#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৭'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
বিকাল থেকেই সবাই হৈচৈ করে তৈরি হচ্ছে। বাড়ির একটা ছানাপোনাও বাদ যাবে না। সবাই যাওয়ার জন্য এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। সবার তৈরি হওয়া প্রায় শেষ হয়ে এলেও পেখম এখনও বসে বসে ভাবছে সে কী পরে যাবে। যে ড্রেস গুলো সে এনেছে ওগুলো বাড়িতে পরার জন্য ঠিক আছে। কিন্তু এগুলো পরে বাইরে যাওয়া যাবে না। ইরিন পেখমকে বসে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করল,
-কিরে যাবি না তুই?
পেখম অন্ধকার মুখেই জবাব দিল,
-যাব।
-যাবি তাহলে রেডি হচ্ছিস না কেন?
পেখম ইরিনের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে নাকিস্বরে বলল,
-ভালো কোন জামা'ই তো আনিনি। কী পরে যাব?
-এই সামান্য বিষয় নিয়ে মন খারাপ করে বসে আছিস! তোর বোন প্লাস বান্ধবী দৃষ্টি কেন আছে? ওর ওয়ারড্রবে গিয়ে হামলা চালা।
সত্যিই তো। ইরিন আপুর থেকে দারুণ একটা আইডিয়া পেয়ে, যাওয়ার আগে আপুর গালে চুমু দিয়ে বলল,
-রাজপুত্রের মতো একটা জামাই পাবে তুমি। দোয়া করে দিলাম।
ইরিন লজ্জা পেয়ে বিড়বিড় করে বলল,
-তাওয়াফ ভাই তো রাজপুত্রই।
ড্রেস, কসমেটিকস এমনকি জুতাটা পর্যন্ত দৃষ্টির থেকে নিয়ে সবার পরে তৈরি হয়ে পেখম বেরিয়ে এলো। মেকআপ করার সময় পায়নি। সাজসজ্জা বলতে কানে ছোট্ট দুইটা টপ। বাম হাতে এক মোট চুড়ি। গলাটাও খালি। এক গাড়িতে সবার জায়গা হচ্ছে না। বাড়িতে আরও গাড়ি থাকলেও ড্রাইভার নেই। পেছনে সবাইকে গাদাগাদি করে বসতে দেখে ইলহাম বলল,
-তাওয়াফ ভাই এলে ভালো হতো। ভাইকে তো বলেছিলাম। কিন্তু মনে হয় না আসবে।
যাক তাওয়াফ ভাই আসবে না এটাই ভালো। পেখম গাদাগাদি করে কেন গাড়ির উপরে বসে যেতেও রাজি আছে। কিন্তু ওই হিটলার মির্জাকে সাথে নিয়ে আজকের সন্ধ্যার আনন্দ মাটি করতে রাজি নয়। পেখম ইলহাম ভাইকে তাড়া দিতে লাগল।
-ইলহাম ভাই যাও তো এবার। এক গাড়িতেই হবে।
-বাচ্চারা ঠিকঠাক মতো বসেছে?
-সবাই বসেছে। তুমি গাড়ি ছাড়ো।
-দাঁড়া একটু। এত তাড়া কেন দিচ্ছিস?
পেখম তাড়া কেন দিচ্ছে এটা শুধু সে-ই জানে। পাছে যদি তাওয়াফ ভাইও চলে আসে! ইলহাম ফোন বের করে ক্যামেরা অন করে সবার উদ্দেশ্যে বলল,
-এদিকে তাকা সবাই। স্মাইল দে। একটা হ্যাপি মেমোরি ক্যাপচার করে রাখি।
সবাই যে যার পছন্দের পোজ দিল। ইরিন হাসি হাসি মুখ করে, দৃষ্টি চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে, আকৃতি গালে হাত দিয়ে, পেখম চোখ ট্যারা করে ঠোঁট পাউট করল। বাচ্চারা জায়গা না পেলেও ঠেলেঠুলে ফ্রেমে এসে গেল। গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগে ইলহাম এখানকার তোলা পিক, তারা কোথায় যাচ্ছে সেই জায়গার লোকেশন তাওয়াফকে পাঠিয়ে দিয়ে ছোট্ট একটা মেসেজ লিখল।
-ভাইবোনদের সাথে এরকম কিছু স্মৃতি বানাতে এই এড্রেসে চলে এসো। আমরা নয়টা পর্যন্ত থাকব।
গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার একটু পরেই পেখম বলল,
-ভাইয়া গান ছাড়ো।
ইলহাম গান ছেড়ে দিলে ছোট যে কয়টা আছে সবগুলো নাচা শুরু করে দিয়েছে। তাওয়াফ ভাই সাথে যাচ্ছে না বলে পেখম একটু বেশি বেশিই খুশি হচ্ছে। ছোট ভাইবোনদের সাথে সে-ও হাত পা দুলিয়ে নাচছে। ইরিনের মন বিশেষ ভালো নেই। তাওয়াফ ভাই কেন এলো না? সবার সাথে গেলে কী হতো? সকালে তাওয়াফ ভাইয়ের বিয়ের কথা শুনে ভীষণ কষ্ট পেয়েছিল। কিন্তু তাওয়াফ ভাই যখন জানাল আকৃতি আপুর বিয়ে দিয়ে তারপর নিজে বিয়ে করবে তখন না চাইতেও খুশি হয়েছে। আকৃতি আপুর গায়ের রং এত বেশি ফর্সা না। আপু চিনকও অনেক। তার উপর আবার বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকে। অনেক জায়গায় দেখাদেখি হলেও শেষ পর্যন্ত ছেলের বাড়ির কারো না কারো অপছন্দ হয়ে বিয়েটা ভেঙে যায়। সেদিক দিয়ে বিবেচনা করলে তাওয়াফ ভাইয়ের বিয়ে করতে আরও অনেক সময়। ইরিন জানে সে ভীষণ স্বার্থপরের মতো ভাবছে। আকৃতি আপু মনের দিক থেকে খুবই ভালো মেয়ে। আপুর খারাপ সে কোনদিনও চায় না। সে-ও চায় আপু খুব ভালো একটা বর পাক। যে আপুকে রুপ দেখে নয় তার গুণ দেখে ভালোবাসবে। কিন্তু নিজের ভালোবাসার কথা এলেই সে স্বার্থপর হয়ে যায়।
লোকেশনে পৌঁছতে খুব বেশি সময় লাগল না। ত্রিশ মিনিটেই চলে এসেছে। এক এক করে গাড়ি থেকে সবাই নেমে পড়ল। যদিও তাওয়াফ ভাই আসার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। তবুও ইলহাম পার্কিং লটে তাওয়াফ ভাইয়ের গাড়ি আছে কি-না দেখে নিল। পেখম ইলহাম ভাইয়ের চোখের সামনে হাত নাড়িয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল,
-কাকে খুঁজছেন মির্জা সাহেব? স্পেশাল কেউ আসার কথা ছিল নাকি?
-কথা তো ছিল না। তবে আসতে পারে। আবার না-ও আসতে পারে। কিছুই বলা যায় না। সবটাই তার মন মর্জির উপর ডিপেন্ড করে।
পেখমও কৌতূহলী চোখে চারপাশে খুঁজতে লাগল। তেমন কোন মেয়েকেই তো চোখে পড়ছে না।
-কে আসবে গো? তোমার গার্লফ্রেন্ড!
ইলহাম পেখমের মাথায় হালকা চাটি মেরে বলল,
-অনেক বড় হয়েছিস না! বড় ভাইয়ের সাথে গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড বিষয়ক কথা বলছিস।
-বললে কী হয়? আজকাল সিক্স সেভেনের পোলাপানও এসব বুঝে। আমি তো সেখানে কলেজে পড়ি।
-কলেজে পড়িস বা ভার্সিটিতে। বয়ফ্রেন্ড বানানোর কথা শুনলে পা ভেঙে ফেলত।
পেখম মুখ ভেঙাল। নিজে গার্লফ্রেন্ড বানিয়ে বসে আছে। সে বয়ফ্রেন্ড বানালেই সবার যত শাসন! ইলহাম আগেই বলে রেখেছিল ওদের জন্য যাতে বড় একটা টেবিল রাখা হয়। তার কথা মতোই সবথেকে বড় টেবিলটা তাদের দেওয়া হয়েছে। নিজেদের মধ্যে অনেক ঝামেলা করে সবাই নিজ নিজ চেয়ারে বসে পড়েছে। ম্যেনু কার্ড হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে কী অর্ডার করা যায়। আজ ইলহাম ভাইয়ের পকেট খালি করে ফেলবে।
তাওয়াফ অন্য এক জায়গায় যাচ্ছিল। ইলহামের মেসেজ আর পিকটা দেখে মাঝ রাস্তা থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়েছে। রেস্টুরেন্টের বাইরে দাঁড়িয়ে ইলহামকে কল করল তাওয়াফ। ইলহাম জানাল ওরা মাত্রই খাবার অর্ডার দিয়েছে। ভেতরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল সে। ফোন চাপায় ব্যস্ত থেকে নিচের দিকে তাকিয়ে হেঁটে ইলহামদের টেবিলের দিকে যাচ্ছে। একটা টেবিলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ওই টেবিলের একজন ছেলের গলা কানে এলো। ছেলেটা সাথের জনকে বলছে,
-খাসা মাল মামা।
তাওয়াফ ফোন থেকে চোখ তুলে ছেলে দুইটার দিকে তাকাল। দু'জন গোপনে লুকিয়ে অন্য একটা টেবিলের মেয়েদের ভিডিও করছে। ছেলে দুইটার নোংরামো কাজ সম্পর্কে মেয়েগুলোর হয়তো ধারণাও নেই। তাওয়াফ দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোন পকেটে রাখল। ভদ্র পোষাকে দুইটা কুলাঙ্গারকে দেখে এড়িয়ে যেতে পারল না। তার দিকে বসা ছেলেটার হাতে ফোন ধরা। তাওয়াফ হাঁটতে হাঁটতে আচমকাই ছেলেটার হাতের সাথে ধাক্কা খেল। যার ফলে ছেলেটার হাত থেকে ফোন নিচে পড়ে গেছে। কাজটা যেন ভুলে হয়ে গেছে কন্ঠে এতবেশী আন্তরিকতা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করল।
-এক্সট্রিমলি সরি ব্রাদার। দেখতে পাইনি।
ছেলেটা প্রথমে রেগে গেলেও তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে ভদ্র লোক ভেবে ঝামেলা না করে সরি গ্রহণ করে নিল। বলল,
-ইট’স ওকে ব্রো। প্যারা নাই।
কথাটা বলে ওই ছেলে ফোন তুলে নেওয়ার জন্য নিচে ঝুঁকলে তাওয়াফ বলল,
-ইট’স নট ওকে ব্রাদার।
এই কথা বলে তাওয়াফ ইচ্ছে করেই পা দিয়ে ফোনটা মাড়িয়ে দিল। এতে ছেলেটা ক্ষেপে তার দিকে তেড়ে এলো। মুহূর্তেই পরিবেশ গরম হয়ে গেছে। অন্যান্য টেবিলের লোকজন ঘাড় ঘুরিয়ে তাদের দিকে দেখছে। তাওয়াফ তখনও পুরোপুরি শান্ত থেকে বলল,
-এগেইন সরি ব্রাদার। ভুল করে পায়ের নিচে এসে গেছে।
তাওয়াফ যে এসব ইচ্ছে করেই করেছে এটা ছেলেটাও বুঝতে পারল। তাই ছেলেটা ক্ষেপে তাওয়াফের কলার চেপে ধরল। সাথের ছেলেটা বন্ধুকে আটকানোর চেষ্টা করছে। তাওয়াফ ঠোঁটে হাসি নিয়ে ছেলেটার কানের কাছে এসে স্বাভাবিকের তুলনায় নিচু গলায় বলল,
-এতক্ষণ তোরা এখানে বসে কী করছিলি গার্ড ডেকে সিসিটিভি ফুটেজ চেক দিতে বলল? নাকি তার আগে ট্রিপল নাইনে কল করব? পুলিশ এসেই বরং সিসিটিভি ফুটেজ চেক করবে।
তাওয়াফের শীতল হুমকি শুনে ছেলে দুটোর ঘাম ছুটে গেল। এতক্ষণে রেস্টুরেন্ট কতৃপক্ষের একজন এসে জানতে চাইল,
-স্যার এনি প্রবলেম?
তাওয়াফ লোকটার দিকে তাকিয়ে ঝরঝরে হেসে বলল,
-প্রবলেম এতক্ষণ ছিল। এখন সল্ভ হয়ে গেছে।
ওদিকে ঝামেলা হচ্ছে দেখে দৃষ্টি কৌতূহলী গলায় বলল,
-কারা ঝগড়া করছে? কী নিয়ে ঝগড়া লেগেছে?
পেখম দৃষ্টির মাথায় মেরে বলল,
-তোর সাথে আমরাও তো এখানেই বসে আছি। তুই জানিস না তাহলে আমরা কীভাবে জানব।
ইলহাম ওদের শান্ত থাকতে বলে নিজে উঠে দাঁড়াল।
-তোরা বোস। আমি দেখে আসি। কেউ কিন্তু জায়গা থেকে উঠবি না।
রেস্টুরেন্ট কতৃপক্ষের কাছে ঘটনাটা জানিয়ে ছেলে দুটোর উপযুক্ত শাস্তির কথা বলে নিজের ভাইবোনদের টেবিলের দিকে এগোচ্ছে তাওয়াফ। ইলহামকে যেতে হলো না। সে যাওয়ার আগেই তাওয়াফ ভাইকে আসতে দেখল। তাওয়াফ ভাইকে দেখে পেখম বাদে সকলের খুশির শেষ রইল না। পেখম মুখটাকে বাংলার পেঁচার মতো করে মনে মনে বলল,
-হিটলার মির্জা এখানেও চলে এসেছে! হে আল্লাহ, দাদাজানের জেরক্স কপিকে কেন আসতে হলো?
ইলহাম সন্দিহান গলায় জানতে চাইল,
-ওই ঝামেলায় কি তুমি ছিলে?
তাওয়াফ একটা চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল,
-ঝামেলা কিছু না। দুইটা বাস্.. গালিটা দিতে দিতেও থেমে গেল। ছোট ছোট ভাইবোন গুলো এখানে আছে। এদের সামনে গালি দেওয়া উচিত হবে না।
-দুইটা ছেলে মেয়েদের ভিডিও করছিল। ওদেরকেই একটু শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে এসেছি।
ভাইয়ের কাজে আকৃতি গর্বিত হলো। তার ভাই এরকমই। মেয়েদের অসম্মান সহ্য করতে পারে না। কিন্তু ভাই এসব কী পরে এসেছে! আকৃতি মুখ কালো করে ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বলল,
-তুমি কী এতই ব্যস্ত ছিলে যে চেঞ্জ করার সময়ও পাওনি! এসব কী পরে এসেছ?
তাওয়াফ নিজের দিকে দেখে বলল,
-এই কাপড়ে খারাপ কী? ছেঁড়া ফারা কাপড় তো আর পরে আসিনি।
পেখম সরাসরি না তাকিয়ে আড়চোখে দেখল হিটলার মির্জা ট্রাউজারের সাথে হুডি পরে চলে এসেছে। এত নর্মাল কাপড় পরে কেউ এরকম দামী একটা রেস্টুরেন্টে খেতে আসে? ওয়েটারের মনে সন্দেহ জাগবে খেয়েদেয়ে এই বেডা বিল পরিশোধ করতে পারবে তো? তবুও উনার ভাব দেখো! জিজ্ঞেস করছে এই কাপড়ে খারাপ কী? আর সে নিজের এত সুন্দর সুন্দর জামা থাকতেও দৃষ্টির থেকে ধার করে এই জামাটা পরে এসেছে। পেখম উপলব্ধি করল, মেয়েদের সাথে ছেলের পার্থক্য এখানেই। ছেলেরা লুঙ্গি পরেও বিদেশ ভ্রমণ করে আসতে পারবে। মেয়েরা কলেজে গেলেও এমন সাজ দেয় দেখে মনে হয় বিয়ে বাড়িতে না গিয়ে ভুল করে ক্লাস করতে চলে এসেছে।
তাওয়াফ এখানে বসেও ফোনে চাপছে। মাঝে আড়চোখে একবার পেখমের দিকে তাকিয়েছিল। পেখমের পরনের ড্রেসটা ভীষণ চেনা লাগল। দৃষ্টিকে সে এরকম একটা ড্রেসই গিফট করেছিল। খাবার চলে এসেছে। খেতে বসেও ইরিন বারবার তাওয়াফ ভাইকে দেখে যাচ্ছে। হঠাৎ তাওয়াফ ভাইয়ের হাতের দিকে চোখ পড়লে সে আঁতকে উঠে জিজ্ঞেস করল,
-তাওয়াফ ভাই তোমার হাতে কী হয়েছে? এমন লাল হয়ে আছে কেন? কোথায় আঘাত পেয়েছ?
ইরিনের কথা শেষ হওয়ার আগেই সকলের দৃষ্টি তাওয়াফের হাতের উপর পড়ল। সত্যিই তো। ডান হাতের উপরপাশে চামড়া উঠে লাল হয়ে আছে। সবার দেখাদেখি পেখমও চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে দেখছে। ইলহাম বলল,
-একটু আগের ঝামেলায় ব্যথা পেয়েছ?
তাওয়াফ নিজের হাতের দিকে দেখল। এই ব্যথা সে সকালে পেয়েছে। তখন অবশ্য এতটা খেয়াল করেনি। ভাইবোন গুলো যতই আগ্রহ দেখাক, হাতে কীভাবে ব্যথা পেয়েছে এটা এদের বলা যাবে না। তাই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ইলহামের কথায় সায় দিয়ে বলল,
-হবে হয়তো।
দৃষ্টি ডিটেকটিভ চোখে ভাইয়ের হাতের আঘাত পরীক্ষা করে বলল,
-উঁহু। চামড়া ছুলে গেছে। এক্ষুনি হলে রক্ত বেরুত। এই ব্যথা তুমি আরও আগে পেয়েছ।
ঠোঁট কামড়ে কিছু ভেবে দৃষ্টি হঠাৎ বলে উঠল,
-তুমি কি কারো সাথে মারামারি করেছ?
তাওয়াফ দৃষ্টির দিকে চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে বলল,
-তুই মুখ বন্ধ না করলে একটা ঘুসি তোর নাকেও পড়বে।
হুমকি শুনে দৃষ্টি চুপ হয়ে গেল। তার মুখ বন্ধ করাতে পারলেও মনের সন্দেহ কীভাবে দূর করাবে? পেখম দৃষ্টির কানে কানে বলল,
-তোর গুন্ডা ভাই মারামারিও করে! কোন খারাপ গুণই বাদ রাখছে না।
খেতে খেতে ইলহাম জিজ্ঞেস করল,
-অচেনা মেয়েগুলোর ভিডিও বানাচ্ছিল বলে তুমি ছেলেটার ফোন ভেঙে ফেলেছ। তোমার নিজের বোনদের ভিডিও করলে তখন কী করতে?
তাওয়াফ ছুরি কাঁটাচামচ চালাতে চালাতেই জবাব দিল,
-ফোনের সাথে হাতটাও ভেঙে দিতাম। এতক্ষণে ওদের দুইটার জায়গাই হাসপাতালের বেডে হতো।
চলবে
আমার লেখা সবগুলো ই-বুক।
প্রিয়তী
https://link.boitoi.com.bd/fbKq
মেঘে রোদে কাছাকাছি
https://link.boitoi.com.bd/BHed
সুখপাখি
https://link.boitoi.com.bd/TfUq
পথে হলো দেখা
https://link.boitoi.com.bd/CYTN