বলজ্বল করে নুসাইবার।

ছোট্ট পরী তার,এখন মা হবে।

“আচ্ছা আনবো। আর কি লাগবে লিস্ট দিস আপুকে।”

“কিছুই লাগবে না আর,জাস্ট অপেক্ষা করতে পারছি না ওখানে আসার। আমি তোমাকে অনেক মিস করছি আপু।”

হাবিবা মোবাইল হাতে তুলে। কি আদর লাগছে তার ছোট পরীকে। নুসাইবা গাল ভরে হাসে। চোখ দুটো তার অতি খুশির জানান দিচ্ছে।

“আর কয়েকদিন,এরপরই তো আমরা একসাথে হচ্ছি। সাবধানে থাকবি খুব।”

“হ্যাঁ হ্যাঁ। টেনশন করো না।”

হাবিবা জানায়।

“আমার ছেলে কোথায় বড় বৌমা? সে ঠিক আছে?”

পুতুলের প্রশ্নে নুসাইবা নড়তে চায়,তার ছেলে ঘুমাচ্ছে এটা দেখাতে চায়। কিন্তু বেঞ্জামিন তাকে নড়তেই দিলো না। উল্টো বলে উঠলো,

“উমহ… নড়ছো কেনো জান?”

তার সেই কন্ঠে নুসাইবার গায়ে আগুন জ্বলে। অপর দিকে হাবিবা আর হেনা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। কিন্তু পুতুল হেসে উঠে,

“কি পাগল এই ছেলে। তোমরা আরাম করো তাহলে।’

“আপু রাখলাম…”

হাবিবা মুখে বললেও বোনের দিকে তাকিয়ে ইশারায় বলে,

“ওওও জান…উম??”

দুষ্টুমির ছলেই রেখে দেয় সে মোবাইল।

নুসাইবার মতো শান্ত মেয়ের জন্যে এমন পরিস্থিতি খুব লজ্জাজনক। সে বেঞ্জামিনের দিকে ফিরে গমগম সুরে বলে উঠে,

“আপনি এত নির্লজ্জ এটা নাহয় শুধু আমি জানি,বাকিরা এখন কি ভাববে? আপনার লজ্জা নেই,আমার তো আছে! ইশ,মা,আম্মু কি ভাবছে ওরা?”

বেঞ্জামিন গা ছাড়া ভাব করে। ভ্রু উঁচিয়ে হাত টেনে নিজের সাথে লেপ্টে নেয় তার অর্ধাঙ্গিনীকে,

“আই ডোন্ট কেয়ার!”

“এহ,আই ডোন্ট কেয়ার! লম্পট, বেহায়া….আহ..”

ভেংচি কেটে বলার মাঝে মেয়েটা আর্তনাদ করে। অবাধ্য এক তীব্র স্পর্শ তার অঙ্গ ঝলসে দেয়। পরপর মেয়েটা কিছু বলতে নিলে বেঞ্জামিন তার গলায় দাঁত স্পর্শ করে,সেথায় অধরের ছোয়ায় ভিজিয়ে দিয়ে আওড়ায়,

“বেহায়া,লম্পটের চেয়েও তেজি তোমার হাজব্যান্ড। তাই না? তোমার চেস্টের দাগ দেখে বুঝা যাচ্ছে,তোমার হাজব্যান্ড একটা তুমিভক্ত প্রাণী।”

বেঞ্জামিনের এমন এলোমেলো কথায় নুসাইবা জমে যায়। লোকটার এহেন শরীর হিম করা কন্ঠ,বাক্য সহ্যের বাহিরে।

বেঞ্জামিনের স্পর্শ বেগতিক দেখে মেয়েটা দমাতে পারলো না নিজেকে। ছটফট করতে নিলে,বেঞ্জামিন তার উপর উঠে,দুইপা ভার দেয় বিছানায়। বিশাল তার দেহ,খাঁজ কাটা মাংসপিণ্ড সেথায় নখের আঁচড়,এই যেনো এক অমলিন শিল্প।

নুসাইবা চোখ বুঁজে নেয়। কিন্তু তার প্রেমিক ঝুঁকে মুখোমুখি হয় তার। গাল চেপে ধরে অনায়াসে। পরক্ষণে ঠোঁট ঘষে মেয়েটার অধরের কিনারায়,

“চোখ তুলে দেখো,তোমার সামান্য নিঃশ্বাসের প্রখরতা আমার শরীর কেমন ঘামাচ্ছে এই এসির মাঝেও। লুক এট দিস মনস্টার,বিউটি….”

নুসাইবা চোখ খুলে আবার সেকেন্ডের মাঝে বুঁজে নেয়। লোকটার এমন বুকের উঠানামা তার নিশ্বাস বন্ধ করতেও দ্বিধা করছে না।

“প্লিজ…আপনি শান্ত…”

“এই ছোট্ট রূপসীর সত্তায় নিজের অস্তিত্ব জারি না করা অব্দি কিছুতেই ভেতরকার আগুন নিভবে না। একটু আগেও বুঝিয়েছি না! এখনো বুঝাবো,আমার জান…আমার সাই.. বাহ্…”

মেয়েটার টিশার্ট সরায় সে মুহূর্তে। তার সবচেয়ে প্রেশিয়াস মানবী তারই চিহ্নে রাঙানো। বেঞ্জামিন হাত বিচরণ করে নিজের ঘাড়ে।পরপর হামলে পড়ে মেয়েটার নরম তুলতুলে সত্তায়,পরম শান্তিতে,পরম ঘোরে…মূলত পরম নেশায়।

_____________

প্রথম কয়েকদিন ওয়েদার ঠিক না থাকায় তেমন বাহির হওয়া হয়নি নুসাইবাদের। কেবল কটেজের ছাদে,পুলে ওভাবে সময় কাটিয়েছে। যদিও সবার সাথে সন্ধ্যায় দেখা হতো,বার্বিকিউ পার্টি হতো কিন্তু সময় থাকে লিমিটেড। বেঞ্জামিন তার আদুরে ছানার কোনো এক্সপ্রেশন বাকি পুরুষদের সামনে মোটেও সহ্য করার পুরুষ নয়। সদা কেমন ঢাল হয়ে থাকে এই লোক।

আজ রোদ উঠেছে ভালই। বাহিরে সেই গুমোট বৃষ্টির ভাব একদম নেই। ঝকঝক আলোতে চারিদিকে কেমন সবুজ,লাল, বেগুনীর সমাহার। বাগানের ফুলগুলো আজ বেশি শাইন করছে। বৃষ্টির পর প্রথম রোদে প্রকৃতি কেমন মন ভুলানো হয়!

নুসাইবা গোসল সাড়ে দ্রুত। বেঞ্জামিন জরুরি ফোনকল এটেন্ড করতে বেরিয়েছে রুম থেকে,এখনো ফিরেনি। যদিও কথা আছে এখন বেরুনোর। তাই মেয়েটা দ্রুত তৈরি হওয়া শুরু করে। খুব ভেবে চিন্তে একটা গাউন বের করে সুতির। ঘের বেশি,গোলাপি সাদা মিশেলের। বুকের দিকে ঝালর দেওয়া সুন্দর ডিজাইন।চুলগুলো লো বান করে দ্রুত। সানস্ক্রিন মেখে,ঠোঁটে লিপবাম দেয়। একটা স্কার্ফ মাথার উপর থেকে বুকের দুইদিকে ঝুলিয়ে দেয়। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে সে সন্তুষ্ট। শালীনতার মাঝে যে আরামদায়ক সৌন্দর্য থাকে এটা কেবল যে শালীনভাবে চলে সেই বুঝে।

বেঞ্জামিনকে আর রুমে ফিরতে হয়নি। সে কথা শেষ করে রুমে ফেরার সময় দেখলো তার বধূ সম্পূর্ণ তৈরি। মেয়েটা তার আফিম,বুকের মাঝের এক নেশালো পুষ্প। সোফায় মেয়েটা আনমনে বসে। হাতে মোবাইল। কয়েকটা ছবি তোলার চেষ্টায়। হঠাৎই বেঞ্জামিনের উপস্থিতি বুঝে সে দাঁড়িয়ে যায় দ্রুত,

“একটা ছবি তুলি,আসুন।”

“হাজারটা তুলো,হার্ট।”

বেঞ্জামিন তার পেছনে দাঁড়ায়। মেয়েটার ঘাড়টা দখলে চলে যায় লোকের সুদর্শন চোয়ালের ছোঁয়ায়। নুসাইবার ফেসের সাথে লোকটার চেহারার আয়তনের কি গড়মিল! তার কম্পনরত হাত লোকটার চোয়ালে রাখে। দুইজনের হাসিমুখ। কি সুন্দর দৃশ্য!

পরমুহূর্তে বেঞ্জামিন তার পেট আঁকড়ে নেয়,বসে সোফায়।আরেকহাত মেয়েটার পেলব গলায় আটকে। লোকটার মুখভাব অত্যন্ত অমায়িক। চুলের কয়েক গোছা কপালে হামলে পড়েছে। পড়নে ব্ল্যাক টিশার্টের মাঝে ফুলে ফেঁপে আছে বিশাল বহুজোড়া। ঠোঁটজোড়া কালচে গোলাপি যেগুলো ছুঁয়েছে তার কানের উপরিভাগ,

“এইভাবে তুলো, ব্রেথটেকিং।”

নুসাইবা বড়বড় চোখের পলক ফেলে সেভাবেই কয়েকটা ক্লিক নেয়।

তারপর লোকটার হাত ধরে হাঁটতে রইলো। কটেজ থেকে বাহিরে আসলো। এখনো সেই ঘোর কাটছে না। ছবিগুলো প্রাইভেট ফোল্ডারে ট্রান্সফার করতে হবে দ্রুত। নাহয় কেউ দেখলে লজ্জায় মাথা কেটে অক্কা পাবে সে।

এইখানে সবার জন্যে আলাদা আলাদা কটেজ আছে। সবাই গ্রুপিং করে ঘুরলেও,বেঞ্জামিন সায় দেয়নি। কারণ তার বউ অন্য পুরুষের সামনে বেশিক্ষণ থাকা মোটেও স্বস্তির সাথে নেয় না। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, বেঞ্জামিন নিজেই সেটা ভাবতে পারে না,তার বউকে অন্য পুরুষ কিছু সময়ের জন্যে খেয়াল করবে! লোকটা এমন অবসেসড তার বধূর প্রতি!

বাহিরের গরম এতটা বেশী লাগছে না গায়ে। কেবল রোদের আলোয় প্রখরতা। তেজ নেই। মিষ্টি একটা রোদ বলা চলে। নুসাইবা সেই বাচ্চাগুলোকে দূর থেকে খেয়াল করে ফের। আবার ভাবে গাড়ি দিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় সরু রাস্তায়। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে বেঞ্জামিন গাড়িতে না উঠে তার সামনের একটা বাইকে উঠে। হেলমেট নিয়ে মেয়েটার মাথায় পড়িয়ে দেওয়ার সময় নুসাইবা উৎসুক হয়ে আওড়ায়,

“বাইকে যাচ্ছি? কোথায় যাচ্ছি? ওয়াও!”

“যে বাচ্চাগুলোকে প্রথম দিন থেকেই দেখে দেখে মিটমিট করে হাসছো,সেখানে। ওদের লাইফ এক্সপ্লোর করার চিন্তা করছো,তাই তো!”

বেঞ্জামিন নুসাইবার বার্বি প্রিন্টের হেলমেট পড়িয়ে নিজের স্কাল প্রিন্টের হেলমেট পড়ে নেয়।

নুসাইবা খুশিতে আটখানা। সে বাইকে বসেই পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে তার পুরুষকে। চিল্লিয়ে খুশির জানান দেয়,

“থ্যাংক ইউ! আমি আপনাকে কিছু না বললেও আপনি সব বুঝে যান কিভাবে? আহহহ, আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ,বেঞ্জামিন…”

বাইকের স্পিড বাড়িয়েছে বেঞ্জামিন। ভ্রুমভ্রুম শব্দে সজোরে বাইক এগিয়ে যাচ্ছে মাঠের সরুপথে। বউকে গম্ভীর তবে স্নেহের সুরে জানায়,

“তোমার চোখই আমাকে সকল চাহিদার জানান দেয়। মুখ ফুটে না বললেও আমি তোমাকে পড়তে জানি,দুনিয়া আমার।”

ভালোবাসির বদলে ভালোবাসা বলাটা যেনো বেঞ্জামিনের ধাঁচে নেই। সে জানিয়েই দিলো আলগোছে নুসাইবা মেয়েটা মনস্টার খ্যাত আরন বেঞ্জামিনের গোটা দুনিয়া।

মোটর বাইক থামলে ভেড়ারা কিছু নিজ দায়িত্বে দৌড়াদৌড়ি করতে চায়। তাদের কিশোর - কিশোরী, কিছু মাঝারি বয়সী মালিকরা গ্রাম্য রাশিয়ান ভাষায় শাসায় তাদের। হুশ হুশ সুর তুলে একজোট করার চেষ্টায়।

বেঞ্জামিন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছেলেটাকে উল্লেখ্য ভাষায় বলে উঠে,

“আমার ওয়াইফ কিছুক্ষণ খেলবে ভেড়াদের সাথে। বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা দিবো।”

বালক বেশ খুশি হয়। কিন্তু জানায়,

“টাকা লাগবে না। ম্যাডাম এমনি খেলতে পারবেন।”

“টেক ইট,কাজে আসবে।”

বেঞ্জামিন মানিব্যাগ হাতড়ে ভালো অংকের টাকা তাদের দেয়। নুসাইবা ব্যাপারটা দেখে খুব খুশি হয়। ভাষা না বুঝলেও সে বুঝে লোকটা তার আনন্দের জন্যে অনুমতি নিলো একপ্রকার। কিন্তু এটা মোটেও অনুমতি না, বেঞ্জামিনের নির্দেশনা ছিল।

নুসাইবা ভেড়ার দুইটা বাচ্চার সামনে বসে হাঁটু গেড়ে। আদুরে লোমশে হাত বুলায়। বেঞ্জামিন হাসে মেয়েটার সতেজতায়। জীবনের অন্যতম ভালো দিন ছিল সেদিন সেলিমের আস্তানায় খুন করতে যাওয়া। নাহয় তার দুনিয়াকে সে কীভাবে খুঁজে পেতো!

বেঞ্জামিন নিজের মোবাইলে কয়েকটা ছবি তুলে মেয়েটার, ভেড়া সমেত। পরে নিজেকেও সেখানে উপস্থিত করে। কয়েকটা ছোট বাচ্চা মেয়ে নুসাইবার আশপাশ ঘেঁষলে তাদেরসহ ছবি তুলে দেয় বেঞ্জামিন। মেয়েটার খুশির সীমানা নেই।

“দেখুন,ওখানে কি কিউট গরুর বাচ্চা!”

“ধরবে?”

“নাহ…ভয় হয়….”

মেয়েটা লাজুক হাসে। নুসাইবা বাগান থেকে শুরু করে সবটা উপভোগ করছে। আর বেঞ্জামিন পকেটে হাত দিয়ে কেবল তার রাণীর সত্তায় মজেই রইলো।

সেখানে বেশকিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে বেঞ্জামিন নুসাইবাকে আবারো তুলে নেয় বাইকের পেছনে। সরু রাস্তা দুইদিকে মাঠ সেখানে আবার কিছু চাষবাসের জিনিস নাহয় ফুলের বাগান। নুসাইবা দুইদিকে হাত ছড়িয়ে দেয়। কিছুক্ষণ উপরে আবার দুইপাশে। সে ব্যাপক আনন্দিত।

পরপর বাইক থামে একটা নদীর ধারে। আশেপাশে কোনো মানুষ নেই। মনোরম পরিবেশ। নদীর তীরে কয়েকটা মাছ ধরার নৌকা,যাত্রীবাহী নৌকা। সবগুলোর সামনে বোর্ড টাঙানো,

“মালিক নেই। সন্ধ্যার পর চালু হবে।”(রাশিয়ান,ইংরেজি অনুবাদ)

নুসাইবা হেলমেট খুলে নেয় দ্রুত। বেঞ্জামিনের হাতে সেটা ধরিয়ে দিয়ে দপদপ পা ফেলে নদীর পানিতে। পেছন থেকে ভেসে আসে বেঞ্জামিনের কড়া কন্ঠ,

“সাইবা,ডোন্ট রান। আমি আসছি…ওয়েট!”

“উহু, ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান মিস্টার মনস্টার!”

নুসাইবা আনন্দে আত্মহারা।

বেঞ্জামিনের অধর প্রসারিত হয়। সে নিজেও চিৎকার করে জানায়,

“আই’ল ক্যাচ ইউ এন্ড উইল কিস ইউ হার্ডলি আন্টিল ইউ ক্রাই,রূপসী!”

তার সেই কথা প্রতিধ্বনিত হলে নুসাইবা আরও দ্রুত দৌড়ানো শুরু করে। কিন্তু কয়েক কদমের মাঝেই সে নিজেকে শূন্যে আবিষ্কার করে। তার স্বামী তাকে কোলে তুলে কয়েক পাক ঘুরিয়ে নিল। তীব্র হাসির দরুণ মেয়েটার গালে ব্যথা হয়। মনে আছে লোকটার কথার ঝলক। সে চোখ বড় করে তাকানোর পূর্বে বেঞ্জামিন তার স্কার্ফের নিচে দুইজনকে ঢেকে নেয়। অতঃপর মেয়েটার গলা থেকে শুরু করে ঠোঁট অব্দি জ্বালিয়ে ফেলে প্রখর চুমুর দরুণ। নুসাইবার আঁখিতে পানি জমে আবেশে। সে লোকটার চুল আঁকড়ে ধরে,একটু দম নিয়ে ক্রন্দনরত সুরে আওড়ায়,

“জ্বলে জ্বলে, থামুন…. এই…”

“বেশি জ্বলছে!”

বেঞ্জামিন সামলে নেয় নিজেকে। মেয়েটাকে নামায় না। নিজে বালিতে বসে রমণীকে তার উরুতে বসায়।

“উহু…”

“দেখি!”

বেঞ্জামিন তার স্কার্ফ সরিয়ে গলা,ঠোঁটে পর্যবেক্ষণ করে। অল্প অল্প লাল ছটাক পড়েছে গলার দিকে। যেগুলো স্কার্ফের সাহায্যে সহসাই ঢেকে নেওয়া সম্ভব। বেঞ্জামিন দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। মেয়েটার পানে আদুরে ভঙ্গিমায় তাকায়।

“আপনি আরও কিস করতে চান?”

নুসাইবা ভাবে,লোকটা রাগ করলো কিনা!

তার প্রশ্নে বেঞ্জামিন মেয়েটার আদুরে গালে কয়েকটা চুমু দেয় পরপর।

“শুধু কিস দিয়ে তোমার হাজব্যান্ডের পোষায়? বোটে নিবো?”

এক চোখ টিপে ঠোঁটের ইশারায় বড্ড লম্পট প্রমাণ করে বেঞ্জামিন নিজেকে। নুসাইবা নাক কুঁচকে নেয়। লাজে তার কপোল গোলাপি আভা ধারণ করে। হালকা চাপড় দেয় স্বামীর ফুলে থাকা বাহুতে,

“ইশ…না। কি বাজে আপনি!”

দুজনে মিলে পানিতে বেশকিছুক্ষণ হাঁটে। সাদা বকের উড়ে যাওয়া দেখে। একে অপরকে অল্প স্বল্প পানি ছোড়াছুড়িও করে। রুথলেস মনস্টার যে চোখ বুজেও মানুষ হত্যা করতে জানে,সে বউয়ের এমন আহ্লাদী রূপে সাড়া দেয় এটা কেউ কি বিশ্বাস করবে! করবে না,একদমই না।

“কিছু খাওয়া দরকার তোমার এখন।আশেপাশে পাই কিনা দেখি।আসো।”

বেঞ্জামিন নুসাইবাকে নিয়ে তীরে আসে। সোজা দাঁড় করায়। মাথায় পূর্বের মতো স্কার্ফ সেট করে দেয় আলগোছে।

“আমি লোকাল আইসক্রিমের একটা দোকান দেখেছিলাম, ওখান থেকে খাবো।”

“ওকেই।”

বেঞ্জামিন হাত ধরে মেয়েটার। দুইজনেই বালিতে হেঁটে বাইকের ধারে আসে।

“এইখানে মানুষ নেই কেনো?”

নুসাইবা জিজ্ঞাসা করে।

“সন্ধ্যার পর আসে মানুষ। আগে আসলে পুলিশের সমস্যা হয়।”

বেঞ্জামিন মেয়েটাকে ফের হেলমেট পড়ানো অবস্থায় জানায়।

“আমাদেরকে পুলিশ কিছু করলো না কেনো?”

নুসাইবা পজিশন অনুযায়ী লোকটাকে আঁকরে ধরে বসে বাইকে।

তার প্রতিত্তুরে বেঞ্জামিন হেলমেটের ভেতরে হাসে। সে এই পুরো জায়গাটা কিনেছে কেবল তার মনের রাণীকে জায়গাটা দেখাবে বলে।

তবে বউকে জানায়,

“আমি নোন ফেস তাই। ওদেরকে প্রচুর ডোনেশন দিই।”

“ওহ,আমার হাজব্যান্ড সবচেয়ে বেস্ট।”

নুসাইবার শরীরে ক্লান্তি হানা দেয়। সে ঐভাবে বেঞ্জামিনের বিশাল পিঠে মাথা এলিয়ে চোখ বটে নেয়।

হাত জোড়া লোকটার পেটে গিয়ে থামে। বেঞ্জামিন একহাতে বাইক সামলে অন্যহাতে বউয়ের আদুরে হাত জোড়া ধরে,

“ঘুমাবে? সামনে কোলে আসো?”

“উহু ঘুমাবো না। আরাম লাগছে। বেস্ট মোমেন্ট আমার জন্যে সবকিছু।”

নুসাইবা অত্যন্ত বিমোহিত।

“আরও কাছে এসে বসো,জান।”

সন্ধ্যার দিকে বার্বিকিউয়ের বিশাল আয়োজন। সকল কাপল ধাপে ধাপে সেথায় যোগদান করছে। নুসাইবা আজ কমফোর্ট অনুযায়ী শাড়ি পড়লো জামদানি। আঁচল পিঠের দিকে টেনে নেওয়া। চুলগুলো পাঞ্চ ক্লিপের সাথে আটকানো। বেশিক্ষণ থাকবে না সে। কেবল খেয়ে চলে যাবে। যদিও বেঞ্জামিন বলেছিল যাওয়ার দরকার নেই তাদের কিন্তু ভ্যাকেশনে এসে সবার সাথে একটু না থাকলে বাকিরা খারাপ ভাববে।

মূলত তলপেটের দিকে অত্যন্ত পীড়া। সময়ও আসছে মান্থলি সার্কেলের। অতঃপর মেয়েটা স্বামীর বাহু আঁকড়ে ওপেন ইয়ার্ডের সামনে আসে।

সেখানে তাকে দেখে মিশেল,জুয়েনা,রিয়ানি হাজির হয়,

“এসেছো তুমি! বাহ,তোমাকে পাওয়ায় যায় না।”

মিশেল হেসে বলে।

বেঞ্জামিন নুসাইবার দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে কানেকানে আওড়ায়,

“খারাপ লাগলে বলবে,আমরা কটেজে ফিরব।”

“আচ্ছা।চিন্তা করবেন না।”

মেয়েটা মলিন হাসে।

নুসাইবা বাকিদের সাথে অন্যদিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে কদম বাড়ায়। বেঞ্জামিন দূর থেকেই নজর রাখে বধূর সত্তায়।

রবার্ট বেঞ্জামিনকে খোঁচা মারে পেটে,

“আমি জানতাম তুই কল অফ ডেথ খেলার জন্যেই আনিয়েছিস আমাদের এই ট্রিপে। তোকে তো আর পাওয়ায় যাচ্ছে না এখানে।”

“নট ফানি! গেমের জন্যে এসেছি আমরা সবাই জানি। বাকিটা জাস্ট ড্রামা।”

বেঞ্জামিন সিগারেটের অস্তিত্বের জানান দেয় ঠোঁটের মধ্যেখানে।

“ইয়াহ ইয়াহ বাডি। তো যাওয়ার সময়ও হবে নাকি?”

“অফকোর্স।”

শর্টকাট উত্তর। অথচ কি জঘন্য ভয়ংকর গেইমের পরিকল্পনা!

খাবার পরিবেশনে অনেক সময় বাকি। নুসাইবার পাশেই ছিল এতক্ষণ বেঞ্জামিন। এখন তাকে বেঞ্চে বসিয়ে সে অন্যদিকে গেলো ইথেনের সাথে জরুরি ফোনালাপের জন্যে। ইথেন সঙ্গে দাঁড়িয়ে রইলো তার। আর নুসাইবার কিঞ্চিৎ দূরে রয়েছে দোয়াদ,গা ঢেকে। পুরুষরা সবাই অন্যদিকে।

হঠাৎই জুয়েনা নুসাইবার পাশে এসে বসে তাকে জানায়,

“যদি জানো তোমার কাছে যে বেস্ট হাজব্যান্ড সে একজন মার্ডারার,তখন তোমার কেমন লাগবে?”

নুসাইবার শরীর শীতল হয়ে আসে। প্রশ্নটা তার মস্তিষ্কে নিতে বেশ বেগ পেলো। ভ্রু কুঁচকে সে তাকালে জুয়েনা আবারো বলে,

“তোমার হাজব্যান্ড আরন বেঞ্জামিন একজন খুনি। সে যেমন তাকে মেরেছে,আমিও তার প্রাণকে মারব। আইল কিল ইউ নুসাইবা…”

কথাটা বলতে বলতেই জুয়েনা একটা ছুরি বের করে। নুসাইবার মস্তিষ্ক ফাঁকা। সে নিজেকে বাঁচাবে না কি করবে সেটার তাড়না না দিয়েই বলে উঠে,

“আমার হাজব্যান্ড কখনো বিনা কারণে কোনো খারাপ করবে না। আই ট্রাস্ট হিম।”

মেয়েটার আঁখি ছলছল করে।

জুয়েনা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। কোমরে ব্যাপক আঘাত পায় নুসাইবা। আর্তনাদ করে ধীরে,

“বেঞ্জামিন!”

“ফাঁক ইওর ট্রাস্ট..”

কথাটা বলে সে আঘাত করতে গেলে দোয়াদ জুয়েনার পিঠে ধাক্কা দিয়ে আধশোয়া করিয়ে দেয়,

“ডোন্ট মুভ।”

“বেঞ্জামিন!”

নুসাইবা চিৎকার দিয়ে উঠে এইবার। তার প্যানিক অ্যাটাক শুরু হয় নির্বিঘ্নে। পুরো শরীর ঘেমে অস্থির। বাকিরা দৌড়ে আসে। ইতিমধ্যে ইথেনের ওয়াকিটকিতে দোয়াদের আওয়াজ শুনেই বেঞ্জামিন দৌড়িয়ে আসছিল সেদিকে।

পরাণের বধূকে ওভাবে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে তার অন্তর ছারখার হয়।

বাকি মহিলারা তাকে ধরে তুলছে সেটার তোয়াক্কা করলো থোরা সে? লোকটা দৌড়ে আসতে দেখে সবাই সরে যায়। দোয়াদ জুয়েনার মুখে হাত দিয়ে জোরে চাপ দেয় যাতে তার ছোড়াছুড়ির শক্তি কমে আসে।

“সাইবা, সাইবা!”

বেঞ্জামিন বধূকে আটকে নেয় বুক মাঝারে। মেয়েটা হিচকি তুলছে কেবল। কোনো কথা বলছে না। কেঁদে যেনো এখনি অজ্ঞান হবে।

নুসাইবাকে কোলে নিয়েই সে কড়া সুরে ইথেনকে রাশিয়ান ভাষায় বলে উঠে,

“স্টুয়ার্টকে ওর ওয়াইফসহ আটক করো।”

পুরো হাসিখুশি থেমে এখন থমথমে পরিবেশ। রবার্ট মাথা চাপড় দেয়। বউকে জানায়,

“কি এমন দরকার ছিল স্টুয়ার্টের ওয়াইফের এমন বাঘের পুতুলের গায়ে হাত দেওয়ার? যায় কিছু হোক, এমনটা করার ফলাফল খুব ভয়ানক। অতি ভয়ানক।”

নুসাইবার কান্না থামার জো নেই। সে হিচকী তুলে অস্থির। চোখে যে কাজল দিয়েছিল,সেটার কারণে চোখদুটোতে রক্ত রং কেমন বিষাক্ত ঠেকছে বেঞ্জামিনের নিকট!

কটেজের বিছানায় বসায় সে বধূকে। এতক্ষণ যাবত নিজেই হাজার প্রশ্ন করলো সে মেয়েটাকে। অথচ কেবল কেঁদেই গেলো রমণী।

বেঞ্জামিন তার চুল খুলে দেয়। শাড়ির আঁচল টেনে বুকের দিকটা খালি করে,

“জান? ব্যথা হচ্ছে কোথাও? বলো আমাকে?”

“ আমি আপনার ওয়াইফ, আমি আপনাকে বিশ্বাস করি। আপনি আমার সব,আমাকে সকল অনুভূতি আপনি শিখিয়েছেন। আমি শুধু এটাই জানতে চাই,বুঝতে চাই,আপনার সাথেই আমার দুনিয়া আপনার সাথেই আমার সব,আপনি আমার লাইফ। আর কিছুই জানতে চাই না আমি।জানার প্রয়োজন নেই আমার।”

এক নাগাড়ে এলোমেলো কথা বলে ক্ষান্ত হয় না মেয়েটা।

বেঞ্জামিন মেয়েটার চোখের পানি মুছে দেয় গাল দিয়ে ঘষে,

“ সোনাবউ আমার। কিছুই জানার দরকার নেই তোমার। তুমি শুধু জানবে কিভাবে উন্মাদনায় ভরপুর অবাধ স্পর্শের আমার ভার তোমার ছোট্ট শরীরে সামলাবে প্রত্যেকবার।”

বউকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টায় সে।

“কাঁদে না, দেখি। বলো আমাকে ব্যথা হচ্ছে কোথাও? কি হয়েছিল তখন?”

“মহিলাটা কেমন যেনো,আমার খুব ভয় হচ্ছে উনাকে।”

মেয়েটা নাক টেনে জানায়।

“ভয় পায় না। আমি আছি। স্টুয়ার্টের বউয়ের সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম আছে,শি ইজ সিক। তাই ওদের এইখানে ঘুরতে আসা। বাট আই গেজ,শি ইজ মেন্টাল।”

বেঞ্জামিন বউকে আয়ত্বে আনার চেষ্টায়। যদিও তার কথাগুলো বানোয়াট। আপাতত সে বউকে শান্ত করতে চায়। মেয়েটা এইভাবেই পেট ব্যথায় কেঁদেছে বিকাল হতে।

“আমি শুনতে চাই না উনার কথা। আমি জানি শুধু আমার হাজব্যান্ডের কথা। আপনি অনেক ভালো। সবচেয়ে ভালো। আমার জীবনের সব অনুভূতি আপনার জন্যে শিখেছি আমি। আই লাভ ইউ,বেঞ্জামিন। আপনি আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন।”

মেয়েটা কোলে উঠে বসে লোকটার। বেঞ্জামিন মহিলার ব্যাপারে কিছু বলেছে সেটাও মাথায় তুলল না,সে কিছুই জানতে চায় না। সে শুধু তার বেঞ্জামিনে মগ্ন। পুরো দুনিয়া একদিকে আর বেঞ্জামিন অন্যদিকে থাকলেও সে কেবল তার প্রাণকেই চাইবে।

বাদবাকি বেঞ্জামিন তার জন্যে কতটা উন্মাদ কিংবা তাকে পেতে কি কি করেছে তার একংশ জানলেও নুসাইবা আজ ভয়েও কাঁদতো না,উল্টো ভয় পেতো কিভাবে সেই লোক শাস্তি দিবে অপরাধীদের! মেয়েটা না জানা সত্ত্বেও বন্দী হয়ে রইলো তার প্রাণের অদৃশ্য প্রেম শৃঙ্খলে! আজীবনের জন্যে।

মেয়েটার আদুরে কাঠামোতে হাতের বিচরণ ঘটায় প্রেমিক পুরুষ। প্রাণপনে জড়িয়ে ধরে বেঞ্জামিন তার ছোট্ট পাখিকে। অথচ মাথায় হিংস্র পরিকল্পনা স্টুয়ার্ট আর তার বউয়ের জন্যে। তার দুনিয়ায় হাত দেওয়া?

নুসাইবা নড়েচড়ে আরো আহ্লাদ করে স্বামীর বুকে। বেঞ্জামিন মেয়েটার চুল হাত বুলায়। চুমুতে ভরিয়ে দেয় পিঠ,গলার কিনারা,মাথার তালু,

“উম… আমার সোনাবউ,লক্ষ্মী আমার। শান্ত হও। কান্না করো না। আমি আছি,এইতো আমি।”

আবারও চুমুর বর্ষণ হয় মেয়েটার সত্তায়।

হঠাৎই বেডসাইড মিররে দৃষ্টি পড়লে তার নজর থামে নুসাইবার কোমরের দিকে লম্বাটে লালচে দাগ,যেখান থেকে রক্ত চুইয়ে পড়ছে!

চলবে…..

কপি করা নিষেধ। কেমন হচ্ছে সবাই জানাবেন। দেরী করে দিয়েছি তাই ক্ষমাপ্রার্থী। তবে হ্যাঁ,আগামী পর্ব হবে শেষ পর্ব। সিটবেল্ট টাইট করে বসবে কিন্তু,মনস্টার আর তার বিউটির ইতি ঘটতে যাচ্ছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন