ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আসবে বলে বসন্ত এসেছে

৩য় পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার নিপা

#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৩'

#জেরিন_আক্তার_নিপা

পাঁচ বছর পর ছেলে বাড়ি ফিরছে তারপরও চার ভাইকে আজকেও অফিসে যেতে হয়েছে। যদিও সন্ধ্যার পরেই ওরা চলে এসেছে। নূর জাহান ছেলেদের এক লাইনে দাঁড় করিয়ে মনের সাধ মিটিয়ে কতক্ষণ গালাগাল করে নিলেন। চার ছেলেই কোনরকম প্রতিবাদ না করে মা'র গালাগাল চুপচাপ মাথা পেতে শুনলো।

-লায়েক হয়েছে তারা! কাজ দেখাচ্ছে। ছেলেটা তাওয়াফের সাথে একা বাড়ি ফিরেছে। বাড়ি ফিরেও বারবার জিজ্ঞেস করছিল তার আদরের বাপ চাচারা কোথায়।

নূর জাহান দ্বিতীয় ছেলের দিকে তাকিয়ে কন্ঠে তিরস্কার নিয়ে বললেন,

-কেমন বাবা হয়েছিস রে তুই? তোর তো নিজের ছেলে নাকি। তুইও এয়ারপোর্টে যেতে পারলি না!

ইয়াসির মির্জা মাথা তুলে না তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল,

-আম্মা আমি যেতে চেয়েছিলাম। তাওয়াফই বলল ও চলে যাবে।

-নিজের দোষ এখন আমার আরেক নাতির ঘাড়ে চাপাস না।

মা সারাদিন চার ছেলেকে ঝাড়ির উপর রাখে এটা কিছু না। কিন্তু ছেলেরা মায়ের নাতিদের কিছু বললে রক্ষা নেই।

নূর জাহান ইয়াকুব আলী মির্জার প্রথম স্ত্রী। তার চার ছেলে। দুই ছেলের জন্মের পর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে বাড়িতে সতীন তুলেন। তবে নূর জাহানও কোন অবোলা নারী না। সে স্বামীকে ছেড়ে যায়নি। স্বামীর সাথে থেকেই সারাজীবন ওই লোককে নাকে দড়ি দিয়ে নাচিয়েছে। নূর জাহানেরই শর্ত ছিল সতীনের সাথে স্বামীর ভাগ দিয়েছে। কিন্তু বাড়ির ভাগ কাউকে দিবে না। ওই বউকে রাখতে হলে আরেকটা বাড়ি বানিয়ে সেখানে রাখা হোক। ইয়াকুব আলী মির্জার সেটাই করেছেন। নূর জাহানের ঘরে পরেও দুই ছেলের জন্ম হয়েছে। চার ছেলের জননী হয়ে সংসারে নূর জাহানের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। তার ছেলেরা সতীনের তিন ছেলের থেকে সবদিক থেকে এগিয়ে। চার ছেলে মিলে ব্যবসাবাণিজ্য বাড়িয়ে সতীনের ছেলেদের থেকে অনেক উপরে উঠে গেছে। বড় ছেলে তৌকির মির্জার দুই ছেলেমেয়ে। তাওয়াফ, আকৃতি। ইলহাম ইমান দ্বিতীয় ছেলের ঘরের নাতনি। দৃষ্টি, নাহিয়ান তৃতীয় জনের। ছোট ছেলেরও এক ছেলে। তার বংশে সবই ছেলে। ওদিকে সতীনের বংশে কোন ছেলে নেই। এদিক দিয়েও নূর জাহান এগিয়ে রয়েছেন। সতীনের ছেলেমেয়েদের প্রতি তার কোন টান না থাকলেও নাতি-নাতনি গুলোকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। তারপরও স্বামী জীবিত থাকা কালে ওদের প্রতি এত বেশি ভালোবাসা দেখায়নি। কিন্তু এখন যেহেতু মানুষটাই নেই তাহলে আর রাগ পোষে রেখে লাভ কী? মানুষটা তাকে ঠকিয়েছে। তার জন্য অন্য কাউকে দোষ দেয়া যায় না।

****

বড়মাকে একা ফিরে আসতে দেখে পেখমের মন নেচে উঠল। আহা দাদাজানের জেরক্স কপি তাহলে আসেনি। তারপরও মনের সন্দেহ পুরোপুরি দূর করতে উঁকিঝুঁকি দিয়ে বড়মার পেছনে দেখছে। সাথে সাথেই আবার নিজের বোকামিতে মাথা ঝাঁকাচ্ছে। এত বড় মানুষটা বড়মার পেছনে এলেও দেখা যাবে। বড় মা'কে আসতে দেখে ইলহাম জিজ্ঞেস করল,

-ভাই আসবে না?

-আসতে তো বলে এসেছি। এখন আসে নাকি সে জানে। ওর তো আবার মন মর্জির ঠিক নেই।

পেখম ধরেই নিল তাওয়াফ ভাই আসবে না। হিটলার মির্জার এসব আনন্দ ফূর্তি আচার অনুষ্ঠান কোনকালেই পছন্দ না। পেখমের মনে হয় তারা যে এবাড়িতে আসে এটাও হয়তো তাওয়াফ ভাইয়ের পছন্দ না।

ইলহাম দাঁড়িয়ে উঠে বলল,

-আমি গিয়ে নিয়ে আসি।

ইলহাম ভাইয়ের আদিখ্যেতা দেখে পেখম মুখ বাঁকাল। একটা মানুষ আসতে না চাইলেও তাকে জোর করে আনতে হবে! কেন? তাওয়াফ ভাইয়ের এখানে এসে কাজ কী পেখম এটাই বুঝতে পারছে না। এতগুলো বাচ্চাদের মধ্যে উনি বড় মানুষ এসে কী করবেন? তাহমিনা ইলহামকে ধমক দিয়ে বসিয়ে দিয়ে বলল,

-বোস তো তুই। এসেই ভাইয়ের লেজ ধরে ঘুরতে হবে না।

বড়মা একদম ঠিক করেছে। ইলহাম ভাইয়ের বকা খাওয়া প্রাপ্য। পেখম আর অপেক্ষা করতে পারছে না। সে দৃষ্টি, আকৃতি আপুকে তাড়াতাড়ি ট্যাপ গুলো খুলতে বলল। আকৃতি বলল,

-কাঁচি তো তোর হাতেই। কিন্তু হাত না চালিয়ে তুই মুখ চালাচ্ছিস।

পেখম ভুল বুঝতে পেরে জিহবায় কামড় দিয়ে মিষ্টি করে সরি বলল। তাওয়াফ ভাই এখানে থাকলে সে মন খুলে কিছুই করতে পারত না। ওই লোকের ভয় লেগেই থাকত। কেন সে তাওয়াফ ভাইকে এত বেশি ভয় পায়! অবশ্য ভয় পাওয়ার কারণও আছে। পাঁচ বছর আগের ওই ঘটনা এখনও ভুলতে পারে না। ওই ঘটনার কথা মনে পড়লেই তাওয়াফ ভাইকে তার কাছে আজরাইল বলেই মনে হয়। সেদিন তাওয়াফ ভাই হয়তো তাকে মেরেই ফেলত। ভাগ্য সহায় ছিল বলে তাওয়াফ ভাইয়ের হাত থেকে সেদিন বেঁচে গিয়েছিল। পাঁচ বছর আগে তার বয়স তখন কত ছিল। তেরো? হ্যাঁ তেরোই হবে। তখন ঘনঘন বড়ো দাদীর এখানে চলে আসতো। নিজের বাড়িতে সমবয়সী কেউই তো ছিল না। এখানে দৃষ্টি আছে। দৃষ্টি আর সে খুব বেশি দিনের বড় ছোট না। সমবয়সী হওয়ায় এক বাড়িতে না থাকলেও একই স্কুলে পড়েছে। তখন সে তাওয়াফ ভাইকে মোটেও ভয় পেতো না। ইলহাম ভাইয়ের সাথে এখন যেমন মজা করে তাওয়াফ ভাইয়ের সাথে তার থেকে বেশি মজা করত। মাঝখানে তাওয়াফ ভাইয়ের হয়তো কোন অসুখ হয়েছিল। সারাদিন ঘরে দরজা দিয়ে বসে থাকত। কারো সাথে কথা বলত না। কোথাও যেত না। পেখম তখন ছোট মানুষ। তার উপর আবার আলাদা বাড়িতে থাকে। সে তাওয়াফ ভাইয়ের অসুস্থতা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানত না।

পাঁচ বছর আগে...

প্রতিবারের মতো সেবার এসেই তাওয়াফ ভাইয়ের খুঁজে পেখম ওর রুমে গেল। সব জানালা বন্ধ থাকায় রুমটা কেমন অন্ধকার হয়ে আছে। এমনিতেই পেখম অন্ধকারে ভয় পায়। তার উপর আবার ঠিক মতো কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। তারপরেও ভীত গলায় কয়েকবার ডাকল,

-তাওয়াফ ভাই, কোথায় তুমি? তুমি কি ঘরে নেই?

জানালার কাছে হয়তো কোন পাখির শব্দ পেয়েছে। কারণ তাওয়াফ সবসময় তার জানালায় পাখিদের জন্য খাবার রেখে দেয়। কিন্তু পেখম না বুঝেই ভয় পেয়ে তাড়াহুড়ো করে রুম থেকে বেরিয়ে আসতে নিচ্ছিল। তাড়াহুড়োয় অসাবধানতায় তার হাতে লেগে কাঁচের একটা মগ নিচে পড়ে ভেঙে গেল। পেখম ইচ্ছে মগটা ভাঙেনি। তারপরও যথেষ্ট ভয় পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে।

তাওয়াফ যখন রুমে গিয়ে ওই ভাঙা মগের টুকরো গুলো নিচে পড়ে থাকতে দেখল, তার রাগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। সাথে সাথেই ভয়ঙ্কর রকম চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিল। মুহূর্তেই বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেছে। তার দু-চোখ দিয়ে যেন আগুনের ফুলকির মতো রাগ ছিঁটকে বেরোচ্ছে।

-মা, মা। আমার রুমে কে এসেছিল?

রুদ্রমূর্তি ধারণ করে তাওয়াফ নিচে চলে এলো। তার চিৎকার শুনেই মেজ চাচী বেরিয়ে এসেছে। তাওয়াফ চাচীর কাছে জানতে চাইল তার রুমে কে গিয়েছিল। মেজ চাচী কিছু না জেনেই বলে দিল,

-পুনম গিয়েছিল হয়তো। ওকেই তো একটু আগে উপর থেকে আসতে দেখলাম।

এই কথা শুনেই তাওয়াফ রেগেমেগে বাঘের মতো গর্জন ছেড়ে পেখমকে ডাকতে লাগল।

-পুনম, পুনম কোথায়? ওকে আমার সামনে আসতে বলো এক্ষুনি। কোথায় লুকিয়েছে ও?

ছেলের চিৎকার শুনে তাহমিনা বেরিয়ে এলেন। গত কয়েকদিন তো ভালোই কেটেছে। তখন তাহলে আবার কী হয়ে গেল? তাহমিনা চিন্তিত হয়ে শাশুড়িকে ডাকতে যাবে তার আগে তাওয়াফই দাদীর ঘরের দিকে এগোচ্ছে।

পেখম বেচারি এমনিতেই ভয় পেয়ে ছিল। তাওয়াফ ভাইয়ের ডাক শুনে সে গিয়ে দাদীজানের পেছনে লোকালো। কিন্তু তাতেও কাজ হলো না। তাওয়াফ ঘরে ঢুকেই বড় বড় পা ফেলে এসে খপ করে পেখমের হাত ধরে ফেলে টেনে দাদীর আড়াল থেকে বের করে নিয়ে এলো। ভয়ে পেখমের মুখ এতটুকু হয়ে গেল। তাওয়াফ ভাই তাকে ভীষণ বকবে। কাঁদো কাঁদো মুখে ভয়ার্ত দৃষ্টি মেলে তাওয়াফ ভাইকে দেখে কাঁপা গলায় পেখম বলল,

-আমি ইচ্ছে করে ভাঙিনি ভাইয়া। সত্যি বলছি। হাতে লেগে পড়ে গিয়েছে।

তাওয়াফ রাগে এতটাই অন্ধ হয়ে ছিল সে পেখমের কান্নামাখা মুখটা দেখল না। সে এখন তার নিজের মধ্যেই নেই। পেখমের দুই বাহু ধরে তীব্র ভাবে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলল,

-তুই আমার রুমে কেন গিয়েছিলি? তোকে আমার রুমে গিয়ে আমার জিনিস ধরার অনুমতি কে দিয়েছে। তুই শুধু আমার জিনিস ধরিস নি। আমার সবথেকে প্রিয় জিনিসটা ভেঙে ফেলে দাদীর কাছে এসে লুকিয়েছিস। অন্যায় করেছিস তুই। এরজন্য তোকে শাস্তি পেতে হবে। আমি দেব তোকে শাস্তি।

ছেলের পাগলামি আবার বেড়ে গেছে। তাহমিনা অসহায় চোখে একবার মা'র দিকে তাকিয়ে পেখমের কান্নামাখা মুখটা দেখে ছেলেকেই ধমক দিয়ে বললেন,

-কী পাগলামি শুরু করে দিয়েছিস? মেয়েটা তোকে ভয় পাচ্ছে। দেখতে পারছিস না? ও তো বলেছে ইচ্ছে করে ভাঙেনি।

-ইচ্ছে করে হোক বা অনিচ্ছায় শাস্তি ওকে পেতেই হবে।

এপর্যায়ে নূর জাহান এগিয়ে এসে তাওয়াফের হাত থেকে পেখমকে ছাড়িয়ে নিতে চেয়ে বললেন,

-ছাড় আমার নাতনিকে। ওকে শাস্তি দেওয়ার তুই কে? আমি এখনও বেঁচে আছি। আমার সামনে তুই আমার নাতনিকে শাস্তি দিবি দেখি তোর কত স্পর্ধা।

নূর জাহান টানাটানি করলেও তাওয়াফ পেখমের হাত ছাড়ছে না। রক্তচক্ষু করে সে পেখমের দিকে তাকিয়ে আছে। তাহমিনা উপায় না পেয়ে ছেলের পিঠে পরপর কয়েকটা চড় লাগাল। তারপরও কাজ হলো না। এদিকে ভয় পেয়ে পেখম হেঁচকি তুলে কাঁদতে শুরু করেছে। তাহমিনা উপায় না পেয়ে স্বামীকে কল করতে চলে গেলেন। নূর জাহান নাতিকে অনুরোধ করে বললেন,

-তাওয়াফ ছাড় ওকে। পাগলামি করিস না দাদাভাই। মেয়েটা ব্যথা পাচ্ছে। ছাড় বলছি তাওয়াফ। তোকে আমার কসম লাগে ছাড় মেয়েটাকে।

বলাই বাহুল্য এর আগে পেখম কখনও তাওয়াফ ভাইকে ওভাবে দেখেনি। ইলহাম ভাই মাঝে মাঝে বকা দিত। কিন্তু তাওয়াফ ভাই সবসময় আদর করেছে। আজ যেন এটা তাওয়াফ ভাই না। তার মতোই দেখতে অন্য কেউ। ছোট্ট পেখম এর বেশি ভয় আতঙ্ক মানসিক চাপ সইতে পারল না। জ্ঞান হারিয়ে তাওয়াফের হাতেই লুটিয়ে পড়ল। ফোন হাতে নিয়েই তাহমিনা আবার ফিরে এলেন। এদৃশ্য দেখে মুখে আঁচল চেপে আর্তনাদ করে উঠলেন। নূর জাহান চেঁচিয়ে বললেন,

-কী করেছিস এটা তুই! তোর জন্য মেয়েটা ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তাওয়াফ। পুনমের কিছু হলে ওর বাবাকে আমি কী জবাব দেব? এই মেয়ের কিছু হলে ওর দাদী আমাকে সারা জীবনেও ক্ষমা করবে না। নিজের চোখে আমি অপরাধী হয়ে যাব।

তাওয়াফের রাগটাও হঠাৎই পড়ে গেল। এতক্ষণ কী করেছে সে নিজেই যেন বুঝতে পারছে না। পেখমের মুখের দিকে তাকিয়ে তার ভীষণ অনুশোচনা হতে লাগল। এটা কী করেছে সে? তাওয়াফ নিজেই পেখমকে কোলে তুলে দাদীর বিছানায় শুইয়ে দিল। মা দাদী পেখমকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাওয়াফ আর এক মুহূর্তও এঘরে দাঁড়াল না।

ফোন পেয়েই তৌকির মির্জা বাড়ি ফিরে এলেন। তখন অবশ্য তাওয়াফ শান্ত হয়ে গেছে। এমন একটা কাজের জন্য ছেলেকে তিনি কিছুই বলতে পারলেন না। তার ছেলেটা কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তিনি নিজের চোখে দেখছেন। ভাতিজির জন্যও চিন্তিত হচ্ছেন। মেয়ের কথা শুনলে পল্লব কী করবে এটাও ভাবছেন।

পেখমের জ্ঞান ফিরেছে। পিটপিট করে চোখ খুলে নিজেকে তখনও এবাড়িতে দেখে ভয়মিশ্রিত আতঙ্কিত চোখে একবার পুরো ঘরে দেখে নিল। তাওয়াফ এঘরে না থাকলেও ভয়ে কাচুমাচু হয়ে চিৎকার করে বাড়ি যাওয়ার কথা বলতে লাগল।

-আমি বাড়ি যাব। এখানে থাকব না। পাপাকে আসতে বলো। আমার এখানে ভয় লাগছে। তাওয়াফ ভাই আমাকে মেরে ফেলবে। আমি বাড়ি যাব। বড়ো দাদী প্লিজ তুমি আমার পাপাকে আসতে বলো।

চলবে

আগের পর্ব

https://www.facebook.com/share/p/bXij2tfRaxq92PCc/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন