#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '২'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
পেখম সজোরে মাথা ঝাঁকাতে লাগল।
কল্পনাও কেমন বাস্তব মনে হয়! ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। না বাবা এবারও তেমন কিছু হোক পেখম এমনটা ভাবতেও চায় না। গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবার বলল,
-ছোট চাচী ঠিকই বলেছে। একে নেওয়া যাবে না।
পেখম তাকে নিতে চায় না শুনে আলিশবা নিচে বসে পড়ল। পেখম বলল,
-আলিশবু তুই কিন্তু যতটা উৎসাহ নিয়ে যাস। ঠিক ততটা উৎসাহ নিয়েই কেঁদেকেটে মানুষের রাতের ঘুম হারাম করে ফিরে আসিস। উঁহু এবার তোকে নেওয়া হবে না।
এটা শুনে আলিশবা ফ্লোরে শুয়ে গড়াগড়ি করে চিৎকার শুরু করল। বোনের সাথে আলাইয়াও বেঁকে বসে বলল,
-ওকে না নিলে আমিও যাব না।
এ কোন যন্ত্রণা! দুই বোনের ভালোবাসা দেখে পেখম তাজ্জব বনে গেল। গোলাপ জান এসব দেখে বললেন,
-ওরেও নিয়ে যা তো। কানলে কান্দুক। তাওয়াফ তোদের মতো বজ্জাত না। ও নিয়ে আসব।
কী আর করার? একে না নিয়েও যাওয়া যাবে না। রেখে গেলে কেঁদেকেটেই মারা যাবে। ওরা বেরোতে নিলে দাদী ওদের কাছে ডেকে বিড়বিড় করে কিছু পড়ে এক এক করে সকলের মাথায় ফু দিয়ে দিল।
-শত্রুর ডেরায় যাইতাছস। সাবধানে থাকিস।
সদরদরজা পর্যন্ত চলে গেলে মা পেখমকে পেছন থেকে ডেকে থামাল। গোলাপ জান বেজায় বিরক্ত গলায় বললেন,
-এইটা কেমন স্বভাব তোমার বউ? পিছন থেকে থাকো কেন? জানো না বাড়ি থেকে বাইর হওয়ার সময় পিছন ডাকা অমঙ্গল।
-না ডেকেও তো উপায় নেই আম্মা। আপনার নাতনির কলিজা ফেলে যাচ্ছে। একটু পরেই মাঝপথ থেকে ফেরত আসত।
পেখম তার ফোন ফেলে যাচ্ছিল। মা সেটা মনে করিয়ে দেওয়ার মায়ের গালে চুমু দিয়ে বলল,
-থ্যাঙ্কিউ মাতাজি।
******
মির্জা বাড়িতে আজ উৎসব লেগেছে। তাদের ছেলে ডাক্তারি পাস করে পাঁচ বছর পর বাড়ি ফিরছে। আজকের রান্নাবান্না কাজের লোকেরা করছে না। সব রান্না মা চাচীরা নিজের হাতে করেছে। মজার মজার সব খাবারের ঘ্রাণে পেটের ক্ষিধে তিনগুণ করে দিচ্ছে। দৃষ্টি বারবার খোঁজ নিচ্ছে পেখমরা এখনও এলো কি-না। বড়মা ওকে দেখে জিজ্ঞেস করল,
-কিরে কোথায় ওরা? এখনও তো এলো না।
-জানি না বড়মা। সেই কখন বলল বেরিয়ে গেছে।
কাজের মেয়ে রানি নূর জাহানের পা টিপে দিচ্ছিল। সে মাঝখান থেকে বলে উঠল,
-ছোড দাদী যে নামাজি মানুষ! দোয়া কালাম পইড়া ফু দিতে দিতেই মনে হয় দেরি করাই দিতাছে।
নূর জাহান নাক উঁচিয়ে বললেন,
-কিসের নামাজি মানুষ? সারাদিন তসবিহ নিয়ে বসে থাকলেই নামাজি মানুষ হয়ে যায় নাকি। ওসব লোক দেখানো ইবাদত আল্লাহ কবুল করবে না।
রানি গোপন কথা বলার মতো দাদীর আরেকটু কাছে এসে ফিসফিস করে বলল,
-ছোড দাদী তো এইডাও কয় হেয় নাকি দাদার লগে জান্নাতে থাকব। ছোড দাদী যদি দাদার লগে জান্নাতে থাকে তাইলে আপনে কার লগে জান্নাতে থাকবেন দাদী?
রানির সব কথাই দৃষ্টির কানে আসছে। এমনিতেই দুই দাদীর কলহের শেষ নেই। এর মধ্যে রানিটা আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে। দৃষ্টি কঠিন ভাবে রানিকে ধমক দিয়ে বলল,
-তোকে বেশি কথা বলতে কে বলেছে? দাদাজানের সাথে জান্নাতে কে থাকবে এই চিন্তা তোকে করতে হবে না। তুই যে দিনে হাজারটা মিথ্যা কথা বলিস এরজন্য আল্লাহ তোকে কোথায় পাঠাবে সেই চিন্তা কর।
ইশ রে! ছোট আপা শুইনা ফেলছে! রানি দাঁত বের করে হেসে বলল,
-সরি আপা। আজকের পর থেইকা আর একটা মিছা কথাও কমু না। আপনের কিড়া।
-হুর মিথ্যুক। তুই তো আল্লাহর নামে কিড়া কেটেও মিথ্যা বলিস।
এরমাঝেই কলিংবেলের শব্দ হলো। বুঝতে বাকি রইল না কারা এসেছে। নূর জাহানের মুখে হাসি খেলে গেল। তিনি বললেন,
-ওরা মনে হয় এসে পড়েছে।
দৃষ্টি দৌড়ে দরজা খুলতে চলে গেল। বোনদের দেখেই এদেরকে জড়িয়ে ধরে লাফাতে লাগল। পেখম বিরক্ত হয়ে বলল,
-লাফাচ্ছিস কেন তুই?
-সব বোনদের একসাথে পাওয়া কী কমখানি কথা! কোথায় আমাদের এক বাড়িতে থাকার কথা ছিল।
ইরিন গলার স্বর নিচে নামিয়ে বলল,
-যেটুকু বলেছিস ওখানেই ফুল স্টপ দে। নূর জাহানের কানে গেলে তোকেই আগে বাড়ি ছাড়া করবে।
ভেতরে ঢুকেই ইতি আলাইয়া আলিশবা সবার আগে দৌড়ে বড় দাদীর কোলে গিয়ে পড়ল। নূর জাহান তিন জনকে বুকে জড়িয়ে ধরে আহ্লাদী গলায় বললেন,
-ওরে আমার ইতু আলা ভোলা নাতনি তিনটা! কতদিন পর দাদীর কাছে এলি। তোদের কথা যে কত মনে পড়ে!
বড় দাদী আদর করে ইতিকে ইতু আলাইয়াকে আলা আর আলিশবাকে ভোলা নামে ডাকেন। ইরিন নানীর কাছে এসে হাসি মুখে সালাম দিল।
-আসসালামু আলাইকুম বড় নানী।
-ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তুই এত শুকিয়ে গেছিস কেন ইরিন? তোর মা তোকে খাওয়ায় না।
কত কষ্ট করে পেটে পাথর বেঁধে ডায়েট করে একটু ওজন কমিয়েছে। কিন্তু এখন যে দেখে সে-ই এক কথা বলে শুকিয়ে গেছিস কেন?
পেখম আসতে না আসতেই তার হিংসুটে রুপ দেখিয়ে বলল,
-সব ভালোবাসা তো ওদেরকেই দিয়ে ফেলছো। আমার ভাগে ভালোবাসা কম পড়লে কিন্তু তোমার খবর আছে।
ওদেরকে দেখে সবাই অনেক বেশি খুশি হয়েছে। কোন উপলক্ষ ছাড়া মেয়ে গুলোকে কাছে পাওয়া হয় না। এবাড়িতে আকৃতি আর দৃষ্টি দুইটা মাত্র মেয়ে। অথচ ওবাড়িতে আল্লাহ পাঁচটা মেয়ে দিয়ে রেখেছেন।
আকৃতিকে দেখতে না পেয়ে ইরিন জিজ্ঞেস করল,
-আকৃতি আপু কোথায় বড় মামী?
-জ্বর নিয়ে বিছানায় পড়ে আছে। এই মেয়েটার যে কত জ্বর আসতে পারে! দু'দিন পরপরই জ্বর।
সব চাচীদের সাথে দেখা করে কোশল বিনিময় করে ঘরে আসতে আসতে আধা ঘণ্টা লেগে গেল। চাচীরা তাদের পেলে যেন পাগল হয়ে যায়। আসার পর থেকে এটা ওটা খাওয়ার জন্য জোড়াজুড়ি করেই যাচ্ছে। ইরিনকে আগের থেকে শুকিয়ে যেতে দেখে বড় মামী মানে তাওয়াফের মা বললেন,
-ইরিন, এ কী হাল করেছিস! ডায়েট করছিস নাকি? ইশ কী করেছে মেয়ে। হাড় গোনা যাচ্ছে।
ইরিন হাসল শুধু। কিছুই বলল না। পেখম জিজ্ঞেস করল,
-ইলহাম ভাই কখন আসবে মেজমা?
-ছ'টায় ল্যান্ড করবে। বাড়ি আসতে কতক্ষণ লাগবে কে জানে।
বাকিটা দিন সব ভাই বোনেরা অনেক মজা করে কাটাল। চাচারা কেউই বাড়িতে নেই। পেখম এক ফাঁকে জেনে নিয়েছে তাওয়াফ ভাইও বাড়িতে নেই। যাক স্বস্তি পেলো একটু। এখানে আসার আগেও টেনশন হচ্ছিল। হিটলার মির্জা বাড়িতে থাকলে সারাক্ষণ তটস্থ হয়ে থাকতে হয়।
*****
সন্ধ্যায় ওরা রুমে বসে গল্প করায় মেতে ছিল ছোট চাচী এসে জানাল ইলহাম ভাই চলে এসেছে। একজন আরেকজনকে ঠেলেঠুলে হুড়োহুড়ি করে নিচে ছুটে এলো। ইলহাম তখন বাড়ির ভেতর ঢুকেছে। এতগুলো বছর পর সকলকে দেখে চিনে নিচ্ছে কে কোনটা। যাদের একেবারে ছোট দেখে গিয়েছিল বাচ্চাগুলো সব বড় হয়ে গেছে। কয়েকজনকে তো সে দেখেই যায়নি। কিন্তু ওরাও তাকে চিনছে। ভাইয়ার সাথে দেখা করার জন্য পেখম জায়গাই পাচ্ছে না। সবাই ভাইয়াকে ঘিরে রেখেছে। পেখম লাফিয়ে দেখার চেষ্টা করছে। ইলহাম ভাইকে একবার দেখতে পেয়েছে। দ্বিতীয় বার লাফিয়ে যে চোখ জোড়া দেখতে পেলো তা দেখে পেখম শান্ত হয়ে গেল। লাফালাফি বন্ধ করে বড়মার পাশে গিয়ে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বড়মা জিজ্ঞেস করল,
-কিরে চলে এলি কেন?
-সবাই দেখা করে নিক। আমি পরে দেখা করব।
এত শোর শব্দ চেঁচামেচির মাঝে সকলের আওয়াজ ছাপিয়ে গমগমে এক পুরুষালি কন্ঠ শোনা গেল।
-আগে ওকে রুমে যেতে দে। পরে সবাই দেখা করে নিস। অনেকটা পথ জার্নি করে এসেছে।
ব্যস। এই একটা কন্ঠ শুনে সকলে চুপ হয়ে গেল। দু'পাশ হয়ে দাঁড়িয়ে ইলহামকে ভেতরে যাওয়ার জন্য জায়গা করে দিল। ইলহামের ভেতরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে তাওয়াফ নিজেই পা বাড়াল। ছ'ফুটের কাছাকাছি লম্বা সুঠাম দেহের অধিকারী গম্ভীর রাগী জেদি দাদাজানের জেরক্স কপি তীব্র তাওয়াফ মির্জাকে দেখে পেখম বড়মার পেছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়ল। তাওয়াফ ডানে বামে কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা হেঁটে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে গেল। নিচের তলায়ই তার রুম। তাওয়াফ ভাইকে রুমের ভেতর ঢুকে যেতে দেখে পেখম বড়মার পেছন থেকে বেরিয়ে এলো। শব্দ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মুখ ভেঙচি কেটে বলল,
-হিটলার মির্জা।
তাওয়াফ চলে গেলেও ইলহাম এখনও এখানেই আটকে আছে।
নূর জাহান ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নাতিকে দেখে আবেগে আপ্লুত হলেন। ইলহাম দাদীকে দেখে হাসছে। নূর জাহান দু'হাতে ইলহামের গাল ধরে মাথা নিচু করে কপালে চুমু খেলেন।
-আমার চাঁদ নাতি। আমার ইলহাম দাদাভাই। কতদিন তোকে ছুঁয়ে দেখতে পারি না। তোর কপালে চুমু খাই না।
দাদীর চোখে পানি চলে এসেছে দেখে ইলহাম একহাতে দাদীকে জড়িয়ে ধরে মুখে হাসি নিয়েই বলল,
-একেবারের জন্য চলে এসেছি দাদীজান। আর যাবো না। এবার থেকে তুমি যত খুশি চুমু খেতে পারবে।
দাদীকে ইলহাম ছাড়ল না। একহাতে দাদীকে জড়িয়ে ধরে রেখেই বাকিদের সাথে কথা বলছে। তাওয়াফ ভাই চলে গেছে এবার আর পেখমের কোন ভয় নেই। সে হেলেদুলে এগিয়ে এলো।
-ইলহাম ভাই, কত বড় হয়ে গেছো তুমি!
পেখমের কথা শুনে সকলেই হেসে উঠল। ইলহাম ওকে দেখে প্রথমে না চেনার ভান করে একটু মজা করল।
কপালে ভাঁজ ফেলে ঠিক যেন মনে পড়ছে না এমন ভঙ্গি করে বলল,
-তুমি যেন কে? ঠিক মনে পড়ছে না।
-হয়েছে আর নাটক কোরো না। ভিডিও কলে কত দেখেছ। এখন আর আগের যুগ নেই যে, পাঁচ বছর পর বিদেশ থেকে বাড়ি এসে কাউকে চিনবেনই না।
ইলহাম হেসে পেখমের নাক টেনে দিয়ে বলল,
-পাকা বুড়ী হয়েছিস একটা।
দৃষ্টি পেখমকে ঠেলেঠুলে সরিয়ে দিয়ে বলল,
-সর সর। আমাকেও দেখা করতে দে। সব কথা কি তুই-ই বলে ফেলবি।
দৃষ্টি পেখম ওদের তুলনায় ইরিন একটু লজ্জা পায়। সে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ওদের দেখছে। ইলহামের চোখ ওর উপর পড়লে অবাক হয়ে ডাকল,
-ওটা ইরিন না! ওখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন তুই? ভাইয়ের কাছে আসবি না?
সবার সাথে দেখা হয়েছে। কিন্তু আকৃতি আপুকেকে তো দেখল না। ইলহাম মা'র কাছে বোনের কথা জানতে চাইলে মা বলল,
-আকৃতির জ্বর। তুই নিজে গিয়ে একবার দেখা করে আসিস।
সবাই-ই ইলহাম ভাইকে কিছু না কিছু নিয়ে আসার কথা বলে দিয়েছিল। ইলহাম ভাইয়ের সাথে দেখা করে এবার তাদের জিনিস গুলো হাতে পাওয়ার জন্য অধৈর্য হয়ে উঠেছে। ইলহাম ওদের বলল,
-তোরা তো আমাকেই এখনও ভেতরে যেতে দিলি না। লাগেজ তো মনে হয় সব গাড়িতে। আজমল ভাই নিয়ে আসুক। তারপর খুলে যার যার জিনিস বুঝে নিস।
তাওয়াফ রুমে চলে এসেছে। বাড়ি ফেরার আগেও ভীষণ ক্লান্ত লাগছিল। ইলহামের ল্যান্ডিং ছ'টায় হওয়ার কথা থাকলেও প্লেন এক ঘন্টা লেট করে। এই এক ঘন্টা সে অপেক্ষা করে কাটিয়েছে। এয়ারপোর্টে যেহেতু চলে গিয়েছে তাই আর ফেরত আসেনি। ড্রাইভ করার সময়ও ঘুম এসে যাচ্ছিল। অথচ বাড়িতে পা রাখার সাথে সাথে যেন সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। শার্ট খুলে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল সে। সময় লাগিয়ে শাওয়ার নিয়ে কোমরে একটা তোয়ালে পেঁচানো অবস্থায় বেরিয়ে এলো। এলোমেলো ভেজা চুলগুলো থেকে তখনও টুপটুপ করে পানি পড়ছে। দরজায় শব্দ হলে তাওয়াফ ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল। মা কফি নিয়ে এসেছে। তাওয়াফের মুখে মৃদু হাসি দেখা গেল।
-তোমাকে তো বলিনি।
-আমার ছেলের কখন কী প্রয়োজন তুই না বললেও আমি বুঝে যাব।
মায়ের হাত থেকে কফিটা নিয়ে একটা চুমুক দিয়ে বলল,
-থ্যাংকস মা। এটার দরকার ছিল।
-কাপড়চোপড় পরে বাইরে আয়। ছেলেমেয়েরা ইলহামের ব্যাগ খুলছে।
-আমার ওখানে কাজ কী?
-সবার সাথে গিয়ে বসলে তোরই ভালো লাগবে। একা একা ঘরে কত বসে থাকতে পারিস! বিরক্ত লাগে না?
তাওয়াফ মা'কে আশ্বাস দিয়ে পাঠিয়ে দিল সে একটু পরে যাবে। অথচ তার এখন ওই হৈচৈয়ের মধ্যে গিয়ে বসতে একটুও ইচ্ছে করছে না।
চলবে
আগের পর্বে যারা যারা কমেন্ট করেছেন সকলকে ভালোবাসা ❤️
সূচনা পর্ব
https://www.facebook.com/share/p/LKcw6os6sEDM4vVh/