ফন্ট সাইজ:
থিম:
আশিক আল জিন

১৪তম পর্ব

লেখক: তাসমিয়া তাসনিন প্রিয়া

#আশিক_আল_জিন ( ভ্যালেরিনার শক্তি প্রকাশ)

#পর্ব_১৪

#তাসমিয়া_তাসনিন_প্রিয়া

“ আমি তো তোমার সাথে রাগ করিনি। এতো ভয় পেলে চলবে বলো? একটা কথা মাথায় রাখবে, আমি যদি রাগের সর্বোচ্চ পর্যায়েও থাকি, তখনও যদি তুমি আমার সামনে এসে দাঁড়াও তবুও তোমার সাথে রাগ দেখাবো না আমি। তোমার সামনে এই জিন রাজপুত্র দুলফিকার সদাসর্বদা শান্ত থাকবে।”

দুলফিকারের দৃঢ় অথচ শান্ত কণ্ঠে বলা কথাগুলো যেন মন্ত্রের মতো আছড়ে পড়লো আরিবার হৃদয়ে। মুহূর্তেই তার ভেতরের ঝড় স্তিমিত হয়ে এলো। বুকের ধড়ফড়ানি কমে গিয়ে গভীর এক প্রশান্তি ছড়িয়ে গেলো শিরায় শিরায়।

“ হুম, ঠিক আছে।”

আরিবা আস্তে বললো।

দুলফিকার মৃদু হাসি দিয়ে আরিবাকে সোজা করে বসাল। তারপর হাতের হালকা ইশারায় হঠাৎই পুরো ঘরের পরিবেশ বদলে গেলো। আশেপাশের দেওয়াল, আসবাব, বাতি– সব যেন গলে গিয়ে জায়গা করে দিলো এক অসীম মহাবিশ্বকে। চোখের সামনে নীলাভ আকাশে নক্ষত্ররাজির মেলা, ভেসে বেড়ানো গ্রহ-উপগ্রহ, রঙিন নীহারিকা যেন পুরো গ্যালাক্সিই বন্দি হয়ে এলো এই ছোট্ট ঘরে।

আরিবা নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে রইল। সে যেন অন্য এক দুনিয়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। বিস্ময়ের ঝিলিক চোখে ভাসছে, ঠোঁট থেকে কোনো শব্দই বেরোলো না।

দুলফিকার তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে মৃদু স্বরে বললো,

“ পছন্দ হয়নি?”

কিন্তু আরিবা উত্তর দিলো না। তার বিস্ময় থামেনি, বরং দ্বিগুণ হলো যখন দুলফিকার আবার হাত নাড়ল। গ্যালাক্সির সেই অপার্থিব দৃশ্য মিলিয়ে গিয়ে চারপাশে ফুটে উঠলো রঙিন ফুলের মেলা। যেন বসন্ত ঋতু নিজেই নেমে এসেছে ঘরে। ফুলের সুবাস, পাপড়ির ঝরে পড়া আর রঙের খেলা। সব মিলিয়ে আরিবার চোখ আরও বিস্ফারিত হয়ে গেলো।

সে শুধু নিঃশ্বাস ফেলে তাকিয়ে রইলো, আর মনে হলো দুলফিকারের জগতে বিস্ময়ের শেষ নেই।

“ আমি কি স্বপ্ন দেখছি, দুলফিকার?”

আরিবার কণ্ঠ কেঁপে উঠলো বিস্ময়ে। তার চোখে প্রতিফলিত হলো রঙিন ফুলের সমুদ্র। লাল, সাদা, বেগুনি, হলুদ– সব মিলেমিশে যেন অদ্ভুত এক স্বর্গীয় দৃশ্য।

দুলফিকার মুচকি হাসলো। উত্তর না দিয়ে আস্তে করে তার হাতটা নিজের হাতে নিলো। মৃদু টানে দাঁড় করালো আরিবাকে। সেই ছোঁয়ায় যেন সারা শরীর শিহরিত হয়ে উঠলো মেয়েটার।

আরিবা দ্বিধাভরা পায়ে ধীরগতিতে হাঁটতে শুরু করলো। প্রতিটি ফুলের দিকে হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেখছে সে, যেন সত্যি কি না তা যাচাই করছে। পাপড়ির নরম স্পর্শে তার হৃদয় আরও কেঁপে উঠলো। চোখের ভেতরে ঝিকমিক করছে বিস্ময় আর শিশুসুলভ আনন্দ। ঘরটা এখন যেন কোনো পরীর বাগান। চারদিক ভরে উঠেছে মাদকতা ছড়ানো সুগন্ধে। ফুলের পাপড়ি বাতাসে উড়ে এসে আরিবার চুলে, গালে লেগে যাচ্ছে। সে কখনো থেমে তাকাচ্ছে, কখনো আবার মুগ্ধ হয়ে দুলফিকারের দিকে চোখ ফেরাচ্ছে।

দুলফিকার শান্ত দৃষ্টিতে মেয়েটির প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি লক্ষ করছে। তার ভেতরের কঠিন যোদ্ধা সত্তা এই মুহূর্তে গলে গিয়ে পরিণত হয়েছে এক নিবেদিত সঙ্গীতে। মুহূর্তটা যেন থেমে গেছে, যেন এই দৃশ্য কেবল তাদের দু’জনের জন্যই তৈরি হয়েছে।

আরিবা ধীরপায়ে হেঁটে একেকটা ফুল স্পর্শ করছে। হঠাৎই তার আঙুল ছুঁতেই এক গুচ্ছ ফুলের পাপড়ি কাঁপতে শুরু করলো। দুলফিকার ভ্রু কুঁচকে তাকাল, কিন্তু কিছু বলল না। আরিবা ভেবেছিলো হয়তো কল্পনা করছে। কিন্তু দ্বিতীয়বার আরেকটা ফুল ছোঁয়ার সাথে সাথেই পুরো ঘরের পরিবেশ পাল্টে গেলো। ফুলগুলো একে একে উজ্জ্বল হতে লাগলো, যেন তাদের ভেতর থেকে আগুনের শিখা বের হচ্ছে। চারদিকে আলো ছড়িয়ে পড়ছে, বাতাসে কেমন এক অদ্ভুত গুঞ্জন।

“ দুলফিকার…?”

আরিবার কণ্ঠ কেঁপে উঠলো। তার শরীর গরম হয়ে যাচ্ছে, নিঃশ্বাস ভারী। দুলফিকার হকচকিয়ে গেলো। সে জানে না কী হচ্ছে, তবে বুঝতে পারছে আরিবার স্পর্শেই এই পরিবর্তন ঘটছে।

হঠাৎ পুরো ঘরটা কেঁপে উঠলো। ফুলগুলো যেন আগুনে রূপান্তরিত হলো, আবার মুহূর্তেই তা বরফে জমে গেলো। আগুন আর বরফ– দুটো বিপরীত শক্তি একইসাথে জেগে উঠছে আরিবার ভেতর থেকে।

দুলফিকার দ্রুত এগিয়ে এসে আরিবার দুই কাঁধ শক্ত করে ধরে শান্ত কণ্ঠে বললো,

“ শান্ত হও, আরিবা। ভয় পেও না। আমি আছি।”

কিন্তু আরিবা শুনছে না, চোখ দুটো অস্বাভাবিক আলোয় ঝলমল করছে। মনে হচ্ছে যেন তার ভেতর থেকে এক ঝড় বেরিয়ে আসছে। দুলফিকার হঠাৎ নিজের হাত দিয়ে আরিবার গাল দুটো চেপে ধরলো, চোখে চোখ রেখে তাকালো। মুহূর্তেই যেন এক অদৃশ্য শক্তি আরিবার উত্তাল স্রোতকে থামিয়ে দিলো।

ঘরটা আবার নীরব হয়ে গেলো। সব ফুল ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে স্বাভাবিক রূপে ফিরে এলো। আরিবা হাঁপাতে হাঁপাতে দুলফিকারের বুকে মাথা রাখলো। দুলফিকারের বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ।

আরিবা অবাক হয়ে দুলফিকারের চোখে তাকাল।

“ এটা… এটা কীভাবে হলো?”

দুলফিকার সামলে নেওয়ার ভঙ্গিতে একচিলতে হাসি দিলো।

“ সবই আমার ছোঁয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। ভয় পেও না।”

আরিবার গাল লাল হয়ে উঠলো। অচেনা এক লজ্জা আর কাঁপুনি ভর করলো তার ওপর। দুলফিকার দ্বিধাহীনভাবে তাকে দু’হাতে কোলে তুলে বিছানায় বসিয়ে দিলো। এক মুহূর্তের জন্যই যেন আরিবা মনে করলো, সে ভেসে যাচ্ছে কোনো অলীক স্বপ্নরাজ্যে।

দুলফিকার চোখ ঘুরলো দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির দিকে। বারোটার কাঁটা স্পর্শ করতে আর তিন মিনিট। তার চোখে ভেসে উঠলো এক ধরনের তাড়াহুড়ো। “ হাতে সময় নেই…” নিজের মনেই ফিসফিস করলো সে।

পলকেরও কম সময়ে ঘরের পরিবেশ পুরোপুরি পাল্টে গেলো। একটুখানি আগেও যেখানে ছিল অচেনা আতঙ্ক, সেখানে এখন জন্মদিনের সাজে ভরে উঠলো সব। দেয়ালে ঝুলছে আলো, মেঝেতে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ফুল। মাঝখানে সাজানো টেবিলে চকচকে কেক রাখা।

এরপর দুলফিকারের এক ইশারায় আরিবার পোশাক পাল্টে গেলো। মুহূর্তেই সে রাজকন্যার সাজে সেজে উঠলো। ঝলমলে পোশাক, চুলে গুঁজে দেওয়া ফুলের মুকুট, আর চোখে ছড়ানো অদ্ভুত উজ্জ্বলতা।

আরিবার বিস্ময়ের শেষ নেই।

“ দুলফিকার… এটা কি সত্যি?”

“ আমার জীবনে তোমার উপস্থিতি যতটা সত্যি, তেমনই এই মুহুর্তটাও সত্যি। “

ঠিক তখনই দেয়ালঘড়ি বারোটার টিংটিং আওয়াজে কেঁপে উঠলো। আলো-ঝলমলে সেই মুহূর্তে দুলফিকার আরিবার কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করলো,

“ শুভ জন্মতিথি… আমার প্রেমিকা।”

আরিবার নিঃশ্বাস যেন গলায় আটকে গেলো। হৃদয় দুলে উঠলো অচেনা এক অনুভূতিতে। আনন্দে মন নেচে উঠলো। দুলফিকারকে জড়িয়ে ধরলো সে। দুলফিকারও আরিবাকে ভালোবাসে বুকে জড়িয়ে রাখলো কিছুক্ষণ।

“ চলো, কেক কাটবে। “

আরিবাকে কোলে তুলে নিয়ে টেবিলের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলো দুলফিকার।

হঠাৎই দরজায় ঠকঠক আওয়াজ ! দরজায় কারো কড়া নাড়ার শব্দ ভেসে এলো। আরিবার বুক ধক করে উঠলো। আতঙ্কিত চোখে দুলফিকারের দিকে তাকিয়ে সে তাড়াহুড়ো করে বলল,

“ বাবা-মা…! উনারা এসেছেন। আমাকে শুভেচ্ছা জানাতে।”

দুলফিকারের মুখের হাসি মুহূর্তেই ম্লান হয়ে এলো। বেচারা প্রেমিকার সাথে ঠিকমতো সময় কাটাতে পারলোনা আর।

দুলফিকার আর কিছু বললো না। তার চোখে হঠাৎই কেমন যেন অস্বস্তি খেলে গেলো। তারপর ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে বাতাসে একটুখানি ইশারা করলো। মুহূর্তেই ঘরটা আবার আগের মতো হয়ে গেলো– আলো, না কোনো রাজকন্যার সাজ। যেন কিছুই ঘটেনি এখানে।

দরজার কড়াঘাত এবার জোরালো হলো।

“ আরিবা, দরজা খোলো মা!”

সালমার কণ্ঠস্বর ভেসে এলো বাইরে থেকে।

আতঙ্কের মাঝেও আরিবার চোখ ঝিলিক মেরে উঠলো। তাড়াতাড়ি দুলফিকারের থেকে সরে গিয়ে দরজার দিকে দৌড় দিলো সে। দরজা খোলার সাথে সাথেই ভেতরে প্রবেশ করলেন সালমা আর রুস্তম। দু’জনের হাতেই ছোট ছোট প্যাকেট, চোখেমুখে আনন্দের আলো।

“ শুভ জন্মদিন, আমার মেয়ে!”

সালমা এগিয়ে এসে আরিবাকে জড়িয়ে ধরলেন।

রুস্তম মাথায় হাত রেখে মৃদু হেসে বললেন,

“ সৃষ্টিকর্তা তোমাকে সুখী করুক।”

আরিবা মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে ফেললো। রুস্তম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে দুলফিকার, ছায়ার মতো নীরবে। আরিবা ছাড়া কেউ দেখতে পাচ্ছে না তাকে।

“ চলো কেক কাটবো। “

সালমা আরিবাকে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। রুস্তমও পিছুপিছু গেলেন। দু'জনে মিলে টেবিলের ওপর কেক সাজিয়ে ফেলল। বাবা-মাকে সাথে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটলো আরিবা। দুলফিকার এককোনায় দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে আরিবাকে শুভ জন্মদিন বলল কয়েকবার। আরিবার মন খারাপ লাগছে একটুআধটু। বেচারা দুলফিকার একা একা দাঁড়িয়ে আছে।

কেক কেটে একে অপরকে খাওয়ানোর পর , সালমা আর রুস্তম আরিবার বিছানার দু’পাশে বসে পড়লেন। মৃদু হাসিতে ভরে উঠেছে ঘরটা। রুস্তম বারবার মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন, সালমা আবার চোখে জল এনে বলছেন,

“ মনে হয় সেদিনও এতটুকু ছোট্ট বাচ্চা ছিলি, অথচ আজ সতেরো বছরে পা দিলি।”

আরিবা হালকা লাজুক হাসি দিলো, কিন্তু বুকের ভেতর অজানা উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। মাথাটা ভারী হয়ে আসছে, বুক ধড়ফড় করছে। শরীরটা যেনো তার বশে নেই।

হঠাৎ ঘরের বাতিগুলো একে একে মিটমিট করে উঠলো। তারপর যেন অদৃশ্য ঝড় বইতে লাগলো ভেতরে। জানালার কাচ কাঁপতে লাগলো, টেবিলের ওপর রাখা কেক মেঝেতে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হলো।

“ আরিবা… কী হচ্ছে এটা?” সালমা ভীত কণ্ঠে মেয়ের দিকে ঝুঁকলেন।

কিন্তু তার আগেই আরিবার চোখদুটো অদ্ভুত সোনালি আলোয় জ্বলে উঠলো। চারপাশের বাতাস যেন আগুন আর বরফ মিশে কাঁপতে লাগলো। রুস্তম আঁতকে উঠে স্ত্রীর হাত চেপে ধরলেন। মুহূর্তের মধ্যে ঘরে প্রবল শক্তির ঢেউ ছড়িয়ে পড়লো। চারপাশের দেয়াল কেঁপে উঠলো, বুক ধকধক করতে লাগলো সবার। সালমা হতভম্ব হয়ে মেয়েকে আঁকড়ে ধরতে গেলেন, কিন্তু শক্তির ঝড়ে তার হাত সরিয়ে পড়লো। দুলফিকার আরিবার এমন আচরণে অবাক হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটা যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আরিবাকে শান্ত করতে হবে।

ঠিক তখনই আলোর ঝলক কাটিয়ে হঠাৎ দুলফিকার দৃশ্যমান হয়ে উঠলো। সে এক লাফে আরিবার সামনে গিয়ে দু’হাত দিয়ে মেয়েটার কাঁধ চেপে ধরলো।

“ শান্ত হও, আরিবা… আমি আছি।”

দুলফিকারের কণ্ঠে বিস্ময়কর দৃঢ়তা। ধীরে ধীরে তার স্পর্শে আরিবার শরীর কাঁপতে লাগলো, কিন্তু শক্তির তাণ্ডব থেমে গেলো না। ঘরটা যেন এখনো আগুন-বরফের মিশ্রণে ছিন্নভিন্ন।

সালমা-রুস্তম স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন তাদের সামনে প্রথমবারের মতো পরিষ্কার হলো, মেয়ে কোনো সাধারণ মানুষ নয়। আর দুলফিকার সে যেন সেই মুহূর্তে একমাত্র শক্তি, যে আরিবাকে সামলাতে পারবে। দুলফিকার কোনোমতে আরিবাকে বিছানায় বসালো তবে পরক্ষণেই আরিবা হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলো। তার শরীর থেকে এক অদ্ভুত আভা বের হতে লাগলো। কালো চুলগুলো হঠাৎ সোনালি আভা মাখা রূপালী হয়ে গেলো, লম্বা হয়ে পিছনে ঝরে পড়ছে। চোখদুটো মুহূর্তেই গভীর সমুদ্রনীল হয়ে উঠলো, যেন পুরো মহাবিশ্ব সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঠোঁটের কোণে অজানা এক দীপ্তি, গায়ের রঙে স্বচ্ছ আলোর খেলা।

দুলফিকার বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইলো। সে জানতো আরিবার মধ্যে কিছু আছে, কিন্তু এমন কিছু তারও কল্পনার বাইরে। আরিবা ধীরে ধীরে মাথা তুললো, তার চোখের দৃষ্টি যেন হাজার বছরের শক্তি বহন করছে। ঠোঁট কাঁপলো, কিন্তু শব্দ হলো অজানা ভাষার যেন কোনো প্রাচীন মন্ত্র। পিঠ ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো লালচে রঙের দুটো ডানা। যন্ত্রনায় চিৎকার করে উঠলো আরিবা। দুলফিকার শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাকে।

রুস্তম ও সালমা স্তব্ধ হয়ে গেলো, মেয়েটা যে তাদের মানুষী মেয়ে নয় সেটা আজ স্পষ্ট হলো।

হঠাৎ চারপাশে ঝড়ের মতো শক্তি ছড়িয়ে পড়লো। বাতি একের পর এক ফেটে গেলো। টেবিলের ওপর রাখা জিনিসপত্র ভাসতে শুরু করলো। প্রকৃতিও যেন আরিবার শক্তির প্রভাবে রঙ বদলে ফেলেছে। আকস্মিক বাইরে ঝড় শুরু হয়েছে। বিস্ফারিত চোখে বললো না কিছু, শুধু শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো। দুলফিকার বেশ বুঝতে পারছে, এখন তাকে ছাড়লে এই মেয়েটাই পৃথিবীর ভারসাম্য ভেঙে দেবে।

আরিবা ফুঁপিয়ে উঠলো। তার চোখে জল, কিন্তু সেই নীলচে আভা তাকে একেবারেই অচেনা করে তুলেছে। সে আর সাধারণ মানবী নয়।

সে ভ্যালেরিনা– পরী ও ভ্যাম্পায়ারের মিলনে জন্ম নেওয়া সেই সত্তা, যার শক্তি একদিন হয়তো জিন রাজ্য কাঁপিয়ে দেবে।

“ আব্বাজান… আম্মাজান… দুলফিকার আমার সাথে এসব কী হচ্ছে? আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। “

চেঁচিয়ে উঠলো আরিবা। দুলফিকার তাকে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে। রুস্তম ও সালমা দুলফিকারের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, যেন দুলফিকারই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।

“ কিছু হয়নি তোমার। তুমি চাইলেই সবকিছু ঠিক করতে পারবে আরিবা। নিজেকে সামলাতে হবে তোমাকে। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনো আরিবা। তুমি না থামলে অনেককিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। আরিবা আআআ…. শুনছো আমাকে? “

দুলফিকার উচ্চস্বরে বলল কথাগুলো আরিবাকে। কিন্তু আরিবা শুনলো না কিছু। আচমকাই দুলফিকারকে সরিয়ে দিলো সে। লালচে পাখা দু'টো ঝাপটিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো মেয়েটা। সালমা, রুস্তম মেঝেতে বসে পড়লেন। চোখে জল, বুক কাঁপছে তাদের। দুলফিকার তাদের দিকে তাকিয়ে বলল,

“ আমি আছি। আরিবাকে নিয়ে আসবো। “

এটুকু বলেই দুলফিকারও হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। মুহুর্তেই ঘরটা আগের মতো শান্ত, নীরব হয়ে গেলো। শুধু স্বাভাবিক হতে পারলেন না রুহান দম্পতি!

চলবে…..

কেমন লাগলো আজকের পর্ব? 🤧 আচ্ছা শুনুন, ইচ্ছে ছিলো এই গল্পটা হবে জিন ও মানুষের। কিন্তু কিছু মানুষের সমস্যার কথা ভেবে প্লট চেঞ্জ করেছিলাম। এখন সেই ইচ্ছে পূর্ণ করতে আরিবা ও দুলফিকারকে নিয়ে একটা দুষ্ট গল্প লিখবো ই-বুকে। 🌚

আগের পর্ব https://www.facebook.com/Kaathgolaaap/videos/687003424352579/

পরের পর্ব https://www.facebook.com/100085130931546/posts/739194702261554/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন