#প্রেম_শৃঙ্খলে_রুদ্ধ_রূপসী
পর্ব - ২৭ এবং শেষ
লেখিকা: সালসাবিল সারা
(কপি করা নিষেধ)
_________________
“বেঞ্জামিন না! প্লিজ আর টাচ করবেন না। আমার সহ্য হচ্ছে না,এই স্পর্শ। উম,না প্লিজ প্লিজ!”
আঁখিতে অশ্রু। বেদনায় মুখের রঙ রক্তিম। হাঁপিয়ে গেলো যেনো রমণীর তনু। পুরো গা রিরি করে উঠে। মাঝে মাঝে এক অসহনীয় তীব্র কাটা সম্পূর্ণ শরীরকে মেরে খুন করছে এমন এক অসহনীয় অনুভূতিতে ক্লান্ত,জর্জরিত নুসাইবা। মেয়েটা ঠোঁট চেপে রইলো ব্যথা সহ্যের আশায়। তবে সেটা হওয়ার নয়। চোট এত গভীর নয়,তবে চামড়া ছিঁড়ে বেরিয়ে থাকা রক্তের উপর মেডিসিনে ঘেরা তুলো স্পর্শ করলেই সেথায় সৃষ্ট হচ্ছে এক ভয়াবহ পীড়া।
এসি রুমে ঘেমে অস্থির রমণী।
বেঞ্জামিনের কপালের রগ ভয়ানক। তার চোয়াল অত্যন্ত শক্ত। প্রেয়সীর এহেন আর্তনাদ বুককে ঠিক কতবার খুন করেছে সেটা তার অজানা। মস্তিষ্কে দেবে যাচ্ছে তার বধূর একেকটা আর্তনাদ। খুব আলতো হাতে ঘায়ে ঔষুধ লাগাতেও দ্বিধা। বধূর যন্ত্রণা তার হৃদয়কে কয় টুকরো করছে সেটার হিসেব নেই। বেঞ্জামিন একটু ঝুঁকে। নুসাইবার পিঠ বরাবর চুমু দেয় গাঢ়,
“এইতো জান,আরেকটু।”
“এখনি হাত সরান প্লিজ। অনেক জ্বলছে।”
নুসাইবা বেঞ্জামিনের অন্য হাত ধরে আর্জি করে।
“আচ্ছা,আচ্ছা।”
লোকটা অত্যন্ত দক্ষ ভঙ্গিমায় মেডিসিন লাগানো শেষ করে। অথচ তার বধূর চোখের অশ্রু তখনো থামেনি।
“এখনো জ্বলছে?”
বেঞ্জামিন তাকে সোজা করে বসায়। মেয়েটার পড়নে শাড়ি বিছানার একপাশে পড়ে রইলো। ব্লাউজের গলার আড়ালে দৃশ্যমান তার দেওয়া এলোমেলো চিহ্ন। বেঞ্জামিন সেখানে আঙুল ছুঁয়ে দেয়। এক উন্মাদনায় শরীর ঝেঁকে উঠে রমণীর,
“জ্বলছে।”
নুসাইবা মাথা নিচু করে। বেঞ্জামিন তার উত্তপ্ত রাগ কিংবা ক্রোধ কিছু প্রকাশ করল না বধূর সম্মুখে। কেবল এক দায়িত্ববান স্বামীর মতো আগলে নেয় তার ছোট্ট তনুকে,
“মেডিসিন খেলে ঠিক হয়ে যাবে। আগে ডিনার করবে।”
“এখন কিছুই খাওয়ার ইচ্ছে নেই। ঘুমাবো আমি। কালকে সকলেই কিন্তু চলে যাবো বাসায়। বুঝেছেন?”
নাক টেনে জানায় নুসাইবা। এত জ্বলছে কোমরের দিকে মনে হচ্ছে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে নয় পুরো লবণের প্যাকেট ঢালা হয়েছে।
“ওকে চলে যাব। এন্ড বায়না করলে হবে না,ডিনার করতে হবেই। মেডিসিন নেওয়া ইম্পর্ট্যান্ট।”
বেঞ্জামিন বউকে সান্ত্বনা দেয়। মিনিট খানেক পর সার্ভেন্ট খাবার দিয়ে যায়। বেঞ্জামিন নিজে ফ্রেশ হয়ে বউকে সুতির একটা ক্রপ টপ আর ঢোলা ট্রাউজার পড়ায় যেনো কোমরের দিকে কাপড় দিয়ে ঢাকা না থাকে। অন্তত ঘা শুকানো দরকার। তাতে জ্বলন কিছু কমবে।
নুসাইবা নানান বাহানা করেও লাভ হয়নি। বেঞ্জামিন তাকে খাইয়ে মেডিসিন দেয় দ্রুত।
“বসো। আমি ফোনকল করে আসছি।”
বেঞ্জামিন বউকে জানিয়ে মোবাইল হাতে বেডরুম থেকে বেরোয়।
মেয়েটার দৃষ্টি যায় জানালায়। বাহিরের পরিবেশ কেমন থমথমে। মাঝে মাঝে তীব্র আলোর ঝলক দেখা যাচ্ছে। বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা সাথে বেশ ঝড়। ইতিমধ্যে দূরের সেই গাছাপালা কেমন নড়ছে। নুসাইবার মন একটুও ভালো নেই। জুয়েনার বলা কথাগুলো কানে বাজছে। কেনো হঠাৎ মেয়েটা এমন বলেছিল? মেন্টালি সমস্যা না থাকলে কেউ এমন ভরা সিকিউরিটিতে তার উপর হামলা করবে? না মোটেও না। এছাড়া বেঞ্জামিন তো বলেছে মহিলার সাইকোলজিকাল প্রবলেম আছে। এইরকম রোগীরা একটা মিথ্যে সিনারিও বানায় মস্তিষ্কে আর সেই ভেবেই কাজ করে।
দীর্ঘশ্বাস ভেসে আসে তার সত্তা হতে। এরমাঝে বেঞ্জামিন রুমে প্রবেশ করে। নুসাইবার মাথা প্রচুর ভার হয়ে আছে। মেডিসিনের প্রকোপে কেমন ঝিমুনি আসছে হঠাৎ।
অল্প চোখের পাতা খোলা অবস্থা দেখতে পায় বেঞ্জামিন তার শার্ট খুলে বিছানার দিকেই আসছে। নুসাইবা হাত মেলে দেয়। ভাঙ্গা সুরে বলে,
“প্রচুর ঘুম আসছে। আসুন,ঘুমাবো।”
ততক্ষণে বেঞ্জামিন তাকে লতার ন্যায় জড়িয়ে নেয়। বউয়ের কোমরের দিকে যেনো চাপ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রেখে আলতো করে পাশ ফিরিয়ে শোয়ায়,
“নিশ্চিন্তে ঘুমাও,তোমার হাজব্যান্ড আছে তোমাকে প্রোটেক্ট করার জন্যে।”
অল্প ঘুমঘুম আলোড়নে মেয়েটা ব্যথাকাতর মুখেও হেসে উঠে। অনুভব করে তার স্বামীর মোলায়েম স্পর্শ ক্রপ টপ ভেদ করেছে।
তারপর! মেয়েটার আর হুশ নেই। সে এক ঘুমে তলিয়ে।
এরপর একঘণ্টা,দুইঘন্টা,তিনঘণ্টা! কতক্ষণ ঘুমিয়েছে সে জানেনা। তবে যখন ঘুম ভাঙলো মনে হলো সে ভাসছে হাওয়ায়। তার পুরো শরীর বরফের মতো ঠান্ডা!
আশেপাশে বেঞ্জামিন নেই। চেনা এই কটেজের রুমও যেনো অচেনা। কেমন বিদঘুটে এক রং ধারণ করেছে!
বালিশের নিচ থেকে সে সেলফোন খুঁজে। নেই সেটাও।
চোট নিয়ে সেভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে মেয়েটা। কাবার্ড থেকে একটা লং স্কার্ট আর লং শার্ট পড়ে স্কার্ফের সাহায্যে মাথা ঢেকে নেয়। কোমরের জ্বলন তখনো অনুভ্ত। বাহিরে আশ্চর্যজনক ঠান্ডা। কোনোভাবে স্কার্ফ জড়িয়ে সে হাঁটছে। বেঞ্জামিনের নাম ধরে ডাকলো কয়েকবার। নেই। কেউই নেই। এমনকি গার্ডরাও নেই।
হঠাৎ একটা ছোট্ট গার্ড হাউজ থেকে কেমন বীভৎস শব্দ ভেসে আসে। নুসাইবার পা থামে। উল্টো দিকে ফিরে সে। ধীরে এগিয়ে যায় সেই হাউজের পানে। যত কাছে যাচ্ছে ততই সেই আর্তনাদ ভারী হয়। সে নিঃশব্দে সেথায় এগিয়ে ছোট্ট একটা হোলে দৃষ্টি দেয় দ্রুত।
মেয়েটার চোখ বিস্ফোরিত। যেটা দেখছে সেটা সত্যি? নাকি ভ্রম নাকি অন্যকিছু? বেঞ্জামিনের হাতে ছুরি। ঠিক কতবড় সেটা,মেয়েটা আন্দাজ করতেও পারলো না। দূর থেকে দাঁড়িয়ে জুয়েনার শরীরকে এলোপাথাড়ি আঘাত করছে। মেয়েটা চিৎকার করছে,আকুতি করছে তবে শুনলো না বেঞ্জামিন কিছুই। কেবল এক পৈশাচিক ভয়ানক মুখশ্রীর সহিত গগণ বিদারক সুর তুলে,
“আমার পাখির গায়ে হাত তোলার আগে চিন্তা করা দরকার ছিল, মনস্টারের শিকারকে ধরলে বিনিময়ে জান দিতে হবে।”
“না না না!”
নুসাইবা দরজা খুলে নেয় দ্রুত। তার উষ্কখুষ্ক চুল,চোখে ভয় এক উদ্ভ্রান্তের ন্যায় রূপ। মেয়েটা কাঁপে থরথর করে। জুয়েনার শরীরের রক্তে ভিজে যাচ্ছে মেয়েটার লং স্কার্ট। বেঞ্জামিনের দৃষ্টির রং বদলায়। হয়ে যায় আরও ভয়ানক।
কন্দনরত নুসাইবা যেনো নিজের চোখকে বিশ্বাস করে না।সে চিৎকার করে,
"আমাকে সামান্য ধাক্কা দিয়েছে বলে আপনি তাকে এমন নিশৃংসভাবে খুন করবেন?"
স্তব্ধ বেঞ্জামিন। তার মনের অবস্থা জানার কথা নয় কারো। ভয়ানক তার চোখের গতি। প্রথম কয়েক সেকেন্ড কিছুই বললো না সে। পরক্ষণে বধূর পিঠ খামচে ধরে। মেয়েটার কথার বিনিময়ে শোনা যায় বেঞ্জামিনের অত্যন্ত ক্রোধে মত্ত কন্ঠ,
"যে যে আমার পাখির ছায়া অব্দি ছোঁয়ার চেষ্টা করবে,তার কলিজা আমি নিজ হাতে টেনে বের করব। এইসব দেখে ভয় হচ্ছে? আমাকে ঘৃণা হচ্ছে?পালাবে আমার থেকে? ওপস,তোমার পায়ের শিকল যে আমার হাতেই বন্দি,আমার রূপসী…”
নুসাইবার গা গুলিয়ে আসে। রক্তের এক তীব্র ভোটকা গন্ধে তার মাথা দোলায়। কোনোভাবে বিশ্বাস করতে পারছে না এই লোকটা তার প্রাণ। বেঞ্জামিনের দৃষ্টি অত্যন্ত খতরনাক। সেই দৃষ্টিতে নজর পড়লে শরীর ধ্বংস হওয়ার জোগাড় মেয়েটার। দুইপা পেছন যেতে নিলে, বেঞ্জামিন তাকে কাঁধে তুলে নেয়। ভয়ানকভাবে শুধায়,
“আমার থেকে পিছু হটলে দুনিয়া জ্বালিয়ে দিবো,আর সবার আগে জ্বালাবো তোর মা বাবাকে….”
হঠাৎই অনুভব করে মেয়েটার পুরো গায়ে যেনো জন্মের মতো ভার। নুসাইবার শরীর কম্পনরত। সে ডানে বামে নড়তে পারলো না। এক অজানা উত্তাপ তার শরীর ত্যাগ করছে। একটু সরতে নিলেই বুঝতে পারে সে কোথাও আটকা। পূর্বের দৃশ্যগুলো ভেবেই মেয়েটা জোরে আর্তনাদ করে,
“মিথ্যে মিথ্যে,সব মিথ্যে…আমার বেঞ্জামিন কখনোই এমন কাজ করতে পারে না বিনা কারণে। সে রাগী কিন্তু নিষ্ঠুর না। আমার জন্যে তার জান কোরবান আমি জানি,সে আমাকে কখনো কষ্ট দিবে না।”
ভাঙ্গা তার সুর। দৃষ্টি খুলে দূর্বলভাবে। ঝাপসা চোখে দেখে উন্মুক্ত তার স্বামীর বুক। যে বর্তমানে ধড়ফড় করে শোয়া থেকে উঠে বসে। দৃষ্টি ভঙ্গুর।
নুসাইবা হেঁচকি তুলে। গাল ভিজে যাচ্ছে অশ্রুতে। মানুষটা তার পাশে,তার সাথে ঘুমিয়ে ছিল। এতক্ষণ যাবত সব ছিল ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন!
“সাইবা! কি হলো জান?”
বেঞ্জামিন তার বিশাল বাহুতে আটকে নেয় বধূকে। পরনে গতরাতের ক্রপ টপ। কোমরের দিকে সাবধানে হাত রাখে। ক্ষতের দিকে দৃষ্টি পড়লেই তার মেজাজ চিড়চিড় করে আবারও।
“কিছু না…এমনি..এমনি দুঃস্বপ্ন ছিল।”
মেয়েটা মনেপ্রাণে জড়িয়ে ধরে পাষাণ লোকটাকে। যে স্বপ্নে কি ভয়ানক হয়ে ছিল! অথচ বাস্তবে কেমন মোলায়েম ভালোবাসায় মত্ত থাকে লোকটা তার জন্যে। নুসাইবা খুব মন খারাপ করলো কেনো এমন ফালতু স্বপ্ন সে লোকটাকে নিয়ে দেখলো! নাহ,ভাববে না আর দুঃস্বপ্নের ব্যাপারে।
“রিল্যাক্স। এইতো আমি আছি। ঘুমাও,রূপসী।”
বেঞ্জামিন বিছানার হেডসাইডে বালিশ ঠিক করে। হেলান দেয় সেখানে। নুসাইবা তার কোলের উপরেই লেপ্টে।
“আমরা কখন বাসায় ফিরব?”
নুসাইবা ফিচেল সুরে জিজ্ঞেস করে বেঞ্জামিনের ঘাড়ে হাত বুলিয়ে।
“তিনঘণ্টা পরেই।”
বেঞ্জামিন স্থির দৃষ্টিতে মেয়েটার মুখ পর্যবেক্ষণ করছে। মেয়েটা অশান্ত। শান্ত দেখাচ্ছে উপরে কিন্তু ভেতরটা উত্তাল সে জানে। নিশ্চয় বেঞ্জামিনকে নিয়েই সে কোনো বীভৎস স্বপ্ন দেখেছে!
নুসাইবা ছোট্ট করে “ওহ” বলে। তারপর নিশ্চুপ।
বেঞ্জামিন তার সেই নিশ্চুপতা সহ্য করেনি। ক্রপটপ উল্টিয়ে দিলে, নুসাইবা বিচলিত হয়। বুক থেকে সরে কিঞ্চিৎ আর্তনাদ করে,
“এটা কি হলো?”
“দেখতে ইচ্ছে করলো। এখন ইচ্ছেটা আরও দূরে গড়ালো।”
বেঞ্জামিন চোয়াল কঠোর করে,অথচ চোখে মেয়েটাকে ছোঁয়ার নেশা।
“ঘুমাতে বলছিলেন আমাকে! আর এখন নিজেই?”
“কন্ট্রোল হয় না…আহ ফাঁক!”
বেঞ্জামিন অস্ফুট সুরে মেয়েটার কানের পাশে ফুঁ দেয়। রিরি করে নুসাইবার সত্তা। লাজুকতায় ঢেকে যায় মেয়েটার তনু। মাথা উঁচু করলে চোখাচোখি হয় তার প্রাণের সহিত। সুদর্শন এই দৃষ্টিজোড়া বুলিয়ে দেয় মেয়েটার সত্তায় এক আবেশের ছোঁয়া। হাত দিয়ে স্পর্শ না করলেও ধুকধুক করে মেয়েটার হৃদয়। চোখের এহেন বেলাজ ছোঁয়ার মাস্টার এই লোক। নুসাইবা একটু পিছু হটতে নিলেই বেঞ্জামিন তাকে কোলের মাঝেই প্যাঁচিয়ে ফেলে।
“আমার কোমরে কিন্তু ব্যথা,ভুলেছেন?”
মেয়েটা ধীরে ধীরে গ্রাস হচ্ছে লোকটার অবাধ হাতের স্পর্শে। কিন্তু একটু তো জ্বালানো যায় তার প্রাণের এই ছটফট করা সত্তাকে!
“বেডে কিছুই করছি না। সবকিছু এইভাবেই হবে। বুঝছো তো! হু? কোমরে একটুও ব্যথা হবে না। বিলিভ মি।”
বেঞ্জামিনের নাক ঘষে মেয়েটার গলা থেকে বুক অব্দি। তার বিশাল দেহের সহিত লোকটার খন্ড মাংসের শরীর একদম মিশে যায়। হাতের স্পর্শের পাশাপাশি শব্দ করে অধর স্পর্শ করে তার অর্ধাঙ্গীর কায়ায়। নুসাইবা নিজেকে আর সামলে নিতে পারে না। সে ভেঙে যাচ্ছে, মুড়ে যাচ্ছে,আবেগে ভাসছে। মস্তিষ্কের সেই দুঃস্বপ্নের আর অস্তিত্ব নেই,বেঞ্জামিন মেয়েটার পুরো অবয়ব নিজের বশে করেছে।
নুসাইবা তার কথায় উত্তর দিতে পারল না আর। তার মিহি আর্তনাদে ভরে যায় এই কক্ষ,পাগল করে ছাড়ে মেয়েটার মোলায়েম সুর নুসাইবার স্বপ্নের সেই মনস্টারকে।
_____________
বেঞ্জামিন রাশিয়ায় নতুন নতুন অস্ত্র কারখানায় হাত দিয়েছে। ইতিমধ্যে তার অস্ত্রের ব্র্যান্ড দুনিয়ায় একটা সিক্রেট বাজিমাত করেছে পূর্বের রেকর্ড ভেঙে। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে যদি একটা কারখানা থাকে সেখানে এখন তিন থেকে চারটা কারখানা তৈরি হচ্ছে। তার অস্ত্রের ডিজাইন,কাজ অন্যসব অস্ত্র থেকে বড্ড আলাদা। মাফিয়াদের একমাত্র নেশা তার সেই মরণধারী অস্ত্রের ফোয়ারা। বিজনেসের পাশাপাশি তার এই খাত থেকে অঢেল টাকার সাম্রাজ্য হুহু করে বেড়েই চলছে।
অস্ত্রের কারখানাগুলোর সেই কাজ অফিস থেকে সিসিটিভিতে পর্যবেক্ষণ করছিল বেঞ্জামিন। তখনই দরজায় কড়া নাড়ে কেউ। বেঞ্জামিন মনিটর চেক করে রবার্টকে দেখে ভেতরে আসতে বলে,
“জাখাদি।”(ভেতরে আয়)।
“ভিলেইজ থেকে আসার পর,আর দেখা করিসনি কেনো?”
রাশিয়ান ভাষায় প্রশ্ন করে রবার্ট।
“বিজি ছিলাম।”
বেঞ্জামিন নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায় জবাব দেয়।
“জুয়েনা সুইসাইড করেছে।”
রবার্ট হুট করেই জানায়।
বিনিময়ে কোনো উত্তর দেয়নি বেঞ্জামিন।
“ওর ওয়াইফের সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম এতটা বাজে হলো কীভাবে,সত্যি বুঝলাম না।”
আবারও বলে রবার্ট।
কথাগুলো শোনার পর অতীত ভেসে আসে বেঞ্জামিনের চোখে।সেদিন ইথেন তো তার নির্দেশে জুয়েনার দুই হাত কাটতেই যাচ্ছিল,এরপূর্বে রবার্ট তার পা ধরে আকুতি করে,
““বেঞ্জামিন ম্যান! আমার ওয়াইফ তার ভাইয়ের জন্যে মেন্টাল ট্রমায় ছিল। তোমার কারখানায় যে ডিজাইন চুরি করে সেটার জন্যে তুমি তাকে শাস্তি দিয়েছো। পরে সেই আত্মহত্যা করে। জুয়েনা এটা মেনে নিতে পারে না। সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম হয় ওর। তোমাকে ভিলেইন ভাবে। তাই তোমার ওয়াইফের…ওর মেন্টাল স্ট্যাটমেন্ট ঠিক নেই। ও কি করছে সেটা নিজেই কন্ট্রোল করতে পারে না। আমি এখনইওকে নিয়ে ব্যাক করবো। প্লীজ ডোন্ট হার্ট হার! আইএম বেগিং ইউ।”
স্টুয়ার্টের এমন আর্তনাদ ফোনকলে যখন ভাসছিল,তখন নুসাইবা ঘুমের মাঝেও নড়ে। কয়েকবার মেয়েটা ভয়েই তার হাত খামচে নেয়। যখন তার মুখ থেকে বেঞ্জামিনেরর জন্যে বলা কথাগুলো শুনতে পায়,সে বিনা দ্বিধায় ইথেনকে আর্জি জানায়,
“যদি আধা ঘণ্টার মাঝে ওরা হাজব্যান্ড ওয়াইফ এই ভিলেজের থেকে যাওয়ার জন্যে রওনা না দেয়, তাহলে দুইজনকেই খুন করবে।”
এমনটা শুনে স্টুয়ার্ট আর দেরী করেনি। বউয়ের সেই দেহ মেঝে থেকে উঠিয়ে চলে যায় বউকে নিয়ে।
আর বেঞ্জামিন সামলায় তখন তার আদুরে ছানাকে।
পাস্টের কথা ফ্ল্যাশব্যাক হলে বেঞ্জামিন রবার্টকে বলে,
“ওয়াইফের জন্যে হাজব্যান্ড হচ্ছে ডাক্তারের চেয়েও বড় চিকিৎসক। স্টুয়ার্ট ওর বউকে সামলাতে পারেনি তাই সুইসাইড করেছে। বউয়ের মেন্টাল হেলথ আসলে হাজব্যান্ডের উপর নির্ভরশীল।”
এই প্রথম বেঞ্জামিনের মুখে এমন কথা শুনে বড্ড অবাক হয় রবার্ট। সে হেসে বলে,
“ঠিক। বাট ব্যাপারটা শুনে আমার খারাপ লাগছে না যে মেয়েটা নেই। কারণ, জুয়েনা যদি জানতো তার মেন্টাল হেলথ নষ্ট জেনেও স্টুয়ার্ট রাতে দিনে মেয়েদের সাথে ডুবে ছিল…”
“এইসব জেনেছে বিধেয় করেছে। সার্চ “ক্যাফেইন বার”। নিউজ লিক হয়েছে। স্টুয়ার্টের নিজ ব্যবসা এখন তোপের মুখে।”
বেঞ্জামিন চেয়ারে আয়েশ করে বসে।
“তুই কীভাবে…”
রবার্ট অবাক হয়।
বেঞ্জামিন এক চোখ চেপে ভ্রু কুঁচকে নেয়,
“আইএম এ ফাকিং মনস্টার, আই নো এভরিথিং।”
“পুওর জুয়েনা। স্টুয়ার্টও এরেস্টেড।ডোন্ট নো ওর কি হবে!”
তার কথায় একটা গালি ছুঁড়ে বেঞ্জামিন। পরপর গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে….
“ইয়েসলি নে বিত্ ভেরনিম ঝেনে, ফ্স্যে পালুচায়ুত্ পা মরদে।”
(বউয়ের প্রতি লয়াল না হলে সবাই মারা’ই খায়।)
______________
রাশিয়ার মাটিতে এখন বেঞ্জামিনদের ঘরজুড়ে বাঙালির উৎসব যেনো। পুতুল আর তার দুই পুত্রের দুই বধূ সদা বাঙালি সংস্কৃতি মেনে চলে। ঘরে তাদের রোজ শাড়ি পড়া, বাঙালি উৎসব পালন করা,বাঙালি খাবারের নিয়ম তৈরি করা এখন স্বাভাবিক। যদিও মেইড সকল সকল কাজ করে। কিন্তু রান্না বান্না সব বউ শাশুড়ি মিলে করে।
নুসাইবা তার রুমে আচার খেতে ব্যস্ত। তার হাতের মেহেদি এখনো আবছা আছে। রং যায়নি। রাশিয়ায় তাদের গ্র্যান্ড ওয়েডিং হয়েছিল। তবে শুধু ঘরোয়া অনুষ্ঠানে নুসাইবার উপস্থিতি ছিল। বিশাল সেই ভিড়ের জামায়াতে বেঞ্জামিন তাকে কেনো সকল মহিলাদের যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এটা কেবল একটা ইনভিটেশন ছিল বেঞ্জামিনের পক্ষ থেকে তার মনস্টার ওয়ার্ল্ড থেকে শুরু করে সকল বিজনেস ওয়ার্ল্ডদের। সেখানে নিজের বউকে সং বানিয়ে রিপ্রেজেন্ট করার মতো পুরুষ বেঞ্জামিন না। তার চেয়ে বড় কথা,মেয়েটার উপর কোনো রিস্ক সে নিতে নারাজ।
অবশ্য এটা নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই নুসাইবার। কারণ তাদের বিয়ের সকল রীতি ঘরের বিশাল উঠোন,ছাদে করা হয়েছিল। দেশ থেকে সবাই এসেছিল, থেকেছিল এই রয়াল হাউজে। নুসাইবা ল্যাপটপে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান দেখছিল। সেখানে লাল রঙের ভারী শারারা পরিহিত নুসাইবা ভারী মেকআপে। স্বর্ণের সকল অলংকার। আর তার পাশের লোকটা শেরওয়ানি পরিহিত সাদা রঙের। দুইজনকে কি সুন্দর না লাগছে! নুসাইবা স্ক্রিনের উপরই দুইটা চুমু দেয় বেঞ্জামিনের অবয়বে,
“আপনি কি সুন্দর!”
মেয়েটা কথার ফাঁকেই আরেকটা আচার নিয়ে মুখে দেয়। বিছানায় বসে থাকা হাবিবা তার চারমাসের বাবুনিকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল,কিন্তু বোনের এমন বাচ্চামোতে না হেসে পারলো না,
“আপু,আমি আছি কিন্তু এইখানে!”
হাবিবার উপস্থিতি টের পেয়ে নুসাইবা লজ্জায় লাল। সে বোনের কোল থেকে ছোট্ট সোনা অদ্রিকে তুলে নেয়,
“আছিস তো কি হয়েছে? আমি আমার হাজব্যান্ডকে মিস করছিলাম।”
আহ্লাদ করে সে অদ্রির সাথে। চুমুও দেয় গালে।
“ভাইয়া অফিসে গেলো মাত্র সকালে। এতেই?”
“হু…শুধু মিস করছি না,আমার না কেমন কান্না পাচ্ছে উনার জন্যে।”
হঠাৎ মুড সুইং মেয়েটার। হাবিবা অবাক হয়ে থাকে। তার বোনের এই কি অবস্থা! অন্যদিকে নুসাইবা আচারের বাটি খালি করে ফেলছে সেটাও তার দৃষ্টিতে এড়ায়নি। সে বোনকে শুধায়,
“মান্থলি সার্কেল তোমার কখন…”
কথাটা শেষ করতে পারেনি হাবিবা। এরমধ্যে বেঞ্জামিন রুমে আসলে, সে সোজা হয়ে উঠে। অদ্রিকে নুসাইবার কোল থেকে নেয়,
“আমি আসি এখন।”
“অদ্রিকে রেখে যা!”
নুসাইবা তাকে দিতে চায় না ছোট্ট মানিককে। কিন্তু হাবিবা বোনের কথা শুনেনি। বোন তার যতটা না পাগল এই লোকের জন্যে,তার চেয়েও হাজার উন্মাদ বেঞ্জামিন তার বউয়ের জন্যে।
“ও খেয়ে ঘুমাবে আপু। একটু পর নিও।”
“আচ্ছা। আহহ আমার অদ্রি বাচ্চাটা!”
নুসাইবা ঝুঁকে চুমু দেয় অদ্রির মাথায়। মেয়েটা আদর মেয়ে কি খুশি! “আহ আহ” শব্দ করলে বেঞ্জামিন এসেও উল্টো আঙুল ছোঁয়ায় বাচ্চাটার ছোট গালে।
হাবিবা কক্ষ থেকে বেরুলে বেঞ্জামিন দরজা বন্ধ করে।
নুসাইবা দুই হাত মেলে দেয়,
“আমাকে আদর করুন!”
বেঞ্জামিন কোট খুলে। শার্টের কয়েকটা বোতাম খুলতে খুলতে এগিয়ে আসে,
“শুধু আদর করলে হয়?তোমাকে আমার নিচে পিষ্ট না করলে শান্তি হয় না।”
কথাগুলো হেসে বললেও পরক্ষণে আচারের বাটি দেখে সে নুসাইবার গালের আদলে আঙুল চেপে বলে,
“লাঞ্চ করোনি?”
“আদর করতে বললাম না?”
মেয়েটা কথা ঘুরাতে চায়।
“সাইবা!”
কিছুটা ধমকে উঠে বেঞ্জামিন। খাবার নিয়ে আগে যতটা হেঁয়ালি করতো রমণী,এখন সেটা বেড়েছে। বেঞ্জামিন প্রত্যেক সময় তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে যতটুক পারে খাওয়ানোর চেষ্টায় কিন্তু গত একমাস ধরে মেয়েটা খাবার নিয়ে যথেষ্ট বাহানা করে।
নুসাইবা যতটা না ইমোশনাল ছিল, বেঞ্জামিনের ধমকে আরও ফুঁসে উঠে তার দুচোখ।
টপটপ করে বেরিয়ে আসে অশ্রুবিন্দু।
“কেনো খাওনি? না খেয়ে এইসব খাও! এরপর বমি হয়। আজই যাচ্ছি আমরা ডক্টরের কাছে। এক্ষুনি চলো লাঞ্চ করতে।”
বেঞ্জামিন আবারো তাকে ধমক দেয়। হাত ধরতে এলে নুসাইবা বিছানায় উঠে বসে আরও,
“একদম স্পর্শ করবেন না আমাকে। খারাপ লোক,বউকে ধমক দেয়!”
নুসাইবা নাক টানে।
“মাইর দিইনি এটাই কি অনেক না? চারটা বাজছে, লাঞ্চ না করে কি করেছো?”
বেঞ্জামিন তার পায়ে হাত রেখে টেনে নেয় কাছে,বুকের কিনারায়।
“আপনাকে মিস করেছি। হাবির সামনে ল্যাপটপে আপনাকে চুমু দিয়ে লজ্জায় পড়েছি। আমার খাবারের না আপনার ক্রেভিংস হচ্ছিল!”
মেয়েটা লাজুক মাথা নাড়িয়ে বলে উঠে।
বেঞ্জামিন তার এমন কথাবার্তায় খেয় হারায় নিজের। নির্লিপ্ত চেয়ে থাকে শাড়িতে মোড়ানো তার রূপসীর পানে। এলো খোঁপা।গলায়,নাকে,কানে স্বর্ণের অলংকার। লম্বা ভ্রু দুটো ধনুকের মতো বেঁকিয়ে তাকে দূর্বল ইশারা দিচ্ছে। এই অল্প ধমকেই মেয়েটা নাক লাল করে,কাদঁছে! তার আদর,তার মানিক,তার সাই..বাহ…
“লাঞ্চ করো,ডেজার্ট হিসেবে আমি আছি। এরপর ‘ব্যথা পাই’ বললেও ছাড়ছি না।”
বেঞ্জামিন তাকে কাঁধে টেনে তুলতে নিলে মেয়েটা পেটে চাপ অনুভব করে। খামচে ধরে বেঞ্জামিনের কাঁধের শার্ট,
“আহহ পেটে ব্যথা…”
বেঞ্জামিন থামে। মেয়েটাকে বিছানায় বসায়। নুসাইবার চোখমুখ একদম লাল। টপটপ করে পানি ঝড়ছে। বেঞ্জামিন তার পেটে হাত দেয়। মস্তিষ্কে কিছু হিসাব মেলায়। পরপর বলে উঠে,
“সাইবা…তোমার মান্থলি সার্কেল মিস যাচ্ছে দুইমাস ধরে। এর আগে থেকেই হিসেবে গরমিল ছিল। তুমি…তুমি প্রেগন্যান্ট?”
নুসাইবার ব্যথা যেনো কই পালালো? সে একলাফ দিয়ে উঠতে চেয়েও পারেনি। বেঞ্জামিন তার উরুতে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে,
“ডোন্ট!”
“আমি? আমি? আমিই! প্রেগন্যান্ট?”
মেয়েটার হাত চলে যায় তার পেটে। কেমন একটা অনুভূতি তার ভেতরটা নাড়িয়ে তুলে।
“টেস্ট করলে জানতে পারবে। এটা নিয়ে স্ট্রেস নেওয়ার কিছু নেই। আপাতত লাঞ্চ করতে হবে। ফ্রেশ হও, খাবার রুমে পাঠাতে বলছি।”
বেঞ্জামিনের এইবারের কথায় সে হ্যাঁ/ না কিছু বলেনি। কেবল লোকটার বাহু আঁকড়ে ধরে। বেঞ্জামিন তাকে ওয়াশরুমে নেয় সযত্নে।
অল্প কিছু খেতেও পারেনি নুসাইবা। বমিতে ভাসিয়েছে বিছানা। অবেলায় অতিরিক্ত আচার খাওয়ার কারণে তার পেটের পীড়া বেড়েছে হাজারগুণ।
কেঁদে অস্থির সে। মেইডরা তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে চায়। কিন্তু বেঞ্জামিন হাত দেখিয়ে থামিয়ে দেয়,তাদের বেরুনোর নির্দেশনা ভেসে আসে তখনই।
“রিল্যাক্স,শ্বাস নাও।”
সে আঁকড়ে ধরে মেয়েটার কোমর।
“সরি…আপনার..আপনার গায়েও পড়েছে…ইস, স..রি..”
কান্নারত অবস্থায় জানায় রমণী। তার নাক পর্যন্ত জ্বলছে এতটা তীব্র বমি আসলো হঠাৎ!
“অবেলায় আচার খেতে…”
রেগে কথাটা বলতে গিয়েও থামে বেঞ্জামিন। তার প্রেয়সীর কষ্টটা আন্দাজ করে। পরক্ষণে নুসাইবার সত্তা পরিষ্কার করা অবস্থায় গালে চুমু দেয়,
“ডোন্ট ক্রাই জান, এইতো ফ্রেশ হয়ে এখনি হসপিটাল যাবো আমরা।”
নুসাইবা নিজেকে সামলায়। ঠিক কতটা ভাগ্যবতী হলে বেঞ্জামিনের মতো লোককে সে অর্ধাঙ্গ হিসেবে পেয়েছে মেয়েটা জানেনা। সে তো একটা ভঙ্গুর মেয়ে ছিল,যে নিজের অস্তিত্ব খুঁজতে ব্যাকুল ছিল। অথচ এখন তার পুরো অস্তিত্ব জুড়ে কেবল তার প্রেমিকের অধিকার,যার কাছে সপেছে সে নিজের সত্তা,প্রাণ,পুরো জগৎ।
মেয়েটা নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায় সবটা দূর্বল দৃষ্টিতে দেখতে থাকে। বেঞ্জামিন তার উদোম সত্তায় নেভি ব্লু টিশার্ট মুড়িয়েছে। সাথে ব্ল্যাক জিন্স। নুসাইবাকে একটা প্লেইন লং গাউনে মুড়িয়ে স্কার্ফ মাথার দুইদিকে ছড়িয়ে দেয়। রমণীর ব্যাগ নিজ হাতে তুলে নিয়ে অন্য হাতে মেয়েটাকে আগলে রুম ত্যাগ করে।
নিচে নামলে পুতুল মেয়েটাকে এমন মলিন দেখে চিন্তিত হয় বেশ। মুখে হাত ঠেকিয়ে জানায়,
“কি হয়েছে? এমন দেখাচ্ছে কেনো বড় বৌমাকে?”
“কিছু টেস্ট করাতে হবে,আম্মু। এসে জানাচ্ছি।”
নুসাইবা আলতো সুরে জানায়।
“সব ঠিক আছে?”
পুতুল মাথায় হাত বুলায় তার। ইশারা করে বেঞ্জামিনকে। ছেলে চোখের ভাষায় বুঝায়।
______________
পরেরদিন টেস্টের রেজাল্ট সাথে প্রেগন্যান্সির সুসংবাদ প্রথমেই ডাক্তার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার সময় নুসাইবাকে জানায়। বেঞ্জামিন তখন ইম্পর্ট্যান্ট ফোনকলে ল্যাবের বাহিরেই। নুসাইবার আঁখি চিকচিক করে। লোকটা ভেতরে এলে তাকে সুসংবাদ জানানোর অপেক্ষায়। অথচ সে সোজা হয়ে বসতে নিলেই সজোরে দরজা খুলে বেঞ্জামিন। তার চোখে ভয় নেই,আছে একরাশ ক্রোধ। নুসাইবা অবাক বনে। লোকটা সাথেই ছিল। হঠাৎ ইথেন জরুরি তলব ডাকে। এরপর এখন এমন ক্রোধে! পেছনে এলেক্স,ইথেন এদেরকে দেখে আরও বেশি চিন্তিত হয় তার অবুঝ হৃদয়।
“ইথেন জাস্ট ব্লক দা লন।”
বেঞ্জামিন চিৎকার করে।
নুসাইবার দিকে তেড়ে আসে। তাকে পাজকোলা তুলে নেয় দ্রুত। ডাক্তার তাকে পেছন থেকেই বলে উঠে,
“বি কেয়ারফুল মিস্টার আরন। শি ইজ টু মান্থস প্রেগন্যান্ট।”
বেঞ্জামিন এক সেকেন্ড,দুই সেকেন্ড,তিন সেকেন্ড কয়েক পল কেবল বউকে কোলে নিয়ে দৌড়ানো অবস্থায় মেয়েটার পানে তাকালো। মোলায়েম স্পর্শে বুঝালো সে ব্যাপক খুশি।
অথচ লোকটা দৌড়াচ্ছে। চোখে মারাত্মক আক্রোশ।
“বস,হাসপাতালের রুমেই নাহয় ম্যাডামকে রাখুন। ওরা চারিদিকে আছে।”
এলেক্সের রাশিয়ান ভাষা বুঝলো না নুসাইবা। তবে এটা আন্দাজ করছে সবকিছু নাগালের বাহিরে।
“কি হয়েছে?”
নুসাইবা ছোট্ট করে জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু বেঞ্জামিন সেদিকে আর জবাব দেয়নি। তার লম্বা পা দ্রুত দৌড়াচ্ছে। এলেক্সের উদ্দেশ্যে বলে,
“আমার জন্যে বাকি রোগীরা সাফার করবে কেনো? জাস্ট গাড়িটা ব্যাক সাইডে আনতে বলো। ড্রাইভ আমি করবো।”
বেঞ্জামিন চিৎকার করে।
নুসাইবা তার সেই চিৎকারে আরো শক্ত জড়িয়ে ধরে বেঞ্জামিনের কাঁধ,গলা।
“ভয় পায় না,জান। আমি আছি তো।”
“উম..জানি..”
মেয়েটা অস্থির।
বেঞ্জামিন দ্রুতই গাড়ির কাছে পৌঁছে। ড্রাইভিং সিটে বসার পূর্ব থেকেই ফায়ারিং শুরু। নুসাইবা ঘাবড়ে যায়। সে খুব কষ্ট করেই যেনো নিজেকে দমানোর চেষ্টায়। কিন্তু বারংবার ভেতরটা ভেঙে যাচ্ছে। নুসাইবাকে বসিয়ে বেঞ্জামিন ড্রাইভিংয়ে বসে। লোড করা পিস্তল হাতে তুলে নেয়।
স্পিডে গাড়ি টান দেওয়া অবস্থায় সে নুসাইবাকে নিজের কোমরের সাথে শুইয়ে দেয়। পিঠে হাত বুলায় আরাম করে,
“ঘুমানোর চেষ্টা করো,জান। আমি আছি। কিছু হবে না। মনে করো এটা একটা গেইম। একদম ভয় পায় না।”
নুসাইবা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বেঞ্জামিনের কোমর। তার পাজোড়া অন্য সিটে এলিয়ে দেয়। ভয়ে বুকটা অস্থির। কিন্তু বেঞ্জামিনের কড়া শুট করা শুনে আরও নেতিয়ে যায় সে। পরপর মনকে বুঝায়,
“উনি আঘাত না করলে বিপদ আমাদের উপরেই আসবে। রক্ষা করো মাবুদ!”
নুসাইবা তার স্বামীর পেটে মুখ গুঁজে পড়ে রইলো। তাদের গাড়ি কয়েকবার কড়া ব্রেক ধরে। বেঞ্জামিন তার পূর্বেই পিস্তলসহ মেয়েটার পিঠে ঠেসে রাখে। নুসাইবা ঠাণ্ডা সেই অস্ত্রের অনুভব বুঝে। খুব করে বুঝে।
কয়েক মিনিট পরেই ঠান্ডা হয় পরিস্থিতি। গাড়ি থামায় বেঞ্জামিন। স্টুয়ার্টের মুখের একটা অংশই বাদ রাখেনি সে শুট করা থেকে। কাহিনী কী জানতে চায় না। তবে হামলাকারী কাউকে সে বাঁচিয়ে রাখবে না।
ইথেন আসে দৌড়িয়ে পানির বোতল হাতে।
বেঞ্জামিন সেটা নেয়। নুসাইবাকে ডাকে আলতো করে,
“সাইবা? উঠো,পানি খাও।”
নুসাইবা উঠে ধীরে। পেটের দিকে অল্প ব্যথা। মেয়েটার চোখের অবস্থা দেখে বেঞ্জামিন তাকে কোলে তুলে নেয়। বৃদ্ধাঙ্গুলের সাহায্যে গালে আঁকিবুকি করে,
“ভয় হচ্ছে আমাকে?”
মেয়েটার চোখের পাতা কাঁপে। লোকটাকে সে ভয় পাচ্ছে না। মোটেও না। সে কেবল এই পরিস্থিতি নিয়ে ভীত। দুদিকে মাথা নাড়ে তার প্রেয়সী। পানির বোতলের দিকে ইশারা করলে বেঞ্জামিন তাকে অল্প পানি খাওয়ায়।
“ওরা কারা ছিল?”
নুসাইবা ভীতু ভঙ্গিমায় প্রশ্ন করে।
“স্টুয়ার্ট ছিল। ব্যবসায়িক কিছু ঝামেলা। অন্যজনের সাথে তাল মিলিয়ে আমার ক্ষতির চেষ্টা। ভয় নেই। ও চলে গিয়েছে।”
বাধ্য পাখিকে বুঝ দেয় বেঞ্জামিন। নুসাইবা দুইদিকে মাথা নাড়ে। ওভাবে বসে জড়িয়ে ধরল মেয়েটা তাকে,বেঞ্জামিন গাড়ি চালানোতে মনোনিবেশ করে।
সে স্টুয়ার্টকে শেষ করেছে। সাথে যারা আছে তাদের সবাইকে মাটিতে এমনভাবে পুতাবে যেনো পরবর্তীতে খুঁড়লে হাড় খুঁজেও না পাওয়া যায়।
অর্ধেক মিথ্যে বলেছে লোকটা প্রেয়সীকে বুঝানোর জন্য। মেয়েটাও অবুঝ পক্ষীর মতো স্বামী যা বললো সেটাই মেনে নেয়।
সেই রাতে বউকে কক্ষে ঘুম পাড়িয়ে বেঞ্জামিন তার মনস্টারের যত খারাপ দিক আছে সবটা দিয়ে খুন করেছে যারা জড়িত ছিল স্টুয়ার্টের সাথে। সেই ভয়াবহতা দেখেই ইথেন আতকে যায়। এতটা নির্দয় কখনো দেখেনি সে বেঞ্জামিনকে। এলেক্সের হাত চেপে ধরে ইথেন। বেঞ্জামিন জীবন্ত লোকটার চামড়া তুলে সেখানে এসিড ঢাললে সেই চিৎকারে ইথেন কুঁকড়ে যায়,
“কি সাংঘাতিক! বস আজ এতটা নির্দয়!”
“বস ম্যাডাম ছাড়া কারো জন্যে হৃদয়ের ভাব দেখায় না। সেখানে আজ ম্যাডাম থাকা অবস্থায় হামলা মানে বুঝেছো? ম্যাডাম স্যারের জান।ম্যাডামের ক্ষতি না হলেও ভয় তো পেয়েছে! সেই ভয়ের মাশুল তুলবে এই মনস্টার খুবই জঘন্যভাবে। আর সেটাই হচ্ছে।”
এলেক্সের কথায় ইথেন আরও নড়ে উঠে। দোয়াদ সেখানে দাঁড়িয়ে কীভাবে দেখছে সেটা বুঝলো না সে।
বেঞ্জামিনের পানে তাকালে দৃশ্যটা আবারো মাথায় ঝাঁজ তুলে। এত বলিষ্ঠ সুদর্শন লোক কিভাবে এমন ভয়ানক সাইকো কিলার,সে ভাবতে পারে না। ভাবতে যেনো চাচ্ছেই না আজ।
ভেতর থেকে শুধু একটা কথায় ভেসে আসে,
“বিস্ট ক্যান ডিস্ট্রয় দা ওয়ার্ল্ড ওনলি ফর হিস বিউটি।”
____________
তিনমাস যাবত দোতলায় আটকে নুসাইবা। শরীর এতটা খারাপ ছিল,মেয়েটা চেয়েও সিঁড়ি মাড়িয়ে নিচে নামতে পারলো না। পেট ব্যাথা আর বমি ছিল নিত্যসঙ্গী। এইযে গত সপ্তাহ ধরে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে আছে। বমি নেই বললেই চলে। মর্নিং সিকনেস এখন অনেকটাই কমেছে। গতরাতে কোমরে খিঁচ ধরে যাওয়ায় ঘুম আসেনি তেমন। বেঞ্জামিন কাজ করছিল ফোনে। অথচ তার অন্যহাত আলতো করে মেয়েটার কোমরে চাপ দিচ্ছিল,যেনো ব্যথাটা কিছু কমে। মেয়েটার ঘুম আসলো ভোরে,বেঞ্জামিন নিজেই ঘুম বিসর্জন দিয়ে বধূকে সেবা করেছে,ঘুমিয়েছে মেয়েটা ঘুমানোর পরেই। অথচ সকালে বেরিয়ে যায় দ্রুত জরুরি কাজে।
কিন্তু নুসাইবার ঘুম কাটেনি এখনো। সে বিছানায় শুয়ে আড়মোড়া কাটে। পর্দা সরানো নেই। ঘড়ি থেকে লাল রঙের দুত্যি ছড়াচ্ছে। ঘড়িতে দুপুর একটার কাছাকাছি। তখন ভেসে আসে বালিশের নিচ থেকে বিপবিপ ফোনের ভাইব্রেশন। নুসাইবা পড়নে নাইটি টেনে নেয়। সিল্কের নাইটির ফাঁক দিয়ে ভাসছে তার বক্ষাংশ। ফুলে থাকা পেট সহজে বুঝা যাচ্ছে। পিটপিট চোখে সে কল রিসিভ করে। এলো চুল এক হাতে ঠিক করে বলে,
“এই নাস্তা করেছেন?”
বেঞ্জামিনের গলা শুকিয়ে আসে। তার বধূ,তার জীবন। কেমন মাদক মাদক লাগছে এই মেয়েকে এমন এলোমেলো অবস্থায়ই। সকালে গভীর ঘুমে ছিল রমণী। অথচ বেঞ্জামিন তার গলার কিনারায় তীব্র চুমুতে দাগ বসিয়েছে সেটাই উঁকি দিচ্ছে। আর তার মহারাণীর ছিল না খবর। বেঞ্জামিন বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে কপাল ঘষে,
“লাঞ্চ টাইম এখন সাইবা। উঠো ফাস্ট,খাও কিছু।”
“নাহ। একদম না। আপনার বাবু পেটে আসার পর কেমন ভারভার লাগে আমার। ফিফটি কেজি আমি এখন।”
নুসাইবা নাক চুলকে জানায়। আরেকটু নড়লে ভেসে উঠে মেয়েটার অগোছালো বক্ষভাঁজ।
“ইউ আর লুকিং সো সে* মাই জান। মোবাইল আরেকটু নিচে ধরো।”
বেঞ্জামিন দাঁত দ্বারা ঠোঁট কাটে।
“কেনো?”
নুসাইবা অজানা বুঝে মোবাইল উপরে তুললে নিজেকে ছোট্ট স্ক্রিনে দেখে আতকে উঠে। মোবাইল সরাতে নিলে বেঞ্জামিন ইশারায় কঠোরভাবে জানায়,
“উহু,একদম না। বসো আরেকটু ঝুঁকে।”
“ছিঃ! লম্পট! ফোন রাখলাম।”
“সরাসরি দেখার জন্যে আসছি। খুবলে খাবো আমার ফিফটি কেজিকে।”
শেষের কথাটা টিটকারী দিয়ে বলে বেঞ্জামিন। মেয়েটার ওজন প্রেগন্যান্সিতে এই অল্পই বেড়েছে। এটা নিয়ে মেয়েটার জন্যে বড্ড দুশ্চিন্তায় থাকে লোকটা। অথচ প্রকাশ করে না কিছু। সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জিং সময় তার প্রেয়সীর। তবে রমণীর এই খাবারের প্রতি যেনো বড্ড অনিহা। তাও বেঞ্জামিন সবসময় মুখে তুলে খাইয়ে দেয়। অল্পতে বধূ তার হাঁপিয়ে উঠে এখন।
নুসাইবা ফোন রেখে গোসল সাড়ে। পুতুল হাবিবার সাথে নিচে নেমে সাক্ষাতের পাশাপাশি অল্প খাওয়াদাওয়া করে। লিভিংরুমে বসে গল্প করার সময় ভেসে আসে ইয়ামিন আর বেঞ্জামিনের কন্ঠ। নুসাইবা ভারী পেট নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। একটু ক্লান্ত, হাতে তার অদ্রি। মেয়েটা তাকে দেখলেই কেমন কোলে ছুটতে চায় এই অল্প বয়সেই।
বেঞ্জামিন লিভিংরুমে এলে,অদ্রি তার হাত নাড়ায়। লোকটা ছোট্ট অদ্রির গালে হাত ছুঁয়ে জানায়,
“পাপোচকা।” (আদরের বাবা)
“উম,না...আ” শব্দ করে অদ্রি। আবার ইয়ামিনকে দেখে বাচ্চাটা লাফিয়ে উঠতে চায়। অদ্রিকে ইয়ামিন নিলে বেঞ্জামিন হাত ধরে নুসাইবার,
“মেডিসিন খাওয়া হয়েছে?”
“বলছি।”
নুসাইবা কথা এড়ানোর চেষ্টায়। কারণ সবার সামনে বকা খাওয়ার ইচ্ছে নেই একদম।
“খাওনি। মাইর খাবে?”
বেঞ্জামিন তার কোমরের পিছে হাত দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সাহায্য করে। তবে মেয়েটার দুর্বলতা টের পেয়ে নিজেই কোলে তুলে নেয় বধূকে,
“ঔষুধ না খাওয়ার ফল দেখেছো? ফেলে দিই এখন?”
“ইস কি পাষাণ? প্রেগন্যান্ট বউকে নাকি ফেলে দিবে।”
নুসাইবা মুখ ঘুরায়।
“আহ,পিলারের পেছনে নিয়ে শুরু করব? এমন এক্সপ্রেশন দিচ্ছো,কন্ট্রোল হয় না।”
বেঞ্জামিন সুযোগ বুঝে জিহ্বা স্পর্শ করায় মেয়েটার কানে।
নুসাইবা লজ্জায় মরে যাওয়ার অবস্থায়। স্বামীর বিশাল কাঁধের মাঝে উঁকি দিয়ে দেখে কেউ আছে কিনা!
ভাগ্যিস নেই কেউই।
“আল্লাহ্!”
অস্ফুট সুর মেয়েটার।
বেঞ্জামিন তাকে ঔষধ খাওয়ায়। নুসাইবা বিছানায় আরাম করে শোয়। তখনই বেঞ্জামিন তার ব্লাউজে হাত দেয়,
“বলেছিলাম না ফিফটি কেজিকে খুবলে খাবো?”
তিরতির করে নুসাইবার সারা শরীর। সারাজীবন স্পর্শ পেলেও,লোকটার এমন স্পর্শে তনু কাঁপে তার। লাজে নাক রক্তিম হয়,
“আহ…অ..স্থির লাগে।”
“এটা সবসময়ই বলো,যখন আমি তোমাকে টাচ করি। উপস, ব্যাড টাচ।”
পরপর লোকটার অধর ছুঁয়ে যায় মেয়েটার সর্বাঙ্গে,হাতের ছোঁয়ায় কাবু হয় তার ছোট্ট রূপসী।
“সো সো সো টেম্পটিং। আহ,আমার সাই …বাহ,আমার রূপসী।”
বেঞ্জামিনের ঘোরমাখা সুর ভস্ম করে নুসাইবার সত্তা। মেয়েটার মিহি আর্তনাদে আরও উন্মাদ বনে তার প্রাণ।
_______________
বাহিরে বৃষ্টি নেমেছে। প্রকৃতির দোলন অল্প দেখা যাচ্ছে পর্দার ফাঁকে। উন্মুক্ত শরীরে কাউচে বসা বেঞ্জামিন। তার উরুতে বসে হাঁপাচ্ছে নুসাইবা। লজ্জায়,শরীরের চিনচিন ব্যথায় এখনো নাজেহাল অবস্থা তার। বেঞ্জামিন তার রূপসীর দিকে চোখ ফেরায় কবে! সে তো চোখেই যেনো হাজার বার স্পর্শ করছে তাকে এখনো…
“খারাপ লাগছে?”
“উহু…জানেন…”
নুসাইবা মাথা হেলিয়ে নেয়। চুলগুলো ভাসে দুইদিকে। বেঞ্জামিন সেই চুলে আঙুল ছোঁয়ায়,
“জানাও, ওয়াইফি।”
“একসময় ভাবতাম মেয়েরা শুধু কল্পনায় সুখী। কিন্তু…কিন্তু আপনি আমার জীবনে আসার পর থেকে,আমি অনুভব করি,আমি অনুভব করি…”
ফুঁপিয়ে উঠে মেয়েটা। বেঞ্জামিন মৃদু হাসে। তার এই রূপ অপরূপ। নুসাইবার বড্ড প্রিয় সত্তা তার স্বামী। সেদিকে একনজর তাকিয়ে আবার বলে,
“আমি বাস্তব জীবনে কল্পনার চেয়েও বেশি সুখী,কেবল আপনার জন্যে। আমার আদরের বেঞ্জামিনের জন্যে।”
“যদি বলি আমি মনস্টার,আমার জন্যে ভয়ে মানুষ নিজের জান নিজে দিতেও দ্বিধা করে না…তাহলে কি জবাব দিবে?”
বেঞ্জামিন তাকে আরও কাছে টানে। কপালে কপাল ঘষে।
নুসাইবা তার স্বামীর গালে হাত রাখে। কান্নার মাঝেও হেসে জানায়,
“মনস্টার যদি এতটাই সম্মান,আদর,যত্ন করে,ভালোবাসে, আমার কষ্টে আমার চেয়েও বেশি কষ্ট পায়,তাহলে তার শিকার হলে আমি ভাগ্যবতী। প্রেমে পড়ব এমনিতেই। মেয়েরা ভালোবাসার উন্মাদ,যার ভালোবাসা পায় সেখানে তাদের শেষ ঠিকানা গড়ে।”
কথাটা বলেই মিষ্টি হাসে সে। পরপর বলে,
“ভাগ্য ভালো,আমি একটা মনস্টারের শিকার হয়েছি। আই লাভ ইউ মনস্টার!”
“এন্ড মাই লাইফ ইজ স্টাক ইন ইউ…মাই বিউটি….”
বেঞ্জামিন তাকে সাবধানে দাঁড় করায়। ধরে নিয়ে যাচ্ছে বিছানার দিকে। চোখে ভেসে উঠলো মেয়েটাকে পাওয়ার জন্যে কি করা বাদ দেয়নি সে! এক পাগল উন্মাদ সে মেয়েটার। অথচ তার প্রেয়সী জানে না তার স্বামী তার জন্যে কতটা ভয়ানক প্রেমী।
নুসাইবা বিছানায় বসে। আলতো করে পেছনে হাত ঠেকিয়ে বলে,
“পায়ে খুব ব্যথা হচ্ছে।”
বেঞ্জামিন কয়েকটা বালিশ মেয়েটার কোমরের পিছে দেয়। হাত স্পর্শ করে বধূর উঁচু পেটে যেখানে আছে তার অংশ। অধর বাড়িয়ে চুমু দেয় সেথায়। পরপর বউয়ের পানে গভীর দৃষ্টি দিয়ে কন্ঠ অত্যন্ত নিচু করে বলে,
“আরাম করে বসো।”
নুসাইবা বসে আয়েশ করে। পরপর তার সামনে ফ্লোরে বসে বেঞ্জামিন। মেয়েটার পা কাঁধে তুলে নেয়। সেথায় আরামের ছোঁয়া দিয়ে পায়ে অধর ছোঁয়ায়,
“চোখ বন্ধ করো। সকল স্ট্রেস ছাড়ো। এইতো আমি আছি,রূপসী।”
“কি আদর আপনি! আমার আদর!”
মেয়েটা মুচকি হাসলে বেঞ্জামিন উঠে অধরে অধর ছোঁয়ায়। জিহ্বা দিয়ে মেয়েটার নিচ অধরে স্পর্শ করে হাস্কি সুরে আওড়ায়,
“আর তুমি আমার জীবন,যে আমার পিঞ্জিরায় আটকে আছো যখন থেকে তোমাকে আমি দেখেছি। আমার পাখি তুমি আমার শিকলে আটকে রবে আজীবন আমার সাথে……আমার সাই..বাহ….”
তার কথার বিনিময়ে মেয়েটা মুচকি হাসে। স্বামীর স্পর্শের আবেশ বুঝে। অথচ মেয়েটা জানেই না লোকটার কথার গভীরতা কতটা সত্যি। বাস্তব জীবনের মনস্টার আরন বেঞ্জামিনের এই আনহেলদি লাভস্টোরি কি অমায়িক পূর্ণতা পেলো পুরো উপন্যাস জুড়ে।
আসলে নারীরা প্রেমের উন্মাদ। যেখানে প্রেম পায় সেখানেই তাদের সর্বসুখ। আরন বেঞ্জামিন একজন রিয়েল সাইকো লাভার হয়েও বউয়ের জন্যে ছিল আসল প্রেমিকের দৃষ্টান্ত উদাহরণ।
আলবিদা এই আরন বেঞ্জামিনের তার সাইবার জন্যে পাগলাটে আনহেলদি লাভস্টোরি থেকে।এমন টক্সিক কন্ট্রোলিং উপন্যাস হ্যাপি এন্ডিং তখনই হয়,যখন প্রেমিক আরন বেঞ্জামিনের মতো সবদিকে পারফেক্ট হয়।
সমাপ্ত…………..
কপি করা নিষেধ। একটু ইমোশনাল হলাম এই উপন্যাস শেষ করতে। আসলে আরন বেঞ্জামিন চরিত্র লেখাটা আমার জন্যে একটা বিশাল চ্যালেঞ্জের চেয়েও কম ছিল না। একসাথে সে টক্সিক,মনস্টার,খুনি আবার বউয়ের কাছে বেস্ট হাজব্যান্ড। সবকিছু লিখতে মানাতে আমার অনেক মাথা খাটাতে হতো। অবশেষে একটা সুন্দর এন্ডিং দিলাম। আমার কান্না পায় প্রত্যেকবার উপন্যাস শেষ করার সময়।
আর লাস্টলি,আমার পাঠিকাদের জন্যে কিছু না বললে নয়। যারা রানিং অবস্থা থেকে প্রথম হতে এই উপন্যাসকে মনে প্রাণে লালন করেছো তোমাদের জন্যে আমার ভালোবাসা কখনো কমবে না। তোমাদের সবাইকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা,আদর,ভালোবাসা আমার কলিজা থেকে। এইভাবে আমার প্রত্যেক উপন্যাসে আমার সাথে থেকো। আশাকরি সামনেও ভালো রোমান্টিক কিছু উপহার দিবো ইন শাহ্ আল্লাহ্।
আমার গল্প দেওয়া হয় শুধুমাত্র আমার পেইজ সারা-Sara's Fiction Foundry এই পেইজে। সবাই ফলো দিবে।