#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৮'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
ফেরার সময় বাড়ির সবার জন্য খাবার প্যাক করে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। পেখম ইলহাম ভাইয়ের গাড়ি করে এসেছে। ইলহাম ভাইয়ের গাড়িতেই যাবে। পরে গেলে যদি সিট পাওয়া না যায় এই ভয়ে পেখম সবাইকে রেখে আগে ভাগে গিয়ে গাড়িতে বসে আছে। রেস্টুরেন্টে তাকে সবাই খুঁজে হয়রান হয়ে বাইরে এসে দেখল গাড়িতে বসে আছে। ইলহাম চোখ রাঙিয়ে বলল,
-সমস্যা কী তোর? হার্ট অ্যাটাক করিয়ে দিতে চাচ্ছিলি তো।
পেখম কোন জবাব না দিয়ে দাঁত বের করে হাসল। আসার সময় গাদাগাদি করে এলেও যাওয়ার সময় দুই গাড়ি মিলিয়ে বেশ ভালোই যাওয়া যাবে। পেখম আগেই নিজের সিট নিয়ে বসে থাকলেও শেষ মুহূর্তে সমস্যা দেখা দিল। আলিশবা পেখমের সাথে বসবে। আবার সে তাওয়াফ ভাইয়ের গাড়িতে যাবে। আকৃতি ওই গাড়ি থেকে নেমে এসে পেখমকে বলল,
-পুনম তুই ওই গাড়িতে যা।
কথাটা শুনে পেখম আঁতকে উঠে বলল,
-কেন? না না না। আমি এই গাড়িতে যাব।
-জেদ করিস না। আলিশবা তোর সাথে যাবে।
-যাবে যাক। আমি কি মানা করেছি। ওকে আমার কাছে দিয়ে যাও।
-তোর সাথে যাবে। কিন্তু ভাইয়ার গাড়িতে যাবে।
পেখম যে ভয়ে আগেই গাড়িতে এসে বসে ছিল সেই ভয়ই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো। ওই গাড়িতে গেলে পুরোটা পথ মুখে তালা ঝুলিয়ে রাখতে হবে। দৃষ্টি বিরক্তি প্রকাশ করে বলল,
-তুই যে কেন তাওয়াফ ভাইকে এত ভয় পাস বুঝি না। তাওয়াফ ভাই কি বাঘ? নাকি ভাল্লুক? তোকে খেয়ে ফেলবে? কবেকার কোন ঘটনা মনে রেখে তুই এখনও তাওয়াফ ভাইয়ের সাথে কথা বলিস না। সামনে যাস না। তাওয়াফ ভাই কি এখন তোকে কিছু বলে?
পেখম অসহায় চোখে ওদের সবার দিকে তাকাল। তাওয়াফ ওদিকে গাড়ির হর্ণ বাজাচ্ছে। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও পেখম এই গাড়ি থেকে নেমে ওই গাড়ির কাছে গেল। পেছনে বসতে গেলে দেখল পেছনে তো কোন সিটই খালি নেই। কোথায় বসবে সে? থমথমে মুখে পেখম জিজ্ঞেস করল,
-আমি কোথায় বসব?
-সামনে বসে যেতে যদি সমস্যা না হয় তাহলে সামনের সিট খালি আছে।
জবাবটা তাওয়াফ ভাইয়ের থেকে আসবে পেখম কল্পনা করেনি।
পেখম বিস্মিত চোখে তাওয়াফ ভাইয়ের দিকে তাকাল। ঠিক কত বছর পর তাওয়াফ ভাই তার সাথে সরাসরি কথা বলেছে! বুকের ভেতর কেমন ধুকধুক করতে লাগল। দ্বিধান্বিত গলায় পেখম বলল,
-আলিশবা তো আমার সাথে বসতে চাচ্ছে।
আলিশবা পেছন থেকে মুখ বের করে বলল,
-আপি তুমি সামনে বসো। এখান থেকে আমি তোমাকে দেখতে পারছি।
পেখম মনে মনে নিজেকেই দুষতে লাগল। কী দরকার ছিল ছোট বোন গুলোকে নিজের এত নেওটা বানানোর। তাকে চোখের আড়াল হতে দেওয়া যাবে না। পেখম গাড়ির দরজা খুলে সামনে বসল। তাওয়াফ জেনে নিল,
-সবার ঠিকঠাক বসা হয়েছে?
পেছনের বাচ্চা পার্টি সবকয়টা একসাথে চিৎকার করে জানাল,
-হ্যাঁ ভাইয়া।
তাওয়াফ গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে হেসে বলল,
-তোদের সাথে থাকলে কানের হায়াত ফুরাতে খুব বেশি সময় লাগবে না।
এতগুলো বছর পর এই প্রথম তাওয়াফ ভাইকে হাসতে দেখল পেখম। হিটলার মির্জার হাসি সুন্দর এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। হাসি সুন্দর বলেই হয়তো এত কম হাসে। পেখম মনে মনে নিজেকেই ধমক দিল,
-কী সব ভাবছিস তুই পেখম! হিটলার মির্জার হাসি সুন্দর কি অসুন্দর এটা দেখে তোর কাজ কী?
পেখম সিটে পা তুলে বসতে গেলে তাওয়াফ ভাইয়ের তাকানো দেখে পা নামিয়ে নিল। কতক্ষণ নখ দিয়ে খুঁচিয়ে ওড়নার পাথর তুলল। কথা না বলে বোবা হয়ে কতক্ষণ বসে থাকা যায়? মিউজিক চালানোর কথাও বলতে পারছে না। যদি ধমক দিয়ে বসে। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে দেখল ইমান বাদে সব কয়টা ঘুমিয়ে পড়েছে। ইমান জিজ্ঞেস করল,
-পুনম আপু, তোমরা কি সকালে চলে যাবে?
-হুম।
-কাল যেও না আপু। আরও কয়েকদিন থেকে যাও।
-কলেজ না থাকলে থাকতাম।
-তুমি তো আমাদের বাড়ি থেকেও দৃষ্টি আপুর সাথে কলেজে যেতে পারবে।
-আমার বইপত্র সব বাড়িতে।
-বই নিয়ে চলে আসো।
-অনেক ঝামেলা হয়ে যাবে। তুই চল না আমাদের ওখানে গিয়ে থাকবি।
-আমাকে স্কুলে যেতে হবে না?
-আমাদের বাড়ি থেকে যেতে পারবি না?
-পারব। কিন্তু..'
-কিন্তু কী?
ইমানকে চুপ করে যেতে দেখে পেখম খিলখিলিয়ে হেসে উঠল। ড্রাইভ করা থেকে তাওয়াফের মনোযোগ সরে গেলে তখনই গাড়ি জোরে ঝাঁকি খেলো। ভয় পেয়ে পেখম আল্লাহকে ডেকে উঠল।
পথে যেতে যেতে পেখমের ঘুম পেয়ে গেল। সে কয়েকবার হাই তুলে ফেলেছে। কথাবার্তা বললেও হয়তো ঘুম আসত না। চুপচাপ বসে থেকে ঘুম আসাটাই স্বাভাবিক। বাচ্চাকাচ্চারা সব গুলোই একটা আরেকটার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমচ্ছে। পেখমের চোখও লেগে এসেছে। ইলহামের গাড়ি যে রোড দিয়ে গেছে তাওয়াফ তার বিপরীত রোডে গাড়ি ঘুরিয়ে নিল। গাড়ির ভেতরের পরিবেশ নিশ্চুপ। তাওয়াফ ড্রাইভ করতে করতে মাঝে মাঝে পেখমের দিকে তাকাচ্ছে। মাথাটা বেকায়দায় বাঁকা হয়ে আছে। এরকমভাবে থাকলে বাড়ি পৌঁছতে পৌঁছতেই ঘাড় ব্যথা হয়ে যাবে। তাওয়াফ সাবধানে পেখমের মাথাটা সোজা করে দিতে গেলে গাড়ির চাকা ছোট্ট একটা গর্তে পড়ে দুল খেয়ে উঠলে পেখম হুড়মুড়িয়ে উঠে বসল। তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে আতঙ্কিত গলায় জিজ্ঞেস করল,
-কী হয়েছে?
পেখম চোখ খোলার আগেই তাওয়াফ হাত নিয়ে এসেছিস। শান্ত গলায় সে বলল,
-কিছুই তো হয়নি।
-কিছু একটা তো হয়েছে। আমি মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুমের মধ্যে স্পষ্ট অনুভব করলাম কে যেন আমাকে ধাক্কা দিয়ে পাহাড় থেকে ফেলে দিতে চেয়েছে।
তাওয়াফ ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি নিয়ে পেখমের দিকে তাকিয়ে বলল,
-পাহাড় থেকে! অথচ তুই আমার গাড়িতে বসে আছিস।
পেখম নিজেকে একবার দেখে তাওয়াফকেও দেখল। সে এতক্ষণ তাওয়াফ ভাইয়ের সাথে কথা বলেছে বুঝতে পেরে সাথে সাথে মাথা সোজা করে সামনের দিকে তাকিয়ে চুপ করে বসে রইল। এর কান্ড কারখানা দেখে তাওয়াফ মনে মনে হাসছে। সামনে ইলহাম ভাইয়ের গাড়ি দেখা যাচ্ছে না। ওরা কি পেছনে পড়ে গেছে?
-ইলহাম ভাইরা কি আমাদের পেছনে আসছে?
-না।
-তাহলে?
-ওরা হয়তো বাড়ি পৌঁছে গেছে।
পেখম হতবাক হওয়া গলায় বলল,
-তাহলে আমরা এখনও পৌছায়নি কেন?
-কারণ আমরা অন্য পথে যাচ্ছি।
-কেন? ওই পথে না গিয়ে আপনি অন্য পথে এসেছেন কেন? আমাদের মনে হয় অনেক লেট হয়ে গেছে। এতক্ষণে কখন হয়তো বাড়ি পৌঁছে যেতাম। আপনি কেন অন্য একটা পথ নিয়েছেন?
পেখম ভুলেই গিয়েছিল সে কার সাথে কথা বলছে। তাই তো গলায় আওয়াজ এতটা চড়ে গেছে। তাওয়াফ চোখ মুখ কঠিন করে পেখমের দিকে চাইল। ধমকের সুরে বলল,
-শখ করে নিশ্চয় তোদের নিয়ে ঘুরছি না। অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলেছি এটা বুঝতে পারা কমন সেন্স।
তাওয়াফের সামান্য ধমকেই সব ঠিক হয়ে গেল। পেখম আবার মেনি বিড়াল হয়ে গিয়ে চুপ করে বসে রইল। তার মাথায় সমস্যা হয়েছে। নয়তো সে কোন সাহসে হিটলার মির্জার থেকে কৈফিয়ত চায়! যদিও তাওয়াফ কল করে ইলহামকে জানিয়ে দিয়েছিল ওরা ভুল পথে চলে গেছে। ফিরতে সময় লাগবে। তারপরও বাড়ির সকলে ছেলেমেয়েদের জন্য চিন্তা করছে। রাত-বিরেতের কথা কিছুই বলা যায় না। কখন কী ঘটে যায়।
সকলেই তাদের অপেক্ষায় বসে ছিল। তাওয়াফের জায়গায় ইলহাম হলে আজ কঠিন বকা খেতো। কিন্তু তাওয়াফকে কেউ কিছুই বলল না।
-ভাই তোরা ঠিক আছিস?
ইলহামের প্রশ্নের উত্তরে তাওয়াফ পাল্টা প্রশ্ন করল,
-আমাদের কি কিছু হয়েছিল?
-না মানে, দাদী টেনশন করছিল।
-বাচ্চারা গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছে। ওদের রুমে নিয়ে শুইয়ে দে।
-হুম।
বাড়ি ফিরতে ফিরতে পেখমের আবার ঘুম পেয়ে গেছে। ওরা ছোট বলে ওদের কোলে করে নেওয়া হচ্ছে। তাকে তো আর কেউ কোলে করে রুমে দিয়ে আসবে না। তাই ঘুমঘুম চোখেই গাড়ি থেকে নেমে কীভাবে রুম পর্যন্ত এসেছে এটা সে নিজেও বলতে পারবে না।
***
ফোনের রিংটোনের শব্দে তাওয়াফের ঘুম ভাঙল। এমনিতেও তার ঘুম ভীষণ পাতলা। রুমে সামান্য একটা শব্দ হলেও সে সজাগ পেয়ে যায়। সেখানে হতচ্ছাড়া ফোনটা তো কানের উপর বুলডোজার চালাচ্ছে। বিছানা, বালিশ হাতড়ে ফোন খুঁজে পেয়ে না দেখেই রিসিভ করে কানে নিল। ঘুম জড়ানো গলায় বলল,
-হ্যালো।
-কিরে গাধা, খবর কী তোর? কোথায় মরেছিস তুই? দুই সপ্তাহ ধরে তোর টিকির নাগালও পাচ্ছি না।
কনিকার গলা শুনে তাওয়াফ কানের উপর থেকে ফোন নামিয়ে নিল। নয়তো এই লাউড স্পিকারের শব্দে তার কান খারাপ হয়ে যাবে। তাওয়াফ চোখ না খুলেই ভারী গলায় জিজ্ঞেস করল,
-কয়টা বাজে এখন? তুই আমার ঘুম নষ্ট করতে সকালবেলা কল করেছিস?
কনিকা আকাশ থেকে পড়ে বলল,
-এই গাধা তোর জন্য এখনও সকাল বসে আছে? তুই কি সত্যিই আজ দশটা পর্যন্ত ঘুমচ্ছিস?
দশটা বাজে শুনেই তাওয়াফ উঠে বসল। সত্যিই কি দশটা বাজে! কনিকা ওপাশ থেকে তাওয়াফের উপর গালির বৃষ্টি বইয়ে দিচ্ছে।
-আমি জানি তুই ইচ্ছে করে আমার কল তুলিস না। এখনও যে আমার কল তুলেছিস এটা না জেনেই। তোর সমস্যা কী? কেন আমাকে জ্বালাচ্ছিস?
তাওয়াফ চোখ ডলতে ডলতে হাই তুলে বলল,
-এতগুলো বছর ধরে একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে আমি ক্লান্ত কনিকা। এতকিছু করেও তোর তো কোন লাভ হচ্ছে না। আমার পেছনে শুধু শুধু সময় নষ্ট করছিস তুই। তাই ঠিক করেছি এখন থেকে সব বাদ।
-চুপ গাধা। আমার লাভ লস নিয়ে তোকে কে ভাবতে বলেছে? লাভ হচ্ছে কি হচ্ছে না। এটা আমি বুঝব। আর আমার হাতে অনেক ফাও সময় আছে। তাই ওখান থেকে কিছু সময় তোর পেছনে ব্যয় করলেও আমার বিশেষ ক্ষতি হবে না।
তাওয়াফ হাল ছেড়ে দিলেও কনিকা এখনও আশা ছাড়েনি। এই মেয়েটা কী? এত মনের জোর কোত্থেকে নিয়ে আসে?
-দেখ আমাকে কিন্তু তোর বাড়ি আসতে বাধ্য করিস না। এমনিতেই ছাগল একটা বয়ফ্রেন্ড নিয়ে জন্মের প্যারায় আছি।
কনিকার প্যারা সম্পর্কে তাওয়াফ সবই জানে। মুখে মৃদু হাসি নিয়ে সে বলল,
-বেচারা তোর সাথে তিন বছর প্রেম করেছে। এখন বিয়ে করতে চায়। কিন্তু তুই ওকে পাত্তাই দিচ্ছিস না। মানুষের বয়ফ্রেন্ড নানান অজুহাত টালবাহানা দেখিয়ে বিয়ে করতে চায় না। তোর ক্ষেত্রে উল্টোটা। তোর বয়ফ্রেন্ড বিয়ে করতে চায় কিন্তু তুই টালবাহানা দেখাচ্ছিস।
-জীবনে এমনিতেই প্যারার শেষ নেই। বিয়ে করে আরও একটা নতুন প্যারা যোগ করতে চাই না। তুই কিন্তু কথা ঘুরানোর চেষ্টা করছিস। জেনে-বুঝে তুই এখন আমার বিয়ের টপিক তুলেছিস। আমার হাত থেকে তুই এত সহজে ছাড়া পাবি না।
-ঠিক আছে। আমার পেছনে খরচ করার তোর যদি ফাও সময় থাকে, তাহলে আমারও অনেক বেকার সময় আছে।
-গুড বয়। সামনের সপ্তাহ তাহলে সময়মত চলে আসিস। এই সপ্তাহও না এলে কিন্তু আমি বাড়ি গিয়ে তোর পাছায় লাথি দিয়ে নিয়ে আসব।
কথা বলা শেষ করে তাওয়াফ রুম থেকে বেরিয়ে এলো। তাকে দেখে নূর জাহান বললেন,
-উঠে পড়েছিস?
-হুম।
-আজ তাহলে ভালো ঘুম হয়েছে?
বাড়ির শান্ত পরিবেশ দেখে তাওয়াফ বলল,
-চিৎকার চেঁচামেচি হয়নি বলেই হয়তো ভালো ঘুম হয়েছে।
তাওয়াফ বুঝতে পারছে দাদীর মন খারাপ। নূর জাহান ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,
-ওরা চলে গেছে। বাড়িটাও খালি হয়ে গেছে। কে জানে আবার কবে আসবে।
তাওয়াফও বুঝতে পেরেছিল। কারণ বাচ্চাকাচ্চা গুলো থাকলে এতক্ষণে নিশ্চয় কেউ না কেউ তার রুমে যেত। ওরা এসে যতদিন থাকে দাদী ততদিন অনেক খুশি থাকে। ওরা চলে গেলে দাদী কষ্ট পায়। কয়েকদিন মন খারাপ থাকে।
-কখন গেছে ওরা?
-নয়টার আগেই চলে গেছে। দু'দিন স্কুল মিস হয়েছে। আজ গিয়ে স্কুল ধরবে।
-কার সাথে গেছে?
-ইলহাম নিয়ে গেছে। ওদের দিয়ে এসে ছোট শয়তানের সাথেও দেখা করে আসবে।
-ওহ।
তাওয়াফ ঘুমচ্ছিল বলেই হয়তো তাকে কেউ ডাকেনি। দাদীর মন অনেকবেশি খারাপ দেখে তাওয়াফ দাদীর পাশে গিয়ে বসল। নরম গলায় বলল,
-এত মন খারাপ কেন করছো দাদীজান। তোমার নাতিরা তো তোমার কাছেই আছে।
-ওরাও আমার নাতনি। তোর দাদার উপর আমার সারাজীবন রাগ ছিল। তার ছেলে মেয়েদেকেও যে খুব বেশি পছন্দ করেছি এটা বলব না। কিন্তু তোরা বা ওই বাড়ির নাতিনাতনি গুলোর মধ্যে আমি পার্থক্য করতে পারি না। ওদেরকেও আমার নিজেরই মনে হয়।
-তুমি চাও ওরাও তোমার কাছে থাকুক?
-আমার চাওয়াতে কী আসে যায়। মানুষের সব চাওয়া কি পূরণ হয়?
-সব চাওয়া পূরণ হয় না। কিন্তু কিছু চাওয়া পূরণ হয়।
নূর জাহান নাতির মুখের দিকে তাকিয়ে গালে হাত রেখে বলল,
-তুই আমার কাছে আছিস এটাই আমার সবথেকে বড় আনন্দ।
তাওয়াফ হেসে দাদীর মাথায় চুমু খেলো। বলল,
-আমি সবসময় তোমার কাছেই থাকব দাদী।
চলবে
আগের পর্ব
https://www.facebook.com/share/p/khU7ML5G9pFKGYsW/