ফন্ট সাইজ:
থিম:
আশিক আল জিন

১২তম পর্ব

লেখক: তাসমিয়া তাসনিন প্রিয়া

#আশিক_আল_জিন

#পর্ব_১২

#তাসমিয়া_তাসনিন_প্রিয়া

প্রাসাদের ছাদে রাতের নীরবতা। বাতাসে মশালগুলোর আলো ঝাপসা ঝলমল করছে।

দুলফিকার এক কোণে দাঁড়িয়ে, চোখে অগ্নি ঝলক। নুসাইর ধীরে ধীরে কাছে এসে দাঁড়াল। তাদের মধ্যে দূরত্ব যতই হ্রাস পাচ্ছে, মন ভরে উঠছে অজানা উত্তেজনা আর দ্বন্দ্বে।

দুলফিকার কণ্ঠে অল্প কড়া, কিন্তু শান্ত।

“ নুসাইর আমি জানি তুমি কেন আরিবাকে রক্ষা করতে গিয়েছিলে। কিন্তু তুমি হঠাৎ এসে ওর পাশে দাঁড়ালে, আমার জায়গায়। তুমি কি ভাবলে, আমি সেটা সহজে মেনে নেব? তুমি ভালো করেই জানো আমার মাঝে উদারতা নেই। ”

নুসাইর চোখে অদ্ভুত তীব্রতা, কিন্তু ভেতরে একটা কষ্ট লুকিয়ে রেখেছে। ম্লান কণ্ঠে বলল সে,

“ তুমি ভুল বুঝছো। আমি তোমার জায়গায় যেতে চাই না কখনো। আমি শুধু চাইছিলাম ও নিরাপদে থাকুক। দুলফিকার তোমার শুনতে খারাপ লাগলেও সত্যি এটাই, আরিবা আমার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি আমি না যেতাম ওর ওপর ছায়া জিন আক্রমণ করতো। আমি বুঝতে পারিনি তুমিও পৌঁছে যাবে।”

দুলফিকার গম্ভীর চাহনি দিয়ে তাকাল।

“ এমন সত্যি আমার সামনে আর কখনো বলতে এসোনা। আমি তোমাকেও ভালোবাসি, ভাই তুমি আমার। আমার সঙ্গিনীর নিরাপত্তার জন্য আমি যথেষ্ট। “

নুসাইর ধীরে ধীরে মাথা নুয়ে বলল,

“ দুলফিকার আমিও তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু আরিবার স্বার্থ আগে। যদি কখনো দরকার পড়ে, তুমি একা পরিস্থিতি সামলাতে না পারো তনে আমরা নিজের জেদ পেছনে রাখব। একসাথে রক্ষা করবো তাকে।”

দুলফিকার কণ্ঠে অল্প হেসে বলল,

“ আশা করি তেমন পরিস্থিতি কখনো আসবে না। যদি আসে আমি তোমার কথা মেনে নেবো। ”

নুসাইর হালকা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

দু’জনের চোখে চোখ আটকে গেল। এক অদ্ভুত নীরবতা, যেখানে বোঝাপড়া, দ্বন্দ্ব, ভালোবাসা, দায়িত্ব সব মিলেমিশে ছন্দ তৈরি করছে।

ছাদের বাতাসে তারা দু’জনই জানে, যে তাদের ভালোবাসার সংঘাত আরীবার নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। না চাইতেও হয়তো দুই ভাই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়বে।

ক্লাসে তখন টেস্ট পরীক্ষা চলছে। চারপাশে পিনপতন নীরবতা। সবাই মন দিয়ে লিখছে। শুধু আরিবা কলম হাতে নিয়ে বসে আছে, অথচ হাত কাঁপছে। বুকের ভেতর তীব্র ধকধকানি, মাথার ভেতর যেন কেউ বারবার ফিসফিস করছে।

“ তুমি আলাদা… তুমি আমাদের আরিবা! ”

আরিবার বড্ড অস্থির লাগছে। কিছুতেই মাথা থেকে ফিসফিসানি আওয়াজগুলো বের হচ্ছে না যেনো। হঠাৎ তার কলম নিজের ইচ্ছেমতো খাতায় লিখতে শুরু করে দিলো! আরিবা হাত সরাতে চাইলেও পারছে না। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে, আর খাতায় অদ্ভুত এক ভাষায় শব্দ ভেসে উঠছে। কী লিখছে নিজেও বুঝতে পারছে না। তবে তার লেখার জন্য আশেপাশে অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। ছাত্রীরা ভয়ে সিট থেকে উঠে দাঁড়ালো।

“ আরিবার হাতটা দেখো! ও কী লিখছে? লেখাগুলো শূণ্যে ভাসছে কীভাবে? ”

“ কী হচ্ছে এটা?”

এরপরই ক্লাসের চারপাশের জানালা একসাথে ঝপঝপ শব্দে বন্ধ হয়ে গেল। বাতাস থেমে গেল, অথচ ক্লাসরুম ভেতর থেকে অন্ধকার হয়ে উঠলো। বাতিগুলো একে একে নিভে গেল।

হঠাৎ খাতার পাতা থেকে আগুনের ফুলকি বের হলো! পুরো ক্লাস চিৎকার করে দৌড়াদৌড়ি শুরু করলো। একজনের হাত কেটে রক্ত পড়লো, আরেকজন মেঝেতে পড়ে গেল। হাবিবা চিৎকার করে আরিবার হাত ধরে ঝাঁকাতে লাগলো,

“আরিবা, থাম! তুই কী করছিস?”

কিন্তু আরিবার চোখের মণি তখন রঙ পাল্টে গেছে, নীলাভ আলো ঝলমল করছে। সে যেন নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। টেবিল, চেয়ার একে একে উড়ে বাতাসে ঘুরতে শুরু করলো। হঠাৎ করেই ক্লাসরুমের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ঠান্ডা হতে লাগলো।

রোদ্দুর স্যার হতভম্ব। তিনি এগিয়ে গিয়ে জোরে চিৎকার করলেন,

“স্টপ ইট! আরিবা, স্টপ!”

কিন্তু তার গলা যেন কোথাও পৌঁছালো না। আরিবার ঠোঁট কাঁপছে, অথচ সে নিজের কণ্ঠে বলছে না, কোনো অদ্ভুত শক্তির কণ্ঠ ভেসে আসছে,

“আমাকে ডাকছে, যেতে হবে আমাকে।“

একটা চেয়ার সজোরে ছুটে গিয়ে রোদ্দুর স্যারের গায়ে আঘাত করতে যাচ্ছিল,ঠিক তখনই হঠাৎ করে পুরো ক্লাসরুমে গভীর কালো কুয়াশা ছড়িয়ে গেল। সবাই চোখ ঢেকে ফেললো। মুহূর্তের মধ্যে শব্দ থেমে গেল। চেয়ার, টেবিল, খাতাপত্র সব মেঝেতে পড়ে গেল। বাতি আবার জ্বলে উঠলো।

সবাই চারদিকে তাকাচ্ছে কিছুই ঘটেনি যেন!

আরিবা ঘেমে-নেয়ে একেবারে ভিজে বসে আছে। সে কিছুই বুঝতে পারছে না। ক্লাসমেটরা হাঁ করে তাকিয়ে আছে। কারো ভেতরে ভয়, কারো ভেতরে কৌতূহল।

রোদ্দুর স্যার শেষ বেঞ্চের কোণে অদ্ভুতভাবে তাকালেন, সেখানে বসে আছে দুলফিকার। তার চোখে তখনো ভয়ংকর জ্যোতি। গাঢ় কণ্ঠে খুব ধীরে বললো,

“ আরিবা শান্ত হও। আমি সবাইকে সবকিছু ভুলিয়ে দিচ্ছি। ”

সে হাত নেড়ে এক ঝটকায় সবার স্মৃতি থেকে কয়েক মিনিট আগের ঘটনাগুলো মুছে দিলো। সবাই আবার পরীক্ষায় মন দিলো, যেন কিছুই ঘটেনি। শুধু আরিবা আর রোদ্দুর স্যারের সবকিছু মনে রইলো।

বাড়ি ফিরে আরিবা বিছানায় বসে আছে।

চারদিকে সব স্বাভাবিক। ঘড়ির টিকটিক শব্দ, জানালার বাইরে রাস্তার আলো, আম্মিজানের ডাকাডাকি কিন্তু তার ভেতরটা একেবারে অস্থির।

ক্লাসে হঠাৎ যে ঘটনা ঘটলো তাতে আরিবার বুক ধড়ফড় করছে। সে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকায়। তার চোখদুটো লালচে, শরীর যেন জ্বরে পুড়ছে। মনে মনে ভাবলো আরিবা,

“আমার সঙ্গে এসব কী হচ্ছে? আমি তো সাধারণ মেয়ে… তাহলে কেন আমার চারপাশে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে? “

সে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ে। ক্লাসে সবাই স্বাভাবিক আচরণ করছিল কারণ দুলফিকার সময়মতো এসে সবটা সামলে নিয়েছিলো। কিন্তু আরিবার কাছে সব পরিষ্কার ওর জীবনে এমন কিছু আছে, যা অন্য কারো জীবনে নেই। রাত হতে এখনও অনেক বাকি। সবে মাগরিবের আজান দিচ্ছে। দুলফিকার রাতে এলে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করবে ভেবে, বিছানায় শুয়ে পড়লো সে। একটা সময় আরিবা ক্লান্তিতে ধীরে ধীরে ঘুমের দেশে হারিয়ে গেলো।

ঘুম গভীর হলে অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতে শুরু করে আরিবা। আগুন, কালো ছায়া, আবার হঠাৎ আলোয় ভেসে থাকা এক শহর। সেই শহরে দাঁড়িয়ে আছে দু’জন– একজনের চোখ গভীর সমুদ্রের মতো, তিনি একজন নারী। আরেকজনের চোখে আগুন জ্বলছে, তিনি একজন পুরুষ । দু’জনেই তাকিয়ে আছে আরিবার দিকে। আরিবা ঘুম ভেঙে হঠাৎ উঠে বসে। বুকের ভেতর হাপরের মতো শ্বাস উঠানামা করছে। মেয়েটা আর কিছু বুঝতে পারছে না। আশেপাশে তাকিয়ে সকাল হয়েছে কি-না বোঝার চেষ্টা করলো আরিবা।

কিন্তু চারদিকে অন্ধকার। দেয়ালঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো, রাত দু'টো বেজেছে এখন। আচমকাই আরিবা অনুভব করলো কেউ তার পাশে বসে আছে। পাশ ফিরে তাকাল সে। দুলফিকার! আরিবা কোনো বাক্যব্যয় না করে তার বুকে ঝাপিয়ে পড়লো। লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে দুলফিকারের বুকে মুখ গুঁজে রইলো আরিবা। দুলফিকার প্রশান্তিতে চোখ বন্ধ করে ফেলল। মেয়েটা কাছে এলে এতো শান্তি শান্তি লাগে ওর যে আরামে চোখ বুজে আসে।

“ কী হয়েছে? এতো অস্থির হয়ে আছো কেন আরিবা?”

দুলফিকার আরিবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো। আরিবা থেমে থেমে বলল,

“ আমার সাথে কী হচ্ছে? তুমি কি জানো দুলফিকার? “

আরিবার প্রশ্নে দুলফিকার চিন্তায় পড়ে গেলো। সত্যি তো, আরিবার সাথে কী হয়েছিল আজ? কোনো তৃতীয় শক্তি তো সেখানে উপস্থিত ছিল না। আরিবা আর দুলফিকার ছিলো কেবল। তাহলে? আরিবার কী হয়েছিল তখন? দুলফিকার কিছু বুঝতে পারছে না। তবে এ বিষয় সে জেনেই যাবে। প্রাসাদে গিয়েই আরিবার শক্তিগুলো সম্পর্কে খোঁজ করবে সে।

“ ছায়া জিন ছিলো। তেমন কিছু না। জানোই তো, ওরা কতটা ধূর্ত। “

আরিবাকে চিন্তামুক্ত রাখতে মিথ্যা কথা বললো দুলফিকার।

[হামিংবার্ড বই পাঠকদের নিকট পৌঁছে যাচ্ছে। শীঘ্রই বইটি অর্ডার করতে নক করুন যেকোনো বুকশপে। ]

“ আবার ওরা এসেছিল?”

“ হ্যাঁ। তাছাড়া আর কী হবে বলো?”

আরিবা ভাবলো না কিছু। দুলফিকারের কথা বিশ্বাস করে ফেললো।

“ তাই তো। আচ্ছা তুমি কীভাবে টের পাও আমি বিপদে আছি?”

দুলফিকার শব্দ করে হেসে উঠল এবার। আরিবা সোজা হয়ে বসলো। ভ্রু কুঁচকে তাকালো দুলফিকারের দিকে।

“ তোমার আত্মার সাথে আমার আত্মা জুড়ে গেছে। তাই তোমার কষ্ট, দুঃখ সবকিছু আমি অনুভব করতে পারি। “

“ ওহ আচ্ছা। তা হাসলে কেন, শুনি?”

“ হাসতে বারণ আছে না-কি? “

“ তা নেই। তবে…. “

দুলফিকার আরিবার গলায় ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে শুধালো,

“ কী তবে?”

আরিবা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলেছে। দুলফিকার আরিবার এই লজ্জা পাওয়ার বিষয়টা বড্ড পছন্দ করে। মানব জাতির এই লজ্জা পাওয়ার স্বভাবটা দারুণ।

“ প্রেমিকা কথা বলো।”

দুলফিকারের মুখে এমন ডাকনাম শুনে হেসে ফেলল আরিবা।

“ এটা কেমন ডাক?”

“ ভালোবাসার ডাক, প্রেমিকা। “

দুলফিকার আরিবার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে ধরে নিজের কাছাকাছি নিয়ে এলো। আরিবা লজ্জায়, ভয়ে ছটফট করছে। দুলফিকারের আগ্রাসী চুম্বন তার কাছে মোটেও সুখকর লাগছে না। আরিবার এমন প্রতিক্রিয়া দেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুলফিকার তাকে ছেড়ে দিলো।

“ তোমার বয়স কতো?”

আকস্মিক দুলফিকারের এমন প্রশ্নে হকচকিয়ে গেলো আরিবা। ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

“ ষোল চলছে, দু'দিন পর সতেরোতে পড়বে। কিন্তু কেন?”

দুলফিকার কিছু একটা হিসাব করতে লাগলো। আরিবা চুপচাপ তার হিসাব বোঝার চেষ্টা করছে।

“ এতো ছোটো একটা মেয়ের প্রেমে পড়লাম কীভাবে আমি! “

মুখ গোমড়া করে ফেলল আরিবা।

“ কী হয়েছে তাতে? “

“ হয়নি বলছো? তুমি জানো, জিনরা তোমাদের তুলনায় কতটা বেশি প্রেমময়ী? সেখানে তুমি নুন্যতম ভালোবাসা সহ্য করতে পারছো না। তুমি আমাকে সহ্য করবে কীভাবে? বুঝতে পারছো, কী বলছি আমি? “

দুলফিকারের ভ্রু নাচানো আর ঠোঁটের কোণের দুষ্ট হাসি দেখে আরিবা লজ্জায় ওড়না দিয়ে মুখ ডাকলো। দুলফিকার হেসে ফেলল তাতে। আরিবা আরকিছুই বললো না সে রাতে। দুলফিকার তাকে মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুৃম পাড়িয়ে দেওয়ার পর চলে গিয়েছিল।

রাতভর দুলফিকারের সাথে কথা বলে ফজরের আগে আরিবা ঘুমিয়ে পড়েছিল। সকালবেলা সালমা দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে আরিবার কপালে হাত রাখতেই আঁতকে উঠলেন তিনি। শরীর যেন জ্বালাময়ী আগুনে পুড়ছে! কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মেয়েটা কাঁপছে না, বরং নিঃশ্বাস স্বাভাবিক, মুখে হালকা একটা অচেনা প্রশান্তি।

সালমা ফিসফিস করে বললেন,

“হায় আল্লাহ, এ কী হলো আমার মেয়ের? এটা তো জ্বর মনে হচ্ছে না! ”

তিনি তাড়াহুড়ো করে পানির গ্লাস এনে আরিবার ঠোঁটে ধরলেন। কিন্তু পানি গরম হয়ে বাষ্প হয়ে উঠতে লাগলো! সালমা হাত সরিয়ে নিলেন ভয়ে। সেই সময় আরিবার ঘুম ভাঙলো। একেবারে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে শোয়া থেকে উঠে বসলো সে। আড়মোড়া ভেঙে বলল,

“ আম্মিজান? কিছু হয়েছে আপনার? চোখমুখ এমন লাগছে কেন?”

সালমা কী বলবেন বুঝতে পারছেন না যেন। আমতা আমতা করে বললেন,

“ কিছু না। তুমি হাতমুখ ধুয়ে এসো, আমি নাস্তা তৈরি করেছি। “

আরিবা বিছানা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে বলে,

“ ঠিক আছে। “

সালমা আরকিছু না বলে মেয়ের ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। নাস্তা শেষে প্রতিদিনের মতোই আরিবা কলেজে চলে গেলো। তবে সালমা কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছেন না আজ। রুস্তম বাড়িতে নেই। ফিরবে রাতে।

ঘরে নিস্তব্ধতা। বাইরে আকাশে পূর্ণিমার আলো ঝরে পড়ছে। সালমা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছেন। বুকের ভেতরটা ভীষণ অস্থির। আগামীকাল যে তার মেয়ের ১৭তম জন্মদিন– এই ভেবেই সে শান্তি পাচ্ছেন না।

রুস্তম নিজের কাজ শেষে ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকে বলল,

“তুমি এখনও জেগে আছো?”

সালমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

“ঘুম আসে কীভাবে রুস্তম ? কালকের দিনটা নিয়ে ভীষণ ভয় করছে। মেয়েটা যে কী হতে চলেছে, আমি নিজেও জানি না।”

রুস্তম চুপ করে রইল কিছুক্ষণ, তারপর আস্তে বলল,

“ যাইহোক সালমা, আমরা কিছু করতে পারবোনা। আমাদের হাতে কিছু নেই, শুধুমাত্র প্রার্থনা করা ছাড়া। “

সালমা কাঁপা গলায় বললেন,

“কিন্তু আরিবা তো আমার মেয়ে, আমার বুকের ধন। যদি শুভ শক্তি না পরাজিত হয়? তখন? আমি চাই না ওর ভেতরে কোনো অশুভ শক্তি জেগে উঠুক। ”

রুস্তমলর কণ্ঠ ভারী হয়ে গেল।

“এটা অশুভ নয়, ওর জন্মেই লেখা আছে। ভ্যাম্পায়ার রক্ত আর পরীর রক্ত মিশে আছে তার শরীরে। ১৭ বছরের আগে সেই শক্তি ঘুমিয়ে থাকবে। কিন্তু জন্মদিনের পূর্ণিমার রাতেই—”

“থামো!” সালমা কেঁপে উঠলেন।

“এসব আমি শুনতে চাই না। আমি শুধু চাই, আমার মেয়ে যেন সাধারণ মানুষের মতো বাঁচতে পারে।”

চোখে জল এসে গেল সালমার। তিনি মনে মনে সৃী কাছে দোয়া করতে লাগলেন—

“ হে প্রভু কালকের দিনটা পার করে দাও শান্তিতে… আমার মেয়েকে বাঁচিয়ে রেখো…”

কিন্তু ঘরের এক কোণ অদৃশ্য ছায়ায় ঢেকে গেল।

কেউ একজন দূর থেকে সব শুনছিল।

কাল রাতেই আরিবার জীবনে যে ঝড় নেমে আসবে, তার ইঙ্গিত যেন আজই শুরু হয়ে গেল।

চলবে..

ই-বুক মেলা শেষের পথে। এরপর কিন্তু ২৫% ছাড় চলবে না। তাই আজই আমার ইবুকগুলো কিনে ফেলুন। আমার বইটই আইডি লিংক – https://link.boitoi.com.bd/AEC4…

প্রোমো কোড - EBOOKMELA25

আগের পর্ব https://www.facebook.com/100085130931546/posts/734251122755912/

পরের অংশ https://www.facebook.com/Kaathgolaaap/videos/687003424352579/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন