#আশিক_আল_জিন
#পর্ব_১১
#তাসমিয়া_তাসনিন_প্রিয়া
রাতের শহর নিস্তব্ধ। আকাশে আধো চাঁদ ভাসছে। কলেজ থেকে ফেরার পর থেকেই আজ আরিবার মাথা যেন ভীষণ ভারী হয়ে আছে। খাতার পাতায় তাকিয়ে থেকেও অক্ষরগুলো তার চোখে ঝাপসা হয়ে আসছে। হঠাৎ বাতাস ভারী হয়ে উঠলো। জানালার পর্দা জোরে কেঁপে উঠল, অথচ বাইরে বাতাস একটুও নেই। আরিবা ভাবলো দুলফিকার এসেছে হয়তো। কিন্তু কয়েক মুহুর্তে বুঝতে পারলো, এটা অন্য কিছু। বুক ধড়ফড় করতে শুরু করল আরিবার।
“কে… কে ওখানে?” আরিবা ভয়ে কাঁপা কণ্ঠে বলল।
কোনো উত্তর নেই। কিন্তু ঘরের এক কোণ থেকে যেন গাঢ় ছায়া গড়িয়ে পড়ছে। ছায়াটা ধীরে ধীরে আকার নিচ্ছে। মানুষের মতো, অথচ চোখ দুটো অন্ধকার আগুনের মতো লাল। আরিবা চিৎকার করে উঠলো, কিন্তু কণ্ঠ আটকে গেলো গলায়। ছায়া জিন তার দিকে ধেয়ে এলো, চারপাশের বাতাস জমে বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেল। সেবার জিন রাজ্যে লড়াইয়ের সময় ছায়া জিনরা বুঝতে পেরেছিল, আরিবার কাছেই স্ফটিকের দ্বিতীয় অংশ আছে। সেই থেকেই আরিবাকে টার্গেট করেছিল তারা। আজ সুযোগ পেয়ে আরিবার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যই এসেছে। আরিবা ভয়ে মেঝেতে ছিটকে পড়লো। চোখ ছলছল করছে তার৷ দুলফিকারকে মনে মনে স্মরণ করতে লাগলো সে।
ঠিক তখনই বজ্রপাতের মতো শব্দ হলো! দুলফিকার হাওয়ায় ভেসে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করল। তার চোখে আগুন জ্বলছে, হাতে শিখার বল।
“ তোদের সাহস কীভাবে হয়, আমার ফুলের কাছে আসার! “
“ ফুলকে নষ্ট করার জন্য! “
ছায়া জিন হিংস্র গর্জন ছুঁড়ে দিলো। মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর শিখা আর অন্ধকারের লড়াই শুরু হলো।
আরিবা স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। তার বুক কাঁপছে, শরীর জমে গেছে। ঠিক তখনই দরজার পাশে দাঁড়িয়ে গেলো আরেকটা অবয়ব– নুসাইর। শান্ত অথচ কঠিন মুখে সে দুলফিকারের পাশে এসে দাঁড়ালো। দুই ভাই একসাথে! দুলফিকার এই মুহুর্তে নুসাইরকে নিয়ে কিছু ভাবলো না। তবে আরিবা চমকাল। দুলফিকারের মতোই দেখতে সে, কিন্তু কে?
নুসাইরের হাতে নীলচে আভা জ্বলে উঠলো। তার ঠোঁট নড়ে উঠলো মন্ত্রের মতো। বাতাসের ভেতর যেন হাজারো অদৃশ্য শব্দ প্রতিধ্বনিত হলো। ছায়া জিন কুঁকড়ে উঠল।
দুলফিকার গর্জে উঠল,
“এই মেয়ে আমার। ওর গায়ে হাত দিতে হলে আমার সাথে লড়তে হবে আগে!”
একসাথে শিখা আর নীল আলো ছুটে গেলো। ঘর যেন কেঁপে উঠলো। ছায়া জিনের চিৎকার চারদিকে প্রতিধ্বনিত হলো। কয়েক মুহূর্তের লড়াইয়ের পর সেটা ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে গেল।
ঘর আবার নিস্তব্ধ। কেবল ধোঁয়ার গন্ধ আর ভাঙা কাচের শব্দ চারপাশে।
আরিবা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে দুলফিকারের দিকে তাকালো।
“এটা… এটা কী হলো?”
দুলফিকার তাকে বাহুতে জড়িয়ে ধরে মৃদু কণ্ঠে বললো,
“তুমি নিরাপদে আছো। আমি আছি।”
কিন্তু নুসাইরের চোখে অন্যরকম শীতলতা। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে জানালা দিয়ে চলে গেলো। দুলফিকারের মনে প্রশ্ন নুসাইর এখানে কেন এবং কীভাবে?
“ উনি… উনি কে ছিলেন? তোমার মতোই দেখতে! “
“ আমার যমজ ভাই, নুসাইর। তোমাকে রক্ষা করতেই এসেছিলো। তুমি ভয় পেও না। তোমার ওপর কোনো আক্রমণ হওয়ার সাথে সাথে আমি টের পেয়ে যাবো। “
“ কিন্তু ওরা কারা? কেন এসেছিলো দুলফিকার? আমার… আমার ভীষণ ভয় লাগছে। “
আরিবা অবুঝের মতো ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। আর মুহুর্তেই দুলফিকারের ভেতরে যেন তোলপাড় শুরু হয়ে গেলো। আরিবার চোখের জল দুলফিকারের হৃদয়ে আঘাত করছে। সে আরিবার কপালে চুমু খেলো, পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
“ কাঁদে না, লক্ষ্মীটি। আমি আছি, ভয় পেও না৷ “
দুলফিকারের রাগে শরীর থরথর করে কাঁপছে, তবুও আরিবার সামনে সে শান্ত নদীর জলের মতো দাঁড়িয়ে আছে। কারণ আরিবা এমনিতেই ভয়ে কাঁদছে। ছায়া জিনদের এবার কিছু একটা করতে হবে। আরিবা কিছু বললো না চুপচাপ, দুলফিকারের বুকে মুখ গুঁজে দাঁড়িয়ে রইলো।
এরমধ্যেই ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলেন রুস্তম ও সালমা। তাদের উপস্থিতিতে আরিবা চমকালেও দুলফিকার আগের মতো দাঁড়িয়ে রইলো। আরিবা দুলফিকারের থেকে নিজেকে সরাতে চাইলেও সে ছাড়লো না। রুস্তম ও সালমা এবার দুলফিকারকে স্পষ্ট দেখতে পেলো। লম্বা, সুঠাম দেহের এক সুদর্শন যুবক, চুলগুলো তার কাঁধ ছুঁইছুঁই। তার মুখে অদ্ভুত কোমলতার সাথে কঠোরতার ছাপ স্পষ্ট। রুস্তম ভালো করেই বুঝতে পারছেন, এই যুবক নিশ্চয়ই জিন। কিন্তু আরিবার সাথে এই জিনের কেন এই ঘনিষ্ঠতা?
“ দুলফিকার! ছাড়ো… আব্বাজান, আম্মিজান এসেছেন। “
ফিসফিস করে বলল আরিবা। দুলফিকার ক্রুর হাসলো। আরিবাকে একহাতে জড়িয়ে ধরে অন্য হাতে কিছু একটা জাদু করলো। সাথে সাথে রুস্তম ও সালমা উধাও হয়ে গেলো। চমকাল আরিবা। চেঁচিয়ে উঠলো সে।
“ তুমি কী করলে উনাদের সাথে? “
“ অহেতুক চিন্তা করতেন উনারা, তাই সবকিছু ভুলিয়ে নিজেদের কক্ষে পাঠিয়ে দিলাম। ভালো করেছি না?”
হেসে হেসে বলল সে। আরিবা হাঁপ ছেড়ে বাঁচল।
“ হ্যাঁ, ভালো করেছো। আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম। আপনি যথেষ্ট রাগী। “
দুলফিকার আরিবাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানার দিকে এগোল। আস্তে করে শুইয়ে দিল তাকে। আরিবাকে শুইয়ে দিয়ে, দুলফিকার ওর পাশে কনুইতে ভর দিয়ে শুয়ে বলল,
“ আমি যে রাগী এটা তুমি কীভাবে বুঝলে?”
আরিবা দুলফিকারের বুকে মুখ গুঁজলো আবার। দুলফিকার তার পিঠে আঙুলের সাহায্যে আকিঁবুকিঁতে মেতে উঠলো।
“ আপনার চোখ দেখলেই বোঝা যায়। “
“ তুমি ভয় পাবে বলে আমি কখনো রাগ প্রকাশ করি না। “
“ সত্যি? ভালোই করেছেন। নয়তো সত্যি ভয় পেতাম। এমনিতেই আজকাল অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে আমার সাথে। “
“ কী হয়েছে? বলো আমাকে। “
“ মাঝে মধ্যে মনে হয়, আমি অনেক দূরের শব্দ শুনতে পাই। আবার কখনো কখনো চোখ বন্ধ করলে অন্য জায়গার দৃশ্য দেখি। “
দুলফিকার হেসে উঠল। কথার ফাঁকে আরিবার পিঠ উন্মুক্ত করতে লাগলো।
“ জিনের সাথে থাকতে থাকতে হয়তো অন্য কোনো শক্তি পেয়ে যাচ্ছো। “
দুলফিকার আরিবার উন্মুক্ত পিঠে আঙুলের সাহায্যে টিজ করাতে চোখমুখ খিঁচিয়ে আছে আরিবা। বুক ধুকপুক করছে মেয়েটার। কেমন অদ্ভুত ভয় লাগছে।
“ আপ…আপনি এরকম করছেন কেন? আমার এসবে ভয় লাগছে। “
ভ্রু কুঁচকে ফেলল দুলফিকার। কী করলো সে? আচমকাই দুলফিকার খেয়াল করলো তার অজান্তেই সে আরিবাকে জ্বালাচ্ছে। তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়ল দুলফিকার। এতো ধৈর্য জীবনেও ধরেনি সে অথচ আরিবার জন্য তাকে কতটা ধৈর্য ধারণ করতে হচ্ছে।
“ আমি খেয়াল করিনি আরিবা। ভয় পেও না। আমি কিছু করছি না আর। “
দুলফিকার আরিবার পোশাক ঠিক করে দিয়ে বলল। আরিবাও হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। কিছুক্ষণ কথা বলার পর দুলফিকার জিন রাজ্যের উদ্দেশ্য বেরিয়ে গেলো।
অন্ধকার আকাশের নীচে জিন রাজ্যের প্রাসাদ আলো ঝলমল করছে। ছায়া জিনের সঙ্গে লড়াই শেষে দুই ভাই ফেরত এসেছে। তবে নুসাইর এসেছিল আগেই, দুলফিকার মাত্র এলো।
দুলফিকার প্রাসাদের ছাদে দাঁড়িয়ে আছে। তার বুক ওঠানামা করছে, চোখ জ্বলছে ক্রোধে। সে নিশ্চিত নুসাইর না এলেও, একা সে ছায়া জিনকে সামলাতে পারতো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন নুসাইর হঠাৎ আরিবার পাশে গিয়ে দাঁড়াল? নুসাইর একপাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে। তার মুখে ক্লান্তির রেখা, কিন্তু চোখে অন্যরকম তীব্রতা। দুলফিকার তাকাচ্ছে তার দিকে, যেন নীরব প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে,
“ কেন গেলে? কেন আমার জায়গায় ওকে রক্ষা করলে?”
হাওয়া ভারি হয়ে উঠেছে। প্রাসাদের ভেতর মশালগুলো টিমটিম করছে। কয়েক মুহূর্তের নীরবতা, তারপর নুসাইর ধীরে মাথা তুলল। তার ভেতরের সমস্ত দ্বিধা যেন ভেঙে গেল। নুসাইর জানে, সত্য লুকিয়ে রাখা আর সম্ভব নয়। আর এটাও জানে, দুলফিকার আগুনের মতো। কাউকে ভালোবেসে ফেলেছে সে, পিছু হটার পাত্র নয় সে। তবুও এবার সে নিজের সত্য ঢাকতে পারছে না। নুসাইরের চোখেই সবকিছু প্রকাশ পাচ্ছে যেনো। দুলফিকার সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছে না আজ। কিন্তু নুসাইরের চোখে অদ্ভুত দৃঢ়তা। দুলফিকার বুঝে গেলো এবার, এটা কেবল ভাইয়ের কর্তব্য নয়, এর পেছনে অন্য কারণ আছে। এক মুহূর্তের জন্য দুই ভাইয়ের চোখে চোখ আটকে গেল। তাদের দৃষ্টির ভেতর ঝলসে উঠল একই আগুন– আরিবা। সেই নীরব মুহূর্তেই দুলফিকার সব বুঝে গেল। নুসাইরও আরিবার প্রতি দূর্বল, ভীষণ রকমের দূর্বল। কিন্তু বাবামায়ের বাধ্য সন্তান হওয়ার ফলে নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করতে পারেনি শুধু!
সকালের রোদ নরম আলো ছড়াচ্ছে। ক্যাম্পাস ভরে আছে ছাত্র-ছাত্রীদের কোলাহলে। লম্বা বারান্দা ধরে হেঁটে আসছে আরিবা আর হাবিবা।
হাবিবা মুখে সবসময় যেমন হাসিখুশি ভাব থাকে, আজও তাই।
“তুই আবার কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছিস, আরিবা! এই কয়দিন ধরে তোর মুখে আগের মতো হাসি দেখি না।”
আরিবা ব্যাগের স্ট্র্যাপ শক্ত করে ধরে নরম গলায় বলল,
“তেমন কিছু না। একটু… মাথা ভার হয়ে আছে।”
হাবিবা ভ্রু কুঁচকালো।
“আমায় না বলে লুকাচ্ছিস কেন? আমি কি তোকে চিনি না?”
আরিবা উত্তর দেওয়ার আগে হঠাৎ ক্লাসে ঢুকে পড়লেন তাদের লেকচারার– স্যার রোদ্দুর। সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, হাতে বই। স্যারের মুখ সবসময় শান্ত, তবে ভেতরে কী চলে কেউ জানে না।
“চলো ক্লাস শুরু করি।”
স্যারের কণ্ঠ ভারী, অথচ অদ্ভুত এক টান আছে।
হাবিবা খাতায় কলম চালাতে চালাতে খেয়ালই করেনি, রোদ্দুর স্যারের দৃষ্টি বারবার তার দিকে আটকে যাচ্ছে। তিনি চোখ ফিরিয়ে নেন ঠিকই, কিন্তু মনে মনে কিছু যেন বলতে চান। যা কখনো প্রকাশ করতে পারেন না।
হাবিবা গম্ভীর মেয়ে। পড়াশোনার বাইরে অন্য কোনো দিকে তাকায় না। ক্লাসে চোখ নামিয়ে লিখে চলে যায়, হাসাহাসি, মজা সবকিছুর বাইরে। তার সেই গম্ভীরতাই হয়তো রোদ্দুর স্যারের মনে অন্যরকম আলোড়ন তোলে। রোদ্দুর নিজেও গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ।
অন্যদিকে আরিবা খাতার পাতায় তাকিয়ে থেকেও মনোযোগ দিতে পারছে না। কাল রাতের ঘটনার ছায়া তার চোখেমুখে লেগে আছে। মাঝে মাঝে চমকে উঠে চারপাশ দেখে নিচ্ছে। ভয় লাগছে, এই বুঝি ছায়া জিন চলে এলো ভেবে।
হাবিবা ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলো,
“তুই কি ঠিক আছিস তো? হাত কাঁপছে কেন?”
আরিবা জোর করে হাসল।
“না, ঠিক আছি।”
রোদ্দুর স্যার বোর্ডে লিখতে লিখতে একবার ঘুরে তাকালেন। চোখে পড়ল আরিবার মুখটা অস্বাভাবিক ফ্যাকাসে। স্যার কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলেন, তারপর ধীরে বলে উঠলেন,
“আরিবা, তুমি অসুস্থ নাকি?”
ক্লাসের সবাই তাকালো তার দিকে। আরিবা চুপ। বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে যাচ্ছে।
স্যার রোদ্দুরের দৃষ্টি এবার স্থির হলো। কিন্তু তার দৃষ্টি হাবিবার উপর যতটা পড়ে, তারচেয়েও বেশি কৌতূহল জমে উঠছে আরিবার চারপাশে অদ্ভুত শূন্যতা নিয়ে। ক্লাসের ভেতর এক নিঃশব্দ টান যেন জমে উঠল।
“ আমি ঠিক আছি, স্যার। “
“ ঠিক আছে। “
সবাই আবার ক্লাসে মনোযোগ দিলো। হাবিবাও বোর্ডের দিকে তাকাল। আরিবাও পড়াশোনার দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলো এবার।
গত ক’দিন ধরে আরিবার শরীরের ভেতর অদ্ভুত পরিবর্তন হচ্ছে। হঠাৎ করেই তার শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে, কখনো আবার চারপাশ শীতল হয়ে উঠছে। আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের চোখে কখনো নীলাভ ঝলক দেখা যায়, কখনো রক্তিম লাল।
কলেজে সেদিন হাবিবা মজা করে বলেছিল,
“তুমি রাগ করলে গরম হাওয়া ওঠে কেন? “
আরিবা তখন ঠোঁট কামড়ে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে ভীত হয়ে পড়েছিল ঠিকই।
গতকাল রাতে ঘরে একা বসে হোমওয়ার্ক লিখছিল আরিবা। হঠাৎ খাতা থেকে কলম গড়িয়ে মাটিতে পড়তেই, চোখের সামনে অদ্ভুত দৃশ্য ঘটল – কলমটা নিজে নিজেই ভেসে উঠল, কয়েক সেকেন্ড বাতাসে ঘুরে আবার টেবিলে পড়ে গেল।
আরিবা হতভম্ব হয়ে গেয়েছিল। বুক ধড়ফড় করছিল। হাত কাঁপছিল, শরীর ঘেমে উঠেছিল।
সেসব ভেবে আরিবার চোখে ঘুম নেই আজ। দুলফিকারও দু'দিন হলো আসেনি। আরিবার মনে প্রশ্ন অনেক।
“এটা কীভাবে সম্ভব হলো? আমি কি…?”
তার ভেতরের শক্তি যেন বারবার জানান দিচ্ছে
সে সাধারণ কোনো মানুষ নয়। কিন্তু কী সেই শক্তি? কেন বারবার নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে? সেই উত্তর এখনো অজানা…
চলবে….
যারা ইরোটিক রোমান্স ও দুষ্ট মিষ্টি ভালোবাসা পছন্দ করেন তারা "আমার সুপারস্টার " ই-বুকটি পড়ুন। মাত্র ২৭ টাকায় বইটই এপসে পাবেন। প্রোমো কোড ব্যবহার করবেন অবশ্যই।
📌ই-বুক লিংক - https://link.boitoi.com.bd/n1A1
📌যেভাবে বইটই থেকে ই-বুক ক্রয় করবেন:
https://youtube.com/shorts/6NjaAveyh6A?feature=share
আগের পর্ব https://www.facebook.com/100085130931546/posts/733325009515190/