#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৪৪'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
তাওয়াফ ঘরে ঢুকে দেখল পেখম ড্রেসিংটেবিলের আয়না ভেঙে হাতের তালু কেটে ফেলেছে। টুপটুপ করে ফ্লোরে রক্তের ফোঁটা পড়ছে। নূর জাহান চিৎকার করে পেখমকে শান্ত হতে বলছেন। তাওয়াফ এই ঘটনা দেখে পেখমকে এসে ধরল। পেখম তারপরও ধস্তাধস্তি করে যাচ্ছে দেখে তাওয়াফ গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে উঠে বলল,
-এক থাপ্পড় দিয়ে চাপার দাঁত সব ফেলে দেব বেয়াদব। দুই দিন পরপর নতুন নাটক শুরু হয়ে যায়। তুই মরে গেলে তোর বাপের কী আসবে যাবে রে? সে যদি তোকে এতই ভালোবাসতো তাহলে তোর কথা ভাবত। তুই ভাবছিস মরে গিয়ে তুই তোর বাপকে শাস্তি দিবি। তাহলে জেনে রাখ এর থেকে বোকামি ভাবনা আর কিছুই হয় না।
তাহমিনা ছেলেকে মেয়েটাকে এরকম ধমকাতে দেখে একটু নরম হতে বললে তাওয়াফ মাকেও ধমক দিল।
-এখানে আসার পর থেকে একটা না একটা ঘটনা ঘটিয়েই যাচ্ছে। তোমাদের কথা একবার ভাবছে? নাকি তোমাদের ভালোবাসার কোন দাম দিচ্ছে?
পেখম কাঁদতে কাঁদতে তাওয়াফের বাহুর মধ্যেই নেতিয়ে পড়ল। আর কান্না আসছে না তার। তাওয়াফেরও আজ ভীষণ রাগ উঠেছে। যারা ওকে ভালোবাসছে তাদের ভালোবাসা না দেখে বাবার ভালোবাসার জন্য পাগলামি করে যাচ্ছে।
ইলহাম পেখমের হাতের রক্ত পড়া বন্ধ করে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে। তাওয়াফ সামনেই বসে আছে। তাওয়াফের ভয়ে পেখম কিছু বলছে না। এমনকি তাওয়াফের দিকে মাথা তুলে তাকাচ্ছেও না। তাওয়াফ ঘর থেকে সবাইকে বের করে দিয়েছে। পেখমের সাথে একা কথা বলতে চায় সে। ইলহামের কাজ শেষ হয়ে গেলে তাওয়াফ ওকেও ইশারায় চলে যেতে বলল। ইলহাম যাওয়ার আগে চোখের ইশারায় ভাইকে অনুরোধ করে গেল পেখমকে যেন না বকে। ইলহাম যাওয়ার পর দু'জনই অনেকটা সময় চুপ করে থাকল। অবশেষে তাওয়াফ কথা শুরু করল,
-এবার বল তোর সমস্যা কী? আর কী করতে চাস তুই?
পেখম মাথা নিচু করে বসে আছে। জবাব দিচ্ছে না। তাওয়াফ আবার জিজ্ঞেস করল,
-এখনও মরতে চাস তুই? কথা বল পেখম। তুই জানিস কখন আমার মেজাজ খারাপ হয়।
-আমি ওই কুত্তী মহিলাকে খুন করতে চাই।
তাওয়াফ শান্ত কন্ঠে বলল,
-তারপর?
পেখম থতমত খেয়ে গেল। কোন জবাব দিতে পারল না।
-তারপর তোর জীবন জেলে কাটবে।
পেখম এবার মুখ তুলে তাওয়াফের দিকে তাকাল। জলে টলমল চোখে, রুদ্ধ গলায় বলল,
-ওই মহিলা আমার মায়ের সংসার নষ্ট করেছে। আমি কিছুই করব না!
-দোষ কি সবটাই ওই মহিলার। তোর বাবার কোন দোষ নেই? তোর বাবা বিয়ে না করলে কোন মহিলার সাধ্য ছিল তোর মায়ের সংসার ভাঙার?
পেখম ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকে বলল,
-ওই মহিলা আমার বাবাকে ফাঁসিয়ে বিয়ে করেছে।
-তোর বাবা তো কচি খোকা, না!
পেখমের গাল বেয়ে টুপ করে দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
-পল্লব মির্জা তোর বাপ বলে বাপের দোষ তোর চোখে পড়ছে না। আমার চোখে তো ওই মহিলার থেকেও তোর বাপকে বেশি দোষী মনে হয়। সে জানত না তার বিবাহযোগ্য মেয়ে আছে। সে জানত না তাকে অসম্ভব ভালোবাসে এমন একজন স্ত্রী আছে। তারপরও তিনি দ্বিতীয় নারীকে উনার জীবনে আসার সুযোগ দিয়েছেন।
পেখম দু'হাতে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়ল। তাওয়াফ পেখমকে কাঁদতে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
-কাঁদলে কী হবে? কেঁদেকেটে তুই সমস্যা সমাধান করতে পারবি?
পেখম কেঁদে কেঁদেই বলল,
-আমি তাহলে কী করব? আমার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কোনকিছু ভাবতে পারছি না। মন চাচ্ছে হয়তো ওই মহিলাকে মেরে ফেলি। নয়তো নিজেই মরে যাই।
-কাউকে না মেরেও কিন্তু প্রতিশোধ নেওয়া যায়।
-প্রতিশোধ!
-নিজের বাবাকে শাস্তি দিতে পারবি? তোর মা'কে ঠকানোর দায়ে জেলে দিতে পারবি?
-না।
-যখন শাস্তি দেওয়া সম্ভব না প্রতিশোধ নেওয়াই তখন একমাত্র পথ।
-কীভাবে প্রতিশোধ নেব আমি?
পেখম জানার জন্য তাওয়াফের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তাওয়াফ নীরব হয়ে কতক্ষণ বসে থাকল। পেখম অধৈর্য হয়ে বলল,
-বলছেন না কেন?
তাওয়াফ পেখমের চোখে চোখ রেখে ঠান্ডা গলায় বলল,
-আমাকে বিয়ে করে।
পেখম চমকে উঠল। অবিশ্বাসে চোখ বড়ো বড়ো করে বলল,
-কী! বিয়ে!
-এত অবাক হওয়ার কিছু নেই। তুই আমাকে ভালোবেসে বিয়ে করবি না। তোর বাবা পৃথিবীতে সবথেকে বেশি মনে হয় আমাকেই অপছন্দ করে। তোর বাবা যেমন একজনকে বিয়ে করে তোদের সবাইকে কষ্ট দিচ্ছে। তুইও তার সবথেকে অপছন্দের ছেলেকে বিয়ে করে তোর বাবার থেকে প্রতিশোধ নিয়ে নে। এমনটাও হতে পারে আমার থেকে তোকে আলাদা করতে তোর বাবা তার ওই বউকেও ছেড়ে দিতে রাজি হয়ে যাবে।
পেখম শূন্য দৃষ্টিতে তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে রইল। তাওয়াফ উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। যেন সে কোন বিজনেস ডিল করছে ভাবসাব কিছুটা এমন নিয়েই আবার বলল,
-এই অফার আজ রাত পর্যন্তই কার্যকর থাকবে। কাল সকালে মনেও রাখব না আমি তোকে এমন কোন অফার দিয়েছিলাম। ভাবতে থাক কী করবি তুই। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেলে আমার রুমের পথ তোর চেনাই আছে।
পেখম ভাবনা শূন্য হয়ে পড়েছে। তাওয়াফ ভাই কি তার সাথে মজা করছে? কিন্তু মুখ দেখে তো তা মনে হচ্ছিল না। সিরিয়াস ভাবে কথাগুলো বলেছে? তাওয়াফ ভাই তাকে পছন্দ করে না এটা পেখম খুব ভালো করেই জানে। শুধুমাত্র বাবার থেকে প্রতিশোধ নিতে তাকে সাহায্য করতে দয়া দেখিয়ে বিয়ে করার কথা বলেছে। এতে কি ইরিন আপুকে ঠকানো হবে না? আর সবথেকে বড়ো কথা যে বিয়েতে ভালোবাসা নেই এমন বিয়ে পেখম মরে গেলেও করবে না।
ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তাওয়াফ হাফ ছেড়ে বাঁচল। দেয়ালে ধরে দাঁড়িয়ে বড়ো বড়ো করে দম নিচ্ছে। পেখমের জবাব কী হবে তাওয়াফ ভাবতে পারছে না। তবে এটাই তার জন্য শেষ সুযোগ।
****
পেখম পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে। তার মাথা খাতার সাদা কাগজের মতো ফাঁকা। বাবাকে সে ক্ষমা করবে না। তার ভালোবাসার প্রতিদানে বাবা তাকে যতটা কষ্ট দিচ্ছে পেখমও বাবাকে ততটাই কষ্ট ফেরত দিতে চায়। কিন্তু কীভাবে দিবে? তাওয়াফ ভাইকে বিয়ে করে!
-না না। আমি কিছুতেই এমনটা করতে পারব না।
পেখম উঠে ঘরজুড়ে পায়চারি শুরু করে দিয়েছে। তার মাথা কাজ করছে না।
পেখম ভীষণ সংকোচ নিয়ে তাওয়াফ ভাইয়ের দরজায় টোকা দিল। একবার টোকা দিতেই ভেতর থেকে তাওয়াফের গলা শোনা গেল
-দরজা খোলা। চলে আয়।
পেখম জড়তা নিয়ে ভেতরে এলেও তাওয়াফের দিকে তাকাতে পারছে না। নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। তাওয়াফ পেখমের দিকে তাকিয়ে সহজ গলায় জিজ্ঞেস করল,
-ভাবা শেষ?
-হুম।
তাওয়াফের ভেতরে ভয় কাজ করছে। মনে মনে সে চাচ্ছে পেখমের উত্তর তার পক্ষে হোক।
-কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিস।
-আমি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছি আপনাকে বলব। কিন্তু,,
তাওয়াফ মনে মনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল। আবার কিন্তু কেন?
পেখম বলল,
-আগে আপনাকে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
-প্রশ্ন কর।
তাওয়াফের অনুমতি পেয়েও পেখম ভাবছে এই প্রশ্ন করা কি ঠিক হবে? তারপরও সাহস করে জিজ্ঞেস করেই ফেলল,
-আপনি তো ইরিন আপুকে পছন্দ করেন। আমাকে বিয়ে করলে ইরিন আপুকে ঠকানো হবে না?
তাওয়াফ হা করে কতক্ষণ পেখমের দিকে তাকিয়ে রইল। এই মেয়ের কি মাথা টাথা খারাপ হয়ে গেছে? সে ইরিনকে পছন্দ করে এই কথা পাগলটাকে কে বলেছে? অনেক কষ্টে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে তাওয়াফ পাল্টা প্রশ্ন করল,
-আমি ইরিনকে পছন্দ করি?
পেখম মাথা নামিয়ে নিল।
-আমি ইরিনকে পছন্দ করি এই কথা তোকে কে বলেছে?
-কেউ বলেনি। আমি জানি।
তাওয়াফের বলতে ইচ্ছে করল তুই তো জানবিই। সবজান্তা তো তুই। যা জানার কথা তা জানিস না। অথচ যা জানার কথা না তা জেনে বসে আছিস।
-কীভাবে জেনেছিস শুনি।
-আমি দেখেছি।
-কী দেখেছিস?
-ইরিন আপু আপনাকে প্রপোজ করেছে।
তাওয়াফ এখন বুঝল। ওহ তাহলে এই ঘটনা! দৃষ্টির জন্মদিনের রাতে ইরিন লনে তাকে প্রপোজ করেছে। পেখম সেদিন এই ঘটনার সাক্ষী ছিল। কিন্তু মেয়েটা শুধু প্রথম অংশই দেখেছে। শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য ওখানে থাকেনি। তাওয়াফের ঘর ফাটিয়ে হাসতে ইচ্ছে করল। এই সামান্য একটা ঘটনার জন্য পেখম দুইটা দিন তাকে এড়িয়ে চলেছে।
-ইরিন আমাকে প্রপোজ করেছে এটা দেখেছিস। আমার উত্তর কী ছিল তা জানার জন্য নিশ্চয় ওখানে ছিলি না।
পেখম তাওয়াফ ভাইয়ের চোখের দিকে তাকাল। তাওয়াফ সহজ গলায় বলল,
-সব মানুষের পয়েন্ট অফ ভিউ এক হবে না। তুই তোর দিক থেকে ঘটনাটা যেমন ভাবছিস আমার দিক থেকে সে ঘটনা ভিন্নও হতে পারে।
-মানে?
-তুই ইরিনের অনুভূতি জেনেছিস৷ কিন্তু আমার অনুভূতি জানিস কি?
-আপনি ইরিন আপুকে পছন্দ করেন না?
-না।
-কেন?
পেখম বোকার মতো প্রশ্ন করে ফেলেছে বুঝতে পেরেও উত্তরের অপেক্ষায় তাকিয়ে রইল।
-পৃথিবীতে যে মেয়েই আমাকে পছন্দ করবে বিপরীতে আমার কি তাদের সবাইকে পছন্দ করতে হবে?
-না।
-তাহলে? ইরিনকে আমি ছোট বোনের মতো দেখি। এর বাইরে কিছু না।
পেখম মনে মনে ভাবল, তাহলে তো তাওয়াফ ভাই তাকেও বোনের মতোই দেখে। তাহলে তাকে কীভাবে বিয়ে করবে? এই মেয়েকে উল্টাপাল্টা জিনিস ভাবার সুযোগ না দিয়ে তাওয়াফ বলল,
-আমি তো আমার লাভ লাইফ নিয়ে তোর সাথে আলোচনা করতে বসিনি। তোর সমস্যার সমাধান বের করেছি। এখন যদি তুই এই সমাধান চাস।
তাওয়াফ একটু থেমে বলল,
-আর যদি তুই কাউকে পছন্দ করিস তাহলে সেটা অন্য ব্যাপার। তখন আর আমার কিছু করার থাকবে না।
তাওয়াফ ভাই কি ভাবে পেখম অন্য কাউকে পছন্দ করে! পেখম যে উনাকেও পছন্দ করতে পারে এটা কেন উনার মাথায় আসে না।
-তোর আবার পছন্দের কেউ নেই তো?
-নেই।
-তাহলে এখন ঠিক কর কী করবি তুই। আমাকে বিয়ে করবি নাকি অন্যভাবে তোর বাবাকে শায়েস্তা করবি।
পেখম এক সেকেন্ডও সময় নিল না। সাথে সাথেই বলল,
-আপনাকে বিয়ে করব।
তাওয়াফের ঠোঁটে হাসি খেলে গেলেও সে তার হাসি পেখমের চোখে ধরা পড়তে দিল না। কপালের মাঝে কয়েকটা ভাঁজ ফেলে জিজ্ঞেস করল,
-শিওর তুই?
-হুম।
-পরে আবার বলবি না তো আমি তোকে নয়ছয় বুঝিয়ে, ভুলিয়ে ভালিয়ে বিয়ের জন্য রাজি করিয়েছি।
-বলব না।
-এখনও সময় আছে। ভেবে দেখ।
-আমার ভাবা শেষ।
-বিয়ে তাহলে করবিই?
-হুম।
-ঠিক আছে। শেষ সময় পর্যন্ত নিজের কথায় পাকা থাকিস।
-থাকব।
তাওয়াফ উঠে দাঁড়াল। পেখমের হাত ধরে নিয়ে যেতে লাগলে পেখম বলল,
-কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে?
-তুই আমি একাই বিয়ে করে নিতে পারব? বাড়ির সবাইকে জানাতে হবে না?
সবাইকে জানানোর কথা শুনেই পেখম তাওয়াফের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিল। তাওয়াফ বলল,
-দেখলি তো। এখনই হাত ছাড়িয়ে নিয়েছিস। আমি আগেই বলেছিলাম তুই এখনও শিওর হতে পারিস নি। যাকগে এবিষয়ে এখন আর কোন কথা হবে না। আমাদের মধ্যে যা যা আলোচনা হয়েছে সব ভুল যা। রাত অনেক হয়েছে ঘুমিয়ে পড় গিয়ে।
তাওয়াফ শোয়ার আয়োজন করতে লাগলেও পেখম তার জায়গা থেকে নড়ছে না।
-দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
পেখম ঠোঁট কামড়াচ্ছে। পায়ের নখ দিয়ে ফ্লোরে খুটছে। তাওয়াফ ওর দিকে তাকিয়ে বলল,
-তুই কি নিজেও ঘুমাবি না। সাথে আমাকেও ঘুমাতে দিবি না। সকালে আমার অফিস আছে।
পেখম মিনমিন করে বলল,
-আমি শিওর।
-কোন ব্যাপারে?
-আপনাকে বিয়ে করার ব্যাপারে।
-তোর সাহস নেই পুনম। আর আমি তো বলেছি এই ব্যাপারটা ভুলে যা। তাহলে আবার কেন এব্যাপারে কথা তুলছিস।
-বাবার থেকে প্রতিশোধ নিতে আমি সব করতে রাজি আছি। আপনাকে বিয়ে করতেও।
-ঠিক আছে। তাহলে চল আমার সাথে।
কথাটা বলে তাওয়াফ হাত বাড়িয়ে দিল। তাওয়াফের বাড়িয়ে দেওয়া হাতের দিকে তাকিয়ে পেখম একবার ওর মুখের দিকে দেখল। মনের মধ্যে আর কোন সংশয় বাকি নেই। বিয়েটা সে করবেই। কাঁপা হাতে পেখম তাওয়াফের বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা ধরল। জীবনের সবথেকে বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে পেখম।
চলবে