ফন্ট সাইজ:
থিম:
আশিক আল জিন

১ম পর্ব

লেখক: তাসমিয়া তাসনিন প্রিয়া

#আশিক_আল_জিন

#সূচনা_পর্ব

#তাসমিয়া_তাসনিন_প্রিয়া

‎‎⚠️ 𝐒𝐓𝐎𝐑𝐘 𝐀𝐋𝐄𝐑𝐓 ⚠️

‎এই গল্পটি একটি ডার্ক রোমান্টিক ফ্যান্টাসি থ্রিলার।

‎যেখানে থাকছে:

‎🔸 এক জিন রাজপুত্রের অলৌকিক আসক্তি

‎🔸 নিষিদ্ধ ভালোবাসা ও ছায়া ঘেরা চুক্তি

‎🔸 টক্সিক রোমান্স, সাইকোলজিক্যাল কনফ্লিক্ট

‎🔸 ভৌতিক রাজ্যের রাজনীতি ও প্রতিহিংসা

‎🔸 অদৃশ্য আকর্ষণ, অদৃশ্য ছোঁয়া, এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

‎🔸এক রহস্যময়ী নায়িকা, যার রক্তে জিনদের ভবিষ্যৎ লুকানো…

‎🔸 প্রেমের নামে ছলনা, আর ছলনার আড়ালে সত্য

‎📌 গল্পের পুরুষ চরিত্র ফ্লড। তার ভালোবাসা গভীর, কিন্তু পথ বিপজ্জনক। সে তোমায় ভালোবাসবে, কিন্তু কখনও তোমার মন বুঝবে না। ‎সে রক্ষা করবে, আবার ভেঙেও দেবে।

‎📌 এই গল্পে নরম মন নিয়ে ঢুকো না।

‎এখানে সবাই মুখোশ পরে চলে। কেউ জিন, কেউ মানুষ, আর কেউ... কিছুই না অথবা অন্য কিছু...

‎

‎📛 বিঃদ্রঃ

‎এই কাহিনি বাস্তব নয়, ধর্মনিরপেক্ষ নয়, যুক্তিভিত্তিক নয়। এটি রূপকথা নয়–এটি অভিশপ্ত ভালোবাসার গল্প। যদি তুমি বাস্তবতা খুঁজতে চাও, তবে এই গল্প তোমার জন্য নয়। কিন্তু যদি তুমি হারিয়ে যেতে চাও এক অন্ধকার রাজ্যে– তবে স্বাগতম... “আশিক আল জিন ”র ছায়ার নিচে।

‎___________________________

পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ এক আলাদা জগত, যার সম্মন্ধে মানুষ আজ অবধি বিশেষ কিছু জানতে পারেনি। যখন কেউ নিঃশব্দে ঘুমায়, আর বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে আসে তখনই নির্দিষ্ট জায়গায় একটা ফাটল খোলে । ফাটলটা খুবই ক্ষণস্থায়ী।

‎অন্ধকারে ঢাকা, শব্দহীন, অথচ তীব্রভাবে জীবন্ত।

‎

‎নিচে নেমে গেলেই যা প্রথম চোখে পড়ে, তা কোনো মাটি নয় বরং জ্বলন্ত ছাইয়ের মেঘ। প্রতিটি ধাপে আগুন জমে থাকে, আর সেই আগুন ছুঁয়ে থাকে হাড়ের মতো শক্ত পাথর-রাজপথ। সেই পথ ধরে হাঁটলে কেউ আর ফিরে আসে না। কারণ এখানেই শুরু আল-খায়াল। জিন রাজ্য, যেটা সময়ের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে পৃথিবীর মতো দিন , রাতের হিসাব নেই– শুধু এক অচল সময়, যা গিলে খায় স্মৃতি, শরীর, অনুভব। এখানকার সময়-জ্ঞান পৃথিবীর থেকে আলাদা।

‎রাজ্যের আকাশ কালো নয়– বরং লালচে ধোঁয়ার মতো, যেখানে প্রতিটি ঝলকিতে দেখা যায় আগুনে পোড়া ছায়াদের মুখ। বাতাস এখানে শব্দ ছোঁয় না। ‎শুধু মাঝে মাঝে ভেসে আসে জিনদের ফিসফিস– ‎শপথের কথা, বিশ্বাসভঙ্গের কথা, আর এক অজানা কন্যার আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী।

‎এই রাজ্যে পাহাড়গুলো আগুনে তৈরি নয়,

‎বরং তারা প্রাচীন জিনদের মৃতদেহ। হাজার বছর আগের যুদ্ধের পর যাদের কবর দেওয়া হয়নি।

‎তাদের হাড়, তাদের ছায়া, আর তাদের অভিশাপ মিলে গড়ে উঠেছে পাহাড়গুলো। ‎রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক অদ্ভুত গম্বুজ।

‎যার ভিতরে সব সময় ঝরে পড়ে ছাই। অথচ কেউ জানে না, সেই ছাই আসে কোথা থেকে। কেউ বলে, ‎এটা কোনো কুয়ো না,এটা হলো জিন জাতির স্মৃতি। যত বেশি ভুলে যায় তারা নিজেদের পরিচয়, তত বেশি ছাই জমে এই গম্বুজে। আর যখন গম্বুজ ভরে ওঠে, ‎তখন আবার খোলে এক ফাটল, যা ছড়িয়ে পড়ে মানুষের জগতে। এই রাজ্য কোনো মানুষের জন্য নয়।

‎কেউ চাইলেই আসতে পারে না। কেউ ভুলে এলেও… ফিরে যেতে পারে না।

‎

‎

সিংহাসনে বসে আছেন মালিক আল জিন, জিন রাজ্যের সর্বেসর্বা তিনি। উনার কথাই এখানকার শেষ কথা। পাশেই অন্য সিংহাসনে বসে আছেন রাণী নূর আল জোহরা।

মালিক আল জিন–প্রায় সাত ফুট দীর্ঘ, শরীর যেন আগুনে ধোয়া কোনো অন্ধকার পাথরের মতো। চোখদুটো অগ্নিলাল, যেখানে কেউ তাকালে নিজের ভয় দেখতে পায়। কাঁধে ধোঁয়া পাকানো, নড়াচড়ায় বজ্রের মতো গাম্ভীর্য। তাঁর পিঠজুড়ে কালো চুল কুন্ডলী পাকিয়ে নেমে গেছে, মাথার দু’পাশে ছোট শিং–যা তাঁর রক্তের ভয়াবহ পরিচয়। তাঁর মুখে মৃদু হাসি থাকলেও, সেই হাসির নিচে চাপা পড়ে আছে সহস্র বছরের নিষ্ঠুরতা।

রাণী নূর আল জোহরা যেন অন্ধকার জগতের একমাত্র নক্ষত্র। তাঁর ধূসর-নীলাভ ত্বক জিন জাতির অহংকার। চোখ জোড়া ধোঁয়াচ্ছন্ন রূপালি–একবার তাকালেই সময় থেমে যেতে চায়। তাঁর চুল পিঠে নেমে আসা রাত্রির মতো কালো, মাঝে মাঝে সোনালি কণার ঝিলিক। পরনে আগুনে বোনা ধোঁয়াময় পোশাক, যা মানুষের চোখে অস্পষ্ট কিন্তু ভয়াবহ সৌন্দর্যের প্রতীক। হাতে রক্তরঙা রাজদণ্ড–যা তাঁর ক্ষমতা ও শীতল শাসনের চিহ্ন।

এই দুই রাজশক্তিকে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখলে মনে হয়, সময় থেমে গেছে। ভয়, শ্রদ্ধা আর বিস্ময়ে জমে ওঠে পুরো দরবার।

সবাই সিংহাসনের সামনে, মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কারো চোখে চোখ পড়ানোর সাহস নেই। রাজপ্রাসাদের গম্বুজজুড়ে গুমোট নিঃশ্বাসে জমে আছে ভয় আর অনিশ্চয়তা। বিকেল পেরিয়ে গিয়েছে, আকাশে জ্বলে উঠেছে কালচে রক্তরঙ সন্ধ্যার আলো, কিন্তু তবুও কেউ রাজপুত্র দুলফিকারকে খুঁজে আনতে পারেনি। দরবারের মেঝেতে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা।

“রাজপুত্র দুলফিকার কি কখনও দায়িত্বশীল হবে না, রানী?”

“আপনি তো জানেন, মহারাজ... দুলফিকার—”

মালিক আল জিন এক হাত তুলে রানীকে থেমে যেতে বললেন। তার চোখে ছিল অব্যক্ত হতাশা আর ক্লান্তি। মুহূর্তেই নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেল চারদিক, যেন শব্দ পর্যন্ত ভয় পেতে শুরু করেছে রাজসভার গম্ভীর পরিবেশে।

“প্রহরী, রাজপুত্র নুসাইরকে ডেকে আনো।”

“জি মহারাজ।”

প্রহরী কাশেম তৎক্ষণাৎ মাথা নিচু করে আদেশ মানল এবং দ্রুত পায়ে অন্দরমহলের দিকে ছুটে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে ফিরে এল,সঙ্গে রাজপুত্র নুসাইর আল কায়দ।

তার প্রবেশ যেন রাজসভায় আলোর ঝলক বয়ে আনল। দীর্ঘদেহী, গাঢ় খয়েরি পোশাকে আবৃত, তাঁর চোখে ছিল নিয়ন্ত্রিত আগুনের মতো তেজ –শান্ত, কিন্তু ভয়ঙ্কর। তার চিবুক দৃঢ়, কণ্ঠে ভারসাম্যপূর্ণ দৃঢ়তা। নীলাভ-ছায়াযুক্ত কালো চুল কাঁধে লুটিয়ে ছিল, আর গাঢ় বেগুনি চোখের গভীর দৃষ্টিতে একসাথে ছিল জ্ঞান, করুণা, আর এক রাজপুত্রসুলভ আত্মবিশ্বাস।

নুসাইর–দু’ভাইয়ের মধ্যে গুণে গরিমায় যেন সমস্ত রাজ্যের ভার তার কাঁধেই তুলে নেওয়ার মতো যোগ্য। বুদ্ধি, শক্তি, সৌন্দর্য–সবই তার মধ্যে ঈশ্বরচিহ্নের মতো বিধৃত। রাজনীতির মারপ্যাঁচ বোঝে, পিতার আদেশ মানে, প্রজাদের ভালোবাসে। সত্যিকারের এক “আদর্শ জিন”।

“বাবা!”

নুসাইর সম্মান দেখিয়ে এগিয়ে এল।

“তোমার ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, নুসাইর। নিশ্চয়ই সে আবার সেই নিষিদ্ধ এলাকায় গিয়েছে।”

মালিক আল জিনের কণ্ঠে ক্লান্তি।

নুসাইর মাথা হেঁট করে বিনয়ের সঙ্গে বলল, “আপনি চিন্তা করবেন না, বাবা। আমি দুলফিকারকে ফিরিয়ে আনছি।”

রাজা আর কিছু বললেন না। শুধু তাকিয়ে রইলেন নীরবে। পরক্ষণেই নুসাইর তার চারপাশে এক ধোঁয়ার মেঘ গড়ে তুলল–ঘন, কালো, নিঃশব্দ। আর ধীরে ধীরে সেই ধোঁয়ার ভেতরে মিলিয়ে গেল। রাজসভায় যেন আরও একবার নিস্তব্ধতা নেমে এল।

মালিক আল জিনের জীবনে দুলফিকার মানেই ক্লান্তি, উৎকণ্ঠা। যদিও যমজ, তবুও দুই ভাই যেন সম্পূর্ণ বিপরীত জগতের বাসিন্দা। নুসাইর, যে প্রতিটি শ্বাসে রাজপরিবারের মর্যাদা বজায় রাখে, আর দুলফিকার– এক বিদ্রোহী সত্তা, এক ভয়ংকর আগুন, যে নিয়ম মানে না, প্রজার যন্ত্রণা দেখে হাসে। শক্তিতে দুর্দান্ত, বুদ্ধিতে শানিত, সৌন্দর্যে দুর্নিবার–তবুও দুলফিকার, জিন রাজ্যের এক বেপরোয়া অন্ধকার।

____________

‎“বিগত কয়েক মাস ধরে আমার সঙ্গে যা ঘটছে, তা কেউ বিশ্বাসই করে না…লেখালেখি করি বলেই সবাই ভাবে আমি নিজের কল্পনায় ডুবে আছি। ‎যে ভয়ংকর অভিজ্ঞতাগুলো আমি অনুভব করি, ‎ওরা ভাবে সেসব আমার মস্তিষ্কের খেলা। কিন্তু আমি জানি... প্রতিদিন রাতে যখন ঘুমোতে যাই, কেউ একজন আসে। অদৃশ্য, অথচ কাছে। তার নিঃশ্বাস আমার গায়ে পড়ে। বুকের ওপর চাপ ফেলে। আমি দেখতে পাই না, তবুও সে যেন আমার শরীরের প্রতিটি কোষে ছড়িয়ে থাকে। আমি দম নিতে পারি না। চোখ খুলে থাকলেও, কেউ আমার পাশে থাকে। বাসার কেউ বিশ্বাস করে না। বলে আমি নাকি অসুস্থ। তাই একদিন... সব শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম আমি।”

‎

‎এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে থেমে গেল রুমানা।রুস্তম আল রুহান তখন নীরবে বসে ছিল। চোখে চিন্তার ছাপ। তার সামনে বসে থাকা মেয়েটি আর দশজন ‘আত্মহত্যাপ্রবণ’ নয়–সে কিছু বহন করে এনেছে সঙ্গে, অদৃশ্য, কিন্তু ভয়াবহ কিছু। রুস্তম ধীরে ধীরে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলেন।রুমানা কোনো প্রশ্ন করল না, শুধু গ্লাসটা নিয়ে ঢকঢক করে শেষ করে ফেলল।

‎রুস্তম উঠে দাঁড়াল। তার চলাফেরায় ছিল আত্মবিশ্বাস। তার গায়ে ধূসর পোশাক, কাঁধে রুহান পরিবারের পুরনো চিহ্ন। বয়স ষাট ছুঁইছুঁই প্রায়। এই মানুষটার পূর্বপুরুষরা অদৃশ্য জগতের দরজায় হাত রেখে থেকেছে, আর এখন সেই উত্তরাধিকার বহন করছেন রুস্তম।

‎তিনি বুঝতে পারছেন, রুমানার শরীরের মধ্যে কেউ প্রবেশ করেছে।কিন্তু প্রশ্ন হলো– কে? কেন? আর সে ঠিক কতটা ভয়ংকর?

‎

‎" শান্ত হয়ে বসো। ভয় পেও না। "

‎রুস্তম একটি পুরোনো কাগজ বের করলেন টেবিলের নিচ থেকে চামড়ায় মোড়া, কালো রঙের, তার ওপর অদ্ভুত হরফে আঁকা ছিল কিছু গূঢ় লেখা। রুমানা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জানালার পর্দা দুলে উঠল। বাতাস থেমে গেল। ঘরের বাতি হঠাৎ দপ করে নিভে গেল।ঘরের বাতি নিভে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রুমানার শরীর কেঁপে উঠল। সে একটানা কাঁপছিল, যেন ঠান্ডায় নয়, অন্য কোনো জ্বরে আক্রান্ত।

‎তার চোখ হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেল, আর ঠোঁট কেঁপে উঠল, কিন্তু কণ্ঠ থেকে কোনো শব্দ বেরোল না। রুস্তম আল রুহান টেবিলের নিচ থেকে আরো এক চর্মসজ্জিত বাক্স বের করলেন।

‎তার মধ্যে ছিল রুহান বংশের পুরোনো প্রতিরক্ষা পাথর, একটি ধূসরাভ-রক্তিম রত্ন, যার নাম ছিল "খাসম”।

‎পাথরটি রুস্তম রুমানার দিকে এগিয়ে ধরতেই

‎ঘরের বাতাস হঠাৎ গাঢ় হয়ে উঠল, যেন অক্সিজেন শেষ হয়ে আসছে। রুমানা আচমকা চিৎকার করে উঠল–

‎“না!! দিও না! দূরে সরাও ওটা! সে জ্বলে যাবে!”

‎কণ্ঠটা ছিল না রুমানার নিজের। গলার আওয়াজ যেন কয়েকটি স্তরে চলছিল একসাথে– একটা রুমানার, অন্যটা অতল কোনো পুরুষ কণ্ঠ, আরেকটা নারীজাতীয় বিকৃত ফিসফাস।

‎রুস্তম দৃঢ় গলায় বললেন,

‎“তুমি কে? রুমানাকে ছেড়ে দাও। তুমি এখানে তোমার জায়গায় নও।”

‎রুমানা দাঁড়িয়ে গেল, তার দেহটা যেন লম্বা হয়ে উঠছে, হাড়ের গঠন বিকৃত, চোখ দুটো রক্তাভ কালো। তার ঠোঁট ফেটে রক্ত বেরুচ্ছে।

‎“রুহান রক্ত... বহু বছর পর আবার… গন্ধ পেলাম তোমার।”

‎রুস্তম পাথরটা উঁচু করে ধরলেন। খাসম পাথরটা তখন জ্বলতে শুরু করল ধোঁয়া ছাড়িয়ে,আর রুমানার শরীর একবার ঘুরে গিয়ে মেঝেতে পড়ে গেল, কাঁপতে কাঁপতে চিৎকার করে উঠল, যেন তার ভেতরে কেউ ছটফট করছে। পাথরটি তার মাথার কাছে আনতেই হঠাৎ কিছু বেরিয়ে এল,

‎এক ঘন কালো ধোঁয়ার দল, যার মধ্যে লালচে দুটি চোখ জ্বলছিল।

‎একটা কণ্ঠ ফিসফিস করে বলল,

‎“সে আমার। তুমি চাইলেই তাকে বাঁচাতে পারবে না, রুস্তম। সে আমাকে চুক্তি দিয়েছে… নিজের অজান্তে।”

‎রুস্তম ধীর কণ্ঠে বললেন,

‎“চুক্তি না ভাঙলে, আমি তোমাকে ছিঁড়ে ফেলব। তুমি জানো রুহানরা কী করতে পারে।”

‎

‎ধোঁয়াটা কিছুক্ষণ আকাশে পাক খেয়ে, একটা অদৃশ্য টান অনুভব করে আবার রুমানার শরীরের কাছে ফিরে গেল। পাথরের আলো নিভে গেল।

‎রুমানা নিস্তেজ, অজ্ঞান হয়ে পড়ল মেঝেতে।

‎রুস্তম তখন জানালার দিকে তাকিয়ে খুব ধীরে বললেন,

‎

‎“এই মেয়েটি কিছু লুকিয়ে রেখেছে।‎এ শুধু আসর নয়… এ গভীর কিছু।‎তাকে বাঁচাতে হলে, অতীত খুঁড়তে হবে।”

‎

নুসাইর সাদা-কালো ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে একের পর এক অলৌকিক স্তর অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছে। চারদিকের বাতাস ভারী, বিষাক্ত এবং অদ্ভুতভাবে নীরব। এটি জিনরাজ্যের এক ভয়ংকর কোণ–আল-যালিম এলাকা, যেখানে বসবাস করে রাজ্যচ্যুত, বিকৃত, খারাপ-জিনেরা। তারা কারো নির্দেশ মানে না, রাজপরিবারের প্রতি ঘৃণায় তাদের চোখ জ্বলে।

‎এক সময় ধোঁয়া সরে গেলে সামনে ভেসে উঠল এক নষ্ট ভূখণ্ড। চারপাশে পাথর ছড়ানো, ভূমি ফেটে ফেটে গাঢ় রক্তের মতো তরল বেরিয়ে আসছে। বাতাসে পচা কিছু একটা পোড়া গন্ধ। মৃত ছায়াগুলোর মতো কিছু অদৃশ্য সত্তা দূরে ঘোরাফেরা করছে– চোখে আগুনের রেখা।

‎নুসাইর সাবধানে এক পাথরের আড়ালে দাঁড়াল।

‎ঠিক তখনই দূরে দেখা গেল এক বিশাল কালো পাথরের ওপর বসে আছে রাজপুত্র দুলফিকার। গা ভর্তি ধুলো, চোখে লালচে আভা, ঠোঁটে বিদ্রুপের হাসি। তার সামনে এক বদ জিন হাঁটু গেঁড়ে বসে, ফিসফিস করে কিছু বলছে। দুলফিকার তার দিকে তাকিয়ে বলল,

‎“ আজকে তুমি এসো, আমার ভাই এসেছে। "

‎দুলফিকারের কথায় খারাপ জিনটি চলে গেলো।

‎নুসাইর ধীরে ধীরে সামনে এল।

‎“দুলফিকার! তুমি এখানে?”

‎দুলফিকার মাথা ঘুরিয়ে একবার তাকাল।

‎“ওহ, আমার প্রিয় যমজ... তুমি কি আমাকে ফের রাজসভার বন্দী বানাতে এসেছো?”

‎“তুমি জানো এখানে আসা নিষিদ্ধ। বাবা চিন্তায় আছেন। চল।”

‎“চলো? হা-হা...”

‎দুলফিকার দাঁড়িয়ে পড়ল। তার শরীর থেকে কালচে ধোঁয়া উঠছে। শুধু রাগ নয়, কোনো অজানা শক্তির ঘনত্ব যেন শরীরে ফুটে উঠছে।

‎“তুমি জানো না, ভাই। এখানেই আমার ভালো লাগে । রাজসভা আমাকে বেঁধে রাখে, এখানে আমি মুক্ত।”

‎নুসাইর এবার রূঢ়ভাবে বলল,

‎“এই আগুন একদিন তোমাকেই পুড়িয়ে দেবে, দুলফিকার। এখন চলো।”

‎দুলফিকার কিছু বলল না। কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে হেসে উঠল, তারপর ধীরে ধীরে বলল,

‎“তোমার জন্যই ফিরছি। "

‎তারপর তারা ধীরে ধীরে রাজপ্রাসাদের পথে ফিরতে শুরু করল।

‎চলবে…..

প্রিয় পাঠক, সম্পূর্ণ আলাদা একটা জগতে ডুবে যেতে চলেছি আমরা। তবে শুরুতেই চমক না থাকলেও ধীরে ধীরে গল্পটা ভালো লাগবে, আশা করি। আপনাদের শুধু একটু এগিয়ে যেতে হবে। ❤️

দ্বিতীয় পর্ব- https://www.facebook.com/100085130931546/posts/724083777105980/

তৃতীয় পর্বের লিংক - https://www.facebook.com/share/p/1CXwedPR2b/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন